Kazi Abrar Hanif

Kazi Abrar Hanif

Share

যুগ থেকে তা-ই গ্রহণ করো, যা স্বচ্ছ।
আর জীবিকা থেকে ততটুকু, যা যথেষ্ট।

12/05/2026

কুরআন শিক্ষা
সপ্তম শ্রেণী
বায়তুশ শরফ শাহ জব্বারিয়া আদর্শ দাখিল মাদরাসা, পটিয়া, চট্টগ্রাম

09/04/2026

হজ্ব : হাদীস ও আছারের আলোকে

[ ফাতাওয়া বিভাগ, মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা ]

[হজ্ব মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। এ সময়ে প্রতি বছরেই দারুল ইফতাগুলোতে হারামাইন থেকে হাজ্বী সাহেবগণ বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে ফোন করে থাকেন। এবারও এ ধরনের বহু ফোন আসছে। তার মধ্যে একটি ফোন ছিল এক হাজ্বী দেশ থেকে হজ্বের ইহরাম করে গিয়েছেন। তার সঙ্গীরা ওমরার ইহরাম করে গিয়েছেন। তার সঙ্গীরা ওমরার ইহরাম করছেন দেখে তাদেরকে তিনি তিরস্কারও করেছেন এ বলে যে, তোমরা না হজ্বে যাবা। কিন্তু মক্কা মুকাররমা গিয়ে তিনি তামাত্তুকারীদের সাথে ওমরা করে মাথা মুণ্ডিয়ে ফেলেছেন। অর্থাৎ এ হাজ্বী ইফরাদ ও তামাত্তুর পার্থক্য বুঝেন না। এ ধরনের মাসআলা শুনে হজ্ব-বিষয়ক মাসায়েল আলকাউসারে আবার ছাপার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। তাই যিলকদ ১৪৩০ হিজরী-নভেম্বর ২০০৯ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রকাশিত ‘হজ্ব : হাদীস ও আছারের আলোকে’ প্রবন্ধটি কিছুটা পরিমার্জন ও সংক্ষিপ্ত করে পুণঃমুদ্রণ করা হল। -সম্পাদক]

হজ্ব তিন প্রকার : তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ।

মক্কার বাইরে অবস্থানকারী ব্যক্তিরা উপরোক্ত যেকোনো প্রকার হজ্ব করতে পারেন। এতে তাদের ফরয হজ্ব আদায় হবে। তবে উপরোক্ত তিন প্রকার হজ্বের মধ্যে সর্বোত্তম হল হজ্বে কিরান, এরপর তামাত্তু, এরপর ইফরাদ। নিচে প্রতিটির পরিচয় ও জরুরি মাসাইল উল্লেখ করা হল।

এক. কিরান

মীকাত অতিক্রমের পূর্বে উমরা ও হজ্বের ইহরাম বেঁধে একই ইহরামে উমরাহ ও হজ্ব উভয়টি আদায় করা। প্রথমে মক্কা মুকাররামা পৌঁছে উমরা করা অতঃপর এই ইহরাম দ্বারা হজ্বের সময়ে হজ্ব করা এবং কুরবানী দেওয়া।

দুই. তামাত্তু হজ্ব

হজ্বের মাসসমূহে মীকাত থেকে শুধু উমরার নিয়তে ইহরাম বাঁধা এবং মক্কা মুকাররামায় পৌঁছে উমরার কাজ সম্পন্ন করার পর চুল কেটে বা চেঁছে ইহরামমুক্ত হয়ে যাওয়া। অতঃপর এই সফরেই হজ্বের ইহরাম বেঁধে হজ্বের নির্ধারিত কাজগুলো সম্পন্ন করা এবং কুরবানী দেওয়া।

তিন. ইফরাদ

মীকাত থেকে শুধু হজ্বের নিয়তে ইহরাম বাঁধা এবং মক্কা মুকাররমা পৌঁছে উমরা না করা বরং (সুন্নত তাওয়াফ) তাওয়াফে কুদূম করে ইহরাম অবস্থায় হজ্বের জন্য অপেক্ষা করতে থাকা। অতপর নির্ধারিত সময়ে হজ্বের আমলগুলো সম্পন্ন করা।

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রা. বলেন, বিদায় হজ্বে আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমাদের মধ্যে কেউ (তামাত্তুর নিয়তে প্রথমে) উমরার জন্য তালবিয়া পাঠ করলেন, কেউ (কিরানের নিয়তে) হজ্ব ও উমরার জন্য তালবিয়া পাঠ করলেন এবং কেউ (ইফরাদের নিয়তে) শুধু হজ্বের ইহরাম করলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জে ইফরাদের জন্য তালবিয়া পাঠ করলেন। যারা শুধু হজ্ব বা একত্রে হজ্ব-উমরার (কিরানের) ইহরাম গ্রহণ করেছিলেন তারা ১০ যিলহজ্বের পূর্ব পর্যন্ত ইহরাম থেকে মুক্ত হননি। -সহীহ বুখারী ১/২১২

ইহরামের নিয়ম

ইহরামের মূল বিষয় হচ্ছে হজ্ব বা উমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠ। এর দ্বারাই ইহরাম সম্পন্ন হয়ে যায়।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মাথায় সিঁথি করা অবস্থায় ইহরামের তালবিয়া পাঠ করতে দেখেছি। তিনি বলেছেন,

لَبَّيْكَ اللهُمَّ، لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ .

এই বাক্যগুলোর অতিরিক্ত কিছু বলেননি। -সহীহ মুসলিম ১/৩৭৬

তবে ইহরাম করার সুন্নত তরীকা হল মোচ, নখ এবং শরীরের পরিষ্কারযোগ্য লোম চেঁছে বা কেটে পরিষ্কার করবে। উত্তমরূপে গোসল করবে, গোসল সম্ভব না হলে ওযু করবে। পুরুষগণ দু’টি নতুন বা ধৌত করা সাদা চাদর নিবে। একটি লুঙ্গির মতো করে পরবে। অপরটি চাদর হিসাবে ব্যবহার করবে। পায়ের পাতার উপরের অংশ খোলা থাকে এমন চপ্পল বা স্যান্ডেল পরবে। মহিলাগণ স্বাভাবিক কাপড় পরবে। তাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় জুতা-মোজা পরার অবকাশ রয়েছে। ইহরাম বাঁধার আগে খালি শরীরে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব। শরীরের আতর বা ঘ্রাণ ইহরাম গ্রহণের পর বাকি থাকলেও অসুবিধা নেই। তবে ইহরামের কাপড়ে আতর বা সুগন্ধি না লাগালেই ভালো। কেননা ইহরামের কাপড়ে এমন গাঢ় আতর বা সুগন্ধি লাগানো নিষেধ, যা ইহরামের পরও বাকি থাকে। মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে ইহরাম বাঁধার আগে দুই রাকাত নফল নামায পড়বে। অতঃপর যে হজ্ব আদায়ের ইচ্ছা, সে অনুযায়ী নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করবে।

