The Holy Quran by Rashed Khan

The Holy Quran by Rashed Khan

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from The Holy Quran by Rashed Khan, Education, .

10/09/2021

০১ সূরা আল ফাতিহা

পরম দয়াময়, নিরতিশয় মেহেরবান আল্লাহর নামে
আয়াত ১
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য যিনি নিখিল জাহানের রব।
আয়াত ২
যিনি পরম দয়াময়, নিরতিশয় মেহেরবান;
আয়াত ৩
এবং বিচার দিনের মালিক।
আয়াত ৪
আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি।
আয়াত ৫
আমাদিগকে সঠিক সুদৃঢ় পথ প্রদর্শণ করো;
আয়াত ৬-৭
ঐ সব লোকের পথ যাহাদিগকে তুমি পুরস্কৃত করিয়াছো; যাহারা অভিশপ্ত নহে, যাহারা পথভ্রষ্ট নহে।

10/09/2021

০২ সুরা বাক্বারাহ
আয়াত ১
আলিফ, লাম, মীম।
আয়াত ২
ইহা আল্লাহ তা'য়ালার কিতাব; ইহাতে কোন প্রকার সন্দেহ নাই; ইহা জীবন যাপনের ব্যবস্থা সেই মুত্তাকিদের জন্য;
আয়াত ৩
যাহারা গায়েবে বিশ্বাস করে; নামায কায়েম করে; আর আমরা তাহাদিগকে যে রিযিক দিয়াছি তাহা হইতে ব্যয় করে।
আয়াত ৪
আর যে কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করা হইয়াছে এবং তোমার পূর্বে যে সব গ্রন্থ অবতীর্ণ হইয়াছে; সেই সবকেই তাহারা বিশ্বাস করে এবং পরকালের প্রতি তাহাদের দৃঢ় বিশ্বাস রহিয়াছে।
আয়াত ৫
বস্তুত এই ধরনের লোকেরাই তাহাদের রবের নিকট হইতে অবতীর্ণ জীবন ব্যবস্থার অনুসারী এবং তাহারাই কল্যাণ পাওয়ার অধিকারী।
আয়াত ৬
যাহারা মানিতে অস্বীকার করিয়াছে; তাহাদিগকে তুমি সতর্ক কর আর নাই করো; তাহাদের পক্ষে উভয়ই সমান; তাহারা কখনোই ইমান আনিবে না।
আয়াত ৭
আল্লাহ তাদের মন ও শ্রবণ শক্তির উপর মোহর অঙ্কিত করিয়া দিয়াছেন এবং তাহাদের দৃষ্টিশক্তির উপর আবরণ পড়িয়াছে; বস্তুত তাহারা কঠিন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য।
আয়াত ৮
এমন কিছু লোক রহিয়াছে, যাহারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান আনিয়াছি; অথচ প্রকৃতপক্ষে তাহারা ইমানদার নহে।
আয়াত ৯
তাহারা আল্লাহ ও ইমানদার লোকদের প্রতারিত করিতেছে মাত্র; কিন্তু মূলত তাহারা নিজদিগকে প্রতারিত করিতেছে; আর সেই সম্পর্কে তাহাদের কোন চেতনাই নাই।
আয়াত ১০
তাহাদের মনে একটা ব্যাধি রহিয়াছে; যে ব্যাধিকে আল্লাহ তা'য়ালা আরও বৃদ্ধি করিয়া দিয়াছেন; আর তাহারা যে মিথ্যে কথা বলে; উহার প্রতিফলস্বরুপ তাহাদের জন্য কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তি নির্দিষ্ট রহিয়াছে।
আয়াত ১১
তাহাদিগকে যখনই বলা হইয়াছে; তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়োনা; তখনই তাহারা বলিয়াছে; আমরা তো সংশোধনকারী মাত্র।
আয়াত ১২
সাবধান প্রকৃতপক্ষে ইহারাই বিপর্যয় সৃষ্টিকারী; কিন্তু ইহার কোন চেতনাই তাহাদের নাই।
আয়াত ১৩
আর যখন তাহাদিগকে বলা হয়; অন্যান্য লোকেরা যেরুপ ইমান আনিয়াছে; তোমরাও সেইরুপ ইমান আনো; তখনই তাহারা উত্তর দেয়; আমরা কি নির্বোধ লোকদের ন্যায় ইমান আনিবো? সাবধান, প্রকৃতপক্ষে ইহারাই নির্বোধ; কিন্তু ইহারা তাহা জানেই না।
আয়াত ১৪
তাহারা যখন ইমানদার লোকদের সহিত মিলিত হয়; তখন বলে, আমরা ইমান আনিয়াছি; কিন্তু তাহারা যখন নিরিবিলিতে তাহাদের শয়তানদের সহিত একত্রিত হয়; তখন তাহারা বলে, আসলে আমরা তোমাদের সঙ্গেই রহিয়াছি; আর উহাদের সহিত আমরা‌ শুধু ঠাট্টাই করি মাত্র।

আয়াত ১৫
আল্লাহ তাহাদের প্রতি ঠাট্টা করেন; তিনি তাহাদের রশি লম্বা করিয়া দিয়াছেন; আর তাহারা আল্লাহদ্রোহিতার ব্যাপারে অন্ধদের ন্যায় ভ্রষ্ট হইয়াই চলিয়াছে।
আয়াত ১৬
ইহারাই হেদায়েতের পরিবর্তে গোমরাহীর পথ ক্রয় করিয়াছে; কিন্তু এই ব্যবসায় তাহাদের পক্ষে মোটেই লাভজনক হয় নাই; ইহারা আদৌ সত্য সঠিক পথের অনুসারী নহে।
আয়াত ১৭
ইহাদের দৃষ্টান্ত এই, যেমন এক ব্যক্তি আগুন জ্বালাইলো; যখন সমস্ত পরিবেশটি উজ্জ্বল হইয়া উঠিলো, তখন আল্লাহ তাহাদের দৃষ্টিশক্তি হরন করিয়া লইলেন; এবং তাহাদিগকে এমন অবস্থায় ফেলিলেন যে; অন্ধকারে তাহারা কিছুই দেখিতে পায় না।
আয়াত ১৮
ইহারা বধির, বোবা, অন্ধ; ইহারা এখন আর প্রত্যাবর্তন করিবে না।
আয়াত ১৯
অথবা তাহাদের দৃষ্টান্ত এইরুপ; আকাশ হইতে মুষলধারে বৃষ্টি পড়িতেছে; উহার সহিত অন্ধকার মেঘমালার গর্জন এবং বিদ্যুতের চমক রহিয়াছে; ইহারা বজ্রের গর্জন শুনিয়া মৃত্যুর ভয়ে নিজেদের কর্ণে অঙ্গুলি ঢুকাইয়া দেয়; আল্লাহ এই সত্যাদ্রোহীদের সকল দিগ দিয়া বেষ্টন করিয়া লইয়াছেন।
আয়াত ২০
বিদ্যুতের চমকে ইহাদের অবস্থা এতদসংকটপূর্ণ হইতেছে যে, মনে হয় অচিরেই বিদ্যুৎ তাহাদের দৃষ্টিশক্তি হরন করিয়া লইবে; যখন তাহারা সামান্য আলো দেখিতে পায় তখন তাহারা সেই আলোকেই কিছুদুর পথ অতিক্রম করে এবং যখন তাহাদের উপর অন্ধকার সমাচ্ছন্ন হয় তখন থমকিয়া দাড়ায়; আল্লাহ চাহিলে তাহাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণরুপেই হরণ করিয়া লইবেন; তিনি নিশ্চয়ই সর্বশক্তিমান।
আয়াত ২১
হে মানুষ, তোমরা তোমাদের সেই রবের দাসত্ব স্বীকার কর যিনি তোমাদের ও তোমাদের পূর্ববর্তী সকল লোকের সৃষ্টিকর্তা; ইহাতেই তোমাদের আত্মরক্ষা করার করার উপায় নিহিত রহিয়াছে।
আয়াত ২২
সেই আল্লাহই তোমাদের জন্য মাটির শয্যা বিছাইয়া দিয়াছেন; আকাশের ছাদ তৈয়ার করিয়াছেন; উর্ধ্বদেশ হইতে বৃষ্টিপাত করিয়াছেন এবং উহার সাহায্যে নানা প্রকার ফল উৎপন্ন করিয়া তোমাদের জন্য রিযিকের ব্যবস্থা করিয়াছেন; অতএব তোমরা যখন এই সব কথাই জানো তখন অন্য কাহাকেও আল্লাহর প্রতিপক্ষ হিসাবে স্বীকার করিয়োনা।
আয়াত ২৩
আমার বান্দার প্রতি যে কিতাব নাযিল করিয়াছি, তাহা আমার প্রেরিত কি না? সেই বিষয়ে তোমাদের মনে যদি কোন সন্দেহ জাগিয়া থাকে; তবে উহার অনুরুপ একটি সূরা রচনা করিয়া আনো; এইজন্য তোমাদের সকল সমর্থক ও একমনা লোকদিগকে একত্র করো; আল্লাহ ভিন্ন আর যাহার যাহার সাহায্য চাও তাহা গ্রহণ করো; তোমরা সত্যবাদী হইলে এই কাজ অবশ্যই করিয়া দেখাইবে।
আয়াত ২৪
কিন্তু তোমরা যদি তাহা না করো; নিশ্চয়ই তাহা কখনোই করিতে পারিবেনা; তবে সেই আগুনকে ভয় করো যাহার ইন্ধন হইবে মানুষ ও পাথর; যাহা সত্যদ্রোহী লোকদের জন্য প্রস্তুত করা হইয়াছে।
আয়াত ২৫
আর হে নবী, যাহারা এই কিতাবের প্রতি ইমান আনে এবং নিজেদের কাজকর্ম সংশোধন করিয়া লয়; তাহাদিগকে সুসংবাদ দেও যে, তাহাদের জন্য এমন সব বাগিচা নির্দিষ্ট রহিয়াছে যেগুলির নিম্নদেশ দিয়া ঝর্ণাধারা সদা প্রবাহমান থাকিবে; এইসব বাগিচার ফল বাহ্যত দেখিতে পৃথিবীর ফল সমূহের মতই হইবে; যখনই কোন ফল তাহাদের খাইতে দেওয়া হইবে তখনই তাহারা বলিয়া উঠিবে; এই ধরনের ফলই ইতোপূর্বে পৃথিবীতে আমাদিগকে দেওয়া হইতো; তাহাদের জন্য সেখানে পবিত্র স্ত্রী থাকিবে এবং তাহারা সেখানে চিরদিন বসবাস করিবে।

