Science Tech Academy

Science Tech Academy

Share

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Science Tech Academy, Education Website, .

20/02/2026

যেকোনো কিছুর পরিবর্তনের শুরু- আপনার মন থেকেই

31/12/2025

দুবাই সরকার একটি "মিনিস্ট্রি অফ টলারেন্স" (সহনশীলতা মন্ত্রণালয়) গঠন করেছে। তাদের মূলমন্ত্র হলো—ধর্ম যার যার, কিন্তু ব্যবসা ও নিরাপত্তা সবার। তারা ধর্মকে রাজনীতির সাথে না মিশিয়ে দেশের উন্নয়নের কাজে লাগিয়েছে, আর একারণেই সব জাতের মানুষ সেখানে আনন্দের সাথে থাকতে পারে।

05/11/2025

হাইড্রোজেনের বিভিন্ন প্রকারের পরমাণুকে বলা হয় আইসোটোপ (Isotope)।
আইসোটোপ হলো একই মৌলের এমন পরমাণু যাদের প্রোটন সংখ্যা (যা মৌলটিকে চিন্নিত করে) একই থাকে, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়। নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যাও আলাদা হয়।
হাইড্রোজেনের প্রাকৃতিকভাবে প্রাপ্ত প্রধানত তিনটি (৩) আইসোটোপ রয়েছে। নিচে এদের বিস্তারিত বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:
১. প্রোটিয়াম (Protium) বা সাধারণ হাইড্রোজেন (¹H)
* গঠন: এর নিউক্লিয়াসে ১টি প্রোটন এবং কোনো নিউট্রন নেই (০টি নিউট্রন)। নিউক্লিয়াসের বাইরে ১টি ইলেকট্রন থাকে।
* প্রাচুর্য: এটি হাইড্রোজেনের সবচেয়ে সাধারণ এবং সহজতম আইসোটোপ। পৃথিবীতে প্রাপ্ত মোট হাইড্রোজেনের ৯৯.৯৮% এর বেশি হলো প্রোটিয়াম।
* বৈশিষ্ট্য:
* এটি স্থিতিশীল (Stable), অর্থাৎ তেজস্ক্রিয় নয়।
* এর পারমাণবিক ভর প্রায় ১.০০৮ amu (atomic mass unit)।
* আমরা সাধারণত হাইড্রোজেন বলতে এই প্রোটিয়ামকেই বুঝি।

২. ডিউটেরিয়াম (Deuterium) বা ভারী হাইড্রোজেন (²H বা D)
* গঠন: এর নিউক্লিয়াসে ১টি প্রোটন এবং ১টি নিউট্রন থাকে। বাইরে ১টি ইলেকট্রন থাকে।
* প্রাচুর্য: এটি প্রকৃতিতে খুবই কম পরিমাণে পাওয়া যায়, প্রায় ০.০১৫%।
* বৈশিষ্ট্য:
* এটিও স্থিতিশীল (Stable) এবং তেজস্ক্রিয় নয়।
* প্রোটিয়ামের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ ভারী।
* ব্যবহার: ডিউটেরিয়াম দিয়ে তৈরি জলকে "ভারী জল" বা হেভি ওয়াটার (D₂O) বলা হয়। এটি পারমাণবিক চুল্লিতে (Nuclear Reactor) নিউট্রন মডারেটর (গতি কমানোর জন্য) হিসেবে এবং নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।

