11/08/2026
আমাদের বিদ্যালয় থেকে এই বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মোট ৬১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিল। নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪৫ জন সফলভাবে কৃতকার্য হয়েছে, যা আমাদের সামগ্রিক পাসের হারকে ৭৩.৭৭ শতাংশে দাঁড় করিয়েছে।
এবারের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে একমাত্র জিপিএ ৫.০০ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে কৃতি শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ (রোল: ১০১৭৩৯)। ফাহিমকে আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা!
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ: আমাদের বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বেশ ভালো ফলাফল করেছে।
বিজ্ঞান বিভাগ: ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন পাস করেছে (পাসের হার ৮৪.২১%)।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন পাস করেছে (পাসের হার ৮৪.২১%)।
মানবিক বিভাগ: এই বিভাগের পাসের হার কিছুটা আশঙ্কাজনক। ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৩ জন (পাসের হার ৫৬.৫২%)। ৮ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পারেনি এবং ২ জন অনুপস্থিত ছিল।
বিষয়ভিত্তিক সফলতা ও দুর্বলতার দিকসমূহ: ফলাফলের ডাটাবেস গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিশেষ দিক উঠে আসে যা আমাদের
পরবর্তী ব্যাচগুলোর জন্য খুবই শিক্ষণীয়:
১. ইংরেজির বাধা: নিয়মিত পরীক্ষা দেওয়া ৫৮ জনের মধ্যে ৯ জন শিক্ষার্থী ইংরেজিতে আটকে গেছে। আমাদের পাসের হার কমার পেছনে এটিই সবচেয়ে বড় কারণ।
লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো, এই ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই মানবিক বিভাগের এবং ২ জন ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের।
২. বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চতর গণিত ও জীববিজ্ঞান: বিজ্ঞান বিভাগের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্চতর গণিতে ৪ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এদের মধ্যে ৩ জন শিক্ষার্থীর উচ্চতর গণিত তাদের ৪র্থ বা ঐচ্ছিক বিষয় হওয়ায় অন্যান্য সব বিষয়ে পাস করে সামগ্রিকভাবে এসএসসি উত্তীর্ণ হতে পেরেছে।
এছাড়া, জীববিজ্ঞান বিষয়ে কৃতকার্য হতে পারেনি ২ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে ১ জন শিক্ষার্থী উচ্চতর গণিতে ভালো ফল করলেও আবশ্যিক জীববিজ্ঞানে আটকে গেছে এবং অন্য ১ জন জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিত উভয় বিষয়েই কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি।
৩. ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের চিত্র: ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৩ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এদের মধ্যে ১ জন সাধারণ গণিতে এবং অন্য ২ জন ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ে আটকে গেছে। তবে আশার কথা হলো, এই বিভাগের কোনো শিক্ষার্থী হিসাববিজ্ঞান বা ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ে ফেল করেনি, এই দুটি বিষয়ে আমাদের পাসের হার শতভাগ।
৪. শতভাগ পাসের সাফল্য: আমাদের শিক্ষার্থীরা বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। এই ৪টি বিষয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও ফেল করেনি।
স্কুলের অন্যতম সেরা সাফল্য! সাধারণ গণিত (Mathematics) পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ৫৮ জনের মধ্যে ১ জন ফেল (পাসের হার ৯৮.২৮%)। (ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের রোল ৪০১০৭৭ ফেল করেছে)।
ভবিষ্যতের জন্য করণীয়: আমাদের মানবিক বিভাগের যে শিক্ষার্থীরা কৃতকার্য হতে পারেনি, তাদের একটি বড় অংশই কেবল ইংরেজিতে ফেল করেছে। ইংরেজিতে একটু বিশেষ যত্ন, নিয়মিত অতিরিক্ত ক্লাস এবং বছরের শুরু থেকেই পরীক্ষা ভীতি দূর করার উদ্যোগ নিলে বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পাসের হার সহজেই ৮৫% থেকে ৯০% করা সম্ভব।
অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের ভেঙে পড়ার কিছু নেই। সাময়িক এই ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠে তোমরা আগামীতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে—এই বিশ্বাস আমাদের আছে।
বিদ্যালয়ের এই ফলাফলের পেছনে যেসকল শিক্ষক ও অভিভাবক অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।
Credit: Claude AI, Google Notebook, Gemini