27/05/2026
ঈদুল আযহার দিন উপলক্ষে পালনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও আমল:
ঈদুল আযহা বা কুরবানির ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক মহান ত্যাগের দিন। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে রাসুলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম বেশ কিছু আমল ও সুন্নাত পালন করতেন। ঈদের দিনটিতে সর্বোচ্চ সওয়াব ও বরকত লাভে নিচে উল্লেখিত সুন্নাতগুলো আমরা যত্নসহকারে পালন করতে পারি:
১. ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা
ঈদের দিন ভোরে উঠে ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা সুন্নত।
২. গোসল করা
ঈদের নামাজের আগে সুন্দরভাবে গোসল করা সুন্নত। সাহাবায়ে কেরাম এ আমল করতেন।
৩. মিসওয়াক করা ও পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন
দাঁত পরিষ্কার করা, নখ কাটা, চুল গোছানো এবং পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করা সুন্নত।
৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা
ঈদের দিন পুরুষদের জন্য উত্তম সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।
৫. উত্তম পোশাক পরিধান করা
নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা সুন্নত। তবে তা যেন অহংকার বা অপচয়ের পর্যায়ে না পড়ে।
৬. ঈদুল আযহায় নামাজের আগে কিছু না খাওয়া
ঈদুল ফিতরে নামাজের আগে খাওয়া সুন্নত হলেও ঈদুল আযহায় কুরবানির গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে নামাজের আগে কিছু না খাওয়া মুস্তাহাব/সুন্নত। নামাজ শেষে কুরবানির গোশত দিয়ে প্রথম খাবার গ্রহণ করা উত্তম।
৭. তাকবীরে তাশরীক পড়া
৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতি ফরজ নামাজের পর একবার পড়া ওয়াজিব—
> **اَللهُ أَكْبَرُ اَللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اَللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ**
বাংলা উচ্চারণ: “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”
অর্থ: “আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান; সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।
৮. তাকবীর বলতে বলতে ঈদগাহে যাওয়া
বিশেষ করে ঈদুল আযহায় ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে (পুরুষদের জন্য) তাকবীর উচ্চারণ করতে করতে যাওয়া উত্তম।
৯. ঈদগাহে যাওয়া
সম্ভব হলে (কিংবা শরিয়তসম্মত বড় কোনো ওজর না থাকলে) খোলা ময়দান বা ঈদগাহে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করা সুন্নত।
১০. এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া ও অন্য রাস্তা দিয়ে ফিরে আসা
রাসূল ﷺ ঈদের নামাজে যাওয়া ও ফেরার জন্য ভিন্ন ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করতেন, যা অন্যতম একটি সুন্দর সুন্নাহ।
১১. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করা
ঈদের নামাজ শেষে ইমাম সাহেবের খুতবা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে শ্রবণ করা সুন্নত। খুতবা চলাকালীন কথা বলা বা অন্য কাজে লিপ্ত হওয়া নিষেধ।
১২. কুরবানি করা
সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য কুরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ঈদের নামাজ আদায়ের পরপরই কুরবানি করতে হবে; নামাজের পূর্বে পশু জবেহ করলে কুরবানি আদায় হবে না।
১৩. কুরবানির গোশত বণ্টন করা
গোশতের একটি অংশ নিজে রাখা, একটি অংশ আত্মীয়স্বজনকে দেওয়া এবং একটি অংশ গরিবদের মাঝে বণ্টন করা উত্তম ও মুস্তাহাব।
১৪. আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সাথে সদাচরণ
সালাম, শুভেচ্ছা বিনিময়, সম্পর্ক রক্ষা ও গরিবদের খোঁজখবর নেওয়া ঈদের সৌন্দর্য ও অন্যতম দায়িত্ব।
ঈদের সুন্নাতী শুভেচ্ছা
ঈদের দিন একে অপরের সাথে দেখা হলে সাহাবায়ে কেরাম যে দোয়া বিনিময় করতেন—
> **تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنكُمْ**
বাংলা উচ্চারণ: “তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।”
অর্থ: আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের আমল/নেক কাজগুলো কবুল করুন।
27/05/2026
تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّا وَمِنكُمْ
(তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম)
অর্থ :"আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের নেক আমল গুলো কবুল করুন!
May Allah accept our & your good deeds!
