কুরআন ও সুন্নাহ একাডেমি

কুরআন ও সুন্নাহ একাডেমি “দ্বীনি শিক্ষার আধুনিক রূপায়ণ”
বিশ্বমানের হাফিজে কুরআর তৈরির বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান।

মুফতী আব্দুল মালিক সাহেব হাফিজাহুল্লাহ। হযরতের সোহবতে কিছু সময় অবস্থান করার সুযোগ হয়েছিল। হযরততের ব্যক্তিত্বের গভীরতা, প...
18/10/2024

মুফতী আব্দুল মালিক সাহেব হাফিজাহুল্লাহ। হযরতের সোহবতে কিছু সময় অবস্থান করার সুযোগ হয়েছিল। হযরততের ব্যক্তিত্বের গভীরতা, পান্ডিত্বের উচ্চতা এবং সিদ্ধান্তের দৃঢ়তা আমাকে আজীবন তার প্রতি ঋণী করেছে। আল্লাহ তায়ালা হযরতকে সহিহ সালামতে রাখুন। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে হকের পথে অটল অবিচল রাখুন। (আমিন)
আমরা আল্লাহর কাছে তার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বের বিশেষত বাংলাদেশের জন্য একটি আলোকিত ভবিষ্যতের আশাবাদি।
أحبك يا شمس الزمان و بدره
و إن لامني فيك السها و الفراقد

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেব রহ. ও আমরা....................................................................................
10/10/2024

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেব রহ. ও আমরা......................................................................................
বাংলাদেশে সীরাত চর্চার পথিকৃত বলা হয় মাসিক মদীনার মাওলানা মুহিউদ্দিন খান সাহেবকে। তিনি ছিলেন ‘বাংলাদেশ সীরাত কমিটি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।
বাংলাদেশের পেক্ষাপটে দূরদর্শীতাসম্পন্ন, সৃজনশীল এবং উদার মানসিকতার যে কজন আলেমেদ্বীন চলে গিয়েছেন তাদের মধ্যে মওলানা মুহিউদ্দীন খান অন্যতম ব্যক্তিত্ব। আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় কেটেছে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেবের সাহিত্য ও লেখা পড়ে। বলা যায়, আমার লেখালেখির প্রতি আবেগ এবং উদ্দীপনার বিরাট একটা অংশ জুরে রয়েছে খান সাহেবের অবদান। 2005 সালের দিকে মুহতারাম খান সাহেবের সঙ্গে আমার বার কয়েক চিঠিও আদান-প্রদান হয়েছে। আমার বয়স তখন বড়জোর 14 কি 15 বছর। ভাবা যায়! একজন দেশ বরেণ্য মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও আমার মতো হাজারও নবীনদের উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন লেখালেখির ময়দানে। ঠিক ওই সময়ও তিনি হাতে লিখে চিঠির জবাব দিতেন। কী মায়া মাখানো ছিল সেই চিঠির ভাষায়।

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান সাহেবের সীরাত চর্চার ধরণ ছিল বহুমুখী। তিনিই সর্ব প্রথম ইসলামী পত্রিকা হিসেবে মাসিক মদীনার বিশেষ সংখ্যা ‘সীরাতুন্নবী সংখ্যা’ প্রকাশ করেন। পত্রিকার দাম সমান থাকলেও মাসিক মদীনার সীরাত সংখ্যা ছিল ঢাউস আকৃতির।

জাতীয় সীরাত কমিটির প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। তার পাব্লিকেশন থেকে সিরাতের একাধিক মৌলিক এবং অনুবাদিত গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। তিনি কেবল নিজের সীরাত চর্চায় প্রতিস্রুতিবদ্ধ ছিলেন না, তার আশে-পাশে পরিচিত-অপরিচিত সকলকেই অনুপ্রাণিত করেছিলেন এই মহান কাজে।

তার এই কাজকে দেশের সর্বস্তরের মুসলমান গ্রহণ করে নিয়েছিলেন। তার কাজের এই ধারায় যোগ হয়েছেন ওলামায়ে কেরাম। মুহতারাম উলিপুরী হাফিজাহুল্লাহর সিরাতুন্নাবী সা. বনাম মীলাদুন্নবী শীর্ষক আলোচনা তো ছিল এক অবিস্মরণীয় বয়ান। এই বয়ান নকল করে যে কত খতিব তার মসজিদে বয়ান করেছেন তার খবর কেবল আল্লাহই ভালো জানেন।

মাওলানা খান সাহেবের সীরাত চর্চা ছিল খুলুসিয়াতের চাদরে ঢাকা। আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়ে এই কাজ করে নিয়েছেন এদেশে যখন মিলাদুন্নবী নিয়ে খুব বেশি লাফালাফি চলছিল। এটা এমন এক সুন্নাহ যার আলোয় বিদআতের অন্ধকার সম্পূর্ণ দূরিভূত না হলেও ফিকে হয়ে এসেছিল।

