24/01/2025
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থীরা (২৪-২৫) সময় এসে গেছে ভয়কে জয় করার, সময় এসে গেছে স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার। তুমিও পারবে এই বিশ্বাস টাকে বুকে ধারন করে এগিয়ে যাও দুর্বার গতিতে।
অনেক তো পড়াশোনা হলো! আর কতো? এবার তো কথা গুলো শুনে নাও। অনেক পড়েছো বই, দুই তিনবার করে রিভাইস করেছো কিন্তু এখন কথা হচ্ছে গত কয়েক মাস কত আনন্দ, উৎসব, বন্ধুদের আড্ডা, বিনোদন ত্যাগ করে শত নির্ঘুম রাত পার করে, রাত দিন কঠোর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে যা কিছু ইনপুট করেছো সেগুলো এক্সামে কীভাবে ভালো করে আউটপুট করবে তাই নিয়ে তোমাদের বড় ভাইয়া হিসেবে কয়েকটি কথা বলবো প্রত্যেকটি কথা তোমার জন্য মহা গুরুত্বপূর্ণ তাই কথা গুলো নোট করে নিবে।
আমার এই পোস্টটা তুমি যে সময়ই দেখো না কেন, এই কয়টা পয়েন্ট মাথায় খুব ভালো করে সেভ করে নাও।
১)এক্সামের আগের দিন কোনোভাবেই রাত জাগা যাবে না, যাবে না তো যাবেই না, কোন ভাবেই না❌
- যতোই পড়বা,শেষদিন মনে হবে অনেক পড়া বাকি,সারা রাত জাগলে বোধহয় সব শেষ হয়ে যাবে। আবার দেখবা যা পড়তেছো/পড়ে ফেলছো- সবই মনে হবে ভুলে যাচ্ছো।
যা কিছুই মনে হোক,রাত জাগবা না।বড় ভাই হিসাবে বলছি আমার এই এডভাইসটা অবশ্যই মেনে চলবা।
এবং অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শেষ রাতেই গুছিয়ে রাখবে যাতে পরের দিন খুব ভালো করে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই নির্বিঘ্নে পরীক্ষা হলে চলে যেতে পারো।
২)এক্সাম হলে দেরিতে পৌঁছাবা না❌
-এক্সাম হল বাসা থেকে যতো কাছেই হোক না কেন,তুমি ৯:১৫ এর মধ্যে এক্সাম হলে প্রেজেন্ট থাকবা।
দেরি করে পৌঁছালে তোমার টেনশন,নার্ভাসনেস আরো বাড়বে ফলে মাথায় যা ছিলো সব ভুলে যাবে।
রোল নাম্বার,রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার,পত্র- এগুলো বার বার চেক করবে এগুলো কোনোভাবেই ভুল করা যাবে না! কোনো সমস্যা হলে সাথে সাথে দায়িত্বরত টিচারকে জানাবে।
৩) আর কিছু স্টুডেন্টস আছে যারা পরীক্ষা হলে যাওয়ার সময় কিছু বই নোট হাতে করে নিয়ে যায়। এটা তুমি কখনই করবে না কারণ শেষ সময়ে যখন তুমি কিছু পড়তে যাবে এবং যখন দেখবে সেগুলো ভুলে যাচ্ছো তখন তোমার মনোবলে একদমই ভেঙে যাবে। তখন তোমার মনে হবে তুমি কিছুই পারবে না। এমনটার প্রভাব পুরো পরীক্ষা জুড়ে পড়বে তাই এইসব কাজ থেকে দূরে থাকো❌
৪. পরীক্ষার হলে ঢুকার আগে অবশ্যই এক বোতল ফ্রিজার করা পানি নিয়ে যাবে। এক্সাম শুরুর আগে অবশ্যই একটু পানি খেয়ে নিবে তবে বেশি খাওয়া যাবে না ফলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তোমার মূল্যবান সময় নষ্ট হতে পারে।
৫) কখনোই আগ বাড়িয়ে কারো সাথে কথা বলতে যাবে না। তোমার লেখা শেষ হলেই অন্যকে সাহায্য করতে পারবে কিন্তু তোমার লেখার সময় কখনোই নয়, মনে করবে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে পৃথিবীতে বন্ধু বলতে কোনো শব্দ নেই।❌
৬)এক্সাম হলে কোনো প্রশ্নের উত্তর বাদ দিয়ে আসবা না, সেটা পারো আর নাই পারো❌
৭)পরীক্ষার হলে প্রবেশ করা থেকে শুরু করে প্রশ্ন দেওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টা এতটাই ভয়ানক তখন তোমার কাছে মনে হবে পৃথিবীতে এর থেকে ভয়াবহ আর কিছু হতে পারে না তবে প্রশ্ন পাওয়ার সাথে সাথে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
-প্রশ্ন যেমনই আসুক,তুমি ঐ প্রশ্নের টপিক রিলেটেড ১/২ লাইন হলেও লিখে আসবা। ১ মার্কও বাদ দিয়ে আসবে না। কতো বড় করে আন্সার লিখে আসতেছো Doesn’t matter! তুমি সব প্রশ্নের উত্তর করে টিচারকে মার্ক দেওয়ার জায়গা রেখে আসতেছো কি না- সেটাই জরুরি।
খাতা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবা। তোমার হাতের লেখা যেমনই হোক- চেষ্টা করবা নির্দিষ্ট গ্যাপে প্রতিটা লাইন লেখার।
মনে রাখবা,সিকিউ খাতায় তোমার প্রেজেন্টেশন যতো সুন্দর হবে,ততো মার্ক বাড়বে। একজন টিচার কখনোই তোমার খাতা পড়ে দেখবে না কারণ তার কাছে এত সময় নেই। তাই তোমার কাজ হলো খাতার প্রেজেন্টেশন সুন্দর করা যাতে টিচার তোমার খাতা দেখেই জার্জ করতে পারে যে তুমি কোন ক্যাটাগরির স্টুডেন্ট।
পরীক্ষার হলে তোমার অনেক নার্ভাস লাগবে,অনেক টেনশন হবে-এটাই স্বাভাবিক। কারণ এটা এখনো পর্যন্ত তোমার লাইফের সবথেকে বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।এই পরীক্ষার রেজাল্ট ডিটারমাইন করবে তুমি নেক্সট কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে আর কোথায় পারবে না।
কিন্তু একটা বার ভাবো- আমরা চাইলেও আমরা আমাদের ভাগ্যটাকে কন্ট্রোল করতে পারিনা। আমরা শুধু পারি নিজেদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে। বাকিটা সৃষ্টিকর্তার কাছে।আমাদের জন্য যেটা বেস্ট,সেটা অলরেডি তিনি লিখে রেখেছেন ও আর একটা কথা মাথায় রাখবে তুমি যেটা চাইবে সেটা কখনোই পাবে না তবে তুমি যেটা করবে সেটা আজ না হয় কাল তোমার হবেই।
তাই এতো চিন্তা বাদ দিয়ে একটু ঠান্ডা মাথায় সবকিছু গুছিয়ে এক্সাম হলে যাবা। দেখবা কীভাবে কীভাবে যেন সবকিছু তোমার জন্য সহজ হয়ে যাচ্ছে!
তোমাদের জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া ও ভালোবাসা♥️
Tanjim Naeem
University of Chittagong