29/08/2026
আমার আব্বার টুকরো স্মৃতিকথা
---‐---------------------------
আমার আব্বা অনেক কিছু লিখতে চাইতেন। কিন্তু নানা কারণে জীবনের শেষটায় আর পেরে ওঠেননি। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে গেছেন টুকরো টুকরো কিছু স্মৃতির খসড়া।
তখন উনি ভীষণ অসুস্থ, ঢাকায় বড় আপার বাসায় চিকিৎসাধীন। ঠিক সেই সময়ে 'ভেড়ামারা সমিতি'র একটা স্মরণিকা বা বইয়ে লেখার জন্য আব্বার লেখা চাওয়া হলো। অসুস্থতার কারণে উনার নিজে লেখার সেই শারীরিক ক্ষমতা আর ছিল না। কিন্তু কী এক অদ্ভুত আকুলতা কাজ করছিল তাঁর মনের ভেতর! প্রতিদিন আমার দুই ভাগিনাকে দিয়ে ভয়েস পাঠিয়ে আমাকে বলতেন লিখে নিতে। আমি মূল বক্তব্যটা ঠিক রেখে হুবহু তাঁর মুখের সুরেই লিখে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।
আজ সেই খসড়া থেকে কিছু অংশ তুলে দিলাম। যদি উনার লেখার ক্ষমতা থাকত, হয়তো আরও কত না-বলা গল্প কাগজের পাতায় ফুটিয়ে তুলতে পারতেন! আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধবোধগুলোর একটা হলো—আব্বার কথাগুলো লিখে রাখতে না পারা।
১. তেঁতুলিয়ার পথে প্রথম পদার্পণ
ফজরের আজানের পর আব্বা ডাকছেন— "ওগো ওঠো ওঠো। তোমার কাছে কে যেন এসেছে। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।"
এই ভোরে আমার কাছে কে আসবে? দরজা খুলে বাইরে গিয়ে দেখি একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। বুঝলাম অনেক দূর থেকে এসেছেন। চোখ দুটো বড় বড়, ফোলা; সারারাত না ঘুমানোর আর দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি স্পষ্ট লেগে আছে চোখে। উনার হাতে একটা চিঠি, আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন।
চিঠিতে লেখা—
"আমার যদি ভুল না হয় তুমি আবুল কাসেমের ভাই—রুহুল ইসলাম। পত্র পাওয়া মাত্রই বাহকের সাথে চলে আসো।"
চিঠিটা লিখেছেন তেঁতুলিয়া হাইস্কুলের হেডমাস্টার।
সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্তও দেরি করলাম না। আব্বা দেওয়া সাহস আর উৎসাহ সম্বল করে যাত্রা শুরু করলাম সুদূর তেঁতুলিয়ার পথে। সেই সাথে একজন হেডস্যারের ৩৮ বছরের দীর্ঘ পথচলা শুরু হলো। তখন আমার বয়স মাত্র একুশ!
২. হেডস্যার ও চায়ের দোকান
তেঁতুলিয়াতে কাজ বুঝে নিতে খুব একটা সমস্যা হয়নি, ভেড়ামারা স্কুলের অভিজ্ঞতা সেখানে দারুণ কাজে লেগেছিল। অল্প বয়স হলেও কখনো কোনো দ্বিধায় পড়তাম না। অনেকেই তাচ্ছিল্য করে বলতো, "আপনিই হেডস্যার? পারবেন তো?"
