Khadija Raji Madrasha and Orphanage

Khadija Raji Madrasha and Orphanage

Share

Religious Organisation

Photos from Khadija Raji Madrasha and Orphanage's post 08/01/2026

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
আলহামদুলিল্লাহ।
খাদিজা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্রীদের জন্য কার্পেট ক্রয়ের উদ্দেশ্যে আপনাদের নিকট সহযোগিতা কামনা করা হয়েছিল। মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত এবং আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতায় মোট ১৯,৫০০ (উনিশ হাজার পাঁচশত) টাকার কার্পেট সফলভাবে ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে।আলহামদুলিল্লাহ
এ মহৎ কাজে যাঁরা দান করেছেন, শেয়ার ও দোয়ার মাধ্যমে পাশে ছিলেন সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

মহান আল্লাহ তাআলা আপনাদের দান কবুল করুন, আপনাদের মাল ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত দান করুন এবং এটিকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গ্রহণ করুন আমিন।

খাদিজা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও দ্বীনি শিক্ষা ও এতিম শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আপনাদের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে।

বর্তমানে আমাদের আরও একটি কক্ষে কার্পেট ক্রয় বাকি রয়েছে। যারা এ মহৎ কাজে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক, তারা অনুগ্রহ করে দ্রুত নিচের বিকাশ নম্বরে সহযোগিতার অর্থ পাঠানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো
বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৭১৭৭২০৫২২
جزاكم الله خيرًا

Photos from Khadija Raji Madrasha and Orphanage's post 06/01/2026

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম,
খাদিজা (রাঃ) মহিলা মাদ্রাসা ও এতিমখানা একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে ভবিষ্যতের দ্বীনদার মা ও আলেমা গড়ে তোলার নিরলস চেষ্টা চলছে। আলহামদুলিল্লাহ।
এখানে কুরআন-হাদীস, আক্বিদা ও আমলের শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে।
বর্তমানে মাদ্রাসার নামাজ ও পাঠদানের কক্ষের জন্য ৭০ গজ কার্পেটের জরুরি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন, পরিচ্ছন্ন, আরামদায়ক ও সুন্দর পরিবেশে ইবাদত ও দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এটাই আমাদের একান্ত কামনা।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“যারা আল্লাহর পথে নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি শস্যদানা, যা থেকে সাতটি শীষ উৎপন্ন হয়; প্রতিটি শীষে থাকে একশত দানা। আল্লাহ যাকে চান তার জন্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেন।” (সূরা আল-বাকারা: ২৬১)
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
“মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল ছাড়া সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।”(সহিহ মুসলিম)
এই মাদ্রাসায় দান করা কার্পেট হবে সদকায়ে জারিয়া
ইনশাআল্লাহ, যতদিন এখানে নামাজ আদায় হবে, কুরআন তিলাওয়াত হবে, ইলম শিক্ষা দেওয়া হবে ততদিন আপনার আমলনামায় সওয়াব পৌঁছাতে থাকবে। প্রতিগজ কার্পেটের সম্ভাব্য মূল্য ৩০০ টাকা,

সহযোগিতা পাঠানোর জন্য যোগাযোগ:
বিকাশ পার্সোনাল, ০১৭১৭৭২০৫২২

পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরও এই নেক কাজে শরিক হওয়ার সুযোগ করে দিন।জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

30/10/2025

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত নারীগণ

মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই সাহাবী পুরুষদের জান্নাতের সুসংবাদের কথা জানেন, কিন্তু নারীদের মধ্যে এমন সাহাবিয়াও আছেন যাদেরকে নবী ﷺ সরাসরি জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাঁদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

১ খাদিজা বিনতে খুয়াইলদ (রাঃ)
রাসূল ﷺ–এর প্রথম স্ত্রী। ইসলামের প্রথম সমর্থক ও সাহসী চরিত্রের অধিকারী।
«اقرأ عليها السلام من ربها عز وجل ومني وبشرها ببيت في الجنة لا صخب فيه ولا نصب»
“আপনি খাদিজাকে তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানিয়ে দিন এবং তাঁকে জান্নাতে এমন এক গৃহের সুসংবাদ দিন, যেখানে থাকবে না কোনো শব্দের কোলাহল, থাকবে না কোনো কষ্ট।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3820), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2432)

২ ফাতিমা (রাঃ) রাসূল ﷺ–এর প্রিয় কন্যা। তাঁর ধৈর্য, ইবাদত ও আনুগত্য তাঁকে জান্নাতের সেরা নারীর মর্যাদা দিয়েছে।
«فاطمة سيدة نساء أهل الجنة»
“ফাতিমা হলো জান্নাতের নারীদের নেত্রী।” সহীহ তিরমিজী (হাদিস: 3805)

৩ উম্মু সুলাইম (রাঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ)–এর মা। মক্কার হিজরতকালে নবী ﷺ–কে নিজের সন্তান আনাসকে উপহার দেন।
«دخلت الجنة فسمعت خشفةً فقلت: من هذا؟ قالوا: هذه العمیصاء بنت ملحان أم أنس بن مالك»
“আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম, হঠাৎ কারো পদধ্বনি শুনতে পেলাম। জিজ্ঞেস করলাম, এটি কার? বলা হলো, উম্মু সুলাইম।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3750), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2420)

৪ উম্মু জাফর (রাঃ) তিনি মৃগীরোগে ভুগতেন। ধৈর্য ধারণের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ।
«أتصبرين ولك الجنة»
“তুমি যদি ধৈর্য ধারণ করো তবে তোমার জন্য জান্নাত।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 5683), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2400)

