17/08/2026
#চরমোনাই_আলিয়া_মাদ্রাসা
চরমোনাই আলিয়া মাদ্রাসার স্বনামধন্য শিক্ষক মাওলানা সোলায়মান হোসাইন সাহেব সম্পর্কে অনেকেই জিজ্ঞাসা করেছেন, জানতে চেয়েছেন তাদের জন্য অত্র মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল সাহেবের ওয়াজাহাত নামা হুবহু তুলে ধরা হলোঃ
চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক হযরত মাওলানা সোলাইমান হোসাইন সাহেবের বিদায় নেয়া প্রসঙ্গে জরূরী অবগতি
হযরত মাওলানা সোলাইমান হোসাইন সাহেব চরমোনাই কামিল মাদরাসার একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ছাত্রবান্ধব শিক্ষক ছিলেন। তিনি এ মাদরাসা থেকে বিদায় নেয়ায় ছাত্র-শিক্ষকগণ দুনিয়ার চিরাচরিত নিয়মানুযায়ী অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছেন। কিন্তু তার বিদায়কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর কথা ছড়ানো হচ্ছে। এজন্য প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট করার তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুভব করায় এ লেখাটি দিতে হলো।
মূল বিষয় হলো, অনেক বছর পর্যন্ত শিক্ষিকা নিয়োগের আশংকা থাকায় এনটিআরসিএ কর্তৃক নিয়োগদানের উপযুক্ত পদগুলোতে শিক্ষকের চাহিদা অত্র মাদরাসা থেকে দেয়া হয়নি। ঐ সময়ে বেসরকারীভাবে শিক্ষক রেখে মাদরাসার প্রয়োজন পূরণ করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে শিক্ষিকা নিয়োগের আশংকা দূর হওয়ায় মাদরাসা থেকে চাহিদা দেয়া হয় এবং সরকারীভাবে এখানে ১২ জন শিক্ষক যোগদান করেন। ফলে মাদরাসায় বেসরকারী সকল শিক্ষক প্রয়োজন হচ্ছিলো না, কিছু কিছু শিক্ষক প্রয়োজন হচ্ছিলো। এজন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কিছু শিক্ষককে এক বছরের অগ্রীম বেতন দিয়ে তাদের কাছে বিনয়ের সাথে ওজর পেশ করে সসম্মানে বিদায়ের ব্যবস্থা করেন। হযরত পীর সাহেব হুজুর নিজেই ঐ সকল সম্মানিত শিক্ষকের কাছে নিজেদের ওজর পেশ করে তাদেরকে কষ্ট না পাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
হযরত মাওলানা সোলাইমান হোসাইন সাহেব ঐ সকল সম্মানিত শিক্ষকের মধ্যে অন্যতম। এ ক্ষেত্রে কারো প্রতি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বিন্দুমাত্র অবিচার করেননি। অতএব হযরত মাওলানা সোলাইমান হোসাইন সাহেব কোনো অবিচারে আক্রান্ত হয়ে এ মাদরাসা থেকে যাচ্ছেন না বরং স্বাভাবিকভাবেই যাচ্ছেন।
আমরা সরকারীভাবে যে সকল শিক্ষক পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ তারাও অনেক যোগ্য। ফলে হযরত মাওলানা সোলাইমান হোসাইন সাহেবের ক্লাস ও আবাসিকের যে সকল দায়িত্ব ছিলো তা উপযুক্ত শিক্ষকগণের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, তার দাখিল অষ্টম শ্রেণীর কুরআন মাজীদ ও ফিক্বহের ক্লাশ আমি নেয়ার সিদ্ধান্ত করেছি। ফলে তিনি বিদায় নেয়ার ক্ষতিটা রব্বুল আলামীন পূরণ করবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
অতএব চরমোনাই কামিল মাদরাসা নিয়ে কারোই কোনো হতাশার প্রয়োজন আছে বলে আমি মোটেই মনে করি না।
আমরা হযরত মাওলানা সোলাইমান হোসাইন সাহেবসহ সকল বিদায়ী শিক্ষকের দোজাহানের শান্তি ও সম্মান কামনা করছি।
একটি সহীহ দ্বীনী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বাস্তব তথ্য প্রচারের স্বার্থে এ পোস্টটি শেয়ার করার জন্য পাঠকবৃন্দকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
আরযগোজার
মাওলানা জাফর ইমাম
অধ্যক্ষ
চরমোনাই আহছানাবাদ রশীদিয়া কামিল মাদরাসা।