Vedic Sanatani Education Council

Vedic Sanatani Education Council

Share

Sriman kanti das

09/06/2026
31/05/2026

Vedic Sanatani Education Council এর সপ্তাহিক অনুষ্ঠান

Video Edit: Promit Kumar
Camera : Antu Kumar Dey

30/05/2026

শ্রোতা_কয়_ধরনের???

শাস্ত্রে ছয় প্রকার শ্রোতার কথা বলা হয়েছে,

১) চাতক পাখি।
২) রাজহংস।
৩) তোতা পাখি।
৪) মাছরাঙ্গা পাখি।
৫) ষাঁড়

এই ছয় প্রকার শ্রোতা,

ব্যাখ্যা গুলো জানুনঃ-
👇👇👇👇👇👇👇

#সর্বোচ্চ_স্তরের_শ্রোতা_হলেন_চাতক_পাখি।
#১চাতক_পাখি 🦜

শুধুই বৃষ্টির জল গ্রহন করে। নদী, পুকুর, ডোবা, খাল, বিল, সমুদ্রে এতো জল থাকা সত্ত্বেও চাতক পাখি শুধু বৃষ্টির জল গ্রহন করবে। বৃষ্টির জল ছাড়া অন্য কোন জল সে গ্রহন করবে না। মরে যাবে তবু বৃষ্টির জল ছাড়া গ্রহন করবে না। তেমন এক শ্রেনীর ভক্ত আছে যারা কৃষ্ণকথা ছাড়া অন্য কোন কথা বলবেও না, শুনবেও না। শুধুই কৃষ্ণকথা, তাদেরকে বলা হয় চাতক পাখি।

জগতে এতো কথা, বিভিন্ন প্রকার সাহিত্য, গল্প, উপন্যাস, যাই থাকুক না কেন, কৃষ্ণকথাই হল তার প্রাণ। চাতক পাখির প্রান যেমন বৃষ্টির জলে নিহীত তেমনি ভক্তের প্রান কৃষ্ণকথায় নিহীত।এই শ্রেনীর ভক্ত হল সর্বোচ্চ ধাপের শ্রোতা, এদেরকে বলা হয় চাতক শ্রোতা।

#দ্বিতীয়_শ্রোতা_হলেন_হংসরাজ।
াজহংস। 🦢

রাজহংসকে যদি জল এবং দুধ একত্র করে দেওয়া হয়, তবে রাজহংস শুধু দুধটুকুই খাবে জলটুকু ফেলে দিবে।

তেমনি রাজহংস কোয়ালিটির শ্রোতার সবকিছুই শুনবে শুধু স্বারটুকুই গ্রহন করবে। অর্থাৎ কৃষ্ণকথা টুকুই গ্রহন করবে, বাকি সব ত্যাগ করবে।

#তৃতীয়_শ্রেনীর_শ্রোতারা_হলেন_তোতা_পাখি
োতা_পাখি 🐦

তোতা পাখিকে যদি কোন কিছু বলা হয়, তোতা পাখি কিন্তু হুবহু তা বলতে পারে। তেমনি এক শ্রেনীর শ্রোতা আছেন, যারা খুব সুন্দর করে শোনের এবং হুবহু অন্যের কাছে বলতেও পারেন।

এই শ্রেনীর শ্রোতারাও ভালো।

#চতুর্থ_শ্রেনীর_শ্রোতা_হলো_মাছরাঙ্গা
াছরাঙ্গা 🦩

মাছরাঙ্গা পাখি যখন মাছ শিকার করে তখন সে গভীর মনোযোগ সহকারে তার লক্ষ্যের দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকে, শিকারী এসে তাকে মেরে ফেলতে পারেন তার দিকেও লক্ষ‍্য থাকে না।

তেমনি এক শ্রেনীর শ্রোতা আছে যারা পাঠের সময় গভীর আগ্রহের সাথে মনোযোগ সহকারে শ্রবন করে।

তারা বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থাকে, চোখে পলকও পরে না, তারা মৃত্যুর কথাও ভাবে না। এই শ্রেনীর ভক্তও খুব ভালো। এই শ্রেনীর ভক্ত পাঠকের কৃপা লাভ করে এবং শুদ্ধ ভক্তে পরিনত হয়। কিন্তু যারা পাঠের সময় ঘুমিয়ে পরে তারা কৃপা থেকে বঞ্চিত হয়।

্রেনীর_শ্রোতা_আছে_যাদেরকে_শেয়াল_শ্রোতা_বলা_হয়

শেয়াল যেমন অসময়ে হুক্কাহুয়া বলে ডেকে ওঠে।

তেমনি এক শ্রেনীর শ্রোতা আছে যারা পাঠকের আলোচনার মাঝে বলে আমি একটু বলে নি, আমার একটা কথা আছে। এই শ্রেনীর শ্রোতাকে প্রভুপাদ শেয়াল শ্রোতা বলেছেন, তারা অসময়ে ডাক দেন।

#পঞ্চম_শ্রোতা_হলেন_ষাঁড়
াঁড় 🐂

ষাঁড় মানে হলো গরু। আপনি ষাঁড়কে যা দিবেন, সে সেটাই গ্রহন করবে, কোন বিচার করবে না। তেমনি এক শ্রেনীর শ্রোতা আছে, তাদেরকে যে যাই বলবে, সে সেটাই গ্রহন করবে, কোন বিচার করবে না। এবং ফলে কোন সঠিক সিদ্ধান্ত সে গ্রহন করতে পারে না, সারা জীবন দ্বন্দ্বের ভীতর থাকে।

সে শাস্ত্রও গ্রহন করবে আবার বাইরেই লোকেরা যা বলবে সেটাও গ্রহন করবে।

#ষষ্ঠ_শ্রোতা_উট
🐪

উট মরুভুমির প্রানী, উটের যখন তৃষ্ণা পায় তখন ক্যাকটাস চিবিয়ে চিবিয়ে খায়, তখন কাঁটার আঘাতে তার জিহ্বা থেকে রক্ত বের হয়, এবং সে নিজের রক্তে পিপাসা মেটায় এবং মনে করে ক্যাকটাসের খুব স্বাদ, আসলে সে নিজের রক্তের স্বাদ গ্রহন করছে কিন্তু সে বোঝে না।

তেমনি এক শ্রেনীর শ্রোতা আছে, তাদেরকে যতো উন্নত শিক্ষা দেওয়া হোক না কেন, তারা তা মানে না এবং লোকে যে গ্রাম্য বাজে শিক্ষা দেয় সেই অনুযায়ী কাজ করবে, শাস্ত্র জানা সত্ত্বেও তারা শাস্ত্রের বিরুদ্ধ আচরন করবে, ফলে তিনি যে আত্মা সেই আত্মার অধঃপতন করবে কিন্তু জাগতির সুখকে সে প্রকৃত সুখ মনে করে আনন্দ পাবে। অর্থাৎ নিজের ক্ষতি করছে কিন্তু মনে করবে আমি সুখে আছি।

আবার অনেকে ভালো শিক্ষা পাওয়া সত্ত্বেও খারাপটাই করবে ফলে বিভিন্ন প্রকার সমস্যায় জর্জরিত হবে, এবং শুধু ভগবানকেই দোষারোপ করবে।
আমরা প্রায় লোকেরাই জানি যে, আমরা আত্মা, আর আত্মা অখাদ্য কুখাদ্য, অমেধ্য খায় না, এতে আত্মা অধঃপতিত হয়, কষ্ট পায়। আমরা জানা সত্ত্বেও সেটাই খাচ্ছি, এবং আমার প্রকৃত সত্ত্বা যে আত্মা, তার কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে। আমি নিজের ক্ষতি করছি, আমি আমার রক্ত ক্ষরণ করছি, কিন্তু মাছ মাংস খাচ্ছি আর বলছি বাহ! কতো মজা, ঠিক উটের মতো।

িবেচনা_করুন
আমরা কোন কোয়ালিটির শ্রোতা?