৫ উম্মু হারাম বিনতে মিলহান (রাঃ) আনাস ইবন মালিক (রাঃ)–এর খালা।
«أول جيش من أمتي يغزون البحر قد أوجبوا»
“আমার উম্মতের প্রথম বাহিনী যারা সমুদ্রপথে যুদ্ধ করবে, তাদের জন্য জান্নাত অবধারিত।” তিনি প্রশ্ন করেন: আমি কি তাদের মধ্যে থাকব? নবী ﷺ উত্তর দিলেন: “হ্যাঁ, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 2907)

৬ নুসাইবা বিনতে কা’ব (উম্মু উমারা, রাঃ) উহুদ যুদ্ধে সাহসিকতার পরিচয়।
«اللهم اجعلهم رفقائي في الجنة»
“হে আল্লাহ! তাঁদের জান্নাতে আমার সঙ্গী বানিয়ে দাও।” সহীহ মুসলিম (হাদিস: 1730)

৭ রুবাইয়্যি বিনতে মু’আজ (রাঃ)
হুদায়বিয়ার সময় শাজারা বায়আতে অংশ নেন।
«لا يدخل النار أحد ممن بايع تحت الشجرة»
“যারা গাছের নিচে বায়আত করেছে, তাদের কেউই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3197), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 1820)

৮ সুমাইয়া বিনতে খায়্যাত (রাঃ)
ইসলামের প্রথম শহীদা, ইয়াসির (রাঃ)–এর স্ত্রী।
«صبرا آل ياسر فإن موعدكم الجنة»
“ধৈর্য ধারণ করো হে ইয়াসির পরিবার! তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 2941), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 1812)

৯ আয়িশা (রাঃ) রাসূল ﷺ–এর স্ত্রী, বিদ্বান ও জ্ঞানী।
«هذه زوجتك في الدنيا والآخرة»
“এটাই আপনার স্ত্রী, দুনিয়া ও আখিরাতে।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3890), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2320)

১০ উম্মু রুমান (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)–এর স্ত্রী, আয়েশার মা।
«من أحب أن ينظر إلى امرأة من الحور العين فلينظر إلى أم رومان»
“যে ব্যক্তি জান্নাতের হুরে-আইনদের একজনকে দেখতে চায়, সে যেন উম্মু রুমানের দিকে তাকায়।” সহীহ তিরমিজী (হাদিস: 3898)

১১. ফাতিমা বিনতে আসাদ (রাঃ)
আলী ইবন আবি তালিব (রাঃ)–এর মা। প্রথম দিককার মুহাজিরা।
«إن جبريل أخبرني عن ربي عز وجل أنها من أهل الجنة»
“জিবরাইল আমাকে জানিয়েছেন, তিনি জান্নাতের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3755), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2410)

১২ হাফসা বিনতে উমর (রাঃ) উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)–এর কন্যা, নবী ﷺ–এর স্ত্রী।
«إنها صوامة قوامة، وإنها زوجتك في الجنة»
“তাঁকে তালাক দেবেন না, তিনি সিয়াম ও কিয়ামের অভ্যাসকারী এবং জান্নাতে আপনার স্ত্রী।” সহীহ বুখারি (হাদিস: 3810), সহীহ মুসলিম (হাদিস: 2425)

রাসূল ﷺ চারজন মহীয়সী নারীর শ্রেষ্ঠত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন:

• খাদিজা (রাঃ)
• ফাতিমা (রাঃ)
• আসিয়া বিনতে মুজাহিম (ফিরআউনের স্ত্রী)
• মরিয়ম বিনতে ইমরান

আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁদের অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁদের সঙ্গী বানান। আমিন।

Photos from Khadija Raji Madrasha and Orphanage's post 14/10/2025

আসসালামু আলাইকুম

মহিলা মাদ্রাসার জন্য এক জন হাফেজা শিক্ষিকা প্রয়োজন।

📝মাদ্রাসার ধরণ

কওমি মহিলা মাদ্রাসা বর্তমানে হিফজ বিভাগ ও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কিতাব বিভাগ চালু আছে, ধারাবাহিকভাবে ক্লাস খোলা হবে ইনশাল্লাহ।

বেতন আলোচনা সাপেক্ষে (৫-১০)।

মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বাসস্থান ও তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা আছে।

লোকেশন : Khadija Raji Madrasha and Orphanage চোপীনগর, শাজাহানপুর, বগুড়া

যোগাযোগ ০১৯৩৫-৮৬৭৬৮৯

Photos from Khadija Raji Madrasha and Orphanage's post 17/09/2025

আসসালামু আলাইকুম

মহিলা মাদ্রাসার জন্য এক জন শিক্ষিকা প্রয়োজন।

📝মাদ্রাসার ধরণ

কওমি মহিলা মাদ্রাসা বর্তমানে হিফজ বিভাগ ও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কিতাব বিভাগ চালু আছে, ধারাবাহিকভাবে ক্লাস খোলা হবে ইনশাল্লাহ।

📚শিক্ষাগত যোগ্যতা 📚

দাওরায়ে হাদীস পাশ,

📝 শর্ত,

সালাফী মানহাজ এর হতে হবে।

বেতন আলোচনা সাপেক্ষে (৬-১০)।

মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বাসস্থান ও তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা আছে।