৩. ট্রিটিয়াম (Tritium) বা তেজস্ক্রিয় হাইড্রোজেন (³H বা T)
* গঠন: এর নিউক্লিয়াসে ১টি প্রোটন এবং ২টি নিউট্রন থাকে। বাইরে ১টি ইলেকট্রন থাকে।
* প্রাচুর্য: এটি প্রকৃতিতে অত্যন্ত বিরল (একটি প্রোটিয়াম পরমাণুর প্রতি ১০¹⁸ টিতে একটি ট্রিটিয়াম পরমাণু)। এটি সাধারণত বায়ুমণ্ডলে কসমিক রশ্মির প্রভাবে বা পারমাণবিক চুল্লিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়।
* বৈশিষ্ট্য:
* এটি হাইড্রোজেনের একমাত্র তেজস্ক্রিয় (Radioactive) আইসোটোপ।
* এর হাফ-লাইফ (Half-life) বা অর্ধায়ু প্রায় ১২.৩ বছর। এটি ক্ষয় হয়ে হিলিয়াম-৩ আইসোটোপে পরিণত হয়।
* ব্যবহার: এটি পারমাণবিক ফিউশন বিক্রিয়ার অন্যতম প্রধান জ্বালানি হিসেবে বিবেচিত হয় (যেমনটি ITER প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে)। এছাড়া এটি বায়োলজিক্যাল গবেষণায় ট্রেসার হিসেবে এবং ঘড়ির কাঁটা বা বিভিন্ন সাইনবোর্ডে স্ব-আলোকিত (self-illuminating) আলো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
🔬 রাসায়নিক ধর্মের মিল
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই তিনটি আইসোটোপের রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই। এর কারণ হলো, কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম নির্ভর করে তার ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর (বিশেষ করে সর্ববহিস্থ কক্ষের ইলেকট্রনের উপর)। যেহেতু প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম—সবারই ১টি প্রোটন আছে এবং তাই ১টি ইলেকট্রন আছে, তারা রাসায়নিকভাবে প্রায় একইভাবে আচরণ করে (যেমন, অক্সিজেনের সাথে মিশে জল তৈরি করা)।
তবে, ভরের পার্থক্যের কারণে তাদের ভৌত ধর্ম (যেমন: ঘনত্ব, গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক) এবং বিক্রিয়ার গতিতে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়।

