21/03/2026
📚 প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা - ক-বিভাগ (অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর) - পর্ব ১ 📚
১. যুক্তিবিদ্যা কাকে বলে?
👉 উত্তর: যে বিদ্যা বৈধ ন্যায় বা যুক্তি থেকে অবৈধ ন্যায় বা যুক্তির পার্থক্য নির্দেশ করার পদ্ধতি ও নিয়মাবলি সম্পর্কে আলোচনা করে তাকে যুক্তিবিদ্যা বলে ।
২. প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার জনক কে?
👉 উত্তর: প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার জনক হলেন ফ্রেডরিক লুডভিগ গটলিব ফ্রেগে ।
৩. কপি (I. M. Copi) এর প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কিত বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কী?
👉 উত্তর: কপির প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা সম্পর্কিত বিখ্যাত গ্রন্থের নাম হলো 'Introduction to Symbolic Logic' ।
৪. প্রতীক কাকে বলে?
👉 উত্তর: কোনো কিছুকে সংক্ষেপে নির্দেশ বা ব্যক্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহৃত লিখিত বা কথিত চিহ্নকে প্রতীক বলে ।
৫. গ্রাহক প্রতীক কাকে বলে?
👉 উত্তর: যে প্রতীক চিহ্নের স্থানে অন্য কোন বিশেষ শ্রেণির অন্তর্গত কোনকিছুকে প্রতিস্থাপিত করা হয় তাকে গ্রাহক প্রতীক বলে ।
৬. সংকেত কাকে বলে?
👉 উত্তর: সাধারণ ভাষায় যেসব জিনিস বা চিহ্ন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য কোন বিষয়কে সূচিত করে এবং অন্য কোন বিষয়ের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে তাদেরকে সংকেত বলা হয় ।
৭. সংকেত কয় প্রকার ও কী কী?
👉 উত্তর: সংকেত দুপ্রকার। যথা: ১. কৃত্রিম সংকেত ও ২. স্বাভাবিক সংকেত ।
৮. সত্যতা কী?
👉 উত্তর: যখন আমাদের চিন্তা বা ধারণা বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ হয় তখন তাকে সত্য বা সত্যতা বলে ।
৯. বৈধতা কী?
👉 উত্তর: কোন যুক্তি বা ন্যায়ের সিদ্ধান্ত যদি আশ্রয়বাক্য থেকে নিয়মানুসারে নিঃসৃত হয় তাহলে যুক্তিটি বৈধ বলে বিবেচিত হয় বা যুক্তিটি বৈধতা লাভ করে ।
১০. সরল বচন কাকে বলে?
👉 উত্তর: যে বচনের উপাদান বা অঙ্গবচন হিসেবে অন্য কোন বচন থাকে না তাকে সরল বচন বলে ।
১১. যৌগিক বচন কাকে বলে?
👉 উত্তর: একাধিক সরল বচন নিয়ে গঠিত বচনকে যৌগিক বচন বলে ।
১২. স্তম্ভ (Column) কাকে বলে?
👉 উত্তর: সত্য সারণিতে বিভিন্ন বচন বর্ণ ও অপেক্ষককে আলাদা করে দেখানোর জন্য যে খাড়া রেখা টানা হয়, তাকে স্তম্ভ বলে ।
১৩. সত্য সারণীতে 2n সূত্রটি কেন ব্যবহৃত হয়?
👉 উত্তর: সত্য সারণীতে 2n সূত্রটি সারির সংখ্যা নির্ধারণ করার জন্য ব্যবহৃত হয় ।
১৪. স্বতঃসত্য বচনাকার কাকে বলে?
👉 উত্তর: যে বচনাকার বা বচনসূত্রের সমস্ত প্রতিস্থাপক দৃষ্টান্ত সত্য তাকে স্বতঃসত্য বচনাকার বলে ।
১৫. অনির্দিষ্টমান বা অনিয়ত বচনাকার কাকে বলে?
👉 উত্তর: যখন কোন বচনাকারের প্রতিস্থাপক দৃষ্টান্তে সত্য ও মিথ্যার মিশ্রণ দেখা যায় তখন তাকে অনির্দিষ্টমান বা অনিয়ত বচনাকার বলে ।
১৬. আকারগত প্রমাণ (Formal Proof) কাকে বলে?
