21/10/2022
সালটি ২০১৪ এর ডিসেম্বরের ২১ তারিখ। কনকনে শীতের সকালে আব্বু আম্মুর সাথে রওনা দিলাম বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এর দিকে। কেনো? কারণ ঐদিন ছিলো " তৃতীয় শ্রেণী ভর্তি পরীক্ষা ২০১৫ " । ঐদিন হলে বসে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম, " এই স্কুলে কি আমি পড়তে পারবো?" সবাই বলে ভর্তি পরীক্ষা নাকি সবাই ভয় পায় আর আমি তখন দ্বিতীয় শ্রেণীর শেষ প্রান্তে তবুও আমার একটুকুও ভয় লাগছিলো না। অনেক ভালো পরীক্ষা দিয়েছিলাম। ১ বছরের কঠোর পরিশ্রম ১ ঘন্টায় দিয়ে এসেছিলাম। হল থেকে বের হওয়ার পর মা আমাকে জিজ্ঞেস করল, " কিরে বাবু, চান্স পাবি তো?" আমার উত্তর না আসতে আসতেই বাবার মুখ দিয়ে বের হয়ে গেল, " আমার মেয়ে চান্স পাবে না তো কে পাবে?" তারপর আসলো ফলাফলের পালা। ঐদিন রাতেই ফলাফল দিয়েছিলো। রাত সোয়া একটা , সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফলাফলের জন্য। আম্মুর মতে ২/৩ জনের নাম বলার পরেই উচ্চারণ হয়েছিল আমার নামটা। তারপরের অনুভূতিটা না হয় নাই বলি।
তারপর আসলো আমার বিদ্যালয়ের প্রথম দিন। অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছিলো। মনে মনে ভাবছিলাম," না, তাহলে এই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী হয়েই আসলাম" অনেক নতুন বন্ধু হলো। আমার শ্রেণী শিক্ষক আমাকে ডেকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলেন কিন্তু এ যেন আমার কাছে ভর্তি পরীক্ষার থেকেও ভয়ানক ছিলো। কিন্তু আমার শ্রেণী শিক্ষক ছিলেন অত্যন্ত ভালো, একদম বাবাদের মতো। প্রথমে ভয় লাগলে ও পরে ভয় লাগেনি।
সেই তৃতীয় শ্রেণীর ক্লাস ক্যাপ্টেন, সপ্তম শ্রেণীর স্কুল ক্যাবিনেট হওয়াসহ সফলতার শেষ নেই এখানে।
আজ ২০ অক্টোবর, ২০২২ আমাদের শেষ ক্লাস ছিলো। আমার প্রিয় বন্ধু গুলোর সাথে বসে ঐ স্কুলের শ্রেণীকক্ষে আর ক্লাস করা হবে। অদ্ভুত ফিলিং কাজ করছিলো । প্রথম এই স্কুলের শ্রেনীকক্ষে ক্লাস করা আর শেষ ক্লাস করার অনুভুতি কখনো বলে বোঝানো যাবে না 💔🥹
©nusrat jahangir diba