17/11/2022
গ্রামের নাম খোর্দ্দকোমরপুর। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত একটি অঞ্চল। উত্তরবঙ্গের আর দশটা গ্রামের মতই এই গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলো চোখ বন্ধ করে ভালোবাসে ইসলামকে, ভালোবাসে মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা ও তাঁর রসূলকে ﷺ । তাদের এই অকৃতিম ভালোবাসারই অনন্য এক উদাহরণ - "মারকাযুত তাক্বওয়া মাদরাসা।" একটু পেছনের গল্পটা বলি -
আমরা যারা উত্তরবঙ্গের বাসিন্দা, তারা কম বেশি সবাই জানি যে উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চল্গুলোতে দ্বীনি শিক্ষার কি বেহাল দশা। ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কুসংস্কার তো আছেই, প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত মাসজিদগুলোতে কুর'আন তিলওয়াত পর্যন্ত বিশুদ্ধ নয়। আর গ্রামের সরল সাধারণ মানুষগুলো তো আরো পিছিয়ে। তাদেরই বা দোষ কোথায়? এই অজো পাড়া গাঁয়ে দ্বীনি ইলম শিক্ষা করার জন্য তারা না পায় সুযোগ, না পায় কোন যোগ্য আলেম বা প্রতিষ্ঠান।
এসব বিষয় মাথায় রেখেই আসলে উক্ত এলাকায় একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠান গড়ার চিন্তা শুরু হয়, যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের সন্তান সহ নিজেরাও আলেমের সান্নিধ্যে থেকে দ্বীন শিক্ষা করতে পারবে। এ লক্ষ্যেই গত বছরের মাঝের দিক থেকে কিছু ভাই জমির খোঁজ করতে থাকেন এবং আগে থেকেই পাশে মাসজিদ আছে এমন একটি আবাদী জমি পছন্দ করেন। জমির মালিকের সাথে কথা বলা হলে প্রথমে তিনি বিক্রির কথা বললেও পরে অন্তরের পরিবর্তনকারী মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার ইচ্ছায় পুরো ৩১ শতাংশ জমি স্বেচ্ছায় দান করেন, আলহামদুলিল্লাহ।
তারপরও সব মিলিয়ে এই রকম এলাকায় - আবাদী নিচু জমিতে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জটা ছিল অনেক বেশি। অর্থনৈতিক ভাবেও যে একেবারে শুন্য থেকে শুরু। কিন্তু আল্লাহর হুকুমে - কিছু মানুষের অদম্য ইচ্ছা শক্তি, এলাকার মানুষের সহযোগিতায় ও কিছু ঋণ নিয়ে একটু একটু করে জমিতে বালু ভরাট থেকে শুরু করে মাদরাসার কাঠামো তৈরি পর্যন্ত কাজ এগিয়ে যায়। সর্বশেষ গত ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২২ এ গাইবান্ধা, রংপুর, বগুড়া ও ঢাকা জেলাসহ দেশবরেণ্য কয়েকজন আলেম ও কিছু গুনী মানুষদের উপস্থিতিতে "মারকাযুত তাক্বওয়া মাদরাসা" এর ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করা হয়। উক্ত দিনে উস্তাদরা মাদারাসার সার্বিক উন্নতি ও কল্যাণ কামনা করে আল্লাহ রব্বুল আলামীন এর দরবারে দু'আ করেন।
মাদ্রাসাটি আলিমদের মাধ্যমে গঠিত মাজলিসে শূরার সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধানের পরিচালিত হবে এবং মাদরাসার মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় দেওবন্দ ফারেগ আলেম মুফতি মিজানুর রহামান সাহেব।
বর্তমানে মাদরাসার তত্ত্বাবধানে পাশের মাসজিদে শিশু ও বয়স্কদের জন্য মকতব চালু হয়েছে, যেখানে প্রায় ছোট-বড় মিলে শতাধিক শিক্ষার্থী কুর'আন শিখছে। আর পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, আগামী বছরের (২০২৩ সালের) জানুয়ারী মাস থেকেই নূরাণী বিভাগ এবং বছরের মধ্যবর্তী সময়ে হিফজ বিভাগ চালু করা হবে।
এরপর আস্তে আস্তে অন্যান্য বিভাগ নিয়ে অদূর ভবিষ্যতে গাইবান্ধা জেলার প্রথম দাওরায়ে হাদিস বিভাগও এই মাদরাসাতেই শুরু হবে ইন শা আল্লাহ। আমরা সেই স্বপ্ন দেখি এবং তা বাস্তবায়নের কাজ সকল ভালো কাজের পূর্ণতা দানকারী মহান আল্লাহ আযযা ওয়াজালের। তাঁর কাজ তিনিই এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
আগামী বছরের জানুয়ারীতে নূরাণী বিভাগ চালু করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী মাদরাসায় মোট ২ টি বড় শ্রেণী কক্ষ, ১ টি অফিস রুম, ১ টি গেস্ট্রুম, পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য পৃথক টয়লেট ব্যবস্থা করা হবে।
এসবের পিছনে আনুমানিক নির্মাণ ব্যায় হবে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। আবার কাজ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মাদরাসার ঋণও রয়েছে ২ লক্ষ টাকা। এলাকার মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত কাজ থেমে নেই আলহামদুলিল্লাহ। তবে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে আমাদের উক্ত অর্থ খুব দ্রুত প্রয়োজন।
আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন শেখার জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠান গড়ার পিছনে কাজ করার আনন্দ এক অন্য রকম অনুভূতি। আর গফুরুর রহীম - আল্লাহ আযযা ওয়াজাল সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে যতদিন এই মাদরাসা টিকে থাকবে, যতদিন এই মাদরাসার মাধ্যমে দ্বীনের খেদমত হবে, ততদিন যারা এর পেছনে মেধা, অর্থ, শ্রম দিবেন তাদের আমলনামায় সওয়াব দিতেই থাকবেন। হয়তো শেষ দিবসে আমলনামায় এই নেকী গুলোই নাজাতের উসিলা হবে। কি সুন্দর এক বিনিময়!
তাই সকলকে মুমিন ভাই ও বোনদের আহবান করছি - আসুন আমরা আমাদের দানের হাতকে প্রশস্ত করি। আল্লাহর দ্বীনকে জমিনে প্রতিষ্ঠার নিয়্যাতে যে যেভাবে পারি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই -
বিকাশ: 01740-247877
নগদ : 01740-247877
রকেট : 01740-247877-4
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট:
A/C Name: Md. Rakib chowdhury
A/C No. 2050 342 02 01296400
Islami Bank Bangladesh
Baridhara Branch
যে কোনো প্রকার তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুনঃ
অফিস 01755091047- WhatsApp