#শ্রীল_প্রভুপাদ_বলেছেন-
আমাদের অন্ততো ৩য় পর্যায়ের ভক্ত হতে হবে। অর্থাৎ তোতা পাখি হতে হবে।
অর্থাৎ মাছরাঙ্গার মতো মনোযোগ সহকারে কৃষ্ণকথা শ্রবন করতে হবে এবং তার তোতা পাখির মতো হুবহু অপরের কাছে বলতে হবে।

28/05/2026

❤️ প্রচুর শেয়ার করুন ❤️

আমাদের ভর্তি কার্যক্রম ও অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু হবে ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে। এবং অরিয়েন্টেশন ক্লাস শুরু হবে ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে।

চারু এডুকেশনের প্রথম পদক্ষেপ হলো অভয় ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, যা চট্টগ্রামের বুকে অবস্থিত। স্বল্প খরচে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এই যাত্রা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আমরা শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং একটি আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাব।

লোকেশান শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।

28/05/2026

এই চিত্রে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এক অপূর্ব বাল্যলীলা প্রকাশ পাচ্ছে— “যমলার্জুন উদ্ধার লীলা” বা নলকুবর ও মণিগ্রীবের মুক্তি লীলা।
শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধে বর্ণিত এই লীলার গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে।
একদিন বৃন্দাবনে বালক কৃষ্ণ অত্যন্ত চঞ্চলভাবে মাখন চুরি ও নানা দুষ্টুমি করছিলেন। মা যশোদা তাঁর এই দুষ্টুমি দেখে কৃষ্ণকে শাসন করার জন্য একটি উখল (শিলপাটা সদৃশ কাঠের পাত্র)-এর সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে দেন। কিন্তু ভগবান যদিও অসীম ও সর্বশক্তিমান, তথাপি তিনি তাঁর ভক্তের স্নেহ-ভালবাসার কাছে নিজেকে বশীভূত করেন। তাই তিনি “দামোদর” নামে পরিচিত হন— “দাম” অর্থ দড়ি এবং “উদর” অর্থ কোমর।
চিত্রে দেখা যাচ্ছে, ছোট্ট কৃষ্ণ সেই উখলটিকে টেনে নিয়ে দুই বিশাল অর্জুন বৃক্ষের মাঝখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই দুটি বৃক্ষ আসলে ছিলেন কুবেরের দুই পুত্র— নলকুবর ও মণিগ্রীব। তারা অত্যন্ত ঐশ্বর্য ও ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে অহংকারী হয়ে পড়েছিলেন।
একদিন দেবর্ষি নারদ তাঁদের সেই অবস্থায় দেখে করুণা করে অভিশাপ দেন যেন তারা বৃক্ষরূপে জন্মগ্রহণ করে,
দেবর্ষি নারদ মুনি কর্তৃক নলকুবর ও মণিগ্রীবকে দেওয়া অভিশাপ সাধারণ কোনো ক্রোধের অভিশাপ ছিল না; বরং সেটি ছিল এক গভীর করুণা, আত্মশুদ্ধি এবং ভগবৎ-কৃপা লাভের পথ।
কুবেরের দুই পুত্র নলকুবর ও মণিগ্রীব স্বর্গীয় ঐশ্বর্য, যৌবন ও ভোগবিলাসে এতটাই মত্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, তাঁদের মধ্যে বিনয়, লজ্জা ও সাধুসম্মানবোধ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। একদিন তাঁরা কৈলাসের নিকটে মন্দাকিনী নদীতে অপ্সরাদের সঙ্গে উলঙ্গ অবস্থায় মদ্যপানে মত্ত হয়ে জলক্রীড়া করছিলেন। ঠিক সেই সময় দেবর্ষি নারদ সেখানে উপস্থিত হন।
অপ্সরাগণ লজ্জায় নিজেদের আবৃত করলেও নলকুবর ও মণিগ্রীব মদের অহংকারে এতটাই অন্ধ ছিলেন যে তাঁরা নারদ মুনিকে সম্মান জানানো তো দূরের কথা, তাঁর উপস্থিতিকেও গুরুত্ব দিলেন না। এই ঘটনাই প্রকাশ করে যে ভোগ ও অহংকার কিভাবে জীবের বিবেককে ধ্বংস করে দেয়।
তখন নারদ মুনি গভীরভাবে উপলব্ধি করলেন—
“ঐশ্বর্যের গর্ব মানুষের চেতনাকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে যে সে নিজের পতনও বুঝতে পারে না।”
কিন্তু নারদের উদ্দেশ্য তাঁদের ধ্বংস করা ছিল না। তিনি জানতেন, সরাসরি উপদেশ দিলে এরা তা গ্রহণ করবে না। তাই তিনি এমন এক অভিশাপ দিলেন, যা আসলে তাঁদের আত্মশুদ্ধির ব্যবস্থা।
তিনি বললেন যে, তারা বৃক্ষরূপে জন্মগ্রহণ করবে— কারণ বৃক্ষ স্থির, নির্বাক ও অসহায়। যে মানুষ অহংকারে উন্মত্ত হয়ে অন্যকে অসম্মান করে, তার জন্য স্থবিরতা এক বড় শিক্ষা। বৃক্ষরূপে দাঁড়িয়ে থেকে তারা শত শত বছর নিজের কর্মফল উপলব্ধি করবে।
কিন্তু এখানেই নারদের করুণার মহিমা—
তিনি অভিশাপের মধ্যেই আশীর্বাদ জুড়ে দিলেন। তিনি ঘোষণা করলেন যে, ভবিষ্যতে স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁদের স্পর্শ করবেন এবং তখনই তাঁরা মুক্তিলাভ করবেন। অর্থাৎ তাঁদের পতনের মধ্য দিয়েই ভগবানের কৃপা লাভের পথ তৈরি হয়ে গেল।
এই অভিশাপের মধ্যে তিনটি গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা রয়েছে—
১. সাধুর ক্রোধও করুণা
ভক্ত ও সাধুরা কাউকে ঘৃণা করে অভিশাপ দেন না। তাঁদের তিরস্কারও জীবের কল্যাণের জন্য। নারদের অভিশাপ ছিল সংশোধনের পথ।
২. অহংকার জীবকে জড়ত্বের দিকে নিয়ে যায়
নলকুবর ও মণিগ্রীব বাহ্যিকভাবে দেবপুত্র হলেও অন্তরে জড়বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে পড়েছিলেন। তাই তাঁরা বৃক্ষরূপ পেলেন— যা তাঁদের অন্তরের অবস্থারই প্রতিফলন।
৩. ভগবানের কৃপা পাওয়ার জন্য কখনো কখনো পতনও প্রয়োজন হয়
যদি নারদ তাঁদের অভিশাপ না দিতেন, তবে হয়তো তারা চিরকাল ভোগে ডুবে থাকত। সেই অভিশাপই শেষ পর্যন্ত তাঁদের শ্রীকৃষ্ণের চরণে পৌঁছে দেয়।
এই কারণে বৈষ্ণব আচার্যরা বলেন—
“নারদের অভিশাপ আসলে অভিশাপ নয়, সেটি ছিল ভগবৎ-প্রেম লাভের গুপ্ত আশীর্বাদ।