আয়াত ২৬
বস্তুত আল্লাহ মশা কিংবা তদাপেক্ষাও নিকৃষ্টতর কোন জিনিসের দৃষ্টান্ত পেশ করিতে মোটেই লজ্জাবোধ করেননা; যাহারা সত্যের প্রতি ইমান আনিতে প্রস্তুত তাহারা এই উদাহরনসমূহ দেখিয়া জানিতে পারে যে, ইহা সত্য; ইহা আমাদের রবের নিকট হইতে আসিয়াছে; আর যাহারা সত্যকে মানিতে অনিচ্ছুক তাহারা সেই দৃষ্টান্ত সমূহ শুনিয়াই বলিতে শুরু করে যে, এই ধরনের উদাহরনের সহিত আল্লাহর কি সম্পর্ক থাকিতে পারে? এইভাবে আল্লাহ তা'য়ালা একই কথা দ্বারা বহুলোককে বিভ্রান্ত করেন এবং অসংখ্য লোককে সঠিক পথ প্রদর্শণ করেন; আর বিভ্রান্ত কেবল তাহাদিগকেই করেন যাহারা ফাসিক।
আয়াত ২৭
যাহারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সুদৃঢ় করিয়া লওয়ার পর উহা ভঙ্গ করে; আল্লাহ যাহাকে যুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়াছেন উহা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে; প্রকৃতপক্ষে এই সব লোকই ক্ষতিগ্রস্থ হইবে।
আয়াত ২৮
তোমরা আল্লাহর সহিত কুফরীর আচরণ কিরুপে করিতে পারো? অথচ তোমরাতো প্রাণহীন ছিলে; তিনিই তোমাদের জীবন দান করিয়াছেন; অতপর তিনি তোমাদের প্রাণ হরণ করিবেন এবং পুনরায় তিনিই তোমাদের জীবন দান করিবেন; অবশেষে তাহারই নিকট তোমাদিগকে ফিরিয়া যাইতে হইবে।
আয়াত ২৯
প্রকৃতপক্ষে তিনিই তোমাদের জন্য পৃথিবীর সমস্ত জিনিস সৃষ্টি করিয়াছেন; অতপর তিনি উপরের দিকে লক্ষ্য করিলেন এবং সপ্ত আকাশ রচনা করিলেন; বস্তুত তিনি প্রত্যেকটি জিনিস সম্পর্কে অবহিত।
আয়াত ৩০
আর সেই সময়ের কথাও একটু কল্পনা করিয়া দেখো; যখন তোমাদের রব ফেরেশতাদের বলিলেন, আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা নিযুক্ত করিতে যাইতেছি; তাহারা বলিল, আপনি কি পৃথিবীতে কাহাকেও নিযুক্ত করিবেন, যে উহার নিয়ম শৃঙ্খলা নষ্ট করিবে এবং রক্তপাত ঘটাইবে? আপনার প্রশংসা ও স্তুতি সহকারে তসবিহ পাঠ ও আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করার কাজতো আমরাই করিতেছি; উত্তরে আল্লাহ বলিলেন, আমি যাহা জানি তোমরা তাহা জানোনা।
আয়াত ৩১
অতপর আল্লাহ তা'য়ালা আদমকে সকল জিনিসের নাম শিখাইয়া দিলেন এবং তাহা সবই ফেরেশতাদের সম্মুখে পেশ করিলেন; তারপর বলিলেন, তোমাদের ধারণা যদি সত্য হয় তবে তোমরা এইসব জিনিসের নাম একবার বলিয়া দাওতো।
আয়াত ৩২
তাহারা বলিলো, সকল দোষত্রুটি হইতে মুক্ত একমাত্র আপনি; আমরাতো শুধু ততটুকুই জানি যতটুকু আপনি আমাদের জানাইয়া দিয়াছেন; প্রকৃতপক্ষে সর্বজ্ঞ ও সর্বদ্রষ্টা আপনি ব্যাতীত আর কেহই নাই।
আয়াত ৩৩
অতপর আল্লাহ বলিলেন, হে আদম তুমি এই জিনিসগুলির নাম ইহাদের বলিয়া দাও; আদম যখন তাহাদিগকে সকল নাম বলিয়া দিলেন; তখন আল্লাহ তা'য়ালা বলিলেন, তোমাদের কি বলি নাই যে? আমি আকাশ ও পৃথিবীর সেই সমস্ত নিগূঢ় তত্ত্ব জানি যাহা তোমাদের অজ্ঞাত; বস্তুত তোমরা যাহা কিছু প্রকাশ করো আমি তাহাও জানি; আর যাহা তোমরা গোপন করো তাহাও আমার জ্ঞাত।
আয়াত ৩৪
অতপর আমরা যখন ফেরেশতাদের আদেশ করিলাম, আদমের সম্মুখে নত হও; তখন সকলেই অবনত হইলো কিন্তু ইবলিশ অস্বীকার করিলো; সে তাহার শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে মাতিয়া উঠিল এবং নাফরমানদের মধ্যে শামিল হইয়া গেল।
আয়াত ৩৫
অতপর আমি আদমকে বলিলাম, তুমি ও তোমার স্ত্রী উভয়ই বেহেশতে বসবাস করিতে থাক এবং এখানে যাহাই চাও পূর্ণ স্বাচ্ছন্দের সহিত খাইতে থাকো; কিন্তু এই গাছটির নিকটেও যাইয়োনা; অন্যথায় জালিমদের মধ্যে গণ্য হইবে।
আয়াত ৩৬
শেষ পর্যন্ত শয়তান উভয়কেই সেই গাছ সম্পর্কে প্রলোভিত করিয়া আমার নির্দেশ অমান্য করিতে প্রবুদ্ধ করিলো এবং তাহারা যে অবস্থায় ছিল তাহা হইতে তাহাদিগকে দুরে নিক্ষেপ করিয়া ছাড়িলো; আমি আদেশ করিলাম এখন তোমরা সকলেই এই স্থান হইতে নামিয়া যাও; তোমরা একে অপরের দুশমন; একটি বিশেষ সময় পর্যন্ত তোমাদিগকে পৃথিবীতে থাকিতে এবং সেখানেই জীবন যাপন করিতে হইবে।

আয়াত ৩৭
তখন আদম তাহার রবের নিকট হইতে কয়েকটি বাক্য শিখিয়া লইয়া তওবা করিলো; তাহার রব তাহার এই তওবা কবুল করিলেন; কারন তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহকারী।
আয়াত ৩৮
আমরা বলিলাম, তোমরা সকলেই এখান হইতে নামিয়া যাও; অতপর আমার নিকট হইতে যে জীবন বিধান তোমাদের নিকট পৌছিবে; যাহারা আমার সেই বিধান মানিয়া চলিবে; তাহাদের জন্য ভয়ভীতি ও চিন্তার কোন কারন থাকিবেনা।
আয়াত ৩৯
আর যাহারা তাহা গ্রহণ করিতে অস্বীকার করিবে এবং আমার বানী ও আদেশ নিষেধকে মিথ্যে মনে করিবে; তাহারা নিশ্চয়ই জাহান্নামী হইবে এবং সেখানে তাহারা চিরদিন থাকিবে।
আয়াত ৪০
হে বনী ইসরাইল, আমার প্রদত্ত নিয়ামতের কথা স্মরণ করো; আমার সহিত তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি ছিলো উহা পূরণ করো তোমাদের জন্য; তাহা হইলে আমিও তোমাদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করিবো এবং তোমরা একমাত্র আমাকেই ভয় করো।
আয়াত ৪১
এবং আমাদের প্রেরিত কিতাবের প্রতি তোমরা ইমান আনো; ইহা তোমাদের নিকট যে কিতাব রহিয়াছে উহার সত্যতা প্রমাণকারী; অতএব সর্বপ্রথম তোমরাই উহার অমাণ্যকারী হইয়োনা এবং সামান্য মূল্যে আমার বাণী বিক্রয় করিয়োনা; আমার ক্রোধ হইতে আত্মরক্ষা করো।
আয়াত ৪২
মিথ্যের আবরণে সত্যকে সন্দেহযুক্ত করিয়া তুলিয়োনা; আর জানিয়া শুনিয়া তোমরা সত্যকে লুকাইবার চেষ্টা করিয়োনা।
আয়াত ৪৩
নামায কায়েম করো; যাকাত দাও; আর যাহারা আমার সম্মুখে অবনত হয়; তাহাদের সহিত মিলিত হইয়া তুমিও নতি স্বীকার করো।
আয়াত ৪৪
তোমরা অন্য লোকদিগকে তো ন্যায়ের পথ অবলম্বন করিতে বলো, কিন্তু নিজদিগকে ভুলিয়া যাও; অথচ তোমরা কিতাব অধ্যায়ন করিয়া থাকো; তোমরা কি বুদ্ধিকে কোন কাজেই লাগাওনা?
আয়াত ৪৫
ধৈর্য্য ও নামাযের সাহায্য গ্রহণ করো; নামায নিঃসন্দেহে একটি শক্ত কাজ; কিন্তু সেই অনুগত বান্দাদের পক্ষে তাহা মোটেই কঠিন নহে;
আয়াত ৪৬
যাহারা মনে করে, যে তাহাদিগকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহর সহিত সাক্ষাত করিতে এবং তাহারই দিকে প্রত্যাবর্তণ করিতে হইবে।
আয়াত ৫৭
আমরা তোমাদের উপর মেঘমালার ছায়া দান করিলাম; তোমাদিগকে মান্না ও সালওয়া নামক খাদ্য সরবরাহ করিলাম এবং তোমাদের বলিলাম, আমরা তোমাদিগকে যে পবিত্র দ্রব্য সামগ্রী দিয়াছি তাহা খাও; আর তোমাদের পূর্বপুরুষগণ যাহা কিছু করিয়াছে তাহা দ্বারা আমাদের উপর জুলুম করা হয় নাই; বরং তাহারা নিজেরা নিজেদের উপর জুলুম করিয়াছে।
আয়াত ৫৮
আরও স্মরণ করো, যখন আমরা বলিয়াছিলাম; তোমাদের সম্মুখস্থ এই জনপদে প্রবেশ করো; উহার উৎপন্ন দ্রব্যাদি যেরুপ ইচ্ছা আনন্দের সহিত আহার করো; মনে রাখিও, জনপদের দ্বারপথে সেজদায় অবনত হইয়া প্রবেশ করিবে এবং হিদ্দাতুন বলিতে থাকিবে; আমরা তোমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করিয়া দিবো এবং পূন্যবানদিগকে অধিকতর অনুগ্রহ দান করিবো।

আয়াত ৫৯
কিন্তু যাহা বলা হইয়াছিলো, জালিমগন উহার বদলে অন্যকিছু করিয়া ফেলিলো; শেষ পর্যন্ত আমরা জালিমদের উপর আকাশ হইতে আযাব নাযিল করিলাম; বস্তুত ইহা ছিলো তাহাদেরই অবাধ্যতার শাস্তি।
আয়াত ৬০
স্মরণ করো, মুসা যখন নিজ জাতির লোকদের জন্য পানি প্রার্থনা করিলো; তখন আমরা বলিলাম, অমুক কংকরময় ভূমির উপর তোমার লাঠি দ্বারা আঘাত করো; ইহার ফলে উক্তস্থান হইতে বারোটি ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হইলো এবং প্রত্যেক গোত্রই নিজ নিজ পানি গ্রহনের স্থান জানিয়া লইলো; তখন এই উপদেশ দেওয়া হইলো; আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক খাও, পান করো এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়া বেড়াইয়োনা।
আয়াত ৬১
স্মরণ করো, তোমরা যখন বলিয়াছিলে, হে মুসা, আমরা একই প্রকারের খাদ্যে ধৈর্য্যধারন করিতে পারিবোনা; তোমার রবের নিকট প্রার্থনা করো; তিনি যেন আমাদের জন্য জমির ফসল, শাকসবজি, গম, রসুন, পেয়াজ, ডাল ইত্যাদি উৎপাদন করেন; তখন মুসা বলিলো, একটি উত্তম জিনিসের পরিবর্তে তোমরা কি একটি সামান্য জিনিস গ্রহন করিতে চাও; তাহা হইলে কোন শহরাঞ্চলে গিয়া বসবাস করো; তোমরা যাহা কিছু চাও তাহা সেখানে পাওয়া যাইবে; শেষ পর্যন্ত অবস্থা এইরুপ দাড়াইলো যে, অপমান, লাঞ্চনা, অধঃপতন ও দুরাবস্থা তাহাদের উপর চাপিয়া বসিলো এবং তাহারা আল্লাহর গযবে পরিবেষ্টিত হইলো; এইরুপ পরিনতির কারন এই ছিল যে, তাহারা আল্লাহর আয়াতকে অমান্য করিতে শুরু করিয়াছিলো এবং পয়গম্বরদের অন্যায়ভাবে হত্যা করিতেছিলো; আর ইহাও ছিলো তাহাদের নাফরমানী এবং শরিয়তের সীমালংঘনকরার পরিনতি।
আয়াত ৬২
নিশ্চয়ই জানিয়ো, শেষ নবীর বিশ্বাসী হোক? কি ইয়াহুদী? খ্রিষ্টান কিংবা সাবেয়ী; যে ব্যক্তিই আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ইমান আনিবে ও নেক কাজ করিবে; তাহার পুরস্কার তাহার রবের নিকট রহিয়াছে এবং তাহার জন্য কোন প্রকার ভয় ও চিন্তার কারন নাই।
আয়াত ৬৩
স্মরণ করো সেই সময়ের কথা; যখন আমরা তুর পর্বতকে তোমাদের উপর উত্তোলিত করিয়া তোমাদেরই নিকট হইতে পাকা প্রতিশ্রুতি লইয়াছিলাম আর বলিয়াছিলাম; আমরা তোমাদিগকে যে কিতাব দান করিতেছি তাহা মজবুত করিয়া ধারন করো এবং তাহাতে যেসব আদেশ, নিষেধ ও উপদেশ বানী সন্নিবেশিত রহিয়াছে তাহা স্মরণ করিয়া রাখো; বস্তুত ইহারই সাহায্যে আশা করা যায় যে, তোমরা তাকওয়ার পথ অনুসরন করিতে পারিবে।
আয়াত ৬৪
কিন্তু ইহার পর তোমরা তোমাদের প্রতিশ্রুতি হইতে ফিরিয়া গেলে; ইহা সত্তেও আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তাহার রহমত তোমাদের সঙ্গ ত্যাগ করে নাই; অন্যথায় তোমরা পূর্বেই ধ্বংষ হইয়া যাইতে।
আয়াত ৬৬
এইভাবে আমরা তাহাদের পরিনতিকে তৎকালীন লোকদের এবং পরবর্তী বংশধরদের জন্য শিক্ষাপ্রদ ও আল্লাহভীরু লোকদের জন্য মহান উপদেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।
আয়াত ৬৭
ইহার পর সেই ঘটনা স্মরণ করো, যখন মুসা তাহার জাতিকে বলিলেন, আল্লাহ তোমাদিগকে একটি গাভী যবেহ করার নির্দেশ করিতেছেন; তাহারা বলিলো, তুমি কি আমাদের সহিত বিদ্রুপ করিতেছো? মুসা বলিলেন, আমি মূর্খদের ন্যায় কথা বলার নির্বুদ্ধিতা হইতে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই।
আয়াত ৬৮
তাহারা বলিলো, তুমি তোমার রবের নিকট প্রার্থনা করিয়া আলোচ্য গাভী সম্পর্কে কিছু বিস্তারিত জানাইতে পারো? মুসা বলিলেন আল্লাহ বলিতেছেন তাহা এমন একটি গাভী হইবে যাহা বৃদ্ধাও নহে, একেবারে বাছুরও নহে; বরং মধ্যম বয়ষের হইবে; অতএব, যে নির্দেশ দেওয়া হইতেছে তাহা পালন করো।
আয়াত ৬৯
ইহার পরও তাহারা বলিতে লাগিলো, তোমার রবের নিকট ইহাও জিজ্ঞাসা করিয়া লও যে, উহার বর্ণ কি হইবে? মুসা বলিলেন তিনি বলিতেছেন, গাভীটিকে অবশ্যই হলুদ বর্ণের হইতে হইবে; উহার বর্ণ এতখানি চাকচিক্যপূর্ণ হইবে যে, তাহা দেখিয়া লোকেরা সন্তুষ্ট হইতে পারিবে।

