30/03/2026
তাহীলী শিক্ষা ব্যবস্থা কী?
আমাদের দেশের অনেকেই জানেন না আসলে তাহীলী কি? এটা কি কোন প্রতিষ্ঠান নাকি অন্য কিছু? আর প্রতিষ্ঠান হলে সেটা কেমন প্রতিষ্ঠান?
সবার জন্যই বলছি....
তাহীলী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান & বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উন্নত, আধুনিক এবং সর্বোচ্চ মেধা বিকাশের অন্যতম পুরোধা এ তাহীলী মাদরাসা। যেখানে শুধু হাফেজী অথবা কুরআন পড়ানো হয় এমন নয় বরং যে সকল শিক্ষার্থীরা হাফিজী পড়ার কারণে একটু বড় হয়ে গেছে অর্থাৎ বয়স একটু বেশি তাদের জন্যই মূলত তাহীলী। মাত্র ১ বছরে ৮ম শ্রেণি পাশসহ ৩ বছরে কৃতিত্বের সাথে দাখিল বা SSC পাশের সুবর্ণ সুযোগ এ তাহীলী মাদরাসায়......
সিস্টেম:
প্রচলিত কোন শিক্ষা ব্যবস্থা নয় এটা। এখানে প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামের আট (০৮) বছরের পড়াশুনা মাত্র এক বছরে কম্পিলিট করা হয়। এবং সেটা দাগিয়ে দাগিয়ে পড়ানো ব্যাপারটা মোটেও এমন নয় বরং অন্য যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে চ্যালেঞ্জ নিয়ে পড়াশুনায় সফল হচ্ছে হাফেজরা।
আমি নিজে এবং আমার দেখা অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অন্য আদার্স যে কোন স্টুডেন্টের সাথে তাহীলীর স্টুডেন্ট যে কোন বিষয়ে চ্যালেঞ্জ গ্রহনে সক্ষম। মাঝে মাঝে তারা চ্যালেঞ্জ দিতেও প্রস্তুত।
কিভাবে সম্ভব!?
একজন হাফেজের অধ্যবসয়, তার মেধা ও হাফেজের প্রতি মহান রবের বরকত ই এ অসম্ভবকে সম্ভব করছে। কারণ তারা সেই মহান রবের বানীকে বুকে ধারণ করে আছেন।
একাডেমিক কারিকুলাম:
ভর্তির পর প্রথম ৩ থেকে ৬ মাস অক্ষর জ্ঞান থেকে শুরু করে সপ্তম শ্রেনীর সকল বিষয়ে বেসিক আলোচনা, আগা টু গোড়া। A- Z এবং বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা সিলেবাসের প্রথম চার ক্লাসের মূল কিতাব সম্পর্ণভাবে শেষ করা হয় । সাথে সাথে হাতের লেখা, কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ। এরপর বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের বোর্ড বই পড়িয়ে বছর শেষে ৮ম শেনীর (JDC) পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ। মাঝে সেমিস্টার পরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রমই অব্যাহত থাকে।
সু সংবাদঃ
একটা সময ছিল যারা হাফেজী পড়ে তারা বড় কোন আলেম ও হতে পারত না। কারণ হাফেজী পড়তে পড়তেই অনেকটা বয়স হয়ে যায়। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, প্রফেসরত তারা চিন্তাই করত না। কিন্তু আজ? তাদের স্বপ্ন অনেক বড়। আকাশ ছোয়া স্বপ্ন। কেউ বড় মুফতি, মোহাদ্দেস হওয়ার স্বপ্ন দেখে। কেউ বড় কোন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা কোন লেকচারার হতে পারে। কারণ তাহীলী তাদের একটি উন্মুক্ত পরিবেশে এনে দাড় করিয়েছে। এবার তারা পৃথিবীর যে কোন বিদ্যাপিঠেই পড়তে পারে। পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই ইসলামের বিজয় কেতন উড়াতে পারে। কারণ সে যে কোন সেক্টরেই যেতে পারবে সেই দাড় উন্মুক্ত হয়েছে তার জন্য।
উদাহারণ:
আমি নিজে একজন হাফেজ। এখন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। আমার ৪/৫ জন বন্ধুরা আছে বিভিন্ন মেডিকেলে পড়াশুনা করে আজ তারা MBBS ডাক্তার। কেউ কেউ কুয়েট, চুয়েট, ডুয়েট, বুয়েটসহ চরমোনাই, ছারছিনা,মেখল,, হাটহাজারী মাদরাসাসহ অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও পড়াশুনা করছে।
পুনশ্চ:
একজন হাফেজ / হাফেজার বাবা-মাকে বলছি আপনার সন্তানের উজ্জল ভবিষ্যতের জন্য শুধু হাফেজী পড়াই যথেষ্ঠ নয়! তাকে বড় আলেম হতে হবে বা হাফিজির সাথে একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা একজন প্রফেসর হতে হবে। আপনার সন্তান যিনি ৩০ পারা কুরআন বুকে ধারন করতে পারে সে পৃথিবীর সব কিছুই জয় করতে পারবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। এতে বয়স কোন বাধা হতে পারে না। আমরা এই বয়সের বাধাই অতিক্রম করতে চাই, আপনার সন্তানকে নিয়ে নিয়ে যেতে চাই অনন্য উচ্চতায়.........
আমাদের সকল বিভাগে সীমিত আসনে ভর্তি চলছে।
তাহীলী মাদরাসা বরিশাল'র আঙ্গিনায় আপনাকে স্বাগতম।
যোগাযোগ:
☎️ 01772 066835
☎️ 01719 077088
[বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২৬ এ পরিচালক স্যারকে ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়ার স্থীর চিত্র]