ইছলামের ভিত্তি হইতেছে ঈমান। মোমেন ও মোছলেম মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য।
সাধারণত: মোমেন বলিতে বুঝায় আঁ-হজরতের অনুগামী আর মোছলেম বলিতে বুঝায় যে কোন প্রেরিত পুরুষের অনুগামী। ইছলাম বলিতে ঐ ধর্ম্ম বুঝায় যাহা হজরত আদম হইতে বর্ত্তমান কাল পর্য্যন্ত ব্যাপ্ত। কমবেশী ১,৩৩,০০০ পয়গম্বর ঐশী বাণী লইয়া আসিয়াছিলেন, কাগজ ও মুদ্রা-যন্ত্রের অভাবে উক্ত বাণী কালক্রমে নানাভাবে পরিবর্ত্তিত হইয়াছিল। শেষ পয়গম্বর হজরত মোহাম্মদ (দ:) দ্বারা উক্ত বাণী সর্ব্বদোষ বিবর্জ্জিত হইয়া পূর্ণতা লাভ করিয়া ছিল। কোরআনের ভাষায় ---"তুমি বলো তুমি মোছলেম কিন্তু মোমেন নহো, যে পর্য্যন্ত তোমার ঈমান তোমার দেলে প্রবেশ না করিয়াছে।" মোছলেম হওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ কিন্তু মোমেন হওয়া বড় শক্ত।
"মহাপুরুষদের অমীয়বাণী"
হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ওয়ার্ছী (র:)
তরীকার আমল
তরিকা শব্দটি আরবী তারিক শব্দ হইতে পরি? তরীকার আমল
হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, 'শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী মানুষ কে?' রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'মানুষের মধ্যে আল্লাহ তাআলার নিকট শ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী ওই ব্যক্তি, যে আল্লাহকে বেশি ভয় করে। ' (বোখারি, হা. : ৪৬৮৯)
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, 'তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী ওই ব্যক্তি, যে অধিক আল্লাহ ভীরু হয়। ' (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩)
হজরত ওসমান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি- যে নিজে কোরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে তা শিক্ষা দেয়।
14/07/2022
তরিকা একটি আরবি শব্দ। যার বহু বচন হলো তারাইক। প্রখ্যাত আরবি অভিধান লিসানুল আরবে এর অর্থ লেখা হয়েছে সিরাত, মাজহাব, অবস্থা। (লিসানুল আরব দশম খ-, ২২১ পৃষ্ঠা)। তরিকার আরও কতগুলো অর্থ করা যায় যেমনঃ পদ্ধতি, রীতি, উপায়, রাস্তা, পথ মত, মাধ্যম, স্তর।
সাধারনত তরিকা সুফিাবাদের একটি পরিভাষা। সুফিদের ভাষায়, ইসলামী জ্ঞানের অন্যান্য শাখায় যেমন পদ্ধতিগত ভিন্নতা রয়েছে তেমনি এলমুল কালামের ক্ষেত্রে আশরারি ও মাতুরিদি মতবাদ, ইলমে ফিকহের ক্ষেত্রে হানাফি, মালেকি, শাফেঈ ও হাম্বলি মাজহাব, ঠিক এলমে তাসাউফের ক্ষেত্রেও এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের ভিন্ন ভিন্ন রীতি পদ্ধতি রয়েছে এটাকেই বলা হয় তরিকা। এলমে ফিকহের ক্ষেত্রে যেমন প্রসিদ্ধ চার মাজহাবের ইমামদের নামানুসারেই মাজহাবের নামকরণ করা হয়েছে, তেমনি এলমে তাসাউফের তরিকাগুলোকেও বিশেষ সুফিসাধকদের নাম দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে।
উসামাহ্ ইবনু যাইদ (রাযিঃ) বলেন, এক রাতে আমার কোন দরকারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলাম। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অবস্থায় বাইরে এলেন যে, একটা কিছু তার পিঠে জড়ানো ছিল যা আমি অবগত ছিলাম না। আমি আমার দরকার সেরে অবসর হয়ে প্রশ্ন করলাম, আপনার দেহের সঙ্গে জড়ানো এটা কি? তিনি পরিধেয় বস্ত্র উম্মুক্ত করলে দেখা গেল তার দুই কোলে হাসান ও হুসাইন (রাযিঃ)। তিনি বললেনঃ এরা দু’জন আমার পুত্র এবং আমার কন্যার পুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদের দু’জনকে মুহাব্বাত করি। সুতরাং তুমি তাদেরকে মুহাব্বাত কর এবং যে ব্যক্তি এদেরকে মুহাব্বাত করবে, তুমি তাদেরকেও মুহাব্বাত কর। - (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৬৯)
