08/08/2024
বাঙ্গালী, তুই কবে সংশোধন হবি?
শুরুটা কিভাবে করব ঠিক বুঝতে পারছি না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আমি দেখিনি; দেখিনি ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়। কিন্তু গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট বেলা ২:০০ টা পর্যন্ত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধাদের আত্নত্যাগ আমি উপলদ্ধি করতে পেরেছি। ৫ আগস্ট বেলা ৩:০০ টায় ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ের স্বাদও উপলদ্ধি করতে পেরেছি।
না! আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ২০২৪ সালের ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে আপময় জনগণের বিজয়ের সাথে তুলনা করছি না। আমি মনেকরি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের স্বাধীন জাতিসত্তার ভিত্তি, আমাদের শেকড়ের পরিচয়। আর ২০২৪ সালের ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে আপময় জনগণের বিজয় আমাদের মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশ আর সভ্যতা বিকাশের ভিত্তি। তার মানে আমরা এতদিন অসভ্য জাতি ছিলাম? না আমি তাও বলছি না। আমি শুধু আত্মোপলদ্ধির চেষ্টা করছি মাত্র।
বর্তমান ঘটনা প্রবাহের দিকে একটু ফিরে তাকাই।
সর্বপ্রথম সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। ওই আন্দোলনের ফলে সরকার চাকরিতে সব কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে। এরপর মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়। এ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ জুন ২০২৪ হাইকোর্টের রায়ে কোটা বাতিল করে সরকারের জারি করা পরিপত্র বাতিল করে দেন। ফলে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা আবারও বহাল হয়। এরপর পুনরায় কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু করে ছাত্ররা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে তারা আন্দোলন করতে থাকে। দ্বিতীয় দফা টানা আন্দোলন শুরু হয় গত ১ জুলাই থেকে। ছাত্রদের অহিংস এই আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেয়া হয় ১৫ জুলাই থেকে। ১৬ জুলাই আন্দোলন চলাকালে একজন পুলিশ সদস্যের গুলিতে শহীদ হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আবু সাঈদ। আবু সাঈদের মৃত্যুর ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারা বিশ্বের মিডিয়াতে স্থান পায়; উত্তাল হয়ে উঠে ছাত্র আন্দোলন। ছাত্র আন্দোলন মোকাবিলায় দমনণীতি গ্রহণ করে সরকার। দিন যতই যাচ্ছে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি। একে একে ছাত্রদের পাশে দাঁড়াচ্ছে অবিভাবক, শিক্ষক, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ, আপময় জনসাধারণ। ৮-১০ বছরের কিশোর ছেলেটি পানির জগ নিয়ে রাস্তায় নেমে এলো তার ভাইয়ের তৃষ্ণা মেটাতে, রান্না রেখে গৃহিনী রাস্তায় এলো তার পাড়ার ছেলেটিকে বাঁচাতে। এ এক অভূতপূর্ব চেতনা যা ভাষায় পরিপূর্ণ ভাবে প্রকাশ করা যাবে না। এরপর বহু ঘটনা প্রবাহে ৫ আগস্ট শেষ পর্যন্ত সরকার প্রধান পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
এ বিজয়ের নেতৃত্ব দিয়েছিল ছাত্র সমাজ; তাদের পাশে ছিল দেশের সাধারণ মানুষ। এ বিজয় দেশের ছাত্র সমাজের, সাধারণ মানুষের, কিশোর ছেলেটির। বিজয়ের পর একটা জিনিষ আমরা নিশ্চিত হই যে, আমাদের ছাত্র-ছাত্রী ভাই বোনের সঠিক পথে আছে, সত্য ও ন্যায়ের পথে আছে। তারা বখে যায়নি। শুধু বিজয় অর্জন করেই তারা বসে থাকেনি। গত তিন দিন ধরে তারা রাস্তায় ট্রাফিকের কাজ করছে, রাস্তায় পড়ে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করছে, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীর কাজ করছে। ১২ ঘন্টার মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনসহ সকল রাষ্ট্রীয় স্থাপনার আবর্জনা পরিস্কার করেছে। মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাহারা দিচ্ছে। তাদেরকে শুধু স্যালুট দিয়ে বা ধন্যবাদ দিয়ে জাতি হিসেবে আমাদের দায়মুক্তির সুযোগ নেই।
সুধি সমাজ এবার একটু চোখ খুলুন; আর কত চোখবুজে ঘুমের ভান করবেন? বিবেককে শুধু একটা প্রশ্ন করুন আপনি কি করছেন? দৈনিক প্রথম আলোর সূত্র বলছে, ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনে মৃত্যুর সংখ্যা ৩২৮ জন। বিজয়ের পর অর্থাৎ ৫ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত দুই দিনে মৃত্যুর সংখ্যা ২৩২ জন। ছাত্র জনতার নজীরবিহীন বিজয়ের পর কেন এত মৃত্যু? এটাই কি ছিল বিজয়ের লক্ষ্য?
