15/10/2024
এরশাদ ভাইয়া বোটানির একটা কঠিন অধ্যায় শৈবাল ও ছত্রাক অনেক মজা কইরে পড়াইছিল। অনেক এনজয় করেছিলাম ক্লাসটা। আজকে এরশাদ ভাইয়ার ক্লাস আছে কিন্তুু আমার ভাগ্যে ভাইয়ার ক্লাস এটেন্ড করা সম্ভব হলো না৷ এমনটা আগে কখনো হয়নি যে, ক্লাস করতে পারবো না জেনে আফসোস করেছি। ভাইয়াদের ক্লাস করেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে শুরু করেছিলাম। ডিএমসি স্কলার এর সাথে আমার এডমিশন জার্নি এখানেই শেষ হচ্ছে।
আজ ১৫ অক্টোবর যে টেবিলের কোণায় বসে এই ১ মাস ১০ দিন পড়ালেখা করেছি। সেই টেবিলের কোণায়ই এখন নিরবে বসে আছি। ব্যাগটা গুছিয়েছিলাম ডিএমসি স্কলার এর ক্লাস করতে যাবো বলে। কিন্তু তা আর আমার ভাগ্যেই নেই। হয়তো আর কোনোদিনই মেডিকেল কোচিং এর ক্লাসে বসার সুযোগই পাবো না। হ্যা এটাই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা! ছোটো বেলা থেকে বইতে পড়ে আসছি একবার না পারলে দেখো শতবার। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয় এমনও অনেক শিক্ষনীয় গল্প পড়েছি বইয়ে। কিন্তু বাস্তবতা তার সাথে কোনদিক দিয়েই মেলে না। বাস্তবে একবার ব্যর্থ হলে আর কোনো সুযোগই তুমি পাবা না সফলতার গল্প লেখার জন্য। আমি কী এতোটাই খারাপ স্টুডেন্ট! আমার কী আরেকটা সুযোগ পাওয়ার কোনো অধিকার নেই? আমার ভাগ্য খারাপ কিনা জানিনা! হয়তো আমি আমার কর্মফলই পাইছি। এইচ এস সিতে যে পরীক্ষাগুলো দিছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ ভালোই দিছিলাম। কিন্তু ফিজিক্স পরীক্ষার দিন আমার অমনোযোগের কারণে হয়তো কোনো কোড লিখতে ( রেজিষ্ট্রেশন নম্বর,রোল নম্বর, সেট কোড, MCQ এর সেট কোড, CQ উত্তরপত্রের নম্বর, MCQ উত্তরপত্রের নম্বর, অতিরিক্ত উত্তর পত্রের সংখ্যা) ভুল করেছি হয়তো যার ফলে আমার রেজাল্ট আসেনি। এখন বাড়ির দিকে রওনা হয়ছি দেখি বোর্ড চ্যালেন্জ্ঞ করে কোনো রেজাল্ট আসে কীনা ? যদি আসে তাইলে তো ভালো নইলে কিছুই করার থাকবেনা। টেনশনে প্রচন্ড মাথায় ব্যাথা করতেছে। আল্লাহ এখন আমার সপ্ন থেকে আমাকে অসীম দুরত্বে এনে দাঁড় করিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। এই ঘটনাতে আমার কোনো ভালো আছে বলেই হয়তো আমার সাথে ঘটেছে। তাই আমি নিরাশ হচ্ছি না। সত্যিই যদি আমার পরীক্ষা এতোটা খারাপ হতো তাহলে বাবা মার কষ্টের টাকা খরচ করে আমি কখনোই খুলনা আসতাম না। এখন মনে হচ্ছে এই শহরের মধ্যেই নিজেকে হারিয়ে ফেলি কারণ বাবা মার সামনে দাড়ানোর সাহস আমি পাচ্ছি না। তারা আমাকে নিয়ে যে সপ্ন দেখেছিল তা আমার এক ভুলের জন্য ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। আমি জানি না বাড়ির বর্তমান পরিস্থিতি কেমন। এই কয়েকদিনে আমি নিজেকে অনেক পরিবর্তন করেছি,যেই আমি আগে ৫-৬ ঘন্টার বেশি পড়াশোনা করতাম না! সেই আমি এডমিশন টাইমে ১২-১৩ ঘন্টা পড়াশোনা করা শুরু করেছিলাম। সেটা ১-২দিন না টানা ১৫-১৬ দিনেরও বেশি। আসতে আসতে নিজেকে আপগ্রেড করতেছিলাম। যেখানে প্রথম রিভিউ এর আগে ডেইলি পরীক্ষায় ২৫-২৯ শে আটকে ছিলাম, ২য় রিভিউ পরীক্ষার আগে সেই নম্বর এখন ৩৫-৩৯। সামনে হয়তো আরো ভালো করতে পারতাম। কিন্তু ভাগ্য আমার সহায় নেই। এডমিশন জার্নির এই ১মাসে আমি অনেক ভাইয়ার ক্লাস করছি, ভাইয়াদের ১টা ক্লাস করে আমি পরবর্তী ক্লাস করার অপেক্ষায় থাকতাম। ক্লাস করে ক্লাসের নোটগুলো গ্রুপে শেয়ার করার পর ভাইয়াদের কমেন্ট গুলো আমাকে আরো উৎসাহিত করতো এবং পড়াশোনায় আরো আগ্রহী করে তুলেছিল। জানিনা ভাইয়ারা আমাকে চেনে কীনা কিন্তু আমি সব ভাইয়াকেই চিনি এবং সবার ক্লাসই করেছি। এই কয়দিনে ভাইয়াদের কাছথেকে অনেক ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা পেয়েছি।