ইয়ালা ইবনু মুররাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তাঁকে প্রদত্ত এক আহারের দাওয়াতে রওনা হন। তখন হুসায়ন গলির মধ্যে খেলাধূলা করছিলেন। রাবী বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের অগ্রভাগে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর দু হাত বিস্তার করে দিলেন। বালকটি এদিক-ওদিক পালাতে থাকল। কিন্তু নবী (সা.) তাকে হাসতে হাসতে ধরে ফেলেন। এরপর তিনি তাঁর এক হাত ছেলেটির চোয়ালের নিচে রাখলেন এবং অন্য হাত তার মাথার তালুতে রাখলেন। তিনি তাকে চুমু দিলেন এবং বলেন, ‘হুসাইন আমার থেকে এবং আমি হুসাইন থেকে। যে ব্যক্তি হুসাইনকে ভালোবাসে, আল্লাহ তাআলা তাকে ভালোবাসেন। হুসাইন আমার নাতিদের একজন।’ - (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪৪)
আবদুর রহমান ইবনু আবী নুম (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে এক ইরাকবাসী মাছির রক্ত কাপড়ে লাগলে তার বিধান প্রসঙ্গে ইবনু উমার (রাযিঃ)-এর কাছে জানতে চায়। ইবনু উমার (রাযিঃ) বললেন, তোমরা তার প্রতি লক্ষ্য কর, সে মাছির রক্ত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করছে। অথচ তারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্রকে (নাতি হুসাইন) হত্যা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছিঃ আল-হাসান ও আল-হুসাইন দু'জন এই পৃথিবীতে আমার দুটি সুগন্ধময় ফুল। - (তিরমিজি, হাদিস : ৩৭৭০)
নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ঈমানদার পুরুষ, ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্য্যশীল পুরুষ, ধৈর্য্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোযা পালণকারী পুরুষ, রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী পুরুষ, , যৌনাঙ্গ হেফাযতকারী নারী, আল্লাহর অধিক যিকরকারী পুরুষ ও যিকরকারী নারী-তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরষ্কার।
-সূরা আযহাব-আয়াত-৩৫
সদকার জন্য কিছু সুন্দর টিপসঃ❤️
১. একটি জায়নামাজ কিনে মসজিদে রেখে দিন, যে ব্যক্তি তাতে নামাজ আদায় করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেই আমলের জন্য পুরস্কৃত হবেন।
২. একটি বাটি বা গ্লাসে কিছু পানি আপনার জানালায় রেখে দিন পাখিদের জন্য, এটাও এক ধরনের সদকা। এটিকে অভ্যাসে পরিণত করুন। আপনি পুরস্কৃত হবেন।
৩. আপনার পুরাতন অথবা ব্যবহার হচ্ছে না এমন পোশাক গরিবকে দান করুন।
৪. আপনার রুমে একটি বক্স রাখুন এবং যখনই আপনি মনে করবেন যে আপনি কোন অন্যায় করেছেন, তখনি তাতে সাধ্যমতো পয়সা রাখুন। মাস শেষে তা খুলে দেখুন এবং তা দান করে দিন। এতে নিজের ভুলগুলোর পরিমাণ বুঝতে পারবেন এবং অনুতপ্ত হয়ে নিজেকে সংশোধনের জন্য এটা সুন্দর একটি পন্থা।
৫. বাড়িতে ঢুকার ও বের হবার পথে দোয়া লিখে রাখুন একটি কাগজে। যে এই দোয়াগুলো দেখতে পেয়ে পাঠ করবে, ইনশাআল্লাহ আপনি সেজন্য পুরস্কৃত হবেন৷ একইভাবে ঘরের এমন কোন স্থানে দোয়া লিখে রাখতে পারেন যেটা সবার নজরে আসে।
৬. আপনার হাত খরচের টাকা দিয়ে একজন এতিমকে সহায়তা করুন আপনার সাধ্যমতো।
৭. আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোন নির্মাণ কাজ চলে কিংবা শ্রমিকেরা কাজ করে, তবে কিছু ঠাণ্ডা পানি বা খাবার তাদেরকে দিতে পারেন। ইনশাআল্লাহ আপনি পুরস্কৃত হবেন।
৮. কোন মসজিদে কোরআন শরীফ দিন, যে কোন ব্যক্তি যখন অন্তত একটি অক্ষর পাঠ করবে সেটার জন্য ১০ গুন সওয়াব লিখিত হবে আপনার আমলে।
