আল-আরাবিয়্যা: একটি আহলে হাদিস/ সালাফী/ সহিহ আক্বীদা মাদ্রাসা চট্টগ্রাম
একটি আহলে হাদিস/ সালাফী/ সহিহ আক্বীদা মাদরাসা
১ম সেমিস্টার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
10/05/2026
বিসমিল্লাহ
বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত অবুঝ সন্তানেরাঃ
=====================
মানবজাতির পিতা আদম (আঃ) এঁর মনে প্রশান্তি দানের জন্যই মহান আল্লাহ হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আর-রুম এর ২১ নং আয়াতে বলা হয়েছে- “আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়ছেে যে, তিনি তোমাদরে জন্য তোমাদরে মধ্য থকেইে স্ত্রীদরে সৃষ্টি করছেনে, যাতে তোমরা তাদরে কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো; আর তিনি তোমাদরে মাঝে সৃষ্টি করছেনে ভালোবাসা ও দয়া।” পবিত্র কোরআনের অত্র আয়াতে মহান আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন স্ত্রীদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে স্বামীদের মধ্য থেকে। অর্থাৎ স্ত্রীরা স্বামীদের শরীরেরই একটি অংশ বা অঙ্গ অর্থাৎ সৃষ্টিগতভাবেই তারা এক ও অভিন্ন। একজনের অস্তিত্ব জুড়ে আছে অপরজন। তাই তারা একজনে অপরজনের সুখ, দুঃখ, হাসি, আনন্দ, বেদনা, ভাল-মন্দ সবকিছুর অংশীদার। এজন্য পবিত্র কোরআন ও রাসূল (সঃ) এঁর হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী- মানুষের জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ ইত্যাদি সুনির্দিষ্ট। এছাড়াও পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় এবং রাসূল (সঃ) এঁর সহিহ হাদিসে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বহু আয়াত ও অগণিত হাদিস এসেছে। বস্তুত: মহান আল্লাহর এই বিশ্বভ্রম্মান্ড সৃষ্টির মূলে রয়েছে স্বামী-স্ত্রীর মত একটি পবিত্র বন্ধনের। কেননা স্বামী-স্ত্রীর এই বন্ধনের মাধ্যমেই মহান আল্লাহ এই পৃথিবীতে পরিবার, গোত্র, জাতি, আত্মীয়তা তথা সমগ্র মানব জাতির বিস্তার ঘটিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ।
কিন্তু অত্যন্ত বেদনা ও পরিতাপের বিষয় এই যে, মানব জাতির জন্য মহান আল্লাহর প্রদত্ত এই নেয়ামত “স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র বন্ধন” বর্তমান পৃথিবীতে আজ বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর মত হারিয়ে যেতে বসেছে। পারিবারিকভাবে ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধের অভাব, বেহায়াপনা, বেলাল্লাপনা, নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অবৈধ প্রেমলীলা, বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ অনুকরণ এবং সর্বোপরী আখেরাতমূখীতার বিপরীতে বস্তুবাদমূখী দুনিয়াবি ভোগবিলাসি জীবন যাপনের দিকে ঝুঁকে পড়া ইত্যাদি বহুমাত্রিক কারণে আজ মহান আল্লাহর প্রদত্ত স্বামী-স্ত্রীর এই পবিত্র বন্ধন ভেঙ্গে চুর্ণ বিচুর্ণ হয়ে ভাঙ্গা কাঁচের টুকরার মত মূল্যহীন ও বিপদজনক হয়ে গিয়েছে। ঘরে ঘরে অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। আর সেই আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে সন্তানরা, ছিন্নবিন্ন হয়ে যাচ্ছে পরিবারগুলো। কেননা মহান আল্লাহর প্রদত্ত বিধানের বিপরীতে অধিকাংশ দাম্পত্য সম্পর্ক শুরুই হয় অবৈধ প্রেমলীলা ও মেলামেশার মধ্যে দিয়ে। আবার পারিবারিকভাবে যেসকল বিবাহ সম্পন্ন হয়, সেগুলোও শুরু হয় বিভিন্ন প্রকার বেহায়াপনা, বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরন অনুকরণে এবং সম্পূর্ণ অনৈসলামিক পন্থায় ও ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের মধ্যে দিয়ে। এইসকল দাম্পত্য সম্পর্ক ইসলামের বিপরীত হওার কারণে শয়তান মহাশয় স্বামীকে এক হাতে আর স্ত্রীকে আরেক হাতে নিয়া খেলতে থাকে তারা এবং তাদের পরিবার ধ্বংশ না হওয়া পর্যন্ত। এইজন্য প্রায় অধিকাংশক্ষেত্রেই দেখা যায় বাসর রাত থেকেই শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি ও গন্ডগোলের সুত্রপাত। তবে স্বাভাবিকভাবেই শয়তান স্ত্রীলোকের উপরই বেশি ভর করে। কেননা একজন বস্তুবাদমূখী এবং ইসলাম বিমূখ স্ত্রীকেই দিয়ে শয়তান সহজেই তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে পারে।