27/05/2026

* #অর্জুনের_পাশুপতাস্ত্র_প্রাপ্তির_কথা*
যা মূল মহাভারতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে।

🚩যখন পাণ্ডবরা দ্রৌপদীসহ কাম্যক বনে অবস্থান করছিলেন, তখন মহর্ষি ব্যাসদেব যুধিষ্ঠিরকে 'প্রতিস্মৃতি' নামক এক বিদ্যা প্রদান করেন। ব্যাসদেবের পরামর্শে অর্জুন দিব্যাস্ত্র লাভের জন্য হিমালয়ের ইন্দ্রকীল পর্বতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি একাকী গভীর বনে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। প্রথম মাসে তিনি তিন দিনে একবার ফল আহার করতেন, দ্বিতীয় মাসে ছয় দিনে একবার এবং চতুর্থ মাসে তিনি শুধুমাত্র বায়ু ভক্ষণ করে তপস্যা চালিয়ে যান।

অর্জুন যখন ইন্দ্রকীল পর্বতে এই কঠোর সাধনা করছিলেন, তখন তাঁর তপোবলের প্রভাবে চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় এবং পৃথিবী উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অর্জুনের এই অলৌকিক শক্তি দেখে দেবতারা ও মহর্ষিগণ শঙ্কিত হয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের শরণাপন্ন হন। দেবতারা ইন্দ্রকে বলেন - হে দেবরাজ, কুন্তিপুত্র অর্জুন হিমালয়ের শিখরে এমন কঠোর তপস্যা করছেন যে আমরা সবাই দগ্ধ হচ্ছি।
আমরা জানি না তাঁর উদ্দেশ্য কী; আপনি দয়া করে তাঁকে নিবৃত্ত করুন।

ইন্দ্র দেবতাদের শান্ত করেন এবং জানান যে, অর্জুনের উদ্দেশ্য জগৎ জয় বা স্বর্গ দখল নয়, বরং কৌরবদের বিনাশের জন্য দিব্যাস্ত্র লাভ করা। এরপর দেবরাজ ইন্দ্র অর্জুনকে পরীক্ষা করার জন্য একজন জটাধারী, উজ্জ্বল কান্তি সম্পন্ন বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের রূপ ধারণ করে তাঁর সামনে উপস্থিত হন। ছদ্মবেশী ইন্দ্র অর্জুনকে বলেন যে, এই স্থানটি শান্ত তপোবন এবং মুনি-ঋষিদের জন্য উপযুক্ত; এখানে যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে তপস্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি অর্জুনকে অস্ত্র ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক শান্তিতে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন।

অর্জুন বিনয়ের সাথে কিন্তু দৃঢ়ভাবে সেই ব্রাহ্মণরূপী ইন্দ্রকে জানান যে, তিনি তাঁর ভাইদের এবং দ্রৌপদীর অপমানের প্রতিশোধ নিতে এবং ক্ষত্রিয় ধর্ম পালনের জন্য দিব্যাস্ত্র লাভ করতে চান।
তিনি কোনোভাবেই তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবেন না। পরবর্তীতে আরও নানা প্রকারে অর্জুনের তপস্যা ভঙ্গ করার চেষ্টা করেও যখন ইন্দ্র সফল হতে পারলেন না, তখন অর্জুনের এই অটল সংকল্প দেখে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন।
ইন্দ্র তাঁর আসল রূপ ধারণ করেন এবং অর্জুনকে বর দিতে চান। তিনি জানান যে, মহাদেব প্রসন্ন হলেই অর্জুন কাঙ্ক্ষিত দিব্যাস্ত্র পাবেন। এরপর ইন্দ্র সেখান থেকে অন্তর্ধান হয়ে যান।

ওদিকে দুর্যোধন অর্জুনকে বিঘ্নিত ও হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।
দুর্যোধনের নির্দেশে মুক নামক এক দানব একটি বিশাল বন্য বরাহের রূপ ধারণ করে অর্জুনকে আক্রমণ করতে যায়।
অর্জুন সেই বরাহকে দেখে বুঝতে পারেন যে এটি তাঁর ক্ষতি করতে আসছে এবং দ্রুত নিজের ধনুক ও বাণ তুলে নেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই অর্জুনকে পরীক্ষা করার জন্য মহাদেব শিব এক কিরাত ( ব্যাধ) বেশে সস্ত্রীক এবং একদল অনুচরসহ সেখানে প্রকট হন।

অর্জুন যখন বরাহটিকে লক্ষ্য করে গাণ্ডীব থেকে বাণ নিক্ষেপ করেন, ঠিক একই সময়ে কিরাতবেশী শিবও বাণ ছোড়েন।
দুই বাণই একসাথে বরাহটিকে আঘাত করে এবং সেটি মৃত অবস্থায় নিজের আদি দানব রূপ ধারণ করে।
বরাহটি মারা যাওয়ার পর অর্জুন কিরাতকে তিরস্কার করে বলেন, "তুমি কে? কেন তুমি আমার লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করলে? শিকারের নিয়ম অনুযায়ী এই মৃগয়া আমার।
কিরাত উত্তর দেন যে, এই বনভূমি তাঁর এবং তিনি লক্ষ্যভেদ আগে করেছেন। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং কিরাত অর্জুনকে যুদ্ধের আহ্বান জানান।