আয়াত ৭০
তাহারা আবার বলিলো, তোমার রবের নিকট পরিস্কারভাবে জিজ্ঞাসা করিয়া বলো, গাভীটি কিরুপ হওয়া চাই? কেননা উহা নির্ধারণ করার ব্যাপারে আমাদের সংশয় হইতেছে; আল্লাহ চাহিলে আমরা উহার সন্ধান করিয়া লইতে পারিবো।
আয়াত ৭১
জওয়াবে মুসা বলিলেন, উহা এমন গাভী হইবে যাহা কোন কাজে ব্যবহৃত হয় নাই; জমি চাষের কাজেওনা, পানি সেচের কাজেওনা; যাহা নিখুত ও নিষ্কলঙ্ক; এই কথা শুনিয়াই তাহারা বলিয়া উঠিল, হ্যা, এইবার তুমি সঠিক সন্ধান দিয়াছো; অতপর তাহারা এইরুপ গাভী যবেহ করিলো; অন্যথায় তাহারা এই কাজ করিতো বলিয়া মনে হয়না।
আয়াত ৭২
সেই ঘটনাও তোমাদের স্মরণ আছে, যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করিয়াছিলে; অতপর সেই সম্পর্কে তোমরা ঝগড়াঝাটি ও একে অপরের উপর হত্যার দোষারোপ করিতে শুরু করিয়াছিলে; কিন্তু আল্লাহ এই সিদ্ধান্ত করিয়াছিলেন যে, তোমরা যাহা গোপন করিবে, তিনি তাহা প্রকাশ করিয়া দিবেন।
আয়াত ৭৩
তখন আমরা এই নির্দেশ দিয়াছিলাম যে, নিহত ব্যক্তির লাশের উপর উহার একাংশ দ্বারা আঘাত করো; বস্তুত এইরুপেই আল্লাহ তা'য়ালা মৃতদের জীবন দান করেন এবং তোমাদিগকে আপন নিদর্শণসমূহ প্রদর্শণ করেন যেন তোমরা অনুধাবন করিতে পারো।
আয়াত ৭৪
কিন্তু এইরুপ নিদর্শণসমূহ প্রত্যক্ষ করার পরও, শেষ পর্যন্ত তোমাদের মন কঠিন হইয়া গিয়াছে; বরং উহা অপেক্ষাও কঠিনতম; কারন কোন কোন পাথর এমনও আছে যাহা হইতে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়; কোন কোনটি দীর্ণ হইয়া যায় এবং উহার মধ্যে হইতে পানি উৎসারিত হয় আর কোন কোনটি আল্লাহর ভয়ে কম্পিত হইয়া ভূপাতিতও হয়; আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে মোটেই অনবহিত নন।
আয়াত ৭৫
মুসলমানগণ, এই সব লোক সম্পর্কে তোমরা কি এখনো এই আশা পোষণ করো যে, তাহারা তোমাদের ইসলামী দাওয়াতের প্রতি ইমান আনিবে; অথচ, তাহাদের মধ্যেকার একটি দলের ইহা অভ্যাসে পরিনত হইয়াছে যে, তাহারা আল্লাহর কালাম শুনিয়া এবং খুব ভাল করিয়া বুঝিয়া লইয়া ইচ্ছাপূর্বক বিকৃত করিয়াছে।
আয়াত ৭৬
তাহারা মোহাম্মদের প্রতি বিশ্বাসীদের সহিত মিলিত হইলে বলে, আমরাও তাহাকে মানি; কিন্তু নির্জনে তাহাদের পরষ্পরের যখন কথাবার্তা হয় তখন তাহারা বলে, তোমরা কি নির্বোধ হইয়া গিয়াছো? ইহাদিগকে তোমরা এমন সব কথা বলিয়া দিতেছো, যাহা আল্লাহ একমাত্র তোমাদেরই নিকট প্রকাশ করিয়াছেন; ফলে ইহারা তোমাদের রবের নিকট তোমাদেরই বিরুদ্ধে এই কথাকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করিবে।
আয়াত ৭৭
তাহারা কি জানেনা যে, তাহারা যাহা কিছু গোপন করে আর যাহা প্রকাশ করে, উহার সবকিছুই আল্লাহ তা'য়ালার জানা আছে।
আয়াত ৭৮
তাহাদের মধ্যে আরেকটি দল আছে, যাহারা উম্মী, আল্লাহর কিতাব সম্পর্কেতো তাহাদের কোন জ্ঞান নাই, কিন্তু নিজেদের ভিত্তিহীন আশা আকাংক্ষা ও ইচ্ছা বাসনাই তাহাদের একমাত্র সম্বল এবং অমূলক ধারনা বিশ্বাস দ্বারা তাহারা পরিচালিত হয়।
আয়াত ৭৯
তাই সেই সব লোকের ধ্বংষ নিশ্চিত, যাহারা নিজেদের হাতে শরীয়তের বিধান রচনা করে এবং তাহার পর লোকদের বলে যে, ইহা আল্লাহর নিকট হইতে অবতীর্ণ হইয়াছে; এইরুপ বলার উদ্দেশ্য এই যে, ইহার বিনিময়ে তাহারা স্বপ্নস্বার্থ লাভ করিবে; বস্তুত তাহাদের হাতের এই লিখনও তাহাদের ধ্বংষের কারণ; এবং ইহার সাহায্যে তাহারা যাহা কিছু উপার্জন করে তাহাও তাহাদের ধ্বংষের উপকরণ।
আয়াত ৮০
তাহারা বলে, দোযখের আগুন আমাদিগকে কখনোই স্পর্শ করিতে পারেনা; অবশ্য কয়েকদিনের শাস্তি ভুগিতে হইতে পারে; তাহাদের জিজ্ঞাসা করো, তোমরা কি আল্লাহর নিকট হইতে কোন প্রতিশ্রুতি লাভ করিয়াছো? যাহার বিরোধিতা তিনি কখনও‌ করিবেন না? কিংবা তোমরাই এই সব কথা আল্লাহর উপর চাপাইয়া দিতেছো যে সম্পর্কে তিনি কোন দায়িত্ব গ্রহণ করিয়াছেন কি না, তাহা তোমরা কিছুই জানোনা? দোযখের আগুন তোমাদের কেন স্পর্শ করিবেনা?
আয়াত ৮১
বস্তুত যে ব্যক্তিই পাপজালে জড়াইয়া পড়িবে সেই জাহান্নামী হইবে এবং জাহান্নামেই চিরদিন থাকিবে।
আয়াত ৮২
পক্ষান্তরে যাহারা ইমান আনিবে ও সৎকর্ম করিবে; তাহারা বেহেশতি হইবে এবং বেহেশতেই চিরদিন বসবাস করিবে।
আয়াত ৮৩
স্মরণ করো, ইসরাইল সন্তানদের নিকট হইতে আমরা এক পাকাপোক্ত প্রতিশ্রুতি লইয়াছিলাম যে, আল্লাহ ছাড়া আর কাহারও ইবাদত করিবেনা; পিতামাতার সহিত, আত্মীয় স্বজনের সহিত, ইয়াতিম ও মিছকিনদের সহিত ভালো ব্যবহার করিবে; লোকদের সহিত ভাল কথাবার্তা বলিবে; নামায কায়েম করিবে এবং যাকাত দিবে; কিন্তু মুষ্টিমেয় লোক ছাড়া তোমরা সকলেই এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিয়াছো এবং এখন পর্যন্ত সেই অবস্থায়ই রহিয়াছো।
আয়াত ৮৪
আরও স্মরণ করো, আমরা তোমাদের নিকট হইতে এক দৃঢ় প্রতিশ্রুতি লইয়াছিলাম যে, তোমরা পরষ্পরের রক্তপাত করিবেনা ও পরস্পরকে ঘর হইতে বিতাড়িত করিবেনা; তোমরা সকলেই ইহা স্বীকার করিয়াছিলে; তোমরা নিজেরাই ইহার স্বাক্ষী।
আয়াত ৮৫
কিন্তু আজ সেই তোমরাই নিজেদের ভাই বন্ধুদের হত্যা করিতেছো; নিজেদের গোত্রের কিছু লোককে তোমরা ঘরবাড়ি হইতে নির্বাসিত করিতেছো; জুলুম ও বাড়াবাড়ি সহকারে তাহাদের বিরুদ্ধে দল পাকাইতেছো; এবং যখন তাহারা যুদ্ধবন্ধি হইয়া তোমাদের নিকট উপস্থিত হয়; তখন তাহাদের মুক্তির জন্য বিনিময়ের আদান প্রদান করো; অথচ তাহাদিগকে ঘরবাড়ি হইতে নির্বাসিত করাই ছিল তোমাদের প্রতি হারাম; তবে তোমরা কি আল্লাহর কিতাবের একাংশ বিশ্বাস করো? এবং অপর অংশকে করো অবিশ্বাস? জানিয়া রাখো, তোমাদের মধ্যে যাহাদেরই এইরুপ আচরণ হইবে তাহাদের এতদব্যাতীত আর কি শাস্তি হইতে পারে? তাহারা পার্থিব জীবনে অপমানিত ও লাঞ্চিত হইতে থাকিবে এবং পরকালে তাহাদিগকে কঠিনতম শাস্তির দিকে নিক্ষেপ করা হইবে; তোমরা যাহা কিছু করিতেছো তাহা আল্লাহর মোটেই অজ্ঞাত নহে।
আয়াত ৮৬
প্রকৃতপক্ষে এইসব লোকেরাই নিজেদের পরকাল বিক্রয় করিয়া দুনিয়ার জীবন খরিদ করিয়া লইয়াছে; কাজেই ইহাদের জন্য নির্দিষ্ট শাস্তি কিছুমাত্র হ্রাস করা হইবেনা এবং ইহারা নিজেরাও কোন সাহায্য পাইবেনা।
আয়াত ৮৭
আমরা মুসাকে কিতাব দিয়াছি; অতপর পর্যায়ক্রমে রাসুল প্রেরণ করিয়াছি; শেষ পর্যায়ে ঈসা ইবনে মরিয়মকে সুষ্পষ্ট নিদর্শণাদী সহকারে পাঠাইয়াছি এবং পবিত্র আত্মা দ্বারা তাহাকে সাহায্য করিয়াছি; অতপর তোমাদের এহেন আচরণ মোটেই বাঞ্চনীয় নয় যে, যখনই কোন নবী তোমাদের মনের লালসার বিপরিত কোন জিনিস লইয়া তোমাদের নিকট আগমন করিয়াছে; তখনই তোমরা তাহার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিয়াছো; কাহাকেও মিথ্যা প্রতিপাদন করিয়াছো আর কাহাকেও হত্যা করিয়াছো।
আয়াত ৮৮
তাহারা বলে, আমাদের হৃদয় সুরক্ষিত; মোটেই না, আসল ব্যাপার এই যে, তাহাদের কুফরীর কারনে তাহাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত বর্ষিত হইয়াছে; এই জন্য তাহারা খুব কমই ইমান আনিয়া থাকে।
আয়াত ৮৯
এখন আল্লাহর নিকট হইতে যে কিতাব তাহাদের নিকট আসিয়াছে; উহার সহিত তাহারা কিরুপ আচরণ করিয়াছে যদিও তাহারা পূর্ব হইতেই তাহাদের নিকট মওজুদ গ্রন্থের সত্যতা স্বীকার করিতো; যদিও উহার আগমনের পূর্বে তাহারা নিজেরা কাফেরদের মোকাবেলায় বিজয় ও সাহায্য লাভের জন্য প্রার্থনা করিতো; কিন্তু যখন সেই জিনিস আসিয়া পৌছিলো যাহাকে তাহারা চিনিতেও পারিলো; তখন তাহারা উহাকে মানিয়া লইতে অস্বীকার করিলো; এই সমস্ত অবিশ্বাসীর উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।
আয়াত ৯০
উহারা যে জিনিসের সাহায্যে মনের শান্তনা লাভ করে; তাহা কতইনা নিকৃষ্ট; তাহা এই যে, তাহারা শুধু এই জিদের বশবর্তী হইয়াই আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান মানিয়া লইতে অস্বীকার করিতেছে যে, আল্লাহ তাহার বান্দাদের মধ্যে হইতে নিজ মনোনিত একজনকে আপন অনুগ্রহ দানে ভূষিত করিয়াছেন; অতএব তাহারা আল্লাহর দ্বিগুন গযবের উপযুক্ত হইয়াছে; বস্তুত এই‌ সমস্ত কাফিরের জন্য কঠিন, অপমানকর, শাস্তি নির্দিষ্ট রহিয়াছে।
আয়াত ৯১
যখনই তাহাদের বলা হয়, আল্লাহ যাহা কিছু নাযিল করিয়াছেন উহার প্রতি ইমান আনো; তখন তাহারা বলে, আমরা তো শুধু সেই জিনিসের প্রতি ইমান আনিয়া থাকি; যাহা আমাদের প্রতি নাযিল হইয়াছে; এই পরিসীমার বাহিরে যাহা কিছু অবতীর্ণ হইয়াছে; উহা মানিতে তাহারা অস্বীকার করিতেছে; অথচ যাহা মানিতে তাহারা অস্বীকার করিতেছে, তাহা সত্য এবং তাহাদের নিকট পূর্ব হইতে যে শিক্ষা বর্তমান ছিলো তাহা উহার সত্যতা স্বীকার করে ও উহার সমর্থন করে; যাহাই হোক, তাহাদের জিজ্ঞাসা করো? তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ আদর্শের প্রতি যদি তোমরা বিশ্বাসী হইয়া থাকো; তবে ইতিপূর্বে আল্লাহর সেই নবীদের কেন হত্যা করিয়াছিলে।
আয়াত ৯২
তোমাদের নিকট মুসা কিরুপ উজ্জ্বল নিদর্শণাদী লইয়া আসিয়াছিলো; এতদসত্তেও তোমরা এমন জালিম হইয়া গিয়াছিলে যে, তাহার অনুপস্থিতির সুযোগে তোমরা বাছুরকে উপাস্য দেবতা বানাইয়া ছিলে।
আয়াত ৯৩
অতপর সেই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করো যাহা তোমাদের উপর তুর পাহাড় উঠাইয়া, তোমাদের নিকট হইতে আমরা গ্রহণ করিয়াছিলাম; উহাতে আমরা তাগিদ করিয়াছিলাম যে, যেই পথনির্দেশ আমরা দিতেছি; তাহা বিশেষ দৃঢ়তার সহিত কার্যে পরিনত করো এবং মনোনিবেশ সহকারে শ্রবণ করো; তোমাদের উর্ধতন পুরুষেরা বলিয়াছিলো, আমরা শুনিয়াছি বটে; কিন্তু মানিবোনা; বাতিল ও অন্যায়ের প্রতি তাহারা এতই আকৃষ্ট হইয়া পড়িয়াছিলো যে, তাহাদের মানসপটে বাছুরেরই প্রভাব দৃঢ়ভাবে স্থাপিত হইয়াছিলো; বলিয়া দাও, তোমরা যদি প্রকৃতপক্ষে ইমানদারই হও, তবে যেই ইমান এই ধরনের পাপ কাজের প্রেরনা দেয় তাহা বড়ই আশ্চর্যজনক।
আয়াত ৯৪
তাহাদের বলো, আল্লাহর দৃষ্টিতে পরকালের ঘর সমগ্র মানুষকে বাদ দিয়া কেবল তোমাদের জন্যই যদি নির্দিষ্ট হইয়া থাকে; তবেতো তোমাদের মৃত্যু কামনা করাই বাঞ্চনীয়; অবশ্য তোমরা যদি তোমাদের এই ধারনায় সত্যবাদী হইয়া থাকো।
আয়াত ৯৫
বিশ্বাস করো, ইহারা কখনোই মৃত্যু কামনা করিবেনা; কারণ নিজেদের হাতে উপার্জন করিয়া তাহারা যাহা কিছু সেখানে পাঠাইয়াছে; উহার পরিপেক্ষিতে সেখানে যাওয়ার কামনা না করাই স্বাভাবিক; আল্লাহ এই জালিমদের অবস্থা ভাল করিয়াই জানেন।
আয়াত ৯৬
তোমরা তাহাদিগকে বাচিয়া থাকার জন্য লোকদের মধ্যে সবচেয়ে লোভী দেখিতে পাইবে; এমনকি এই ব্যাপারে তাহারা মুশরিকদের চেয়েও বেশি অগ্রসর; তাহাদের প্রত্যেক ব্যক্তিই কোন না কোন রুপে হাজার বৎসর বাচিয়া থাকার বাসনা পোষণ করে; অর্থচ দীর্ঘজীবন তাহাদিগকে আযাব হইতে কখনোই দুরে রাখিতে সমর্থ হইবেনা; তাহারা যেসব কাজকর্ম করিতেছে; তাহা সবই আল্লাহ দেখিতেছেন।
আয়াত ৯৭
তাহাদিগকে বলো, জিবরাইলের প্রতি যে শত্রুতা পোষণ করিবে, তাহার জানিয়া রাখা দরকার যে, জিবরাইল আল্লাহরই‌ অনুমতিক্রমে এই কোরআন মাজীদ তোমার অন্তরে নাযিল করিয়াছে; ইহা পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের সত্যতা ও সমর্থন করে এবং ইমানদারদের জন্য সঠিক পথের সন্ধান ও সাফল্যের সুসংবাদ লইয়া আসিয়াছে।
আয়াত ৯৮
যাহারা আল্লাহ, তাহার ফেরেশতাগন, তাহার পয়গম্বরগন এবং জিবরাইল ও মিকাইলের শত্রু; আল্লাহ স্বয়ং সেই কাফিরদের শত্রু।
আয়াত ৯৯
আমরা তোমার প্রতি এমন সব আয়াত নাযিল করিয়াছি; যাহা স্পষ্টরুপে সত্য প্রকাশ করিতেছে; যাহারা ফাসিক কেবল তাহারাই উহা মানিয়া লইতে অস্বীকার করে।
আয়াত ১০০
সাধারনত ইহাই কি হয় নাই যে? তাহারা যখন কোন কিছুর প্রতিশ্রুতি দান করিয়াছে; তখন তাহাদের একটি না একটি উপদল নিশ্চিতরুপেই তাহা উপেক্ষা করিয়াছে; বরং সত্যকথা এই যে, তাহাদের মধ্যেকার অনেক লোক আন্তরিক নিষ্ঠা সহকারে ইমানই আনে নাই।

