শেরপুর সরকারি ডি. জে মডেল হাই স্কুলে স্বাগতম
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি :
1868 সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শেরপুর ডি. জে. হাইস্কুল উত্তর বংগের প্রবেশদ্বার বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার পৌর কেন্দ্রে বিশ্বরোড নামে পরিচিত ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের 200 মিটার পূর্বে পাকা রাস্তা সংলগ্ন এক মনোরম পরিবেশে অবস্থিত।বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় 1200 জন।শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা 33 জন, কমর্চারীর সংখ্যা 16 জন।তারা অত্যন্ত দক্ষতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।ফলে S.S.C ও J.S.C পরীক্ষার ফলাফল প্রায় শতভাগ। বতর্র্মানে শেরপুর ডি. জে. হাই স্কুলটি মডেল স্কুলে রূপান্তরিত হয়েছে।যার ফলশ্রুতিতে স্কুলের অবকাঠোমো উন্নয়ন স্বরূপ মডেল ভবন নির্মান সহ আরও একটি দ্বিতল ভবন নির্মান হয়েছে।এবং আরও একটি দ্বিতল ভবন ও আধুনিক বিজ্ঞানাগার নির্মানের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মুঘল পাঠান আমলে উত্তরবংগের প্রবেশ দ্বার শেরপুর, ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার প্রধান স্থান হিসাবে এক সময় খ্যাতি র্অজন করেছিল।এই খ্যাতি ক্রমান্বয়ে জেলা সদর বগুড়াকে অতিক্রম করে।বগুড়ার আগে শেরপুর পৌরসভা উদ্ভোধন ও শেরপুর ডি.জে হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা শেরপুরের প্রাধান্যকে ঐতিহাসিক ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে।
পৌরসভার চত্বরে Minor English School পরর্তীতে 1868 সালে Aided School এবং 1887 সালে পূর্ণাঙ্গ H.E School হিসাবে এর জন্ম এবং বিকাশ ঘটে।1887 সালে মহারানী ভিক্টোরিয়ার হীরক জয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে বিদ্যালয়টি নামকরন করা হয Sherpor Diamond Jubilee H.E. School. পরবর্তীকালে English কথাটি বাদ যায় এবং শেরপুর নামের ইংরেজী বানান পরিবতন হয়ে নামকরণ দাঁড়ায় “Sherpur Diamond Jubilee High School.” বা সংক্ষেপে “Sherpur D.J. High School.” এই সংক্ষিপ্ত নামেই বিদ্যালয়টি সমধিক পরিচিত। শেরপুর নামের বাংলা বানান C.S পরচা এবং মৌজা ম্যাপে “সেরপুর” দেখা যায়। একই ভাবে ইংরেজী বানানের ক্ষেত্রেও বিবতন লক্ষ্যনীয়।বতমানে স্কুলটি “310 উপজেলা সদরে নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয়সমূহকে মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তর” শীষক প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত হওয়ায়, শেরপুর ডি.জে. হাইস্কুল নামটির সংগে ”মডেল” কথাটি যোগ হয়েছে।বতমান নাম “শেরপুর ডি. জে. মডেল হাইস্কুল” 1887 সালে এলাকার প্রতিতযশা মুন্সী জমিদার পরিবার বিদ্যালয়টির পরিচলানার দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীকালে পৌরসভা চত্বর থেকে বতমান অবস্থানে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়।‘E’ আকৃতি বিশিষ্ট স্কুল ভবনটির প্রধান অংশ মুন্সী এষ্টেটের অর্থায়নে নির্মিত হয়।পরবর্তীকালে সম্প্রসারণের সময় উত্তর দক্ষিণের দুটি ডানা ও মধ্যাংশের গাড়ী বারান্দা নির্মাণে মুন্সী এষ্টেটের সংগে স্থানীয় সান্যাল জমিদারদের সহযোগীতার কথা জানা যায়।1904 সালে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জে, এন, গুপ্ত এর সময় জনৈক মাধব মিস্ত্রী কর্তৃক ভবনটির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয় বলে মুন্সী সেরেস্তার নথি পত্রে দেখা যায়।
