22/04/2022
🔥ক্বদরের রাত্রিগুলিতে ও ই‘তিকাফ অবস্থায় ইবাদত করার নিয়মাবলী :
🛑🎤 প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
🔰🖋️(ক) দীর্ঘ রুকূ ও সিজদার মাধ্যমে বিতরসহ ১১ রাক‘আত তারাবীহ বা তাহাজ্জুদ ছালাত আদায় করা।[18]
🔰🖋️(খ) প্রয়োজনে একই সূরা, তাসবীহ ও দো‘আ বারবার পড়ে ছালাত দীর্ঘ করা।[19]
🔰🖋️(গ) অধিকহারে কুরআন তেলাওয়াত করা (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১৯৬৩)।
🔰🖋️ (ঘ) একনিষ্ঠ চিত্তে দো‘আ-দরূদ ও তওবা-ইস্তেগফার করা। ক্বদরের রাত্রিতে ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ দো‘আ اَللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّى-‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা ‘আফুউভুন তুহিববুল ‘আফওয়া ফা‘ফু ‘আন্নী’ (হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা কর)[20] দো‘আটি বেশী বেশী পাঠ করা
🔰🖋️ (ঙ) তারাবীহ’র ৮ রাক‘আত ছালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَلَّى مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ حُسِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةٍ- ‘ছালাত শেষ করা পর্যন্ত ইমামের সাথে ক্বিয়ামকারী ব্যক্তি সারা রাত্রি ক্বিয়ামের নেকী পায়’।[21]
🔰🖋️(চ) জামা‘আতের সাথে ৮ রাক‘আত তারাবীহ শেষে খাওয়া-দাওয়া ও কিছুক্ষণ কুরআন তেলাওয়াতের পর ঘুমিয়ে যাবেন। অতঃপর শেষ রাতে উঠে টয়লেট সেরে এসে তাহিইয়াতুল ওযূ ও তাহিইয়াতুল মসজিদ বা অন্যান্য ছালাত যেমন ছালাতুত তওবাহ, ছালাতুল হাজত, ছালাতুল ইস্তিখারাহ ইত্যাদি নফল ছালাত শেষে অথবা কেবলমাত্র ১, ৩ বা ৫ রাক‘আত বিতর পড়বেন। অতঃপর সাহারী শেষে ফজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত পড়বেন। অতঃপর জামা‘আতে এসে ফজরের ছালাত আদায় করবেন। এরপর ঘুমিয়ে যাবেন।
🔰🖋️(ছ) সকালে ঘুম থেকে উঠে টয়লেট ও গোসল সেরে মসজিদে প্রবেশ করে দু’রাক‘আত তাহিইয়াতুল ওযূ ও দু’রাক‘আত তাহিইয়াতুল মসজিদ আদায় করবেন। এভাবে যতবার টয়লেটে যাবেন, ততবার করবেন। অতঃপর বেলা ১২-টার মধ্যে ২ অথবা দুই দুই করে সর্বোচ্চ ১২ রাক‘আত পর্যন্ত ছালাতুয যোহা বা চাশতের ছালাত আদায় করবেন। প্রতি ছালাতের শেষ বৈঠকে নিজের ও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও উম্মতের কল্যাণ চেয়ে আল্লাহর নিকটে দো‘আ করবেন। উক্ত নিয়তেاَللَّهُمَّ رَبَّنَآ آتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِى الآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ- ‘আল্লা-হুম্মা রববানা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আ-খিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আযা-বান্না-র’। অথবা আল্লা-হুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া...। ‘হে আল্লাহ! হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদেরকে দুনিয়াতে মঙ্গল দাও ও আখেরাতে মঙ্গল দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও’ (বাক্বারাহ ২/২০১)। হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, এ দো‘আটি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অধিকাংশ সময় পড়তেন।[22] এ সময় দুনিয়াবী চাহিদার বিষয়গুলি নিয়তের মধ্যে শামিল করবেন। কেননা আল্লাহ বান্দার অন্তরের খবর রাখেন ও তার হৃদয়ের কান্না শোনেন (মুমিন ৪০/১৯; ইব্রাহীম ১৪/৩৮)। দো‘আর সময় নির্দিষ্টভাবে কোন বিষয়ের নাম না করাই ভাল। কেননা ভবিষ্যতে বান্দার কিসে মঙ্গল আছে, সেটা আল্লাহ ভাল জানেন (ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১২২ পৃ.)। রোগ আরোগ্যের জন্য বা অন্যান্য দো‘আ সমূহের জন্য দেখুন- ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ‘যরূরী দো‘আ সমূহ’ অধ্যায় ২৬৭-৩০০ পৃ.।
🔰🖋️(জ) দিন-রাত কুরআন তেলাওয়াত, বিশুদ্ধ তাফসীর বা অন্যান্য দ্বীনী কিতাব সমূহ অধ্যয়নে রত থাকবেন। বিশেষ করে ‘ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)’ বইটি শেষ করুন এবং তাফসীরুল কুরআন (৩০তম পারা) থেকে কমপক্ষে সূরা ফাতিহা, নাবা, আছর ও সূরা তাকাছুর-এর তাফসীর পাঠ করুন। (ঝ) সশব্দে ইবাদত করবেন না এবং অন্যের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটাবেন না।
🔰🖋️(ঞ) ক্বদরের রাত্রিগুলিতে মসজিদে অপ্রয়োজনীয় আলোচনা ও দীর্ঘ ওয়ায মাহফিলের আয়োজন করা এবং বাড়তি খানাপিনা ও হৈ-হুল্লোড় করা ঠিক নয়। এতে ইবাদতের পরিবেশ বিঘ্নিত হয় এবং লায়লাতুল ক্বদর অনুষ্ঠান সর্বস্ব হয়ে পড়ে। যা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
[18]. বুখারী হা/১১৪৭; মুসলিম হা/৭৩৮।
[19]. ইবনু মাজাহ হা/১৩৫০; আবুদাঊদ হা/৮১৬; মিশকাত হা/৮৬২, ১২০৫।
[20]. ইবনু মাজাহ হা/৩৮৫০; তিরমিযী হা/৩৫১৩; মিশকাত হা/২০৯১।
[21]. তিরমিযী হা/৮০৬; আবুদাঊদ হা/১৩৭৫; মিশকাত হা/১২৯৮।
[22]. বুখারী হা/৬৩৮৯; মুসলিম হা/২৬৯০; মিশকাত হা/২৪৮৭।