02/08/2024
https://youtu.be/VpCQTFnRJ2g?si=vHWyKIT-xXx7xUCt
কোনো নবী-রাসুল নারী ছিলেন না কেন? সকল নবী রাসুল পুরুষ ছিলেন। কিন্তু কেন?আজাহারী হুজুর কি বলেন?
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Southern Medical and Technology Institute, Education, Lotfor Rahman Sarok, Barishal.
02/08/2024
https://youtu.be/VpCQTFnRJ2g?si=vHWyKIT-xXx7xUCt
কোনো নবী-রাসুল নারী ছিলেন না কেন? সকল নবী রাসুল পুরুষ ছিলেন। কিন্তু কেন?আজাহারী হুজুর কি বলেন?
আচ্ছা, বিদায় হজের ভাষণ আমাদের পড়াশোনার ভেতর তেমন চর্চিত হয় কি? মানবসভ্যতার ইতিহাসে যেই ভাষণ বা বক্তৃতাগুলোর কালজয়ী বহুমাত্রিক তাৎপর্য রয়েছে, আমার মূল্যায়নে সেগুলোর ভেতর শীর্ষস্থানীয় একটা হলো বিদায় হজের ভাষণ। আমি কিন্তু শুধু রিলিজিয়াস পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বলছি না, হিউম্যান সিভিলাইজেশনের সামগ্রিক সবকিছুর বিবেচনাতেই কথাটা বলছি।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো বর্তমান জেনারেশনের বহু মানুষ হয়ত বিদায় হজের এই ভাষণের নামটাও জানে না, আবার স্রেফ নাম জানলেও, এই ভাষণের কনটেন্ট কী ছিল, সে সম্পর্কে হয়ত কোনদিনই জানার চেষ্টা করে না। সাধারণ মানুষের কথা বাদই দিলাম, মুখে মুখে ধর্ম চর্চা করা বহু তথাকথিত ধার্মিকেরাও এই ভাষণের শিক্ষা ধারণ করার
চেষ্টা ঠিকঠাক করে বলে মনে হয়না।
দশম হিজরিতে (৬৩২ খ্রিস্টাব্দ) রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রায় সোয়া লাখ সাহাবিকে সঙ্গে নিয়ে হজ পালন করেন। এই হজই ছিল নবীজি (সা.)-এর জীবনে পূর্ণাঙ্গ প্রথম হজ এবং এটাই ছিল তার জীবনের শেষ হজ। এর মাত্র দুই মাস কয়েকদিন পর ১২ রবিউল আউয়াল তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই কারণে এই হজ ইতিহাসে 'বিদায় হজ' নামে পরিচিত।
ওই বছর হজে রাসূল (সা.) সেখানে সমবেত প্রায় সোয়া লাখ সাহাবির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা বিদায় হজের ভাষণ নামে পরিচিত। এটি ছিল তাঁর জীবনের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক ভাষণ, যা তিনি দশম হিজরি সনের নবম জিলহজ আরাফার দিনে মসজিদে নামিরাতে ও জাবালে রহমতের ওপরে এবং পরদিন দশম জিলহজ ঈদ ও কোরবানির দিন মিনাতে প্রদান করেছিলেন।
রাসূল(সা.) ভাষণ শুরুই করেছিলেন এভাবে— “হে জনতা, আমার কথাগুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনো, আমি জানি না, এবারের পর তোমাদের সঙ্গে এই জায়গায় আর একত্র হতে পারব কিনা।”
এই বাক্যটি ভালোমতো বিশ্লেষণ করলেই বুঝবেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) অনেকটা ইঙ্গিত করেই দিয়েছিলেন যে তিনি হয়ত এরপর আর বেশিদিন বাঁচবেন না।
রাসূল(সা.) এর ইতিহাসপ্রসিদ্ধ ওই ভাষণ থেকে আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটা পয়েন্ট খুবই সংক্ষিপ্তকারে নিচে তুলে ধরছি—
১. হে মানবমণ্ডলী, স্মরণ রাখো,আল্লাহ এক,তাঁর কোনো শরিক নেই। মনে রেখো,একদিন তোমরা আল্লাহর নিকট হাজির হবে, সেদিন তোমাদের কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে।
২. কোনো অনারবের ওপর আরবের কিংবা কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের কোনই শ্রেষ্ঠত্ব নেই। ঠিক একইভাবে শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের এবং কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।
৩. জাহেলি যুগের সুদ রহিত করা হলো। এখন থেকে সকল ধরনের সুদ হারাম করা হলো।
৪. জাহেলি যুগের যত রক্তের দাবি, তা সব রহিত করা হলো। সর্বপ্রথম আমি রবিয়া ইবনে হারিস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের শিশুপুত্রের রক্তের দাবি রহিত করলাম।
৫. তোমাদের কারও কাছে যদি কোনো আমানত গচ্ছিত থাকে, তা তার প্রাপকের কাছে অবশ্যই পৌঁছে দেবে। কারও কাছে ঋণ থাকলে, সেই ঋণ অবশ্যই পূরণ করবে।
৬. স্ত্রীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা আল্লাহর আমানতস্বরূপ তোমরা তাদের গ্রহণ করেছ। নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের অধিকার রয়েছে
এবং তোমাদের ওপরও তাদের অধিকার আছে।
৭. নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক প্রাপকের জন্য তার অংশ (উত্তরাধিকার সম্পত্তি) নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সেগুলো আদায় কোরো। একজন মুসলিম অন্য একজন মুসলিমের ভাইস্বরূপ। কারো হক নষ্ট কোরো না, কারো প্রতি জুলুম কোরো না।
৮. তোমাদের অধীনস্থদের প্রতি খেয়াল রাখবে, তোমরা যা খাবে, তাদেরকেও তা-ই খাওয়াবে, তোমরা যা পরিধান করবে, তাদেরকেও তা-ই পরাবে।
৯. আমি তোমাদের কাছে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি,যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কিতাব আর অন্যটি হলো আমার সুন্নাহ।
১০. হে মানবজাতি, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। কেননা অতীতের অনেক জাতি এ বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়েছে। নিজের ধর্মকে অন্যদের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে না।
আরও কিছু কিছু ব্যাপারে আলোচনা ছিলো। আমি সংক্ষিপ্ত আকারে আমার দৃষ্টিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দশটা মেইন পয়েন্ট আলোচনায় তুলে ধরলাম।
রাসূল(সা.) এই আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন—
“ উপস্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হবে আমার এ কথাগুলো অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। হয়তো অনেক অনুপস্থিত লোক উপস্থিত এই শ্রোতাবৃন্দ অপেক্ষাও অধিক হেফাজতকারী হবে।”
একটু ভালোমতো লক্ষ্য করে দেখুন, শুধুমাত্র ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই যে এই ভাষণ গুরুত্ববহ ছিল, এমনটা নয়। বর্তমান পৃথিবীর আদর্শিক জায়গা থেকে হিউম্যান রা ই ট সের কথাই বলুন, সাম্যের কথা বলুন কিংবা পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতার কথাই বলুন— প্রতিটা সেক্টরকেই এই ভাষণ
কাভার করে। সামাজিক,অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক প্রতিটা পরিমণ্ডলেই তাই এই বিদায় হজের ভাষণের একটা ইউনিক ও চমকপ্রদ তাৎপর্য আছে। একটা পুরো হিউম্যান সিভিলাইজেশন কীভাবে স্মুথলি ফাংশন করতে পারে তার
পূর্ণাঙ্গ বেসিক এসেন্স এই ভাষণে অন্তর্নিহিত আছে।
বিদায় হজের ভাষণের যে মাল্টিডিসিপ্লিনারি তাৎপর্য আছে, সেটা কি সবাই ঠিকমতো অনুধাবন করে কিংবা ঠিকমতো জানার সুযোগ পায়? ইতিহাস এবং ধর্মীয় শিক্ষার বইতে তো বটেই, আমার মনে হয় এই ভাষণের কপি প্রিন্ট করে প্রতিটা মসজিদে টাঙিয়ে রাখা উচিত ছিল, অন্তত আমাদের এই বাংলাদেশের মত দেশে, যেখানে প্রতিটা সেক্টরেই ঘুষখোর, সুদখোর, ভণ্ড, প্রতারক,ধর্মব্যবসায়ী কিংবা বিদ্বেষী আর অন্যের হক মেরে খাওয়া লোকজন দিয়ে ঠাঁসা চারদিক!