৬ আগস্ট সর্বপ্রথম বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু হয় দীর্ঘ দিনের সুবিধা বঞ্চিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজেদের সুবিধা আদায়ের লড়াই। একই চিত্র সচিবালয়, এনবিআর সহ সকল অফিস আদালতে। আমি বলব এটা তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের লড়াই; দেশের সংস্কার বা উন্নয়নের কোন লড়াই না। কতটা নিলজ্জ জাতি আমরা! তরুন ছাত্র-ছাত্রীরা যাদের হাত ধরে এ বিজয় এসেছে তারা এখনো রাস্তায় জঞ্জাল পরিষ্কার করছে, আর আপনি? নিজের স্বার্থ আর সুবিধা আদায়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যাচ্ছেন অফিস পাড়ায়। ধিক! আমলা শ্রেণি।
গত রাতও (৮-৮-২০২৪) ঘুমাতে পারিনি। রাত ৩ টায় মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা হলো “আশেপাশের বিভিন্ন বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে, সবাই সতর্ক থাকুন”। এটাই কি বিজয়ের ফসল?
আমরা সাধারণ মানুষ এখন আর কোন বিষয়ে অবাক হই না, বিস্মিতও হই না। কারণ এসবে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। বড় জোর হাঁসি পায়। গতকাল (৭-৮-২০২৪) একটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ দেখে, স্টেজের আসন বিন্যাস, বক্তাদের বক্তব্য শুনে বড্ড হাঁসি পেয়েছিল। স্টেজের প্রথম সারিতে যাদেরকে দেখা গিয়েছিল গত বছর ২৮ অক্টোবর ঐ দলটির সরকার বিরোধী সমাবেশে অনেক নেতারা অসুস্থতার ভান করে সমাবেশে যোগ দেয় নাই। এমন ভান ধরেছিল ভেবে ছিলাম মৃত্যুশয্যায়। হায়রে রাজনৈতিক ভাড়! দলের নীতিনির্ধারকদের বুজা উচিত যে, স্বার্থবাদী এবং ভাড় দিয়ে আর যাই হোক রাজনীতি হয় না। তাদেরই নিকট অতীত তার প্রমান। রাজনৈতিক দলগুলোর এখন বুজা উচিত শো’ডাউন আর সেলপির রাজনীতি শেষ। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের ধারায় তারা যত তাড়াতাড়ি নিজেদের পুরাতন বিধ্বংসী সত্তা পরিবর্তন করে ছাত্র জনতার মনের ভাষা এবং পালস্ বুজতে পারবে ততই তাদের জন্য মঙ্গল হবে; উন্নতি হবে দেশমাত্রিকার। আমি কোন রাজনৈতিক বিশ্লেষক নই। রাজনৈতিক দলগুলোকে পরামর্শ বা উপদেশ দেয়ার দৃষ্টতাও আমার নেই। তবে আমি মনেকরি দেশের এ ক্রান্তিকালে শো’ডাউনের পরিবর্তে যদি তাদের নেতাকর্মীরা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের মত জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকত তাহলে হয়ত জনগণের মনে তাদের জন্য একটু হলেও আস্তা এবং মমতা জন্মিত। শুধু নিশ্চিত ভাবে এটা বলতে পারি ৫ আগস্টের বিজয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কোন অংশ নাই।
পরিশেষে একটি গল্প বলে শেষ করছি। শিকল পরা এক গাধাকে তার মালিক একটু ছেড়ে দিল। গাধা নিজেকে মুক্ত ভেবে মালিকের খেতের এটা ওটাতে মুখ দিতে লাগল। কিন্তু গর্ধব এটা ভুলে গেল যে, মালিক যেকোন সময় আবার শিকল টেনে তাকে বন্দী করতে পারে।
30/10/2022
প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি আমরা Math Class নামে একটি Youtube channel খুলেছি। এ চ্যানেলে নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন শ্রেণির গণিত সমাধান নিয়ে ভিডিও আপলোড করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার জন্য সকলকে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করছি। সম্প্রতি আপলোড করা ভিডিও'র লিংক নিন্মে দেয়া হল।