👉 উত্তর: যখন কতগুলো আশ্রয়বাক্য থেকে যুক্তির বৈধ নিয়ম বা অনুমান বিধির সাহায্যে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্তটি বৈধভাবে নিগমন করা হয়, তখন তাকে আকারগত প্রমাণ বলে।
১৭. অনুমানের বিধি (Rules of Inference) কয়টি?
👉 উত্তর: অনুমানের বিধি মোট ৯টি।
১৮. প্রতিস্থাপনের বিধি (Rules of Replacement) কয়টি?
👉 উত্তর: প্রতিস্থাপনের বিধি মোট ১০টি।
১৯. পরোক্ষ প্রমাণ পদ্ধতি (I.P.) কী?
👉 উত্তর: যে প্রমাণ পদ্ধতিতে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধ বচনকে (~/Not) একটি অতিরিক্ত আশ্রয়বাক্য হিসেবে ধরে নিয়ে প্রমাণের কাজ শুরু করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত একটি স্বতোবিরোধ বা অসংগতি (Contradiction) তৈরি হয়, তাকে পরোক্ষ প্রমাণ পদ্ধতি বলে।
২০. শর্তমূলক প্রমাণ পদ্ধতি (C.P.) কখন ব্যবহৃত হয়?
👉 উত্তর: যখন কোনো যুক্তির সিদ্ধান্তটি একটি প্রাকল্পিক বা শর্তমূলক বচন (যেখানে ⊃ থাকে) হয়, তখন প্রমাণের সুবিধার্থে শর্তমূলক প্রমাণ পদ্ধতি (C.P.) ব্যবহৃত হয়।
২১. মানক বা পরিমাণক (Quantifier) কাকে বলে?
👉 উত্তর: যে প্রতীক বা চিহ্ন কোনো বচনের পরিমাণ (সকল বা কিছু) নির্দেশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাকে মানক বা পরিমাণক বলে।
২২. মানক কয় প্রকার ও কী কী?
👉 উত্তর: মানক দুই প্রকার। যথা: ১. সার্বিক মানক (Universal Quantifier) এবং ২. অস্তিত্বমূলক মানক (Existential Quantifier)।
২৩. সার্বিক মানকের প্রতীক কী?
👉 উত্তর: সার্বিক মানকের প্রতীক হলো (x) বা (y)।
২৪. অস্তিত্বমূলক মানকের প্রতীক কী?
👉 উত্তর: অস্তিত্বমূলক মানকের প্রতীক হলো (∃x) বা (∃y)।
২৫. মানকতত্ত্বের বিধি (Rules of Quantification) কয়টি ও কী কী?
👉 উত্তর: মানকতত্ত্বের বিধি ৪টি। যথা: UI, UG, EI এবং EG।
২৬. U.I. এর পূর্ণরূপ কী?
👉 উত্তর: U.I.-এর পূর্ণরূপ হলো Universal Instantiation (সার্বিক দৃষ্টাত্তীকরণ)।
২৭. E.G. এর পূর্ণরূপ কী?
👉 উত্তর: E.G.-এর পূর্ণরূপ হলো Existential Generalization (অস্তিত্বমূলক সামান্যীকরণ)।
২৮. সম্বন্ধমূলক যুক্তি কাকে বলে?
👉 উত্তর: যে যুক্তিতে বচনের অন্তর্গত পদগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বা সম্বন্ধ নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করা হয়, তাকে সম্বন্ধমূলক যুক্তি বলে।
২৯. প্রতিসম সম্বন্ধ (Symmetrical Relation) কী?
👉 উত্তর: যদি 'ক' এর সাথে 'খ' এর যে সম্বন্ধ থাকে, 'খ' এর সাথেও 'ক' এর ঠিক একই সম্বন্ধ থাকে, তবে তাকে প্রতিসম সম্বন্ধ বলে। (যেমন: স্বামী-স্ত্রী, ভাই-ভাই)।
৩০. অপ্রতিসম সম্বন্ধ (Asymmetrical Relation) কী?
👉 উত্তর: যদি 'ক' এর সাথে 'খ' এর যে সম্বন্ধ থাকে, 'খ' এর সাথে 'ক' এর সেই সম্বন্ধ না থাকে, তবে তাকে অপ্রতিসম সম্বন্ধ বলে। (যেমন: পিতা-পুত্রের সম্পর্ক)।
#প্রতীকী_যুক্তিবিদ্যা #দর্শন_বিভাগ #অনার্স_৩য়_বর্ষ #জাতীয়_বিশ্ববিদ্যালয় #যুক্তিবিদ্যা_নোট #হ্যান্ডনোট