FOCUS Writing

FOCUS Writing

Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from FOCUS Writing, Education Website, .

03/07/2023
Photos from FOCUS Writing's post 14/06/2023

গ্রন্থ সমালোচনা
একাত্তরের দিনগুলি (জাহানারা ইমাম)

Photos from FOCUS Writing's post 29/11/2022
13/06/2022

#
ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থ সরকারি-বেসরকারি সব স্তরের কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পাদন করার উদ্যোগ নেওয়া।

ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থ = Digital Bangladesh means
সরকারি-বেসরকারি = government and non-government
সব স্তরের কাজ = all levels of work
সরকারি-বেসরকারি সব স্তরের কাজ = all levels of government and non-government work
ডিজিটাল পদ্ধতি = digital manner
ডিজিটাল পদ্ধতিতে = in a digital manner
সম্পাদন করা = perform
উদ্যোগ নেওয়া = taking the initiative
সম্পাদন করার উদ্যোগ নেওয়া = taking initiative to perform

ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থ সরকারি-বেসরকারি সব স্তরের কাজ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পাদন করার উদ্যোগ নেওয়া।

Digital Bangladesh means taking the initiative to perform all levels of government and non-government work in a digital manner.

দেশের সব নাগরিকের সব ধরনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকবে।

দেশ = country
দেশের = of the country
সব নাগরিকের = of all the citizens
সব ধরনের তথ্য = All kinds/types of information
জাতীয় পরিচয়পত্র = identity card
জাতীয় পরিচয়পত্রে = in the national identity card
জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকবে = will be in the national identity card

দেশের সব নাগরিকের সব ধরনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকবে।
All kinds of information of all the citizens of the country will be in the national identity card.

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে নাগরিকদের ই-পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।

এই পদ্ধতি = this method
ব্যবহার করে = using/ by using
নাগরিকদের = Citizens
ই-পাসপোর্ট = e-passports
দেওয়া হচ্ছে = are being given (passive)

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে নাগরিকদের ই-পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
Citizens are being given e-passports using this method.

কোনো নাগরিক ভুল তথ্য দিলে সেটি ডেটাবেজে ধরা পড়বে।
কোনো নাগরিক = any citizen
ভুল তথ্য = wrong information
দিলে = give (দেওয়া)
সেটি = it
ডেটাবেজে = in the database
ধরা পড়বে = will be caught (passive)

কোনো নাগরিক ভুল তথ্য দিলে সেটি ডেটাবেজে ধরা পড়বে।
If any citizen gives wrong information, it will be caught in the database.

জন্মসনদ থেকে শুরু করে শিক্ষাসনদ—সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

জন্মসনদ = birth certificate
জন্মসনদ থেকে = from birth certificates
শিক্ষাসনদ = education certificate
জন্মসনদ থেকে শুরু করে শিক্ষাসনদ = from birth certificates to education certificates
সবকিছু = Everything
ডিজিটাল পদ্ধতি = digital system
ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় = under the digital system
নিয়ে আসতে হবে = has to be brought

জন্মসনদ থেকে শুরু করে শিক্ষাসনদ—সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
Everything has to be brought under the digital system, from birth certificates to education certificates.

নাগরিকের পরিচয়পত্রে প্রয়োজনীয় সব তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
নাগরিকের পরিচয়পত্রে = citizen's identity card
প্রয়োজনীয় সব তথ্য = all the necessary information
অন্তর্ভুক্ত করা = include
উদ্যোগ = Initiative
অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ = Initiatives to include
নিতে হবে = should be taken
অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে = Initiatives should be taken to include

নাগরিকের পরিচয়পত্রে প্রয়োজনীয় সব তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
Initiatives should be taken to include all the necessary information in the citizen's identity card.

সে ক্ষেত্রে কোনো নাগরিককে কোনো পর্যায়ে সনদ বা এর সত্যায়িত কপির জন্য ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।

সে ক্ষেত্রে = In that case
কোনো নাগরিককে = no citizen (negative meaning)
কোনো পর্যায়ে = at any stage
সনদ বা এর সত্যায়িত কপি = the certificate or its attested copy
সনদ বা এর সত্যায়িত কপির জন্য = for the certificate or its attested copy
ভোগান্তির শিকার = have to suffer
ভোগান্তির শিকার হতে হবে = will have to suffer

সে ক্ষেত্রে কোনো নাগরিককে কোনো পর্যায়ে সনদ বা এর সত্যায়িত কপির জন্য ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।
In that case, no citizen will have to suffer for the certificate or its attested copy at any stage.