https://youtu.be/H5yChpWCEy8
https://youtu.be/Eu1-pnX_QMY
সবাইকে ধন্যবাদ
Class 7 Math Chapter 5.1 Part 1 #ক্লাস সেভেন গণিত অধ্যায় ৫.১ ১ম পর্ব
Class 7 Math Chapter-5.1 Part-1Class 7 Math Chapter-5.1 Part-1 is the Math solution tutorial of class 7. It’s a regular math solution tutorial video of “Math...
30/10/2022
প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি আমরা Math Class নামে একটি Youtube channel খুলেছি। এ চ্যানেলে নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন শ্রেণির গণিত সমাধান নিয়ে ভিডিও আপলোড করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার জন্য সকলকে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার জন্য অনুরোধ করছি। সম্প্রতি আপলোড করা ভিডিও'র লিংক নিন্মে দেয়া হল।
https://youtu.be/H5yChpWCEy8
https://youtu.be/Eu1-pnX_QMY
সবাইকে ধন্যবাদ
Class 7 Math Chapter 5 1 Part 2 #ক্লাস সেভেন গণিত অধ্যায় ৫.১ পর্ব-২
Class 7 Math Chapter-5.1 Part-2Class 7 Math Chapter-5.1 Part-2 is the Math solution tutorial of class 7. It’s a regular math solution tutorial video of “Math...
23/07/2020
ওজন কমানোর উপায় । স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস
ওজন কমানোর উপায় খুজতে খুজতেই ওজন বেড়ে গেছে। আড়ালে অবডালে শুনতে হচ্ছে- তুমি বেশ মুটিয়ে গেছ। বন্ধু বান্ধুবীরা যখন তখন খোঁচা মারে। চরম বিরক্ত আপনি এ অবস্থার অবসান চান। তবে পথটা জানা নেই।
একদল অছেন ব্যায়াম করেন ঠিকই। তবে খাবার নিয়ন্ত্রনের ধারে কাছেও যান না। এক বসার এক কেজি গরুর মাংশ খেয়ে ফেলেন। আরেক দল আছেন কম খান। তবে ব্যায়াম করতে তাদের প্রচন্ড অনীহা। শারীরিক পরিশ্রমের কোন কাজই করতে চান না। দু দলই সঠিক পথে নেই। তাহলে কিভাবে ওজন কমাবেন? জেনে নিন সে রকম কিছু উপায়।
কিভাবে ওজন কমাবেন
• প্রতিদিন ৪০ মিনিট হাঁটুন। সকালে হাটতে পারলে ভাল।
• অ্যালকোহল জাতীয় সকল পানীয় পরিহার করুন। খাদ্য তালিকা থেকে ক্যালরি কমানোর চেষ্টা করুন। একটু একটু করে ক্যালরী কমান।
• ওজন কমানোর উপায় হিসেবে ওটস, ডিম, আপেল, কাচামরিচ, রসূন, মধু, গ্রীন টি, টমেটো খাদ্য তালিকায় রাখুন।
• রসূনে আছে অ্যালসিন, যা শরীরের চর্বি কমায়। কোলেস্টোরল প্রতিরোধ করে।
• মধু যদি খাটি হয়, তাহলে তা ওজন কমাতে সহায়ক। আপেলে আছে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট।
• চর্বিযুক্ত মাংশ খাওয়া কমিয়ে দিন। মাংশ থেকে চর্বিকে পৃথক করে খেতে পারেন। সপ্তাহে মাত্র একবার। রান্নায় আগেই চর্বি পৃথক করতে হবে।
ওজন কমানোর খাবার
• প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ মগ পানি খান। শীতকালেও কম পানি খাবেন না। কুসুম গরম পানি হলেও খান।
• ফলমূল খেতে কোনই বাধা নেই। মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া কমিয়ে দিন।
• রাতের খাবার খেয়েই ঘুম নয়। কমপক্ষে ২ ঘন্টা অপেক্ষা করুন।
এ সময় গল্পের বই পড়তে পারেন। পরিবারের সদস্যদের সাথে গল্প করতে পারেন। ছাদে পায়চারী করলেও ক্ষতি নেই।
21/07/2020
যানবাহনে করোনা প্রতিরোধ | বাস, রিক্সা ও ট্রেন যাতায়াতে কী করবেন?