এই ১মাসে অনেক চেনা অচেনা বন্ধু পেয়েছি জানিনা তারা আমার নোটগুলো পেয়ে উপকৃত হতো কিনা। এই গ্রুপে আজকের এই নোটই আমার শেয়ারকৃত শেষ নোট,আর কখনোই নোট শেয়ার করা হবে না। এডমিশন টাইমে বন্ধু ও শত্রু হয়ে যায় কে কীভাবে পড়াশোনা করছে কোন স্ট্রাটেজিতে এগোচ্ছে কেউ কাউকে বলতে চাই না, কিন্তু আমি কখনোই কাউকে শত্রু মনে করিনি সবাইকে বন্ধু মনে করেই নোটগুলো শেয়ার করেছি। যদি কেউ ১% ও উপকৃত হয়ে থাকো আজকে অন্তত বইলো, কারণ আজকে আমার মন অনেক খারাপ। আমি কিছু নিউজ পেয়েছি জানিনা সত্যি কিনা, মেডিকেল পরীক্ষার নীতিমালায় নাকী পরিবর্তন আসতে পারে। যদি নীতিমালাই পরিবর্তন আসে তাহলে পরের বছর আবার ক্লাস করার সুযোগ পাবো। আপনারা আমার বড় ভাইয়ারা, আপনাদেরও অনেক ভাইয়া, স্যাররা আছে যারা দেশের সকল প্রান্তে ছড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো শিক্ষাব্যবস্থার সাথে জড়িত আছে। আপনারা যদি মিলিত ভাবে মেডিকেল পরীক্ষা নীতিমালা নির্ধারক কর্মকর্তা দের এই বিষয়ে একটু অবগত করতেন,যেন ইয়ার গ্যাপ দেওয়া স্টুডেন্টরা যেন মেডিকেল পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়।এখন স্টুডেন্ট পড়ালেখা করেই তো চান্স পাবে, না পড়েতো আর চান্স পাবে না। তাই সকল স্টুডেন্টেরই একটা সুযোগ পাওয়া উচিত।যেহেতু নীতিমালায় পরিবর্তন এর একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে তাই যদি তাদের এ বিষয়ে একটু অবগত করতেন তাহলে অনেক মায়েরই সপ্ন পূরণ হতো। অনেক মায়ের মধ্যে আমার মা ও আছে। নীতিমালাই পরিবর্তন না আসলে হয়তো অন্য লাইনে পড়াশোনা করতে হবে, শামীম ভাইয়ার মতো সাদা অ্যাপ্রোনটা আর ছুয়ে দেখা হবে না। আমার নোটগুলো আর ভাইয়াদের কমেন্ট গুলো স্মৃতি হয়ে থাকবে। পরের বছর পরীক্ষায় বসার সুযোগ যেন পায় এটাই আল্লাহর কাছে চাইবো। ভাইয়াদের কাছে আমি একটা হেল্প চাচ্ছি, আমি বাড়ি ফিরে নতুন করে সবকিছু শুরু করতে চাই। পড়াশোনা করে আবারও এই পর্যায়ে আসতে চাই কিন্তু সেজন্য একটা ভালো পরিবেশ আমার প্রয়োজন। যেটা বর্তমানে আমার বাড়িতে নেই। আমি জানি, সিয়াম ভাইয়া, শিহাব ভাইয়া, এরশাদ ভাইয়া, শমেত ভাইয়া, সাইফুর ভাইয়া আর বাকি সব ভাইয়ারাও অনেক ব্যস্ত থাকেন সব সময়। ব্যস্ততাকে একটু দূরে রেখে আমার পরিবারের একজন মানুষের সাথে যদি একটু ফোনে কথা বলতেন তাহলে আমার একটু ভালো লাগতো। তারা হয়তো অনেক ভেঙে পড়েছে। আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি কিন্তু তাদের সামনে গিয়ে কথা বলার সাহস নেই আমার। তাই যদি তাদের সাথে ফোনে একটু কথা বলতেন যে, সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি এখনো ভালোকিছু করা সম্ভব । আমি নতুন করে সবকিছু শুরু করতে চাই ভাইয়ারা একটু হেল্প করেন প্লিজ।
আর আমার পরিচিত বন্ধুরা যারা এই গ্রুপে আছো এবং আমাকে ভালোকরে চেন তারা দয়াকরে বিষয়টা নিয়ে বাজাবাজি কইরো না আমি আমার বাবাকেও জানাইনি বিষয়টা শুধু মা জানে। তুমি জেনেছো জেনেছো বিষয়টি তুমিতেই সীমাবদ্ধ রেখো দয়া করে।