​অর্জুন ক্রুদ্ধ হয়ে বাণ বর্ষণ শুরু করেন। কিন্তু তিনি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেন যে, তাঁর অক্ষয় তূণীর থেকে নিক্ষিপ্ত সহস্র বাণ কিরাতের দেহে কোনো ক্ষত সৃষ্টি করতে পারছে না; পরিবর্তে কিরাত সেই সমস্ত বাণ পাহাড়ের মতো স্থিরভাবে গ্রহণ করছেন। শীঘ্রই অর্জুনের অক্ষয় তূণীর বাণশূন্য হয়ে পড়ে, যা ছিলো এক অসম্ভব ঘটনা।
বাণ শেষ হয়ে গেলে অর্জুন তাঁর গাণ্ডীব ধনু দিয়ে কিরাতকে আঘাত করতে যান, কিন্তু কিরাত তাঁর হাত থেকে ধনুটি কেড়ে নেন।
এরপর অর্জুন তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করলে সেটি কিরাতের মাথায় লেগে ভেঙে যায়। উপায়ান্তর না দেখে অর্জুন বৃক্ষ এবং পাথর ছুঁড়ে মারতে থাকেন, কিন্তু তাতেও কোনো ফল হয় না।

অবশেষে শুরু হয় প্রচণ্ড মল্লযুদ্ধ। অর্জুন এবং কিরাত একে অপরকে মুষ্ট্যাঘাত ও বক্ষ দিয়ে আক্রমণ করতে থাকেন।
কিরাতের বজ্রের মতো কঠিন শরীরের আঘাতে অর্জুন রক্তাক্ত ও জ্ঞানহারা হয়ে পড়েন।
জ্ঞান ফিরে পেয়ে অর্জুন বুঝতে পারেন যে, এই কিরাত কোনো সাধারণ মানুষ নন।
তিনি মানসিকভাবে মহাদেবের শরণাপন্ন হন এবং মাটির একটি শিবলিঙ্গ তৈরি করে পূজা করেন। তিনি যখন একটি মালা সেই লিঙ্গে অর্পণ করেন, তখন বিস্ময়করভাবে দেখেন যে মালাটি কিরাতের মাথায় শোভা পাচ্ছে।

অর্জুন তখন বুঝতে পারেন এই কিরাত স্বয়ং শঙ্কর। তিনি মহাদেবের চরণে লুটিয়ে পড়ে ক্ষমা ভিক্ষা করেন।
মহাদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হয়ে নিজের আসল রূপ ধারণ করেন এবং বলেন, "তোমার বীরত্বে আমি সন্তুষ্ট।
তোমার সমান বীর মর্ত্যে আর কেউ নেই।" অর্জুন তখন মহাদেবের কাছে শক্তিশালী পাশুপত অস্ত্র প্রার্থনা করেন।
মহাদেব তাঁকে সেই দিব্যাস্ত্রের প্রয়োগ ও সংহার বিধি শিখিয়ে দেন এবং সতর্ক করেন যে, এটি কোনো সাধারণ শত্রুর ওপর ব্যবহার করা উচিত নয়।

এইভাবেই অর্জুন মহাদেবের কৃপায় পাশুপতাস্ত্রের জ্ঞান লাভ করেছিলেন।🪔👣🕉️🔱🌿🚩🙏

24/05/2026

🌳🌳 রাজা দশরথের অদ্ভুত জন্ম বৃত্তান্ত 🌳🌳

একবার রাজা অজ বনভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি অত্যন্ত সুন্দর সরোবর দেখতে পেলেন। সেই সরোবরের মধ্যে একটি কমলফুল ফুটেছিল, যা অপূর্ব সুন্দর লাগছিল।

সেই কমলফুলটি পাওয়ার জন্য রাজা অজ সরোবরের মধ্যে প্রবেশ করলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তিনি যতই ফুলটির কাছে যেতে থাকেন, কমলটি ততই তাঁর থেকে দূরে সরে যেতে থাকে। অনেক চেষ্টা করেও তিনি ফুলটি ধরতে পারলেন না।

অবশেষে আকাশবাণী হলো—
“হে রাজন, আপনি নিঃসন্তান। তাই এই কমলের যোগ্য নন।”

এই ভবিষ্যদ্বাণী রাজা অজের হৃদয়ে গভীর আঘাত করল।

তিনি প্রাসাদে ফিরে এলেন এবং গভীর চিন্তায় ডুবে থাকতে লাগলেন, কারণ তাঁর কোনো সন্তান ছিল না। অথচ তিনি ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত।

ভগবান শিব তাঁর এই দুঃখ অনুভব করলেন। তিনি ধর্মরাজকে ডেকে বললেন—
“কোনো এক ব্রাহ্মণকে অযোধ্যায় পাঠাও, যাতে রাজা অজ সন্তানের আশীর্বাদ লাভ করতে পারেন।”

দূরে সরযূ নদীর তীরে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ ও তাঁর স্ত্রী একটি কুটিরে বাস করতেন।

একদিন সেই ব্রাহ্মণ রাজা অজের দরবারে এসে নিজের দুঃখের কথা বললেন এবং ভিক্ষা প্রার্থনা করলেন।

রাজা অজ রাজকোষ থেকে তাঁকে সোনার মুদ্রা দিতে চাইলেন, কিন্তু ব্রাহ্মণ তা নিতে অস্বীকার করে বললেন—
“এটি প্রজাদের সম্পদ। আপনি আপনার নিজের যা আছে, তা দিন।”

তখন রাজা নিজের গলার হার খুলে দিতে চাইলেন। কিন্তু ব্রাহ্মণ আবারও বললেন—
“এটিও প্রজাদের সম্পত্তি।”

এতে রাজা অজ খুব দুঃখ পেলেন যে, এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ তাঁর দরবার থেকে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

সেই সন্ধ্যায় রাজা সাধারণ শ্রমিকের বেশ ধারণ করে নগরে বেরিয়ে পড়লেন। ঘুরতে ঘুরতে তিনি এক লোহার কারিগরের কাছে পৌঁছালেন এবং নিজের পরিচয় গোপন রেখে সেখানে কাজ করতে লাগলেন।

সারারাত তিনি হাতুড়ি দিয়ে লোহা পেটানোর কাজ করলেন। ভোরবেলায় সেই কাজের মজুরি হিসেবে তিনি এক টাকা পেলেন।

রাজা সেই এক টাকা নিয়ে ব্রাহ্মণের কুটিরে গেলেন। তখন ব্রাহ্মণ বাড়িতে ছিলেন না। তাই তিনি টাকাটি ব্রাহ্মণের স্ত্রীকে দিয়ে বললেন—
“এটি ব্রাহ্মণকে দিয়ে দেবেন।”

যখন ব্রাহ্মণ ফিরে এলেন, তাঁর স্ত্রী সেই টাকাটি তাঁকে দিলেন। কিন্তু ব্রাহ্মণ টাকাটি মাটিতে ছুঁড়ে ফেললেন।

তখন এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল।

যেখানে টাকাটি পড়েছিল, সেখানে একটি গর্ত তৈরি হলো। ব্রাহ্মণ গর্তটি আরও খুঁড়তেই সেখান থেকে সোনার একটি রথ বেরিয়ে আকাশের দিকে চলে গেল।

এরপর তিনি আবার খুঁড়লেন। দ্বিতীয় একটি সোনার রথ বেরিয়ে আকাশে চলে গেল। এভাবে একে একে নয়টি সোনার রথ বেরিয়ে আকাশের দিকে চলে গেল।