আলহামদুল্লিাহ। বাংলাদেশে এখন সীরাত চর্চার রমরমা অবস্থা। সবাই সিরাত কেন্দ্রিক সভা সমাবেশ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সীরাত নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক কোন কর্মকাণ্ড তেমন চোখে পড়ছে না। এক দিক দিয়ে এটা একধরনের অশনি সংকেত বলেই অনেকে মনে করছেন।

বিশেষত বর্তমান সীরাত প্রোগ্রামগুলো দেখলে মনে হয়, এই মহান কাজটাকে আমরা আমাদের উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম বানিয়ে নিচ্ছি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। (আমিন)

01/10/2024

আমাদের সমাজে নৈতিকতা কিংবা নৈতিকশিক্ষাকে কোন মানদণ্ডে ধরা হয়? .....মূলত এটা এমন একটা প্রশ্ন যার উপর নির্ভর করে সামগ্রিকভাবে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব এবং সামাজিক অবস্থানের সঠিক চিত্র।

কওমীদের শিক্ষা-দিক্ষা আপাদমস্তক নৈতিকতাসম্পন্ন জীবন দর্শন। কুরআন এসেছেই মানুষকে সঠিক জীবনের দিশা দিতে। মানুষ যেন জীবনের প্রতিটি কাজে ইসলামের সঠিক দিকনির্দেশনা কাজে লাগাতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই শিক্ষা ব্যবস্থা।

উপনিবেশকালে মুসলমানদের জন্য পৃথক শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকার পরেও মুসলমানগণ সঠিক দ্বীন শেখার জন্য দারুলউলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেন। এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন বোধ হয় নেই। কারণ
এই শিক্ষাব্যবস্থা তৎকালীন উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য এতটাই জরুরী হয়ে পড়েছিল যে, এর বিপরীত যে কোন শিক্ষা, বিশেষত ইংরেজী শিক্ষাকে ওলামায়ে কেরাম ‘হারাম’ কিংবা নিষিদ্ধ ফতোয়া দিয়েছিলেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই ফতোয়া বলবৎ থাকেনি। যেমনটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাংলা ভাষা সাহিত্য চর্চাকে একসময় এখানকার কেউ কেউ ‘হিন্দুদের ভাষা’ বলে অচ্ছুত করে রেখেছিল। এখন পট পরিবর্তন হয়েছে। আগের ঘৃণা এখন আর নাই। এখন অধিকাংশ আঞ্চলিক বোর্ডের নোটিশ করা হয় বাংলা ভাষায়।

শিক্ষা, দর্শন, মানহাজ, মাসলাক যাই বলেন -দেওবন্দী ওলামায়ে কেরামের স্বাতন্ত্র্য অবশ্যই সম্মানযোগ্য এবং এই স্বাতন্ত্র বজায় রাখা প্রতিটি দেওবন্দী উত্তরসূরীদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। পৃথিবীতে আবারও যদি ইসলাম ও মুসলমানদের সংকটকাল তৈরি হয়, তাহলে এখান থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে আমাদের অবশ্যই দেওবন্দী ধারা অনুসরণ করার বিকল্প নাই।

কিন্তু সংকটকাল অতিবাহিত হওয়ার পর যখন আমারা স্বাধীন পাকিস্তান হলাম, এরও আরো পরে বাংলাদেশ হলাম, 1989 এ এরশাদের পতন হলো তারও 35 বছর পর জুলাই বিপ্লব ঘটলো। কিন্তু কওমি শিক্ষার ধারা-উপধারা সেই 1866 তেই আবদ্ধ আছে। এই আবদ্ধ অবস্থার ব্যাপারে কওমীদের মধ্যেই দুই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। কেউ রয়েছেন এর থেকে একচুল নড়বেন না। আবার কেউ কেউ রয়েছেন আমুল পরিবর্তনের পক্ষে। আমি এই দুই পক্ষের কোন পক্ষেই না।

তৃতীয় আরও এক পক্ষ আছেন, যারা কওমী শিক্ষা-সিলেবাস কিংবা রুটিনকে নয় বরং এর ভাবধারাকে ফলো করতে চান। কওমী আলেমদের একাংশ (যারা মূলত আর্থিক অথবা যোগ্যতার মানদণ্ডে কওমী শিক্ষার মূল ধারায় সংযোগ স্থাপনে ব্যর্থ) এই শিক্ষা ধারার সঙ্গে যোগ হচ্ছেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমরা মোটা দাগে নুরানী মক্তব বলে চিনি। এঁদের এক্সপেরিমেন্ট এখনও ইবতিদায়ি পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এঁরা বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যার্থতাকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন একটা ধারা প্রচলন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই শিক্ষা ধারা কেবল নিম্ন শ্রেণীর সাধারণ শিক্ষা ধারার বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। সামগ্রিক অর্থে এই শিক্ষা ধারা অভিভাবক সমাজে বেশিদিন টিকে থাকতে সক্ষম হবে কি না আমাদের সংশয় রয়েছে।