05/11/2025

মানুষের ত্বকের রঙের এই বৈচিত্র্যের পেছনে প্রধান কারণ একটিই, আর তা হলো মেলানিন (Melanin) নামক একটি রঞ্জক পদার্থ।
📌 প্রধান কারণ: মেলানিন (Melanin)
মানুষের ত্বক, চুল এবং চোখের রঙের জন্য মেলানিন নামক এই উপাদানটি দায়ী। এটি 'মেলানোসাইট' (Melanocyte) নামক বিশেষ কোষ দ্বারা উৎপাদিত হয়।
মেলানিন প্রধানত দুই ধরনের:
* ইউমেলানিন (Eumelanin): এটি বাদামী বা কালো রঙের হয়। যাদের ত্বকে এর পরিমাণ বেশি, তাদের গায়ের রং তত গাঢ় (কালো বা শ্যামবর্ণ) হয়।
* ফিউমেলানিন (Pheomelanin): এটি লাল বা হলুদ রঙের হয়। যাদের ত্বকে এর পরিমাণ বেশি, তাদের গায়ের রং তত হালকা বা ফর্সা হয়।
ত্বকের রঙ মূলত এই দুই ধরনের মেলানিনের অনুপাত এবং মোট পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
🧐 মানুষের চামড়া বিভিন্ন রঙের হয় কেন?
ত্বকের রঙের এই বৈচিত্র্যের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. বংশগতি বা জেনেটিক্স (Genetics):
একজন ব্যক্তির ত্বকে কী পরিমাণ এবং কোন ধরনের মেলানিন তৈরি হবে, তা প্রাথমিকভাবে তার জিন (Gene) দ্বারা নির্ধারিত হয়। বাবা-মা থেকে প্রাপ্ত জিনের কারণেই ত্বকের রঙের এই পার্থক্য তৈরি হয়।
২. বিবর্তন এবং ভৌগোলিক অবস্থান (Evolution and Geography):
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। ত্বকের রঙের বিবর্তন ঘটেছে মূলত সূর্যরশ্মির (বিশেষ করে অতিবেগুনী বা UV রশ্মি) সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য।
* গরম এবং রৌদ্রোজ্জ্বল অঞ্চল (নিরক্ষরেখার কাছাকাছি):
* এই অঞ্চলগুলোতে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির (UV radiation) প্রভাব খুব বেশি থাকে।
* অতিরিক্ত UV রশ্মি ত্বকের কোষের ক্ষতি করতে পারে এবং স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
* ডার্ক স্কিন (বেশি ইউমেলানিন) একটি প্রাকৃতিক সানস্ক্রিনের মতো কাজ করে এবং এই ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। তাই, এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই গাঢ় ত্বকের বিবর্তন ঘটেছে।
* ঠাণ্ডা এবং কম রৌদ্রোজ্জ্বল অঞ্চল (নিরক্ষরেখা থেকে দূরে):
* এই অঞ্চলগুলোতে সূর্যের আলো অনেক কম থাকে।
* ত্বকের জন্য UV রশ্মি পুরোপুরি ক্ষতিকরও নয়; এটি শরীরে ভিটামিন ডি সংশ্লেষণের জন্য অপরিহার্য।
* যাদের ত্বক ফর্সা (কম মেলানিন), তাদের ত্বক অল্প সূর্যালোকেও সহজে ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। তাই, কম আলোযুক্ত অঞ্চলে টিকে থাকার জন্য হালকা বা ফর্সা ত্বকের বিবর্তন ঘটেছে।
🔄 চামড়ার রং কীভাবে পরিবর্তন হতে পারে?
এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, একজন মানুষের জিনগত বা স্থায়ী ত্বকের রং সম্পূর্ণ পরিবর্তন করার কোনো নিরাপদ এবং স্থায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। তবে ত্বকের টোন বা শেড বিভিন্ন কারণে সাময়িকভাবে বা আংশিকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে:
১. রোদে পোড়া (Tanning):
এটি সবচেয়ে সাধারণ পরিবর্তন। যখন ত্বক সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির সংস্পর্শে আসে, তখন মেলানোসাইট কোষগুলো ত্বককে রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন শুরু করে। এই অতিরিক্ত মেলানিনের কারণেই ত্বক সাময়িকভাবে গাঢ় হয়ে যায়, যাকে আমরা 'ট্যান' বা 'রোদে পোড়া' বলি।
২. কসমেটিক বা ঘরোয়া উপায় (Skin Lightening):
বিভিন্ন প্রসাধনী (ক্রিম) বা ঘরোয়া পদ্ধতি (যেমন: লেবুর রস, হলুদ, টক দই) ব্যবহার করে ত্বকের উপরিভাগের ট্যান বা দাগ (Hyperpigmentation) সাময়িকভাবে হালকা করা সম্ভব। এগুলো ত্বকের স্থায়ী রং পরিবর্তন করে না, বরং ত্বকের অসামঞ্জস্যতা দূর করতে সাহায্য করে।
৩. চিকিৎসা এবং অসুস্থতা (Medical Conditions):
কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ত্বকের রঙের পরিবর্তন হতে পারে:
* হাইপারপিগমেন্টেশন: হরমোনের পরিবর্তন, আঘাত বা নির্দিষ্ট ওষুধের কারণে ত্বকের কিছু অংশ আশপাশের ত্বকের চেয়ে বেশি গাঢ় হয়ে যেতে পারে।
* হাইপোপিগমেন্টেশন (শ্বেতী রোগ): কিছু রোগে (যেমন Vitiligo বা শ্বেতী) মেলানোসাইট কোষগুলো ধ্বংস হয়ে যায়, ফলে ত্বক তার রঞ্জক হারিয়ে সাদা হয়ে যায়।
সংক্ষেপে, ত্বকের রঙের বৈচিত্র্য হলো হাজার হাজার বছর ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন পরিবেশে মানুষের খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি প্রাকৃতিক এবং বিবর্তনীয় ফলাফল।

05/11/2025

প্লাস্টিক একটি সিনথেটিক বা কৃত্রিম পলিমার, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এটি কোনো একক পদার্থ নয়, বরং বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন ধরণের পদার্থের একটি বিশাল পরিবার।
প্লাস্টিক তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং এটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। নিচে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
ধাপ ১: কাঁচামাল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ 🛢️
প্লাস্টিক তৈরির মূল উপাদান হলো হাইড্রোকার্বন, যা প্রধানত অপরিশোধিত তেল (Crude Oil), প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas) এবং কখনো কখনো কয়লা থেকে পাওয়া যায়।