আর যখন দশম রথটি বেরিয়ে এলো, তখন সেই রথে একটি শিশু বসে ছিল। সেই রথটি মাটিতেই থেমে গেল।

ব্রাহ্মণ সেই শিশুটিকে নিয়ে রাজা অজের দরবারে এসে বললেন—
“হে রাজন, এই পুত্রকে গ্রহণ করুন। এ আপনারই সন্তান, যে এই এক টাকা থেকে জন্ম নিয়েছে।”

তিনি আরও বললেন—
“এর সঙ্গে নয়টি সোনার রথ বেরিয়ে আকাশে চলে গেছে। আর এই শিশুটি দশম রথে এসেছে, তাই এই রথ ও এই পুত্র—দু’টিই আপনার।”

এইভাবেই মহারাজ দশরথের জন্ম হয়েছিল বলে কাহিনিতে বলা হয়।

মহারাজ দশরথের আসল নাম ছিল মনু। তিনি তাঁর রথ নিয়ে দশ দিকেই যেতে পারতেন, তাই তিনি “দশরথ” নামে প্রসিদ্ধ হয়েছিলেন। 🙏🚩

23/05/2026

🌳 ছলনার আশ্রয় এবং কর্ণের পরিণতি 🌳

মহাভারতের সময় কর্ণের মতো মহান ধনুর্ধর আর কেউ ছিলেন না বলে মনে করা হতো। তিনি জন্ম থেকেই দিব্য কবচ ও কুণ্ডল নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তবুও সমাজ তাঁকে “সূতপুত্র” বলে অপমান করত। 🚩

কর্ণের স্বপ্ন ছিল বিশ্বের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হওয়া। এজন্য তাঁর এমন একজন গুরুর প্রয়োজন ছিল, যিনি তাঁকে দিব্য অস্ত্রের জ্ঞান দিতে পারবেন। সেই সময় শুধুমাত্র ভগবান পরশুরামই ব্রহ্মাস্ত্র ও দিব্য অস্ত্রের পূর্ণ জ্ঞান রাখতেন।

কিন্তু পরশুরাম প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, তিনি শুধুমাত্র ব্রাহ্মণদেরই শিক্ষা দেবেন। 🚩

এ কথা জেনে কর্ণ নিজেকে ব্রাহ্মণ পরিচয় দিয়ে পরশুরামের আশ্রমে প্রবেশ করেন।

পরশুরাম কর্ণের বিনয় ও সমর্পণ দেখে তাঁকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। কর্ণ দিন-রাত তপস্যা ও অনুশীলন করতে লাগলেন। তাঁর একাগ্রতা দেখে পরশুরামও অত্যন্ত সন্তুষ্ট ছিলেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্ণ দিব্য অস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করলেন। 🚩

একদিন দুপুরবেলা পরশুরাম কর্ণের কোলে মাথা রেখে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় একটি বিষাক্ত কীট কর্ণের উরুতে ঢুকে পড়ে। কীটটি তাঁর শরীরকে ভীষণভাবে কামড়াতে লাগল। রক্ত ঝরতে লাগল এবং অসহনীয় যন্ত্রণা শুরু হলো।

তবুও কর্ণ একটুও নড়লেন না। 🚩

তাঁর ভয় ছিল, যদি তিনি নড়ে ওঠেন, তবে গুরুর ঘুম ভেঙে যাবে।

কিছুক্ষণ পরে রক্তের উষ্ণতায় পরশুরামের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি দেখলেন, কর্ণের উরু থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, অথচ তাঁর মুখে কোনো কষ্টের চিহ্ন নেই।

পরশুরাম সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলেন— 🚩
“কোনো সাধারণ ব্রাহ্মণ এত যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে না। সত্য বলো, তুমি কে?”

কর্ণ মাথা নত করে সত্য স্বীকার করলেন যে তিনি সূতপুত্র এবং কেবল জ্ঞান অর্জনের জন্যই তিনি মিথ্যা বলেছিলেন।

এ কথা শুনে পরশুরাম ক্রোধে ফেটে পড়লেন।

তিনি বললেন—
“তুমি ছলনার মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করেছ। তাই যখন তোমার এই দিব্য বিদ্যার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হবে, তখন তুমি তা ভুলে যাবে।” ❤️

এই অভিশাপ শুনে কর্ণের হৃদয় ভেঙে গেল।

তবুও তিনি গুরুর চরণ ছাড়লেন না এবং বিনয়ের সঙ্গে আশীর্বাদ প্রার্থনা করলেন। 🚩

পরশুরামের ক্রোধ শান্ত হলো। তিনি বললেন—
“যদিও তুমি অভিশাপ পেয়েছ, তবুও পৃথিবী তোমাকে মহান দানবীর ও মহাযোদ্ধা হিসেবেই স্মরণ করবে।”

এবং সত্যিই, আজও কর্ণ দানশীলতা, ত্যাগ ও বীরত্বের প্রতীক হিসেবে পূজিত হন। 🚩

✨ কাহিনির শিক্ষা ✨
গুরুর সঙ্গে কখনও ছলনা করা উচিত নয়।
সত্যিকারের পরিশ্রম মানুষকে মহান করে তোলে।
কঠিন পরিস্থিতিতেও বিনয়ই সবচেয়ে বড় শক্তি।

Photos from Vedic Sanatani Education Council's post 21/05/2026

গীতা মায়ের কৃপায় Vedic Sanatani Education Council এর জন্য সাউন্ড চলে এসেছে৷ আগামী শুক্রবার থেকে নগর সংকীর্তন শুরু৷

21/01/2026

#বিদ্যার_দেবী_সম্পর্কে_গুরুত্বপূর্ণ_পোস্টঃ
#সরস্বতী দেবী কে?
সরস্বতী শব্দটি ‘সার’ এবং ‘স্ব’ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। সেই অনুসারে সরস্বতী শব্দের অর্থ যিনি কারো মধ্যে সারজ্ঞান প্রকাশ করেন। আবার সরস্বতী শব্দটি সংস্কৃত ‘সুরস বতি’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ হচ্ছে জলের আধার। সরস্বতী সাক্ষাৎ দেবী মূর্তি এবং নদী-দুইরূপেই প্রকটিত। ঋগবেদে(২/৪১/১৬) বর্ণনা করা হয়েছে-
অম্বিতমে নদীতমে সরস্বতী।
অপ্রশস্তা ইব স্মসি প্রশস্তিমন্ব নস্কৃধি।।
অর্থাৎ “মাতৃগণের মধ্যে শ্রেষ্ট, নদীগণের মধ্যে শ্রেষ্ট, দেবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ট হে সরস্বতী, আমরা অসমৃদ্ধের ন্যায় রয়েছি, আমাদের সমৃদ্ধশালী করো।” সরস্বতী দেবী জ্ঞান, সঙ্গীত, কলা এবং বিদ্যার দেবী।