লোকেশন : Khadija Raji Madrasha and Orphanage চোপীনগর, শাজাহানপুর, বগুড়া

যোগাযোগ ০১৯৩৫-৮৬৭৬৮৯

16/09/2025

ফিতনার ঘনঘোর অন্ধকারে শেষ জামানার চিত্রপট।

উপস্থাপনা

যখন সত্য, মিথ্যার মুখোশে ঢাকা পড়ে, যখন আলোর পরিচয়ে অন্ধকার গাঢ় হয়, তখনই ফেতনার সময় আসে। শেষ জামানা—এ এক অস্থির ও বিক্ষুব্ধ সময়ের নাম। এমন এক সময়, যখন মানুষ দ্বীনের মূলনীতি ভুলে গিয়ে দুনিয়ার মোহে বিভোর থাকে, হক আর বাতিলের সীমারেখা মিলিয়ে যায়, আর নৈতিকতার মানদণ্ড চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়ে।

এই ঘনঘোর অন্ধকারের মধ্যে আলোর আশ্রয় খুঁজে পাওয়া যেন এক কঠিন সাধনার নাম। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ফেতনার ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আজ তার নিখুঁত প্রতিচ্ছবি যেন আমাদের চোখের সামনে প্রতিনিয়ত ফুটে উঠছে। প্রযুক্তির ছায়ায় ঢেকে যাচ্ছে ইমান, বিজ্ঞানের ছদ্মবেশে ধ্বংস হচ্ছে নৈতিকতা।

এই রচনায় আমরা সেই শেষ জামানার ভয়াল বাস্তবতা ও আমাদের করণীয়কে তুলে ধরার চেষ্টা করবো যাতে পাঠকের অন্তরে জাগে চিন্তা, সৃষ্টি হয় আত্মসমালোচনার উদ্দীপনা, এবং জাগ্রত হয় আল্লাহর পথে ফিরে আসার এক আন্তরিক আহ্বান।

ফিতনা শব্দটি فتن মূল বর্ণ থেকে এর অর্থ হলো বিশৃঙ্খলা, সংঘাত, পরীক্ষা বা প্রলোভন।
ভালোভাবে বললে এটি এমন একটি অবস্থাকে বোঝায় যেখানে সমাজে অরাজকতা, কলহ এবং বিপর্যয় সৃষ্টি হয়, বা যেখানে মানুষকে আল্লাহ্‌র পথ থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়। এর বিস্তৃত অর্থের মধ্যে রয়েছে গৃহযুদ্ধ, রাষ্ট্রদ্রোহ, অত্যাচার, নিপীড়ন এবং দলাদলি।

বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে কুরআন মাজিদে শব্দটির বেশ কয়েকটি অর্থ লক্ষ্য করা যায় সেগুলো আমরা ধারাবাহিক ভাবে জানবো ইনশাআল্লাহ।

কিছু মূল অর্থ:

১.বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা:

যখন সমাজে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ অবস্থার বিপরীত অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তখন তাকে ফিতনা বলা হয়।

دليل:
وَٱلْفِتْنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلْقَتْلِ
– البقرة: 191

২.পরীক্ষা ও যাচাইকরণ:

কুরআনে ফিতনার অর্থ হতে পারে পরীক্ষা বা যাচাইকরণ, যেমন আগুনে পুড়িয়ে সোনার মান যাচাই করা হয়।
دليل:
وَلَقَدْ فَتَنَّا ٱلَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ
– العنكبوت: 3

৩.প্রলোভন:

এটি এমন কিছুকেও বোঝায় যা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য প্রলুব্ধ করে, যেমন সম্পদ, সন্তান বা অন্য কোনো আকর্ষণীয় বিষয়।
دليل:
إِنَّمَآ أَمْوَٰلُكُمْ وَأَوْلَٰدُكُمْ فِتْنَةٌ
– التغابن: 15

৪.সংঘাত ও বিভেদ:

দলাদলি, মতবিরোধ, বিভক্তি এবং উম্মতের মধ্যে বিভাজনকেও ফিতনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
دليل:
وَلَا تَكُونُوا كَٱلَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَٱخْتَلَفُوا
– آل عمران: 105

৫.অত্যাচার ও নিপীড়ন:

মানবসমাজে ভয়ভীতি, অত্যাচার এবং অনাচারের মাধ্যমে বিপর্যয় সৃষ্টি করাকেও ফিতনা বলা হয়।

دليل:
إِنَّ ٱلَّذِينَ فَتَنُوا ٱلْمُؤْمِنِينَ وَٱلْمُؤْمِنَٰتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ
– البروج: 10

✍️শেষ জামানার চিত্রপট:এখানে আমরা কুরআন হাদীস থেকে দলিলের ভিত্তিতে শেষ জামানার ফিতনার চিত্রপট গুলো উল্লেখ করবো।

১. ‌‌ফিতনা হবে রাতের অন্ধকারের মত।

عن جابر رضى الله عنه قال ،قال رسول الله ﷺ:
«يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا، أَوْ يُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا، يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا»

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“মানুষ সকালে মুমিন থাকবে আর সন্ধ্যায় কাফির হয়ে যাবে, অথবা সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে আর সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামান্য লোভ-লালসার বিনিময়ে সে তার দ্বীন বিক্রি করে দেবে।”(সহীহ মুসলিম হাদীস নং১১৮)

এই হাদীস শেষ জামানায় ঈমানের স্থায়িত্ব কতটা দুর্বল হয়ে পড়বে, তার এক গভীর ভবিষ্যদ্বাণী। মানুষ মুহূর্তেই পথ পরিবর্তন করবে, ফিতনার ঢেউয়ে ঈমান হারাবে।

২. ইলমহীনতা ও জাহালতের প্রাদুর্ভাব

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بْنِ الْعَاصِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ:

