28/08/2026
অতিরিক্ত সহজলভ্যতা, আইন ও শাস্তি প্রয়োগের অভাব, প্রশাসনিক অসাধুতা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গাফিলতি এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কল্যাণে দেশের অলিগলি থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কিশোর থেকে প্রবীণ, গরীব থেকে ধনী সবার হাতের কাছে পৌঁছে গেছে মাদক। তিল তিল করে সমাজ তলিয়ে যাচ্ছে নেশার অতল গহ্বরে। গড়ে উঠছে এক বিবেকহীন, উগ্র ও বিপন্ন সমাজ।
আল্লাহ মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন তাঁর প্রদত্ত সবচেয়ে মূল্যবান আমানত—চিন্তাশক্তি, বিবেক ও বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে। যার সাহায্যে সে সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে পারে এবং ন্যায়ের পথ বেছে নিতে পারে। মাদকের প্রভাব ধীরে ধীরে আসক্ত ব্যক্তির চিন্তা ও বিবেক নষ্ট করতে থাকে। ধীরে ধীরে কমতে থাকে চেতনা ও বিচারবুদ্ধি। একসময় জীবনে নেমে আসে চরম নৈতিক অবক্ষয়। আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হয়ে ওঠে বেপরোয়া এবং উগ্র।
মাদক কেনার করার জন্য প্রয়োজন টাকা। আর এ টাকা যোগাড় করতে গিয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে আসক্ত ব্যক্তি মিথ্যা বলা থেকে শুরু করে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতির মত অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করে না। নেশার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে সে যখন নিজের আত্মাকে বিকিয়ে দেয়, তখন মারামারি, রক্তপাত, ধর্ষণ, এমনকি খুন করতেও তার হাত কাঁপে না। পরম মমতাময় আশ্রয় - নিজের পরিবার ও স্বজনেরাও এই নরকীয় হিংস্রতা থেকে রেহাই পায় না। একেকটা অপরাধ নতুন অপরাধের জন্য দেয়। আর সমাজের নৈতিকতা ডুবে যায় অতল গহ্বরে।
রাজনৈতিক নেতাদের অনৈতিক এবং অত্যাচারমূলক কাজগুলো করার জন্য কিছু বিবেকহীন এবং তাদের ইশারায় নাচবে এমন মানুষ দরকার। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে মাদক দিয়ে হাতের ইশারায় নাচানো যায় এবং এসব কাজও করানো যায়। তাই তারা চায় না কখনো সমাজে মাদকের কারবার বন্ধ হোক। তার ওপর এই ব্যবসায় লাভের পরিমাণও বেশি। তাই এসব নেতারা মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকাসক্তদের প্রশ্রয় দেয়, ক্ষমতা দেয়, আইন এবং শাস্তির পাকড়াও থেকে অভয় দেয়। মাদকে বিবেক নষ্ট হয়ে বেপরোয়া হয়ে যাওয়া ব্যক্তি শাস্তির অভয় এবং ক্ষমতা পেয়ে অপরাধ করতে আর দুইবার ভাবে না।
দুর্ভাগ্যজন সত্য হলো, আমাদের সমাজ এভাবেই সাজানো যে, যেকেউ খুব সহজেই মাদকের এক্সেস পেতে পারে। কারো কোন জবাবদিহিতা নেই, আইন ও শাস্তির ভয় নেই। মাদকাসক্ত হয়ে বেড়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। এই সিস্টেম যতদিন চলমান থাকবে, যতদিন এই অনৈতিক রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া যাবে না, মাদক ব্যবসায়ীদের দমন করা যাবে না, মাদক চক্রের লোকেদের চিহ্নিত করে শাস্তি আওতায় আনা যাবে না, যতদিন পরিবার এবং সমাজ মাদক নিয়ে সচেতন হবে না, রাষ্ট্র আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করবে না, ততদিন এই সিস্টেম মাদকাসক্ত সহ নানান অপরাধী এবং অপরাধের উৎপাদন করে যাবে। এবং ততদিন এই সমস্যার সমাধান সম্ভব না।
- আজাদী
Send a message to learn more