02/05/2025
২৮/৪/২৫ তাং সোমবার মাদরাসায় যা ঘটেছিলো।
সেদিন ৯.৩০ এর দিকে আমার অফিস থেকে দেখি , জনাব ক্বারী আবু তৈয়্যব সাহেব সঙ্গে আরো দুই একজন।দূর থেকে পুরোপুরি চেনা যায়নি। হেফজখানার সামনে পায়চারী করছেন। পাশে দু-জন পুলিশ দেখে আমি অফিস থেকে বের হয়ে ক্বারী আবু তৈয়্যব সাহেব
কে বললাম অফিসে আসেন। তিনি তখন প্রচন্ড ঝাঁকুনি দিয়ে বলেলেন- তালা মারছে কে? আমি বলি, তালা তো মেরেছে সভাপতি। কেন তালা মারছে? খুব রাগান্বিত ও উদ্যত হয়ে বললেন আমি তালা ভাঙবো। তার অবস্থা দেখে আমার ভয় হচ্ছিল উনি পড়ে যান কিনা।
আমি বলি, পারলে ভাঙ্গেন। পাশে ছিলো তার ভাতিজা। তার ভয়ংকর রুপ কি হতে পারে তাকে যারা চিনেন নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পেরেছেন। তখন আমাকে মাওলানা আশরাফ বলেন, চলেন আমাদের এখানে থাকার প্রয়োজন নেই। এক প্রকার জোর করেই আমাকে সেখান থেকে অফিসে নিয়ে আসে।
এর কিছু সময় পরে কে যেন বলল হেফজখানায় মারামারি বাধছে।
এরপর বিশ্বস্ত সূত্রে জানলাম, হেফজখানার তালা খুলে সাবেক অধ্যক্ষ ও তার ভাই জনাব ক্বারী আবু তৈয়্যব সাহেব বাকবিতন্ডা করতে করতে সিড়ি দিয়ে দোতলায় উঠেন। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তারা হাতাহাতি শুরু করে, তখন অনেকে থামানোর চেষ্টা করে। কেউ কেউ সাবেক প্রিন্সিপালকে ধরে রাখছে ( এলাকাবাসি ও ছাত্ররা)। ঠিক তখনই হাঃ জাকারিয়া এবং আরো দুএকজন ক্বারী সাহেবকে থামানোর চেষ্টা করে, কিন্তু অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে পিছন থেকে ধাক্কা আসলে জাকারিয়াসহ ক্বারি আবু তৈয়্যব সাহেব একটি ডেস্কে বেধে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলে, মাদরাসার দাখিল পরীক্ষার্থী ছাত্র হাফেজ জাকারিয়া ঝাপটে ধরে তাকে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষার চেষ্টা করে । জাকারিয়া যখন চাচাকে রক্ষা করতে ব্যস্ত, তখন তার ভাতিজা জাহিদ জাকারিয়াকে উপর্যুপুরি মারধর করতে থাকে ( যা ভিডিওতে স্পষ্ট ) । এটা দেখে তার পিতা সাবেক অধ্যক্ষ তার গায়ে হাত তুলেন ( কিন্তু জাহিদ সম্পূর্ণ দোষটা জাকারিয়াকে দেয় তবে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে জাকারিয়া পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে এবং মারামারি থেকে থামাচ্ছে) । এদিকে জাকারিয়া মার খাচ্ছে দেখে তার অন্যান্য সঙ্গীরা তার ভাতিজার দিকে তেড়ে আসলে, বাজার সেক্রেটারী নাজমুলও সেখানে থাকেন এবং ছাত্রদের সাথে সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়ে যান । সেখানে উপস্থিত নুরানির শিক্ষক নাজমুল, দাখিল পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান
ও ফাজিলের ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান -জাহিদ ও নাজমুলের আক্রমণের শিকার হয়। ( তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে আত্মরক্ষার জন্য তারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে) ।
এরপর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়
জনাব আলহাজ্ব সেলিম মিয়া হাওলাদার ( বিশিষ্ট সমাজ সেবক ) তার প্রস্তাবে ঐ দিনই বিকাল চারটায় সকলের উপস্থিতিতে একটা আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়।
দুপুর ১২ টার দিকে জনাব ক্বারী সাহেব আমার অফিসে আাসেন। আন্তরিক পরিবেশে অনেক আলাপ হলো। বাকবিতন্ডার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করলেন এবং আক্রমণের শিকার হওয়া জাকারিয়াকে তিনি বুকে টেনে নিয়ে দোয়া করলেন। ( তখন ক্বারী আবু তৈয়্যব সাহেব তিনি সকলের সামনে বলেন জাকারিয়াকে- তুমি না ধরলে আমি আরো জোরে পড়তাম নিচে, ব্যথা পেতাম বেশি এই বলে জাকারিয়ার জন্য অনেক দোয়া করে বুকে জড়িয়ে ধরেন।