আয়াত ১০১
যখনই তাহাদের নিকট আল্লাহর তরফ হইতে কোন রাসুল তাহাদের নিকট মওজুদ কিতাবের সত্যতা স্বীকার ও সমর্থন করিয়াছে; তখনই এই কিতাব ধারীদের মধ্যে হইতে একটি উপদল আল্লাহর কিতাবকে এমনভাবে পিছনে ফেলিয়া রাখিয়াছে যেন তাহারা এই সম্পর্কে কিছুই জানেনা।
আয়াত ১০২
অথচ সেই সব জিনিসকে তাহারা মানিতে শুরু করিলো, শয়তান যাহা সুলাইমানের রাজত্বের নাম লইয়া পেশ করিতেছিলো; প্রকৃতপক্ষে সুলাইমান কখনোই কুফরী অবলম্বন করেন নাই; কুফরীতো অবলম্বন করিয়াছে সেই শয়তানগণ যাহারা লোকদিগকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিতো; ব্যাবিলনের হারুত ও মারুত এই দুই ফেরেশতার প্রতি যাহা কিছু নাযিল করা হইয়াছিলো; তাহারা উহার প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হইয়া পড়িয়াছিলো; অথচ তাহারা যখনই কাহাকেও এই জিনিসের শিক্ষা দিতো; তখন প্রথমেই এই কথা বলিয়া স্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ার করিয়া দিতো; দেখো, আমরা নিছক পরীক্ষা মাত্র; তোমরা কুফরীর পঙ্কে নিমজ্জিত হইয়োনা; এতদসত্তেও তাহারা ফেরেশতাদ্বয়ের নিকট হইতে সেই জিনিসই শিখিতেছিলো; যাহা দ্বারা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা যায়; অথচ ইহা সুষ্পষ্ট যে, আল্লাহর অনুমতি ব্যাতিরেকে এই উপায়ে তাহারা কাহারও কোন ক্ষতি সাধন করিতে সমর্থ্য হইতোনা; কিন্তু এতদসত্তেও তাহারা এমন জিনিস শিখিতো যাহা তাহাদের পক্ষেও কল্যাণকর ছিলোনা বরং ক্ষতিকর ছিলো এবং তাহারা ভালো করিয়া জানিতো যে, কেহ এই জিনিসের খরিদদার হইলে তাহার জন্য পরকালে কোনই কল্যাণ নাই; তাহারা যে জিনিসের বিনিময়ে নিজেদের জীবন বিক্রয় করিয়াছে তাহা কতইনা নিকৃষ্ট; হায়! এই কথা তাহারা যদি জানিতে পারিতো।
আয়াত ১০৩
তাহারা যদি ইমান আনিতো ও তাকওয়া অবলম্বন করিতো; তবে আল্লাহর নিকট ইহার যে প্রতিফল পাওয়া যাইতো উহা তাহাদের পক্ষে অধিক কল্যাণকর হইতো; তাহারা যদি ইহা জানিতে পারিতো।
আয়াত ১০৪
হে ইমানদারগণ, রায়না বলিয়োনা; বরং উংজুরনা বলো এবং মনোযোগ দিয়া কথা শ্রবন করো; এই কাফিরগণ তো নিশ্চিতরুপেই কঠিন শাস্তি পাওয়ার উপযুক্ত।
আয়াত ১০৫
যাহারা সত্যের এই আহবান কবুল করিতে অস্বীকার করিয়াছে; তাহারা আহলে কিতাব হোক আর মুশরিকই হোক; তোমার প্রতি তোমার রবের নিকট হইতে কোন প্রকার কল্যান অবতীর্ণ হওয়াকে তাহাদের কেহই পছন্দ করেনা; অথচ যাহাকেই চান নিজের রহমত দানের জন্য মনোনীত করিয়া লন; বস্তুত আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহশীল।
আয়াত ১০৬
আমরা যে আয়াত মানসুখ করি কিংবা ভুলাইয়া দেই; উহার স্থানে তদাপেক্ষা উত্তম জিনিস পেশ করি কিংবা অন্তত অনুরুপ জিনিসই আনিয়া দেই; তোমরা কি জানোনা যে, আল্লাহ সকল বস্তুর উপর প্রতিপত্তিশীল।
আয়াত ১০৭
তোমাদের কি ইহা জানা নাই যে, আকাশ ও পৃথিবীর প্রভুত্ব একমাত্র আল্লাহরই জন্য; তিনি ব্যতীত অন্যকেহই তোমাদের বন্ধু ও সাহায্যকারী নাই।
আয়াত ১০৮
তোমরা কি তোমাদের রাসুলের নিকট সেই ধরনের প্রশ্ন ও দাবি পেশ করিতে চাও? যেমন ইতিপূর্বে মুসার নিকট করা হইয়াছে; অথচ যে ব্যক্তি ইমানের আদর্শকে কুফরীর আদর্শে পরিবর্তিত করিলো; সেই পথভ্রষ্ট হইয়া গেলো
আয়াত ১০৯
আহলে কিতাবদের মধ্যে অনেক লোকই তোমাদিগকে কোন প্রকারে ইমানের পথ হইতে কুফরীর দিকে লইয়া যাইতে চায়; যদিও প্রকৃত সত্য তাহাদের নিকট সুষ্পষ্ট হইয়াছে; কিন্তু শুধু নিজেদের হিংসাত্মক মনোবৃত্তির কারনেই তোমাদের জন্য তাহাদের এই মনোবাঞ্চা; ইহার উত্তরে তোমরা ক্ষমা ও মার্জনার নীতি অবলম্বন করো; যতক্ষণ না আল্লাহ নিজেই ইহার কোন চূড়ান্ত ফায়সালা করিয়া দেন; নিশ্চিত জানিও সবকিছুর উপরই আল্লাহর শক্তি কার্যকর।
আয়াত ১১০
নামায কায়েম করো, যাকাত দাও, আর তোমরা নিজেদের পরকালীন মুক্তির জন্য যাহা কিছু কল্যাণ অগ্রে পাঠাইয়া দিবে তাহা আল্লাহর নিকট মজুদ পাইবে; বস্তুত তোমরা যাহাই করোনা না কেন? তাহা সবই আল্লাহর গোচরীভূত।