১. আংশিক পাতন (Fractional Distillation): প্রথমে, অপরিশোধিত তেলকে একটি বিশাল টাওয়ারে (Refinery) উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা হয়। এর ফলে তেল বাষ্পীভূত হয় এবং বিভিন্ন হাইড্রোকার্বন (যেমন: ন্যাপথা, ইথেন, প্রোপেন) তাদের স্ফুটনাঙ্ক অনুযায়ী আলাদা হয়ে যায়। প্লাস্টিক তৈরির জন্য ন্যাপথা (Naphtha) হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
২. ক্র্যাকিং (Cracking): ন্যাপথা বা ইথেনের মতো ভারী হাইড্রোকার্বন অণুগুলো অনেক লম্বা শিকলের হয়। এই লম্বা শিকলগুলোকে উচ্চ তাপ ও চাপে (বাষ্প ক্র্যাকিং) ভেঙে ছোট এবং আরও ব্যবহারযোগ্য অণুতে পরিণত করা হয়। এই ছোট অণুগুলোকে বলা হয় মনোমার (Monomer)। প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত প্রধান মনোমারগুলো হলো ইথিলিন (Ethylene) এবং প্রোপিলিন (Propylene)।
ধাপ ২: পলিমারাইজেশন (Polymerization) 🔗
এটি প্লাস্টিক তৈরির প্রধান রাসায়নিক বিক্রিয়া। এই ধাপে, অসংখ্য ছোট মনোমার অণু রাসায়নিকভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি দীর্ঘ, পুনরাবৃত্তিমূলক শিকল (Chain) তৈরি করে। এই দীর্ঘ শিকলকেই পলিমার (Polymer) বলা হয়।
* সহজ উদাহরণ: একটি পেপারক্লিপকে যদি 'মনোমার' ধরা হয়, তবে হাজার হাজার পেপারক্লিপকে জোড়া লাগিয়ে যে দীর্ঘ শিকল তৈরি হয়, সেটিই হলো 'পলিমার'।
পলিমারাইজেশন প্রক্রিয়া দুইভাবে হতে পারে:
১. সংযোজন পলিমারাইজেশন (Addition Polymerization): এতে মনোমার অণুগুলো সরাসরি একে অপরের সাথে যুক্ত হয়। যেমন, হাজার হাজার ইথিলিন মনোমার যুক্ত হয়ে পলিইথিলিন (পলিথিন) তৈরি করে।
২. ঘনীভবন পলিমারাইজেশন (Condensation Polymerization): এতে দুটি ভিন্ন মনোমার যুক্ত হওয়ার সময় একটি ছোট অণু (যেমন: পানি) অপসারিত হয়। নাইলন (Nylon) বা পলিয়েস্টার (Polyester) এভাবে তৈরি হয়।
এই ধাপে যে পলিমার তৈরি হয়, তা সাধারণত পাউডার, তরল রেজিন (Resin) বা দানাদার পদার্থ (Granules) আকারে থাকে।
ধাপ ৩: কম্পাউন্ডিং এবং প্রসেসিং (Compounding & Processing) ⚙️
খাঁটি পলিমার রেজিন সরাসরি ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। একে ব্যবহার উপযোগী করতে এর সাথে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়। এই প্রক্রিয়াকে কম্পাউন্ডিং বলে।
মেশানো উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* প্লাস্টিসাইজার (Plasticizers): প্লাস্টিককে নরম এবং নমনীয় করতে (যেমন: PVC পাইপ বনাম নরম PVC খেলনা)।
* রঙ্গক (Pigments): প্লাস্টিককে বিভিন্ন রঙ দিতে।
* স্ট্যাবিলাইজার (Stabilizers): তাপ বা আলোর (UV রশ্মি) কারণে প্লাস্টিকের গুণমান যেন নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করতে।
* ফিলার (Fillers): প্লাস্টিকের শক্তি বাড়াতে বা খরচ কমাতে (যেমন: চাচ, গ্লাস ফাইবার)।
এই মিশ্রণটিকে গলিয়ে, ঠান্ডা করে ছোট ছোট দানায় (Beads/Pellets) পরিণত করা হয়। এই প্লাস্টিক প্যালেট (Plastic Pellets) বা নার্ডলস (Nurdles) হলো চূড়ান্ত পণ্য তৈরির কারখানায় পাঠানো কাঁচামাল।
ধাপ ৪: চূড়ান্ত পণ্য তৈরি (Manufacturing Final Products) 🏭
এই শেষ ধাপে, কারখানায় প্লাস্টিক প্যালেটগুলোকে আবার গলিয়ে নির্দিষ্ট আকার বা ছাঁচে ফেলা হয়। বিভিন্ন পণ্যের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়:
১. ইনজেকশন মোল্ডিং (Injection Molding): গলিত প্লাস্টিককে উচ্চ চাপে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচের (Mold) মধ্যে ইনজেক্ট করা হয়। ঠান্ডা হয়ে জমে গেলে ছাঁচ থেকে পণ্যটি বের করা হয়। (উদাহরণ: প্লাস্টিকের চেয়ার, খেলনা, বোতলের ছিপি)।
২. ব্লো মোল্ডিং (Blow Molding): এটি মূলত ফাঁপা জিনিস (যেমন: বোতল, জার) তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। গলিত প্লাস্টিকের একটি টিউবকে (পারিসন) ছাঁচে রেখে তার ভেতরে বাতাস প্রবেশ করিয়ে (Blow) ফুলিয়ে ছাঁচের আকার দেওয়া হয়।
৩. এক্সট্রুশন (Extrusion): গলিত প্লাস্টিককে একটি নির্দিষ্ট আকৃতির ডাই (Die) বা ছিদ্রের মধ্য দিয়ে ক্রমাগত চেপে বের করা হয়। (উদাহরণ: প্লাস্টিক পাইপ, স্ট্র, পলিথিন ব্যাগ তৈরির ফিল্ম বা শীট)।
৪. থার্মোফর্মিং (Thermoforming): প্লাস্টিকের পাতলা শীটকে গরম করে নরম করা হয় এবং তারপর একটি ছাঁচের ওপর রেখে বায়ুচাপ বা ভ্যাকুয়ামের মাধ্যমে আকার দেওয়া হয়। (উদাহরণ: দইয়ের কাপ, ডিমের ট্রে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লেট)।
এইভাবেই অপরিশোধিত তেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারের প্লাস্টিক পণ্যগুলো তৈরি হয়।

