07/04/2015
প্রত্যেকটা ভার্সিটিতেই বিভিন্নটাইপের স্টুডেন্ট থাকে ... এইটাইপগুলা একটা থেকে আরেকটাপুরাই আলাদা !!ক্লাসের লেকচার তোলারব্যাপারটাই ধরি ... এই ক্ষেত্রে ৫ধরণের স্টুডেন্ট থাকে....১) সিনসিয়ার প্রজাতির স্টুডেন্টঃসকাল ৮ টায় ক্লাস থাকলে এইপ্রজাতির স্টুডেন্টদের ৭:৪৫মিনিটে ক্লাসে দেখা যায় ...এরা প্রথম দিকের বেঞ্চগুলা দখলকরে থাকে ...এবং প্রতিটা সাবজেক্টের জন্য এরাআলাদা আলাদা খাতা কিনেনীল কালি, সবুজ কালি দিয়ে সুন্দরকরে করে এরা লেকচার তুলে !!২) প্রায় সিনসিয়ার প্রজাতিরস্টুডেন্টঃএই প্রজাতির স্টুডেন্টরা মাঝের বাএকটু পিছনের দিকের বেঞ্চে বসে ...এরা কিছুটা কিপটা প্রজাতিরস্টুডেন্ট ...সাবজেক্ট যতগুলাই থাকুক,এরা একটা মাত্র খাতা কিনে ...ঐটাই তার জাতীয় খাতা ...একখাতাতে ম্যাথ, হিসাব বিঙ্গান,ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, অর্থনীতিসবকিছুর লেকচার থাকে !!৩) পিছনের বেঞ্চের স্টুডেন্টঃএই স্টুডেন্টরা ক্লাসে আগে আসুককিংবা পরে আসুক, সবসময় পিছনেরবেঞ্চে গিয়ে বসে ...ক্লাসের কিছুটা সময় তারা ঘুমায়,কিছুটা সময়ঝিমায়, কিছুটা সময় গালে হাতদিয়ে বোর্ডের দিকে চোখ বড় বড়করে তাকায়ে থাকে, তারপর হতাশহয়ে মোবাইল গুতাগুতি করে !!৪) ধার চাওয়া স্টুডেন্টঃএই প্রজাতির স্টুডেন্টদের কোননির্দিষ্ট বসার জায়গা নাই,তবে নির্দিষ্ট একটা স্বভাব আছে ...সেটা হইল, ক্লাসে এসেইজিনিসপাতি ধারচাওয়া ... ক্লাস শুরু হইতে না হইতেইএরা ব্যস্ত হয়েআশেপাশে জিজ্ঞেস করে "দোস্ত,একটা পেইজ হবে ?? ... খাতাআনি নাই ভুলে !!" ...এরা আসলেখাতা কিনেই নাই,আনবে কেমনে !!একটু পর এরা আবার বলবেঃ "দোস্ত,একটা কলম দে তো !!" ... বেশিরভাগসময়েই এদেরকে কলমদেয়া হইলে সেইটা "সম্প্রদান কারক"এ দিয়ে দিতে হয় ...ফেরত পাওয়ার আশা করতে হয় না !!৫) বিছানা স্টুডেন্টঃএই প্রজাতির স্টুডেন্ট তাদেরপুরা ভার্সিটি লাইফই বিছানায়শুইয়া কাটায় ... ঘুম ঘুম গলায় ক্লাসেরবন্ধুকে ফোন দিয়েবলেঃ"হু, দোস্ত, আমাররর প্রক্সিটা একটুদিস, আমার শরীরটা নাম্যাজ ম্যাজকরতেসে রে ... ১০৪ ডিগ্রিসেলসিয়াসজ্বর !!" "কি কইলি ?? সেলসিয়াস ??১০৪ ??""হু !!""দোস্ত, তুই ঘুমা ... তোর মাথামুথাঠিক নাই রে !!"এরা আরামসে ঘুমায়ে যায় ... এদেরজীবনে কোন টেনশননাই !!পরীক্ষার ঠিক আগে এই সব প্রজাতিরস্টুডেন্টরা প্রথম প্রজাতির কাছেভীড়জমায় লেকচার ফটোকপির জন্য ..."মামা, আমার জন্যও এক কপিকরিস" - বলিয়া একপ্রজাতি আরামসে ঘুমাইয়া যায় !!এদের মাঝেও এককিপটা প্রজাতি বিদ্যমান থাকে ...এরা ডিজিটাল স্টুডেন্ট ...তারা ফটোকপিও করে না ...লেকচার খাতাটা হাতে পাইলেবলে, "দোস্ত !! একটু দাঁড়া !!" ... তারপরপকেটহইতে ইশমার্টফোন বাহির করিয়াঘ্যাচ ঘ্যাচ করিয়ালেকচার খাতারছবি তুলিয়া নিয়া যায় !! এই কিপটাপ্রজাতির বন্ধুথাকে "আইলসা প্রজাতি" ...এরা ছবি তুলার কষ্টটাও করে না ...ব্লু-টুথ বা শেয়ার-ইট অনকরিয়া বসিয়া থাকে !!... ... ...নানা প্রজাতির নানাস্বভাবের এইছেলেমেয়েগুলাই একসাথে মুখরিতকরে রাখে একেকটা ভার্সিটি ...ঘুমকাতুরে ছেলেটাকেই দেখা যায়সিনসিয়ার ছেলেটারসাথে বিকেলে একসাথে চায়েরকাপে চুমুক দিচ্ছে ... এইজায়গাটাতে কোন ভেদাভেদ নাই... গিটারের টুং টাং আওয়াজেযখন গান গাওয়া হয়, সবছেলেমেয়েগুলা গোলহয়েই বসে থাকে ... সেইখানে কোনলাস্ট আর ফার্স্ট বেঞ্চ নাই !!আমাদের জীবনের বেশিরভাগ সময়ইহয়তো স্কুল জীবনটাআমরা বেশি মিস করি ... কিন্তুট্রাস্ট মি, কলেজ বা ভার্সিটিজীবনটাও মিস করার মতই ...একটা সময়ে গিয়ে নিশ্চিতভাবেইপাওয়া যায় সেটা ... ভার্সিটিরজীবনটা আসলে অন্যরকম সুন্দর !!একেকটা জীবন আসলে একেক রকমসুন্দর ...সুন্দর আর অসুন্দর এর মাঝে তুলনা হয় ...কিন্তু সুন্দর আর সুন্দর এর মাঝে কখনোতুলনা হয় না !!"
copy by হিমুর আমি