নিচে ইহরামের প্রতিটি বিষয় দলীলসহ আলোচনা করা হল

১. মোচ, নখ এবং শরীরের পরিষ্কারযোগ্য লোম চেঁছে বা কেটে পরিষ্কার করা।

২. ইহরামের উদ্দেশ্যে উত্তমরূপে গোসল করা।

হযরত যায়েদ বিন ছাবেত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইহরাম করার জন্য গায়ের পোশাক খুলতে এবং গোসল করতে দেখেছেন। -জামে তিরমিযী ১/১০২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৫৮৪৭

গোসল সম্ভব না হলে ওযু করে নেওয়া।

মাসআলা : ঋতুমতী মহিলার জন্য ইহরামের আগে গোসল করা মুস্তাহাব। -গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৬৯

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো নারী হায়েয বা নেফাস অবস্থায় মীকাতে পৌঁছলে গোসল করবে এবং ইহরাম গ্রহণ করবে। অতপর হজ্বের যাবতীয় কাজ করতে থাকবে। শুধু বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৭৪০

৩. পুরুষদের দু’টি সাদা চাদর প্রয়োজন হবে, যা নতুনও হতে পারে কিংবা ধোয়াও হতে পারে। একটি লুঙ্গির মতো করে এবং অপরটি চাদর হিসাবে পরিধান করবে। কালো রংয়ের কিংবা পুরুষের জন্য অনুমোদিত এমন যেকোনো রংয়ের কাপড় পরিধান করাও জায়েয।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ চুল আঁচড়ালেন, তেল লাগালেন এবং লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করে মদীনা থেকে হজ্বের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। তিনি জাফরানযুক্ত ব্যতীত অন্য কোনো চাদর ও লুঙ্গি পরতে নিষেধ করেননি। -সহীহ বুখারী ১/২০৯

৪. পায়ের পাতার উপরের উঁচু অংশ খোলা থাকে এমন চপ্পল বা স্যান্ডেল পরা।

৫. মহিলাগণ স্বাভাবিক পোষাক পরবে।

আসওয়াদ ও আলকামা রাহ. বলেন, মহিলাগণ ইহরাম অবস্থায় নিজ অভিরুচি মাফিক পোষাক পরিধান করতে পারবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৪৪১৯

মাসআলা : মহিলাগণ ইহরাম অবস্থায় জুতা-মোজা ব্যবহার করতে পারবে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. মহিলাদেরকে ইহরাম অবস্থায় চামড়ার মোজা এবং পাজামা পরার অনুমতি দিতেন। তিনি বলেন, ছফিয়্যা রা. চামড়ার মোজা পরিধান করতেন, যা ছিল তাঁর হাটু পর্যন্ত। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস : ১৫৯৬৯ আরো দেখুন : হাদীস ১৫৯৬৫

মহিলাগণ হাত মোজা ব্যবহার করতে পারবে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, মহিলাগণ ইহরাম অবস্থায় হাত মোজা এবং পাজামা পরিধান করতে পারবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৪৪৪০

বিখ্যাত তাবেয়ী কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ রাহ. বলেন, ইহরাম গ্রহণকারিনী হাত-মোজা ও পাজামা পরিধান করবে এবং পূর্ণ মুখম-ল আবৃত রাখবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৫৯৬৮

৬. ইহরাম করার আগে খালি শরীরে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব। শরীরের আতর ও ঘ্রাণ যদি ইহরাম বাঁধার পর অবশিষ্ট থাকে তবুও কোনো অসুবিধা নেই।

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম গ্রহণের সময় তাঁর সর্বাধিক উত্তম সুগন্ধিটি ব্যবহার করতেন। তিনি বলেন, ইহরাম বাঁধার পর তাঁর শ্মশ্রু ও শির মোবারকে তেলের ঔজ্জ্বল্য দেখতে পেতাম। -সহীহ মুসলিম ১/৩৭৮

৭. মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে ইহরাম করার পূর্বে দুই রাকাত নফল নামায পড়া। -গুনইয়াতুন নাসিক ৭৩; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৯৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪৮২

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্বের উদ্দেশ্যে মদীনা থেকে রওনা হয়ে যুলহুলাইফাতে পৌঁছলেন এবং দুই রাকাত নামায পড়লেন। অতপর যুলহুলাইফার নিকট যখন উটনী তাঁকে নিয়ে উঠে দাঁড়াল তখন তিনি তালবিয়া পাঠ করলেন...। -সহীহ মুসলিম ১/৩৭৬

৮. ইহরাম : (পুরুষ হলে তখন টুপি বা মাথায় কোনো কাপড় থাকলে খুলে ফেলতে হবে)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, মুখম-ল ও তার উপরের অংশ মাথার অন্তর্ভুক্ত। অতএব ইহরাম গ্রহণকারী থুতনী থেকে উপরের কোনো অংশ আবৃত করবে না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৪৪৫২

মাসআলা : তামাত্তুকারী প্রথমে শুধু উমরার নিয়ত করবে, ইফরাদকারী শুধু হজ্বের নিয়ত এবং কিরানকারী হজ্ব ও উমরার নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করবে।

মাসআলা : পুরুষ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে এবং মহিলাগণ নিম্নস্বরে। -মানাসিক পৃ. ১০০, গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৭৪, আদ্দুররুল মুখতার পৃ. ৪৮৪

সাইব ইবনে ইয়াযিদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার নিকটে জিবরাইল আ. এলেন এবং বললেন, আমি যেন আমার সাহাবীদেরকে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের নির্দেশ দেই। -জামে তিরমিযী ১/১৭১

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, মহিলাগণ উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করবে না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৪৮৮২

তালবিয়া

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তালবিয়া এই-

لَبَّيْكَ اللهُمَّ، لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ.