Post: Saiyed Abdullah, a law graduate of Dhaka University
Dr. Asif Nazrul স্যারের টাইমলাইন থেকে।
09/06/2024
আল্লাহ তা'আলা যাকে অপছন্দ করেন তাকেও অঢেল ধন সম্পদ দান করেন। আর যাকে পছন্দ করেন তাকে দান করেন হিকমাহ।
যাকে হিকমাহ দান করা হয় তার ভিতরে থাকে সাকিনা। আরবি সাকিনা শব্দের অর্থ শান্ত, প্রশান্ত, ধীর, স্থির।
টেবিল ভর্তি খাবার অথচ প্রত্যেকটা খাবারে আপনি দোষ খুঁজে পাচ্ছেন, পেট ভরে খেতে পারছেন না। কেননা আপনাকে সম্পদ দান করা হয়েছে, হিকমাহ দেয়া হয়নি যে কারণে আপনার ভিতর সাকিনা নেই।
আপনাকে হিকমাহ দেয়া হয়েছে যে জন্যে আলু ভর্তা আর ডাল দিয়েও পরম প্রশান্তি নিয়ে পেট ভরে খেয়ে উঠে বলে উঠবেন আলহামদুলিল্লাহ।
উচ্চশিক্ষিতা সুন্দরী স্ত্রী পেয়েও আপনি তাকে নিয়ে সুখী নন, কারণ আপনাকে হিকমা দেয়া হয়নি।
টয়োটা এলিয়নে চড়েও আপনি সুখী নন, আপনার কেন পাজেরো নাই? এর কারণ আপনার মাঝে হিকমাহ নাই, সাকিনা উঠে গেছে। আপনি আপনার অবস্থানে সুখী নন।
আরবি হিকমা শব্দের অর্থ প্রজ্ঞা। যাকে আল্লাহ তা'আলা হিকমা দান করেন সে সর্ব অবস্থায় সন্তুষ্ট থাকে, শান্তিতে থাকে। এর অর্থ নিজেকে মানিয়ে চলা এবং তাতে সন্তুষ্ট থাকা।
রিজিক শব্দের অর্থ অনেক ব্যাপক।
■▪রিযিকেরর সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছেঃ টাকা, পয়সা, অর্থ এবং সম্পদ।
■▪রিযিক এর সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছেঃ শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতা।
■▪রিযিকের সর্বোত্তম স্তর হচ্ছেঃ পুণ্যবান স্ত্রী এবং পরিশুদ্ধ নেক সন্তান এবং
■▪রিযিক এর পরিপূর্ণ স্তর হচ্ছেঃ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি।
■■ রিযিক খুব গভীর একটি বিষয়, যদি আমরা তা বুঝতে পারি।
■■ আমি পুরো জীবনে কত টাকা আয় করবো সেটা লিখিত, কে আমার জীবনসঙ্গী হবে সেটা লিখিত, কবে কোথায় মারা যাবো সেটাও লিখিত এবং কতটা খাবার ও পানীয় গ্রহণ করবো তাও লিখিত বা নির্দিষ্ট।
■■ আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, আমি কতগুলো দানা বা ভাত দুনিয়াতে খেয়ে তারপর মারা যাবো সেটা লিখিত। একটি দানাও কম না এবং একটিও বেশি না।
■■ ধরুন এটা লিখিত যে আমি সারাজীবনে এক কোটি টাকা আয় করবো, এই সিদ্ধান্ত আল্লাহ্ তা'আলা নিয়েছেন।
■■ কিন্তু, আমি হালাল উপায়ে আয় করবো না হারাম উপায়ে আয় করবো সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার।
■■ যদি ধৈর্য ধারণ করি, আল্লাহ্ তা'আলার কাছে চাই, তাহলে হালাল উপায়ে ওই এক কোটি টাকা আয় করেই আমি মারা যাবো। আর হারাম উপায়ে হলেও ওই এক কোটিই... নাথিং মোর, নাথিং লেস!
■■ আমি যেই ফলটি আজকে টেকনাফ বসে খাচ্ছি, সেটা হয়ত ইতালি কিংবা থাইল্যান্ড থেকে ইমপোর্ট করা। ওই গাছে যখন মুকুল ধরেছে তখনই নির্ধারিত হয়েছে যে, সেটি আমার কাছে পৌঁছাবে। এর মধ্যে কত পাখি ওই ফলের উপর বসেছে, কত মানুষ এই ফলটি পাড়তে গেছে, দোকানে অনেকে এই ফলটি নেড়েচেড়ে রেখে গেছে, পছন্দ হয় নি বা কিনেনি। এই সব ঘটনার কারণ একটাই, ফলটি আমার রিযিকে লিখিত। যতক্ষণ না আমি কিনতে যাচ্ছি, ততক্ষণ সেটা ওখানেই থাকবে।
এর মধ্যে আমি মারা যেতে পারতাম, অন্য কোথাও চলে যেতে পারতাম, কিন্তু না! রিযিকে যেহেতু লিখিত আমি এই ফলটি না খেয়ে মারা যাবো না।
■■ রিযিক জিনিসটা এতোটাই শক্তিশালী!
