17/07/2026
সূরা আশ-শূরা, আয়াত ৩৬
আরবি:
> فَمَا أُوتِيتُم مِّن شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَمَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ وَأَبْقَىٰ لِلَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ
বাংলা অর্থ: “অতএব, তোমাদের যা কিছু দেওয়া হয়েছে, তা তো কেবল পার্থিব জীবনের ভোগসামগ্রী। আর আল্লাহর কাছে যা আছে, তা অনেক উত্তম ও অধিক স্থায়ী—সেসব লোকের জন্য, যারা ঈমান আনে এবং নিজেদের প্রতিপালকের ওপর ভরসা করে।”
তাফসির (তাফসির ইবনে কাসির থেকে)
ইমাম ইবনে কাসির (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন—
আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার জীবন ও আখিরাতের জীবনের মধ্যে তুলনা করেছেন। মানুষের হাতে থাকা ধন-সম্পদ, সন্তান, সম্মান, ক্ষমতা ও ভোগ-বিলাস সবই ক্ষণস্থায়ী। মৃত্যু আসার সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর সব সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়।
পক্ষান্তরে, আল্লাহর কাছে মুমিনদের জন্য যে প্রতিদান, জান্নাতের নিয়ামত এবং তাঁর সন্তুষ্টি সংরক্ষিত রয়েছে, তা চিরস্থায়ী এবং দুনিয়ার সব সম্পদের চেয়ে অসীম উত্তম।
"لِلَّذِينَ آمَنُوا"—এই প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আন্তরিক ঈমান রাখে।
"وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ"—তারা নিজেদের সব কাজে একমাত্র আল্লাহর ওপরই ভরসা করে। রিজিক, সাহায্য, নিরাপত্তা ও সফলতা কেবল তাঁর কাছ থেকেই প্রত্যাশা করে।
ইবনে কাসির উল্লেখ করেন যে, দুনিয়ার নেয়ামত যত বড়ই হোক, তা অস্থায়ী। কিন্তু আখিরাতের প্রতিদান কখনো শেষ হবে না। তাই একজন মুমিনের উচিত দুনিয়াকে আখিরাতের প্রস্তুতির মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা, লক্ষ্য হিসেবে নয়।
শিক্ষণীয় বিষয়
1. দুনিয়ার সব সম্পদ ও ভোগ-বিলাস সাময়িক।
2. আখিরাতের প্রতিদানই প্রকৃত সফলতা এবং তা চিরস্থায়ী।
3. ঈমান ও আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) জান্নাত লাভের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
4. মুমিন দুনিয়ার মোহে অন্ধ না হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়।
আল্লাহ তাআলা পরবর্তী আয়াতগুলোতে (সূরা আশ-শূরা ৩৭–৪৩) প্রকৃত মুমিনদের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।