14/08/2026
''বাবা'' নামক গুরুজনটার বর্ণনা দিতে গিয়ে আমি অধম ভাষা হারিয়ে ফেলি। শব্দ ফুরিয়ে যায়, কলমের কালিও হার মানতে বাধ্য হয় ঐ মানুষটির জীবনী লিখতে গিয়ে। আমি যখন বাবাকে নিয়ে কিছু লিখতে যায় অশ্রু টলমল করে আমার দু নয়নে। বাবার ভালোবাসার অতল সমুদ্রে হাবুডুবু খায় এই বসুধার প্রতিটি মানুষ। আমিও সেই সমুদ্রে সাতাঁর কাটি প্রতিনিয়ত। মুহুর্তের পর মুহুর্ত পার হয়ে যায় কিন্তু সেই সমুদ্রের শেষ সীমানা খুঁজে পেতে ব্যর্থ আমি। প্রতিটি মানুষের জীবনে বাবা নামক মানুষটা নিজ সন্তানকে খাঁটি সোনার মানুষরূপে গড়ে তুলতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালায়।
''বাবা'' নামক মানুষটা শুধু আমার গুরুজন নন! তিনিই আমার শ্রেষ্ঠ ও প্রথম শিক্ষক। তাঁর ঐ অমূল্য পানির মাধ্যমেই আমি ভূমিষ্ট হয়ে যখন এই ধরণীর দিকে দৃষ্টি রাখি। ঠিক সেই সময় থেকেই বাবা আমার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। শৈশবকালে ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। সেই শৈশব থেকে আজও পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সন্তানের ভুল শোধরে দিয়ে সহজ-সরল পথের সন্ধান দিয়ে আসছেন সেই মায়াবী মানুষটি। প্রতিষ্ঠানবিহীন শিক্ষক তিনিই, যিনি শৈশবে কথা বলতে শেখার প্রথম ধাপটা আমাকে সালামের মাধ্যমেই শিক্ষা দিয়েছেন।
''বাবা'' আমার প্রধান ও মহান অভিভাবক। আমি অপরাধী হওয়া সত্বেও নিজের উপর অপরাধ চাপিয়ে নিয়ে যিনি আামকে বলেন; বাবা আমি দুঃখিত! তোকে এই বিষয় সম্পর্কে অবগত করিনি বলে তুই আজ এই বিপদে। বাবা মানুষটি সন্তানকে বকা দেন। এটাতো খুবই সাধারণ! বাবার বকা খেয়ে ঘুরে দাঁড়ানো সন্তানই জীবন চলার পথে হোঁচট খায় না। প্রশ্ন : বাবা বকা কেন দেন? বাবার বকা দেওয়াটা সন্তানের ভুল শোধরানোর কৌশল মাত্র। বাবার বকা খাওয়াটা সন্তান তাঁর জীবনে সফল হওয়ার বিশেষ মাধ্যম।
এভাবে যদি লিখতেই থাকি, কলমের কালি আমকে সরি বলে বিদায় নিবে। গায়কের গান সমাপ্ত হয়ে যাবে কিন্তু বাবার অমর কাহিনী অসমাপ্ত রয়ে যাবে। কবির কবিতা শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু বাবার ত্যাগের কথা অপূর্ণ থেকে যাবে। লেখকের হাতের কলমটাও তাঁর সবটুকু দিয়ে আমৃত্যু লিখে যাবে, কিন্তু বাবার সেই অশ্রুভেঁজা জীবন যুদ্ধের ইতিহাস অর্ধেকটা অলিখিত রয়ে যাবে। সন্তানের প্রতি বাবার সেই আমরণ ভালোবাসা আজও অলিখিত, অঘোষিত ও অতুল্য।
লেখা : শুভকামনায় : আমার শ্রদ্ধেয় আব্বাজান।