সহজ কথা

সহজ কথা

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from সহজ কথা, Education Website, .

Operating as usual

Photos from সহজ কথা's post 14/05/2022

হাঁসের মাংস ও জায়ফল উপাখ্যানঃ
রমাদান মাস শুরু হওয়ার দিন কতক আগের ঘটনা। এক পরিচিত জন ফোন করে বললেন, 'ভাই একটা জটিল সমস্যায় পড়ছি, আপনার সাহায্য লাগবে।' কথাটা শুনেই কলিজার মধ্যে মোচড় দিয়া উঠল। কারণ, সামনে রমাদান মাস। এই উপলক্ষে অনেক কষ্টে সৃষ্টে ১ লিটার সয়াবিন তেল মজুদ করছি। ৩২০ টাকা লিটার। রমাদান মাসে আলুর চপ, ছোলা বুট, পেঁয়াজু যদি না খাই বাংলাদেশি হিসেবে মান-ইজ্জত তো আর থাকবেনা। মানুষের কাছে মুখ দেখাব কিভাবে!!! এই ভদ্রলোক আবার টের পেয়ে যায় নাই তো যে আমার কাছে তেল আছে, আবার তেল না চাইয়া বসে!!! আমার আবার কাউরে তেল দেয়ার অভ্যাস নাই। যাই হোক ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কি সাহায্য লাগবে?

ভদ্রলোক তার দীর্ঘ ইতিহাস শুরু করলেন এভাবে ... 'মাস দুয়েক আগে আমার স্ত্রী স্বপ্নে দেখেছেন যে, তিনি বাংলাদেশে গেছেন বেড়ানোর জন্য। সেখানে বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সবার সাথে একত্রে বসে হাঁসের মাংস দিয়ে রুটি খাচ্ছেন। সেই থেকে শুরু, সকাল নাই দুপুর নাই রাত নাই কানের কাছে সারাক্ষণ হাঁসের মাংস, হাঁসের মাংস বলে ক্যান ক্যান করতেছে।'
আমি বললাম, ভাই এখানে তো আসলে সমস্যা দুইটা। প্রথমতঃ এই দেশে হাঁস সহজলভ্য না, মোটামুটি দুষ্প্রাপ্য একটা জিনিস। কারণ, এখানে হাঁসের কোন খামার নাই, কেউ হাঁস পালেও না। নদীর পাড়ে, বনে বা পাহাড়ে যে হাঁস থাকে ওইটাই, বুনোহাঁস। দ্বিতীয়তঃ ভাবী আপনারে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করতেছে। ভাবী যদি আপনারে সরাসরি বলতো হাঁসের মাংস খাইতে চায়, আপনি হাঁস কিনা তো দূরের কথা হাঁসের কথা মুখেও আনতেন না। কিন্তু এখনতো ব্যাপারটা ইমোশনাল, ফেমিলি ইস্যু হয়ে গেছে। এখন আপনি মাইনকা চিপায় পইড়া গেছেন। হাঁস কিনা দিতে বাধ্য।
ভদ্রলোক বললেন, 'এইটা কোন সমস্যা না। আমি আজকে সকালে হাঁস নিয়া আসছি।' কথাটা শুইনা তো আমার চান্দি গরম হয়ে গেল। দিলাম তারে ঝাড়ি। অই মিয়া ফাইজলামির আর জায়গা পাননা !!! দেশে কি আইন-কানুন বইলা কিছু নাই? বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন আছে। আর আপনি যাইয়া হাঁস ধইরা নিয়া আসছেন? আপনি সমস্যায় পড়বেন না তো কে সমস্যায় পড়বে? পুলিশ কি আপনার মামু লাগে?
ভদ্রলোক একটু থতমত খেয়ে গেলেন। বললেন, 'ধুর !! ভাই কি যে বলেন, আমি হাঁস ধইরা আনবো কেনো !!! মাস দেড়েক আগে পাকিস্তানি মাংসের দোকানে অর্ডার দিছিলাম। আজকে সকালে ওরা ফোন করে বললো হাঁস আসছে, আমি যাইয়া ওদের কাছ থেকে নিয়ে আসলাম।'
এইবার তো আমি একটু টেনশনে পইড়া গেলাম। ভদ্রলোকের সবই তো ঠিক আছে। তাইলে সমস্যা কী? জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই, ভাবী কি হাঁস রান্না করতে পারে না? আমিও কিন্তু রান্না করতে পারি না, তবে রান্না করে আমারে যদি দাওয়াত দেন আমি আইসা খাইয়া যাইতে পারবো।
ভদ্রলোক একটু কাচুমাচু করে বললেন, 'আপনার ভাবী হাঁস রান্না করতে পারে। রান্না করা কোনো সমস্যা না। সমস্যাটা অন্যখানে। সমস্যাটা হইলো জায়ফল। বউকে বলছি মাংস রান্না করার সময় জায়ফল দেওয়া যাবে না। কারণ, জায়ফল হারাম। এইটা শুনেই তো বউ আমার উপরে চেইত্যা ফায়ার। বলে 'মা, খালা, ফুফু, নানী, দাদী সবাইরে দেখছি সারা জীবন মাংস রান্না করার সময় জায়ফল দেয়। আর এখন উনি আসছেন নতুন ফতোয়া নিয়া, জায়ফল নাকি হারাম।' এইটা নিয়া আমাদের দুইজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া চলতেছে। আপনি আমার বউরে একটু বুঝাইয়া বলবেন, সেইটার জন্যই আপনারে ফোন করছি।