23/04/2022

সমন্বিত ৫টি ব্যাংক
২০১৮ সাল ভিত্তিক 'অফিসার (ক্যাশ)'
১৫১১ টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা
২৩/০৪/২০২২

Photos from FOCUS Writing's post 16/04/2022

০৭ জানুয়ারি ২০২২ এবং বাংলা নববর্ষ-১৪২৯ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ হতে Focus Writing লেখায় ব্যবহার উপযোগী ১৯টি টপিক ভিত্তিক Data Collection

সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি
অর্থনৈতিক অগ্রগতি
মেগা প্রকল্প
ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা
অবকাঠামো উন্নয়ন
বিদ্যুৎ খাত
জ্বালানী খাত
খাদ্য নিরাপত্তা
স্বাস্থ্য খাত
কোভিড মোকাবিলায় টিকাদান কার্যক্রম
কোভিড মোকাবিলায় সরকারের প্রনোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন
সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন
শিক্ষা খাত
ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মান
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব
সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম
নারীশক্তি উন্নয়ন
সরকারের কূটনৈতিক সফলতা
তরুন প্রজন্ম

(পরবর্তী update পেতে অবশ্যই পোস্টে comment করবেন, আমাকে Friend Request দিতে পারেন/ID follow করতে পারেন )

12/04/2022

Credit Guarantee Scheme
Start-Up Financing Scheme

30/03/2022

ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দেওয়ার কারণ জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, কোনো ধরনের চাপে নয়, মানবিক কারণে জাতিসংঘে ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন।

ইউক্রেনে সৃষ্ট মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রশ্নে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আনা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবটি ১৪০ ভোটে পাস হয়। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে পরিষদের জরুরি অধিবেশনে এ ভোটাভুটি হয়। আজ শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের কাছে এসব ব্যাপারে জানতে চান সাংবাদিকেরা।

জবাবে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি কালকেও বলেছি, বঙ্গবন্ধু চাপের মুখে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। বঙ্গবন্ধুকন্যাও চাপের মুখে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণটি হচ্ছে, আমরা শান্তিপূর্ণ দেশ। পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে আমরা এক নম্বরে রয়েছি। বিশ্বে টেকসই শান্তির জন্য আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি, যা বিশ্বের ১৯৩ দেশ গ্রহণ করেছে। শান্তির সংস্কৃতি নামে ওই প্রস্তাবের মাধ্যমে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। এর উদ্দেশ্য দেশে দেশে মারামারি, কাটাকাটি, সন্ত্রাস বন্ধ করা। পৃথিবীতে শান্তির ক্ষেত্রে আমরা লিডার।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইউক্রেনে লোকজন নির্যাতিত হচ্ছেন, কষ্ট করছেন। তাঁদের জন্য যথাসময়ে খাবার এবং ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, প্রয়োজন হলে তাঁদের বের হওয়ার জন্য করিডর তৈরির মতো একাধিক বিষয় এবং বিশেষ করে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ভোট দিয়েছি।’

ইউক্রেনের বর্তমান মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেমন ঘরবাড়ি ছেড়েছিলাম, এখন ইউক্রেনের সাধারণ মানুষও জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন। তাই আমরা মানবিক কারণে জাতিসংঘে ইউক্রেনের পক্ষে ভোট দিয়েছি।’

অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইউক্রেন ইস্যুতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রভাব পড়বে না। আশা করি, যুদ্ধ শেষ হবে। আমরাও পরিস্থিতি সামলে নেব।’

30/03/2022

রাশিয়াভুক্ত হতে লুহানস্কে গণভোট

ইউক্রেনে অভিযান শুরুর আগেই দেশটিতে মস্কোপন্থী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত দোনেত্স্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল রাশিয়া। সম্প্রতি মস্কো জানায়, ইউক্রেন অভিযানে তাঁদের নতুন লক্ষ্য হবে এই দুই অঞ্চলকে পুরোপুরি মুক্ত করা। এমন পরিস্থিতিতে লুহানস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রধান ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে এ অঞ্চলে গণভোটের আয়োজন করা হবে। আজ রোববারের ওই ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনে সামরিক গোয়েন্দা প্রধান অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনকে দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়ার মতো দুই ভাগে বিভক্ত করতে চেষ্টা করছে।

রাশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, স্থানীয় সময় রোববার লুহানস্কের প্রধান লিওনিদ পাসেচনিক বলেন, ‘আমি মনে করি, শিগগিরই প্রজাতন্ত্রে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে লুহানস্কের মানুষ তাঁদের মতপ্রকাশ করবেন।’

কিয়েভে ২০১৪ সালে মস্কোপন্থী সরকারের পতন হয়। ওই বছরই ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয় রাশিয়া। পরে রাশিয়ার যোগ দিতে ক্রিমিয়ায় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন ক্রিমিয়ার মানুষ রাশিয়া ফেডারেশনে যুক্ত হওয়ার পক্ষ মত দেন। ২০১৪ সালেই দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে স্বাধীন ঘোষণা করেন রুশপন্থী বিদ্রোহীরা। এর পর থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে পশ্চিমাপন্থী ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে। দীর্ঘ আট বছরের এ সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি মানুষ।

লুহানস্কের প্রধানের গণভোটের ঘোষণার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে রুশ আইনপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে। রাশিয়ার পার্লামেন্ট ডুমার সদস্য ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক একটি কমিটির প্রধান লিওনিদ কালাশনিকভের মতে, গণভোটের জন্য এটা সঠিক সময় না। তবে ভিন্ন কথা বলছেন রুশ সিনেটর আন্দ্রেই ক্লিশাস। তাঁর ভাষ্য, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোর (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

এদিকে লুহানস্কে প্রস্তাবিত গণভোটের ঘোষণার নিন্দা জানিয়েছে কিয়েভ। এটা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ন করতে রাশিয়ার অব্যাহত প্রচেষ্টার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওলেগ নিকোলেঙ্কো। এএফপিকে তিনি বলেন, সাময়িকভাবে দখলে থাকা এসব অঞ্চলে গণভোটের কোনো আইনি বৈধতা নেই।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান কিরিলো বুদানভ দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে দুই ভাগে বিভক্ত করে একটি মস্কো-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল গড়ে তুলতে চাচ্ছে রাশিয়া। এ ক্ষেত্রে তিনি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদাহরণ দিয়েছেন। রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোয় ইউক্রেন খুব শিগগিরই গেরিলা হামলা শুরু করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই গোয়েন্দা প্রধান।

এই গণভোট এমন এক সময় এল, যখন দুই দিন আগেই রাশিয়ার বাহিনী লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক নিয়ে গঠিত দনবাস অঞ্চলকে পুরোপুরি মুক্ত করার ঘোষণা দেয়। রাশিয়ার বাহিনী দাবি করে, বর্তমানে লুহানস্কের ৯৩ শতাংশ আর দোনেৎস্কের ৫৪ শতাংশ রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

30/03/2022

বায়ুদূষণ অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর
অধ্যাপক আবদুস সালাম,
রসায়ন বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
২৪ মার্চ ২০২২

কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের তালিকায় প্রথম দিকে বাংলাদেশের নাম ও নগরের তালিকায় ঢাকার নাম থাকছে। এটা খুব দুঃখজনক। বায়ুর মান খারাপের ফলে জনস্বাস্থ্য যে চরম ক্ষতির মুখে, তা বলা বাহুল্য। এমনই আরেক নেতিবাচক দিক হলো, দেশের ভাবমূর্তি। সারা বিশ্বের কাছে আমাদের ভাবমূর্তি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বায়ুদূষণের কারণে অন্য দেশের মানুষ আমাদের দেশে আসতে নিরুৎসাহিত হবে। দেশে বিনিয়োগ কম হবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অর্থনীতিতে। তাই বায়ুদূষণকে নিছক পরিবেশগত ইস্যু হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সরাসরি সম্পর্ক আছে।