কোভিট-১৯ বা করোনা ভাইরাস আজকের বিশ্বের জন্য এক আতঙ্কের নাম। চীনের উহান রাজ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি মোকাবেলায় যুদ্ধ চলছে প্রতিনিয়তই। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন বাঁধ মানছে না মরণব্যাধি এই ভাইরাসটি। নিত্যনতুন মৃত্যুর খবর অথবা নতুন কেউ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় রোজই। বিশেষজ্ঞদের মতে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে কিছুটা লাঘব করা যেতে পারে এই ভাইরাসটিকে। খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা পরিবর্তনের মাধ্যমেও আক্রান্ত হওয়া থেকে বেঁচে যেতে পারেন অনেকেই। তবে যারা বৃদ্ধ ও নানান রোগ যেমন- ডায়বেটিস, হার্টের সমস্যা, কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা একটু বেশি। তাই তাদের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রেও বাড়তি যত্নের প্রয়োজন রয়েছে যানবাহনে করোনা প্রতিরোধ করতে। পরিষ্কার কাপড় ও পরিষ্কার খাদ্য দিতে হবে শিশুদের। ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর, কাশি ও গলাব্যথা হলেই নিজেকে সেলফ আইসোলেশনে (self-isolation) রাখতে হবে যেন অন্যান্যদের মাঝে ভাইরাসটি ছড়িয়ে না যায়। তবে ডাক্তারদের পরামর্শ অনুযায়ী এই সংক্রমণটি রুখতে হলে যতটা কম বাইরে যাওয়া যায় ততোটাই স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। কিন্তু কাজের তাগিদে অনেককেই বাড়ির বাহিরে বের হতে হচ্ছে। চড়তে হচ্ছে বাস, ট্রেন, রিক্সা ইত্যাদি যানবাহনে। চলুন তবে আজ জেনে নেই যানবাহনে করোনা প্রতিরোধ সম্পর্কে।
যানবাহনে করোনা প্রতিরোধ করবেন যেভাবে
আমাদের দেশে অনেক আগ থেকেই স্কুল, কলেজ সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিছু কিছু অফিসেও ঘরে বসে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ কর্মক্ষেত্রই এখনো সচল রয়েছে। তাই অফিসের উদ্দেশ্যে সকালেই বেড়িয়ে পড়েন অনেকেই। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) থেকে বলা হয়েছে সব সময় ঘরে থাকতে ও ঘর থেকে বের না হতে, সেখানে আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষকেই বেড়িয়ে পড়তে হচ্ছে সকাল সকালই। এতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অধিক হারে বাড়ছে।
কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার জন্য আমরা যে যাতায়াত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি সেটাই হতে পারে আমাদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপুর্ন। কেননা সেখানে মানুষের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। সকল শ্রেনীর মানুষই সেখানে থাকে এবং নিয়ম না মেনে যত্রতত্রই হাঁচি ও কাশি দিয়ে বেড়ায়। তাই যাতায়াতই আপনার জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ন। তবে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে আমরাও থাকতে পারি সুরক্ষিত। তাহলে চলুন জেনে নেই কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করলে আমরা বাস, রিকশা, অটো, সিএনজি , ট্রেন ও অন্যন্য যাতায়াত ব্যবস্থায় ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারবো।