"إِنَّ اللَّهَ لاَ يَقْبِضُ الْعِلْمَ انْتِزَاعًا يَنْتَزِعُهُ مِنَ الْعِبَادِ، وَلَكِنْ يَقْبِضُ الْعِلْمَ بِقَبْضِ الْعُلَمَاءِ، حَتَّى إِذَا لَمْ يُبْقِ عَالِمًا، اتَّخَذَ النَّاسُ رُؤُوسًا جُهَّالًا، فَسُئِلُوا فَأَفْتَوْا بِغَيْرِ عِلْمٍ، فَضَلُّوا وَأَضَلُّوا"

আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আমর ইবনে আল-‘আস ( রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনি: “আল্লাহ জ্ঞানকে সরাসরি মানুষদের হৃদয় থেকে তুলে নেন না; বরং তিনি জ্ঞানকে সুদক্ষ আলেমদের মৃত্যু দ্বারা সরান। যখন আর কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ জ্ঞানশূন্য ব্যক্তিদেরকে নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে; যখন তাদের থেকে জ্ঞান ছাড়া মতামত চাইবেন, তারা জ্ঞানহীনভাবে ফতওয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করবে।”
(বুখারী হাদীস নং ১০০)

আলেমগণের অনুপস্থিতিতে ফতোয়া দেবে অজ্ঞরা, পথ দেখাবে অন্ধরা। সমাজ হবে যেমন নাবিকবিহীন নৌকা—ডুবিই তার পরিণতি।

৩. দাজ্জালের ফিতনা সর্ববৃহৎ ধোঁকাবাজি

عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ:
"مَا بَيْنَ خَلْقِ آدَمَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ أَمْرٌ أَكْبَرُ مِنَ الدَّجَّالِ."

ক্বতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক কে বলতে শুনেছি। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“আদম (আঃ) সৃষ্টির পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে বড় কোনো ফিতনা ঘটবে না।”
সহীহ মুসলিম, كتاب الفتن وأشراط الساعة, হাদীস নং 2946

সে জান্নাত দেখাবে, কিন্তু তা হবে জাহান্নাম। তার কথা সত্য মনে হবে, কিন্তু সবই মিথ্যা—এই ফিতনা হবে আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর চরম আঘাত।

৪. ধর্মের নামে বিভ্রান্তির জোয়ার

আল্লাহ তায়ালা বলেন:
مِنَ ٱلَّذِينَ فَرَّقُوا۟ دِينَهُمْ وَكَانُوا۟ شِيَعًۭا ۖ كُلُّ حِزْبٍۭ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ
"তারা দ্বীনকে খণ্ড খণ্ড করে নিয়েছে এবং দলবদ্ধ হয়েছে তাদের প্রত্যেক দল তাদের যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত।
(সূরা রুম: ৩২)

নিজস্ব ব্যাখ্যা, দলীয় বিভাজন, মতবাদী প্রচার—এই বিভ্রান্তি দ্বীনের সরলতা ও ঐক্যকে চূর্ণ করবে।

৫. নারীর উন্মুক্ততা ও সমাজব্যবস্থার অবক্ষয়
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم
مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর কোনো ফিতনা রেখে যাচ্ছি না। ( সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং: 5096)

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: إِنَّ الدُّنْيَا حُلْوَةٌ خَضِرَةٌ، وَإِنَّ اللهَ مُسْتَخْلِفُكُمْ فِيهَا، فَيَنْظُرُ كَيْفَ تَعْمَلُونَ، فَاتَّقُوا الدُّنْيَا، وَاتَّقُوا النِّسَاءَ، فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النِّسَاءِ.

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
নিশ্চয়ই দুনিয়া মিষ্টি ও সবুজ (আকর্ষণীয়)। আল্লাহ তোমাদের এতে খলিফা বানাবেন, অতঃপর দেখবেন তোমরা কী কর। সুতরাং দুনিয়ার ব্যাপারে সাবধান হও এবং নারীদের ব্যাপারেও সাবধান হও। কারণ বনী ইসরাঈলের প্রথম ফিতনা নারীদের মাধ্যমেই হয়েছিল।(সহীহ মুসলিম)

শেষ জামানায় নারীর পর্দাহীনতা, সামাজিক অবাধ্যতা ও লজ্জার বিলুপ্তি এক মারাত্মক সামাজিক ফিতনায় রূপ নেবে।

৬. গীবত, মিথ্যা, ও অপবাদ—চরিত্রহীন সমাজের বাস্তবতা

আল্লাহ তায়া’লা বলেন
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱجۡتَنِبُواْ كَثِيرٗا مِّنَ ٱلظَّنِّ إِنَّ بَعۡضَ ٱلظَّنِّ إِثۡمٞۖ وَ لَا تَجَسَّسُواْ وَلَا يَغۡتَب بَّعۡضُكُم بَعۡضًاۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمۡ أَن يَأۡكُلَ لَحۡمَ أَخِيهِ مَيۡتٗا فَكَرِهۡتُمُوهُۚ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ تَوَّابٞ رَّحِيمٞ (12)

“হে ঈমানদারগণ! সন্দেহের অন্ধকারে ডুবে যেও না, কেননা অনেক সন্দেহই গুনাহ। একে অপরের গোপন ত্রুটি খুঁজে বেড়িও না, আর কেউ যেন অন্যের অগোচরে তার সম্মান নষ্ট না করে। বলো তো—তোমাদের কেউ কি কখনো চাইবে, নিজের মৃত ভাইয়ের মাংস ভক্ষণ করতে? তোমরা তো তা ঘৃণায় প্রত্যাখ্যান করবে! তবে আল্লাহকে ভয় করো—নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।”(সূরা হুজরাত: ১২)

শেষ জামানায় এই নিষেধাজ্ঞাকে ঠাট্টা করা হবে, মিথ্যা হবে বাহাদুরির পরিচয়, আর গীবত হবে বিনোদন।

৭. ধর্ম হবে নামসর্বস্ব, কুরআন থাকবে কণ্ঠে—হৃদয়ে নয়

হাদিসে এসেছে
عن عطاء بن يسار، قال: قال رسول الله ﷺ:

«سيأتي على أمتي زمان لا يبقى من الإسلام إلا اسمه، ولا من القرآن إلا رسمه، مساجدهم عامرة وهي خراب من الهدى، علماؤهم شرّ من تحت أديم السماء، من عندهم تخرج الفتنة وفيهم تعود».