৯. আপনি পান করা গ্লাসে পানি অবশিষ্ট থেকে গেলে তা একটি ফুলদানির পাত্রে রেখে দিন, অপচয় করবেন না।
১০. আপনার মুসলমান ভাই বোনদের উৎসাহ দিন, দুর্দিনে সাহায্য করুন, সহানুভূতিশীল হোন যখন তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকবেন।
১১. অসুস্থ আত্মীয় কিংবা পরিচিতদের দেখে আসুন। একটু হাসুন, কথা বলুন। এটাও সাদকা। মৃদু হাসি বিনিময় করাও সদকা।
১২. ততক্ষণ পর্যন্ত ঘুমাবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত আপনাকে যারা কষ্ট দিয়েছে তাদের ক্ষমা করেছেন।
১৩. কাউকে এক অক্ষর হলেও দীন শিক্ষা দিন। সেই ব্যক্তি যখন তার সন্তানসন্ততি, বন্ধুবান্ধব কিংবা তার সন্তানদের মাধ্যমে তার পরের প্রজন্ম এই দীন অর্জন করবে, সে সকল সওয়াব মৃত্যুর পরেও আপনার কবরে পৌঁছাবে।
১৪. সামর্থ্য থাকলে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল স্থাপনে সহায়তা করুন। গাছ লাগান, টিউবওয়েল বা পান করার পানির ব্যবস্থা করুন। আপনার মৃত্যুর পরেও মদজিদ মাদ্রাসা দীন শিক্ষা দিতে থাকবে, হাসপাতালে রোগী সেবা পেতে থাকবে, গাছ থেকে মানুষ অক্সিজেন এবং খাবার পাবে, পান করার পানি পান করতে পারবে আপনার ব্যবস্থা করে দেয়া পানির উৎস থেকে। এসকল কিছু সদকায়ে জারিয়া। এগুলো মৃত্যুর পরেও আপনাকে পরকালের জন্য ধনী করতে থাকবে।
১৫. সন্তানদের উত্তম সন্তান হিসেবে গড়ে তুলুন। দীন এবং মানবতা শিক্ষা দিন। এদের দোয়া কবর পর্যন্ত পৌঁছাবে, আপনার থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা এদের সঠিক মানুষ হতে সাহায্য করবে।
১৬. এই সদকার পন্থা গুলো মানুষের সাথে শেয়ার করুন, তাদের শিক্ষা দিন। এটিও সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
পরীক্ষা ব্যতিত জয়-পরাজয় অর্থহীন। তাই খোদাতা'লা দয়া পরবাশ হইয়া মানবেরই হিতের জন্য পৃথিবীতে পরীক্ষার অবতারণ এবং মানবদেহে রুহ্ ও নফ্ছের মিশ্রণ করেন। পরীক্ষাক্ষেত্রে মানবকে জয়ী করিয়া ফেরেশতার অগ্রণী করাই ছিল স্রষ্টার ইচ্ছা এবং সেই ইচ্ছা পূরণের জন্যই হজরতের আবির্ভাব। হজরত ছিলেন খোদার হাবিব, তাঁহার পরম বন্ধু, তাঁহারই ইচ্ছার পরিপোষক। তাঁহার সহায়তা ব্যতীত খোদা প্রাপ্তি অসম্ভব। বান্দাকে উদ্ধার করিয়া খোদাতক্ পৌছাইবার তিনিই একমাত্র অছিলা, একমাত্র সহায়, একমাত্র সংযোজক। তিনি ছিলেন খোদারই মুষ্টিমেয় নূরের সমাহার, তাঁহারই অনুগ্রহে ওলি-আল্লাহর বিশেষত্ব লাভ। তাঁহার রহম ব্যতীত আমরা খোদাতা'লার সান্নিধ্য লাভ করিতে অক্ষম। তিনি খোদার প্রিয়, মানবের পরম বন্ধু।
"পেয়ারা নবী"
হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (রঃ)
"হে নবী! তুমি বলে দাও আমি রেসালাতের বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাইনা,একমাত্র আমার নিকটাত্মীয়ের সাথে ভালোবাসা পোষন ছাড়া।
"(সূরা শূরা -২৩)
26/08/2020
রক্তাক্ত কারবালার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
কারবালা সংশ্লিষ্ট ইতিহাস সম্পর্কে অত্যন্ত সংক্ষেপে জুবাইর ইবনে বাক্কার (রহ.) বলেন, হোসাইন ইবনে আলী (রা.) চতুর্থ হিজরির শাবান মাসের ৫ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। আর আশুরার জুমার দিনে ৬১ হিজরিতে তিনি শহীদ হন।
তাকে সিনান ইবনে আবি আনাস নাখায়ি হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করে খাওলি ইবনে ইয়াজিদ আসবাহি হিময়ারি। সে হোসাইন ইবনে আলীর মাথা শরীর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে এবং ওবায়দুল্লাহর দরবারে নিয়ে যায়।
বলাবাহুল্য যে, কারবালার প্রান্তরে সে অশুভ দিনে পাপিষ্ঠরা যে নির্মমতা ও নির্দয়তার পরিচয় দিয়েছে, তা পাষণ্ড হৃদয়েও ব্যথা ও যাতনা সৃষ্টি করে।