১) যানবাহনে করোনা প্রতিরোধে বাসে কিংবা ট্রেনে যদি আপনার সহযাত্রীটি প্রবল বেগে হাঁচি কাশি দিতে থাকে তাহলে সেটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। তাই আপনি তখনই সেই ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বজার রাখুন। সম্ভব হলে চালক কিংবা কন্টাক্টরকে অবগতি করেন। অন্যান্য যাত্রীদেরও সাবধান করে দিন। এতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পরবে না।
২) রাস্তাঘাটে চলাচল করার সময় সর্দি কাশি কিংবা জ্বরে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে রুমাল দিয়ে জোরে নিজের নাক ও মুখ চেপে রাখুন। রোগীর গায়ে ভুলেও স্পর্শ করবেন না। পর্যাপ্ত পরিমাণে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করুন। পারলে দ্রুত সেই স্থানটি ত্যাগ করুন।
৩) আমাদের দেশে সকালে ও সন্ধ্যায় এই দুইটি সময়ে ভীড় বেশি হয়। তাই চেষ্টা করুন এই দুই সময়ে আপনাকে যেন বের হতে না হয়। যানবাহনে করোনা প্রতিরোধে ভীড় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। অফিস থাকলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারপর অফিস থেকে বের হন। বাস কিংবা অন্যান্য যানবাহন এড়িয়ে চললে আপনি অনেকটাই সুরক্ষিত থাকতে পারবেন। যদি সম্ভব হয়, তাহলে
৪) ট্যাক্সি, সিএনজি, উবার কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করলে অবশ্যই গাড়ির জানালা খোলা রাখার চেষ্টা করুন। গাড়িতে যথেষ্ট পরিমাণে আলো বাতাস প্রবেশ করতে দিন। কেননা বদ্ধ জায়গায় ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়ায়। আর গাড়িতে ঘেঁষাঘেঁষি করে বসবেন না। এতে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম থাকে।
৫) বাড়ি থেকে অফিসে গিয়ে কিংবা অফিস থেকে বাড়ি ফিরে সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। কেননা যাতায়াতের জন্য আমরা যে বাহনটি ব্যবহার করছি সেটা যথেষ্ট অপরিষ্কার ও জীবাণুযুক্ত। আমরা বাসে উঠার সময় এবং বাস থেকে নামার সময় সব সময়ই বাসের হাতলে হাত রাখছি যা ক্ষতিকর ভাইরাসের আখড়া। তাই চেষ্টা করবেন টিস্যু অথবা রুমাল দিয়ে বাস কিংবা অন্যান্য যানবাহন ধরতে। সেটা সম্ভব না হলে ব্যাগে স্যানিটাইজার রাখুন। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তাহলে বাসায় ফিরে কিংবা অফিসে পৌঁছে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলুন।
৬) বাইরে থাকাকালীন সময়টুকু চেষ্টা করবেন নাক, মুখ ও চোখে হাত না দিতে। সবসময় হাত পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। অপরিষ্কার হাতে নাক মুখ স্পর্শ করলে জীবাণু শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে ফেলার সম্ভাবনা থাকে। তাই হাত পরিষ্কার রাখাটা অত্যন্ত জরুরি।
৭) মোটর সাইকেল অথবা উবার শেয়ার না করাই ভালো এখন। কেননা মানুষের সংস্পর্শেই বেশির ভাগ ভাইরাস ছড়ায়।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করার চেষ্টা করছে সারা বিশ্ব। আপনিও চেষ্টা করুন উপরোক্ত নিয়মগুলো মেনে চলতে। তাহলে ভাইরাসটি দমনে সফল হবো আমরা সকলেই। আপনার সামান্য সাবধানতা হয়তো ভাইরাসটি থেকে মুক্ত রাখতে পারে আপনাকে, আপনার পরিবারকে ও সমাজকে। সচেতন হোন, ভালো থাকুন ও সুস্থ থাকুন।
Ref: SHAJGOJ
15/07/2020
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আইসোলেশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
আইসোলেশন কী এবং কখন আইসোলেশনে থাকা প্রয়োজন?