আয়াত ১১১
তাহারা বলে কোন ব্যক্তিই বেহেশতে যাইতে পারিবেনা যতক্ষণ না সে ইয়াহুদী বা খ্রিষ্টান হইবে; মূলত ইহা তাহাদের মনের কামনা ম

10/09/2021

০৩ সূরা আল ইমরান

আয়াত ১
আলিফ, লাম, মীম।
আয়াত ২
আল্লাহ সেই চিরঞ্জীব শাশ্বত সত্তা; যিনি বিশ্বলোকের শৃঙ্খলাগ্রন্থি দৃঢ়তার সহিত ধারন করিয়া আছেন; প্রকৃতপক্ষে তিনি ছাড়া আর কেহ ইলাহ নেই।
আয়াত ৩-৪
তিনি তোমার প্রতি এই কিতাব নাযিল করিয়াছেন; ইহা সত্যের বানী লইয়া আসিয়াছে; এবং পূর্বের অবতীর্ণ সমস্ত কিতাবের সত্যতা ঘোষণা করিতেছে; ইতিপূর্বে তিনি মানুষের হেদায়েত ও জীবন ব্যাবস্থা হিসেবে তওরাত ও ইঞ্জিল নাযিল করিয়াছেন; আর তিনি মাণদণ্ড নাযিল করিয়াছেন হক ও বাতিলের পার্থক্য নির্দেশকারী; এখন যাহারা আল্লাহর আদেশ নির্দেশ সমূহ মানিয়া লইতে অস্বীকার করিবে তাহাদিগকে নিশ্চয়ই কঠিন শাস্তি দেওয়া হইবে; আল্লাহ অসীম ক্ষমতার মালিক; তিনি সকল অন্যায়ের প্রতিশোধ গ্রহন করিয়া থাকেন।
আয়াত ৫
আকাশ ও পৃথিবীর কোন জিনিসই আল্লাহর নিকট গোপন নয়।
আয়াত ৬
তিনিইতো তোমাদের মায়েদের গর্ভে তোমাদের আকার আকৃতি নিজের ইচ্ছামত বানাইয়া থাকেন; বাস্তবিকই এই প্রবল পরাক্রমশালী বিজ্ঞানময় ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই।
আয়াত ৭
তিনিই, যিনি তোমার প্রতি এই কিতাব নাযিল করিয়াছেন; এই কিতাবে দুই প্রকারের আয়াত রহিয়াছে; প্রথম, মুহকামাত, যাহা কিতাবের মূল বুনিয়াত; আর দ্বিতীয় মুতাশাবিয়াত; যাহাদের মনে কুটিলতা আছে তাহারা ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সব সময় মুতাশাবিয়াত এর পিছনে লাগিয়া থাকে; এবং উহার অর্থ বাহির করিবার চেষ্টা করে; অর্থচ উহার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেহই জানেনা; পক্ষান্তরে যাহারা জ্ঞান ও বিদ্যায় পরিপক্ব লোক তাহারা বলে, আমরা ইহার প্রতি ইমান আনিয়াছি; ইহা সবই আমাদের রবের তরফ হইতে আসিয়াছে; আর সত্য কথা এই যে, কোন জিনিস হইতে প্রকৃত শিক্ষা কেবল বুদ্ধিমান লোকেরাই লাভ করে।
আয়াত ৮
তাহারা আল্লাহর নিকট দোয়া করিতে থাকে; হে পরওয়ারদিগার, তুমি যখন আমাদিগকে সঠিক, সোজাপথে চালাইয়া দিয়াছো; তুমি আর আমাদের মনে কোন প্রকার বক্রতা ও কুটিলতার সৃষ্টি করিয়া দিয়োনা; আমাদিগকে তোমার মেহেরবানীর ভাণ্ডার হইতে অনুগ্রহ দান করো; কেননা প্রকৃত দয়াবান তুমিই।
আয়াত ৯
হে পরওয়ারদিগার, তুমি নিশ্চয়ই একদিন সমস্ত লোককে একত্রিত করিবে; যেদিনের আগমনে কোন প্রকার সন্দেহ নাই; তুমি কখনোই নিজের ওয়াদা হইতে বিচ্যুত হওনা।
আয়াত ১০
যাহারা কুফরীর পন্থা অবলম্বন করিয়াছে; আল্লাহর মোকাবেলায় তাহাদিগকে, না তাহাদের ধনসম্পদ কোন উপকার করিতে পারিবে, না তাহাদের সন্তান সন্তুদি; তাহারা দোযখের ইন্ধন হইয়া থাকিবে।
আয়াত ১১
তাহাদের পরিনতি সেই রকম হইবে, যাহা ফেরাউনের সঙ্গী সাথী এবং তাহাদের পূর্ববর্তী নাফরমান লোকদের হইয়াছে; তাহারা আমাদের আয়াত সমূহকে মিথ্যা মনে করিয়াছে; ফলে আল্লাহ তাহাদেরকে তাহাদের গুনাহের জন্য ধরিয়া ফেলিলেন; আর বাস্তবিকই আল্লাহ কঠিন শাস্তি দানকারী।
আয়াত ১২
অতএব হে মোহাম্মদ, যাহারা তোমার‌ দাওয়াত কবুল করিতে অস্বীকার করিয়াছে; তাহাদেরকে বলিয়া দাও যে, সেইদিন খুব নিকটে যখন তোমরা পরাজিত হইবে; এবং জাহান্নামের দিগে তাড়িত হইবে; আর জাহান্নাম বস্তুতই অত্যন্ত খারাপ স্থান।

আয়াত ১৩
সেই দুই দলের মধ্যে তোমাদের জন্য অনেক শিক্ষার নিদর্শণ ছিলো; যাহারা পরস্পর যুদ্ধে লিপ্ত হইয়াছিলো; একটি দল আল্লাহর পথে লড়াই করিতেছিলে আর অপর দলটি ছিলো কাফির; চক্ষুস্মান লোকেরা পরিস্কার দেখিতে পাইতেছিলো যে, কাফিরদের দল মুমিনদের দল অপেক্ষা দ্বিগুন; কিন্তু আল্লাহ যাহাকে চান তাহাকেই তাহার সাহায্য ও বিজয় দান করেন; বস্তুত দৃষ্টিমান লোকদের জন্য ইহাতে খুবই উপদেশ ও শিক্ষার বস্তু নিহিত রহিয়াছে।
আয়াত ১৪
মানুষের জন্য তাহাদের মনোপুত জিনিস, নারী, সন্তান সন্তুদি, স্বর্ণরৌপ্যের স্তুপ, বাছাই করা ঘোড়া, গবাদি পশু ও কৃষিজমিকে খুবই আনন্দদায়ক ও লালসার বস্তু বানাইয়া দেওয়া হইয়াছে; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইহা দুনিয়ার সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী জীবনের সামগ্রীমাত্র; মূলত উত্তম আশ্রয় তো আল্লাহর নিকটই রহিয়াছে।
আয়াত ১৫
বলো, আমি কি তোমাদের বলিবো যে, এই সবের চেয়ে অধিক ভালো জিনিস কোনটি? যাহারা তাকওয়ার নীতি অবলম্বন করিবে; তাহাদের জন্য তাহাদের রবের নিকট জান্নাতে বাগিচা রহিয়াছে; যাহার পাদদেশ হইতে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়; সেখানে তাহারা চিরন্তন জীবন লাভ করিবে; পবিত্রা স্ত্রীগণ তাহাদের সঙ্গী হইবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করিয়া তাহারা ধন্য হইবে; আল্লাহ নিশ্চয়ই তাহার বান্দাদের উপর গভীর দৃষ্টি রাখেন।
আয়াত ১৬
এইসব লোক তাহারাই, যাহারা বলে, হে আমাদের রব, আমরা ইমান আনিয়াছি; সুতরাং আমাদের গুনাহ খাতা মাফ করো এবং আমাদিগকে জাহান্নামের আগুন হইতে বাচাও।
আয়াত ১৭
ইহারা ধৈর্য্যশীল, সত্যপন্থী বিনয়াবনত, দানশীল এবং রাতের শেষভাগে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনাকারী।
আয়াত ১৮
আল্লাহ নিজেই এই কথার সাক্ষ্য দিয়াছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই; ফেরেশতা ও জ্ঞানবান লোকেরাও সততা ও ইনসাফের সহিত এই সাক্ষ্যই দিতেছে যে, প্রকৃতপক্ষে সেই মহাপরাক্রমশালী ও বিজ্ঞানময় ছাড়া আর কেহই মাবুদ হইতে পারেনা।
আয়াত ১৯
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহনযোগ্য জীবন ব্যবস্থা হইতেছে কেবলমাত্র ইসলাম; যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছিলো তাহারা এই জীবন ব্যবস্থা হইতে বিচ্যুত হইয়া বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করিয়াছে; তাহাদের এই কর্মনীতির একমাত্র কারন এই হইতে পারে যে, প্রকৃত জ্ঞান পাওয়ার পর তাহারা পরস্পরের উপর প্রাধান্য বিস্তারের জন্যই এইরুপ করিয়াছে; বস্তুত আল্লাহর আদেশ নিষেধ ও হেদায়েত জানিয়া লইতে যে অস্বীকার করিবে তাহার নিকট হইতে হিসাব গ্রহণ করিতে আল্লাহর বিন্দুমাত্র বিলম্ব হয়না
আয়াত ২০
এখন যদি এইসব লোক তোমার সহিত বিতর্ক করে তবে তুমি তাহাদিগকে বলো, আমি ও আমার অনুসারীরা তো আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পন করিয়াছি; অতপর আহলে কিতাব ও অ-আহলে কিতাব উভয়কেই জিজ্ঞাসা করো; তোমরাও কি আনুগত্য ও দাসত্ব কবুল করিয়াছো; তাহা করিয়া থাকিলে তাহারা সঠিক পথ লাভ করিয়াছে; আর তাহা হইতে ফিরিয়া গেলে কেবল দাওয়াত পৌছাইয়া দেওয়াই তোমার দায়িত্ব ছিলো; ইহার পর আল্লাহ নিজেই তাহার বান্দাদের সবকিছু দেখবেন।
আয়াত ২১
যাহারা আল্লাহর আদেশ নিষেধ ও হেদায়েত মানিয়া লইতে অস্বীকার করে; এবং তাহার নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে আর জনগনের মধ্যে হইতে যাহারা সুবিচার ও ন্যায়পরায়নতার আদেশ দানের জন্য উথিত হয়; তাহাদিগকেও হত্যা করে; তাহাদিগকে কঠিন শাস্তির সুসংবাদ দাও;
আয়াত ২২
এই‌ সব লোকের কাজকর্ম দুনিয়া আখিরাত উভয় স্থানেই ধ্বংষ ও নিস্ফল হইয়া গিয়াছে এবং তাহাদের কোন সাহায্যকারীও নাই।