সরস্বতী দেবীর আবির্ভাব
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী গোলোকে শ্রীকৃষ্ণের কন্ঠদেশ থেকে দেবী সরস্বতী উদ্ভূতা হয়েছিলেন। চৈতন্য ভাগবত (আদিলীলা ২/৯-১৪) তে বর্ণনা করা হয়েছে-
পূর্বে ব্রহ্মা জন্মিলেন নাভিপদ্ধ হৈতে।
তথাপিও শক্তি নাই কিছুই দেখিতে।।
তবে যবে সর্ববারে লইলা শরণ,
তবে প্রভু কৃপায় দিলেন দরশন।
তবে কৃষ্ণ কৃপায় স্ফুরিত সরস্বতী।
তবে সে জানিলা সর্ব অবতার স্থিতি।।
এক সময় শ্রীব্রহ্মা সৃষ্টিকার্যের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। শান্তভাবে ধ্যানস্থ আছেন। কী করবেন, কী করা উচিত চিন্তা করছেন। এমন সময় তাঁর শরীর থেকে এক সুন্দরী দেবীমূর্তি প্রকাশিত হয়। দেবী ব্রহ্মাজীকে বললেন, হে বিধাতা আমি আপনার থেকে প্রকাশিত হলাম। এখন দয়া করে আপনি আমার স্থান এবং কী কর্ম তা নির্দেশ করুন। ‘ব্রহ্মা বললেন “তোমার নাম সরস্বতী। তুমি অবস্থান করো সকলের জিহ্বাতে বিশেষভাবে সুশিক্ষিত ব্যক্তিদের জিহ্বাতে তুমি নৃত্য করো।পৃথিবীতে তুমি একটি নদীরূপে প্রকাশিত হও।”

দেবী সরস্বতী প্রশ্ন করলেন- হে বিধাতা, আপনি বললেন, আমি সবার জিহ্বাতে অবস্থান করবো; আবার বললেন, নদীরূপে থাকবো। এর ব্যাখ্যা কী? ব্রহ্মা বললেন-সরস্বতী তুমি যখন লোকের জিহ্বাতে অবস্থান করবে, তথন লোকের জিহ্বা থেকে বাকশক্তি হবে। তাই তোমার নাম বাকদেবী। তুমি আমার মুখ থেকেই প্রকাশিত। তুমি পবিত্রবতী। জগৎ-সংসারে বহু অপবিত্র মানসিকতা সম্পন্ন জীব থাকবে, অপবিত্র মানুষের জিহ্বায় কদর্য বাক্য স্ফুরিত হবে, সেসব জিহ্বাতে তুমি অবস্থান করে সুখি হতে পারবে না।

হে সরস্বতী, তুমি সাক্ষাৎ বুদ্ধি স্বরূপিণী। তুমি বলো, কোথায় তুমি আনন্দ লাভ করবে? সরস্বতী বললেন-যে সমস্ত ব্যক্তি পরম সুন্দর পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করেন, তাদের জিহ্বায় সর্বদা পরম প্রভুর নাম কীর্তিত হবে। আমি তাঁদের পবিত্র জিহ্বায় অধিষ্ঠান করবো।

ব্রহ্মাজী ব্রহ্মসংহিতায় বর্ণনা করেছেন-সেই পরম সুন্দর ভগবান কে? তিনি বর্ণনা করেছেন, “সেই পরমেশ্বর ভগবান হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর রূপ সচ্চিদানন্দ। তিনি অনাদির আদি এবং সর্বকারণের পরম কারণ। সেই আদি এবং সর্বকারণের পরম কারণ। সেই আদি পুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজনা করি।” কলিসন্তরণ উপনিষদে বর্ণনা করা হয়েছে-
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
ইত ষোড়শকং নাম্নাং কলিকল্মাষ নাশনম্।
নাতো পরতর উপায় সর্ববেদেষু দৃশ্যতে।।
শ্রীমদ্ভাগবতে (১১/৫/৩২) বর্ণনা করা হয়েছে-
কৃষ্ণবর্ণ তিষাকৃষ্রং সাঙ্গোপাঙ্গোঅস্ত্রপার্ষদম্।
যজ্ঞৈঃ সঙ্কীর্তনপ্রায়ৈর্যজন্ত হি সুমেধসঃ।।
কলিযুগে সুমেধাসম্পন্ন মানুষেরা কৃষ্ণনাম কীর্তনের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করেন।

পুরাণে সরস্বতী
বেদের যজ্ঞধাত্রী সরস্বতী পুরাণে ধরা দিয়েছেন বিচিত্র লীলাময়ী রূপে। অনেকগুলো পুরাণেই আমরা সরস্বতীর সাক্ষাৎ পাই। কিন্তু বৈদিককালের সরস্বতী মৌলিক ভাবনিচয় পুরাণের বর্ণনায় কোথাও ক্ষুণ্ণ হয়নি বরং হয়েছে অধিকতর সুপ্রকাশিত। দেবী ভাগবতে (৯/৭) বলেন, দেবী সরস্বতী আদ্যা প্রকৃতির অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। তিনি বোধস্বরূপিণী, সমুদয় সংশয়ছেদনকারিণী এবং সর্বসিদ্ধি প্রদায়িণী। সঙ্গীতের সন্ধান ও তাল প্রভৃতির কারণ স্বরূপিণীও তিনিই।

দেবী সরস্বতীর উপদেশ
মহর্ষি কশ্যপের এক বংশের ছিলেন তার্ক্ষ্য। সেই তার্ক্ষ্য ঋষি একদিন তপস্যাকালে দেবী সরস্বতীর সাক্ষাৎ পেলেন। শ্বেতবসনা, বীণাধারিণী, দুগ্ধবর্ণা দেবী সরস্বতী। ঋষি তাঁকে প্রণতি নিবেদন করলেন।
দেবী বললেন, হে বৎস, তোমার মনে অনেক প্রশ্ন আছে বলে জানি। তুমি যদি এখন কিছু জানতে চাও, তবে বলো। তার্ক্ষ্য ঋষি জানালেন হে ভদ্রে, দয়া করে বলুন ইহলোকে মানুষের কল্যাণ কীভাবে হবে? দেবী সরস্বতী বললেন, হে তপবোন, যে ব্যক্তির হৃদয় শুদ্ধ, শাস্ত্র নির্দেশ যে যত্ন সহকারে পালন করে, তারই যথার্থ কল্যাণ হয়। কী কর্ম করলে মানুষ এ জীবনের পর উর্ধ্বগতি বা নিম্নগতি লাভ করে? যদি কোনো ব্যক্তি অন্য সাত্ত্বিক ব্যক্তিকে ধন দান, আশ্রয় দান, চিকিৎসা দান, অন্ন দান, বস্ত্র প্রভৃতি দান করে তবে সুখময় স্বর্গীয় গ্রহলোকে উপনীত হবে। যে ব্যক্তি কাম ও ক্রোধ দ্বারা নিরন্তর মোহাচ্ছন্ন থাকে, সে ঘোরতর নরকলোকে নিপতিত হবে।