18/05/2026
🌙 জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ আমল
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“জিলহজের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো আমল নেই।”
— সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৬৯
জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন ইসলামের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ সময়। এই দিনগুলোতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা, দান-সদকা ও আল্লাহর স্মরণে নিজেকে ব্যস্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ আমল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
---
১️⃣ বেশি বেশি জিকির করা
এই দিনগুলোতে আল্লাহর প্রশংসা ও স্মরণে বেশি সময় ব্যয় করা উচিত।
পাঠযোগ্য জিকিরসমূহ:
سبحان الله (সুবহানাল্লাহ)
الحمد لله (আলহামদুলিল্লাহ)
لا إله إلا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)
الله أكبر (আল্লাহু আকবার)
উপকারিতা:
জিকির হৃদয়কে প্রশান্ত করে, ঈমান বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হয়।
২️⃣ তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা
৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর একবার করে পড়া ওয়াজিব (অনেক আলেমের মতে)।
তাকবীরে তাশরীক:
الله أكبر الله أكبر لا إله إلا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد
উচ্চারণ:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
৩️⃣ নফল রোজা রাখা
জিলহজের প্রথম ৯ দিন রোজা রাখা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। বিশেষ করে যারা হজে নেই, তারা এই রোজা রাখতে পারেন।
বিশেষ গুরুত্ব: ৯ জিলহজ অর্থাৎ আরাফার দিনের রোজা।
৪️⃣ আরাফার দিনের রোজা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“আরাফার দিনের রোজা পূর্বের এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়ে যায়।”
— সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২
কার জন্য:
যারা হজে নেই, তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।
৫️⃣ কোরবানিদাতার জন্য চুল ও নখ না কাটা
যিনি কোরবানি করার নিয়ত করেছেন, তিনি জিলহজের চাঁদ দেখা থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত চুল, নখ ও শরীরের অপ্রয়োজনীয় পশম না কাটবেন।
হাদিস ভিত্তি: সহিহ মুসলিম।
৬️⃣ বেশি বেশি নফল ইবাদত করা
এই দিনগুলোতে সাধারণ দিনের তুলনায় বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত।
যেমন:
তাহাজ্জুদ নামাজ
নফল সালাত
কুরআন তিলাওয়াত
দোয়া
দরুদ শরিফ
৭️⃣ কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন
প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা এবং এর অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করা।
পরামর্শ:
প্রতিদিন অন্তত ১–২ রুকু বা নির্দিষ্ট সময় কুরআনের জন্য বরাদ্দ করুন।
৮️⃣ তওবা ও ইস্তিগফার
অতীতের গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং আল্লাহর কাছে ফিরে আসা।
পাঠ করুন:
أستغفر الله
رب اغفر لي وتب علي إنك أنت التواب الرحيم
৯️⃣ দান-সদকা করা
গরিব, এতিম, মিসকিন, প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সাহায্য করা।
দান হতে পারে:
অর্থ
খাবার
পোশাক
শিক্ষা সহায়তা
🔟 কোরবানি করা
সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
সময়:
১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত (কিছু মতে ১৩ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত)।
উদ্দেশ্য:
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত অনুসরণ।
১️১️⃣ ঈদুল আজহার নামাজ আদায়
১০ জিলহজ জামাতের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করা এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা।
সুন্নতসমূহ:
গোসল করা
উত্তম পোশাক পরা
সুগন্ধি ব্যবহার করা
ভিন্ন পথে যাতায়াত করা
✨ অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা
পিতা-মাতার খেদমত করা
বেশি বেশি দোয়া করা
দরুদ শরিফ পাঠ করা
📖 সংক্ষিপ্ত আমল পরিকল্পনা
সময় করণীয়
ফজরের পর জিকির ও কুরআন তিলাওয়াত
দিনের বেলা রোজা, দান-সদকা
প্রতি ফরজ নামাজের পর তাকবীরে তাশরীক
রাতের বেলা তওবা, ইস্তিগফার, তাহাজ্জুদ
---
🤲 দোয়া
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জিলহজের প্রথম দশ দিনের ফজিলতপূর্ণ আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
School of Excellence
17/05/2026
আসুন একটু একটু করে নবিজির ﷺ রঙে জীবনটাকে রাঙাই!
যারা যারা আমল করতে নিয়ত করেছেন তারা পোস্টটিতে লাইক দিন!
পোস্টটিকে শেয়ার করে অন্যকে জানার ও মানার সুযোগ করে দিয়ে, সদকায় জারিয়ার সোয়াব অর্জন করুন!