কওমী শিক্ষা সিলেবাস অনুসরণ না করে উপরন্তু এর ভাবধারাকেও ইগনোর করে নতুন মাইন্ডসেটাপ নিয়ে অনেকটা তুরুস্ক, মিশরীয় কিংবা আরবীয় ফ্লেবার সমৃদ্ধ নতুন এক শিক্ষা ধারা আমাদের সম্মুখে চলে এসেছে। এদের টার্গেট ধর্মভীরু, বা ধর্মমুখী এলিট শ্রেণীর মুসলমান। এসকল প্রতিষ্ঠানে গরিবেরা সুযোগ পায়না। এই শ্রেণীর প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্তও রয়েছে। অধুনা এগুলোকে ইসলামিক স্কুল এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি বলে অভিহিত করা হয়।

আপনি যদি উপরের আলোচনাকে সামনে রাখেন তাহলে দেখবেন, নিরেট ইসলামী শিক্ষা যেহেতু সম্পূর্ণ দুনিয়াবিমুখ ছিল তাই জীবিকার তাকাদা মানুষকে বারবার জাগতিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করে দিয়েছে। মুসলিমরা ঈমানের প্রয়োজনে দ্বীন শেখাকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও নিজের সন্তানের সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহের বিষয়ে তারা সর্বদা অনিশ্চয়তার মধ্যেই থাকেন।

আমাদের সমাজব্যবস্থা ইসলামিক নয়। এটা একটা সেকুলার সমাজব্যবস্থা। এখানে ইসলাম কিংবা অন্য ধর্ম কোনো ভ্যালু তৈরি করতে সক্ষম হয় না। ঠিক এই কারণে আর্থিক দিক থেকে তো অবশ্যই সামাজিক সম্মানের দিক থেকেও কওমি শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্ববহ সম্মানজনক অবস্থানে নেই। এখানকার শিক্ষিত শ্রেণিকে মানুষ ভক্তি করলেও প্রকৃত সম্মান এবং মূল্যায়ন করতে চায় না। এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সম্মানী ব্যক্তিরা তাদের সন্তানদের এইসব প্রতিষ্ঠানে দিতে আগ্রহবোধ করে না। (তবে যে ছেলে পড়াশুনায় দুর্বল, বিকলাঙ্গ কিংবা মহা দুষ্ট তাকে দিয়ে দেয় ইসলামী শিক্ষার জন্য)
(চলবে)