হে দেবী, কারা বৈকুণ্ঠ বা গোলোক ধামে উপনীত হতে পারবে? যাঁরা যজ্ঞাবশেষ ভোজী অর্থাৎ শ্রীহরির মহাপ্রসাদ যাঁরা ভোজন করেন, যাঁরা সত্যব্রত অর্থাৎ ভগবৎ-ভক্তি অনুশীলন করেন, যাঁরা শ্রদ্ধাবান অর্থাৎ ভগবান ও ভক্তের নির্দেশ মেনে চলতে আগ্রহান্বিত, যাঁরা নিরহংকার অর্থাৎ ভগবৎ সম্বন্ধ ছাড়া অন্য কারো সম্বন্ধে আকৃষ্ট নন, তাঁরাই শ্রীহরির সেবা করার উপযুক্ত হন। পরিণামে তাঁরা অতি পবিত্র ধাম গোলোক লাভ করেন এবং পরম সত্য স্বরূপ শ্রীকৃ্ষ্ণকে তাঁরা নিরীক্ষণ করে থাকেন।

ঋষি তার্ক্ষ্য আবার স্বরসতী দেবীকে প্রশ্ন করলেন, হে পরমাত্মারূপা প্রজ্ঞা, আপনি কে? দেবী সরস্বতী বললেন, আমি পরাপর বিদ্যারূপা দেবী। অর্থাৎ পরা বিদ্যা হচ্ছে ভগবান ও ভক্তি সম্বন্ধীয় বিদ্যা এবং অপরা বিদ্যা হচ্ছে জড়জগতের কর্মকান্ডীয় বিদ্যা। এ উভয় বিদ্যাই আমি জিবকে প্রদান করি

হে ঋষি, যারা বহু বহু বর্ষব্যাপী সুখ ভোগের উদ্দেশ্যে উচ্চতর লোক ব্রহ্মলোক, স্বর্গলোক ইত্যাদি গ্রহে যাওয়ার জন্য কামনা করে, তাদের আমি দান ব্রত ইত্যাদির নানাবিধ পুণ্য পবিত্র কর্মে প্রবৃত্ত করি। আর যাঁরা ভগবদ্ধধামে গোলোকে বৈকুণ্ঠে যাত্রা করবার আকাঙ্ক্ষা করেন, তাঁদের আমি ভক্তি বিদ্যা দান করি।

তার্ক্ষ্য বললেন, হে দেবী সকল পন্ডিত ব্যক্তি বিশ্বস্ত মনে যাকে শ্রেয় জ্ঞান করে ইন্দ্রিয় সংযম প্রভৃতি কঠোর ব্রত অনুষ্ঠান করেন, সেই দুঃখশোক শূন্য মোক্ষ কী? সাংখ্য শাস্ত্রে যাঁকে চিরন্তন ও শ্রেষ্ঠ বলে নির্দেশ করে, সেই পরমাত্মা কে? আমি জানি না, তাই আপনি দয়া করে সেই বিষয়ে উপদেশ দিন।

দেবী সরস্বতী বললেন, হে তার্ক্ষ্য, বিচক্ষণ পন্ডিত ব্যক্তিরা শোকরহিত ও বিষয় বাসনা শূন্য হয়ে ব্রতপরায়ণ হন এবং ভক্তিযোগে যে আদি পুরুষকে প্রাপ্ত হয়ে থাকেন, তিনি হচ্ছে সেই পরম ব্রহ্ম, পরমাত্মা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। হে ঋষি, যে স্থানে ভক্তরা সেই পরম পুরুষ শ্রীকৃষ্ণের প্রীতির উদ্দেশ্যে যাবতীয় কর্ম করেন, সেই স্থান আমার আশ্রয়স্বরূপ।

সরস্বতী পূজার বর্তমান প্রেক্ষাপট
বর্তমান সময়ে দেখা যাচ্ছে, মানুষ ধর্মের নামে নিজের ইন্দ্রিয় তৃপ্তিতে ব্যস্ত। এমনকি মানুষ মনে করছে তারা ধর্ম করছে, কিন্তু দেব-দেবীদের সামনে যে আচরণ করছে, তা এমনকি সভ্য সমাজে অপাঙক্তেয়। যুবক-যু্বতী, মধ্য বয়স্করা বলিউডের গানের তালে তালে নিজেদের ইন্দ্রিয় তোষণের চেষ্টা করছে, আর ভাবছে সে মায়ের বা দেবীর আরাধনা করছে। যে ধরনের আচরণ সে এমনকি নিজের মায়ের সম্মুখে করতে পারে না, সেই অসদাচরণ জগজ্জননী মায়ের তথাকথিত পূজার ছলে করছে।

এমনকি শোনা যায়, মায়ের পূজার জন্য যে অর্থ সংগ্রহ করনে, তা তারা নিজেদের ইন্দ্রিয় তোষণের জন্য বিভিন্ন জাগতিক (তথা যৌন উদ্দীপক) গানের আসরের আয়োজন করছে। কখনো কখনো মদ্যপানের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই যথার্থ মনোভাব ও ভাগগাম্ভীর্য নিয়ে পূজা সম্পাদন করা। সর্বতোভাবে সন্তুষ্ট করে না এমন সব গান বা কার্য থেকৈ সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা। পূর্বেই বর্ণনা করা হয়েছে, কোন কার্য মাতা সরস্বতীকে সন্তুষ্ট করতে পারে। আমরা পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করব কোন মনোভাবে আমাদের মায়ের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করা উচিত, কোন বাহ্যিক বিষয় মায়ের প্রার্থনায় গুরুত্ব বহন করে না, কোন প্রতিমায় মা অবস্থান গ্রহণ করেন।

সরস্বতী পূজা কি লৌকিক প্রথা?
আমরা বেশির ভাগই ধর্ম করি, পূর্বপুরুষের ধারা অনুযায়ী অথবা সকল কর্মের ফল লাভের জন্য অথবা না বুঝে আনন্দ পাই বলে পূজার লৌকিক প্রয়াস করি। এধরনের প্রয়াসের ফলে মনের শান্তি অনুভব হয় বটে; কিন্তু তা কি আমাদের বিদ্যা লাভের প্রকৃত উদ্দেশ্যে সাধিত হয়? এ ধরণের লৌকিক প্রয়ােসই লৌকিকতা বা প্রথাগত ধর্মাচার বলে পরিগণিত হয়।

জড় জগতে বন্ধনে আবদ্ধ জীবগণ অবিদ্যায় অবস্থিত। অবিদ্যার আবরণে তাদের প্রকৃত স্বরূপ আচ্ছাদিত। যারা মায়ামুক্ত, তাঁরা বিদ্যা ও অবিদ্যা উভয়ের স্বরূপ সম্যক প্রকারে অবগত আছেন। তারা নিজেদের ভগবানের দাস জ্ঞান করে ভগবানের সেবায় প্রকৃত হন। মায়াবশীভূত জীবগণ সত্ত্ব, রজ ও তমো গুণে আবদ্ধ হয়ে দেবতাদের ভজনা করেন। বিভিন্ন গুণসম্পন্ন জীবগণ তাদের নিজ নিজ রুচি অনুসারে শান্ত, শৈব, সৌর, গাণপত্র বা বৈষ্ণব নামে অভিহিত হন।