আয়াত ২৩
তুমি কি দেখো নাই? যাহাদিগকে কিতাবের জ্ঞান হইতে কিছু দেওয়া‌ হইয়াছে, তাহাদের অবস্থা কি? তাহাদিগকে যখন আল্লাহর কিতাবের দিকে আহবান জানানো হয় তাহাদের পরস্পরের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য তখন তাহাদের একটি দল পাশ কাটাইয়া চলিয়া যায় এবং ফয়সালা হইতে‌ অন্যদিকে মুখ ফিরাইয়া লয়।
আয়াত ২৪
তাহাদের এইরুপ আচরনের কারন এই যে, তাহারা বলে, জাহান্নামের আগুন তো আমাদিগকে স্পর্শ পর্যন্ত করিবেনা; আর জাহান্নামের শাস্তি যদি আমাদের একান্তই ভোগ করিতে হয় তবে তাহা মাত্র কয়েকদিনের জন্য; বস্তুত তাহাদের মনগড়া আকীদা তাহাদিগকে নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে বড়ই ভুল ধারনার মধ্যে ফেলিয়া দিয়াছে।
আয়াত ২৫
কিন্তু তখন কি অবস্থা হইবে যখন আমরা তাহাদিগকে সেইদিন একত্রিত করিবো; যেদিনের আগমন একেবারেই নিশ্চিত; সেদিনতো প্রত্যেক ব্যক্তিকেই তাহার কাজের পুরাপুরি ফল দেওয়া হইবে এবং কাহারও উপর জুলুম করা হইবেনা।
আয়াত ২৬
বলো, হে আল্লাহ, সমস্ত রাজত্ব ও সাম্রাজ্যের মালিক; তুমি যাহাকে চাও রাজত্ব দান করো; আর যাহার নিকট হইতে ইচ্ছা কাড়িয়া লও; যাহাকে চাও সম্মানিত করো আর যাহাকে চাও অপমানিত লাঞ্চিত করো; সকল প্রকার মঙ্গল ও কল্যাণ তোমারই ইখতিয়ারে রহিয়াছে; নিশ্চয়ই তুমি সর্ব শক্তিমান।
আয়াত ২৭
রাতকে দিনের মধ্যে তুমিই শামিল করিয়া দাও; আবার দিনকেও শামিল করিয়া‌ দাও রাতের মধ্যে; তুমিই জীবন্ত জিনিস হইতে নির্জীব জিনিস বাহির করো; আর জীবনহীন জিনিস হইতে বাহির করো জীবন্ত জিনিস; আর তুমি যাহাকে চাও বেহিসেব পরিমানে রিযিক দান করো।
আয়াত ২৮
মুমিনগণ যেন কখনো ইমানদার লোকদের পরিবর্তে কাফিরদিগকে নিজেদের বন্ধু, পৃষ্ঠপোষক ও সহযাত্রীরুপে গ্রহন না করে; যে এইরুপ করিবে আল্লাহর সহিত তাহার কোনই সম্পর্ক থাকিবেনা; অবশ্য তাহাদের জুলুম হইতে বাচিবার জন্য তোমরা‌ বাহ্যত এইরুপ কর্মনীতি অবলম্বন করিলে তাহা আল্লাহ মাফ করিয়া দিবেন; আল্লাহ তোমাদিগকে তাহার নিজের সম্পর্কে ভয় দেখাইতেছেন আর তোমাদিগকে তাহারই দিকে ফিরিয়া যাইতে হইবে।
আয়াত ২৯
হে নবী, লোকদের সতর্ক করিয়া দাও যে, তোমাদের মনে যাহা কিছু আছে তাহা গোপন করো আর প্রকাশ করো; আল্লাহ উহার সবকিছুই জানেন; আসমান ও যমীনের কোন জিনিসই তাহার জ্ঞানের আওতার বাহিরে নহে এবং তাহার ক্ষমতা, কর্তৃত্ব প্রতিটি বস্তুকেই বেস্টন করিয়া আছে।
আয়াত ৩০
সেইদিন নিশ্চয়ই আসিবে যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের কৃতকর্মের ফল পাইবে; সে ভালো কাজই করুক আর মন্দই করুক; সেইদিন প্রত্যেকেই এই কামনা করিবে যে, এই দিনটি যদি তাহাদের নিকট হইতে বহুদুরে অবস্থান করিতো; তবে কতইনা ভালো হইতো; আল্লাহ তোমাদিগকে তাহার নিজের সম্পর্কে ভয় দেখাইতেছেন; প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাহার বান্দাদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকামী।
আয়াত ৩১-৩২
হে নবী, লোকদের বলিয়া দাও; তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা পোষণ করো; তবে আমার অনুসরণ করো; তাহা হইলে আল্লাহ তোমাদিগকে ভালো বাসিবেন এবং তোমাদের গুনাহ খাতা মাফ করিয়া দিবেন; তিনি বড়ই ক্ষমাশীল ও অসীম দয়াবান; তাহাদের বলো, আল্লাহ এবং রাসুলের আনুগত্য কবুল করো; অতপর তাহারা যদি তোমাদের দাওয়াত কবুল না করে; তবে সেই সব লোকদিগকে যাহারা তাহার ও তাহার রাসুলের আনুগত্য করিতে অস্বীকার করে; আল্লাহ কিছুতেই ভালোবাসিতে পারেন না।
আয়াত ৩৩
আল্লাহ আদম ও নুহ এবং ইবরাহীমের বংশধর ও ইমরানের বংশধরগণকে সমগ্র দুনিয়াবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য দিয়াছেন এবং মনোনীত করিয়াছেন।

আয়াত ৩৪
ইহারা সকলে একই সূত্রে গাথা ছিলো; একজন অপরজনের বংশ হইতে উদ্ভূত হইয়াছিলো; আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও সবকিছু জানেন।
আয়াত ৩৫
যখন ইমরানের মহিলা বলিতেছিলো যে, হে আমার রব, আমার এই সন্তানকে যে এখন আমার গর্ভে রহিয়াছে; আমি তোমার উদ্দেশ্যে নিবেদন করিতেছি; সে তোমার কাজেই সম্পূর্ণরুপে নিয়োজিত থাকিবে; আমার পক্ষ হইতে এই নিবেদন তুমি কবুল করো; তুমি সবকিছুই শোন ও সবকিছুই জানো।
আয়াত ৩৬
অতপর সে যখন সেই সন্তান প্রসব করিলো তখন বলিলো, প্রভু হে, আমারতো কণ্যা ভূমিষ্ট হইয়াছে; অর্থচ সে যাহা প্রসব করিয়াছিলো তাহা আল্লাহর জানাই ছিলো; আর পুত্রসন্তান কখনো কণ্যা সন্তানের মত হইতে পারেনা; যাহাই হোক, আমি উহার নাম রাখিলাম মরিয়ম এবং আমি তাহাকে ও তাহার ভবিষ্যৎ বংশধরকে মরদুদ শয়তানের ফিতনা হইতে রক্ষা করার জন্য তোমারই আশ্রয়ে সোপর্দ করিয়া দিতেছি।
আয়াত ৩৭
শেষ পর্যন্ত তাহার রব এই কণ্যা‌ সন্তানকে সন্তুষ্টির সহিত কবুল করিয়া লইলেন; তাহাকে খুব ভালো কণ্যা হিসাবে গড়িয়া তুলিলেন এবং যাকারিয়াকে তাহার পৃষ্ঠপোষক করিয়া দিলেন; যাকারিয়া যখনই তাহার নিকট মেহরাবে যাইতো; তখনই তাহার নিকট কিছু না কিছু খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য দেখিতে পাইতো; সে জিজ্ঞাসা করিতো, মরিয়ম, ইহা তুমি কোথায় পাইলে; উত্তর দিতো, ইহা আল্লাহর নিকট হইতে আসিয়াছে; বস্তুত আল্লাহ যাহাকে ইচ্ছা করেন বিপুল পরিমানে দান করেন।
আয়াত ৩৮
এই অবস্থা দেখিয়া যাকারিয়া তাহার রবকে ডাকিলো, হে আমার রব, তোমার বিশেষ কুদরতে আমাকে সৎ সন্তান দান করো; প্রকৃতপক্ষে তুমিই দোয়া প্রার্থনা শ্রবনকারী।
আয়াত ৩৯
উত্তরে ফেরেশতাগণ আওয়াজ দিলো, যখন সে মেহরাবে দাড়াইয়া নামায পড়িতেছিলো, আল্লাহ তোমাকে ইয়াহিয়া সম্পর্কে সুসংবাদ দিতেছেন; সে আল্লাহর তরফ হইতে একটি ফরমানের সত্যতা প্রমানকারী হিসেবে আসিবে; তাহার মধ্যে নেতৃত্ব ও সততার বৈশিষ্ট্য থাকিবে; পূর্ণমাত্রায় নিয়মানুবর্তিতা থাকিবে; নবুওয়াতের সম্মানে ভূষিত হইবে এবং সৎলোকের মধ্যে গণ্য হইবে।
আয়াত ৪০
যাকারিয়া বলিলো, হে রব, আমার পুত্র সন্তান হইবে কিরুপে; আমি‌ তো বৃদ্ধ হইয়াছি; আর আমার স্ত্রীও বন্ধা; উত্তর আসিলো, ইহাই হইবে, আল্লাহ যাহা ইচ্ছা করেন তাহাই‌ করেন।
আয়াত ৪১
সে নিবেদন করিলো, হে আমার রব, তাহা হইলে আমার জন্য কোন নিদর্শণ ঠিক করিয়া দাও; তিনি বলিলেন, তুমি তিনদিন পর্যন্ত লোকদের সহিত ইশারা ইঙ্গিত ছাড়া কোন কথাবার্তা বলিবেনা; এই সময়ের মধ্যে তোমার রবকে খুব বেশি করিয়া স্মরণ করিবে এবং সকাল সন্ধা তাহার তসবিহ করিতে থাকিবে।
আয়াত ৪২
অতপর সেই সময় উপস্থিত হইলো যখন মরিয়মকে ফেরেশতাগণ আসিয়া বলিলো, হে মারইয়াম, আল্লাহ তোমাকে উচ্চতম স্থানে ভূষিত করিয়াছেন ও পবিত্রতা দান করিয়াছেন এবং সমগ্র পৃথিবীর মহিলাদের উপর তোমাকে প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করিয়া নিজের খেদমতের জন্য মনোনীত করিয়াছেন।
আয়াত ৪৩
হে মারইয়াম, তোমার রবের আদেশের অনুগত ও অধীন হইয়া থাকো; তাহার সম্মুখে সিজদাবনত হও; আর যেই বান্দারা তাহার সম্মুখে অবনত হয় তুমিও তাহাদের সহিত অবনত হয়।
আয়াত ৪৪
হে মোহাম্মদ, ইহা সবই অদৃশ্য জগতের খবর; ইহা আমি অহীর সাহায্যে তোমাকে বলিয়া দিতেছি; অন্যথায় তুমি তো তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেনা যখন হাইকালের সেবাহিতগণ মরিয়মের পৃষ্ঠপোষক কে হইবে তাহা ঠিক করার জন্য নিজ নিজ কলম নিক্ষেপ করিতেছিলো; আর এই ব্যাপারে তাহাদের মধ্যে যখন ঝগড়ার সৃষ্টি হইয়াছিলো তখনও তুমি সেখানে ছিলেনা।

আয়াত ৪৫
যখন ফেরেশতাগণ বলিলো, হে মরিয়ম, আল্লাহ তোমাকে তাহার নিজের এক বানীর সুসংবাদ দিতেছেন; তাহার নাম হইবে মসীহ ঈসা ইবনে মরিয়ম; ইহকাল ও পরকালের সর্বত্রই সে সম্মানিত হইবে; তাহাকে আল্লাহর নিকটবর্তী বান্দাদের মধ্যে গণ্য করা হইবে।
আয়াত ৪৬
সে লোকদের সহিত দোলনায় থাকিয়াও কথা বলিবে এবং বেশি বয়ষে উপনিত হইলেও; বস্তুত সে একজন কর্মশীল নেক পুরুষ হইবে।
আয়াত ৪৮
এবং আল্লাহ তাহাকে কিতাব ও হিক‌মতের শিক্ষা দান করিবেন; তাওরাত ও ইঞ্জিলের জ্ঞান শিক্ষা দিবেন
আয়াত ৪৯
এবং বনী ইসরাইলের প্রতি স্বীয় রাসুল হিসাবে নিযুক্ত করিবেন; আমি তোমাদের রবের তরফ হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শণ লইয়া আসিয়াছি; আমি তোমাদের সম্মুখেই মাটি দ্বারা পাখির আকারে একটি প্রতিকৃতি বানাই এবং উহাতে ফুৎকার প্রদান করি; উহা আল্লাহর নির্দেশে পাখি হইয়া যায়; আমি আল্লাহর হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে ভালো করিয়া দেই এবং মৃতকে জীবন্ত করি; আমি তোমাদিগকে বলিয়া দেই তোমরা নিজেদের ঘরে কি খাও আর কি সঞ্চয় করিয়া রাখো; ইহাতে তোমাদের জন্য যথেষ্ট নিদর্শণ রহিয়াছে; অবশ্য যদি তোমরা ইমান আনিতে প্রস্তুত হইয়া থাকো।
আয়াত ৫০
এবং তওরাতের যে শিক্ষা ও পথ নির্দেশণা এখন আমার সম্মুখে বর্তমান আছে; আমি উহার সত্যতা প্রতিপন্নকারী হইয়া আসিয়াছি; এইজন্য আসিয়াছি যে, তোমাদের প্রতি হারাম করিয়া দেওয়া হইয়াছে এমন কতিপয় জিনিস তোমাদের জন্য হালাল ঘোষণা করিয়া দিবো; জানিয়া রাখো, আমি তোমাদের রবের পক্ষ হইতে তোমাদের কাছে নিদর্শণ লইয়াই উপস্থিত হইয়াছি; অতএব আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।
আয়াত ৫১
আল্লাহ আমারও রব, তোমাদেরও রব, অতএব তোমরা তাহারই বন্দেগী কবুল করো; বস্তুত ইহাই সঠিক ও সোজা পথ।
আয়াত ৫২
ঈসা যখন অনুমান করিলো যে, বনী ইসরাইলগণ, কুফরী ও অস্বীকৃতির জন্য উদ্বুদ্ধ হইয়াছে; তখন সে বলিলো, আল্লাহর পথে আমার সাহায্যকারী কে হইবে? হাওয়ারীগণ উত্তরে বলিলো, আমরা আল্লাহর সাহায্যকারী; আমরা আল্লাহর প্রতি ইমান আনিয়াছি; সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম, আল্লাহর আনুগত্যে আত্মসমর্পনকারী।
আয়াত ৫৩
হে আমাদের রব, তুমি যে ফরমান নাযিল করিয়াছো; আমরা তাহা মানিয়া লইয়াছি এবং রাসুলের অনুসরন করার পন্থা কবুল করিয়াছি; তুমি আমাদের নাম সাক্ষ্যদাতাদের সহিত লিখিয়া দাও।
আয়াত ৫৪
অতপর বনী ইসরাইলগণ, গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হইলো; আল্লাহও তাহার গোপন ব্যবস্থা সম্পন্ন করিলেন; আর এই ধরনের ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি অগ্রসর হইয়া থাকেন।
আয়াত ৫৬
যাহারা কুফরী ও অস্বীকৃতির ভূমিকা অবলম্বন করিয়াছে; তাহাদিগকে আমি ইহকাল ও পরকাল সর্বত্রই কঠিন শাস্তি দান করিবো এবং তাহারা কোন সাহায্যকারী পাইবেনা।
আয়াত ৫৭
পক্ষান্তরে যাহারা ইমান ও সৎকার্যের নীতি অবলম্বন করিয়াছে; তাহাদিগকে তাহাদের প্রতিফল পুরাপুরি দান করা হইবে; ভালো করিয়া জানিয়া রাখো, আল্লাহ জালিমকে মোটেই ভালোবাসেন না।
আয়াত ৫৮
এই যাহা কিছু আমি তোমাকে শোনাইতেছি; ইহা আয়াত এবং যুক্তি ও জ্ঞানময় উপদেশ বিশেষ।