24/09/2024

"প্রস্তুত আছি নামবো মাঠে"
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ

24/09/2024

তামিম রায়হান ভাই! আপনাকে ধন্যবাদ। ...................................
ফেসবুকে আমার নতুন এই প্রোফাইলে বন্ধুতালিকায় যুক্ত হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ। এঁদের মধ্যে অনেকেই কওমি মাদ্রাসার সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী। যখনই ফেসবুকে নিউজফিড স্ক্রল করি, এই আধুনিকমনা কওমি প্রজন্মের কর্মকান্ড দেখে অবাক হই। এমন দেখা থেকে আজকের এই লেখা।
দেশে চলমান পরিস্থিতিতে রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার এমন কোনো বিষয় নেই, যেটা নিয়ে তারা স্ট্যাটাস দিচ্ছেন না বা অন্যের লেখা কপি-পেস্ট করছেন না। ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, ফ্যাসিবাদ, বিপ্লব, ইসলামি শাসন, বায়তুল মোকাররমের খতিব, ধর্ম উপদেষ্টা, ইসলামি অঙ্গনের নেতাদের কারও সুনাম, কারও বদনাম- কিছুই বাদ যাচ্ছে না। যেন এঁদের প্রত্যেকেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও রাজনীতির গবেষক, একেকজন ভবিষ্যতে দেশের সচিব বা মন্ত্রী হবেন, কাজেই এখন থেকে প্রত্যেকটা বিষয়ে কথা বলার গুরুদায়িত্ব তাদের কাঁধে অর্পিত।
অথচ যুগচাহিদার আলোকে নিজেদের পড়াশোনা ও যোগ্যতার মান উন্নয়ন, সার্টিফিকেটের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন, বিদেশে উচ্চতর পড়াশোনা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ-সুবিধাসহ কত অবহেলিত বিষয় পড়ে আছে, যেগুলো নিয়ে নিজেদের জন্য এবং নিজেদের স্বার্থে সবার আগে একসাথে চিন্তা-ভাবনা এবং মতবিনিময় ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করা প্রয়োজন, সেসব নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই।
আজকের কওমি প্রজন্ম নিজেদের অজান্তে কোন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার পেছনে ছুটছে, কে তাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, সোশ্যাল মাধ্যম ও রাজপথে তারা কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, এসব করে কাজের কাজ কতটুকু হচ্ছে, এগুলো নিয়ে কোনো আত্মসমালোচনা নেই, উদ্যোগও নেই।
এই আত্মসমালোচনার অভাবে আত্মবিভোর তরুণরা এখন ফেসবুকে পছন্দের নেতা বা সেলিব্রেটির পোস্টে লাইক, শেয়ার এবং মাশাল্লাহ-আলহামদুল্লিাহ কমেন্ট, আর ফেসবুকের বাইরে কোথাও কোনো বক্তা বা নেতার আগমন উপলক্ষে ব্যাপক উপস্থিতির শোডাউন- এগুলোকেই নিজেদের আত্মতৃপ্তির জায়গা ভেবে পুলকিত।
অহেতুক প্রশংসা অথবা অনর্থক নিন্দা ছাড়া কোথাও কোনো রকমের সৃজনশীল লেখালেখি ও আলোচনা অথবা যৌক্তিক প্রশ্ন ও সমালোচনার জ্ঞানভিত্তিক চর্চায় আগ্রহ আজ শূন্যের কোঠায়। দেশের প্রথম সারির কোনো গণমাধ্যম বা সেলিব্রেটি তাদেরকে নিয়ে কিছু ভালো লিখল কিনা, এটিকেই তারা নিজেদের সার্টিফিকেট বা মূল্যায়ন ভেবে খুশি হয়ে যান।
এই বাস্তবতায় কখনো মনে হয়, কওমির এই প্রজন্মের জ্ঞানের সীমানা যেন দিনদিন ছোট হচ্ছে, চিন্তার জগত সংকীর্ণ হয়ে আসছে- ফলে ফেসবুকের ক্যাচালের বাইরেও যে সুবিশাল এক কর্মক্ষেত্র এবং সেখানে করণীয় অনেক কিছু বাকি আছে- সেটা অনেকেই ভুলতে বসেছে।
চারপাশে সবকিছুই আমার পছন্দের হতে হবে, সবকিছু নিয়ে আমাকে কথা বলতেই হবে, কাউকে অপছন্দ হলেই তাকে টেনে নিচে নামিয়ে ফেলতে হবে- এসব মোটেও যে বাস্তবসম্মত এবং প্রয়োজনীয়ও নয়, সেটি বলার যেন কেউ নেই। এমনকি এই ফেসবুকে যে কোনো ইস্যুতে কিছু শেয়ার বা কপি-পেস্ট করার আগে সেটি সত্য কিংবা বাস্তব কিনা, অথবা এটি নিজেদের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কিনা, এটুকু ভেবে দেখার সময়, খুঁজে দেখার ধৈর্য এবং যাচাইয়ের ইচ্ছা- কিছুই নেই।
এমন কেউ নেই যে আজ ডেকে বলবে, চারপাশে প্রতিনিয়ত নানারকম বিষয় ঘটতে থাকবে, যেগুলো নিয়ে আমাদের কথা বলার প্রয়োজন নেই। এমন অনেক কিছু থাকতে পারে যা আমার পছন্দ হবে না, তাই বলে সেটির বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লাগারও কোনো দরকার নেই। কী নিয়ে কথা বলা উচিত এবং কিসের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত বা দাবি-দাওয়া প্রকাশ করা উচিত, সেটির অন্তত একটি নিজস্ব স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও বুদ্ধিভিত্তিক বৃত্ত থাকা উচিত।
আজকের এই সময়ে আমাদের প্রধান কাজ হওয়ার কথা দেশ ও সমাজে নিজেদের প্রভাবশালী এবং সম্মানজনক অবস্থান তৈরির দিকে নজর দেওয়া, নিজেদের জ্ঞান ও যোগ্যতাকে বহুমুখী করে কর্মক্ষেত্রকে ব্যাপকবিস্তৃত করার জন্য কী কী প্রয়োজন, সেসব খুঁজে বের করা।
ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশে এখন নিজেদের ডানা মেলার সময়। এই সময়ে যদি নিজেদের ‘ভালো’ এবং ‘উচিতকর্ম’ নিজেরা না বুঝি, তবে আর কেউ কোনোকালে তা বুঝাতে পারবে না।

এই কথাগুলো খুব করে বলা দরকার।

কারবালা মাদরাসার পাঠাগারের সুবাদে ই.ফা.বার সঙ্গে আমার পরিচয়। তাদের প্রাথমিক সময়কালের ইলমী খেদমাত অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য ছিল...
16/09/2024

কারবালা মাদরাসার পাঠাগারের সুবাদে ই.ফা.বার সঙ্গে আমার পরিচয়। তাদের প্রাথমিক সময়কালের ইলমী খেদমাত অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য ছিল। এইসবগুলো প্রায় বিশ বছর আগের ঘটনা।

এরপর এলো একদল চুশীল। এদের একমাত্র কাজ ছিল ইফাবার ফাউন্ডার কে? এইটার একটা চাটুকারি বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করা। বিগত দেড় যুগ ধরে তারা কেবল এই লেজেই তেল মালিশ করে গিয়েছে।

ইফাবার নিয়োগপ্রাপ্ত সকল আমলা-কামলা এবং সুবিধাভোগিকে ইসলামী অঙ্গনে আমার কাছে কখনও গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। কারণ তারা তৎপরবর্তীকালে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশগ্রহণ করেনি। ইসলামের সেবকের নামে এরা কেবল দলের পদলেহন করে গেছে। অফিসিয়াল টাইম পাস করে বেতন খেয়েছে মাত্র। ওদের সার্কুলারি নীতিমালা অনুপাতে বাংলাদেশের ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত একটা বৃহৎ অংশ এপ্লিকেশন করার সুযোগই পায় না। এটাকে আমি বিশাল বৈষম্য মনে করি। যতটুকু পায় ততটুকু একেবারে নিম্নশ্রেণীর চাকুরিজীবী।