পবিত্র জিলহজ্জ মাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচী ও আমল 🌙
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ১৮ মে সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে নিচের হিসাবটি প্রস্তুত করা হয়েছে। চাঁদ দেখা না গেলে হিসাব ১ দিন পিছিয়ে যাবে।
✂️ ১. চুল, নখ ও পশম কাটার শেষ সময়
১৮ মে সন্ধ্যার পর থেকে জিলহজ্জ মাস শুরু হওয়ার আগেই যারা কুরবানি করার নিয়ত করেছেন, তাদের জন্য চুল, নখ ও অপ্রয়োজনীয় পশম পরিষ্কার করার শেষ সময়। (চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি করার পূর্ব পর্যন্ত এগুলো আর কাটা যাবে না)।
📅 ২. প্রথম ৯ দিনের নফল রোজা
১৯ মে থেকে ২৭ মে = মোট ৯ দিন
জিলহজ্জ মাসের প্রথম ৯ দিন নফল রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। সামর্থ্য থাকলে এই দিনগুলোতে রোজা রাখার চেষ্টা করুন।
🕋 ৩. আরাফার দিনের রোজা (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)
২৭ মে (৯ জিলহজ্জ), বুধবার
এই একদিনের রোজা বিগত এক বছর এবং আগামী এক বছরের গুনাহের কাফফারা স্বরূপ (ইনশাআল্লাহ)। তাই এই রোজাটি কোনোভাবেই মিস করবেন না।
🚫 ৪. যে দিনগুলোতে রোজা রাখা হারাম
২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ মে = মোট ৪ দিন
ঈদুল আজহার দিন (১০ জিলহজ্জ) এবং এর পরের তিন দিন (আইয়ামে তাশরিক) রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম।
🎉 ৫. পবিত্র ঈদুল আজহা
২৮ মে (১০ জিলহজ্জ), বৃহস্পতিবার
🌙 ৬. আইয়ামে বিয-এর রোজা (জিলহজ্জ মাসের জন্য বিশেষ সময়)
১, ২ ও ৩ জুন (১৪, ১৫ ও ১৬ জিলহজ্জ)
প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখা সুন্নাত হলেও, জিলহজ্জ মাসে ১৩ তারিখে রোজা রাখা হারাম (আইয়ামে তাশরিকের অন্তর্ভুক্ত) হওয়ায়—এই মাসের জন্য আইয়ামে বিয-এর রোজা ১৪, ১৫ ও ১৬ জিলহজ্জ পালন করতে হবে।
📿 তাকবিরে তাশরিক (ওয়াজিব আমল)
সময়সীমা: ২৭ মে ফজর নামাজ থেকে শুরু করে ৩১ মে আসর নামাজ পর্যন্ত (মোট ২৩ ওয়াক্ত)।
নিয়ম: প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর ১ বার এই তাকবিরটি বলা ওয়াজিব:
اللهُ أَكْبَرُ ، اللهُ أَكْبَرُ ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ ، وَاللهُ أَكْبَرُ ، اللهُ أَكْبَرُ ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ
(আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।)
🤲 জিলহজ্জ মাসের বিশেষ দুআ ও জিকির
এই বরকতময় দিনগুলোতে বেশি বেশি এই তাওহীদের বাণীটি পাঠ করুন:
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।)
সৌজন্যে: School of Excellence
(SOEfamily.com)
11/05/2026
আসুন আজ আমরা নিজেদের সম্পর্কে জানি! মানে বরিশাল সম্পর্কে!
বরিশালের সুপ্রাচীন ইতিহাস এবং এর বর্তমান রূপকে একীভূত করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নিচে তুলে ধরা হলো:
# # বরিশাল: ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির এক অনন্য আখ্যান
বরিশাল বাংলাদেশের একটি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ। অসংখ্য নদী, খাল এবং শস্য-শ্যামল প্রকৃতির আড়ালে এখানে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের বিচিত্র ইতিহাস। একে যেমন **'বাংলার ভেনিস'** বলা হয়, তেমনি এর উর্বরতার জন্য এটি **'বাংলার শস্যভাণ্ডার'** হিসেবেও সুপরিচিত।
# # # ১. ঐতিহাসিক পটভূমি ও নামের উৎপত্তি
প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি **চন্দ্রদ্বীপ** নামে পরিচিত ছিল। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে দনুজমর্দন দেব এখানে একটি স্বতন্ত্র রাজ্য স্থাপন করেন। মধ্যযুগে এটি পর্তুগিজ ও আরব বণিকদের কাছে **'বাকলা'** নামে পরিচিত ছিল।
* **নামের রহস্য:** 'বরিশাল' নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মত আছে। অনেকে মনে করেন বড় বড় লবণের গোলা বা **'আইল'** থেকে 'বরিশাল' (বড়+আইল) নামটি এসেছে। আবার পর্তুগিজ শুল্ক আদায়কারী **'বরিশেল'**-এর নাম থেকেও এর উৎপত্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
# # # ২. প্রশাসনিক বিবর্তন ও ব্রিটিশ শাসন
১৭৯৭ সালে এটি **'বাকেরগঞ্জ'** জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ১৮০১ সালে এর সদর দপ্তর বর্তমান বরিশাল শহরে স্থানান্তরিত হয়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বরিশাল ছিল এক দুর্ভেদ্য দুর্গ। অশ্বিনী কুমার দত্তের নেতৃত্বে এখানকার স্বদেশী আন্দোলন সারা বাংলায় সাড়া ফেলেছিল। ১৯৯৩ সালে এটি দেশের ষষ্ঠ বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