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:“আমার উম্মতের উপর এক সময় আসবে— তখন ইসলামের শুধু নামটুকুই অবশিষ্ট থাকবে, আর কুরআনের শুধু অক্ষরগুলো থাকবে (অর্থ-হিদায়াত হারিয়ে যাবে)। তাদের মসজিদগুলো বাহ্যিকভাবে পূর্ণ থাকবে, অথচ হিদায়াত থেকে শূন্য থাকবে। তাদের আলেমরা আসমানের নিচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে। তাদের থেকেই ফিতনা উৎপন্ন হবে এবং তাদের কাছেই তা ফিরে আসবে।"(বায়হাকি হাদীস নং ১৭৬৩)

মসজিদ থাকবে, কিন্তু ইবাদতের প্রাণ থাকবে না; কুরআন পড়া হবে, কিন্তু তা জীবনে প্রতিফলিত হবে না।

৮. সৎ লোককে মিথ্যাবাদী বলা হবে এবং মিথ্যাবাদীকে সৎ বলা হবে

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস থেকে দলীল
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُول اللَّهِ ﷺ:
سَيَأْتِي عَلَى النَّاسِ سَنَوَاتٌ خَدَّاعَاتٌ، يُصَدَّقُ فِيهَا الْكَاذِبُ، وَيُكَذَّبُ فِيهَا الصَّادِقُ، وَيُؤْتَمَنُ فِيهَا الْخَائِنُ، وَيُخَوَّنُ فِيهَا الْأَمِينُ، وَيَنْطِقُ فِيهَا الرُّوَيْبِضَةُ»
قِيلَ: وَمَا الرُّوَيْبِضَةُ؟ قَالَ: «الرَّجُلُ التَّافِهُ يَتَكَلَّمُ فِي أَمْرِ الْعَامَّة

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“মানুষের উপর প্রতারণামূলক বছর আসবে; তখন মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী মনে করা হবে, আর সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী মনে করা হবে; বিশ্বাসঘাতককে বিশ্বস্ত গণ্য করা হবে, আর বিশ্বস্তকে বিশ্বাসঘাতক বলা হবে; এবং ‘রুয়াইবিদা’ কথা বলবে।”
সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “রুয়াইবিদা কী?”
তিনি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “অযোগ্য/তুচ্ছ মানুষ যে জনসাধারণের বিষয়ে কথা বলবে।” (সুনান ইবন মাজাহ হাদীস নং: 4036)
শাইখ আলবানী (رحمه الله) একে সহীহ বলেছেন (সহীহুল জামে‘, হাদীস নং: 3650)।

সমাজের মানদণ্ড থাকবে সম্পূর্ণ উল্টো পথে—সত্য হবে নিপীড়িত, আর মিথ্যা হবে নায়ক।

৯. বিশ্বায়নের ছদ্মবেশে মূল্যবোধের অবসান।
আল্লাহ তায়া’লা বলেন :

وَإِذَا أَرَدْنَا أَنْ نُهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا
(সুরা আল-ইসরা 17:16)

অর্থ: “আমি যখন কোনো জনপদকে ধ্বংস করতে চাই, তখন সেখানকার ভোগ-বিলাসীদেরকে শাসন করতে দিই, ফলে তারা সেখানে পাপাচারে লিপ্ত হয়; তখন সেই জনপদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, এবং আমি তাকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করি।”

মিথ্যাবাদী বিশ্বস্ত হবে, আর সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী বলা হবে। আজকের মিডিয়া ও প্রোপাগান্ডা-শাসিত বিশ্বায়নের ছায়ায় এ বাস্তবতা চোখে পড়ছে।

ইবন কাসীর (রহ.) (তাফসীর, সুরা আনআম 6:116 এর ব্যাখ্যায় বলেন:
“যদি তুমি দুনিয়ায় অধিকাংশ মানুষের অনুসরণ করো, তারা তোমাকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেবে। তারা বাহ্যিক চাকচিক্য আর দুনিয়ার লোভের পেছনে ধাবিত।”

সভ্যতা এগোবে, কিন্তু চরিত্র থাকবে পশ্চাতে—এক অন্ধ আধুনিকতার বাস্তবচিত্র।

১০ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ মেনে চলা কঠিন হয়ে যাবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ أَشَدُّ عَلَى النَّاسِ مِنَ الْجَمْرِ، فَتَمَسَّكُوا بِمَا بَقِيَ مِنْ سُنَّتِي

আবূ হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“শেষ জামানায় কিছু মানুষকে সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা জলন্ত আংগারের চেয়েও কঠিন হয়ে যাবে। তাই তোমরা আমার যে সুন্নাহ এখনও অবশিষ্ট আছে, তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।”

মুসনাদ আহমাদ হাদীস নং: ২২৮৯৬

১১. হত্যা বেড়ে যাবে।

عن ابى هريرة رضي الله عنه
قال رسول الله ﷺ
لا تَقُومُ السَّاعَةُ حتَّى يُكْثُرَ الهَرْجُ
قالوا: وما الهَرْجُ يا رَسُولَ اللَّهِ؟ قالَ: «القَتْلُ، القَتْلُ».

রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কিয়ামত আসবে না যতক্ষণ না হত্যা-খুন (হারাজ) বেড়ে যায়।”
সহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! হারাজ কী?”
তিনি বললেনঃ “হত্যা, হত্যা।”

সহীহ বুখারী (7062), সহীহ মুসলিম (2672)

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لاَ يَدْرِي الْقَاتِلُ فِي أَىِّ شَىْءٍ قَتَلَ وَلاَ
يَدْرِي الْمَقْتُولُ عَلَى أَىِّ شَىْءٍ قُتِلَ ‏"‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, মানুষের নিকট এমন এক সময় আসবে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে, কি অপরাধে সে হত্যা করেছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না যে, কি অপরাধে সে নিহত হয়েছে। (মুসলিম হাদীস নং ৭০৩৯)

১২. সালাফদের উপলব্ধি: একাকীত্ব কখনো কল্যাণকর। ইবনে মাসউদ রাঃ এর কথা থেকে বিষয়ি স্পষ্ট হয়

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَال
إِنَّمَا الْجَمَاعَةُ مَا وَافَقَ طَاعَةَ اللَّهِ، وَإِنْ كُنْتَ وَحْدَكَ. قِيلَ لَهُ: فَإِنَّ كَثِيرًا مِمَّنْ يَقُولُ النَّاسُ لَهُمْ الْجَمَاعَةُ؟ فَقَالَ: إِنَّهُ لَا طَاعَةَ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ. السنن الكبرى (৮/১৫৮)

ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেছেন:
“জামাআত হলো কেবল সেই যা আল্লাহর আনুগত্যের সাথে মিলে যায়, যদিও তুমি একাই হও।”
কেউ তাঁকে বলল: “কিন্তু অনেকে তো আছে যাদের মানুষ জামাআত বলে ডাকে?”
তিনি বললেন: “আল্লাহর অবাধ্যতায় কোনো আনুগত্য নেই।

যখন চারপাশে ফিতনার আগুন তখন নাজাতের স্বর্ণসূত্র

১. কুরআনের আলোতে পথ চলা

ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ

“এই কিতাব—এতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ।”(সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২)

যখন চারপাশে বিভ্রান্তি ছড়ায়, তখন কুরআনের প্রতিটি আয়াত হয় মুমিনের দিশারী। যার হৃদয় কুরআনের আলোয় উদ্ভাসিত, সে অন্ধকারে হারায় না।

২. সুন্নাহর ছায়ায় আত্মরক্ষা

عَنْ مَالِكٍ، أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ:
تَرَكْتُ فِيكُمْ أَمْرَيْنِ، لَنْ تَضِلُّوا مَا تَمَسَّكْتُمْ بِهِمَا: كِتَابَ اللَّهِ وَسُنَّةَ نَبِيِّهِ

মালিক (রহ.) থেকে বর্ণিত, তাঁকে পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি। যতদিন তোমরা তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।

মুআত্তা ইমাম মালিক ( হাদীস নং ১৫৯৪)

সুন্নাহ হলো সেই ছায়া, যা ফিতনার দাবানলে এক চিরশীতল আশ্রয়। তার পদাঙ্ক অনুসরণেই নিরাপদ ঈমানের পথ।

৩. নেক সঙ্গীর অনুসন্ধান

عَنۡ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ:
اَلرَّجُلُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلُ

আবূ হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“মানুষ তার অন্তরঙ্গ বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে দেখে নিক, কাকে সে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানাচ্ছে।”(সুনান আত-তিরমিজি, হাদীস: ২৩৭৮)

ইমাম তিরমিজি বলেছেন: হাদীসটি হাসান সহীহ।

ভালো সঙ্গী যেমন জান্নাতের পথে টেনে তোলে, তেমনি খারাপ সঙ্গী জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। শেষ জামানায় তাই সাথি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের পরিচয়।

৪. আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অবলম্বন

আল্লাহ বলেন:

قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا. وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
“নিশ্চয়ই সে সফলকাম হয়েছে, যে তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর সে ধ্বংস হয়েছে, যে তাকে কলুষিত করেছে।”
(সূরা আশ-শামস, ৯-১০)

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا • وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
“যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য বের হওয়ার পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দেন, যা সে ধারণাও করতে পারে না।”
— (সূরা আত-তালাক, ২-৩)

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
“সত্যিকারের মুজাহিদ হলো সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নফস (ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা) এর সাথে জিহাদ করে।”
(মুসনাদ আহমদ, হাদীস: ২৩৪৪৫)

আত্মশুদ্ধি ছাড়া প্রকৃত তাকওয়া অর্জিত হয় না।

তাকওয়া মানে শুধু বাহ্যিক আমল নয়, বরং অন্তরের ভয়, খাঁটি নিয়ত, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।

অন্তরের পবিত্রতাই বাহ্যিক আমলের সৌন্দর্য। যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাকেই আল্লাহ ফিতনা থেকে রক্ষা করেন।

৫. নির্জনে ইবাদতের আশ্রয় নেওয়া

عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ
لْعِبَادَةُ فِي الْهَرْجِ كَهِجْرَةٍ إِلَيَّ

মা‘কিল ইবনু ইয়াসার (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
“ফিতনা-ফ্যাসাদের সময় ইবাদত করা আমার নিকট হিজরতের সমতুল্য।”
(সহীহ মুসলিম হাদীস নং 2984)