জায়ফল হালাল না হারাম? প্রথম এই প্রশ্নের সম্মুখীন হই বছর দুয়েক আগে। ঈদুল আযহার সময় মসলা কেনার জন্য মার্কেটে গেলাম। এলাচি, দারচিনি, লবঙ্গ কিনলাম। কিন্তু জায়ফল কিনতে গিয়ে ঘটলো বিপত্তি। জায়ফলের স্প্যানিশ আর মনে আসে না। অনেক চেষ্টা করেও যখন মনে করতে পারলাম না তখন গুগলে সার্চ করলাম। গুগল থেকে বের হওয়ার সময় নজর পড়লো একটা লেখায়, জায়ফল কি হারাম?
যাইহোক, বাসায় এসে শুরু করলাম খোঁজাখুঁজি। খোঁজাখুঁজির ফলাফল নিচে দিলাম আপনাদের জন্য -

জায়ফলঃ
দেখতে অনেকটা লিচু কিংবা সুপারির মতো। পুরোপুরি গোল না, অনেকটা ডিম্বাকৃতির একটি ফল। এর ভেতরে গাঢ় লাল বর্ণের আবরণের নিচে একটি শক্ত দানা থাকে। লাল বর্ণের আবরণটি কে বলা হয় যৈত্রী এবং শক্ত দানাটি হলো জায়ফল।

ব্যবহারঃ
আমাদের দেশে সাধারণত রান্নায় ব্যবহার করা হয়। মাংস, বিশেষ করে হাঁসের মাংস এবং বিভিন্ন ধরনের কাবাব তৈরিতে যৈত্রী এবং জায়ফলের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়।

উপকারিতাঃ
জায়ফলে মানব উপকারী কিছু উপাদান বিদ্যমান। জায়ফল গ্রহণে শরীরের ব্যথা বেদনা কম হয়। ভালো হজম হয়। রক্ত চলাচল সহজ করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত দ্রব্য দূর করে।

