14/05/2025
১. বৃহস্পতিবার বিকালের মাঝে মোটামুটি সবাই যে শহরে সিট পড়েছে, সেই শহরে থাকবা। বাড়ি থেকে কেন্দ্রে আসতে ২ ঘণ্টার বেশি লাগে এমন হলে, চেষ্টা করবা কেন্দ্রের কাছাকাছি কারো বাসা/হোটেলে এসে থাকার।
পরীক্ষার আগে ২-৩ ঘণ্টার জার্নি ভালো কোনো বিষয় না।
২. রাতেই প্রয়োজনীয় কাগজপাতি গুছায়ে রাখবা। ফাইল বেশিরভাগ হলেই নিতে দেয় না। যদি নিতেই চাও, সাদা (ট্রান্সপ্যারেন্ট) ফাইল ও সাদা স্কেল নিবা। এই দুইটা কাজের কোনো জিনিস না। এডমিট কার্ডের রঙিন কপি (আবারও মনে করায়ে দিচ্ছি, রঙিন কপি), এইচএসসির রেজিস্ট্রেশন কার্ড/এডমিট কার্ডের মেইন কপি (মেইন কপি না থাকলে অন্তত রঙিন ফটোকপি) আর তিনটা কলম (মোটামুটি ইউজড) রেডি করে রেখে দিবা। ঘড়ি নিতে দেয় না। বাহুল্য কোনো জিনিস ক্যারি করে নিয়ে প্যানিকড হওয়ার দরকার নাই।
৩. এক্সাম হবে ভেন্যুতে, কেন্দ্রে নয়। কোনোভাবেই ভুল করে কেন্দ্রে চলে যাবা না। ধরো, তোমার এডমিট কার্ডে লেখা আছে,
Centre: Barishal Nursing College
Venue: B.M. College এর কোনো হল
তাহলে বিএম কলেজে যাবা।
৪. প্রশ্ন হাতে পেয়ে নিজের রোল, সিরিয়াল সঠিকভাবে লিখবা (এটা ভুল হলে সবই শেষ)। নিজের স্বাক্ষর করবা। এক্সট্রা কিছু প্রশ্নে বলে দিলে, তাও করবা।
৫. সিরিয়ালি ১-১০০ পর্যন্ত সবগুলা প্রশ্নের মধ্যে যেগুলা শিউরলি পারবা উত্তর করতে থাকবা। যেগুলা পারবা না স্কিপ করে যাবা। যেগুলা ভেবে উত্তর করতে হবে বা ক্যালকুলেশন আছে, তাও রেখে যাবা। এভাবে ১০০ পর্যন্ত উত্তর করা হলে, যেগুলা রেখে আসছিলা, ভেবে উত্তর করতে হবে যেগুলা, তার উত্তর করবা। সবশেষে, যেগুলা একেবারেই পারো না, আন্দাজ করে করে উত্তর করে আসবা। লিল্লাহি ভরসা 😉। কোনোক্রমেই, ১০০ টা উত্তর না করে আসবা না। নেগেটিভ মার্ক তো তোমাদের নেই।
৬. উপরের স্টেপগুলা পড়ে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রায় সব দায়িত্বশীল টিচাররাই অনেক ফ্রেন্ডলি হয়। কোনো কিছু ভুল হলে, স্যারকে বলবা। স্যার একটা সমাধান দিবেন। নিজে আগ বাড়িয়ে কিছু করতে যাবা না।
৭. বৃহস্পতিবার রাতে, ঘুম না আসা পর্যন্ত পড়বা। জোর করে আগে আগে ঘুমাতে যাওয়ার দরকার নেই। এগুলা বেহুদা কথা। আমার মেডিকেল এডমিশনের আগের রাতে আমি ৩ টায় ঘুমাইছি। আবার ৬ টায় উঠে গেছি। ঘুম আসতেছিলো না।
যারা এত্তগুলা দিন পরিশ্রম করেছো, ঘুম আসবে না এটাই স্বাভাবিক। যখন মনে হবে, ঘুম পাচ্ছে তখন ঘুমাবা। ব্যাস।
৮. এক্সাম হলের প্রেসার একটা বড় ইফেক্ট ফেলে। এইটা হ্যান্ডল করতে পারতে হবে। চাইলে, এখনই একটু ভিজুয়ালাইজ করতে পারো। ভাববা, তুমি এক্সাম হলে আছো। তোমার মতোই অনেক স্টুডেন্ট আশেপাশে। তুমি কিছু প্রশ্ন পারছো না। কিছু পারছো। একটা পারা প্রশ্ন ভুল দাগালা। এমন নানা দৃশ্য ভেবে ব্রেইনরে ট্রেইন করাইতে পারো। এটা একটা সুন্দর উপায় এক্সাম হল প্রেসার মিনিমাইজ করার জন্য। আবার এটা করতে গিয়ে রিভিশনটা নষ্ট কইরো না।
হলে গিয়ে শুরুতেই ঘাবড়ে গেলে, ব্রিদিং এক্সারসাইজ করতে পারো। নিজেকে শান্ত করা যায়। জোরে নাক দিয়ে শ্বাস নিবা, পেটের মুভমেন্ট হয় এমন জোরে। ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিবা, ২ সেকেন্ড ধরে রাখবা, আবার ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়বা। কেবল শ্বাসপ্রশ্বাসের দিকেই ফোকাস দিবা। দেখবা, টেনশন কম হচ্ছে।
৯. এসব কোনোটাই কাজে লাগবে না, যদি তকদির তোমার পক্ষে না থাকে। তাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবা। এরপর সৃষ্টিকর্তার নিকট সবটা ছেড়ে দিবা।
ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে। আল্লাহ ভরসা।