# # # ৩. অর্থনীতি: ধান, নদী ও খালের সার্থকতা
প্রবাদ আছে— ***"ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল"***। এখানকার নদীমাতৃক ভৌগোলিক অবস্থান একে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
* **শস্যভাণ্ডার:** এক সময় বিখ্যাত 'বালাম' চালের প্রধান উৎস ছিল এই অঞ্চল।
* **মৎস্য ও ফল:** মেঘনা-তেঁতুলিয়ার সুস্বাদু ইলিশ এবং ঝালকাঠি-পিরোজপুর অঞ্চলের বিশাল পেয়ারা বাগান ও ভাসমান হাট বরিশালের অর্থনীতির প্রাণ। বিশেষ করে ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার পর্যটকদের কাছে এক বড় আকর্ষণ।
# # # ৪. শিক্ষা, সাহিত্য ও মনীষীদের ভূমি
বরিশালকে এক সময় **'বাংলার অক্সফোর্ড'** বলা হতো। এই মাটি জন্ম দিয়েছে অসংখ্য কিংবদন্তি:
* বাংলার বাঘ **শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক**।
* রূপসী বাংলার কবি **জীবনানন্দ দাশ**, যাঁর কবিতায় ধানসিঁড়ি নদীর রূপ অমর হয়ে আছে।
* বিপ্লবী নেত্রী **সুফিয়া কামাল** এবং যুক্তিবাদী দার্শনিক **আরজ আলী মাতুব্বর**।
# # # ৫. দর্শনীয় স্থাপত্য ও লোকজ সংস্কৃতি
বরিশালের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে প্রাচীন ও আধুনিক স্থাপত্যের নিদর্শন:
* **স্থাপত্য:** মনোমুগ্ধকর **গুতিয়া মসজিদ**, ঐতিহাসিক **দুর্গাসাগর দীঘি** এবং এশিয়ার অন্যতম সুন্দর **অক্সফোর্ড মিশন গির্জা**।
* **সংস্কৃতি:** এখানকার আঞ্চলিক ভাষা ও লোকজ জীবনযাত্রা অত্যন্ত প্রাণবন্ত। নদীকেন্দ্রিক জীবন হওয়ার কারণে এখানকার মানুষের সংস্কৃতিতে সাহসিকতা ও উদারতার এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়।
**উপসংহার:**
বরিশাল কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, এটি বাংলার লোকজ ঐতিহ্য এবং সংগ্রামী ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। এর নদী-নালা আর সবুজ প্রকৃতি আজও জীবনানন্দ দাশের কবিতার মতো শান্ত ও মায়াবী এক আবহের সৃষ্টি করে।
10/05/2026
তিনি আমার মা! শুধু এই কারনেই প্রতিটি দিন তার! এমন কি প্রতিটি মুহূর্ত ও!
কোরআনে বর্ণিত পিতা-মাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দোয়া:
১. ছোটবেলা থেকে লালন-পালনের জন্য রহমতের দোয়া
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
উচ্চারণ: রব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানী সাগীরা।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমার পিতা-মাতার প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।
সূরা: Quran ১৭:২৪
২. নিজের ও পিতা-মাতার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতার দোয়া
رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ
উচ্চারণ: রব্বি আওযি‘নী আন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতী আন‘আমতা ‘আলাইয়া ওয়া ‘আলা ওয়ালিদাইয়া।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাওফিক দিন যাতে আমি আপনার সেই অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারি, যা আপনি আমার ও আমার পিতা-মাতার উপর দান করেছেন।
সূরা: Quran ৪৬:১৫
৩. ঈমানদার পিতা-মাতার জন্য ক্ষমার দোয়া
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ
উচ্চারণ: রব্বানাগফিরলী ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিল মু’মিনীন ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিসাব।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিনকে ক্ষমা করুন, যেদিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে।
সূরা: Quran ১৪:৪১
৪. সাধারণ ক্ষমা ও রহমতের দোয়া
رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِوَالِدِينَا
উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা ওয়া লিওয়ালিদাইনা।
অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।
সূরা: Quran ৭১:২৮ (বিস্তৃত দোয়ার অংশ)
সংক্ষিপ্ত ও সর্বাধিক পাঠযোগ্য দোয়া
رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
এই দোয়াটি প্রতিদিন নিয়মিত পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
হে আল্লাহ! আমাদের পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন, সুস্থ রাখুন, দীর্ঘায়ু দান করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউস নসীব করুন। (ﷺ) আমিন ।
15/12/2025
Alhamdulillah, Our bright student Rohan gazi has got the chace in Barishal Zila school.
We wish him great success in his life.