06/10/2016
কিভাবে পাবেন স্মার্ট এনআইডি কার্ড?
smart-NID
স্মার্ট এনআইডি কার্ড নামে প্রচলিত বাংলাদেশ সরকারের নতুন স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র সব ধরণের জালিয়াতি ঠেকাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছে কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন কমিশন বলছে, এই নতুন কার্ডে থাকবে ২৫ রকমের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য।
মেশিন-রিডেবল এই কার্ডের মাইক্রোচিপে একজন নাগরিকের ৩২টি মৌলিক তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
বর্তমানে, পাসপোর্ট, ব্যাংকিং, ট্রেড লাইসেন্স, শেয়ার হস্তান্তরসহ ২২টি সেবা খাতে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয়। ভবিষ্যতে এই পরিচয়পত্র ব্যবহারের ব্যপ্তি আরো বাড়বে।
নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, “অনেক অপরাধী বিদ্যমান জাতীয় পরিচয়পত্র জাল করছে এবং আমরা তা ঠেকাতে পারিনি। কিন্তু এই স্মার্ট এনআইডি কার্ড জাল করা প্রায় অসম্ভব।”
ফ্রান্সে প্রস্তুতকৃত কার্ডগুলো আমদানি করে প্রত্যেকটি কার্ডের বিপরীতে বাংলাদেশি একজন নাগরিকের তথ্য মজুদ করা হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন শাখার মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মোঃ সালেহ উদ্দিন।
প্রথম ধাপে রাজধানীর নাগরিকদের মধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। ক্রমান্বয়ে সিটি কর্পোরেশন, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে এর বিতরণ হবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।
এই স্মার্ট কার্ড পাওয়ার জন্য একজন নাগরিককে নির্বাচন কমিশন মনোনীত বিতরণ কেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা নাগরিকের বায়োমেট্রিক তথ্য, দশ আঙ্গুলের ছাপ এবং রেটিনা স্ক্যান স্মার্ট এনআইডির মাইক্রোচিপে স্থাপন করার জন্য সংগ্রহ করবেন।
এই প্রক্রিয়া শেষে নাগরিককে তাঁর স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করা হবে। তবে অবশ্যই গ্রাহককে তার পূর্ববর্তী জাতীয় পরিচয়পত্র সমর্পন করতে হবে।
বিতরণকেন্দ্র কখন-কোথায় স্থাপন করা হবে সেটি সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমেও এই তথ্য জানানো হবে।
এর পাশাপাশি যে কেউ www.nidw.gov.bd ঠিকানায় লগইন করে স্মার্ট এনআইডি বিতরণকেন্দ্রের খোঁজ নিতে পারবেন। মোবাইল ফোন থেকে ১০৫ নম্বরে কল করে বা এসএমএস পাঠিয়েও এই তথ্য জানা যাবে। মোবাইল ফোনের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে SC স্পেস NID স্পেস ১৭ ডিজিটের জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর লিখে ১০৫ এ পাঠিয়েও বিতরণকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে।
যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ১৩ ডিজিট সম্বলিত তাদের জন্মসাল জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরের আগে বসাতে হবে যাতে সেটি ১৭ ডিজিটে রূপ নেয়।
যেসব ভোটাররা এখনও জাতীয় পরিচয় পত্র পাননি তাঁদের ভোটার নিবন্ধন স্লিপ নিয়ে বিতরণ কেন্দ্রে যেতে হবে।
কেউ যদি পরিচয় পত্র হারিয়ে ফেলেন সেক্ষেত্রে তাঁদের থানায় দায়ের করা ডায়েরীর মূল কপি নিয়ে স্ব-স্ব উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রত্যেকটি স্মার্ট কার্ড তৈরীতে নির্বাচন কমিশনের ১.৬ ডলার খরচ হলেও জনগণকে তা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। প্রাথমিক ভাবে এই কার্ডগুলো ১০ বছরের জন্য বৈধ থাকবে বলে জানান সালেহ উদ্দিন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ উদ্বোধন করেন। গতকাল কুড়িগ্রামে স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবুদ্দিন আহমদ।
বর্তমানে বাংলাদেশে ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। চলতি কার্যক্রমের আওতায় আগামী বছরের মধ্যে নয় কোটি ভোটার স্মার্ট কার্ড হাতে পাবেন। বাকিদের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেয়ার জন্য শীঘ্রই নতুন কার্যক্রম ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, নাগরিকদের প্রদানকৃত তথ্য নিরাপদে থাকবে।
সংগৃহীত - Bangladesh Administrative Service
National Identity Registration Wing (NIDW) to administer national identity system (NIDS). This system is expected to be a strategic national resource to facilitate delivery of public and private services to their intended beneficiaries.