■■ কিংবা যেই আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধব আমার বাসায় আসছে, সে আসলে আমার খাবার খাচ্ছে না। এটা তারই রিযিক, শুধুমাত্র আল্লাহ্ তা'ইলা আমার মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। হতে পারে এর মধ্যে আমাদের জন্য মঙ্গল রয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ!
■■ কেউ কারওটা খাচ্ছে না, যে যার রিযিকের ভাগই খাচ্ছেন।
■■ আমরা হালাল না হারাম উপায়ে খাচ্ছি, সেটা নির্ভর করছে আমি আল্লাহ্ তা'আলার উপর কতটুকু তাওয়াক্কাল আছি, কতটুকু ভরসা করে আছি। কেননা,
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
-------"দুনিয়ায় বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সব কিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা আছে।"
-----(সুরা হুদ : আয়াত ৬)
■■ আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেনঃ
-------"যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য কোনো না কোনো পথ বের করে দেবেন। আর তাকে (এমন উৎস থেকে) রিযিক দেবেন, যা সে ধারণাও করতে পারবে না।"
-----(সুরা ত্বালাক : আয়াত ২-৩)
■▪মহান আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের সঠিক পথ এবং হালাল ও প্রশস্ত কামাই রোজগার ও রিযিক এর ব্যবস্থা করে দিন এবং সকল প্রকার হারাম কামাই রোজগার ও রিযিক থেকে হিফাযত করুন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন, এবং হিফাযত করুন(আমীন)।
(সংগৃহীত)
07/05/2024
আলহামদুলিল্লাহ।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা,
সাদেকপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা। (আমার কর্মস্থল)
01/05/2024
একজন স্বামী তার স্ত্রীকে কখন পাগলের মত ভালোবাসে জানেন?
এক বৃদ্ধা মহিলার সাক্ষাৎকার। যিনি তাঁর স্বামীর সাথে সফলতার সাথে কাটিয়ে দিলেন দীর্ঘ পঞ্চাশটি বছর। তাদের জীবন শান্তিতে ভরপুর ছিল। ঝগড়া তো দুরের কথা, দাম্পত্য জীবনে কখনো কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়নি।
একজন সাংবাদিক এই বৃদ্ধার কাছে তার পঞ্চাশ বছরের স্থায়ী সফলতার রহস্যের ব্যপারে জানতে চাইলেন।
কী ছিল সে রহস্য? মজার মজার খাবার বানানো? দৈহিক সৌন্দর্য? বেশী সন্তান জন্ম দেয়া? নাকি অন্যকিছু?
বৃদ্ধা বললেন, দাম্পত্য জীবনের সুখ শান্তি প্রথমত আল্লাহর ইচ্ছা অতপর স্ত্রীর হাতেই। একজন স্ত্রী চাইলে তার ঘরটাকে জান্নাতের টুকরো বানাতে পারেন আবার চাইলে এটাকে জাহান্নামেও পরিনত করতে পারেন।
কীভাবে? অর্থ দিয়ে? তা তো হতে পারে না। কেননা অনেক অর্থশালী মহিলা আছেন, যাদের জীবনে দুঃখ দুর্দশার শেষ নেই, যাদের স্বামী তাদের কাছেই ভিড়তে চান না।
সন্তান জন্ম দান? না, তাও নয়। কারণ, অনেক মহিলা আছেন, যাদের অনেক সন্তান আছে, অথচ স্বামী পছন্দ করেননা। এমনকি এ অবস্থায় তালাক দেওয়ার নজিরও কম নয়।
ভালো খাবার বানানো? এটাও না, কারণ অনেক মহিলা আছেন, যারা রান্না বান্নায় বেশ দক্ষ, সারা দিন রান্না ঘরে কাজ করে, অথচ স্বামীর দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হন।
তার কথায় সাংবাদিক বিস্মিত হয়ে গেলেন। বললেন, তাহলে আসল রহস্যটা কী?
বৃদ্ধা বললেন, যখনই আমার স্বামী রেগে গিয়ে আমাকে বকাবকি করতেন, আমি অত্যন্ত সম্মান দেখিয়ে নিরবতা অবলম্বন করতাম এবং অনুতপ্ত হয়ে মাথা দুলিয়ে তার প্রতিটি কথায় সায় দিতাম।
সাবধান! বিদ্রুপের দৃষ্টিতে কখনো চুপ হয়ে থেকো না, কেননা পুরুষ মানুষ বিচক্ষণ হয়ে থাকে, এটা সহজেই বুঝতে পারে।
সাংবাদিক: ঐ সময় আপনি ঘর থেকে বের হয়ে যান না কেন?
বৃদ্ধা: সাবধান! সেটা কখনো করবেননা। তখন তিনি মনে করবেন, আপনি তাঁর কথায় বিরক্ত হয়ে পালাতে চাচ্ছেন। আপনার উচিত, চুপ থেকে ওর প্রতিটি কথায় হা সুচক সায় দেওয়া, যতক্ষণ না তিনি শান্ত হন।
অতপর আমি তাকে বলি, আপনার শেষ হয়েছে? এবার আমি যেতে পারি? তারপর আমি চলে যাই, আর আপন কাজে লেগে যাই। কারণ চিৎকার করে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তার বিশ্রাম প্রয়োজন।
সাংবাদিক: এরপর কি করেন? এক সপ্তাহ খানেক তার থেকে দূরে থাকেন, এবং কথা বলা বন্ধ রাখেন নিশ্চয়?
বৃদ্ধা: সাবধান! এধরনের বদভ্যাস থেকে দূরে থাকুন।
যা দুধারী তরবারির চেয়েও মারাত্মক। স্বামী যখন আপনার সাথে আপোষ করতে চান তখন যদি আপনি তার কাছে না যান, তখন তিনি একা থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। কখনো কখনো এ অবস্থা তাকে প্রচন্ড জিদের দিকে ঠেলে দেবে।
সাংবাদিক: তাহলে কি করবেন তখন?
বৃদ্ধা: দুই ঘন্টা পর এক গ্লাস দুধ বা এক কাপ গরম চা নিয়ে তার কাছে যাই, আর বলি, নিন, এগুলো খেয়ে নিন, আপনি খুব ক্লান্ত। এসময় তার সাথে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলি। তারপর তিনি বলেন, রাগ করেছো? আমি বলি, না।
তারপর, তার দূর্ব্যবহারে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্নেহ ও ভালোবাসার কথা বলেন।
সাংবাদিক: আপনি কি তার কথা তখন বিশ্বাস করেন?
বৃদ্ধা: অবশ্যই। কেন নয়? শান্ত থাকা অবস্থায় যা বলেন তা বিশ্বাস না করে, রাগান্বিত অবস্থায় যা বলেন তা বিশ্বাস করব?
সাংবাদিক: তাহলে আপনার ব্যক্তিত্ব?