আমরা ইফাবাকে নতুন আঙ্গিকে দেখতে চাই। এ ক্ষেত্রে কওমী ছাত্রদের সরব হওয়া দরকার। এখন সময় দ্রোহের। নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার মানসিকতা থাকা এই সময়ের দাবি।

এই মুহূর্তে আমাদের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আ ফ ম খালিদ হোসাইন সাহেব ধর্ম উপদেষ্টা। তিনি বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ মানুষ। তাকে বিষয়গুলো খুব সুন্দর এবং যথোপযুক্ত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ব্যাপারে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া এবং সঠিক পথে প্রবাহিত করা আমাদের দায়িত্ব। তার পাশে থাকা কিছু আমলা-কামলাকে সাইজের রাস্তায় নিয়ে আসা আমাদের কর্তব্য। কেবল তাকে এককভাবে দোষারোপ করা কখনই সমিচিন হবে না।

আমরা কওমীর ছাত্র। আমরা দেওবন্দী আদর্শের সন্তান। আমাদের দ্বারা এমন পিতৃতূল্য এবং উস্তাযতূল্য ব্যক্তির অবমাননা হয় এমনটা কখনই কাম্য না। বুঝে শুনে এগিয়ে আসুন। নিজের অবস্থানে অবিচল থাকুন। ইনশআল্লাহ বাংলার আকাশ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত হবেই হবে।

আমরা আজীবন জেনে এসেছি, কওমী মাদরাসা হচ্ছে, “আদর্শ ব্যক্তিত্ব“ তৈরির সফল প্রতিষ্ঠান। যাকে আমাদের প্রতিষ্ঠানিক ভাষায় বলে, ...
02/09/2024

আমরা আজীবন জেনে এসেছি, কওমী মাদরাসা হচ্ছে, “আদর্শ ব্যক্তিত্ব“ তৈরির সফল প্রতিষ্ঠান। যাকে আমাদের প্রতিষ্ঠানিক ভাষায় বলে, “রিজাল“ তৈয়ার করা। তারা এই কাজ খুব দায়িত্বশীলতার সঙ্গেই করে থাকেন। মাহমুদুল হাাসান দেওবন্দী থেকে নিয়ে বর্তমান মাহমুদুল হাসান পর্যন্ত প্রায় সকল আকাবিরিন এই কাজটুকু খুব সচেতনভাবে করেছেন। বর্তমানেও কিছু কিছু কওমী মাদরাসায় কোন কোন উস্তায এই ধারাকে অব্যাহত রেখেছেন বলে আমার বিশ্বাস।

আমি এখানে দুই পয়েন্টে কথা বলবো,
এক. আকাবিরিনের এই প্রচেষ্টা কিভাবে চলতো এবং কতটুকুন ফলপ্রসু হতো।
দুই. সময়ের প্রয়োজনে বর্তমানে এই ব্যক্তিত্ব তৈরির কাজ আর কি ভাবে অগ্রসর করা যায় বা প্রয়োজন।

প্রথম পয়েন্ট.
প্রায় শূন্যহাতে প্রতিকূল পরিবেশে সব ধরনের কুরবানি মেনে নিয়ে ইসলামিক মেথডের উপর ইলমি, সিয়াসি এবং ইজতিমায়ি হাইসিয়াত তৈরি করা ছিল বিগত শতাব্দীর দুর্লঙ্ঘনীয় চ্যালেঞ্জ। তদানীন্তনকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস মুতালায়া করলে হয়তো কিছুটা অনুভব করতে পারবেন। এমন সংকটকালে দেওবন্দ-সাহারানপুরকে ঘিরে যে ঐতিহাসিক বিপ্লব তৈরি হয়েছিল তার আলোকচ্ছটা আজও আমরা অনুভব করি। মাওলানা মাহমুদুল হাসান দেওবন্দীসহ অধিকাংশ আসাতিযা কেবল কিতাবী তালিম দিয়েই ক্ষান্ত হননি, শিখিয়েছেন অস্তিত্বের লড়ায়ে মৃত্যুর সামনে টিকে থাকার ইসমে আজম। যিনি যে ময়দানে মাকবুল ছিলেন তিনি সেই ময়দানে শত শত উত্তরসূরী তৈরি করে গেছেন। আদর্শ ব্যক্তিত্ব তৈরির তাদের এই মিশন প্রত্যক্ষভাবে আন্দোলনে রূপ লাভ করেছিল। যার কারণে আমরা দেখি, তাদের খেদমতের পরিধি তাদের কালকে উত্তীর্ণ করে আজ দেড়শত বছর পরেও বিস্তৃতি লাভ করেছে। এটা অবশ্যই সত্য যে, সময় তাদেরকে ওভাবে তৈরি করেছে। ইতিহাস বিচারে এ কথা অবশই বলা যায়, দেওবন্দীদের এই রিজাল তৈরির আন্দোলন হযরত মুজাদ্দিদে আলফেসানি রহ.-এর কর্ম প্রক্রিয়ারই একটা ধারা।
আকাবিরিনে দেওবন্দ সময় সচেতন মানুষ ছিলেন। তারা পূর্বের ইসলামী শিক্ষানীতির মৌলিকত্বকে অটুট রেখে তাদের শিক্ষা কারিকুলামে যুগপত পরিবর্তন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সামান্য পরিমান দ্বিধা-সংশয়ের আশ্রয় নেননি। আপনি যদি দেওবন্দ মাদরাসার শিক্ষাস্তর, শ্রেণি বিন্যাস এবং পরীক্ষানীতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেন তাহলে দেখতে পারবেন সেটা ছিল তৎকালীন সময়ের ব্রিটিশদের প্রবর্তিত শিক্ষাস্তর এবং পরীক্ষা নীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। (এই বিষয়ে বিস্তারিত পড়ার জন্য আমি আপনাদের স্কুলিং ইসলাম পড়ার অনুরোধ করবো।)