যখন ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে, তখন একাকী থেকে আল্লাহর সাথে সংযোগ স্থাপন করা মুমিনের জন্য নিরাপত্তার চাদর হয়ে দাঁড়ায়।

সূরা আলে ইমরান আয়াত ১০১ এর শেষ অংশের আল্লাহ বলেন

وَمَن يَعْتَصِم بِٱللَّهِ فَقَدْ هُدِىَ إِلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ

“আর যে আল্লাহকে আঁকড়ে ধরে, সে অবশ্যই সরল পথে পরিচালিত হয়েছে।”

তাফসির ইবনে কাসিরে বলা হয়েছে

এখানে “يعتصم بالله” অর্থাৎ আল্লাহকে আঁকড়ে ধরা বলতে বোঝানো হয়েছে

আল্লাহর কিতাব (কুরআন) এবং রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ দৃঢ়ভাবে মেনে চলা।

ইবন কাসীর (রহ.) বলেন:

“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর প্রতি অনুগত হয়, সেগুলোকে আঁকড়ে ধরে এবং তার উপর দৃঢ় থাকে, সে-ই আসল হিদায়াতপ্রাপ্ত। এমন লোকই সরল পথের উপর রয়েছে।”

কখনো কখনো সমাজের বিপরীতধারায় চলাই প্রকৃত ঈমানদারির পরিচয়।

৬. বেশি বেশি দাজ্জাল থেকে আশ্রয় চাওয়া।

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের শিখিয়েছেন যে, তাশাহহুদ শেষে সালাম ফেরানোর আগে আল্লাহর কাছে চার জিনিস থেকে আশ্রয় চাইতে হবে:

اللهم إني أعوذ بك من عذاب القبر، ومن عذاب النار، ومن فتنة المحيا والممات، ومن شر فتنة المسيح الدجال
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কবরের আজাব থেকে, জাহান্নামের আজাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর পরীক্ষার ফিতনা থেকে এবং মসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।”
সাহিহ মুসলিম, হাদীস: 588

সূরা কাহফের আয়াত পাঠ করতে হবে।

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:

“من حفظ عشر آيات من أول سورة الكهف عصم من الدجال”
“যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জাল থেকে সুরক্ষিত থাকবে।”
সাহিহ মুসলিম, হাদীস: 809

আরেক রেওয়ায়েতে এসেছে: শেষ দশ আয়াত পড়ার কথাও বলা হয়েছে।

দাজ্জালের ফিতনা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা।

উপসংহার

শেষ জামানার ভয়াবহ দৃশ্যপট আমাদের সতর্ক করছে—যেখানে সত্য ও ন্যায়ের চেয়ে মিথ্যা ও প্রতারণা, নৈতিকতার চেয়ে দুনিয়ার মোহ ও লোভ প্রাধান্য পাবে। ফিতনা, বিভ্রান্তি ও অনৈতিকতা ছড়িয়ে পড়লেও আল্লাহর নির্দেশনা, কুরআনের আলো ও রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সুন্নাহ আমাদের নিরাপদ আশ্রয়।

এই সময়ে সঠিক পথে অটল থাকা, সত্যের সঙ্গে দৃঢ় থাকা, নেক সঙ্গী বেছে নেওয়া এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করাই আমাদের করণীয়।

শেষ জামানা হবে ঈমানের দুর্বলতা, জ্ঞানহীনতা, বিভ্রান্তি ও অনৈতিকতার সময়। দাজ্জালের ফিতনা, মিথ্যা বাহাদুরি, সামাজিক অবক্ষয়—সবই আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকবে। এ অন্ধকারেও সত্যের পথে অটল থাকা, সুন্নাহ অনুসরণ, আল্লাহর দিকে দৃঢ় ভাবে আঁকড়ে থাকা এগুলোই প্রকৃত বিজয়। ফিতনার মধ্যেও যারা আল্লাহর পথে অবিচল থাকবে, তাদের জন্য আলো ও হিদায়াতের পথ সুনিশ্চিত।

Photos from Khadija Raji Madrasha and Orphanage's post 24/09/2024

তোমরা আমাকে দ্বীনি শিক্ষাই শিক্ষিত মা দাও,, আমি তোমাদের আদর্শ মুসলিম জাতি দেব
---------------------------------------------------------
নেপোলিয়নের সেই জগদ্বিখ্যাত উক্তি আমাদের সবারই জানা 'তোমরা আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেব'। বর্তমান সমাজে শিক্ষিত লোকের অভাব নেই। কিন্তু যার ঝুলিতে যত বড় বড় ডিগ্রি, তার মনে স্রষ্টা সম্পর্কে তত বেশি সংশয়! তাই শুধু দুনিয়াবি শিক্ষাই শিক্ষিত মা কিরুপ জাতি উপহার দেয়ার সামর্থ্য রাখে, তা চক্ষুষ্মান ও বিবেকবান ব্যক্তি মাত্রই অনুমেয়।

আদর্শ নারী তথা দ্বীনদার মা ব্যতীত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ মুসলিম হিসেবে গড়ার প্রত্যাশা নিছক বোকামি বৈ কিছু নয়! তবে দুঃখের বিষয়, এই ধ্রুব সত্য জানার পরেও মুসলিম নারীদের দ্বীনি জ্ঞানার্জন ও আমল-আখলাকের উন্নয়নে, না নারীরা সচেতন না এই সমাজ। রোগাক্রান্ত মায়ের থেকে যেমন পেটের সন্তানও সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তেমনি সন্তানের মনস্তাত্ত্বিক জগতের ওপর মায়ের ধর্মীয় চিন্তা-ধারার প্রভাব সুদূরপ্রসারী।

একজন তাকওয়াশীল মা-ই পারেন তার সন্তানের অন্তরে আল্লাহ ভীতির বীজ বপন করতে। মা যখন নিজেই জান্নাত পিয়াসী হবেন, তখন তিনি অবশ্যই প্রাণপ্রিয় সন্তানদের সেই অনন্ত সুখের স্থায়ী বাসস্থান লাভের জন্য যাবতীয় সকল বিষয়েই শিক্ষা দিবেন। জাহান্নামের আগুন থেকে সন্তানদের বাঁচাতে সদা তৎপর থাকবেন। কিন্তু যে মা নিজেই দুনিয়ার ভোগ-বিলাসে মত্ত, পরকালীন জীবন সম্পর্কে উদাসীন! সেই মা তার সন্তানকে আখিরাতে মুক্তির পথ দেখাবেন কিভাবে??