(লাব্বাইক আল্লা-হুম্মা লাব্বাইক-লাব্বাইক লা শারীকা লাকা লাব্বাইক ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারীকা লাক।) -সহীহ মুসলিম ১/১৭৫

মাসআলা : মহিলাগণ ওযর অবস্থায় অর্থাৎ মাসিক ঋতুস্রাব, সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব ইত্যাদি থাকলেও তালবিয়া পাঠ ও ইহরাম করতে পারবে। হজ্বের অন্যান্য কাজও করা যাবে। তবে এ অবস্থায় তাওয়াফ করা ও নামায পড়া জায়েয নয়।

হযরত আব দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মহিলাগণ হায়েয বা নেফাস অবস্থায় মীকাতে এলে গোসল করবে এবং ইহরাম গ্রহণ করবে। অতপর হজ্বের আমলসমূহ সম্পন্ন করবে শুধু তওয়াফ ব্যতীত। -সুনানে আবু দাউদ ১/২৪৩

মাসআলা : ইহরামের হালতেও মহিলাদের জন্য পরপুরুষের সামনে চেহারা খোলা নিষেধ। তাই এ অবস্থায় এমনভাবে চেহারা আবৃত রাখা জরুরি যাতে মুখম-লের সঙ্গে কাপড় লেগে না থাকে। এখন এক ধরনের ক্যাপ পাওয়া যায়, যা পরিধান করে সহজেই চেহারার পর্দা করা যায়।

উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রা. বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হজ্বের ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। হাজ্বীদের কাফেলা যখন আমাদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করত তখন আমরা মাথা থেকে চেহারার উপর চাদর ঝুলিয়ে দিতাম। যখন তারা আমাদেরকে অতিক্রম করে যেত তখন চাদর সরিয়ে ফেলতাম। -সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৪

হযরত আলী রা. মহিলাদেরকে নিষেধ করতেন তারা যেন ইহরাম অবস্থায় নেকাব ব্যবহার না করে। তবে চেহারার উপর দিয়ে কাপড় ঝুলিয়ে দিবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৪৫৩৯; আদিল্লাতুল হিজাব ৩২৯-৩৩৪; নাইলুল আওতার ৫/৭১ মানাসিক ১১৫, ফাতহুল বারী ৩/৪৭৫

মাসআলা : ইহরাম অবস্থায় ইহরামের পোশাক পরিবর্তন করা যাবে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় ‘তানয়ীম’ নামক স্থানে কাপড় পরিবর্তন করেছিলেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৫০১০

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়

১। পুরুষের জন্য শরীর বা শরীরের কোনো অঙ্গের আকার অনুযায়ী তৈরিকৃত বা সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করা নিষিদ্ধ। যেমন : পাঞ্জাবি, জুব্বা, শার্ট, সেলোয়ার, প্যান্ট, গেঞ্জি, কোট, সোয়েটার, জাঙ্গিয়া ইত্যাদি।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করল, মুহরিম কী কী কাপড় পরতে পারবে? তখন তিনি ইরশাদ করলেন, জামা, পাগড়ি, পাজামা, টুপি ও মোজা পরবে না। -সহীহ মুসলিম ১/৩৭২

মাসআলা : ইহরামের কাপড় ছিঁড়ে গেলে তা সেলাই করে কিংবা জোড়া দিয়ে পরিধান করা যাবে। -রদ্দুল মুহতার ২/৪৮১, শরহু লুবাবিল মানাসিক ৯৮

মাসআলা : ইহরাম অবস্থায় সেলাইযুক্ত ব্যাগ ব্যবহার করা ও বেল্ট বাঁধা নিষিদ্ধ নয়।

তাবেয়ী উরওয়া রাহ. মুহরিমের জন্য টাকা-পয়সা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হেফাযতের উদ্দেশ্যে ব্যাগ ব্যবহার করা বৈধ মনে করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৫৬৯৯

তাউস রাহ. বলেন, মুহরিম কোমরবন্দ (বেল্ট) ব্যবহার করতে পারবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৫৬৮৯

২। পুরুষের জন্য মাথা ও মুখম-ল আবৃত করা নিষেধ।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, মুখম-ল ও তার উপরের অংশ মাথার অন্তর্ভুক্ত। অতএব ইহরাম গ্রহণকারী থুতনী থেকে উপরের দিকে আবৃত করবে না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৪৪৫২

এ প্রসঙ্গে মহিলাদের বিধান ইতিপূর্বে উল্লেখিত হয়েছে। তাদের জন্য মুখম-ল আবৃত করা নিষেধ নয়। তবে মুখম-লে কাপড় লাগানো নিষেধ। তাই তারা পর পুরুষের সামনে এমনভাবে মুখম-ল আবৃত করবেন যেন তাতে কাপড়ের স্পর্শ না লাগে।

৩। পুরুষের জন্য পায়ের পাতার উপরের উঁচু হাড় ঢেকে যায় এমন জুতা পরিধান করা নিষেধ। তাই এমন জুতা বা স্যান্ডেল পরতে হবে যা পরলে ওই উঁচু অংশ খোলা থাকে। -রদ্দুল মুহতার ২/৪৯০

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা চাদর, লুঙ্গি ও চপ্পল পরে ইহরাম বাঁধবে। যদি চপ্পল না থাকে তবে চামড়ার মোজা পায়ের পাতার উঁচু হাড়ের নীচ পর্যন্ত কেটে পরিধান করবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ৪৮৮১

৪। ইহরাম করার পর আতর বা সুগন্ধি লাগানো নিষেধ।

হযরত ইয়া‘লা ইবনে উমাইয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জিঈররানা নামক স্থানে অবতরণ করলেন, তখন এক ব্যক্তি তার কাছে এলেন, যার পরনে ছিল জাফরান মিশ্রিত এক ধরনের সুগন্ধিযুক্ত জুব্বা। ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, সুগন্ধির চিহ্ন দূর কর এবং জুব্বা খুলে ফেল।’-সহীহ মুসলিম ১/৩৭৩

মাসআলা : সুগন্ধিযুক্ত তেল, যয়তূন ও তিলের তেলও লাগানো যাবে না। সুগন্ধি সাবান, পাউডার, স্নো, ক্রীম ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না।

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত আতা রাহ. বলেন, ‘ইহরামকারী তার শরীরে কিংবা কাপড়ে সুগন্ধিযুক্ত তেল লাগালে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে।’ -মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৪৮৩৩

মাসআলা : ইচ্ছাকৃতভাবে ফল-ফুলের ঘ্রাণ নেওয়া মাকরূহ।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. মুহরিমের জন্য ফুলের ঘ্রাণ নেওয়া অপছন্দ করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১৪৮২৭

আবুয যুবাইর রাহ. বলেন, আমি জাবির রা.কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইহরামকারী কি ফুল বা সুগন্ধি শুঁ কতে পারে? তিনি বললেন, না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৪৮২৮

৫। নখ কাটা কিংবা শরীরের কোনো স্থানের চুল, পশম কাটা বা উপড়ানো নিষেধ।

হযরত আতা, তাউস ও মুজাহিদ রাহ. প্রমুখ বিখ্যাত তাবেয়ীগণ বলেন, ‘মুহরিম তার বগলের নিচের পশম উপড়ালে বা নখ কাটলে তার উপর ফিদয়া দেওয়া ওয়াজিব হবে।’ -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৩৬০৪