এতদিনে আপনারা জেনে গিয়েছেন যে, করোনা ভাইরাসের ফলে সৃষ্ট কোভিড-১৯ অত্যন্ত ছোঁয়াচে। কারোও শরীরে যদি করোনা ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং কোভিড-১৯ টেস্ট পজিটিভ আসে, তবে তাকে ফরমাল বা প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এর মেয়াদকাল ১৪ দিন, তাই এই সময়টা চিকিৎসক এবং নার্সদের তত্ত্বাবধানে রোগীকে হাসপাতালে থাকতে হয়। সেখানে ডাক্তার এবং নার্সরাও নিজেদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ পোশাক পরে সেবা দিয়ে থাকেন।
এসময়ের মধ্যে আলাদা কক্ষে রেখে রোগীকে কিছু ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। তার যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, সেক্ষেত্রে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাকে এমন ওষুধ দেওয়া হয় যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করে। এই ভাইরাসটির প্রাথমিক পর্যায় হচ্ছে ইনকিউবেশন অর্থাৎ ভাইরাসটি নিজেকে ধীরে ধীরে বাহকের শরীরে প্রতিষ্ঠিত করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভিকটিমের শরীরে নিজে নিজেই এই রোগটির অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যায় এবং রোগী সুস্থ হতে শুরু করে! অনেকসময় আই সি ইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তাকে বিশেষ চিকিৎসা নিতে হতে পারে। তবে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পরিবার থেকে অবশ্যই শারীরিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। করোনা ভাইরাস পজিটিভ ব্যক্তির শারীরিক লক্ষণ পর্যবেক্ষণ ও সঠিক সেবা পাওয়ার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে থাকা প্রয়োজন।
কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের পার্থক্য কী?
কোয়ারেন্টিন হলো করোনা ভাইরাসের হালকা উপসর্গ যাদের দেখা দিয়েছে বা ঝুঁকি আছে, তাদের অন্য কারো সঙ্গ রোধ করার পদ্ধতি! আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন আলাদা দুইটা শব্দ। করোনা ভাইরাসের জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার পরপরই কিন্তু তার উপসর্গ দেখা দেয় না। কেননা এটা তার মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। সে নিজেও বুঝে উঠতে পারে না যে সে এই ভাইরাসে আক্রান্ত! কিন্তু এই সময়ে সে অন্যজনকেও সংক্রমিত করে দিতে পারে। তাই করোনা আক্রান্ত দেশ ঘুরে আসার পর বা সাসপেক্টেড রোগীর সাথে মেলামেশা করলে সেই ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এখানেও সময়সীমা ১৪ দিন। এসময় বাইরে বের হতে ও সামাজিক মেলামেশা করতে নিষেধ করা হয়। সেই সাথে মেনে চলতে হয় স্বাস্থ্যবিধি!
এই সময়ে কী কী করা উচিত?
যেহেতু ভাইরাসটি খুব দ্রুতই ছড়িয়ে যাচ্ছে, তাই এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এমন খাবার খাওয়া উচিত। এছাড়া সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে এবং জ্বর আসছে কি না সেটা খেয়াল রাখতে হবে। আমরা অনেকেই জানি, ভিটামিন সি শরীরে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ায়। লেবু, টমেটো, রসুন, মালটা, বেরি জাতীয় ফল, ক্যাপসিকাম ইত্যাদি খাদ্য তালিকাতে রাখুন। আর উপসর্গ দেখা মাত্রই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। কাশি ও জ্বর হলে পরিবারের সবার থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, আলাদা কক্ষ ও জিনিসপত্র ব্যবহার করা অর্থাৎ নিজেকে কিছুদিনের জন্য এক ঘরে করে রাখায় হচ্ছে এই ভাইরাস প্রতিরোধের কার্যকর উপায়! আইসোলেশনে থাকাকালীন চিকিৎসকই পরামর্শ দিবেন যে আক্রান্ত ব্যক্তির কোন ওষুধগুলো নেওয়া উচিত।
আইসোলেশন কিভাবে মানুষকে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচায়?