সময়ের নার্ভ বুঝতে পারা এবং স্বকীয়তাকে অটুট রেখে দূর্দশিতাসম্পন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য যে প্রজ্ঞা, মেধা এবং খুলুসিয়াত থাকা দরাকার তা আকাবিরিনে দেওবন্দের মধ্যে ছিল কারামতের পর্যায়ে। যার ফলশ্রুতিতে এটি একটি চেতনা এবং বিশ্বময় গ্রহণযোগ্য বৈপ্লবিক চিন্তাধারায় রূপলাভ করেছিল। এই বৈপ্লবিক চিন্তাধারাই তৈরি করেছে হাজারও বাতিঘর। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের খেদমতের মহান আঞ্জাম। কাসিম নানুতুবি, ইয়াকুব নানুতুবি, আশরাফ আলী থানবী, হুসাইন আহমাদ মাদানী, শায়খ জাকারিয়া, শামসুল হক ফরিদপুরী রহ.সহ অগণিত অসংখ্য আদর্শ ব্যক্তিত্ব।

আকাবিরিনে দেওবন্দ সে সময় যে যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। পূর্ববর্তীদের যা রেখেছিলেন এবং নুতুনত্ব যা গ্রহণ করেছিলেন তা অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। সিদ্ধান্ত সঠিক থাকার কারণেই তারা তৎকালীন সময়ে সামাজিক এবং রাজনৈতিক ভাবে ইসলামের গ্রহণযোগ্যতা এবং মুসলমানদের ন্যায্যতা পূনরায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াস পেয়েছেন।

দ্বিতীয় পয়েন্ট নিয়ে আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনার আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করতে পারেন।

প্রথম ঘটনা. আমার মনে আছে, আমাদের উস্তায মাওলানা Kazi Fazlul Karim হাফিজাহুল্লাহ কারবালা মাদরাসায় একবার ছাত্রদের নিয়ে বয়া...
01/09/2024

প্রথম ঘটনা.
আমার মনে আছে, আমাদের উস্তায মাওলানা Kazi Fazlul Karim হাফিজাহুল্লাহ কারবালা মাদরাসায় একবার ছাত্রদের নিয়ে বয়ান করছিলেন। কথা প্রসঙ্গে তিনি নিজের ফারেগ পরবর্তী জীবন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, আমি ফারেগ হওয়ার পর উস্তাযকে বললাম, আমার ইসলামী স্বরাষ্ট্রনীতি নিয়ে পড়ার আগ্রহ আছে। আমি কী করতে পারি। তখন উস্তায বললেন, ‘তোমার এই বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিন্তু আমাদের কওমী মাদরাসায় এ বিষয়ে কোন তাখাস্সুস নেই।’ আমার জানা নেই কাজি সাহেব পরবর্তীতে তার এই বিষয়ে কোন সহযোগিতা পেয়েছিলেন কি-না।

দ্বিতীয় ঘটনা.
ফারেগ হওয়ার পর পারিবারিক কারণেই আমাকে খেদমতে যোগ দিতে হয়েছে। কিন্তু একসময় আমি পড়াশুনা করার সিদ্ধান্ত নিই। আমার পছন্দের বিষয় ছিল ইতিহাস। এই বিষয়ে পড়াশুনা করার জন্য পুরো বাংলাদেশ চষে বেড়িয়েছি। না কোন তাখাস্সুস পেয়েছি, না এমন কাউকে পেয়েছি যিনি আমাকে এই বিষয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিবেন। অনেকের কাছে পরামর্শ করে শায়খ Atik Ullah এর কাছে গেলাম, সাক্ষাত করলাম। তিনি আমাকে তার প্রতিষ্ঠান এবং মাশগালা দেখিয়ে বললেন, ‘আপনাকে সময় দেওয়ার মতো সুযোগ আমার হাতে নেই।’ আমি উনার ওজর বুঝলাম এবং ইতিহাসকে একাডেমিক ভাবে শেখার জায়গা থেকে ফিরে এলাম।

ইতহাস, স্বরাষ্ট্রবিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, চিকিৎসা বিজ্ঞান এগুলোর সঙ্গে কী দ্বীনের কোন সম্পর্ক নেই? আপনি অবশ্যই এটা মানবেন, এগুলোর সঙ্গে আমাদের জীবন সম্পৃক্ত। তাহলে এই বিষয়গুলোর সঙ্গে দ্বীনের সম্পর্ক কেন হবে না?

