25/09/2024
দাওয়াহ
প্রচলিত রাজনীতিতে জড়াতে চান না, দ্বীনের জন্য কিছু করতে চান, এমন তরুণরা জানতে চান, কী করতে পারি?
-দাওয়াতি কাজ করতে পারেন।
দাওয়াতের কথা শুনে কোনো কোনো ‘রক্তগরম’ তরুনের চেহারায় কেমন যেন একটা ভাব ফুটে ওঠে। ভাবটা এমন, দাওয়াত? আমি যেখানে জীবন দেয়ার জন্য টগবগ করে ফুটছি, সেখানে এই হালকা, নিরীহ ‘কর্মপন্থা’ দিয়ে কী হবে?
-আপাতত, একদিনেই সবকিছু ওলটপালট করে ফেলতে পারবেন?
-জি না।
-তাহলে দাওয়াতের বিকল্প নেই।
-আপনার এলাকার সবচেয়ে শক্তিমান মানুষটাকে কখনো দাওয়াত দিয়েছেন?
-জি না (অধিকাংশের উত্তর)।
-আপনার এলাকার সবচেয়ে দুর্বল মানুষটাকে দাওয়াত দিয়েছেন?
-জি না (অধিকাংশের উত্তর)।
-আপনার এলাকার সবচেয়ে শক্তিমান মানুষটাকে চেনেন?
-জি না। (কেউ কেউ জি বলেন)।
-যান, আগামীবার আসার সময় এলাকার সবচেয়ে শক্তিমান মানুষটাকে দাওয়াত দিয়ে আসবেন। সবচেয়ে দুর্বল মানুষটাকেও। বিশেষ করে, ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় যাবে বলে মনে করেন, সে দলের সভাপতি, সেক্রেটারিকে দাওয়াত দিয়ে আসবেন। কালিমার দাওয়াত দিবেন। নামাজের দাওয়াত দিবেন। দাওয়াত দেয়ার অভ্যেস না থাকলে, রক্তটা একটু ঠাণ্ডা করে তিনদিনের জন্য তাবলীগে গিয়ে দাওয়াত শিখে আসবেন। অন্তত এলাকার আমীর সাহেবের কাছে গিয়ে শিখে নিবেন।
অভিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
তাদের কথাগুলো অনেকটা এমন,
১. আপনার এলাকার প্রতিটি মক্তব, মাদরাসা, স্কুল, কিন্ডারগার্টেন, কলেজ, ভার্সিটিতে দাওয়াত দিতে পারেন।
২. প্রতিটি পেশার মানুষকে দাওয়াত দিতে পারেন।
৩. এলাকার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে দাওয়াত দিতে পারেন। বিশেষ করে যারা সম্ভাব্য ক্ষমতাসীন, তাদেরকে।
৪. এলাকার নারীদেরকে দাওয়াত দেয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করতে পারেন।
প্রশ্ন আসে কীভাবে দাওয়াত দিবো?
কী দাওয়াত দিবো?
১. দাওয়াত দেয়ার জন্য প্রাথমিক পরিচিতি দরকার। আগে তার সাথে নির্দিষ্ট জান-পেহচান গড়ে তুলতে পারি।
২. নামাজের দাওয়াত দিতে পারি। সাথে করে দ্বীনি ওয়াজ-মাহফিলে নিয়ে যেতে পারি।
৩. সময়সুযোগ বুঝে দ্বীনের মৌলিক শিক্ষাগুলো গল্পচ্ছলে তুলে ধরতে পারি।
দোস্ত, জানেমান উপন্যাসটি হাতের কাছে থাকলে, দাওয়াতদানের রূপরেখা বইটি থেকে ঝালিয়ে নিতে পারি।
Atik Ullah
ওয়াফফাকানাল্লাহ।