14/03/2026
টিউশনি রিলেটেড টোটকা -
১) আগে ফ্যামিলির পাওয়ার স্ট্রাকচার বুঝতে হবে। ফ্যামিলিতে কার কথা শেষ কথা - স্টুডেন্ট, তার বাবা না মা এইটা আগে বুঝতে হবে। যার কথায় সব নড়ে তাকে খুশী করতে হবে।
২) ওই বাসায় পড়ায়, এমন কোন টিচার এর লিংক এ গেলে এমন কিছু করা যাবে না যাতে ওই টিচার এর সাথে ঝামেলা ক্রিয়েট হয়।
৩) বেশি আবেগ দেখানো যাবে না। তুমি বুঝতেছ স্টুডেন্ট বা তার বাবা-মা ভুল করতেছে, কিন্তু তুমি পাকনামো করে বেশি ভাল করতে গেলে টিউশন টিকবে না। তারা যা চায় সেটা কর। তুমি স্টুডেন্ট এর ভাল চাও আমরা বুঝছি। কিন্তু এই গুড উইল এর মূল্য অধিকাংশ ফ্যামিলি ই দেবে না।
৪) নিজের পজিশন বুঝ। দিনশেষে তুমি বেতন ভুক্ত একজন কর্মচারী। তারা যত ই তোমাকে আপন মনে করুক, একটা মিনিমাম ডিসটেন্স তোমাকে মেইনটেইন করতে হয়। বেতন ভুক্ত কর্মচারী কখনো ফ্যামিলি মেম্বার হয় না। ইনফ্যাক্ট তোমার স্টুডেন্ট, বাইরে যত ই সম্মান করুক সে ও তোমাকে একটা কাজের লোক হিসেবেই দেখে। এই জিনিসটা মাথায় রাইখ!
৫) ছেলে হলে মেয়ে স্টুডেন্ট এর সাথে যত ই ফ্রী হোক সেই সম্পর্ক যেন অন্য কিছুতে না রূপ নেয়।
খুব ভাল লাগলে টিউশন ছেড়ে দিয়ে প্রেম কর।
টিউশনি থাকা অবস্থায় এক্সপোজ হলে এই অনলাইন এর যুগে শেমিং এর সম্মুখীন হবা, তোমার কারণে আরো দশটা ছাত্র তার রুটি-রুজি হারাবে।
৬) যেই বাসায় ফিমেল মেম্বার থাকবে না পড়ানোর সময় সেইখানে নারী হলে না যাওয়া বেটার। ইনফ্যাক্ট মেয়ে হলে পরিবেশ ভাল না হলে না যাওয়া উত্তম।
৭) লেটেস্ট মাস এর বেতন না পেয়ে কখনো টিউশন ছাড়া যাবে না। একবার টিউশন ছেড়ে দিয়ে পরে বেতন নেওয়া খুব কঠিন। পেমেন্ট ক্লিয়ার না হওয়ার আগ পর্যন্ত কোন রূপ কনফ্রন্টেশনে যাবা না। ১০ হাজার টাকা তাদের জন্য কিছু না হলেও তোমার জন্য অনেক।
৮) বেশি স্যালারির টিউশন নিতে হবে। তুমি এক বাসায় ১০ দিয়ে পড়াইলে ওর মাধ্যমে আর এক বাসায় সেট আপ হলে ১০ ই পাবা মাথায় রাইখ!
৯) টিউশন এর স্যালারি নেগোশিয়েশন ফোন এ না করে বাসায় যেয়ে কর।
১০) রেজাল্ট ভাল হলে ক্রেডিট না পেলেও খারাপ হলে দোষ তোমার ই হবে। তাই,গার্জিয়ান যদি খারাপ হলে কথা বলতে আসে, তাদেরকে নিজের থেকেই বলবা যে তারা চাইলে অন্য অপশন দেখতে পারে। জোর করে টিকে থাকতে চাইলে পেয়ে বসবে।
১১) স্টুডেন্ট , তার গার্জিয়ান সবাই তাদের পারস্পেকটিভ তোমার সাথে শেয়ার করবে। তুমি কারো সাইড নিবা না। চুপ করে শুনবা।
লিখেছেন: রূপম রহমান