07/01/2022
⚠️⚠️TikTok
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে মানুষের অন্যতম সঙ্গী হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বর্তমান সময়ে তরুণ-তরুণীদের কাছে সবচেয়ে বেশি আলোচিত অ্যাপের নাম টিকটক (TikTok)। এর আক্ষরিক অর্থ "গলাকম্পন ছোট ভিডিও"। এটি স্মার্টফোনের অ্যাপ এবং ব্যাপক জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম। এই মাধ্যমের কন্টেন্টগুলো বিনোদনের জন্য, তাই ব্যবহারকারীরা ভরপুর বিনোদন পেয়ে থাকে এখান থেকে। বিনোদনের নামে এ যেন সামাজিক অবক্ষয়।
জনপ্রিয় এই মাধ্যমটি চালু হয়েছিল সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে। বিভিন্ন পেশার মানুষেরা তাদের দৈনন্দিন ব্যস্ততার ফাঁকে বিনোদনের জন্য টিকটকের ভিডিওগুলো দেখে থাকে। অল্প সময়ে বিনোদনের জন্য এটি সেরা অ্যাপ,তাই এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর সেই সাথে এসবের প্রতি আসক্তিও বাড়ছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের উপর পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
"টিকটক"-এর বহুল জনপ্রিয়তার মূল কারণ:-
•ভিডিওর আকার ছোট। ৩-৬০ সেকেন্ডের ভিডিও এখানে আপলোড করা হয়।
•অ্যাকাউন্ট খোলা এবং ব্যবহার করা সহজ।
•নতুন নতুন অনেক ফিচার & ফিল্টার সহজেই ব্যবহার করা যায়।
•লিপ সিঙ্ক করা যায়।
•অন্যের কন্ঠ ব্যবহার করে ভিডিও বানানো সম্ভব।
তরুণ প্রজন্মরা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দ্রুত জড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেট দুনিয়ার এই রঙিন তামাশায়। শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে টিকটকের অতল অন্ধকারে। কেউ ভিডিও করছে, আর একদল মানুষ সেসব একটার পর একটা দেখে আসক্তিতে ভুগছেন। ছোট ছোট ভিডিও আপলোড করে অনেকেই এখন রীতিমত তারকা। মিলিয়ন মিলিয়ন ভক্ত তাদের। জনপ্রিয় কোনো গানের সাথে ঠোঁট মেলানো, মুভির বিখ্যাত সংলাপ আওড়ানো, নাচ-গান, কমেডি ইত্যাদি ভিডিও প্রকাশ করা হয় এখানে। এমনকি ইসলামিক ওয়াজও বাদ যায়নি এসবের কবল থেকে।
অতিরিক্ত টিকটক অ্যাপ ব্যবহারের কারণে সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে। মানসিক ভারসাম্যহীনতা, বাস্তবতার প্রতি বিমুখতা, মনস্তাত্ত্বিক অবক্ষয় ও চারিত্রিক অবনতির মতো ভয়ানক জটিল মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে ব্যবহারকারীদের। শুধু তাই নয়; তাদের মধ্যে উগ্রতা, অশালীনতা, অশ্লীলতা, কল্পনাপ্রবণতার মতো বিভিন্ন জটিল রোগ তৈরি হয়েছে।
যারা ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিবেন তারা এরকম অসুস্থ হয়েই বড় হচ্ছেন। এই অসুস্থ গোষ্ঠী কিভাবে বাংলাদেশ বা গোটা বিশ্বের নেতৃত্ব দিবে?
টিকটকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য টিকটক বন্ধই একমাত্র সমাধান নয়; দরকার সচেতনতা বৃদ্ধি।
এখন তো টিকটকের মতোই আরেকটি নতুন এপস হচ্ছে লাইকি। লাইকি (likee) হলো ছোট ভিডিও নির্মান এবং শেয়ার করার প্ল্যাটফর্ম। এখানেও তারকাখ্যাতি লাভের আশায় এবং টাকার নেশায় বুদ হয়ে তরুণ-তরুণীরা মেতে উঠেছে ছোট ছোট ভিডিও তৈরিতে। লাইকিতে, প্রতি ৫০০ ভিউ= ১ ডায়মন্ড = ৪০ টাকা। এভাবে অনেকেই মাসে ৩০-৪০k টাকা আয় করছে। তাছাড়াও, স্টার বানানোর নাম করে দিনদিন নিকৃষ্ট সব কর্মকাণ্ড ঘটে চলেছে।
আর যারা শুধু অল্প বিনোদনের জন্য এই ছোট ছোট ভিডিওগুলো দেখেন, তারাও ধীরে ধীরে টিকটকের আসক্তিতে ভুগছেন। একটা ভিডিও থেকে অন্য একটিতে, সেটা থেকে অন্য একটিতে, এভাবেই মূলত তারা ভিডিওগুলো দেখছে; আর নিমিষেই ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট করেছে। টিকটকের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাচ্ছে। মূলত তাদের থেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছে টিকটকাররা। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনা বাদ দিয়ে টিকটক, লাইকির পেছনে সময় নষ্ট করেছে। এতে তাদের মন-মানসিকতার উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
এমতাবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়া হলে সুস্থ মস্তিষ্কের তরুণ প্রজন্মকে ফিরে পাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। সবথেকে বেশি জরুরি সমূলে উৎপাটন।