আমি হাসিমুখে বলতাম, "জ্বী, আমিই হেডস্যার। এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।"
যেখানে থাকতাম, সেখান থেকে একটু দূরেই একটা চায়ের দোকান। সারাদিন চা বিক্রি হয়—নোনতা বিস্কুট, মিষ্টি বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর। বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বি, দাড়ি-পাকা বুড়ো থেকে শুরু করে নানা বয়সের মানুষের আড্ডা বসত সেখানে। আমি মাঝে মাঝে চা খেতে যেতাম। কিন্তু আমাকে দেখলেই দোকানি গরম পানি দিয়ে কাপ ধোয়া শুরু করত, সবাই "হেডস্যার আসছে" বলে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে যেত, এমনকি কখনো চায়ের বিলও নিতে চাইত না। বাবার বয়সী মানুষদের কাছ থেকে এমন আচরণে আমি ভীষণ বিব্রতবোধ করতাম।
একদিন দোকানিকে ডেকে বললাম, "সম্ভব হলে আমার চা-টা ঘরে দিয়ে এসো।" এরপর থেকে দোকানে আমার ঘরেই চা পৌঁছে যেত, আর আমি কখনো চায়ের দোকানে যাইনি।
কয়েকদিন পর মাসিক বিল দিতে গেলে দোকানি হাতজোড় করে বলল, "স্যার, আপনার চা-এর বিল এলাকার মানুষ আগেই পরিশোধ করে দিয়েছে এবং বলে দিয়েছে—হেডস্যারের থেকে যেন একটা পয়সাও নেওয়া না হয়।"
৩. যোগ্যতার সম্মান
একদিন অফিসে বসে আছি, দপ্তরি একটা খাম দিয়ে গেল। সিরাজগঞ্জ হাইস্কুল থেকে হেডমাস্টার পদের ইন্টারভিউয়ের ডাক এসেছে। চিঠিটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম। তারপর একটা চিঠি লিখে পাঠালাম—
> "আপনারা যে পদে আমাকে ইন্টারভিউয়ের জন্য ডেকেছেন, আমি ঠিক সেই পদেই কর্মরত আছি। তাই একই পদে আবার ইন্টারভিউ দেওয়া আমার যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সেই সাথে যাতায়াতে সময় নষ্ট, অর্থ নষ্ট এবং শারীরিক পরিশ্রম। তাই হেডমাস্টার পদে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার খুব একটা আগ্রহ পাচ্ছি না।"
মাসখানেক পর আরেকটি চিঠি এল। তাতে লেখা—
"আমরা তোমার চিঠি পেয়েছি। আমাদের ইন্টারভিউ পর্ব আমরা শেষ করেছি এবং কাউকে চূড়ান্ত করতে পারিনি। তবে আমরা হেডমাস্টার পদে তোমাকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করছি। তোমার ইন্টারভিউ নেওয়ার আর কোনো প্রয়োজন নেই। যত দ্রুত সম্ভব আপনি সিরাজগঞ্জ হাইস্কুলে এসে যোগদান করো।"
চিঠিটা নিয়ে তেঁতুলিয়া স্কুল কমিটির কাছে গেলাম। তারা পরম মায়ায় বলল, "তোমাকে ছাড়তে আমাদের খুব খারাপ লাগবে। তাই বলে আমরা তো চাই না তোমার জীবনের বড় কোনো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাক। তেঁতুলিয়াকে ভুলেরো না।"
আমি তেঁতুলিয়াকে ভুলিনি। সেখানকার মানুষের কাছে আমি অন্তহীন সম্মান আর ভালোবাসা পেয়েছি। আমার খুব ইচ্ছে করে, জীবনের একদম শেষ সময়ে হলেও একবার তেঁতুলিয়া ঘুরে আসি, সেই স্কুলটাকে দেখে আসি। আমি জানি, আমার ছাত্ররা নিশ্চয়ই আমাকে দেখার একটা ব্যবস্থা করে দেবে।
৪. দপ্তরি বসন্ত ও আত্মমর্যাদার সম্পর্ক
হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে আছি। এক হাতে টিনের ট্রাঙ্ক, কাঁধে ব্যাগ। সামনেই সিরাজগঞ্জ হাইস্কুলের ঘর। আমাকে দেখে বয়োজ্যেষ্ঠ এক মানুষ এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনার পরিচয়?"
বললাম, "আমি এই স্কুলের নতুন হেডমাস্টার। আমার নাম মো. রুহুল ইসলাম।"
তিনি সম্মান জানিয়ে বললেন, "আসুন স্যার, আসুন। আপনার নাম কী? আমার নাম বসন্ত, আমি দপ্তরি।"
তিনি আমাকে স্কুলরুমে নিয়ে গেলেন। এভাবেই সিরাজগঞ্জে আমার নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
সম্পর্ক তৈরি হয় সম্মানের ভিত্তিতে, আর তা টিকে থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে। দপ্তরি বসন্ত বয়স্ক মানুষ, স্কুলের বহু পুরনো এক কর্মী। স্কুলের প্রতি তাঁর দরদ দেখলেই বোঝা যেত মাটির সাথে তাঁর নাড়ির টান কেমন। স্কুলের ভালো-মন্দ, ফাঁকফোকর—সবকিছু বসন্তের নখদর্পণে ছিল। স্কুল ছুটির পর মাঠে হাঁটতাম, আর স্কুল নিয়ে নানা কথা হতো।
একদিন ওর বেতনের কথা জিজ্ঞেস করলাম। জানাল, মাত্র বারো টাকা পায়!