বৃদ্ধা: আমার স্বামীর সন্তুষ্টিই আমার ব্যক্তিত্ব। আমাদের স্বচ্ছ সম্পর্কই আমাদের ব্যক্তিত্ব। আর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন ব্যক্তিত্ব থাকে না। যার সামনে তুমি পুরোপুরি ভাবে বস্ত্রমুক্ত হয়েছ, তার কাছে আবার কিসের ব্যক্তিত্ব?
"আমার স্মৃতিতে আমার মুর্শিদ;
হযরত কায়েদ ছাহেব হুজুর কেবলা রহ."
-অধ্যাপক আবু জাফর মুকুল
১৯৯৩ সালে আমি যখন বাকেরগঞ্জের কাকরধা কলেজে চাকরি নিলাম তখন কলেজের পাশাপাশি রোকোনুদ্দীন সিনিয়র মাদরাসায়ও পাঠদান করতাম। তৎকালীন ওখানকার সবচেয়ে প্রবীণ শিক্ষক, পরবর্তীতে লেখক ও গবেষক জনাব মাও: ইয়াকুব সাহেবের সাথে আমার চমৎকার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উনি একদিকে যেমন ছিলেন মহৎ ব্যক্তি, অপরদিকে ছিলেন প্রজ্ঞা ও পাণ্ডিত্যের অধিকারী। ইসলাম সম্পর্কে আমি উনার কাছে যত প্রশ্ন করেছি তার সবগুলোরই সদুত্তর পেয়েছি। যাই হোক, ঐ সময় পর্যন্ত আমি ধারণা করতাম- সত্য জ্ঞান দর্শনের মাধ্যমে মানুষ মহৎ হতে পারে। কিন্তু উনি আমার ধারণা পাল্টে দিয়ে বলেছিলেন, ‘শুধু সত্য জ্ঞান নয়, সত্য জ্ঞান এবং মহৎ জ্ঞান অনুযায়ী জীবন-যাপনকারী ব্যক্তির ছোহবাত এখতিয়ারের মাধ্যমে মহৎ মানুষ হওয়া যায়।’ এভাবে বিভিন্ন আলোচনার মাধ্যমে এক পর্যায়ে উনার কাছ থেকে হযরত কায়েদ ছাহেব হুজুরের নাম এবং হুজুরের বিভিন্ন গুণ সম্পর্কে অবগত হই। কেন জানি না, না দেখা হুজুর কেবলা আমার হৃদয়ে এমন আসন করে বসলেন যে, তাঁকে দেখার জন্য মাঝে-মাঝে মনটা অস্থির হয়ে উঠত এবং ভাবতাম, হায়! এমন সুন্দর মানুষ এই পৃথিবীতে এখনও আছে, অথচ হুজুরকে দেখার সৌভাগ্য আমার হল না! একটি প্রচলিত কথা আছে ‘মানুষ যা চায় তা পায় না’। সব সময় আমার কাছে এ কথাটি যথাযথ সত্য হিসেবেই বিবেচিত ছিল কিন্তু বর্তমানে তা নয়। আমি মনে করি, মানুষ যা চায় তার সবটুকু না পেলেও কিছু কিছু পায়। এ সত্যের পথ ধরে আমি একদিন ঠিকই কায়েদ ছাহেবকে পেয়ে গেলাম, শুধু পেয়েই গেলাম না তাঁর সান্নিধ্যে দীর্ঘ প্রায় পনেরো বছর কাটিয়ে দিলাম। এই পনেরো বছর আমার হৃদয়ে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
আমার জীবনে হুজুরের সান্নিধ্য পাওয়ার ইতিহাস আশ্চর্য ও অলৌকিক বলা চলে। কেননা, কোথায় কুষ্টিয়া, কোথায় কাকরধা আর কোথায় ঝালকাঠি। ১৯৯৪ সালে এক ঈদের ছুটিতে আমি কাকরধা থেকে লঞ্চে বরিশাল যাচ্ছিলাম। পথে নেছারাবাদ মাদ্রাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ কায়েদ ছাহেব হুজুরের মেঝ জামাতা জনাব মাও: আব্দুছ ছাদেক ছাহেবের সাথে পরিচয় হয়। উনি এক পর্যায়ে আমাকে বললেন, আপনার কথা অনেকের কাছে শুনেছি, আপনি ইচ্ছা করলে আমাদের মাদ্রাসায় আসতে পারেন, আমাদের বাংলা প্রফেসরের পদ শূন্য হয়েছে। কথাটি বলামাত্র আমি রাজি হয়ে গেলাম। এরপর নিয়োগ পরীক্ষা শেষে মাদ্রাসায় যোগদান করে আমার গন্তব্য কাকরধা চলে গেলাম। সেদিন অনেকক্ষণ ধরে হুজুরের পাশে বসে কথা বলেছিলাম। এরপর মাস চারেক পর সপরিবারে নেছারাবাদ চলে এলাম।
সে সময় মাদ্রাসার এরিয়া ছিল বর্তমান প্রধান গেটের পূর্ব থেকে পশ্চিমে খাল পর্যন্ত উত্তর এরিয়া। মেইন গেটের সোজা পূর্বে রাস্তার ওপর ছিল ব্রিজ। বর্তমান মেইন গেটটি একটি খালের ওপর। খালটি নদী থেকে বেরিয়ে সোজা মেইন গেট থেকে হাতখানেক পশ্চিমে এগিয়ে আবার উত্তরে হাত খানেক ঘুরে আবার সোজা পশ্চিমের খালের সাথে মিশে গিয়েছিল। তখন বোর্ডিং ছিল বর্তমান মসজিদের উত্তরের অর্ধাংশের ওপর একটি টিনের দোতলা ঘর। হুজুরের থাকার জায়গা ও খানকা একই রুমে ছিল একটি ওয়াল করা টিনের ঘরের মধ্যে। রুমটির অবস্থান ছিল হুজুরের মাযারের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে। মাদ্রাসার অবস্থান বর্তমান মসজিদের দক্ষিণের তিন তলা বিল্ডিং এর দোতলা পর্যন্ত। অবশ্য বিল্ডিং এর দক্ষিণ কোণ থেকে সোজা পূর্বে রাস্তা পর্যন্তও একটি টিনের ঘর ছিল, কিন্তু ঘরটি ছিল অত্যন্ত নাজুক। তখন সকল ক্লাস মিলে ছাত্রসংখ্যা ছিল ৭০-৮০ জন মাত্র । মাদরাসায় যোগদানের পর ৬/৭ মাস দেখেছি ছাত্ররা নিয়মিত আসত না। এ সময় মাদ্রাসার খুব দুঃসময় চলছিল বলা চলে। কিন্তু এ ব্যাপারে হুজুরের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিনি বরং তখনও তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সাথে কথা বলতেন ও আমাকে মাঝে-মাঝে বলতেন, ‘এখানে আপনার কেমন লাগছে? কোন অসুবিধা হয় কিনা?’ ইত্যাদি।