শেরপুর ডি. জে. হাইস্কুলের একাডেমীক ও সাধারণ প্রশাসনের সুষ্ঠাতা প্রবাদ বাক্যের মত ছড়িয়ে পড়েছিল। সরকারী প্রশারন যন্ত্রে এবং বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে এর সুনাম পৌঁছে যায়। ফলে সিন্ডিকেট থেকে বিদ্যালয়টিকে স্থায়ী মঞ্জুরী দেয়া হয়।শোনা যায় বৃটিশ প্রশাসনের কোন এক বড় কমকর্তার একবার বিদ্যালয় পরিদশনে এসে বিদ্যালয় গেটে গাড়ী থেমে রেখে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে বিদ্যালয় চত্ত্বরে প্রবেশ করেন। এ ছিল সেদিনের বিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি দেশ ও সমাজের শ্রদ্ধাবোধ এবং এমনি ছিল প্রধান শিক্ষকদের ব্যক্তিত্বের প্রভাব যার দ্বারা তারা সমাজে শ্রদ্ধা আদায় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রথম মহাযুদ্ধ র্পূব কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগে বিদ্যালয় প্রশাসনের একটি পত্র যোগাযোগ পুরাতন রেকর্ড ঘেঁটে পাওয়া গিয়েছিল যাহাতে লিখা ছিল- সপ্তম শ্রেনীর একজন ছাত্রের ‘পাঠ বিরতী’ খন্ডনের জন্য প্রধান শিক্ষক কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া একটি পত্রের জবাব এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছে যায়। উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষক ‘পাঠ বিরতী’ গোপন করেননি এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাঠ বিরতী খন্ডনে সামান্যতম বিলম্ব করেননি।
বিদ্যালয়ের প্রথিযশা ছাত্র-ছাত্রীগণ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বর্পূণ পদে সমাসীনে এবং দেশান্তর পর্বের তাদের একাংশ সারা ভারত, আমেরিকা, বৃটেন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সন্মানজনক পদ অলংকৃত করে বিদ্যালয়ের গৌরব গাঁথা প্রচার করছে। উনবিংশ শতাব্দীর দু-দুটো মহাযুদ্ধ, অখন্ড ভারত ও পাকিস্তান অতিক্রম করে বিদ্যালয়টি বাংলাদেশে পা রেখেছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় দেড়শত বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। সামাজিক-রাজনৈতিক উত্থান পতন ও অবক্ষয়ের অনেক দুষ্টক্ষত বিদ্যালয়টিকে কিছুটা র্স্পশ করা স্বত্তেও এর অতীত ঐতিহ্য আজও অক্ষুন্ন ও দেদীপ্যমান।
ঐতিহ্যবাহিী শেরপুর ডি. জে. হাইস্কুলের অসংখ্য স্মৃতি-শ্রুতি এক বিরাট ভলিয়ম হবে। কবি গুরুর ভাষায়, “সহস্র বিস্মৃতি রাশি, প্রত্যহ যেতেছে ভাসি, তারি দু চারটি অশ্রু জল”- রেকর্ডের মণিকোঠা থেকে উদ্ধার করে পাঠকদের দরবারে পেশ করলাম। এক ঐতিহাসিক লগ্নে জন্ম গ্রহণ করে শেরপুর ডি. জে. হাইস্কুল দেশ ও জাতির জন্য বিরতিহীন সেবা করে আসছে। কালের ছাপ এর দেহ ও মনকে কিছুটা বিবর্ণ করেছে সত্য কিন্তু এর প্রেরণা যোগ করে যুগের চাহিদা পুরনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির অংগ সৌষ্ঠব যুগোপযোগী করে সাজাবে এ প্রতাশা সকলে করতে পারে। এলাকার সুশীল গণমাসসে যে শুভ দিনের প্রতিক্ষায় রইল।
অমর হোক, অক্ষয় হোক শতাব্দী পুরাতন ঐতিহ্যবাহী শেরপুর ডি.জে. হাইস্কুল।