আমরা অনেকেই জানি, করোনা ভাইরাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে মানুষের দেহে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ আশেপাশে কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে বা ভাইরাস সংক্রমিত কোনো জায়গায় হাত দেয়ার পর মুখে হাত দিলে তা শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কাশি ও জ্বরের সাথে শরীরে ব্যথা, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট হলে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। কিন্তু এর আগের থেকেই কিন্তু সে ঐ ভাইরাসটি বহন করে আসছিলো এবং সামাজিক যোগাযোগে সে অন্য জনকেও আক্রান্ত করছে। আর এভাবেই মহামারী আকারে ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তার হয়।
যদি আপনার মধ্যে এই ধরনের লক্ষণ থাকে, কোয়ারেন্টিনে থাকুন। আর ভাইরাস শনাক্ত হওয়া মাত্রই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আইসোলেশনে চলে যেতে হবে। এর ফলে আপনার থেকে এই রোগের জীবাণু অন্য কারো মধ্যে ছড়িয়ে যাবে না এবং আপনার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা পাবেন। আর এভাবেই করোনা ভাইরাস থেকে আপনি বাঁচতে পারবেন আর আপনার আপনজনকেও সুরক্ষিত করতে পারবেন। এখন আমাদের করণীয় হচ্ছে, ভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে বাইরের পৃথিবীর সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া!
তাহলে, আইসোলেশন সম্পর্কে বেসিক বা সাধারণ তথ্যগুলো জানা হয়ে গেলো। এই সময়ে আতংকিত না হয়ে সচেতন হোন। বেশি করে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন এবং হাত পরিষ্কার রাখুন। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অনেক ব্যক্তিই কিন্তু সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। জানুন, বুঝুন ও সময় থাকতেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।
Ref: SHAJGOJ
08/07/2020
এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবনে পরামর্শ:
আমাদের দেশের মতো মুড়ি মুড়কির মত ওষুধ বিক্রি কোথাও হয় না। কুসংস্কার আছে, এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেলে সব রোগ ভাল হয়।
সে কারণে অনেকে কিছু না ভেবেই আ্যন্টিবায়েটিক সেবন করেন। সামান্য কারণে কিছু ডাক্তার আ্যন্টিবায়োটিক লিখে দেন।
এ জন্য অনেকে ভেবেই নেন। দু চারটা এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেলেই রোগ মুক্তি হবে।
এটা একটা ভুল ধারণা। ভুল ওষুধ সেবন, রোগ বাড়িয়েই দিতে পারে না। মৃত্যূর কারণ হতে পারে। অনেকে আবার ওজন কমানোর উপায় হিসেবেও আ্যন্টিবায়োটিক সেবন করে। এটাও একটা মারাত্মক ভুল ধারণা।
জ্বরের সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ প্যারাসিটামল। অথচ হরদম আমরা এন্টিবায়োটিক ঔষধ খাচ্ছি। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে।
পাশাপশি যেসব ডাক্তার পরীক্ষা না করে অনুমান করে এন্টিবায়োটিক ঔষধ দেন, তাদের বিরুদ্বেও ব্যবস্থা নিতে হবে। নিন্মমানের আ্যন্টিবায়োটিক ওষুধে বাজার সয়লাব।
এরা কারা? কোন সাহসে জনগনের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এই অধিকার তাদের কে দিয়েছে। দ্রুত এই সব ভুইপোড় কোম্পানীর বিরুদ্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।
শুধু বড়রাই নয়। এন্টিবায়োটিক ঔষধ এর অপব্যবহারের নির্মম বলি কোমলমতি শিশুরা। রাজধানীর শিশুরা বছরে গড়ে ১০ বারের চেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স সম্পন্ন করছে।