আমি হুজুরের প্রতি প্রথম মুগ্ধ হলাম অধ্যক্ষ মাও: আব্দুল বারী ছাহেবের বিদায়ের পর অধ্যক্ষ নিয়োগ বিষয়ে। গভর্নিং বডির সকল সদস্য এমনকি মাদরাসার অত্যন্ত আপনজন ঝালকাঠি ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জনাব মাও: আব্দুর রশীদ ছাহেব পর্যন্ত হুজুরকে অনুরোধ করলেন হুজুরের একমাত্র ছেলে বর্তমান অধ্যক্ষ মাও: খলীলুর রহমান নেছারাবাদী ছাহেবকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করার জন্য। হুজুর কিছুতেই রাযী হলেন না। শেষ পর্যন্ত তৎকালীন জেলা প্রশাসক জনাব আ: ওয়াহেদ ছাহেব একরকম জোর করেই বর্তমান অধ্যক্ষ সাহেবকে নিয়োগ দান করলেন এবং হুজুরকে বললেন, ‘হজুর! আপনি আমার কথায় অমত করবেন না। কেননা আমি অনেক ভেবে দেখেছি, বর্তমান অবস্থা থেকে মাদ্রাসাকে উন্নত করে দাঁড় করাতে এই মুহূর্তে আপন, ত্যাগী ও যোগ্য ব্যক্তির অত্যন্ত প্রয়োজন। আমার বিশ্বাস, মাওলানা খলীল সাহেবের মধ্যে সে যোগ্যতা আছে।’ আমি সেদিন অবাক হয়েছিলাম এই দেখে, এ জীবনে বাবাদের দেখেছি ছেলেদের চাকরির জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ধরণা দিতে, দেখেছি ঘুষ দিয়ে চাকুরির ব্যবস্থা করতে। সেখানে একজন বাবা হয়ে ছেলের চাকরির জন্য বাধা সৃষ্টি করেন, অবাক নীতিবোধ!
আশ্চর্য হওয়া এখানেই শেষ নয়। আমার আশ্চর্য হওয়া দেখে উপাধ্যক্ষ জনাব মাও: আ: ছাদেক ছাহেব বলেছিলেন, স্যার! এতেই অবাক হলেন, আপনি শুনলে আশ্চর্য হবেন, মাদরাসা যখন কামিল হল, তার আগে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে যারা পরিদর্শনে এসেছিলেন তারা হুজুরের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান। হুজুর তাদের বলেছিলেন, ‘মাদ্রাসা কামিল পর্যায়ে যেতে যা যা লাগে তা কিন্তু এখানে নেই। ওনারা যদি কাগজ কলমে দেখিয়ে থাকেন আমি মনে করি মিথ্যে দেখিয়েছেন; কামিল চালানোর মত যোগ্যতা আমাদের নেই বলে আমি মনে করি। আপনারা ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ হুজুরের এই সত্যবাদিতার কারণে তারা এত মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, কামিলের শুধু স্বীকৃতিই দেননি বরং স্বীকৃতির সাথে বিলও দিয়েছিলেন। এভাবে অতীতের যত কথা হুজুর সম্পর্কে শুনতে লাগলাম, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আমার তত বাড়তে লাগল। এর মধ্যে হুজুরের জযবা শুরু হয়ে গেল।
জযবায় হুজুরের কার্যক্রম আমার বেশ ভাল লাগছিল। কেননা, আলেম-ওলামাদের ইতঃপূর্বে আমি যে অবস্থায় দেখেছি, হুজুরের অবস্থাটা ছিল সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। অধিকাংশ আলেম সাধারণতঃ মানুষের সাথে মিশে থাকে, কথা বলে থাকে নামায-রোযা ও ধর্মীয় কাজ নিয়ে। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাষাবাদ ইত্যাদি কর্মকা-ের প্রতি অনেকটাই উদাসীন। তারা ধর্মীয় কর্মকা-ের মাধ্যমেই তাদের জীবিকার সংস্থানকে চূড়ান্ত বলে মনে করেন। যে ইমামতি করে সে ইমামতির মাধ্যমে, যে আযান দেয় সে আযানের মাধ্যমে, যে কোনো মক্তবে বা মাদ্রাসায় পড়ায় সে ঐ পেশাকেই তার জীবিকার একমাত্র উপায় হিসেবে গণ্য করে। এ কারণে তারা আর্থিক দিক থেকে যেমন দুর্বল, সামাজিক গুরুত্বের দিক দিয়েও অবহেলিত। আমার কাছে বরাবর এটা খুবই কষ্টদায়ক ছিল।
হুজুরের মধ্যে আমি দেখলাম এর বিপরীত চরিত্র। তিনি একদিকে ছিলেন একজন বড় আলেম, অন্যদিকে ছিলেন কর্মবীর এবং বলিষ্ঠ সমাজসেবক। হুজুরকে দেখলাম সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে সর্বশ্রেণীর, সর্বজাতির কল্যাণকামী এক মহান ব্যক্তি হিসেবে। আমি হুজুরকে দেখতাম, খাল-বিল, নদ-নদী বিধৌত বাংলার আর দশজন সৌখিন অথবা পেশাজীবী সাহসী শিকারীর মত একাগ্রচিত্তে চাই অথবা ঝাঁকি জাল দিয়ে মাছ ধরতে; দেখতাম পেশাজীবী ফলমুল বিক্রেতার মত মৌসুমী তরকারি, ফুট, তরমুজ, পেয়ারা ইত্যাদি কাউখালী, আটঘর-কুরিয়ানাসহ বিভিন্ন পাইকারী কাঁচা বাজার থেকে কিনে এনে সের-মূলে, কেজি-মূলে বিক্রি করতে। এর পাশাপাশি তিনি আমার কাছে আবিষ্কৃত হলেন এক উদ্ভাবনী শক্তির আকর হিসেবে। আবার দেখতাম তিনি নিজস্ব ফর্মুলায় তৈরী পেয়ারার জেলি, তেঁতুলের চাটনি ও আমড়ার জুস এগুলো শুধু তৈরি নয়; বরং বিক্রি, বাজারজাতকরণ এবং এগুলোর গুণও বর্ণনা করতেন। এগুলো আবিষ্কারের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলতেন, ‘আমার উদ্দেশ্য আপনাদেরকে কর্মমুখীকরণ, দেশী সম্পদের সদ্ব্যবহার করণ এবং ইহুদী পণ্য বর্জনে উৎসাহিত করা।’ হুজুর যখন তেঁতুলের চাটনী ও পেয়ারার জেলি আবিষ্কার করেন তখন এ দেশের কোনো বিজ্ঞানী অথবা আবিষ্কারক এগুলো নিয়ে ভাবেননি এমনকি কাজও করেননি। এখন দোকানে দোকানে বিভিন্ন নামি-দামি কোম্পানীর চাটনী নজরে পড়ে এবং পেয়ারার জেলি তৈরির কাজও নাকি চলছে। এছাড়াও আরো অনেক সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি আমি দেখেছি, যা নিয়ে প্রয়োজনের অনেক আগেই তিনি ভেবেছেন এবং যথাযথভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়েছেন। পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ সেগুলো বর্ণনা করার চেষ্টা করব।