৬। ইহরাম অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করা বা স্ত্রীর সামনে এ সংক্রান্ত কোনো কথা বা কাজ করা নিষেধ।

কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) ‘হজ্বের মাসগুলি সুবিদিত। অতএব যে ব্যক্তি এ মাসগুলিতে হজ্ব করা স্থির করে হজ্বে সে অশ্লীল কিছু করবে না, গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া বিবাদ করবে না। -সূরা বাকারা (২) : ১৯৭

এক ব্যক্তি তাওয়াফে যিয়ারতের পূর্বে স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয়ে গেল। তাদের সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি একটি উট জবাই করার নির্দেশ দিলেন। -মুআত্তা মুহাম্মাদ পৃ. ২৩৮

হযরত ইবনে আব্বাস রা.কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল যে, আমি ইহরামের হালতে কামভাবের সাথে নিজ স্ত্রীকে চুম্বন করেছি। এখন আমার করণীয় কী? তিনি উত্তরে বললেন, তুমি একটি কুরবানী কর। -কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ পৃ. ৫৩

৭। কোনো বন্য পশু শিকার করা বা শিকারীকে সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ।

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) তোমাদের উপর স্থলের প্রাণী শিকার করা হারাম করা হয়েছে যে পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাক। -সূরা মায়িদাহ (৫) : ৯৬

৮। ঝগড়া-বিবাদ সাধারণ সময়েও নিষিদ্ধ। ইহরাম অবস্থায় তা আরো ভয়াবহ।

কুরআন মাজীদে আছে, (তরজমা) ‘হজ্বের মাসগুলি সুবিদিত। অতএব যে ব্যক্তি এ মাসগুলিতে হজ্ব করা স্থির করে, হজ্বে সে অশ্লীল কিছু করবে না, গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া বিবাদ করবে না। -সূরা বাকারা (২) : ১৯৭

৯। কাপড় বা শরীরের উকূন মারা নিষিদ্ধ। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৮৬-৪৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৪

বিখ্যাত তাবেয়ী ইকরিমা রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ইহরামকারী তার কাপড়ে উকূন দেখতে পেলে কী করবে? উত্তরে তিনি বললেন, আলতোভাবে ধরে যমীনে রেখে দিবে, মেরে ফেলবে না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৩২৯৭

মাসআলা : আরাফায় অবস্থানের পূর্বে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হলে হজ্ব নষ্ট হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তাকে একটি দম দিতে হবে এবং পরবর্তী বছর ঐ হজ কাযা করা জরুরি। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৫৮-৫৫৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪৪, মানাসিক ১১৭

এক ব্যক্তি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর নিকট এসে বলল, আমি ইহরাম অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি। এখন আমার কী করণীয়? তিনি বললেন, তোমরা উভয়ে হজ্বের অবশিষ্ট আমলগুলো সম্পন্ন করবে। অতপর আগামী বছর এ হজ্ব কাযা করবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৩২৪৫

মাসআলা : ইহরাম অবস্থায় মাথা ও মুখ ব্যতীত পূর্ণ শরীর চাদর ইত্যাদি দিয়ে আবৃত করা যাবে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, এক ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় সওয়ারীর পিঠ থেকে পড়ে মৃত্যুবরণ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা তাকে বড়ই পাতা মেশানো পানি দিয়ে গোসল দাও এবং তার পরনের কাপড় দু’টি দ্বারা কাফন পরাও। তার চেহারা ও মাথা আবৃত করো না। কেননা সে কিয়ামতের দিন উত্থিত হবে তালবিয়া পড়তে পড়তে। -সহীহ মুসলিম ১/৩৮৪

মাসআলা : কান, ঘাড়, পা ঢাকা যাবে। মাথা ও গাল বালিশে রেখে শোয়া যাবে। তবে পুরো মুখ বালিশের উপর রেখে ঢেকে শোয়া যাবে না। -মানাসিক ১২৩-১২৪, গুনইয়াতুন নাসিক ৯৩



উমরার পদ্ধতি

উমরার ফরয দুটি

১। উমরার ইহরাম করা। অর্থাৎ উমরার নিয়তে তালবিয়া পাঠ করা।

২। বাইতুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করা ।

উমরার ওয়াজিব দুটি

১। সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করা।

২। মাথার চুল মুণ্ডানো বা কটা।

উমারা আদায়ের পদ্ধতি হল, মীকাত থেকে শুধু উমরার ইহরাম করবে। এরপর মক্কা পৌঁছে বাইতুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করবে। অতপর সাফা-মারওয়ার সায়ী করবে। তারপর মাথার চুল মুণ্ডিয়ে বা ছোট করে হালাল হয়ে যাবে।

মাসআলা : উমরার তাওয়াফ ও যে তাওয়াফের পর সায়ী আছে সেই তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করা অর্থাৎ বীরদর্পে কাঁধ দুলিয়ে কিছুটা দ্রুত বেগে চলা সুন্নত। তদ্রƒপ পুরো তাওয়াফে ইজতিবা করা (পরিধেয় চাদর ডান বগলের নীচে দিয়ে বের করে বাম কাঁধের উপর রাখা) সুন্নত। তবে এ দু’টি বিষয়-রমল ও ইজতিবা শুধু পুরুষের জন্য সুন্নত। -মানাসিক ১২৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৫

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, হজ্ব ও উমরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাওয়াফ করতেন তখন প্রথম তিন চক্করে রমল করতেন। বাকি চার চক্করে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেন। এরপর দু’ রাকাত নামায পড়তেন। এরপর সাফা-মারওয়া মাঝে সায়ী করতেন। -সহীহ মুসলিম ১/৪১০

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, জিঈ ররানা নামক স্থান থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ উমরা করেছেন। তাঁরা তাওয়াফকালে ‘রমল’ করেছেন এবং পরিধেয় চাদর (ডান কাঁধ খালি রেখে) বগলের নিচ দিয়ে বের করে বাম কাঁধের উপর রেখেছেন। -সুনানে আবু দাউদ ১/২৫৭; মুসনাদে দারেমী, হাদীস ১৯৭৪; জামে তিরমিযী ১/১৭৪

মাসআলা : মহিলাদের জন্য রমল নেই।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, মহিলাদের জন্য ‘রমল’ করার বিধান নেই। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৩১১১

মাসআলা : সকল তাওয়াফের পর দুই রাকাত নফল নামায পড়া ওয়াজিব। তাওয়াফ নফল হোক বা ফরয। আর এই দুই রাকাত নামায মাকামে ইবরাহীমের পিছনে পড়া মুস্তাহাব।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় এলেন তখন বাইতুল্লাহর চারপাশে সাত বার তাওয়াফ করলেন। তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দু’ রাকাত নামায পড়লেন। এরপর সাফা-মারওয়ার দিকে গেলেন।... -সহীহ বুখারী ১/২২০