দ্বীন যদি একজন মুসলমানের পরিপূর্ণ জীবনের নিদের্শিকা হয় তাহলে তার অসুস্থতায় কেবল রুকয়ার মাধ্যমেই কী সমাধান করার চেষ্টা করা পরিপূর্ণ দায়িত্বশীলতা? একটি সমাজ ব্যবস্থা যদি ধ্বংসের দ্বারমুখে উপনীত হয় তখন তাকে কেবল নসিহার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা করবেন?
এ ক্ষেত্রে আমাদের টেকনিক্যালি কোন পদ্ধতি অবলম্বন করার চেষ্টা করা প্রয়োজন হবে না? এই টেকনিক্যাল পদ্ধতি শেখাকে আপনি কেন দ্বীন বলবেন না?
আমি সচেতনভাবেই বলছি, দেওবন্দ মাদরাসা সৃষ্টি হয়েছে একদল যোগ্য আলিম তৈরির মিশনকে বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে এবং এই মিশন প্রতিটি যুগেই প্রয়োজন। কিন্তু যিনি বা যাকে আমরা আলিম হিসেবে তৈরি করছি তার কাজ কী হবে? তার কাজকে তিনি কোন ‘স্থান-কাল-পাত্রে’ বাস্তবায়ন করবেন। এই বিষয়ে দায়িত্বশীল কোন রোডম্যাপ কী এই পর্যন্ত তৈরি করার সদিচ্ছা পোষণ করেছে কি এই প্রতিষ্ঠানগুলো কিংবাদের অভিভাবকগণ! এই প্রতিষ্ঠানের কাজ কী কেবলই হুরুফি শিক্ষা দেওয়া?

আপনারা কওমি মাদরাসা থেকে ফারসি তুলে দিতে চান, মানতিক উঠিয়ে দিতে চাচ্ছেন। শামছে বাযেগানা বিলুপ্ত করেছেন। ফুনুনিয়াত বাদ দিয়েছেন। দুওম পড়ার প্রয়োজন অনুভব করছেন না। কেন?

নিশ্চয় বলবেন, সময়ের তাকাযা এসেছে তাই। সময়ের তাকাযা অনুযায়ী যদি কিছু বাদ দেওয়া যায় তাহলে সময়ের তাকাযা অনুযায়ী গ্রহণ করতে আপনদের এতো দ্বিধা কেন?

আমার কথা, মুসলমানদের সন্তানদের জ্ঞান শেখার পথকে সংকীর্ণ করে দেওয়ার অথবা সংকুচিত করার অধিকার কোন আলিম, আওলিয়া কিংবা শায়খের নেই।

আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কওমি মাদরাসা ভিত্তিক শিক্ষার দ্বার আরও উন্মোচিত হোক, অবারিত হোক। এই শিক্ষায়তনের প্রবেশ এবং বহির্গমন নিঃসংকোচিত হোক। অথবা এর শাখা-প্রশাখা আরও বিস্তৃত হোক। দেশ এবং জাতির মূল অবকাঠামোগুলোতে আমাদের সন্তানরা তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখুক এটা আমরা চাই। আমাদের আকাবিরগণ এখনও বেঁচে আছেন। তাদের কাছে আমাদের এই আবেদন।

যদি আকাবিরগণ সময়ের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম না হন তাহলে পরবর্তী প্রজন্ম ঠিকই সিদ্ধান্ত নিবে। সেটা ভুল হলে এক সোয়াব এবং সঠিক হলে দুই সোয়াব।

ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে, হক ও হক্কানিয়াতের প্রতিটি মিলনমেলায় আমার ক্যালিগ্রাফিগুলো ইতিহাস হয়ে থাকবে ইনশআল্লাহ।
08/08/2024

ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে, হক ও হক্কানিয়াতের প্রতিটি মিলনমেলায় আমার ক্যালিগ্রাফিগুলো ইতিহাস হয়ে থাকবে ইনশআল্লাহ।

08/08/2024

আমার আইডির রিচ শুন্যের কোঠায়। অভিজ্ঞদের পরামর্শ কামনা করছি। জাযাকুমুল্লাহ!