যে কথা বলছিলাম । হুজুর ঐ সময় চায়ের বিকল্প জোশান্দা পান করার ওপর খুব গুরুত্বারোপ করতেন। তিনি বলতেন, ‘চা শীত প্রধান দেশের জন্য প্রযোজ্য, আমাদের দেশের জন্য নয়। আমাদের দেশের লোক যদি চায়ের প্রতি বেশি আসক্ত হয় তাতে আলসার, ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অনিদ্রার মত বেশকিছু জটিল সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এ সমস্যা অনেকের মধ্যে দেখাও যাচ্ছে। এসব সমস্যা উপলব্ধি করে আমি চিন্তা করলাম, চা পানের প্রতি মানুষের যে অভ্যাস হয়েছে তা দূর করা সম্ভব নয় বরং এর বিকল্প এমন কিছু আবিষ্কার করা দরকার যা পানের মাধ্যমে মানুষের অভ্যাসের ওপরও আঘাত না আসে, অন্য দিকে উপকারও হয়। এক সময় মাথায় ঢুকল রসূল মেহেদী পাতা দাড়িতে লাগাতেন, এমনকি মাথায় দিতেন মাথা ঠান্ডা করার জন্য। তাহলে নিশ্চয়ই এর মধ্যে এমন গুণ আছে যা দ্বারা চায়ের বিকল্প পানীয় হিসেবে পান করা সম্ভব। তৈরি করে ফেললাম। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করি, আমি সফল হয়েছি।’ শুনেছি একবার ঝালকাঠির বিজ্ঞান মেলায় চায়ের বিকল্প জোশান্দার প্রজেক্ট প্রথম স্থান পেয়েছিলে। এখন দেখতে পাই, চা পানে যে ক্ষতি হয়, জোশান্দা পানে তা হয় না; এর পাশাপাশি আমাশয় ও মেয়েদের শ্বেতপ্রদরের মত জটিল রোগেও জোশান্দা এক মহৌষধ।
হুজুর এই কথাগুলো এত গুরুত্ব দিয়ে বলতেন যে, সাধারণ মানুষ অতি মুগ্ধ হয়ে শুনতো। হুজুরের এই আগ্রহ দেখে অধ্যক্ষ সাহেব ১৯৯৮ সালে প্রধান গেইটের দুই পাশে বিরাট জোশান্দা বাগান করেছিলেন এবং জোশান্দার গুণ বর্ণনা করে লিফলেট ছাপিয়েছিলেন। এ বাগানের পাতা বিক্রি করে তখন কয়েক হাজার টাকা আয় হয়েছিল। বর্তমানে ঝাউ গাছ বড় হওয়ায় জোশান্দা বাগান প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে বলা চলে। এ বাগান দেখে হুজুর এত খুশী হয়েছিলেন যে, অনেককে বলতেন, আপনার বাড়িতে জোশান্দা গাছ লাগিয়ে আমাদের কাছে পাতা বিক্রি করতে পারবেন, আপনার অতিরিক্ত আয় হবে। সে সময় অনেকের মধ্যেই বিষয়টি সাড়া জাগিয়েছিল। এমনকি, ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে হুজুরের কথার সত্যতা প্রমাণিত হয়েছিল। এতে তখন হুজুরের আরেকটি বিষয় আমাকে মুগ্ধ করেছিল। তা হল, ভেষজ চিকিৎসার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ। এ সময় হুজুরের খানকার সামনে ঔষধী গাছ-গাছড়ার একটি ছোট্ট বাগান ছিল এবং ঐ বাগানের মধ্যে বিভিন্ন সুগন্ধি ফুলের গাছ ছিল। জযবার সময় হুজুর যখন ঐ বাগানের পাশ দিয়ে হাঁটতেন তখন তাঁকে দেখেছি বিভিন্ন গাছের পাতা তুলতে, শিকড় উঠাতে, গাছের ছাল উঠাতে এবং ঐগুলোর গুণাগুণ বর্ণনা করতে। এখন ভেষজ চিকিৎসার ওপর সরকার যেভাবে গুরুত্বারোপ করেছে তেমনি দেশ ও বিদেশে এর ওপর ব্যাপক চর্চা চলছে। অথচ হুজুর যখন এর ওপর চর্চা করেছিলেন তখন ভেষজ চিকিৎসার ওপর কারোই তেমন কোনো গুরুত্ব ছিল না। আমার মনে আছে, হুজুরের এই আগ্রহ দেখে এল.জি.ই.ডি'র তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী, পরবর্তীতে সচিব মরহুম কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ছাহেব হুজুরের জন্য বিশ খ-ের ভেষজ চিকিৎসার ওপর গবেষণামূলক বই উপহার দিয়েছিলেন। হুজুর প্রায়ই বলতেন, ‘আমি তো মনে করি, মানুষ যেখানে বসবাস করে, আল্লাহ তায়ালা তার আশেপাশের গাছ-গাছড়ার মধ্যেই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা রেখেছেন। আমাদের গবেষণার দ্বারা সেগুলো আবিষ্কার করতে হবে। আমরা তো ফেকের করি না, জানব কি করে?’ বিষয়টা কিন্তু হুজুরের কথার কথা ছিল না, তিনি এ ব্যাপারে গবেষণা করেছেন, সফলও হয়েছেন। আমার মনে আছে, অন্যদেরকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য হুজুর ঝালকাঠির নিরঞ্জন কবিরাজকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট ভেষজ গবেষণা পরিষদ গঠন করেছিলেন, যার সদস্য আমি নিজেও ছিলাম। এ কমিটির জন্য বেশ কয়েকটি খাতা হুজুর নিজের টাকা দিয়ে কিনে দিয়েছিলেন।
হুজুর একটা কথা প্রায়ই বলতেন, ‘মানুষের দেহে যে জিনিসের অভাব হবে, সেই জিনিস খাওয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি হবে।’ অনেক সময় হুজুর আমাদের জিজ্ঞেস করতেন, ‘বলেন, আপনাদের টক, মিষ্টি, ঝাল এর মধ্যে কার কোনটা পছন্দ?’ যারা বলত, মিষ্টি পছন্দ। হুজুর বলতেন, আপনার দেহে সুগারের অভাব। যারা বলত, টক পছন্দ-তাদের বলতেন, ভিটামিন সি এর অভাব। এভাবে অসংখ্য জটিল প্রশ্নের উত্তর তিনি এত সহজ করে আমাদের সামনে উপস্থাপন করতেন যে, মন্ত্রমুগ্ধের মত তাঁর পাশে বসে থাকা ছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না। একদিন হুজুর নেছারাবাদ মাদ্রাসার শিক্ষক জনাব আলমগীর ছাহেবের বাসায় উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণীর লোকের সাথে কথা বলছেন। আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। হঠাৎ হুজুর আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, প্রফেসর সাহেব! আপনার স্বাস্থ্য খারাপ নাকি? বাস্তবিকই তখন দু’তিন দিন আমার শরীরটা-বিশেষ করে হাত এবং পায়ের তালু খুবই গরম মনে হচ্ছিল বিধায় কোনো কাজের প্রতি মনোযোগী হতে পারছিলাম না। আমি উত্তর দিলাম, জি। পাশাপাশি হাত-পা গরমের কথাও বললাম। হুজুর হাসতে হাসতে বললেন, ‘দুই টাকা ভিজিট দেন, আমি এমন একটি ওষুধ দেবো যা খেলে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে আপনার হাত-পায়ের গরম স্বাভাবিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।’ পরে আবার বললেন, ‘না, ভিজিট থাক। মাস্টার আলমগীর, স্যারের জন্য একটা বিচি কলা নিয়ে আসেন। আলমগীর সাহেব বিচি কলা এনে আমাকে দিলেন। হুজুর আমাকে খেতে বললেন, আমি খেয়ে ফেললাম। এরপর বিভিন্ন কথার এক পর্যায়ে হুজুর আধা ঘন্টার কথা ভুলেন নি। হুজুর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আধা ঘণ্টা হয়েছে? আমি বললাম, জি হুজুর। তখন হুজুর আমার হাতটা নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বললেন, ‘স্যার, আপনার হাত কি সে রকম গরম আছে?’ আমি বললাম, ‘না হুজুর, আমার শরীরটাও ভাল লাগছে।’ এবার হুজুর রসিকতা করে বললেন, ‘এত বড় চিকিৎসার পরও কিন্তু আপনারা আমাকে ডাক্তার হিসেবে জানবেন না।’ হুজুরের কথায় আমি শুধু হাসলাম।
এছাড়া তাল খেলে এবং তালের রস খেলে কেন সুনিদ্রা আসে? এ প্রসঙ্গে হুজুর বলতেন-‘আমার মনে হয়, তাল গাছের শিকড় যেমন মাটির গভীরে প্রবেশ করে এবং মাথা সাধারণ গাছ থেকে ওপরে থাকে বিধায় তাল গাছের শিকড় যেমন মাটির গভীরের ঠান্ডা পানি গ্রহণ করে তেমনি গাছের মাথা অন্য গাছের ওপরে থাকার কারণে ওপরের ঠান্ডা বাতাস গ্রহণ করে। আর এ উভয় প্রকার ঠান্ডার সংমিশ্রণে ঐ গাছ থেকে যা উৎপাদিত হয় তা সবই দেহ শীতল বা ঠান্ডা করার জন্য উপযোগী। এ কারণে পাকা তাল খেলে ও রস খেলে সুনিদ্রা আসে।’ হুজুরের এসব কথা আমার কাছে বিনা প্রশ্নেই নির্ভুল বলে মনে হত।
এমনকি পরে কাঁচা আম, পাকা আম, মিষ্টি আম ও টক আমের গুণাগুণের পার্থক্য কী; কাঁঠাল কাদের জন্য খাওয়া উপকারী-কাদের জন্য ক্ষতিকর; পেঁপে কার উপকার করে? কোন অবস্থায় পেঁপে খাওয়া ঠিক নয়; জাম হজমের জন্য উপকারী কিন্তু সবার জন্য নয়। এ রকম শত-শত প্রশ্ন নিজে আমাদের কাছে করতেন। আমরা উত্তর দিতে না পারলে নিজে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিতেন।
এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মাঝে মাঝে হুজুর কুরআনুল করীম থেকে এই আয়াত তেলাওয়াত করতেন ও তরজমা করতেন, ‘ইন্না ফী খালকিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ............... ফাকিনা আযাবান নার।’ ‘নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে (এবং তাকে সৃষ্ট সকল জীব ও পর্দাথে), দিবা রাত্রির আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও যমীনের সৃষ্টি (এবং তাতে সৃষ্ট সকল জীব ও পদার্থ) সম্পর্কে চিন্তা গবেঘণা করে (তখন অন্তরের অন্তস্থল থেকে আপনা আপনি বলে ওঠে) হে আমাদের পরওয়ারদিগার! আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেন নি। আমরা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আপনি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে বাঁচান।’
এই আয়াত তেলাওয়াত ও তরজমা করার সময় হুজুর কোনো কোনো সময় এত আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়তেন যে, চোখের পানিতে দু’গাল ভিজে যেত। অথচ আমরা এতই হতভাগা ছিলাম যে, তখন এর অর্থ, সারমর্ম কিছুই উপলব্ধি করার চেষ্টা করিনি। আমরা যেন আদর্শ শিক্ষকের ক্লাসে দায়িত্বহীন ছাত্রের মত; শিক্ষকের ক্লাসে থেকেছি, কথা শুনেছি-কিছুই বুঝার চেষ্টা করিনি। আমাদের এই দায়িত্বহীনতা যে হুজুর বুঝতেন না-তা নয়। মাঝে-মাঝে আমাদের এরূপ উপলব্ধিহীনতা অনুমান করে হাসতে হাসতে বলতেন, ‘আমি বুঝি যা, মায় বোঝে না তা, তবুও বলে ফতা তুই মেজবানে যা।’ আবার কখনো আমাদের বুঝানোটা এত প্রয়োজন মনে করতেন যে, মৌখিকভাবে বুঝাতে ব্যর্থ হলে মসজিদের মধ্যে সবাইকে বসিয়ে ব্লাকবোর্ডে লিখিয়ে বুঝানোর চেষ্টা করতেন এবং বারবার প্রশ্ন করতেন আমরা বুঝেছে কি না। এর পরেও কিন্তু আমাদের বুঝ তো হতোই না বরং চুপ করে থাকতাম অথবা এমন অপ্রাসঙ্গিক উত্তর দিতাম যে, হুজুর শুনে স্তম্ভিত হয়ে যেতেন এবং অন্তর্বেদনায় কেঁদে ফেলে দিয়ে বলতেন, আমি এই বিরান বাগানের বুলবুলি, আমি সারা জীবন গেয়ে গেলাম; আমার গলার আওয়াজ কেউ বুঝলনা, কেউ শুনলো না।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক (বাংলা)
ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা
(প্রকাশিত: মাসিক কায়েদ, এপ্রিল সংখ্যা-২০২৪ইং)
27/04/2024
প্রচন্ড গরমে টিনের চালায় ভূত মরে শুটকি হয়ে গেছে।
17/04/2024
বেশ্যা একটি গালি,
পতিতা একটি গালি।
পতিতা বলতে আমরা শুধু দেহ ব্যবসাকারী নারীদেরকেই বুঝি।
কিন্তু প্রকৃত পতিতার সংজ্ঞা আপনারা কেউ কি জানেন?
"অবৈধভাবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে যারা আজ সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত এরাই হলো সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট পতিতা।"
কিন্তু বেশ্যা চরিত্রটা কি খুব খারাপ ?
অর্থের বিনিময়ে যে নারী দেহ বেচে সে বেশ্যা।
অর্থের বিনিময়ে যে নৈতিকতা বেচে সেও বেশ্যা।
অর্থের বিনিময়ে যে ফাইলে সই করে সেও বেশ্যা।
অর্থের বিনিময়ে যে চাকুরিতে নিয়োগ দেয় সেও বেশ্যা।
অর্থের বিনিময়ে যে আসামীকে জামিন দেয় সেও বেশ্যা।
অর্থের বিনিময়ে যে দলের পদ বেচে সেও বেশ্যা।
অর্থের বিনিময়ে যে ঠিকাধারীর কাজ বেচে সেও বেশ্যা।
অর্থের বিনিময়ে যে নমিনেশন বেচে সেও বেশ্যা।
তবে যার বেচার মত অবশিষ্ট আর কিছু থাকেনা
সেই নারী শুধু দেহ বেচে।
সকলেই কিন্তু কাজটি অর্থের বিনিময়ে গোপনে করে থাকে।
বেশ্যা"
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম
সাধুর নগরে বেশ্যা মরেছে
পাপের হয়েছে শেষ
বেশ্যার লাশ হবে না দাফন
এইটা সাধুর দেশ
জীবিত বেশ্যা ভোগে তো আচ্ছা, মরিলেই যত দোস?
দাফন কাফন হবে না এখন
সবে করে ফোস ফোস।
বেশ্যা তো ছিল খাস মাল, তোদের রাতের রানী,
দিনের বেলায় ভুরু কোচ কাও?
মরিলে দেওনা পানি!
সাধু সুনামের ভেক ধরিয়া দেখালি দারুন খেলা,
মুখোশ তোদের খুলবে অচিরে
আসবে তোদের বেলা।
রাতের আধারে বেশ্যার ঘর স্বর্গ তোদের কাছে,
দিনের আলোতে চিননা তাহারে?
তাকাও নাকো লাজে!
চিনি চিনি ভাই সব সাধু রেই হরেক রকম সাজ,
সুযোগ পেলেই দরবেশী ছেরে দেখাও উদ্দাম নাচ!
নারী আমাদের মায়ের জাতি বেশ্যা বানালো কে?
ভদ্র সমাজে সতীর ছেলেরা খদ্দের সেজেছে?
গরীবের বৌ সস্তা জিনিস সবাই ডাকো ভাবি,
সুযোগ পেলেই প্রস্তাব দাও আদিম পাপের দাবি।
স্বামী যখন মরলো ভাবির দুধের শিশু কোলে,
ভদ্র দেবর সুযোগ খোঁজে সহানুভূতির ছলে,
দিনের মত দিন চলে যায়,
হয় না তাতে দোষ
মরা লাশের সুযোগ পেয়ে মোল্লার রোষ।
মোল্লা সাহেব নায়েবে রাসুল ফতোয়া ঝারিশা কয়,
পতিতা নারীর জানাজা কবর এই এলাকায় নয়।
শুধাই আমি ওরে মোল্লা জানাযায় যত দোষ,
বেশ্যার দান নিয়াছো ঝোলিয়ে তুমি বেটা নির্দোষ?
বেশ্যার তবু আছে পাপ বোধ নিজেকে সে ভাবে দোষী,
তোমরা তো বেটা দিন বেচে খাও হচ্ছেয় খোদার খাসি।
আল্লাহর ঘর মসজিদে ও আছে বেশ্যার দান -কলেমা পড়েছে সে ওতো তবে নামেতে মোসলমান!
বেশ্যা নারী ব্যবসায় নারী পুরুষরা পুরুষরা সব সৎ?
জানি মোল্লা খুলবে না মুখ চাকরি যা
" তাকে সঙ্গী করো না, যে তোমার দোষ মনে রাখে, গুন ভুলে যায়। "
~ হযরত আলী (রাঃ)
'জানু' শব্দের অর্থ 'হাটু'। তবে
প্রেমিক প্রেমিকাকে 'জানু' বলে কি বোঝাতে চায়?
26/03/2024
ছবিটা দেখেই বোঝা যাচ্ছে- একটা মরদেহ ঢেকে রাখা হয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মরদেহটা পলিথিন দিয়ে ঢেকে সবাই বারান্দা অথবা ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। যিনি ছবিটা তুলেছেন, তিনিও ঘরের ভেতর থেকেই তুলেছেন।
এ থেকেই বুঝে নিন- আপনার প্রয়োজন ও গুরুত্ব আসলে কতটুকু? মৃত্যুর পরমুহুর্ত থেকেই সবাই পর হতে শুরু করে। মরদেহটা পর্যন্ত ঘরের ভেতরে ঢোকানো হয় না!
মরদেহের পাশে থাকার জন্য কেউ বৃষ্টিতে ভিজতেও পারবে না, সাময়িক একটু চোখের পানি ঝড়বে শুধু- যা বাড়িতে পোষা কোনো প্রাণী মারা গেলেও ঘটে।
মূল্যবান কোনো অলংকার হারিয়ে গেলে সেই হারানো অলংকারের কথা যতবার স্বরণ করা হয়, মানুষ মারা গেলেও ততবার স্মরণ করবে না কেউ। আসলে যতক্ষণ প্রয়োজন, ততক্ষণই প্রিয়জন!
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বোঝার মতো তৌফিক দান করুন। আমিন।
24/03/2024
— ৩ তিনটি জিনিস :🌼
স্ত্রীর চেয়ে স্বামীর অধিক হওয়া ভালো.!❤️
১. বয়স,
২. জ্ঞান,
৩. অর্থ,
— ৫ টি জিনিস :🌼
স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর বেশি থাকা ভালো .!❤️
১. ধৈর্য,
২. ভালোবাসা,
৩. পরিচ্ছন্নতা,
৪. পরিকল্পনার জ্ঞান,
৫. শুদ্ধ জীবন যাপন,
— ৩ টি জিনিস :
উভয়ের সমান হওয়া উচিত.!❤️🩹
১. একে অপরকে বুঝতে পারা,
২. একে অপরের প্রতি সহনশীলতা
৩. একে অপরের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা।