চাঁদ দেখা ও এক তারিখ নির্ধারণ
ইসলামে মাস গণনা ও রোজা-ঈদের তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে দুটি মত দেখা যায়। একদল বলেন, চাঁদ দেখার প্রয়োজন নেই, হিসাব বা জ্যোতির্বিজ্ঞানের মাধ্যমে তারিখ নির্ধারণ করা যায়। আরেক দল বলেন, শরীয়তের মূল নির্দেশনা অনুযায়ী চাঁদ দেখা জরুরি।
যারা “এক চাঁদ এক তারিখ” মতটি গ্রহণ করেন, তারা বলেন—যদি সূর্য ও চাঁদের মিলন সূর্যাস্তের আগে হয় তাহলে সেই রাতকে নতুন মাসের প্রথম রাত ধরা হবে। আর যদি রাতের মধ্যে মিলন হয়, তাহলে পরের রাত থেকে মাস শুরু হবে। তাদের মতে হিলাল দেখা বাধ্যতামূলক নয়। তারা আরও যুক্তি দেন যে অমুসলিমরা যেমন একই দিনে উৎসব পালন করে, মুসলমানদেরও একই দিনে ঈদ পালন করা উচিত যাতে সবাই একসাথে আনন্দ করতে পারে। এছাড়া তারা বলেন, নামাজের সময় যেমন আধুনিক ঘড়ির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়, তেমনি চাঁদের তারিখও বৈজ্ঞানিক হিসাব দিয়ে নির্ধারণ করা উচিত।
অন্যদিকে অধিকাংশ আলেমের মত হলো, চাঁদ দেখা ছাড়া রমজান শুরু বা ঈদ নির্ধারণ করা যাবে না। তাদের দলিল হলো নবী করিম (সা.)-এর হাদিস, যেখানে বলা হয়েছে চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে ঈদ করো। কোরআনেও বলা হয়েছে যে চাঁদ মানুষের জন্য সময় নির্ধারণের মাধ্যম। তাই শরীয়তের মূল ভিত্তি হলো চাঁদ দেখা।
যারা হিসাবের পক্ষে কথা বলেন, তাদের যুক্তির জবাবে আলেমরা বলেন, মুসলমানদের ঈদ শুধুমাত্র সামাজিক উৎসব নয়, এটি একটি ইবাদত। তাই অন্য ধর্মীয় উৎসবের সাথে তুলনা করা ঠিক নয়। আবার দূর-দূরান্তের অঞ্চলে চাঁদ দেখার পার্থক্য থাকতে পারে, এটিও শরীয়তে স্বীকৃত। আর আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান নির্ভুল নিশ্চিত জ্ঞান নয়, তাই শুধু তার উপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে, ইসলামী অধিকাংশ আলেমের মতে চাঁদ দেখা জরুরি এবং সেটাই শরীয়তসম্মত পদ্ধতি। শুধু বৈজ্ঞানিক হিসাবের উপর নির্ভর করে মাস শুরু করা গ্রহণযোগ্য নয়।
Mufti Foyjul Islam
↪️🎤Islamic scholar
➡️✍️Islamic writer
🔷🎙️Islamic lecture
Connect Us⤵️
0⃣1⃣9⃣5⃣1⃣7⃣4⃣8⃣3️⃣5⃣7⃣
📌 কিছু কথা, ভাবনার জন্য রেখে গেলাম…
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের “কওমী কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা–২০২৬” অনুষ্ঠানে মুহতারাম মুফতি ডক্টর Yousuf Sultan সাহেব গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
🔹 আমাদের ভেতরে সামর্থ্যের অভাব নেই
কওমী শিক্ষার ভেতরেই আছে শক্ত ভিত—
বক্তৃতা থেকে পাবলিক স্পিকিং,
কিতাব থেকে ক্রিটিকাল থিংকিং,
আবাসিক জীবন থেকে টাইম ম্যানেজমেন্ট,
আর বিভিন্ন দায়িত্ব থেকে লিডারশিপ।
অভাব যদি কোথাও থাকে, সেটা হলো—নিজেকে সঠিকভাবে তুলে ধরার দক্ষতা।
🔹 ভাষা জানলে দিগন্ত প্রসারিত হয়
যারা ইলমকে সমাজের বৃহত্তর পরিসরে পৌঁছে দিতে পেরেছেন, তাদের বড় একটি শক্তি—ভাষা। বিশেষ করে ইংরেজি ও আরবি জানার কারণে তাদের যোগাযোগ সহজ হয়েছে, পরিধি বেড়েছে। আমাদেরও এই জায়গায় মনোযোগী হওয়া দরকার।
🔹 প্রযুক্তি—এখন আর বিলাসিতা নয়
বর্তমান যুগে বেসিক প্রযুক্তি জ্ঞান ছাড়া ইলমী খেদমত সীমিত হয়ে যায়। প্রযুক্তি জানলে খেদমতের নতুন দরজা খুলে যায়—দূরত্ব কমে, প্রভাব বাড়ে।
🔹 মুরুব্বি—একটি অপরিহার্য ছায়া
আমরা যাকে মুরুব্বি বলি, আধুনিক ভাষায় সেটাই মেন্টর। জীবনের পথচলায় এমন একজনের দিকনির্দেশনা অনেক ভুল থেকে বাঁচায়, উন্নতির গতি বাড়ায়।
🔹 শেখা থামাবেন না
তালিবে ইলম থাকা কেবল মাদ্রাসা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। কর্মজীবনেও শেখার ধারাটা চালু রাখতে হবে। কারণ, শেখা থেমে গেলে এগোনোও থেমে যায়।
🔹 পথ বদলালেও পরিচয় যেন অটুট থাকে
অনেকে কওমীর পর ভিন্ন ধারায় পড়াশোনা করেন, দেশ-বিদেশে যান। এটা ভালো। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে—নতুন পথের খোঁজে নিজের আসল পরিচয় যেন হারিয়ে না যায়।
শেষ কথা—
ইলম শুধু অর্জনের বিষয় নয়, তা বহন করারও দায়িত্ব।
আর সেই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে হলে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে—ভিতর থেকেও, বাইর থেকেও।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উপকারী ইলম, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং আমল করার তাওফিক দান করুন।
বিঃদ্রঃ কিতাবুল জাওয়্যাল কান্ডে (মোবাইল কান্ডে) বহিষ্কৃত ছাত্রদের ফ্রি ওয়াইফাইসহ বিবিধ ইন্টারনেট সুবিধা দিয়ে ভর্তি নিতে ইচ্ছুক অনলাইন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানগুলো।
19/04/2026
একজন ওস্তাদের বিদায়—নীরব অবহেলার এক বেদনাময় গল্প
একজন শিক্ষক…
একজন শিক্ষক বছরের পর বছর একটি মাদ্রাসায় খেদমত করলেন—১০ বছর, ৮ বছর, ৫ বছর কিংবা অন্তত ৩ বছর। নিজের সময়, মেধা, শ্রম, এমনকি অনেক সময় নিজের প্রয়োজনও বিসর্জন দিয়ে তিনি ছাত্র গড়েছেন, প্রতিষ্ঠানকে দাঁড় করাবার ইচ্ছা করেছেন। অথচ সেই মানুষটিকেই যখন বিদায়ের সময় যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না, তখন বিষয়টি শুধু অবহেলা নয়—এটা হৃদয় ভাঙার মতো এক বাস্তবতা।
বিদায়ের মুহূর্তে বলা হয়—ছাত্রদের জানানো যাবে না, বিদায় নেওয়া যাবে না, কোনো আয়োজন করা যাবে না, আরো কত কি!। যেন তিনি কোনো অপরাধ করে চলে যাচ্ছেন! না কোনো কৃতজ্ঞতা, না কোনো শুভকামনা, না একটি সম্মানসূচক কথা—কিছুই নেই। বরং বিদায়টাই তার জন্য এক ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
আরও কষ্টের বিষয়, তার প্রাপ্য হাদিয়াও ঠিকমতো দেওয়া হয় না। অতিরিক্ত হাদিয়া তোহফা তো দূর কি বাত। নানা অজুহাত, টালবাহানা, কখনো আবার ছাত্রদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া—“তারা দিলে পাবে, না দিলে পাবে না।” এটা কেমন নিয়ম? একজন ওস্তাদের সম্মান কি এমনভাবে নির্ধারিত হবে?