সন্তানের উত্তম চরিত্র গঠনে ও সন্তানকে কল্যাণের পথে পরিচালনা করতে মায়ের ভূমিকা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা আর ব্যাখার অবকাশ রাখে না।দ্বীনদার মা মাত্রই তার সন্তানকে একজন আদর্শ মুসলিম বীর সৈনিক বেশে দেখতে আকাঙ্ক্ষী। হে বোন! একজন আদর্শ মুসলিম বীর সৈনিকের, আদর্শ মা হওয়ার যোগ্যতা আমরা কি আদৌ অর্জন করতে পেরেছি??

হে মুসলিম নারী সমাজ, জাগো! নতুন প্রজন্ম বিনির্মানে জেগে উঠো! রঙিন দুনিয়ার ধোঁকায় পড়ে আখিরাত বিস্মৃত এই ডুবন্ত মুসলিম সমাজকে বাঁচাতে জাগ্রত হও। জাগরণের জাগ্রত জোয়ারে আঁছড়ে পড়ুক মুসলিম নারী জাগরণের শত ঢেউ।
'তব জাগরণে যদি জেগে ওঠে মুসলিম ফেরী,, তবে কেন এতো দেরি,, হে নারী'!

রাবেয়া সুলতানা
শিক্ষিকা(ইংরেজি)
অত্র মাদ্রাসা

10/04/2023

ফিতরার পরিমাণ, ফিতরা দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে একাধিক আলেমের মতামত।
শেষ পর্যন্ত শুনলে বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

09/04/2023

আলহামদুলিল্লাহ বাংলাদেশের গর্ব হাফেজ সালেহ আহমাদ তাকরিম দুবাই ২০২৩ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।

Photos from Khadija Raji Madrasha and Orphanage's post 09/04/2023

19/2/2022
দান, সদকা। part 1.

দান-খয়রাত ও সদকা-জাকাত ইসলামে বিধিবদ্ধ ইবাদত।
মহাগ্রন্থ আল–কোরআনে দানের কথাটি সালাত বা নামাজের মতোই বিরাশিবার উল্লেখ হয়েছে। ‘জাকাত’ শব্দটি পবিত্র কোরআনে আছে বত্রিশবার, নামাজের সঙ্গে কোরআন মাজিদে আছে ছাব্বিশবার; স্বতন্ত্রভাবে কোরআন কারিমে আছে চারবার; পবিত্রতা অর্থে রয়েছে দুবার। জাকাত কখনো ‘সদাকাহ’ এবং কখনো ‘ইনফাক’ শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইনফাক শব্দটি ব্যাপক, সদাকাহ শব্দটি সাধারণ ও জাকাত শব্দটি বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কখনো কখনো এর ব্যতিক্রমও হয়েছে, অর্থাৎ এ তিনটি শব্দ একে অন্যের স্থলে ব্যবহার হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল ইবাদত সব থেকে বেশি পছন্দ করতেন তার মধ্যে দান অন্যতম।
আল্লাহর রাসুলের দান-সদকার প্রতি কতটা আগ্রহ ছিল, তাঁর একটি হাদিস দ্বারা এর কিঞ্চিৎ ধারণা পাওয়া যায়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, আমার কাছে যদি উহুদ পাহাড়ের সমান সোনা থাকত, তাহলেও আমার পছন্দ নয় যে তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তার কিছু অংশ আমার কাছে থাকুক। তবে এতটুকু পরিমাণ ছাড়া, যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে দিই। (বুখারি, হাদিস : ২৩৮৯)

অনেকের ধারণা হতে পারে, এটা হয়তো রাসুল (সা.) মানুষকে সদকার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য বলেছেন; কিন্তু না, রাসুল (সা.) বাস্তবেই এমন মনোভাব পোষণ করতেন। এবং মুষ্টিভর্তি সোনার অলংকার দান করে দেওয়ার নজির তাঁর জীবনে আছে। রুবাইয়্যি বিনতে মুআওভভিজ ইবনে আফরা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমি এক পাত্র খেজুর এবং কিছু হালকা-পাতলা শসা নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে এক মুষ্ঠি অলংকার ও স্বর্ণ দান করেন। (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস : ২৭৩)

প্রিয় পাঠক,
আসুন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দানের চিত্র দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের দানের হাত কে প্রসারিত করি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য দ্বীনি কাজে অংশ গ্রহণ করি।

নিম্নের ঠিকানা অনুযায়ী আপনি আপনার অর্থ প্রেরণ করুন।
অর্থ প্রেরণের ঠিকানা।
রূপালী ব্যাংক
একাউন্ট নাম্বার 4200010012488

Want your school to be the top-listed School/college in Bogura?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address

Vill: Chopinagar, Post: Kamarpara, Thana, :Sajahanpur, Zilla;:Bogura
Bogura
5801