কমিটিকে ডেকে একদিন বললাম, "উনার বেতনটা বাড়িতে দিয়ে আসবেন। অনেক পুরনো মানুষ, অসম্ভব সৎ। স্কুলের সব খবর রাখে, এত পরিশ্রম করে, দায়িত্ব পালন করে—স্কুলের প্রতি ওর বুকভরা দরদ আছে। ওর বেতন পঞ্চাশ টাকা করে দিন।"
কমিটি তো অবাক! তারা বলল, "স্যার, আপনার নিজের বেতনই তো একান্ন টাকা!"
আমি বলেছিলাম, "হোক! এই স্কুলে আমার চেয়েও বেশি বেতন পাওয়ার যোগ্যতা ওর আছে।" স্কুল কমিটি আমার কথা রেখেছিল।
বসন্তকে আমি মুরুব্বি হিসেবে, এবং স্কুলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে যেমন গভীর সম্মান করতাম, তেমনি সেও আমাকে হেডস্যার হিসেবে প্রাণের ভক্তি করত। এর মধ্যে কোনো খাদ ছিল না।
বসন্ত যেদিন মারা গেল, আমি আমার চেয়ারে বসে শিশুর মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলাম।
অভিভাবকত্ব, বন্ধুত্ব কিংবা নিখাদ বিশ্বস্ততা—আসলে সম্পর্কের আসল সংজ্ঞাটা কী?
৫. ভিক্ষুক ও আত্মমর্যাদার পাঠ
সপ্তাহে নির্দিষ্ট একটি দিনে এক ভিক্ষুক আসতেন আমার কাছে, আমি তাঁকে কিছু পয়সা দিতাম। একদিন দেখি তিনি এলেন না। আমি অপেক্ষা করলাম, কিন্তু এলেন না। পরদিন তাঁকে আসতে দেখে পকেট থেকে পয়সা বের করলাম।
কিন্তু ভিক্ষুক অবাক করে দিয়ে বললেন, "স্যার, আজ ভিক্ষা নিতে আসিনি। দাওয়াত দিতে এসেছি। স্কুলের সবাইকে দাওয়াত দিয়েছি।"
পরের দিন স্কুলের দপ্তরি আমাকে সেই ভিক্ষুকের বাড়িতে নিয়ে গেল। সেখানে গিয়ে তো আমার চোখ কপালে! টিনের পাকা বাড়ি, যা আমাদের নিজেদের বাড়ির চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর ও গোছানো।
পরের সপ্তাহে ভিক্ষুক আবার এলেন। আমি অবাক হয়ে বললাম, "তোমার অবস্থা তো এত ভালো, তবুও কেন ভিক্ষা করো?"
লোকটি নির্দ্বিধায় উত্তর দিল, "স্যার, ভিক্ষা আমাদের বংশগত পেশা। আর্থিক অবস্থা যতই ভালো হোক না কেন, এই পেশা আমরা ছাড়ব না।"
আমি তখন গম্ভীর হয়ে বললাম, "জেনে রাখো, আজ থেকে আমি তোমাকে আর কোনো ভিক্ষা দেব না।"
৬. ভেড়ামারার টানে ঘরে ফেরা
বাড়ি থেকে আব্বা চিঠি দিলেন। বারবার তাগাদা দিয়ে লিখলেন—"তুমি আর কোথাও চাকরি করবে না, সোজা ভেড়ামারায় ফিরে এসো এবং স্কুলের হাল ধর।" ভেড়ামারার মুরুব্বি ও প্রভাবশালী বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা আব্বাকে ধরেছিলেন তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য।
সিরাজগঞ্জ ছেড়ে আমি ভেড়ামারায় ফিরে এলাম। সঙ্গে নিয়ে এলাম বিশাল এক স্মৃতির ভাণ্ডার। প্রাণের একটা অংশ সেখানে সঁপে দিয়ে এসেছিলাম।
যোগদানের চিঠি হাতে পাওয়ার পর আব্বা বললেন, "যাও, বড় চাচার সাথে দেখা করে এসো। সবার আগে চিঠিটা তাঁকেই দেখাও।"
বড় চাচার কাছে গিয়ে চিঠিটা উনার হাতে দিয়ে বললাম, "বড় চাচা, আমি ভেড়ামারা ছেড়ে আর কোথাও যাচ্ছি না!"