বিশেষ করে সেই ওস্তাদ, যিনি কখনো নিজের জন্য কিছু চাননি, অগ্রিম নেওয়াকে লজ্জার মনে করেছেন—তাকে যদি এভাবে অপমানিত হতে হয়, তাহলে এটা শুধু ব্যক্তির অপমান নয়, ইলমের অপমান, শিক্ষার অপমান।
আজ বাস্তবতা হলো—অনেক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীলদের মাঝে সেই আমানতদারিত্ব আর নেই। নিজের স্বার্থ ঠিক থাকলেই যেন সব ঠিক। অন্যদের পরিবার, তাদের কষ্ট—এসব যেন ভাবনার বিষয়ই না। অথচ আমাদের আকাবিররা ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা যত বড় দায়িত্ব পেয়েছেন, তত বেশি কুরবানী করেছেন। সাদাসিধে জীবন যাপন করেছেন, নিজের চেয়ে অন্যদের প্রাধান্য দিয়েছেন।
এভাবে চলতে থাকলে সামনে ফিতনা-ফাসাদ আরও বাড়বে, এবং এর ক্ষতি হবে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। তাই এখনই প্রয়োজন একটি সঠিক নেজাম, ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা এবং দায়িত্বশীলদের মধ্যে তাকওয়া ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইলম ও উলামায়ে কেরামের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন।
18/04/2026
*বাঙালি ছাত্র মাত্র তিনজন উত্তীর্ণ হয়েছে, বাকিরা কোথায়?*
সাম্প্রতিক সময়ে অনেক কওমী শিক্ষার্থী আবেগের বশে মিশর বা পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। দ্বীনি মারকাজের প্রতি ভালোবাসা অবশ্যই ভালো, কিন্তু বাস্তবতা না বুঝে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত পরে বড় সমস্যার কারণ হচ্ছে।
এখন পাকিস্তানে প্রায় ৪০–৫০ জন ছাত্র অনিশ্চয়তায় আছে—না ঠিকমতো ভর্তি হতে পারছে, না দেশে ফিরতে পারছে। এতে তাদের সময় নষ্ট হচ্ছে, মানসিক চাপ বাড়ছে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকারঃ
হাতে গোনা কয়েকটি ভালো প্রতিষ্ঠান ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে দেশের মাদ্রাসার মানই বেশি ভালো।
যথেষ্ট প্রস্তুতি ও যোগ্যতা ছাড়া বিদেশে গেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়।
ভর্তি ও থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে যাওয়া বড় ঝুঁকি।
তাই শুধু “বিদেশ যাব” এই চিন্তা থেকে সিদ্ধান্ত নেবেন না। আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করুন, নির্ভরযোগ্যভাবে ভর্তি নিশ্চিত করুন, তারপর পদক্ষেপ নিন।
এই কথাগুলো সমালোচনা নয়, বরং সতর্কতা—যাতে আর কেউ বিপদে না পড়ে। আল্লাহ সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দিন। আমীন।
عيد مبارك علينا وعليكم. تقبل الله منا ومنكم صالح الأعمال، آمين.
16/03/2026
দ্রুত যোগাযোগ করুন, এবং শেয়ার করে পরোপকারী হোন।
জরুরী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
পদের নামঃ প্রধান বাবুর্চি।
বেতনঃ ১৫ হাজার টাকা ইনশাআল্লাহ।
যোগাযোগ:
কল / WhatsApp করুন:
01814-22 12 36
0188623 74 45
কল্যাণ কামিতার জন্য শেয়ার করুন। জাযাকাল্লাহ খায়রান।।
الرجال أربعة ؛
١ رجل يدري ويدري أنه يدري فذاك عالم فاسألوه.
٢ ورجل يدري ولا يدري أنه يدري فذاك غافل فنبهوه .
٣ ورجل لا يدري ويدري أنه لا يدري فذاك مسترشد فأرشدوه.
٤ ورجل لا يدري و لا يدري أنه لا يدري فذاك جاهل فاجتنبوه.
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Address
MATLAB
Chandpur