08/02/2024
কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব ও ফযিলত:
মহাগ্রন্থ আল কুরআনুল কারীম আল্লাহ জাল্লা শানুহুর পক্ষ হতে অবতীর্ণ মানবজাতির হেদায়াতের আলোকবর্তিকা স্বরূপ। কালের আবর্তনে মানবজাতি যখনই বিপথের পানে পাঁ বাড়িয়েছে, তখনই মহাগ্রন্থ আল কুরআন আপন আলোতে তার সম্মুখের পথকে আলোকোজ্জ্বল ও স্পষ্ট করে দেখিয়েছে; দেখিয়ে দিয়েছে কোনটি হক আর কোনটি বাতিল।
তাই যুগ যুগ ধরে আল কুরআনের হেদায়াতের প্রয়োজনে সামান্যতম কমতি দেখা যায়নি। সেই সাথে কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব ও তার অপরিসীম ফযীলত মানুষকে কুরআন শিক্ষার প্রতি আরো আগ্রহী করে তুলেছে। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদের্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।’ (সূরা আল-বাকারা-১৮৫)
কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব:
হিদায়াতের এই কিতাব আল কুরআন শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ করা হয়েছে।
বলা হয়েছে,‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা আলাক-১)
কুরআন শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাসূলে আরবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,‘তোমরা কোরআন ও ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শিক্ষা করো এবং মানুষদেরকে শিক্ষা দাও কেননা আমাকে উঠিয়ে নেয়া হবে।’ (সূনান আত-তিরমিযি)
আরো ইরশাদ হচ্ছে,‘তোমরা কুরআনকে আবশ্যক করে নাও। কেননা এটি বিবেকের খোরাক, প্রজ্ঞার আলোকমালা, জ্ঞানের প্রস্রবন, আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধুনিক।
আর আল্লাহ তাওরাতে বলেন, হে মুহাম্মাদ! আমি তোমার উপর সর্বাধুনিক কিতাব নাযিল করেছি। যা অন্ধের দৃষ্টিকে, বধিরের শ্রবণশক্তিকে এবং অনুভূতিশূন্য বদ্ধ হৃদয়ের বোধশক্তিকে উন্মোচিত করবে।’দারেমী হা/৩৩৭০, সনদ হাসান; মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩১৭৩৮।
এছাড়াও আরো অনেক আয়াতে কারীমা ও হাদীস শরীফে পবিত্র কুরআন শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।
কুরআন শিক্ষার ফযিলত:
পবিত্র কুরআন শিক্ষার গুরুত্বের পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ ফযীলত, যা কুরআন শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আকর্ষণকে ক্রমশ বৃদ্ধি করে।
হযরত উসমান রা. হতে বর্ণিত; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সেই ব্যক্তি, যে নিজে কুরআন শিখে ও অন্যকে শিখায়।’
হযরত আবূ মূসা আশয়ারী রা. হতে বর্ণিত ওপর এক হাদীসে কুরআন পাঠকারীর তথা শিক্ষাকারীর ফযীলত বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে মুমিন কুরআন তেলাওয়াত করে, সে হ’ল উৎরুজ্জা ফলের (কমলালেবুর) ন্যায়। ফলটি সুগন্ধিযুক্ত এবং স্বাদও উত্তম। আর যে মুমিন কুরআন তেলাওয়াত করে না, তার উদাহরণ হ’ল খেজুরের ন্যায়। যার ঘ্রাণ নেই কিন্তু সুস্বাদু। আর যে মুনাফিক কুরআন তেলাওয়াত করে, সে হ’ল রায়হানা (লতানো) ফুলের ন্যায়। যা সুগন্ধিযুক্ত, কিন্তু স্বাদ তিক্ত। যে মুনাফিক কুরআন তেলাওয়াত করে না, সে হ’ল মাকাল (লতানো লেবুজাতীয় তিক্ত) ফলের ন্যায়। যার ঘ্রাণ নেই এবং স্বাদও তিক্ত।’বুখারী হা/৫৪২৭; মুসলিম হা/৭৯৭; মিশকাত হা/২১১৪।
