22/07/2026
দ্যা রিয়েল হিরো( অংশবিশেষ)
গল্প করতে করতে কখন যে বিকেল হয়ে গেলো প্রজ্ঞা টেরও পেলো না। প্রজ্ঞা যাওয়ার জন্য যেই মাত্র উঠে দাড়ালো, আয়েশা প্রজ্ঞার হাত টেনে বসিয়ে দিলো। মেয়েটা আপাদমস্তক মায়াবতী এক মানুষ। এই পর্যন্ত সে প্রজ্ঞাকে দশ প্রকারের খাবার খাইয়েছে, তারপর ও তার সাধ মেটেনি। প্রজ্ঞা ভেবেই পাচ্ছে না, মানুষ এত যত্নশীল হয় কিভাবে! প্রজ্ঞা একটু জোর করেই উঠে আয়েশার হাত ধরে বললো, " আমি আবার আসবো, আমাকে যে বার বার আসতে হবে। জগতে সব কিছুর লোভ ত্যাগ করা গেলেও মায়া আর যত্নের লোভ ত্যাগ করা যায় না। " মেয়েটা ফ্যাল ফ্যাল করে তাঁকিয়ে ছিলো প্রজ্ঞার দিকে। ঘর থেকে বের হয়ে প্রায় আধা ঘন্টা পথ হাঁটতে হয়, সেই পথটুকু আয়েশা প্রজ্ঞাকে একলা যেতে দেয়নি৷ প্রজ্ঞার বার বার নিষেধ করার পরেও সে প্রজ্ঞার সাথে পথ চললো।
সেদিনের বিকেলটা অসাধারণ ছিলো। রাস্তার দুপাশে গাছ, স্নিগ্ধ একটা বাতাস আর আকাশে ছিলো হাজার রঙের বাহার। পাশে ছিলো একটা ব্রিজ। ব্রিজের উপর উঠে প্রজ্ঞা আর আয়েশা খানিকটা দাঁড়ালো। আয়েশা তখন বলতে লাগলো, "জানেন আপা আমাদের যখন বিয়ে হয়েছিলো, কেউ আমাদের মেনে নেয়নি। পাড়ার ছেলেরা বাড়িতে ঢিল পর্যন্ত ছুড়তো, কিন্তু আজকের এই দিনে আমি খুব বিশ্বাস নিয়েই বলতে পারি, সবাই আমাদেরকে আদর্শ জুটি মনে করে। "
প্রজ্ঞাঃ একদম। আমার কাছে ও তোমাদের জুটিকে আদর্শ এবং অনুসরণীয় একটা জুটি বলে মনে হয়।
আয়েশা: আসলে সামাজিকতার অজুহাতে সম্পর্ক কখনো শেষ হয় না। বরং, আমাদের ইচ্ছাশক্তিটাই আসল।সমাজের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের জীবনের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত নয়, বরং, আমাদের সিদ্ধান্তের দৃঢ়তা এবং স্বচ্ছতাই সমাজের চাওয়াকে পরিবর্তন করবে।
প্রজ্ঞা গাড়িতে উঠলো। পুরোটা পথ সে শুধু আয়েশাকে নিয়েই ভাবছিলো। এবার প্রজ্ঞার মনে হলো, স্যারের সিদ্ধান্তে কোনো ভুল ছিলো না। স্যার চাইলে হয়তো খুব সুন্দরী, উচ্চ শিক্ষিত, অভিজাত কুলীন বংশের মেয়ে বিয়ে করতে পারতো। কিন্তু স্যার যাকে বিয়ে করেছেন সে যে কতো অফুরন্ত সৌন্দর্যের অধিকারী তা শুধু স্যার জানেন, আর আজ প্রজ্ঞা তা জানলো।
স্যার এই সৌন্দর্যকে পেয়ে প্রতিনিয়ত তার যত্ন করে যাচ্ছেন। প্রজ্ঞার কাছে মনে হয়, স্যার আয়েশাকে সম্মান, যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে এক অনবদ্য রূপে সৃষ্টি করেছেন যে সৌন্দর্যের কোনো বিনাশ নেই।
তবে আজ স্যারকে খুব সেলিয়ুট করতে মন চাচ্ছিলো প্রজ্ঞার। স্যার আসলেই একজন রিয়েল হিরো।
,,,,, রাবেয়া জাহান