17/03/2025
চকরিয়া সরকারি কলেজে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা: রাজনৈতিক দল বিএনপির নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা!
চকরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, কলেজের অধ্যক্ষ রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এবং দলটির নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালনা করছেন (বিশেষ করে চকরিয়া উপজেলার বিএনপির সভাপতি এনাম সাহেবের কথায়)। নিয়মিত কলেজে না এসে, প্রশাসনিক ক্ষমতা অপব্যবহার করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে রাখা হচ্ছে।
ঘটনার পটভূমি
গত ৩ তারিখ, শিক্ষার্থীরা কলেজে চলমান দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে, অধ্যক্ষ, যিনি নিজেও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, ছাত্রদলের সহযোগিতায় এই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করেন। আন্দোলন দমনে বিএনপির প্রত্যক্ষ নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষ বিএনপির কথা মতো সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করছেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ
✅ সেনাবাহিনীর আশ্বাস:
• যাদের এক বা দুই বিষয়ের ফল খারাপ হয়েছে, তারা সরাসরি ফরম ফিলআপ করতে পারবে।
• যাদের দুইয়ের বেশি বিষয়ের ফল খারাপ হয়েছে, তাদের পুনরায় পরীক্ষা দিতে হবে।
সেনাবাহিনীর এই আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত মেনে নেয়। তবে প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি।
✅ পরীক্ষার নামে দুর্নীতি:
• ১৫ তারিখ পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হলেও, এক বিষয়ের ফল খারাপ হওয়া শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়।
• প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়, ফলে প্রায় ১ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
• দুপুর ২টায় পরীক্ষা শেষ হলেও সন্ধ্যার মধ্যেই রেজাল্ট প্রকাশ করা হয়, যা স্পষ্টতই কারসাজি করা।
• বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি! ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে কেবল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের পাস করানো হয়েছে।
• নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক বিষয়ের শিক্ষক নিজ নিজ বিষয়ের প্রশ্ন তৈরি করবেন। কিন্তু অধ্যক্ষ নিজেই সব প্রশ্ন তৈরি করেছেন, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।
✅ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ও বিশ্বাসঘাতকতা:
• ১৬ তারিখ পুলিশ কলেজে এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে যে, ১৭ তারিখ সকাল ১০টায় তারা এসে এই সমস্যার সমাধান করবে।
• কিন্তু ১৭ তারিখ পুলিশ আসেনি, যা সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
✅ অধ্যক্ষের দায়িত্বহীনতা ও হয়রানি:
• অধ্যক্ষ কোনো দিনই কলেজে আসেন না এবং শিক্ষার্থীদের শত শত ফোন কলেও সাড়া দেননি।
• শিক্ষার্থীরা তার বাসায় গেলে, সেখানেও তাকে পাওয়া যায়নি।
• অভিভাবকরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও, তিনি কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। বরং শিক্ষার্থীদের আরও হয়রানি করা হচ্ছে।
• যদি শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারেন, অভিভাবকদের কোনো সমস্যার সমাধান দিতে না পারেন, তাহলে অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন কেন?
শিক্ষার্থীদের দাবি
⚪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে!
⚪ অধ্যক্ষকে পদত্যাগ করতে হবে।
⚪ কলেজে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব রাখা যাবে না।
শিক্ষার্থীরা এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে চায়। তারা বলছে, বিএনপির প্রত্যক্ষ মদদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে, যা বন্ধ না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাবে।
শিক্ষা আমাদের অধিকার—এটি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যবসার হাতিয়ার হতে পারে না!