শয়তানের এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হলো স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করা। যেই প্রবণতা অধিকাংশক্ষেত্রে স্ত্রীদের মধ্যেই বেশী দেখা যায়। স্বামীদের মধ্যে যে এই প্রবণতা নেই তা কিন্তু নয়। স্বামীদের সন্দেহের বাতিক একপর্যায়ে গিয়ে শেষ হয়ে যায়, কিন্তু স্ত্রীদের এই সন্দেহের আগুন স্বামী-সংসারকে পোড়াতে থাকে প্রায় মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত। আমি দুঃখিত। মৃত্যু পর্যন্ত না বরং মৃত্যুর পরও স্ত্রীদের সন্দেহ থাকে এই যে, পবিত্র হুরদের নিয়ে তার স্বামী কি কি করবে ইত্যাদি নিয়ে। নাউজুবিল্লাহ।
মহান আল্লাহ এই সুন্দর পৃথিবী সৃষ্টি করে এই পৃথিবীকে আবাদ করার জন্যই পবিত্র দাম্পত্য সম্পর্কের মত এক মহা কল্যাণ ও নেয়ামত আমাদেরকে দান করেছেন। অথচ, এই বিষয়ে আমরা একবারও ভেবে দেখার ফুরসত পাইনা এবং নিজেদের অজ্ঞতার কারণে আমরা এই মহা কল্যাণকে পায়ে পিসে নিজেরাই হত্যা করে চলেছি প্রতি নিয়ত। ধ্বংশ করে দিচ্ছি পরিবার। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে আত্মীয়তার বন্ধনের মত ঐক্যবদ্ধ শক্তির। মহান আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্কের মাধ্যমেই কল্যাণকর সু-সন্তান দান করে থাকেন স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনকে আরো মজবুত, আনন্দময় ও পরিপূর্ণ করার জন্য। সন্তানকে সুশিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলা প্রত্যেক মা-বাবার জন্য পবিত্র আমানত স্বরুপ। অথচ, শয়তান বেস্টিত সেই পথভ্রষ্ট দম্পতি কুমন্ত্রণা দানের মাধ্যমে সন্তানের ভবিষ্যতও তারা নষ্ট করে দেয়। তাদের সেই ঘৃণিত সন্দেহের আগুনে জ্বলতে থাকে সন্তানরাও।
মহান আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সন্তানের ইহকাল এবং পরকালের একমাত্র পরিচয় হলো তার বাবা এবং বাবাকে সন্তানের একমাত্র অভিভাবক হিসাবে, নিরাপত্তা হিসাবে, সন্তানের জন্য আদর্শ হিসাবে মহান আল্লাহ মনোনীত করেছেন, একজন পথভ্রষ্ট স্ত্রী তার স্বামীর অর্থাৎ সন্তানের বাবার প্রতি সন্দেহের সেই বিষদাঁতের কামড় সন্তানদের গায়ে বসিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে সন্তানদেরও। পৃথিবীর সবচেয়ে আপন ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বাবার থেকে মানসিক দূরত্ব তৈরি করে সন্তানের জীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। শুধু তাই নয়, সন্তানের উপর নিজের মিথ্যা দাম্ভিকতা ও প্রাধান্য বিস্তারের জন্য মিথ্যা আর প্রতারণা দিয়ে সন্তানের স্ব-গোত্রীয় আত্মীয়-স্বজনদেরকে তার জন্য চক্ষুশূল করে তোলে। এইভাবে একজন অসতী স্ত্রী নিজের জিঘাংসার বিষবাষ্প দিয়ে অবুঝ সন্তানদেরকে সুশিক্ষার পরিবর্তে কুশিক্ষা দিয়ে তার স্ব-গোত্রীয় আত্মীয়-স্বজন এমনকি তার বাবার নিকট থেকেও বিচ্ছিন্ন করে তার জীবনকে ধ্বংশের দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু সেই বর্বর নারী এটা বোঝেনা যে, এর মাধ্যমে সে কারো ক্ষতি করতে পারছেনা, ক্ষতি করছে তার সন্তানদেরকে। সন্তানকে বাবার শ্নেহ ও শাসন থেকে বঞ্চিত করে, আত্মীয় স্বজনকে সন্তানের শক্র হিসাবে উপস্থাপন করে প্রকারান্তরে সন্তনকে সে নিঃস্ব ও অসহায় করে ফেলছে। মা’র প্রতি অবুঝ সন্তানদের আল্লাহ প্রদত্ত ভালোবাসা ও দুর্বলতাকে চরম অপব্যবহার করে সে তার নিজের সন্তানদেরই ক্ষতি করে চলেছে প্রতি নিয়ত--------। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। মহান আল্লাহ আমাদের অবুঝ সন্তানদেরকে সকল প্রকার অকল্যাণ থেকে রক্ষা করুন।
এখন থেকে নিয়মিত জুমআর খুতবা পেতে পেজটি “ফলো” দিয়ে রাখুন।
বিএনপির যেভাবে তর সইতেছেনা এবং উল্টাপাল্টা কথা বলা শুরু করছে, আপনারা আবার শেখ হাসিনারে আইনা বসাইয়া দেন। আগেতো ১৬ বছর গর্তে ছিল। এইবার যাতে তা ৩২ বছর হয়।
04/11/2024
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Telephone
Website
Address
ইসলাম কমপ্লেক্স-হায়দার ভিলা, শাপলা আবাসিক, সিটি গেট, কর্নেল হাট, আকবরশাহ থানা, চট্টগ্রাম।
Chittagong