মাসআলা : মাকামে ইবরাহীমের পিছনে পড়া সম্ভব না হলে মসজিদে হারামের যে কোনো স্থানে এই দুই রাকাত নামায পড়া যাবে।

মাসআলা : তাওয়াফ পরবর্তী দুই রাকাত নামায তাওয়াফের পর অবিলম্বে আদায় করা উত্তম। বিনা ওজরে বিলম্বে পড়া মাকরূহ। তবে মাকরূহ ওয়াক্ত হলে পরে পড়বে। -রদ্দুল মুহতার ২/৪৯৯, মানাসিক ১৫৫, গুনইয়াতুন নাসিক ১১৬

মাসআলা : একাধিক তাওয়াফ করে পরবর্তী দুই রাকাত নামাযকে একত্রে পড়া মাকরূহ।

নাফে‘ রাহ. থেকে বর্ণিত, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. একত্রে একাধিক তাওয়াফ করা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেন, প্রত্যেক সাত চক্করে (অর্থাৎ এক তাওয়াফের পর) দুই রাকাত নামায পড়া জরুরি। তিনি একত্রে দুই তাওয়াফ করতেন না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ৯০১২

মাসআলা : তাওয়াফের পরের সময় যদি মাকরূহ ওয়াক্ত হয়ে থাকে তবে মাকরূহ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর একাধিক তাওয়াফের নামায একত্রে আদায় করা যাবে। -গুনইয়াতুন নাসিক ১১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৭

আতা রাহ. বলেন, উমন রা, ফজরের পর তাওয়াফ করেন। অতপর সওয়ার হয়ে তুয়া নামক স্থানে এসে অবতরণ করেন। এরপর নামায পড়েন।... -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৩৩২৬

হযরত মিছওয়ার ইবনে মাখরামা রা. ফজরের পর একত্রে তিন তাওয়াফ করতেন এবং সূর্যোদয়ের পর প্রত্যেক তাওয়াফের জন্য দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। তিনি আসরের পরও অনুরূপ করতেন। অতপর সূর্যাস্তের পর প্রত্যেক তাওয়াফের জন্য দুই রাকাত নামায আদায় করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৩৪২২

উমরার সায়ী

‘সাঈ’ হল, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর দেওয়া। সাফা থেকে শুরু করে মারওয়াতে পৌঁছলেই এক চক্কর হবে। এরপর মারওয়া থেকে সাফাতে আসলে দ্বিতীয় চক্কর হবে। এভাবে সাফা-মারওয়ার মাঝে ৭ চক্কর পূর্ণ করতে হবে। সাঈর প্রথম চক্কর শুরু হবে সাফা থেকে আর সপ্তম চক্কর শেষ হবে মারওয়াতে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১২১৮

মাসআলা : সাঈর সময় সবুজ দুই পিলারের মধ্যবর্তী স্থান পুরুষের জন্য মধ্যম গতিতে দৌড়ে অতিক্রম করা মুস্তাহাব। কিন্তু মহিলাগণ দৌড়াবেন না। স্বাভাবিকভাবে হাঁটবেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৬৪৪

মাসআলা : সাঈ সমাপ্ত করার পর মাথা মুণ্ডিয়ে বা চুল ছোট করে এহরাম মুক্ত হয়ে যাবেন। এ পর্যন্ত উমরার কাজ শেষ হল। তামাত্তু হজ্বকারীগণ এখন থেকে হজ্বের এহরাম বাধার আগ পর্যন্ত বৈধ সব কাজ করতে পারবেন। অবশ্য হারামের এলাকায় সাধারণভাবে নিষিদ্ধ কাজসমূহ যেমন, শিকার করা ইত্যাদি তখনও নিষিদ্ধই থাকবে।



হজ্বের পদ্ধতি

হজ্বের ফরয তিনটি :

১। ইহরাম বাঁধা। ইতিপূর্বে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

২। উকূফে আরাফা।

৩। তাওয়াফে যিয়ারত।

হজ্বের ওয়াজিবসমূহ এই-

১। মুযদালিফায় অবস্থান করা

৫। সাফা-মারওয়ার মাঝে সায়ী করা।

২। নির্দিষ্ট দিনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের ভেতর জামরাতে রমী তথা কংকর নিক্ষেপ করা।

৩। তামাত্তু ও কিরান হজ্ব আদায়কারীর জন্য দমে শোকর তথা হজ্বের কুরবানী।

৪। মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছোট করা।

৬। মীকাতের বাহির থেকে আগত লোকদের ‘তাওয়াফে বিদা’ করা।

হজ্বের পাঁচ দিনের আমল

নিম্নে ৮ যিলহজ্ব থেকে ১২ যিলহজ্ব পর্যন্ত হজ্বের পাঁচ দিনের আমলগুলোর কর্মপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট মাসায়িল আলোচনা করা হচ্ছে :

প্রথম দিন ৮ যিলহজ্ব

আজ সূর্যোদয়ের পর সকল হাজ্বীকে ইহরাম অবস্থায় মিনা গমন করতে হবে। যোহর থেকে পরবর্তী দিনের ফজর পর্যন্ত মোট পাঁচ ওয়াক্ত নামায মিনায় পড়া এবং ৮ তারিখ দিবাগত রাত্রি মিনায় অবস্থান করা সুন্নত। -রদ্দুল মুহতার ২/৫০৩, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৭

হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৮ যিলহজ্ব মিনায় গমন করলেন এবং সেখানে যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফজর নামায আদায় করলেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৪৭৫৫

হজ্বের ইহরাম : ইফরাদ হজ্ব ও কিরান হজ্ব আদায়কারী হজ্বের ইহরাম পূর্ব থেকেই করে থাকে। তামাত্তু হজ্ব আদায়কারী আজ মিনায় যাওয়ার পূর্বে হজ্বের ইহরাম করবেন।

হযরত জাবির রা. বলেন, যখন আমরা ইহরাম থেকে মুক্ত হলাম তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ করলেন, আমরা যেন মিনার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় ইহরাম করি। আমরা আবতাহ নামক স্থানে ইহরাম করলাম। -সহীহ মুসলিম ১/৩৯২

হজ্বের ইহরাম বাঁধার স্থান

মাসআলা : মহিলাগণ নিজ নিজ অবস্থান স্থল থেকেই ইহরাম বাঁধবে। পুরুষরাও হোটেল বা আবাস-স্থান থেকে ইহরাম বাঁধতে পারে। তবে পুরুষের জন্য সম্ভব হলে মসজিদে হারামে এসে নিয়ম অনুযায়ী ইহরাম বাঁধা ভালো।

