03/01/2026
#আবুলিয়া_স্কুলের_নামকরণের_অজানা_গল্প
৩রা জানুয়ারি, ১৯৬৮ সাল। আলহাজ্ব আবুল মিয়া তখনো অক্ষরজ্ঞানহীন, কিন্তু শিক্ষার মূল্য তাঁর কাছে ছিল জীবনের সবচেয়ে পবিত্র আলো। সেই আলোর মশাল ছড়িয়ে দিতে তিনি নিজ গ্রামের শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠা করলেন একটি বিদ্যালয়। শুরুতে তাঁর ইচ্ছায় বিদ্যালয়টির নাম রাখা হয়েছিল— #মইন্যা_পাড়া_প্রাথমিক_বিদ্যালয়"।
বিদ্যালয়ের ভবন নির্মিত হলো, কিন্তু দেখা গেল পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নেই। মাঠ ছাড়া কি শৈশব পূর্ণ হয়? শিশুদের দৌড়ঝাঁপ আর খেলাধুলাই তো তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার প্রাণশক্তি। তাই কোনো দ্বিধা ছাড়াই তিনি নিজের বাড়ির উঠানের ১০ কাঠা জমি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ হিসেবে দান করে দিলেন। (দ্বিতীয় পর্যায়)
কোনো শর্ত নেই, নেই কোনো খ্যাতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা—ছিল শুধু মানুষের কল্যাণের নির্মল ইচ্ছা। বিদ্যালয় তৈরির সম্পূর্ণ খরচও তিনি একাই বহন করেছিলেন। তাঁর এই মহানুভবতা দেখে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ চেয়েছিলেন বিদ্যালয়টির নাম হোক তাঁরই নামে— #আবুল_মিয়া_প্রাথমিক_বিদ্যালয়"।
কিন্তু বিনয়ী আবুল মিয়া নিজের নামকে সামনে আনতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন—কাজই প্রকৃত পরিচয়, নাম নয়। দীর্ঘ আলোচনার পর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ চেয়ারম্যান একটি চমৎকার নাম প্রস্তাব করেন যা সবার মন জয় করে নেয়:
“ #হালিশহর_আবুলিয়া_প্রাথমিক_বিদ্যালয়” এই নামেই বিদ্যালয়টির আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়। তাঁর ইচ্ছাতেই বিদ্যালয়ের গেটের দুই পাশে খোদাই করা ছিল দুটি অমর বাণী, যা শিশুদের মনে নৈতিকতার বীজ বুনে দিত দিতো।
প্রবেশপথে: “সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।”
প্রস্থানপথে: “আপনাকে বড় বলে বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে বড় সেই হয়।”
সময়ের বিবর্তনে বিদ্যালয়টি শুধু টিকেই থাকেনি, সরকারিকরণ হয়েছে ও ডালপালা মেলে বড় হয়েছে। আজ সেখানে প্রাথমিকের পাশাপাশি জুনিয়র হাই স্কুল স্তরেও পাঠদান চলছে। এই বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আজ দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাদের সাফল্যের মূলে রয়েছে এই বিদ্যালয়ের সেই নীরব ভিত্তি, যার কারিগর ছিলেন আলহাজ্ব আবুল মিয়া।
আজ থেকে প্রায় ২৩ বছর আগে তিনি পরলোকগমন করেছেন। কিন্তু মানুষ কেবল শরীর নিয়ে বাঁচে না, বাঁচে তার কর্মের মাঝে। নিজের অক্ষরজ্ঞান না থাকলেও হাজারো শিশুর হৃদয়ে শিক্ষার প্রদীপ জ্বালিয়ে তিনি আজ অমর হয়ে আছেন।
আজ #৩রা_জানুয়ারি, বিদ্যালয়টির ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
আল্লাহ তাআলা এই মহৎপ্রাণ মানুষটিকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমিন।
( সব শেষে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, এমন মহৎকর্মের জন্য )