প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ব্যক্তিই। কেউ কারও বিকল্প নয়।ব্যক্তির ইমেজে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে একসময় তা আর প্রতিষ্ঠান থা...
04/07/2024

প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ব্যক্তিই। কেউ কারও বিকল্প নয়।

ব্যক্তির ইমেজে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে একসময় তা আর প্রতিষ্ঠান থাকে না। কালক্রমে সেটা ব্যক্তি কিংবা পারিবারিক অথবা বংশীয় সম্পত্তিতে পরিণত হয়। অনুরূপ প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানে যখন ব্যক্তি বিশেষ অথবা গোত্র বিশেষ নাক গলায় তখন সেটাও প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশৃংখলা সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের অভিজ্ঞতা ভিন্নরকম হতে পারে, কিন্তু ভিন্নরকমটা সর্বান্তকরণ সত্য নয়।

রাসূল সা.-এর মৃত্যুর পর আরবদের মাঝে ইরতিদাদের ব্যাপকতার পেছনে এই (ব্যক্তিনির্ভরশীল) সেন্টিমেন্টালিটি সবচেয়ে বেশি কাজ করেছে মুরতাদদের মধ্যে। আল্লাহ তায়ালা ইসলামকে সার্বজনীন ধর্ম হিসেবে কবুল করছেন। তাই রাসূলুল্লাহ সা.-এর মৃত্যুর পর প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা.। আরব আজমে প্রচলিত ধারা ব্যাহত করে তিনি ইরতিদাদকে কঠোর হস্তে দমন করেন। কিন্তু তাৎক্ষণিক উদ্ভূত পারিবারিক সমস্যা নম্রতার সঙ্গে মিটিয়ে নেন।

যেই প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, জাতীয় অর্থে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের জন্য অস্বচ্ছতা এবং গোপনীয়তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। বিশেষত প্রতিষ্ঠান যখন কোন ব্যক্তি কিংবা গোত্রের ইমেজ নির্ভর হয়ে পড়ে, তখন জাতীয় স্বার্থে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় মূল্যায়ন হারিয়ে ফেলে।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং পেশাদারিত্ব ছাড়া প্রতিষ্ঠান দাঁড়ায় না। এগুলো ছাড়াই যদি কোন প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যায় মনে করতে হবে এর আশেপাশে যারা আছেন তাঁরাই নিজেদের প্রয়োজনে একে দাঁড় করিয়ে রেখেছেন। এরা প্রতিষ্ঠানকে দিচ্ছেন, প্রতিষ্ঠান এদেরকে কিছুই দিতে পারছে না।

অতঃপর প্রতিষ্ঠানটি যখন যোগ্যতা, স্বচ্ছতা, নিয়মানুবর্তিতা এবং পেশাদারিত্বের শর্তে পার্সেন্ট অনুপাতে প্রতিষ্ঠিত হবে তখন প্রথম কাজ হলো একে সার্বজনীন করে গড়ে তোলা। এজন্য দরকার শরঈ শুরা ভিত্তিক একদল মুখলিস এবং পরিশ্রমী লোকবল। যে প্রতিষ্ঠানে এই প্রকারের লোকবল যত কম হবে সেই প্রতিষ্ঠান ততই ব্যক্তি এবং গোত্র ইমেজের প্রতি নির্ভশীল হয়ে পড়বে।

উপরে আলোচিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে আপনি আমাদের দেশের সরকারী-বেসরকারী, রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক, কওমি-আলিয়া, বেফাক-তানজিম কিংবা হাইয়া এগুলোর অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারবেন।

এতোগুলো কথা বলার ‍উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমাদের বোর্ড ব্যবস্থার করুণ অবস্থার প্রতি আরেকবার আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। একটা উদাহরণ দিয়ে আমি শেষ করবো,

একদিন কথা প্রসঙ্গে এক অনুজ আমাকে বলছেন, অমুক না হলে তো তমুক বোর্ড অচল হয়ে পড়বে। আমি বললাম, বোর্ড যদি তার প্রতিটি কাজের এবং কর্মীর জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করতে সক্ষম না হয় তাহলে এর দায় এরকম নিকৃষ্টভাবেই শোধ করতে হবে। লক্ষ লক্ষ মানুষের অর্থে গড়া একটা প্রতিষ্ঠান যেন কেবলমাত্র একজন মাঝারি মানের কর্মকর্তার দ্বারে ভিক্ষুকে পরিণত হয়। তার অনুকম্পা আর করুণার কাছে গোটা সমাজ আজ জিম্মি।

এই কর্মকর্তার কারণে তার উপরের কর্তা ব্যক্তিগণ তখন অনেক কিছুই গোপন করতে বাধ্য হন। প্রতিষ্ঠানের অনেক কিছুতেই অস্বচ্ছতা ধরা পরে। সেখানে জবাবদিহিতাকে অসম্মান, অপমান এবং তুহমত হিসেবে গণ্য করা হয়। পেশাদারিত্বকে মনে করা হয় ইখলাসের কমতি। চাটুকারিতা, তেলমর্দন এবং বলয়বদ্ধ শক্তিই হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানের মূল কাঠামো এব সফলতার স্বর্ণকাঠি। প্রতিষ্ঠান তখন প্রতিষ্ঠান নয় হয়ে যায় হরিলুটের মাল।

জানি না, এ জাতির উত্তরণ কবে হবে? কিভাবে হবে?

এতক্ষণ ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Address

কানছগাড়ী, শেরপুর রোড, বগুড়া সদর
বগুড়া।
5800

Telephone

+8801966527944

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কুরআন ও সুন্নাহ একাডেমি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category