আয়াত ৫৯
নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত হইতেছে আদমের মতো; এইরুপে যে, আল্লাহ তাহাকে মাটি হইতে সৃষ্টি করিয়াছিলেন এবং নির্দেশ দিয়াছিলেন যে, হও, আর সে হইয়া গেলো।
আয়াত ৬০
ইহাই প্রকৃত ও যথার্থ সত্য কথা, যাহা তোমার রবের তরফ হইতে ঘোষণা করা হইতেছে; অতএব তোমরা সেই সব লোকের মধ্যে শামিল হইয়োনা যাহারা এই বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করে।
আয়াত ৬১
তোমার নিকট এই জ্ঞান আসার পর, এখন যে কেহ এই ব্যাপারে তোমার সহিত ঝগড়া করিবে; হে মোহাম্মদ, তাহাকে বলিয়া দাও, আসো আমরা ডাকিয়া লই আমাদের ও তোমাদের পুত্রদের ও স্ত্রীদের এবং আমরা ও তোমরা নিজেরাও হাজির হই; অতপর আল্লাহর নিকট দোয়া করি; যাহারা, যে মিথ্যাবাদী তাহাদের উপর আল্লাহর অভিষাপ বর্ষিত হোক।
আয়াত ৬২
ইহা সম্পূর্ণরুপে বিশুদ্ধ ও নির্ভুল ঘটনা; আর প্রকৃত কথা এই যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেহই মাবুদ নাই এবং আল্লাহর পরাক্রম সবকিছুর উপর পরিব্যাপ্ত ও তাহার প্রাজ্ঞ ব্যবস্থা সমূহ বিশ্বলোকের সর্বত্র কার্যকর।
আয়াত ৬৩
অতএব তাহারা যদি প্রস্তুত না হয়, তবে আল্লাহ তো বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অবস্থা ভালো করিয়াই জানেন।
আয়াত ৬৪
বলো, হে আহলে কিতাব, আসো একটি কথার দিগে যাহা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সম্পূর্ণ সমান; তাহা এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কাহারও বন্দেগী করিবোনা; তাহার সহিত কাহাকেও শরীক করিবোনা এবং আমাদের মধ্যে কেহ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাহাকেও নিজেদের রব বলিয়া গ্রহন করিবোনা; এই দাওয়াত গ্রহণ কবুল করিতে তাহারা যদি প্রস্তুত না হয় তবে পরিস্কার বলিয়া দাও; তোমরা সাক্ষী থাকো, আমরা তো মুসলিম।
আয়াত ৬৫
হে আহলে কিতাব, তোমরা ইবরাহীম সম্পর্কে আমাদের সঙ্গে কেন ঝগড়া করো? তওরাত ও ইঞ্জিলতো ইবরাহীমের পরেই নাযিল হইয়াছে; তবে কি তোমরা এইটুকু কথাও বুঝনা?
আয়াত ৬৬
তোমরা যেসব বিষয় জ্ঞান রাখো, সেইসব বিষয় লইয়াতো যথেষ্ট বিতর্ক করিলে এখন যেসব বিষয়ে তোমাদের বিন্দুমাত্রও জ্ঞান নাই; তাহা লইয়া কেন বিতর্কে লিপ্ত হইতে চাহিতেছো; প্রকৃত জ্ঞানতো আল্লাহর রহিয়াছে; তোমরা তো কিছুই জানোনা।
আয়াত ৬৭
সত্য কথা এই যে, ইবরাহীম না ছিলো ইয়াহুদী আর না ছিলো খ্রিষ্টান বরং সে তো ছিলো একজন একনিষ্ঠ মুসলিম; সে কখনো মুশরিকদের মধ্যে শামিল ছিলোনা।
আয়াত ৬৮
ইবরাহীমের সহিত সম্পর্ক রাখা সবচেয়ে বেশি অধিকার রয়েছে তাহাদের যাহারা তাহার অনুসরন করিয়াছে; আর এখন এই সম্পর্ক রাখার বেশি অধিকার হইতেছে এই নবী এবং তাহার অনুসারী ইমানদার লোকগন; বস্তুত আল্লাহ কেবল তাহাদেরই সহায়ক ও সাহায্যকারী যাহারা ইমানদার।
আয়াত ৬৯
আহলে কিতাবদের মধ্যে একটি দল তোমাদিগকে কোন না কোন রকমে পথভ্রষ্ট করিয়া দিতে চায়; অর্থচ প্রকৃতপক্ষে তাহারা নিজেদের ছাড়া আর কাহাকেও গোমরাহীতে নিক্ষেপ করিতে পারেনা; কিন্তু তাহাদের সেই বিষয়ে চেতনাই নাই।
আয়াত ৭০
হে আহলে কিতাব, তোমরা কেন আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করিতেছো; অর্থচ তোমরা নিজেরাই তাহা প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করিতেছো।
আয়াত ৭১
হে আহলে কিতাব, সত্যকে মিথ্যার সহিত মিশ্রিত করিয়া কেন সন্দেহযুক্ত করিয়া ফেলিতেছো; আর জানিয়া বুঝিয়া কেন সত্যকে গোপন করিতেছো।
আয়াত ৭২
আহলে কিতাবদের মধ্যে হইতে একটি দল বলে যে, এই নবীর প্রতি বিশ্বাসীদের নিকট যাহা কিছু নাযিল হয়; উহার প্রতি তোমরা সকালবেলা ইমান আনো আর সন্ধাবেলায় অস্বীকার করো; সম্ভবত এই প্রক্রিয়ায় ইহারা নিজেদের ইমান হইতে ফিরিয়া যাইবে।
আয়াত ৭৩
উপরন্তু তাহারা পরস্পর বলাবলি করে যে, নিজেদের ধর্মমতের লোক ছাড়া আর কাহারও কথা মানিয়োনা; হে নবী, তাহাদিগকে বলিয়া দাও, প্রকৃত হেদায়েত তো হইতেছে আল্লাহর হেদায়েত; এবং ইহা তাহারই নীতি যে, একদা তোমাকে যাহা দেওয়া হইয়াছিলো তাহা অন্য কাহাকেও দেওয়া হইবে; অথবা অন্য লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে তোমাদের রবের সম্মুখে পেশ করার জন্য কোন মজবুত প্রমান পাইয়া যাইবে; হে নবী, তাহাদের বলিয়া দাও, অনুগ্রহ ও মর্যাদা সবই আল্লাহর হাতে; তিনি যাহাকে চান দান করেন; তিনি ব্যাপক দৃষ্টিসম্পন্ন ও সর্ববিষয়ে অবহিত।
আয়াত ৭৪
তিনি নিজের অনুগ্রহের জন্য যাহাকে চান নির্দিষ্ট করিয়া লন; আর তাহার অনুগ্রহ অনেক বেশি ও বিরাট।
আয়াত ৭৫
আহলে কিতাবদের মধ্যে কোন কোন লোক এমনও আছে যে, তোমরা যদি তাহাদের প্রতি আস্থা রাখিয়া ধন সম্পদের একটি বিরাট স্তুপও তাহাদের নিকট আমানত রাখিয়া দাও; তবে তাহারা তোমাদের ধনদৌলত তোমাদের নিকট ফিরাইয়া দিবে আর কাহারও অবস্থা এইরুপ যে, তোমরা একটি মুদ্রার ব্যাপারেও যদি তাহাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো তবে তাহা তোমাদিগকে কখনোই ফিরাইয়া দিবেনা; অবশ্য তখন দিতে পারে যদি তোমরা একেবারে তাহাদের মাথার উপর চড়িয়া বসো; তাহাদের এইরুপ নৈতিক অবস্থার মূল কারন এই যে, তাহারা বলে যে, মুমিন লোকদের ব্যাপারে আমাদের উপর কোন দায় দায়িত্ব নাই; বস্তুত তাহারা এই কথাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানাইয়া আল্লাহর প্রতি আরোপ করিতেছে; অথচ তাহারা ভাল করিয়াই জানে যে, আল্লাহ এমন কোন কথাই বলেন নাই।
আয়াত ৭৬
তবে তাহাদিগকে কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হইবে না কেন? যে ব্যক্তি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করিবে এবং পাপাচার, নাফরমানী হইতে বিরত থাকিবে সেই আল্লাহর প্রিয় হইবে; কেননা পরহেযগার লোকই আল্লাহর প্রিয়পাত্র হইয়া থাকে।
আয়াত ৭৭
আর যাহারা আল্লাহর সহিত প্রতিশ্রুতি ও নিজেদের শপথ সমূহ সামান্য বা নগন্য মূল্যে বিক্রয় করিয়া ফেলে; পরকালে তাহাদের জন্য কোন অংশই নির্দিষ্ট নাই; কিয়ামতের দিন আল্লাহ, না তাহাদের সহিত কথা বলিবেন, না তাহাদের প্রতি চাহিয়া দেখিবেন; না তাহাদের চাহিয়া দেখিবেন; আর না তাহাদিগকে পবিত্র করিবেন; বরং তাহাদের জন্য তো কঠিন ও যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রহিয়াছে।
আয়াত ৭৮
তাহাদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যাহারা কিতাব পাঠ করার সময় জিহ্বাকে এমনভাবে উলট পালট করে যেন তোমরা মনে করো, তাহারা কিতাবের মূল ইবারত পাঠ করিতেছে; অর্থচ প্রকৃতপক্ষে তাহা কিতাবের মূল ইবারত নহে; তাহারা বলে, আমরা এই যাহা কিছু পড়ি তাহা সবই আল্লাহর তরফ হইতে প্রাপ্ত; অথচ প্রকৃতপক্ষে তাহা আল্লাহর নিকট হইতে প্রাপ্ত নহে; তাহারা জানিয়া শুনিয়াই আল্লাহর উপর মিথ্যা কথা আরোপ করিতেছে।
আয়াত ৭৯
কোন মানুষেরই এই কাজ নহে যে, আল্লাহ তো তাহাকে কিতাব, ক্ষমতা, ও নবুওয়াত দান করিবেন; আর সে এইসব কিছু লাভ‌ করিয়া লোকদিগকে বলিবে যে, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে আমার দাস হইয়া যাও; সে তো ইহাই বলিবে যে,খাটি রব্বানী হও, যেমন এই কিতাবও ইহার তাগিদ দিতেছে; যাহা তোমরা নিজেরা পড়ো এবং অন্যকেও পড়াও।
আয়াত ৮০
সে কখনো তোমাদিগকে এই কথা বলিবেনা যে, ফেরেশতা অথবা পয়গম্বরদেরকে নিজেদের উপাস্য বানাইয়া লও; তোমরা যখন মুসলিম তখন একজন নবী তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দিবে; তাহা কি সম্ভব?
আয়াত ৮১
স্মরণ করো, আল্লাহ নবীদের নিকট হইতে এই প্রতিশ্রুতি লইয়াছিলেন যে, আজ আমি তোমাদেরকে কিতাব ও বিজ্ঞান এবং কর্মকৌশল ও বুদ্ধি দিয়া ধন্য করিয়াছি; কাল অপর কোন নবী তোমাদের নিকট ঠিক সেই শিক্ষার সমর্থণ লইয়াই যদি আসে; যাহা তোমাদের নিকট পূর্ব হইতেই বর্তমান আছে; তবে তাহার প্রতি তোমাদের ইমান আনিতে হইবে এবং তাহাকে সাহায্য করিতে হইবে; এই কথা বলিয়া আল্লাহ জিজ্ঞাসা করিলেন তোমরা কি ইহার অঙ্গীকার করিতেছো? এবং এই সম্পর্কে আমার নিকট হইতে প্রতিশ্রুতির পুরুদায়িত্ব লইতে প্রস্তুত আছো? তাহারা বলিলো, হ্যা, আমরা অঙ্গীকার করিতেছি; আল্লাহ বলিলেন, তবে তোমরা সাক্ষী থাকো আর আমিও তোমাদের সহিত সাক্ষী রহিলাম।
আয়াত ৮২
ইহার পর যে নিজের প্রতিশ্রুতির ভঙ্গ করিবে; সেই ফাসিক।
আয়াত ৮৩
এখন এই সব লোক কি আল্লাহর আনুগত্য করার পন্থা পরিত্যাগ করিয়া অন্য কোন পন্থা গ্রহন করিতে চায়? অর্থচ আকাশ ও পৃথিবীর সমস্ত জিনিসই ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক; আল্লাহর নির্দেশের অধীন হইয়া আছে; আর মূলত তাহারই দিকে সকলকে ফিরিয়া যাইতে হইবে।
আয়াত ৮৪
হে নবী, বলো, আমরা আল্লাহকে মানি এবং আমাদের প্রতি যাহা নাযিল হইয়াছে তাহা মানি; আর ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব ও ইয়াকুবের বংশধরদের প্রতি‌ যাহা নাযিল হইয়াছে তাহাও মানি; সেই হেদায়েতের প্রতিও আমি ইমান রাখি যাহা মুসা, ঈসা ও অন্যান্য পয়গম্বরদিগকে তাহাদের রবের তরফ হইতে দেওয়া হইয়াছে; আমরা তাহাদের মধ্যে কোনই‌ পার্থক্য বা তারতম্য করিনা এবং আমরা আল্লাহরই ফরমানের অধীন ও অনুসারী।
আয়াত ৮৫
এই আনুগত্য ছাড়া যে ব্যক্তি অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করিতে চায় তাহার সেই পন্থা কখনোই কবুল করা হইবে না এবং পরকালে সে ব্যার্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হইবে।
আয়াত ৮৬
যাহারা ইমানের নিয়ামত একবার পাওয়ার পর পুনরায় কুফরী অবলম্বন করে; তাহাদিগকে আল্লাহ কিরুপে হেদায়েত দান করিতে পারেন? অর্থচ তাহারা নিজেরা এই কথার সাক্ষ্য দিয়াছে যে, এই রাসুল সত্য এবং তাহাদের নিকট উজ্জ্বল নিদর্শণসমূহ আসিয়াছে; আল্লাহ জালিমদের কখনোই‌ হেদায়েত দান করেন না।
আয়াত ৮৭
তাহাদের জুলুমের সঠিক প্রতিদানতো এই হইতে পারে যে, তাহাদের উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও সমস্ত মানুষেরই অভিশাপ বর্ষিত হয়।
আয়াত ৮৮
তাহারা চিরদিন এই অবস্থায় থাকিবে, না তাহাদের শাস্তি একটুও হ্রাস করা হইবে; আর না তাহাদিগকে অবকাশ দেওয়া হইবে।
আয়াত ৮৯
অবশ্য সেই সব লোক এই অভিশাপ হইতে নিস্কৃতি পাইবে যাহারা তওবা করিয়া নিজেদের কর্মনীতি সংশোধন করিয়া লইবে; বস্তুত আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল ও অতীব দয়াবান।
আয়াত ৯০
কিন্তু যাহারা ইমান আনার পর কুফরী অবলম্বন করিয়াছে এবং তারপর কুফরীর দিকে ক্রমশ অগ্রসর হইয়া গিয়াছে; তাহাদের তওবা কবুল করা হইবেনা; এই ধরনের লোকতো একেবারে পথভ্রষ্ট।
আয়াত ৯১
নিশ্চিত জানিয়ো, যাহারা কুফরী করিয়াছে এবং কুফরী অবস্থায় প্রাণ ত্যাগ করিয়াছে; তাহাদের মধ্যে কেহ যদি নিজেকে শাস্তি হইতে বাচাইবার জন্য গোটা পৃথিবী সমপরিমান স্বর্ণও বিনিময় হিসাবে দান করে তবে তাহাও কবুল করা হইবেনা; বস্তুত এই সব লোকের জন্য যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি নির্দিষ্ট হইয়া রহিয়াছে এবং তাহারা কাহাকেও নিজেদের সাহায্যকারী হিসাবে পাইবেনা।
আয়াত ৯২-৯৩
তোমরা কিছুতেই প্রকৃত কল্যাণ লাভ করিতে পারোনা; যতক্ষণ না তোমরা সেই সব জিনিস ব্যায় ও নিয়োগ করিবে যাহা তোমাদের প্রিয় ও পছন্দনীয়; আর যাহা কিছু তোমরা ব্যায় করিবে আল্লাহ সেই সম্পর্কে নিশ্চয়ই‌ অবহিত রহিয়াছেন; সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যই বনী ইসরাইলের জন্য হালাল ছিলো; অবশ্য কোন কোন জিনিস এমন ছিলো যাহা তাওরাত নাযিল হওয়ার পূর্বে ইসরাইল নিজেই নিজের উপর হারাম করিয়া লইয়াছিলো; তাহাদিগকে বলো যে, তোমরা যদি বাস্তবিকই সত্যবাদী হও; তবে তাওরাত লইয়া আসো এবং উহার কোন ইবারত পেশ করো।
আয়াত ৯৪
ইহার পরও যাহারা নিজেদের মনগড়া কথা আল্লাহর উপর আরোপ করে; প্রকৃতপক্ষে তাহারাই জালিম।
আয়াত ৯৫
বলো, আল্লাহ যাহা কিছু বলিয়াছেন, সত্য বলিয়াছেন; অতএব তোমাদের সকলেরই একমুখী হইয়া ইবরাহীমের পন্থা অনুসরন করা কর্তব্য; আর ইবরাহীম কখনো শির্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
আয়াত ৯৬
এই কথা নিঃসন্দেহ যে, মক্কায় অবস্থিত গৃহখানাকেই মানুষের ইবাদত গৃহ হিসাবে সর্বপ্রথম তৈয়ার করা হইয়াছিলো।
আয়াত ৯৭
উহাকে কল্যাণ ও মঙ্গলময় করিয়া দেওয়া দেওয়া হইয়াছিলো এবং সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েত লাভের কেন্দ্র বানানো হইয়াছিলো; উহাতে সুষ্পষ্ট নিদর্শণসমূহ রহিয়াছে; ইবরাহীমের ইবাদতের জন্য দাড়াইবার জায়গাও রহিয়াছে এবং উহার অবস্থা এই যে, উহাতে যেই প্রবেশ করিলো, সেই নিরাপদ হইলো; লোকদের উপর আল্লাহর এই অধিকার রহিয়াছে যে যাহার এই ঘর পর্যন্ত পৌছিবার সামর্থ্য আছে সে যেন উহার হজ্জ্ব সম্পন্ন করে আর যে এই নির্দেশ পালন করিতে অস্বীকার করিবে; তাহার জানিয়া রাখা উচিৎ যে, আল্লাহ দুনিয়াবাসীর প্রতি কিছুমাত্র মুখাপেক্ষী নহে।
আয়াত ৯৮
বলো, হে আহলে কিতাব, তোমরা কেন আল্লাহর কথা মানিতে অস্বীকার করিতেছো; তোমরা যেসব কাজ কর্ম করিতেছো তাহা সবই আল্লাহ প্রত্যক্ষ করিতেছেন।
আয়াত ৯৯
বলো হে আহলে কিতাব, তোমাদের এ কি আচরন, যাহারা আল্লাহর হুকুম মানে তাহাদিগকেও তোমরা আল্লাহর পথ হইতে বিরত রাখিতেছো এবং চাহিতেছো যে, তাহারাও যেন বাকাপথে চলে; অর্থচ তোমরা নিজেরাই সাক্ষী; বস্তুত তোমাদের এই সব কাজকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ বিন্দুমাত্র গাফিল নহেন।
আয়াত ১০০
হে ইমানদারগন, তোমরা যদি এই আহলে কিতাবদের মধ্যে হইতে কোন একটি দলেরও কথা মানিয়া লও; তবে ইহারা তোমাদিগকে পুনরায় ইমান হইতে কুফরীর দিকে ফিরাইয়া লইয়া যাইবে।
আয়াত ১০১
এখন তোমাদের কুফরীর দিগে ফিরিয়া যাওয়ার কি অবকাশ থাকিতে পারে; যখন তোমাদিগকে আল্লাহর আয়াত শোনানো হইতেছে এবং তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসুল বর্তমান রহিয়াছে; বস্তুত যে ব্যক্তি আল্লাহর রজ্জু দৃড়তার সহিত ধরিবে; সে নিশ্চয়ই সত্য ও সঠিক পথে পরিচালিত হইতে পারিবে।
আয়াত ১০২
হে ইমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর যতটা ভয় তাহাকে করা উচিৎ; তোমাদের মৃত্যু হওয়া উচিৎ নহে সে অবস্থা ছাড়া যখন তোমরা হইবে মুসলিম।
আয়াত ১০৩
সকলে মিলিয়া আল্লাহর রজ্জু শক্ত করিয়া ধারণ কর এবং দলাদলিতে জড়াইয়া পড়িওনা; আল্লাহর সেই অনুগ্রহকে স্মরণে রাখিও যাহা তিনি তোমাদের প্রতি করিয়াছেন; তোমরা পরস্পর দুশমন ছিলে; অতপর তিনি তোমাদের মন পরস্পরের সহিত মিলাইয়া দিয়াছেন এবং তাহারই অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হইয়া গেলে; আর তোমরা আগুনে ভরা এক গর্তের কিনারায় দাড়াইয়া ছিলে; আল্লাহ তোমাদিগকে তাহা হইতে রক্ষা করিলেন; আল্লাহ এইভাবেই তাহার নিদর্শণাবলী তোমাদের সম্মুখে উজ্জ্বল করিয়া ধরেন এই উদ্দেশ্যে যে, হয়তবা এই নিদর্শণাবলী হইতে তোমরা তোমাদের কল্যাণের সঠিক পথ লাভ করিতে পারিবে।
আয়াত ১০৪
আর তোমাদের মধ্যে এমন কিছু লোক অবশ্যই থাকিতে হইতে হইবে যাহারা নেকীর দিকে ডাকিবে; ভাল ও সত্য কাজের নির্দেশ দিবে এবং পাপ ও অন্যায় কাজ হইতে বিরত রাখিবে; যাহারা এই কাজ করিবে তাহারাই সাফল্যমণ্ডিত হইবে।