ঢাকার বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে একসময় ইটভাটাগুলোকে সবচেয়ে বেশি দায়ী বলে মনে করা হতো। এখন পরিস্থিতির বদল হয়েছে। ঢাকার দূষণের প্রধান কারণ নির্মাণকাজের সময় সৃষ্ট দূষণ। রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর নির্মাণের সময় সৃষ্ট ধুলাবালু বিপজ্জনক মাত্রায় বেড়েছে। এ ছাড়া আছে যানবাহনের দূষণ। যানজট এ দূষণ আরও বাড়িয়ে তোলে। রাজধানীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার হাল করুন। সেটা দূষণের একটি বড় কারণ। বেশির ভাগ বর্জ্য উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকে। নির্মাণকাজের সময় সৃষ্ট ধুলার মধ্যে বড় কণাগুলোর চেয়ে ক্ষুদ্র কণা অনেক বেশি ক্ষতিকর। এর সঙ্গে যানবাহনের দূষিত পদার্থগুলো মিলে রাসায়নিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিকর দ্রব্য তৈরি হচ্ছে। এটি শুধু শিশুস্বাস্থ্য নয়, যেকোনো বয়সী মানুষের জন্য ভয়াবহ শারীরিক সমস্যা তৈরি করছে। আমাদের যেসব অসুখ এখন হচ্ছে, এর মধ্যে শ্বাসনালির অসুখ বেশি। বায়ুদূষণের কারণে এসব হচ্ছে।

নির্মাণকাজের সময় সবচেয়ে উপেক্ষিত বিষয় হলো দূষণ। এ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। আইন থাকলেও সেগুলো কার্যকর হয় না। শাস্তি দেওয়ার বদলে আমি পুরস্কার দেওয়াটা বেশি পছন্দ করি। যে বা যেসব প্রতিষ্ঠান দূষণ করছে না, তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হোক। তাদের ভালো কাজের উদাহরণগুলো তুলে ধরা হোক। পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কর ছাড়ের মতো উদ্যোগ নেওয়া যায়। তাতে অন্যরা উৎসাহিত হবে। তবে হ্যাঁ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং দূষণকারী চিহ্নিত করে তাদের যথাযথ শাস্তির প্রক্রিয়া তো রাখতেই হবে। তা যে খুব বেশি হয়, তা মনে হয় না।

30/03/2022

ইস্তাম্বুল সংলাপ কি ইউক্রেন যুদ্ধের ‘টার্নিং পয়েন্ট’

আশাবাদের সুর দিয়েই তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেন প্রতিনিধিদলের সংলাপ শেষ হয়েছে। তবে এতে শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ হবে কি না, এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিশেষজ্ঞরা। গতকাল মঙ্গলবারের আলোচনায় কিয়েভের আশপাশে সামরিক অভিযান ‘ব্যাপকভাবে কমানোর’ কথা বলেছে রাশিয়া। আর ইউক্রেন বলেছে, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তারা ‘জোট নিরপেক্ষ’ অবস্থান গ্রহণ করবে।

আমেরিকার উইলসন সেন্টারের সাবেক ফেলো রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্রিগরি গোলসোভ বিবিসি রাশিয়াকে বলেন, তিনি এ সংলাপ থেকে ‘প্রকৃত কোনো ফলাফল দেখছেন না’। দুই পক্ষই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। দুই পক্ষই সংলাপ প্রক্রিয়ার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকারের বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সংলাপের বিষয়ে রাশিয়া ‘উচ্চকণ্ঠ’ হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

তবে আরেক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাশিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষক কিরিল রোগভ ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের মধ্যে এ সংলাপকে ‘টার্নিং পয়েন্ট তথা বাঁকবদল’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘এটা রাশিয়ার দিক থেকে উত্তেজনা প্রশমনের শুরু।’

কিং কলেজ লন্ডনের রাশিয়ান ইনস্টিটিউটের পরিচালক স্যামুয়েল গ্রিন বলেন, এ শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়া কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা অস্পষ্ট। মানুষ হত্যা থামাতে অস্ত্রবিরতি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, এটা ভালো। তবে এটা সার্বিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত মীমাংসার আলাপ নয়।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এখন পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। এর আগেও বেশ কয়েকবার দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি ও ভার্চ্যুয়ালি সংলাপে বসেছিলেন। তবে এবার বৈঠকের পর কিছু নির্দিষ্ট একটা ঘোষণা এল।

সংলাপে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত সাভাসগলু। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে দুই পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছেছে। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ বন্ধের বিষয়েও তাঁরা একমত প্রকাশ করেছেন।