বড় চাচা আবেগ আর ধরে রাখতে পারলেন না, সবাইকে ডেকে ডেকে বললেন, "তোমরা দেখছ? আমাদের ভেড়ামারা হাইস্কুলের নতুন হেডস্যার এসেছে!"
সেকথা শুনে 'ভিএম সাহেব' ছুটে এলেন নতুন হেডস্যারকে একনজর দেখতে। তিনি বড়চাচার ওখানে থাকতেন।আমাকে দেখে কিছুটা অবাকও হলেন। তিনি অন্য কাউকে ভেবে ছিলেন।
স্কুলের প্রথম দিন। হাফেজ সাহেব সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। আমি তাঁকে খুঁজলাম, পেলাম না। শুনলাম তিনি স্কুলের ছাত্রাবাসে শুয়ে আছেন। আমি গিয়ে বললাম, "হাফেজ সাহেব, উঠুন। আমাদের তো একসাথে কাজ করতে হবে, এভাবে শুয়ে থাকলে কি চলে?"
হাফেজ সাহেব কিছুক্ষণ চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন, তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালেন। সেই যে তিনি সেদিন উঠে দাঁড়ালেন, আমৃত্যু তিনি আমার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। দাপ্তরিক, সামাজিক বা ব্যক্তিগত—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই মানুষটি আমার ছায়া হয়ে ছিলেন। ঈদের নামাজের পর আমি আর কারো কাছে না গিয়ে সোজা তাঁর কাছে চলে যেতাম।
তিনি যেদিন মারা যান, সেই দিনটার কথা আজ ঠিকমতো মনে করতে পারি না। কেবল মনে আছে, সেদিন উনার কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। চারপাশের সবাই যখন আমার পাশে সান্ত্বনা নিতে দাঁড়িয়েছিল, আমি ছলছল চোখে কেবল একটি কথাই বারবার বলছিলাম—
"আমার জীবনে একটাই মাত্র বন্ধু ছিল, আজ সেও আমাকে চিরকালের মতো ছেড়ে চলে গেল!"
সম্পর্ক নিয়ে একটা কথা আগেই বলেছিলাম, আজও বলব—অভিভাবকত্ব, বন্ধুত্ব কিংবা বিশ্বস্ততা... সম্পর্কের মাপকাঠিতে আসলে এর সংজ্ঞাটা কী?
শেষ কথা
ভেড়ামারা পাইলট হাইস্কুলের সেই শেষ দিনটার কথা আজ আর আমার কলম দিয়ে বের করতে পারলাম না। শুধু এটুকু বলতে পারি—সেদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মনে মনে ভেবেছিলাম, "স্কুলটাকে পেছনে ফেলে আজ সত্যি সত্যি আমি শেষবারের মতো গেট পার হয়ে আসছি বটে, কিন্তু একজন হেডস্যার হিসেবে আমার এই যাত্রা চিরকাল চলমান থাকবে। খাতায়-কলমে হয়তো আমার কোনো দাপ্তরিক পদ থাকবে না, কিন্তু মনের গহীনে 'অলিখিত' হেডস্যার পদের আজীবন দায়িত্ব আমাকে পালন করে যেতে হবে।"
এটাই হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়তি, আর সাথে বুকভরা ভীষণ প্রাপ্তি!
---
এই লেখাটা আমি ভেড়ামারা সমিতির কাছে পাঠিয়েছিলাম। সম্ভবত তাদের পছন্দ হয়নি, তাই তারা লেখাটি ছাপেনি।
এই লেখাটার পেছনে আব্বার কী এক চরম ব্যাকুলতা কাজ করছিল! নইলে অত অসুস্থ শরীরেও ভয়েস পাঠিয়ে আমাকে নিজের মতো করে লিখে নিতে বলতেন না। একদিন খুব মলিন মুখে আব্বা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন—
"কী রে, ওরা কি আমার লেখাটা ছেপেছে?"
আমি অপরাধীর মতো বলেছিলাম—"আব্বা, আমি তো লেখাটা পাঠানোই হয়নি। আমার মনেই ছিল না..." :'(
এডমিন ক্রিয়েটর