তারা ভোগবাসনা চরিতার্থ করার জন্য ধন কামনায় লক্ষ্মী এবং বিদ্যালাভ করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য লৌকিক প্রথা অনুসারে দেবী স্বরস্বতীর পূজা করেন। তারা যে বিষয় কামনায় পূজা করেন তা সবই নশ্বর। আমি ধনী হবো, পন্ডিত হবো, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবো, সমগ্র জগতে আমার যশ কীর্তিত হবে। এসমস্ত বাসনা সবই নশ্বর। চারবেদ, ষড় দর্শন অধ্যয়ন করেও যদি ভগবানের প্রতি অহৈতুকী ভক্তির উদয় না হয় তবে সবই বৃথা। শাস্ত্রে বর্ণনা করা হচ্ছে- আচারহীনং ন পুনন্তি বেদা....। যে বস্তু দেহত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ত্যাগ করে সেসমস্ত বিষয় নিয়ে নিত্য আত্মার কতটুকু স্বার্থসিদ্ধি হতে পারে।

তাই যারা উন্নত বিচারবোধসম্পন্ন, তারা কখনো নশ্বর বিষয়ে মুগ্ধ হয়ে দুর্লভ মনুষ্য জীবনের সুযোগটুকু হেলায় হারাতে ইচ্ছা করেন না। ঐকান্তিকী ভক্তগণ সরস্বতী দেবীকে চিৎ-শক্তিরূপে পূজা করেন। ভাগবত কীর্তনের প্রারম্ভে শ্রীল সূত গোস্বামী মঙ্গলাচরণের মধ্যে পরাবিদ্যাস্বরূপিণী সরস্বতীর প্রণাম করছেন যে, “দেবীং সরস্বতীং ব্যঅসং ততো জয়মুদীরয়েৎ”। আদিগুরু শ্রীব্রহ্মার হৃদয়ে সৃষ্টি বিষয়ক স্মৃতি প্রকাশের জন্য যে সরস্বতী দেবী ভগবানের প্রেরণায় প্রকটিত হন, তিনি শ্রীকৃষ্ণকেই উপাস্য মনে করেন।

❏ আসছে বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা—
মাতা সরস্বতী সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

১। মা সরস্বতী গায়ত্রী রুপে বেদের মাতা।
২।ধ্যান অনুসারে তিনি কখনো চতুর্ভূজা আবারদ্বিভূজা।
৩। মা সরস্বতীর বাহন রাজহংস হলেও ধ্যাণের পার্থক্যে ময়ূর ও দেখা যায় ।
৪। সরস্বতী বৈদিক দেবী । বেদে সরস্বতীকে বিশেষস্থান দেওয়া হয়েছে ।
৫। তিনি তার হাতে বীণা পুস্তকএবং অক্ষমালা ধারণ করে আছেন ।
৬। তিনি সকল প্রকার বিদ্যারঅধিষ্ঠাত দেবী যেমন : শাস্ত্র,বিজ্ঞান,নৃত্য,গীত, অঙ্কন ইত্যাদি।
৭। মা সরস্বতীর গায়ের রং শুভ্র তূষারের মত।
৮। মা সরস্বতীর আসন শ্বেত পদ্ম।
৯। মা সরস্বতীর আদিরুপ হল মহাসরস্বতী যিনি সৃষ্টির আদিতেইসৃষ্টি হয়েছিলেন ।

#প্রনাম_মন্ত্র
ঔঁ সরস্বতী নমঃ নিত্যং ভদ্রকাল্য নমঃ বেদ বেদান্ত বেদাঙ্গ বিদ্যাস্হাণেভ্য এবচ স্বাহাঃ

#সরস্বতী_পূজা-
পুষ্পাঞ্জলী মন্ত্র,প্রণাম মন্ত্র,স্তব ও প্রার্থনা মন্ত্র সরস্বতী পূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি অন্যতম প্রচলিত পূজা। সরস্বতী দেবীকে শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী ওআশীর্বাদাত্রী মনে করা হয়। বাংলা মাঘ মাসের ৫মী তিথিতে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা, সংগীত ও শিল্পকলায় সফলতার আশায় শিক্ষার্থীরা দেবীর পূজা করে থাকে। বাকদেবী, বিরাজ, সারদা, ব্রাহ্মী, শতরূপা, মহাশ্বেতা, পৃথুধর, বকেশ্বরী সহ আরো অনেক নামেই দেবী ভক্তের হৃদয়ে বিরাক করে। পুরাণ অনুযায়ী দেবী সরস্বতী ব্রহ্মের মুখ থেকে উথ্থান। দেবীর সকল সৌন্দর্য্য ও দীপ্তির উৎস মূলত ব্রহ্মা। পঞ্চমস্তকধারী দেবী ব্রহ্মা এক স্বকীয় নিদর্শন। পূজার জন্য দেবী সরস্বতীর মূর্তি শ্বেত বস্র পরিধান করে থাকে যা পবিত্রতার নিদর্শন। দেবীর আসন কে পুষ্পশোভা মন্ডিতকরে রাখা হয়। পরিবারের সকল সদস্য খুব ভোরে স্নান শেষে পরিস্কার বস্র পরিধান করে দেবীর সামনে অবস্থান করে থাকে। পুরোহিত পূজা শুরু করবার আগ পর্যন্ত দেবীর মুখ মন্ডল ঢাকা থাকে। পূজার অর্ঘ্যর পাশাপাশি দেবীর পূজার অারেকটি
শ্বেতবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালঙ্কারবভূ ষিতা বন্দিতা সিদ্ধগন্ধর্ব্বৈর্চ্চিতা দেবদানবৈঃ।
পূঝিতা মুনিভি: সর্ব্বৈঋষিভিঃ স্তূয়তে সদা।।
স্তোত্রেণানেন তাং দেবীং জগদ্ধাত্রী সরস্বতীম্।
যে স্মরতি ত্রিসন্ধ্যায়ংসর্ব্বাং বিদ্যাং লভন্তিতে।।

মাঘের পঞ্চমী তিথিতে শীত প্রভাতের শিশির মাখানো পলাশ ও গাঁদা ফুলের সমারোহ যেন প্রকৃতির নয়ন জুরানো নৈসর্গিক দৃশ্য। চিরাচরিত নিয়মে, মা মমতাময়ী বিদ্যার দেবী নেমে আসছেন এই ধরাতে। তাইতো আমরা মায়ের করুণায় বিদ্যা অর্জন করছি, তাইতো আমরা মেতে উঠি পূজা উৎসবে।

#হিন্দুধর্ম #পূজা #শিবলিঙ্গ #আধ্যাত্মিকতা #ধর্ম #প্রাসাদ #সনাতন #মহাদেব
#সরস্বতী_পূজা

Want your school to be the top-listed School/college in Chakaria?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address

Chakaria
Chakaria
4740