সম্প্রতি আইসিডিডিআরবি পরিচালিত এক গবেষনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। কী ভয়ংকর ব্যাপার। এর পরিনাম কতটা ভয়াবহ আমরা বুঝতে পারছি না।
একই অ্যান্টিবায়োটিক বার বার গ্রহন করা হয়। ফলে এক সময় এই অ্যান্টিবায়োটিক আর শরীরে কাজই করবে না।
এমনটা যদি শিশুকালেই হয়। বড় হবার পরে কি হবে ভাবা যায়।
• দেশপ্রেমী পত্র পত্রিকাগুলোর দায়িত্ব আছে। তারা এন্টিবায়োটিক ঔষধ নিয়ে আর্টিকেল প্রকাশ করতে পারে।
• ভালো ডাক্তারদের মতামত প্রকাশ করা যেতে পারে। যাতে করে ওষুধ সেবনে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ে।
জীবন রক্ষাকারী ওষুধ জীবন বিনাশী যেন না হয়। এটাই প্রত্যাশা করি।
পাশাপশি সকলের কাছে অনুরোধ, নিজের চিকিৎসা নিজে করতে যাবেন না।
বিষ খেলে সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। কিন্তু যাচ্ছেতাই ভাবে এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবনের ফলটা সাথে সাথে পাওয়া যাাবে না। ধীরে ধীরে পাওয়া যায়। তাই ওষুধ সেবনে একটু সাবধানতা কাম্য।
06/07/2020
এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন। পরামর্শ ও সর্তকতা:
সামান্য জ্বর। গায়ে ব্যাথা। মাথা ঝিম ঝিম করে। বমি আসে। এমন সব উপসর্গ দেখা দিল ওমনি টুপ করে একটি এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেয়ে নিলেন। না গেলেন ডক্টরের কাছে। না গেলেন হাসপাতালে। নিজের চিৎকিসা নিজেই করলেন।
আবার ডাক্তার আ্যন্টিবায়োটিক খেতে দিল। একটু সুস্থ বোধ করলেন। ওমনি এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবন বন্ধ করে দিলেন। কোর্স শেষ করার দরকারই মনে করলেন না।
ভাবলেন কি দরকার। সুস্থ তো হয়েই গেছি। আবার কিছু ডাক্তার আছেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার ধারে কাছেও যান না। লিখে দেন দু তিন রকমের এন্টিবায়োটিক ঔষধ।
এ যেন অনুমানে গাছে ঢিল ছোড়া। একটা না একটায় কাজ হবেই। তাতে রোগী বাচুক বা মরুক। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যূ হতে পারে। রোগী হত্যায় ডাক্তারের বিচার যে হবে বা হয়েছে এমন নজির নেই। এ দেশে অধিকাংশ চিকিৎসকরা ধোয়া তুলসি পাতা। রোগী মেরে ফেললেও এদের কিছু বলা মুশকিল। এক জোট হয়ে ধর্মঘট ডেকে বসে।
রোগীর তো অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। বছরে লাখ লাখ রোগী পার্শ্ববর্তী দেশে চিকিৎসার জন্য যায়। কেন যায়? দোষ কি সব সরকারের। ডাক্তারদের কি কোনই ভুমিকা নেই?
চিকিৎসার সাথে মানবতা, মানবাধিকার, মানবসেবা জড়িত। অন্য দশটা পেশার মত এটা না। অনেকেই এ বিষয়টা বেমালুম ভুলে গেছেন।
চিকিৎসকরা যতোটা সরাসরি মানবসেবা করতে পারেন। মানুষের চরম বিপদে পাশে দাড়াতে পারেন। অন্য কোন পেশার লোক এমনটা করতে পারেন না।
ব্যাকটেরিয়া,ভাইরাস,ছত্রাক এবং পরজীবীর মতো বিভিন্ন জীবানুর ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধী অবস্থা বা আ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিষ্ট্যান্স (এএমআর) এখন সারা বিশ্বেই উদ্বেগের বিষয়।
এন্টিবায়োটিক ঔষধ যখন তখন খাওয়া যায় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া তো নয়ই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যান্টিবায়াটিক ব্যবহারে বিধিবদ্ধ দিক নির্দেশনা নির্ধারণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিকিৎসকদের যথাসম্ভব কম এন্টিবায়োটিক ঔষধ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।