মহাগ্রন্থ আল কুরআন পাঠের বিশেষ ফযীলত তাকে অন্য সকল ধর্মগ্রন্থ ও সাধারণ বই পুস্তক হতে স্বতন্ত্র করে তুলেছে, যা প্রকাশ পায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রা. হতে বর্ণিত প্রসিদ্ধ এই হাদীসে যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) থেকে একটি হরফ পাঠ করল তার একটি ছওয়াব হ’ল। আর একটি ছওয়াবের পরিমাণ হয় দশ গুণ। আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম (তিনটি বর্ণ মিলে) একটি হয়ফ। বরং আলিফ একটি হরফ বা বর্ণ, লাম একটি বর্ণ এবং মীম একটি বর্ণ।’তিরমিযী হা/২৯১০; মিশকাত হা/২১৩৭; ছহীহাহ হা/৩৩২৭।
কুরআন তেলাওয়াতে দক্ষ ব্যাক্তির মর্যাদা:
কুরআন তিলাওয়াতে দক্ষ ব্যাক্তির মর্যাদা সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে, ‘কুরআনে দক্ষ ব্যক্তি সম্মানিত পুণ্যবান লিপিকার ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবেন। আর যে ব্যক্তি কুরআন তেলাওয়াত করে, কিন্তু আটকে যায় এবং তার জন্য তেলাওয়াত কষ্টকর হয়, তবে তার জন্য দ্বিগুণ নেকী রয়েছে।’(বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/২১১২; বাংলা মিশকাত হা/২০১০)।
কুরআন সুপারিশকারী হবে:
এছাড়াও এই কুরআন পরকালে তার শিক্ষাকারী ও পাঠকের জন্য রহমত ও নাজাতের কারণ হবে; তাকে কবরের আযাব থেকে হেফাযত করবে এবং হাশরের ময়দানে তার পক্ষে সুপারিশ করবে।
ইরশাদ হচ্ছে,‘আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা, কিয়ামতের দিন কুরআন, তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে।(মুসলিম ১৯১০)
কুরআন তেলাওয়াতকারীর ফযিলত :
কুরআন পাঠের মাধ্যমে ঈমানের নূরের বিকিরণ ঘটে, আত্মা পরিশুদ্ধি ও প্রশান্তি লাভ করে, কুরআনের বিধান মেনে চলার দ্বারা ইহলৌকিক জীবন সুন্দর সুশৃঙ্খল ও শান্তিময় হয় এবং পরকালে জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যায়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘(জান্নাতে)কুরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কুরআন তেলাওয়াত কর এবং উপরে উঠতে থাকো। দুনিয়ায় তুমি যেভাবে ধীরে-সুস্থে তেলাওয়াত করতে, সেভাবে তেলাওয়াত করো। কেননা তেলাওয়াতের শেষ আয়াত সংখ্যায় জান্নাতে তোমার বাসস্থান হবে।’আবুদাঊদ হা/১৪৬৪; তিরমিযী হা/২৯১৪; মিশকাত হা/২১৩৪; ছহীহাহ হা/২২৪০।
সুতরাং, আমাদের সকলের জন্য অবশ্য কর্তব্য হলো কুরআন শিক্ষা করা, অধিক হারে কুরআন পাঠ করা, এর সঠিক মর্মার্থ অনুধাবনের চেষ্টা করা এবং কুরআনের বিধান অনুযায়ী নিজেদের জীবন গড়া। আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত আমাদেরকে তাওফীক দান করুন, আমীন!
দারুল উলুম ভিয়েনা
(একটি অনলাইন মাদ্রাসা)
ভর্তির জন্য যোগাযোগ করুন :
+43676879618624 [ WhatsApp ]
05/02/2024