শাহাদাতের পর হজরত হোসাইন (রা.)-এর দেহ মোবারকে মোট ৩৩টি বর্শা ও ৩৪টি তরবারির আঘাত দেখা যায়। শরীরে ছিল অসংখ্য তীরের জখমের চিহ্ন।
তার সঙ্গে মোট ৭২ জনকে হত্যা করে ঘাতকরা।
হোসাইন (রা.)-এর সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল খিলাফত ব্যবস্থার পুণর্জীবন। ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কুফাবাসীর সাহায্যের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে হোসাইনের (রা.) স্ত্রী, ছেলে, বোন ও ঘনিষ্ঠ ২০০ অনুচর নিয়ে ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কুফার উদ্দেশে রওনা হন। ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা নামক স্থানে পৌঁছালে কুফার গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ তাকে বাধা দেন। রক্তপাত ও খুনাখুনি বন্ধের উদ্দেশে হজরত হোসাইন (রা.) তিনটি প্রস্তাব দেন।
এক. তাকে মদিনায় ফিরে যেতে দেওয়া হোক। দুই. তুর্কি সীমান্তের দুর্গে অবস্থান করতে দেওয়া হোক। তিন. ইয়াজিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দামেস্কে পাঠানো হোক।
কিন্তু ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে তার হাতে আনুগত্যের শপথ নিতে আদেশ দেন। হজরত হোসাইন (রা.) ঘৃণা ভরে তার এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন।
অবশেষে ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের চার হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী হজরত হোসাইনকে (রা.) অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ফোরাত নদীতে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। হজরত হোসাইন (রা.)-এর শিবিরে পানির হাহাকার শুরু হয়। তিনি ইয়াজিদ বাহিনীর উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, ‘আমি যুদ্ধ করতে আসিনি, এমনকি ক্ষমতা দখল আমার উদ্দেশ্য নয়। খিলাফতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার আমার কাম্য। ’
ইয়াজিদ বাহিনী ১০ মুহাররম তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ অসম যুদ্ধে একমাত্র ছেলে হজরত জায়নুল আবেদিন (রহ.) ছাড়া ৭০ থেকে ৭২ জন শহীদ হন। হজরত হোসাইন (রা.) মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যান। অবশেষে তিনি শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। হজরত হোসাইন (রা.)-এর ছিন্ন মস্তক বর্শা ফলকে বিদ্ধ করে দামেস্কে পাঠানো হয়। ইয়াজিদ ভীত ও শঙ্কিত হয়ে ছিন্ন মস্তক প্রত্যর্পণ করলে কারবালা প্রান্তরে তাকে কবরস্থ করা হয়।
ইতিহাস সাক্ষী, হজরত হোসাইন (রা.)-কে কারবালা প্রান্তরে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে করুণ পন্থায় তাদের প্রত্যেকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। (সূত্র: কারবালার ইতিহাস, আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)। )
প্রসঙ্গত মনে রাখা জরুরি, আশুরা মানেই শুধু কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা নয়। আশুরার ঐতিহ্য আবহমানকাল থেকেই চলে আসছে। সুপ্রাচীনকাল থেকে আশুরার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, ইসলামের আবির্ভাবেরও বহু আগ থেকে।
আল্লাহ তায়ালা হজরত হোসাইন (রা.), তার পরিবার ও বন্ধুজনদের জান্নাতে চির উচ্চ মর্যাদায় আসীন করুন। আমাদের হোসাইন (রা.)-এর মতো সত্য-ন্যায়ের পথ অবলম্বনের তাওফিক দান করুন।
নবী (সা.) বলেছেন, 'কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পড়ে।' তিরমিজি
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Bogura
5600