04/11/2025

🚀যদি কোনোভাবে একটি মহাকাশযানের ভেতরে (যেখানে নভোচারীদের জন্য বাতাস বা অক্সিজেন আছে) আগুন লেগেই যায়, তবে সেই আগুন পৃথিবীর আগুনের মতো আচরণ করে না।
গোলাকার শিখা: পৃথিবীতে অভিকর্ষের কারণে গরম বাতাস হালকা হয়ে উপরে উঠে যায় এবং ঠান্ডা বাতাস নিচে নামে, ফলে আগুনের শিখা লম্বাটে দেখায়। মহাকাশে (মাইক্রোগ্রাভিটিতে) অভিকর্ষ না থাকায় আগুনের শিখা গোলাকার বা বলের মতো হয়।

04/11/2025

রাসায়নিকভাবে, আগুন হলো "দহন" (Combustion) নামক একটি দ্রুত রাসায়নিক বিক্রিয়ার দৃশ্যমান রূপ।
এটি একটি তাপ-উৎপাদী (Exothermic) বিক্রিয়া, অর্থাৎ এই বিক্রিয়ায় তাপ এবং আলো উৎপন্ন হয়। এই বিক্রিয়াটি মূলত কোনো জ্বালানি (Fuel) এবং একটি জারক (Oxidizer) পদার্থের (সাধারণত বাতাস থেকে আসা অক্সিজেন) মধ্যে ঘটে।
🔥 কোন কিছুতে কেন আগুন জ্বলে? (অগ্নি ত্রিভুজ)
কোনো কিছুতে আগুন জ্বলার জন্য তিনটি প্রধান উপাদান একসাথে থাকতে হয়। এই তিনটিকে "অগ্নি ত্রিভুজ" (Fire Triangle) বলা হয়।
* জ্বালানি (Fuel): এমন কোনো বস্তু যা পুড়তে পারে (যেমন: কাঠ, কাগজ, গ্যাস, তেল)।
* তাপ (Heat): জ্বালানিকে তার "জ্বলনাঙ্ক" (Ignition Point) পর্যন্ত গরম করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি। এটি হলো সেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যাতে কোনো বস্তু জ্বলে উঠতে পারে।
* অক্সিজেন (Oxygen): বাতাস থেকে আসা জারক পদার্থ, যা জ্বালানির সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে।
যখন এই তিনটি উপাদান একত্রিত হয়, তখন দহন বিক্রিয়া শুরু হয়। এই বিক্রিয়ায় যে তাপ উৎপন্ন হয়, তা আরও জ্বালানিকে গরম করে এবং বিক্রিয়াটি একটি "শৃঙ্খল বিক্রিয়া" (Chain Reaction) হিসেবে চলতে থাকে। আমরা এই শক্তিকেই তাপ ও আলো (শিখা) হিসেবে দেখি।
🚫 কোন উপাদানটি না থাকলে আগুন জ্বলবে না?
অগ্নি ত্রিভুজের যেকোনো একটি উপাদান সরিয়ে ফেললেই আগুন নিভে যাবে।
তবে, আপনার প্রশ্নের সবচেয়ে নির্দিষ্ট উত্তর হলো অক্সিজেন (Oxygen)।
আগুন একটি জারণ বিক্রিয়া (Oxidation)। অক্সিজেন হলো সেই প্রধান জারক মৌল (Oxidizing Agent), যা ছাড়া বেশিরভাগ দহন বা আগুন জ্বলা অসম্ভব।
* কেন? জ্বালানি পুড়ে শক্তি উৎপন্ন করার জন্য অক্সিজেনের সাথে রাসায়নিকভাবে মিলিত হতে হয় (যেমন: কার্বন অক্সিজেনের সাথে মিলে কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি করে)। যদি অক্সিজেন না থাকে, এই বিক্রিয়াটিই ঘটবে না।
এ কারণেই আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) স্প্রে করা হয়। CO2 আগুনের ওপর একটি আস্তরণ তৈরি করে বাতাস থেকে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, ফলে আগুন নিভে যায়।

04/11/2025

সাধারণত, এই ঘটনাটিকে "হট আইস" (Hot Ice) বা "গরম বরফ" বলা হয়।
এটি পানির একটি বিশেষ অবস্থা, যা সাধারণ বরফ (যাকে আমরা Ice Ih বলি) থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
এটি কীভাবে সম্ভব?
🔏 বরফের বিভিন্ন দশা (Phases of Ice): আমরা সাধারণত যে বরফ দেখি তা হলো পানির একমাত্র কঠিন রূপ। কিন্তু বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে অত্যন্ত উচ্চ চাপ প্রয়োগ করে পানির আরও অন্তত ১৭টি বিভিন্ন কঠিন রূপ বা 'দশা' (phase) আবিষ্কার করেছেন।
⏳চাপের প্রভাব: স্বাভাবিক বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বাষ্পে পরিণত হয় এবং ০° সেলসিয়াসে বরফে পরিণত হয়। কিন্তু যখন পানির ওপর প্রচণ্ড চাপ (হাজার হাজার গুণ বেশি) প্রয়োগ করা হয়, তখন এর অণুগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত হতে বাধ্য হয় যে এটি তরল থাকার পরিবর্তে কঠিন স্ফটিক বা বরফে পরিণত হয়—এমনকি ১০০° সেলসিয়াস বা তার চেয়েও বেশি তাপমাত্রায়।
🪶 সুপারআয়োনিক আইস (Superionic Ice): অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা (হাজার ডিগ্রি) এবং প্রচণ্ড চাপে (লক্ষ লক্ষ গুণ বেশি) পানির একটি বিচিত্র দশা তৈরি হয়, যাকে "সুপারআয়োনিক আইস" (Superionic Ice) বা "আইস ১৮" (Ice XVIII) বলা হয়। এই অবস্থায় অক্সিজেন পরমাণুগুলো একটি নির্দিষ্ট স্ফটিক কাঠামোতে আবদ্ধ থাকে, কিন্তু হাইড্রোজেন পরমাণুগুলো তরলের মতো তার মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে পারে। এই ধরনের বরফ গ্রহের কেন্দ্রে পাওয়া যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

Want your school to be the top-listed School/college?

Culinary Team

Attire

Telephone

Website