01/08/2025
PR নিয়ে দশটি কথা::
১. পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে জনগণকে জিম্মি করে অবৈধ নির্বাচন দিয়ে ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকারের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবৈধ সাপোর্টের প্রয়োজন হবে না, ফলে নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি বরাদ্দ ও প্রমোশন পদোন্নতির প্রয়োজন পড়বে না এবং কোন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি দূরনিতি, ঘুষ বা কোন অন্যায় কাজ করে তাহলে তার উপযুক্ত শাস্তি পাবে । ফলে দুর্নীতি, ঘুষ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার অনেকাংশেই কমে যাবে।
২. পিআর পদ্ধতি চালু হলে রাজনৈতিক দলগুলোর পাতি নেতা, ছেচড়া নেতা, মাস্তান বা সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে যাবে এবং রাজনৈতিক দলগুলো এদেরকে পোষবে না এবং সকল সাধারণ নাগরিকগণ সমান গুরুত্ব পাবে।
বর্তমান সমাজে যত ধরনের অন্যায় কাজ হয়
যেমন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, জমিদখল, ক্ষমতা হীন দলের সমর্থকদের উপর অত্যাচার, সাধারণ নাগরিকের উপর অত্যাচার, সমাজের সঠিক ও ন্যায়বিচার না করা এই ধরনের সকল কাজেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আশ্রয় হয়ে থাকে । পিয়ার পদ্ধতি চালু হলে এ ধরনের অন্যায় কাজ অনেকটাই কমে যাবে।
৩. কোন রাজনৈতিক দল ৩৫% ভোটের বিপরীতে ৯০% সংসদীয় আসন দখল করে সংসদে নিজেদের মতো করে সংবিধান, আইন ও নির্বাচন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নিজেদের মতো করে দেশ চালাতে পারবেনা। বাকি ৬৫% সাধারণ মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার জুলুম করতে পারবে না।
৪. পিআর পদ্ধতি চালু হলে আইন বিভাগ এবং বিচার বিভাগ অনেকটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে ফলে অপরাধীর সঠিক শাস্তি নিশ্চিত হবে। ভুক্তভোগীরা সঠিক বিচার পাবে।
৫. পিআর পদ্ধতিতে সরকার গঠিত হলে সরকারের জবাবদিহিতা বাড়বে, সংসদে সরকারি দল সবসময় চাপে থাকবে ফলে কোন সরকার জালিম সরকারে পরিণত হওয়ার সুযোগ থাকবে না।
৬. বর্তমান পদ্ধতিতে নির্বাচনীনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই যে মারামারি কাটাকাটি ভাঙচুর লুটপাট শুরু হয় সেটা থাকবে না ।
৭. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংগঠন নামে সন্ত্রাসী সংগঠন গঠিত হবে না। সকল ছাত্রের সহাবস্থান বজায় থাকবে। সাধারণ ছাত্রদের আবরার, বিশ্বজিৎ কিংবা নোমানীর মত হত্যাকান্ডের শিকার হতে হবে না।
৮. পিআর পদ্ধতির সম্ভাব্য অসুবিধা হলো সংসদ প্রতিনিধির সাথে জনগণের সরাসরি ইন্টারেকশন কম হওয়া ।এক্ষেত্রে বর্তমান পদ্ধতিতে আসলে কি হয় ? একজন সংসদ সদস্য এলাকায় কতবার যায় ? এলাকায় গিয়ে দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে রাস্তাঘাট, কালভাট ও ব্রিজের টেন্ডার, চালগম রেশন ভাগ করে দেওয়া ছাড়া আর কি করে? কোন সাধারণ জনগণ কি আদৌ কোন এমপির সাথে দেখা করতে পারে? আসলে বর্তমান পদ্ধতিতে একজন সংসদ সদস্য এলাকায় গিয়ে তার নেতা পেতা ছাড়া আর কারো সাথেই দেখা সাক্ষাত করে না। পাশাপাশি তার বিপক্ষ দলের নেতাকর্মীদের উপর মিথ্যা মামলা, অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম ও নির্যাতন নির্যাতন করে। পিয়ার পদ্ধতি হলে এগুলোও থাকবে না।
৯. অনেকের মতে পিআর পদ্ধতি হলে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের নিকট জবাবদিহিতা থাকবে না। বর্তমান পদ্ধতিতে কোন সংসদ সদস্যের জবাবদিহিতা কি আদৌও ছিল?? বর্তমান পদ্ধতিতেতো জনগণের ভোটেরই প্রয়োজন পড়ে না সে ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা কই থেকে আসে।
১০. পিআর পদ্ধতিতে আরেকটি সম্ভাব্য অসুবিধা হলো জনপ্রতিনিধি কারা হবে তা পুরোটাই রাজনীতি দলের প্রধানের উপর নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে বর্তমানে পদ্ধতিতে কি আসলে এর ব্যতিক্রম হয়? বিগত সরকারের আমলে আমরা কি দেখেছি নমিনেশন পাইতো কারা? যে নেতা বিরোধী দলের যত বেশি বদনাম করতে পারত, যত বেশি গালাগালি দিতে পারত এবং রাস্তায় ফালাইয়া যত বেশি মাইর দিতে পারতো নমিনেশনে সেই তত বেশি আগায়া থাকতো। আর আত্মীয় কোটা থাকলে তো কোন কথাই নাই নমিনেশন ফাইনাল এবং যার যত টাকা আছে নোমিনেশন তার কাছে। আদৌ ওই নেতার জনপ্রিয়তা আছে কিনা অথবা টাকা কিভাবে কামাইল ঐটা কোন ব্যাপার না।