আয়াত ১০৫
তোমরা যেন সেইসব লোকের মত না হইয়া যাও; যাহারা বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলে বিভক্ত হইয়া পড়িয়াছে এবং স্পষ্ট ও প্রকাশ্য নির্দেশ পাওয়ার পরও মতবিরোধে লিপ্ত রহিয়াছে; যাহারা এইরুপ আচরণ অবলম্বন করিয়াছে তাহারা সেইদিন কঠোর শাস্তি ভোগ করিতে বাধ্য হইবে।
আয়াত ১০৬
যেদিন কিছু লোকের চেহারা উজ্জ্বল হইবে এবং কিছু লোকের চেহারা ভালো হইয়া যাইবে; যাহাদের মুখ কালো হইবে তাহাদিগকে বলা হইবে, ইমানের নিয়ামত পাওয়ার পরও কি তোমরা কুফরীর পথ অবলম্বন করিয়াছিলে? তাহা হইলে এখন এই নিয়ামত অস্বীকৃতির বিনিময় স্বরুপ শাস্তির আস্বাদ গ্রহণ কর।
আয়াত ১০৭
আর যাহাদের চেহারা উজ্জ্বল হইবে, তাহারা আল্লাহর রহমতের আশ্রয়ে স্থান লাভ করিবে এবং তাহারা চিরদিন এই অবস্থায়ই থাকিবে।
আয়াত ১০৮
ইহা আল্লাহর বাণী যাহা যথাযথভাবে আমি তোমাদিগকে শ

Want your school to be the top-listed School/college?

Website