02/01/2026
শুভ জন্মদিন জনতার রায় সাহেব---
চট্টগ্রামের শিক্ষা বিস্তারে কামিনী কুমার ঘোষের অবদান চির স্মরণীয়। একাধারে তিনি ছিলেন একজন বাঙালি সমাজসেবক, শিক্ষাবিদ এবং ব্রিটিশ বি/রো/ধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় নেতা। অনেকের মতে তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের আন্দোলনের অন্যতম নায়ক।
সমাজসেবামূলক ও শিক্ষা প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্রিটিশ সরকার কামিনী কুমারকে রায় সাহেব খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি ২৮ বছর চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের সদস্য এবং সাত বছর সভাপতি ছিলেন। ১৬ বছর তিনি চট্টগ্রাম জেলা স্কুল বোর্ডের সদস্য, কাঞ্চনা ইউনিয়নের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, বেঞ্চ কোর্টের সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন।
কামিনীকুমার ঘোষ ১৮৮৮ সালের ১লা জানুয়ারি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯১২ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে আইন বিষয়ে বৃত্তিসহ উত্তীর্ণ হন। ১৯১৩ সালে কলকাতা থেকে ফিরে আসেন। তারপর তিনি তার চাচা বঙ্গচন্দ্র ঘোষের সাথে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। তিনি বিয়ে করেছিলেন বাশখালী উপজেলার পালেগ্রাম চৌধুরীবাড়ীর কন্যা শৈলবালাকে। তিনি ১১ সন্তানের পিতা ছিলেন।
১৯২১ সালে তিনি মহাত্মা গান্ধীর ভারত শাসন আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি আইন পেশা ছেড়ে দেন এবং আন্দোলনে সর্বাত্মক ভাবে জড়িয়ে যান।
১৯২২ সালে তিনি তৎকালীন কাঞ্চনা, ডলুকূল, আমিলাইষ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হন। এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেন। সাতকানিয়া-বাশঁখালী এডুকেশন সোসাইটি গঠন করে তিনি গ্রামে গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ১৯২৯ সালে সঙ্গীদের সহযোগীতায় তিনি স্থাপন করেছিলেন আমিলাইষ-কাঞ্চনা বঙ্গচন্দ্র ঘোষ ইনস্টিটিউট। এটি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতকানিয়া সরকারি কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন কামিনীকুমার। যা এখন চট্টগ্রামের একটি স্বনামধন্য সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২৪ই এপ্রিল শনিবার বেলা ১২টায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী দোহাজারী ক্যাম্প থেকে কাঞ্চনায় আ/ক্র/ম/ণ চালায়। হানাদার বাহিনী কামিনীকুমারের বাড়িতে আ/ক্র/ম/ণ করলে বাড়ীর লোকজন বৃদ্ধ কামিনীকুমারকে বাড়ীর শৌচাগারে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু কামিনীকুমার শৌচাগার থেকে বেড়িয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে এক রা*জাকার তাকে শনাক্ত করে এবং হানাদার বাহিনী গু*লি করে তাকে হ*ত্যা করে।
মহান মু*ক্তিযু*দ্ধের সময়ে চাইলে দেশত্যাগ করতে পারতেন। করেন নি। আপোষ করেন নি। নিজের দেশের স্বাধীনতার সাথে স্বার্থের ক্ষেত্রে বেছে নিলেন দেশকেই।
কামিনীকুমার ঘোষের জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি তাঁকে। এ দেশের ইতিহাসে তাঁর নাম আজীবন থাক স্মরণীয়!