17/05/2025
প্রতিটি বৃহস্পতিবার আমাদের মাদরাসায় চলে কিছু ব্যতিক্রমধর্মী ক্লাস—শরীরচর্চা, আরবি, ইংরেজি স্পোকেন, অংকন, নাশিদ প্রশিক্ষণ, তর্কবিতর্ক প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এসব পাঠ্যক্রমে শুধু মস্তিষ্ক নয়, হৃদয়ও গঠিত হয়; কেবল জ্ঞান নয়, জন্ম নেয় উপলব্ধি।
গত সপ্তাহে অংকনের ক্লাসে বললাম, “ইচ্ছেমতো ছবি আঁকো সবাই।”
শিশুদের কাঁচা হাতে উঠে এল তাদের হৃদয়ের প্রতিচ্ছবি।
একজন এঁকেছে প্রিয় কাবা শরীফ—সাধনার কেন্দ্রবিন্দু, মুমিনের চিরমুগ্ধ প্রেরণা।
আরেকজন এঁকেছে পবিত্র ফিলিস্তিনের পতাকা, পাশে আঁকার চেষ্টা করেছে মসজিদুল আকসার অবয়ব—যেখানে গাঁথা উম্মাহর রক্তঝরা ইতিহাস, বেদনা আর গৌরব।
ভাবতে অবাক লাগে, এদের আগে কখনো এসব আঁকতে বলা হয়নি। এখনো ওরা একেবারে প্রাথমিক স্তরে। আঁকাআঁকির বর্ণমালাই যাদের ঠিকমতো শেখানো হয়নি, তারাই হৃদয়ের ভাষায় এমন কিছু একে ফেলেছে।
এই দৃশ্য দেখে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়—
এই শিশুদের হৃদয় ফাঁকা নয়।
ওদের ভেতরে বীজ বোনা হয়েছে ভালোবাসার, ঈমানের, এক উম্মাহর চেতনার।
এরা কখনো নাস্তিক হবে না, ইনশাআল্লাহ!
এই সন্তানরা কোনোদিন ধর্মবিদ্বেষী হবে না।
কারণ এরা শুধু শেখে না, উপলব্ধি করে।
শুধু দেখে না, অনুভব করে।
শুধু আঁকে না, হৃদয় দিয়ে ফুটিয়ে তোলে বিশ্বাসের রঙ।
-মুহা. নাসরুল্লাহ নাফিস
সিনিয়র শিক্ষক,
মর্ত্তুজাপুর তারবিয়াতুল মিল্লাত ক্যাডেট মাদরাসা।