অপকারিতাঃ
১.জায়ফলে মিরিস্টিসিন নামক একটি প্রাকৃতিক উপাদান আছে যা
মস্তিষ্ককে স্থায়ীভাবে অকার্যকর করতে পারে
২. উচ্চ মাত্রায় নেশা
৩. হ্যালুসিনেশান (মতি-বিভ্রম/মায়া বিভ্রম)
৪. হিতাহিত জ্ঞান লোপ পাওয়া
৫. মানসিক ভারসাম্যহীনতা
৬. মুখ গহ্বরের শুষ্কতা
৭. তন্দ্রাচ্ছন্নতা
৮. অনিয়মিত হৃদস্পন্দন
৯. বমি বমি ভাব
১০. হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু
ডাক্তারি হিসেব মতে খুবই কম পরিমাণ, যেমন ১০ গ্রাম বা ১ চা চামচ পরিমাণ গ্রহণে উপরোক্ত সমস্যাগুলো হতে পারে। কেউ যদি দীর্ঘমেয়াদে খুবই কম পরিমাণে যেমন ১২০ মিলিগ্রাম পরিমান গ্রহণ করে সে ক্ষেত্রেও তার উপরের সমস্যা গুলো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জায়ফল হালাল না হারাম?
প্রচলিত চার মাযহাবের মধ্যে শাফিঈ, মালিকী এবং হাম্বলী মাযহাবে জায়ফল হারাম। কোন প্রকার "কিন্তু ,অথবা, এবং, তবে, যদি" ছাড়াই হারাম। তাদের দলিল হচ্ছে নিম্নরূপঃ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عُمَرَ الصَّنْعَانِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ، يَقُولُ عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ كُلُّ مُخَمِّرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ وَمَنْ شَرِبَ مُسْكِرًا بُخِسَتْ صَلاَتُهُ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا فَإِنْ تَابَ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَإِنْ عَادَ الرَّابِعَةَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ ‏"‏ ‏.‏ قِيلَ وَمَا طِينَةُ الْخَبَالِ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏"‏ صَدِيدُ أَهْلِ النَّارِ وَمَنْ سَقَاهُ صَغِيرًا لاَ يَعْرِفُ حَلاَلَهُ مِنْ حَرَامِهِ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يَسْقِيَهُ مِنْ طِينَةِ الْخَبَالِ ‏"‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 'নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি বস্তু মদের অন্তর্ভুক্ত। আর নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তু হারাম। যে ব্যক্তি একবার নেশা উদ্রেককারী জিনিস পান করলো সে তার চল্লিশ দিনের সলাতের কল্যাণ হতে বঞ্চিত হলো। সে যদি তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করতে পারেন। সে যদি চতুর্থবার তা পান করে তবে আল্লাহ তাকে 'তীনাতুল খাবাল' খাওয়াবেন। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! ‘তীনাতুল খাবাল’ কি? তিনি বললেন, জাহান্নামীদের ঘা হতে নির্গত পুঁজ। যে ব্যক্তি কোন বালককে যার হালাল-হারাম সম্পর্কিত জ্ঞান হয়নি, এটা পান করাবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই জাহান্নামীদের পুঁজ-রক্ত পান করাবেন।'
-সুনানে আবু দাউদ , হাদিস নং ৩৬৮০।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ جَعْفَرٍ - عَنْ دَاوُدَ بْنِ بَكْرِ بْنِ أَبِي الْفُرَاتِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَامٌ ‏"‏ ‏.‏

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, 'যে জিনিসের অধিক পরিমাণে নেশা সৃষ্টি হয়, তার সামান্য পরিমাণও হারাম।'
-সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৬৮১

১৯৯৫ সালের ২২-২৪ মে, হিজরী ১৪১৫ সালের ২২-২৪ জিলহাজ্ব আন্তর্জাতিক ৮ মেডিকেল ফিকহ্ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় যার বিষয় ছিল-'The Islamic view on some health problems: Haram and impure substances in food and medicine.' সেখানে বলা হয় 'নারকোটিক্স বা নেশা উদ্রেককারী যে কোন বস্তু হারাম। তা ব্যবহারের অনুমতি নেই। যদি না তা কোন বিশেষ অসুস্থতায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া হয়ে থাকে। নারকোটিক্স এমনিতে নিজে পিওর বা আত তাহীর।'

শেষ কথাঃ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ الْحَلاَلُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الْمُشَبَّهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِيِنِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ كَرَاعٍ يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ‏.‏ أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، أَلاَ إِنَّ حِمَى اللَّهِ فِي أَرْضِهِ مَحَارِمُهُ، أَلاَ وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ‏.‏ أَلاَ وَهِيَ الْقَلْبُ ‏"‏‏

নু‘মান ইব্‌নু বশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, ‘হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দু’য়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়
যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয় হতে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তার উদাহরণ সে রাখালের ন্যায়, যে তার পশু বাদশাহ্‌ সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে চরায়, অচিরেই সেগুলোর সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ যে, প্রত্যেক বাদশাহ্‌রই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আরো জেনে রাখ যে, আল্লাহর যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরা আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল ক্বলব (অন্তর)।
-সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫২

Want your school to be the top-listed School/college?

Website