25/08/2026
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আল-আহযাব)
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও মানবকল্যাণে তাঁর জীবন অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার শিক্ষা তিনি তাঁর কর্ম ও আচরণের মাধ্যমে রেখে গেছেন। তাই পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সকলের কাছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, আদর্শ ও শিক্ষাকে স্মরণ করার এক তাৎপর্যপূর্ণ উপলক্ষ। ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা নগরীতে ১২ রবিউল আউয়াল, আমুল ফিল-এ জন্মগ্রহণ করেন। ‘মিলাদুন্নবী’ বলতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস, তাঁর জীবন, তাঁর মহান চরিত্র, বাণী, শিক্ষা ও আদর্শ স্মরণ করাকে বোঝানো হয়।
হিজরি সনের ১২ রবিউল আউয়াল নবীজি (সা.) জন্ম ও ওফাত দিবসকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিকভাবে মিলাদ আয়োজনের প্রচলন ইসলামের প্রাথমিক যুগে ছিল না। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মুসলিম সমাজে এর বিভিন্ন রীতি গড়ে ওঠে। ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে আনুষ্ঠানিকভাবে মিলাদ আয়োজনের প্রসার ঘটে। বিশেষ করে ইরাকের ইরবিলের শাসক মুজাফফর উদ্দিন কোকবুরি এর সময়ে বৃহৎ পরিসরে মিলাদ আয়োজনের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ স্মরণে মিলাদ মাহফিল, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ পাঠ ও সালাম প্রদান, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের প্রচলন বিস্তৃত হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর জীবন, চরিত্র ও শিক্ষাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়।
মহানবী (সা.) মানবজাতির জন্য যে শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায় ও সহমর্মিতার শিক্ষা রেখে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে সৌহার্দ্য, মানবিকতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় আমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারি। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) তাই হোক আত্মশুদ্ধি, নবীপ্রেম এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের নতুন অঙ্গীকারের দিন।