ইসমাইল ইবনে আবদুল মালিক থেকে বর্ণিত, হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর রাহ. ৮ যিলহজ্ব স্বস্থান থেকে পায়ে হেঁটে বের হলেন, আমিও তার সঙ্গে বের হলাম। তিনি মসজিদে হারামে প্রবেশ করে দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। অতপর মসজিদ থেকে বের হয়ে কাবার দিকে ফিরে তালবিয়া পাঠ করলেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৫৯৩১

মাসআলা : হজ্বের ইহরামের পর থেকে ১০ তারিখ জামরা আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়া পড়তে থাকবে। কংকর নিক্ষেপের পর থেকে তালবিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। -মানাসিক ২২৫; গুনইয়াতুন নাসিক ১৭০

হযরত ফযল ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জামরা আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করেছেন। -সহীহ মুসলিম ১/৪১৫

মিনায় অবস্থান না করা

মাসআলা : ৮ তারিখ দিবাগত রাতে যদি কেউ মিনায় অবস্থান না করে কিংবা এ তারিখে মোটেই মিনায় না যায় তাহলেও তার হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। তবে মাকরূহ হবে। -মানাসিক ১৮৮-১৮৯; আহকামে হজ্ব ৬২

তাবু মিনার বাইরে হলে

মাসআলা : মিনায় জায়গা সংকুলান না হওয়ার কারণে মিনার এলাকার বাইরে বহু তাবু লাগানো হয়। যেহেতু এটি জায়গার সংকীর্ণতার ওজরে করা হয়ে থাকে তাই আশা করা যায়, এ সকল তাবুতে অবস্থানকারীরাও মিনায় অবস্থানের ফযীলত পেয়ে যাবে।

নির্ধারিত সময়ের আগেই মিনার উদ্দেশে রওয়ানা

মাসআলা : মিনায় রওয়ানা হওয়ার সময় হল ৮ তারিখ সূর্যোদয়ের পর। কিন্তু আজকাল ৭ তারিখ দিবাগত রাতেই মুআল্লিমের গাড়ি রওয়ানা হয়ে যায় এবং রাতে রাতেই মিনায় পৌঁছে যায়। যদিও ৮ তারিখ সূর্যোদয়ের পর রওয়ানা হওয়া নিয়ম এবং এটিই ভালো, কিন্তু অধিক ভিড়ের কারণে আগে চলে যাওয়া দোষের বিষয় নয়। -মানাসিক ১৮৮; গুনইয়াতুন নাসিক ১৪৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৭

হাজ্জাজ রাহ. বলেন, আমি হযরত আতা রাহ.-কে ‘ইয়াওমুত তারবিয়া’র একদিন পূর্বে (অর্থাৎ ৭ তারিখে) মিনায় যাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি তা দোষের বিষয় মনে করেননি। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৫৫৩৪

তাকবীরে তাশরীক

মাসআলা : ৯-১৩ যিলহজ্ব প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব। তাই প্রত্যেক হাজ্বীকে এ বিষয়ে যত্নবান হতে হবে।

হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি যিলহজ্বের ৯ তারিখ ফজর থেকে ১৩ তারিখ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক পাঠ করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ৫৬৭৮

দ্বিতীয় দিন ৯ যিলহজ্ব

উকূফে আরাফা

৯ যিলহজ্স সূর্য ঢলার পর থেকেই উকূফ করা সুন্নত। সূর্যাস্তের আগে আরাফায় পৌঁছে গেলে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উকূফ করা ওয়াজিব। সূর্যাস্তের আগে আরাফা ত্যাগ করা জায়েয নয়। আরাফায়া উকূফের প্রধান সময় ৯ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত। কিন্তু কেউ যদি এ সময়ের ভেতর আরাফায় পৌঁছতে না পারে তাহলে আগত রাতের সুবহে সাদিকের মধ্যে স্বল্প সময় আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকলেও এই ফরয আদায় হয়ে যাবে।

হযরত আবদুর রহমান ইবনে ইয়া‘মার রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হজ্ব হল (উকূফে) আরাফা। যে ব্যক্তি আরাফার রাত (অর্থাৎ ৯ তারিখ দিবাগত রাত) পেল তার হজ্ব পূর্ণ হল।’ -সুনানে নাসাঈ ২/৩৭

অন্য হাদীসে এসেছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে আরাফায় রাতের কিছু অংশ অবস্থান করেছে তার হজ্ব পূর্ণ হয়েছে আর যে তা করল না তার হজ্ব হয়নি। অতএব সে উমরা করে ইহরাম থেকে মুক্ত হবে এবং পরবর্তী বছর পুনরায় হজ্ব করবে। -সুনানে দারাকুতনী ২/২৪১; গুনইয়াতুন নাসিক ১৫৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৯; আহকামে হজ্ব ৬৩

হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলার পর ক্বসওয়া নামক উটনীতে আরোহণ করে রওনা হয়েছেন এবং বাতনে ওয়াদি অর্থাৎ আরাফায় এসে খুতবা দিয়েছেন। অতপর সেখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করেছেন। -সহীহ মুসলিম ১/৩৯৭

যোহর ও আসর একত্রে পড়া

মাসআলা : মসজিদে নামিরার জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারলে যোহর ও আসর একত্রে ইমামের পিছনে আদায় করবে।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফার দিন সকালে ফজর নামায পড়লেন এবং মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশে রওনা হলেন। আরাফায় পৌঁছে নামিরাতে অবস্থান করলেন। নামিরা হল আরাফার ঐ স্থান যেখানে ইমাম অবস্থান করেন। অতপর যখন যোহরের সময় হল তখন দ্রƒত নামায আদায় করলেন এবং যোহর ও আসর একত্রে পড়লেন। অতপর খুতবা দিলেন। খুতবা শেষে আরাফার মাওক্বিফের দিকে রওনা হলেন এবং সেখানে উকূফ (অবস্থান) করলেন। -সুনানে আবু দাউদ ১/২৬৫

উকূফে আরাফার করণীয়

উত্তম হল, তাঁবুর বাইরে খোলা আকাশের নিচে এসে কিবলামুখী হয়ে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুআ করা। -সহীহ মুসলিম ১/৩৯৮

হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটে আরোহণ করে মাওক্বিফে এলেন।... অতপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিবলামুখী হয়ে এখানে উকূফ করেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১৫৬২২

সূর্যাস্তের পূর্বে আরাফা থেকে বেরিয়ে যাওয়া

অনেকে সূর্যাস্তের আগেই মুযদালিফার উদ্দেশে রওনা হয়ে যায়। এরূপ হয়ে গেলে কর্তব্য হল পুনরায় আরাফায় ফিরে আসা। অন্যথায় দম দিতে হবে। -মানাসিক ২১০; গুনইয়াতুন নাসিক ১৬০; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫২

বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত হাছান রাহ. বলেন, ইমামের পূর্বে যে মুযদালিফায় পৌঁছবে তার উপর দম আসবে।

অন্য বর্ণনায় আছে, আবদুল্ল

01/03/2026
17/02/2026

হাদি

04/02/2026

বায়তুশ শরফ শাহ জব্বারিয়া আদর্শ দাখিল মাদরাসা, পটিয়া, চট্টগ্রাম এর তৃতীয় বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথি রাহবারে বায়তুশ শরফ শায়েখ আব্দুল হায় নদভী হাফি: এর শানে আরবিতে মানপত্র পাঠ করছেন। অত্র মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র স্নেহের ইফতেখার হেসাইন মিসবাহ।

10/10/2025

সব জনক এখানে-
✪ ফেসবুকের জনক → মার্ক জুকারবার্গ।
✪ মোবাইল ফোনের জনক → মার্টিন কুপার।
✪ কম্পিউটারের জনক → চার্লস ব্যাবেজ।
✪ ই-মেইলের জনক →রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন।
✪ ওয়াল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক → টিম বার্নাস-লি।
✪ ক্যামেরা জনক → জর্জ ইস্টম্যান।
✪ ল্যাবটপ জনক → বিল মোগারিজ।
✪ আইফোন জনক →স্টিভ জবস।
✪ ক্যালকুলেটর জনক →বেইসি প্যাসকেল।
✪ ঘড়ির জনক → সি হাইজেন্স।
✪ রেডিও জনক →জি মার্কনি।
✪ চশমা জনক → ডেলা স্পিনা।
✪ HIV জনক → এল. মন্টোগনিয়ার।
✪ কলম জনক → জন লাউড।
✪ রোবট জনক → জর্জ চার্লস ডেভল।
✪ মটরসাইকেল জনক →গটলির ডেলমার।
✪ পিস্তলের জনক→স্যামুয়েল কোল্ট।
✪ হেলিকপ্টার জনক →ইগর সিকরস্কি।
✪ বিদ্যুৎতের জনক→মাইকেল ফ্যারাডে।
✪ রকেট জনক →রবার্ট গডার্ড।
✪ মাইক্রোফোন জনক → আলেকজান্ডার গ্রাহামবেল।
✪ ইলেকট্রন জনক → জন থম্পসন।
✪ জৈব রসায়নের জনক → ফ্রেডারিক উহলার।
✪ আলো সাতটি বর্ণের সমষ্টি " জনক → আইজ্যাক
নিউটন।
✪ আলোর গতির জনক →এ মাইকেলসন।
✪ এটম বোমা জনক →অটোহ্যান।
✪ টাচ স্ক্রিন মোবাইল জনক → স্টিভ জবস।
✪ ইন্টারনেট প্রযুক্তি জনক → লিওনারড ক্লেইনরক।
✪ গুগলের জনক →সার্জেই বিন।
✪ টুইটারের জনক → জ্যাক ডোরসেই।
✪ মার্কেটিং জনক →ফিলিপ কোটলার।
✪ ফিনান্সের জনক →এ্যারোরা।
✪ হিসাব বিজ্ঞানের জনক → লুকা প্যাসিওলি।
✪ এনাটমির জনক →আঁদ্রে ভেসালিয়াস।
✪ ATM-এর জনক →জন শেফার্ড ব্যারন।
✪ আধুনিক শিক্ষার জনক → সক্রেটিস।
✪ পারমাণবিক বোমার জনক → ওপেন হেইমার।
✪ বাংলা গদ্যের জনক→ ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর।
✪ পদার্থ বিজ্ঞানের জনক → আইজ্যাক নিউটন।
✪ সমাজ বিজ্ঞানের জনক → অগাষ্ট কোঁৎ।
✪ হিসাব বিজ্ঞানের জনক→লুকাপ্যাসিওলি।
✪ চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক → ইবনে সিনা।
✪ দর্শন শাস্ত্রের জনক → সক্রেটিস।
✪ রসায়ন বিজ্ঞানের জনক → জাবির ইবনে হাইয়ান।
✪ ইতিহাসের জনক → হেরোডোটাস।
✪ বিজ্ঞানের জনক→থ্যালিস।
✪ মেডিসিনের জনক → হিপোক্রটিস।
✪ জ্যামিতির জনক→ইউক্লিড।
✪ বীজ গণিতের জনক →আল খাওয়াজমী।
✪ জীবাণু বিদ্যার জনক → লুইস পাস্তুর।
✪ রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক → এরিস্টটল।
✪ অর্থনীতির জনক →এডাম স্মিথ।
✪ অংকের জনক →আর্কিমিডিস।
✪ বিবর্তনবাদ তত্ত্বের জনক → চার্লস ডারউইন।
✪ সনেটের জনক→পের্ত্রাক।
✪ ক্যালকুলাসের জনক → আইজ্যাক নিউটন।
✪ বাংলা গদ্যের জনক → ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
✪ বাংলা কবিতার জনক → মাইকেল মধুসুদন দত্ত।
✪ বাংলা উপন্যাসের জনক →বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
✪ ইংরেজী কবিতার জনক →জিউফ্রে চসার।
✪ মনোবিজ্ঞানের জনক → উইলহেম উন্ড।
✪ প্রাণী বিজ্ঞানের জনক →এরিস্টটল।
✪ বাংলা মুক্তক ছন্দের জনক → কাজী নজরুল ইসলাম।
✪ বাংলা চলচিত্রের জনক জনক → হীরালাল সেন।
✪ বাংলা গদ্য ছন্দের জনক → রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
✪ জীব বিজ্ঞানের জনক → এরিস্টটল।
✪ ভূগোলের জনক →ইরাটস থেনিস।
✪ ইংরেজি নাটকের জনক → শেক্সপিয়র।
✪ সামাজিক বিবর্তনবাদের জনক → হার্বাট স্পেন্সর।
✪ বংশগতি বিদ্যার জনক → গ্রেডার জোহান মেনডেল।
✪ শ্রেণীকরণ বিদ্যার জনক → কারোলাস লিনিয়াস।
✪ শরীর বিদ্যার জনক → উইলিয়াম হার্ভে।
✪ বাংলা নাটকের জনক → দীন বন্ধু মিত্র।
✪ বাংলা সনেটের জনক → মাইকেল মধুসুদন দত্ত।
✪ আধুনিক রসায়নের জনক → জন ডাল্টন।
✪ আধুনিক গণতন্ত্রের জনক → জন লক।
✪ আধুনিক অর্থনীতির জনক → পল স্যমুয়েলসন।
✪ আধুনিক বিজ্ঞানের জনক → রজার বেকন।
✪ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের জনক→মাইকেল মধুসূদন
দত্ত।
✪ বাংলা গদ্যের জনক→ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
✪ বিরাম চিন্হের জনক →ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
✪ আধুনিক বাংলা চলিত রীতির জনক →প্রমথ চোধুরী।
✪ বাংলা চ্যানেলের জনক→ কাজী হামিদুল হক।

