07/05/2026
পিতামাতার কর্তব্য সন্তানকে প্রথমেই আল্লাহ তা'য়ালা সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান এবং দ্বীন ইসলামের শিক্ষা দেয়া।
সন্তানের সারা জীবন শেষ হয়ে যায় তবুও সে তার জীবনের গন্তব্য সম্পর্কে জানতে পারেনা!
তার সীমানা সম্পর্কে সে জানে না, তার করনীয় সম্পর্কে সে বুঝে না, সে কোনোভাবেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে না!
আর এজন্যেই আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন,
যখন তোমাদের সন্তান কথা বলতে শিখে তখন তাদের কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ শিক্ষা দাও। (বায়হাকি)
তাবেয়ী ইবরাহীম আততাইমী রাহ. বলেন, তাঁরা (সাহাবীগণ) শিশু কথা বলা শিখলে তাকে কালিমার তালকীন করতেন (মুখে মুখে বলা শিখাতেন)। যাতে শিশুর প্রথম কথা হয় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা:৩৫১৯)
আমরা ভালবাসার সাথে, গুরুত্বের সাথে সন্তানদের দ্বীন ইসলামের বিষয়গুলো শেখালে হয়তোবা তারা জীবনের শুরুতেই জীবনের গন্তব্য সম্পর্কে বুঝতে পারবে।
হয়তোবা তারা জান্নাতে যেতে পারবে!
হয়তোবা তারাই আমাদের জান্নাতে যাবার কারণ হবে!
হয়তোবা আমরাও আমাদের বাবামাকে ছাড়া জান্নাতে যেতে চাইবো না!
আল্লাহ ﷻ বলেছেন, ঈমানদারদের সন্তানেরা যদি ঈমানদার হয়, তাহলে তাদের জান্নাতে একত্রিত করা হবে। এর কারনে ঈমানদারদের আমল তিল পরিমান কমানো হবেনা, প্রত্যেকেই তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী। (সূরা আত-তূর:২১)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদের সন্তানদেরকে জান্নাতে মু’মিনদের সমমর্যাদা দান করবেন যদিও আমলে তাদের সমপর্যায়ে না পৌঁছে। যাতে তাদের সন্তানদের দেখে চক্ষু শিতল হয়। তারপর উপরোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন। (সিলসিলা সহীহাহ:২৪৯০)
পবিত্র কুরআনের অন্যান্য স্থানেও এ ওয়াদা করা হয়েছে, যেমন- সূরা আর রা'দ এর ২৩ এবং সূরা গাফির এর ৮ নং আয়াত।
অপরদিকে সৎকর্মপরায়ণ নেক সন্তান-সন্ততি দ্বারা তাদের পিতা-মাতার উপকৃত হওয়াও হাদীসে প্রমাণিত আছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ তা'আলা কোন কোন নেকবান্দার মর্তবা তার আমলের তুলনায় অনেক উচ্চ করে দেবেন। সে প্রশ্ন করবে, হে রব! আমাকে এই মর্তবা কিরূপে দেয়া হল? আমার আমল তো এই পর্যায়ের ছিল না। উত্তর হবে, তোমার সন্তান-সন্ততি তোমার জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দো'আ করেছে। এটা তারই ফল। (মুসনাদে আহমাদ:২/৫০৯)
‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের (পিতামাতার) প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।’ (সূরা বানী ইসরাঈল:২৪)
‘হে আমাদের প্রতিপালক! যেদিন হিসেব অনুষ্ঠিত হবে সেদিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মু’মিনগণকে ক্ষমা করে দিয়েন।’ (সূরা ইবরাহীম:৪১)