Photos from Kazi Abrar Hanif's post 30/09/2025

বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় আল্লামা শাহ আবদুল জব্বার রাহ. এর অবদান

আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বৎসর পূর্বে বাংলাদেশে যখন ইসলামী ব্যাংকিং -এর কথা কেউ কল্পনাও করেনি তখন শায়খ মাওলানা আবদুল জব্বার সাহেব ১৯৮১ সালের ২৬ এপ্রিল রােজ রবিবার তাঁরই প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং-এর উপর দু’দিন ব্যাপী খুবই ব্যয়বহুল আড়ম্বরপূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা থেকে আগত বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর এম. খালিদ খান। উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বহু সম্মানিত ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক, ইসলামী চিন্তাবিদ, উলামায়ে কেরাম, সাংবাদিক শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য যে, তথায় সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থায় যারা পড়াশুনা করেন তাদেরকেও আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। শায়খ মাওলানার অভিমত “তাদের বক্তব্য যদি আমি না শুনি আমার বক্তব্য তারা শুনবে কেন?”

উক্ত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর জনাব আতাউল হক। গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন সোনালী ব্যাংক স্টাফ ট্রেনিং কলেজের তৎকালীন প্রিন্সিপাল জনাব আজিজুল হক।

১৯৮০ সালের নবেম্বরে দেশে বেসরকারী খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয়া হয়। বাংলাদেশে বেসরকারী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে শরীয়া মোতাবেক একটি ব্যাংক চালুর এ উদ্যোগ ছিল ব্যতিক্রমি ও সাহসি। এর পেছনে তখন আর্থিক লাভের হাতছানি বা ডিভিডেন্ড পাওয়ার লোভ ছিল না। পুরো মূলধন হারানোর ঝুঁকি ছিল। এ অবস্থার মধ্যেই অল্প ক’জন লোক শরীয়া মোতাবেক ব্যাংক চালুর চ্যালেঞ্জ নিয়ে উজান স্রোতের যাত্রী হন।

ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য তখন আট কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন প্রয়োজন। তার মধ্যে পাঁচ ভাগ বা চল্লিশ লাখ টাকা দেবে সরকার। দশভাগ বা আশি লাখ টাকা আসবে পাবলিক শেয়ার থেকে। বাকি পঁচাশি ভাগ বা ছয় কোটি আশি লাখ টাকার মূলধন যোগতে হবে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের। দেশীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে বায়তুশ শরফ ফাউন্ডেশন দশ লাখ টাকা এবং অন্যরা প্রত্যেকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট এক কোটি বিশ লাখ টাকা যোগাড় করেন। ইসলামী ব্যাংকিং আদৌ সম্ভব হবে কী-না তা নিয়ে তখন অধিকাংশ ব্যাংকার, ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদের বিস্তর সন্দেহ ছিল। দেশের বড় ব্যবসায়ী বা শিল্প গোষ্ঠিরা উতসাহ দেখায়নি।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ১৯৮৩ সালের ১৩ মার্চ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিরূপে নিবন্ধিত হয়। বিধিবদ্ধ বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকরূপে ইসলামী পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য ২৭ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্স ইস্যু করে। ১৯৮৩ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে কাজ শুরু করতে হবে। এই বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৮৩ সালের ৩০ মার্চ রাজধানী ঢাকার ৭৫ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় চার তলা ভবনের তৃতীয় তলার উত্তরাংশের একটি কক্ষে পথ চলা শুরু করলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম এবং বিশ্বের ছত্রিশতম এই ইসলামী শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ।

এ ঘরোয়া অনুষ্ঠানে মৌখিক দাওয়াতে বায়তুশ শরফের পীর মওলানা আবদুল জব্বার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের নির্বাহী সভাপতি জনাব কফিলউদ্দীন মাহমুদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এম খালেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা পরিচালক এ এস এম ফখরুল আহসান, প্রবীণ সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরী ও আখতারুল আলমসহ ঢাকার কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী দিনে দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলার বাণী, দৈনিক সংগ্রাম, বাংলাদেশ অবজারভার ও বাংলাদেশ টাইমস-এ চার পাতা ক্রোড়পত্র ছাপা হয়। প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক লে. জেনারেল এইচ এম এরশাদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নূরুল ইসলাম বাণী দেন।

প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক লে. জেনারেল এইচ এম এরশাদ বাণীতে বলেন: ‘আমি জেনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি যে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ১২ই আগস্ট, ১৯৮৩ আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করছে। নতুন ধ্যান-ধারণা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংক আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার পাশাপাশি এক চ্যালেঞ্জ স্বরূপ। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে যথাযোগ্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার বেসরকারী খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করে আসছেন। আশা করি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড জাতি গঠনমূলক কাজে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে। জেদ্দাস্থ ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বেশ কিছু সংখ্যক ইসলামী ব্যাংক ও সরকারী প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা হবার প্রেক্ষিতে তাদের এই উদ্যোগ ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভ্রাতৃসুলভ দেশসমূহের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে। মুসলিম দেশসমূহের পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংক আমাদের দেশে বৈদেশিক পুঁজি বিনিয়োগের দিগন্ত আরও প্রসারিত করতে পারে। আমি এই ব্যাংকের উজ্জল ভবিষ্যৎ এবং এই মহতি উদ্যোগের সাফল্য কামনা করছি।’

উল্লেখ্য, ইসলামী ব্যাংক উদ্বোধনের ১২ আগস্ট তারিখ ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ১৭৬৫ সালের এ তারিখের “ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার রাজস্ব আদায় তথা আর্থিক প্রশাসনের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে। এর মধ্যে দিয়ে ২১৯ বছর পূর্বে এদেশে ঔপনিবেশিক শাসন শুরু হয়। পরিণামে উক্ত তারিখ হতে এদেশের জনগণ স্বীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে অর্থনৈতিক লেনদেন পরিচালনার সুযােগ থেকে বঞ্চিত হয়। প্রায় সােয়া দু’শ বছর পর ১৯৮৩ সালের ১২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনের মাধ্যমে এদেশের অর্থনৈতিক কারবার আবার সুদ মুক্ত পদ্ধতিতে জনগণের প্রত্যাশিত ধারায় ফিরিয়ে আনার শুভ সূচনা হয়।

Want your school to be the top-listed School/college in Chittagong?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address

Chittagong