30/03/2022

ইউক্রেন সংকট নিয়ে যত প্রশ্ন
রাশিয়া কি কথা রাখবে
৩০ মার্চ ২০২২

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মঙ্গলবারের সমঝোতা বৈঠকের পর ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে কিছুটা লাগাম টানার বিষয়ে রাশিয়ার ঘোষণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশ ও উত্তরাঞ্চলীয় শহর চেরনিহিভে সামরিক কার্যক্রম কমানোর বিষয়ে মঙ্গলবার ঘোষণা দেয় রাশিয়া। রাশিয়ার এই ঘোষণার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়া কী করছে, তাঁরা সেদিকে নজর রাখবেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের এক মুখপাত্রও প্রায় একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁরা রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তাঁর সরকারকে তাদের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে বিচার করবেন।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রুশ ইউনিটগুলোকে পুনরায় সংগঠিত করার জন্য রাশিয়া ও বেলারুশে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইউক্রেনে রুশ সেনা কমানোর অর্থ আরও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

ন্যাটোর সাবেক কমান্ডার স্যার রিচার্ড শিরেফ বলেছেন, অধিকাংশ মানুষের মতো তাঁরও রাশিয়ার অঙ্গীকারের বিষয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ওলেক্সান্ডার ডেনিলিউক বলেছেন, সামরিক কার্যক্রম কমানোর যে প্রতিশ্রুতি রাশিয়া দিয়েছে, তা তিনি বিশ্বাস করেন না।

চেরনিহিভে শহরের মেয়র বলেছেন, রাশিয়ার অঙ্গীকারের সত্যতা কতটুকু, তা সময়ই বলে দেবে।

কিয়েভের বাইরে আজ বুধবার সকালে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এই বিস্ফোরণের সূত্র ইউক্রেনীয় নাকি রাশিয়ান বাহিনী, তা নিশ্চিত নয়।

দক্ষিণ ইউক্রেনের বন্দর শহর মাইকোলাইভের একটি সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই হামলায় ১২ জন নিহত ও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।

রাশিয়ার হামলা থেকে বাঁচতে ৪০ লাখের বেশি মানুষ ইউক্রেন থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এই তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন নাগরিকদের রাশিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলছে, রুশ কর্তৃপক্ষ সে দেশে মার্কিন নাগরিকদের হয়রানি করতে পারে। তাদের আটক করতে পারে। মার্কিন নাগরিকদের রাশিয়া ভ্রমণ না করা বা অবিলম্বে রাশিয়া ত্যাগ করতে পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান ৩০ মার্চ ৩৫তম দিনে গড়িয়েছে। চলমান ইউক্রেন সংকট নিয়ে পাঠকের মনে নানা প্রশ্ন আছে। বিবিসি অবলম্বনে সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা রইল এ প্রতিবেদনে।

সংকটের শুরু কবে

সাম্প্রতিক ইতিহাস বিবেচনায় নিলে চলমান সংকটের সূত্রপাত ২০১৪ সালে। তবে এ সংকটের মূলে যেতে ফিরে তাকাতে হবে সোভিয়েত আমলে। তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল ইউক্রেন।

ইউক্রেনে দুটি রাজনৈতিক ধারা প্রবল। একটি ধারা পশ্চিম ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায়। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হতে আগ্রহী। অপর ধারাটি রুশপন্থী। তারা রাশিয়ার বলয়ে থাকতে চায়।

ইউক্রেনের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ রুশভাষী। তারা জাতিগতভাবেও রুশ। রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক-সামাজিক ঘনিষ্ঠতা আছে।

বিক্ষোভের মুখে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের পতন হয়। তিনি দেশ ছেড়ে পালান।

ইয়ানুকোভিচ ইইউর সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। তখন পুতিন চাপ বাড়ান। চাপে পড়ে ইয়ানুকোভিচ ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসেন। ফলে ইউক্রেনে তাঁর বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হয়।

ইয়ানুকোভিচের পর যাঁরা ইউক্রেনের ক্ষমতায় আসেন, তাঁরা ইইউপন্থী বলে পরিচিত। তাঁদের নানা পদক্ষেপে পুতিন ক্ষুব্ধ হন।

ইয়ানুকোভিচের পতনের পর পূর্ব ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয় রাশিয়া।

কেন ক্রিমিয়া দখল

প্রায় ২০০ বছর ধরে রাশিয়ার অংশ ছিল ক্রিমিয়া। ১৯৫৪ সালে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ তৎকালীন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র ইউক্রেনের কাছে ক্রিমিয়া হস্তান্তর করেন। তখন রুশ নেতৃত্ব ভাবতে পারেনি যে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হবে।

ক্রিমিয়ার ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। কৌশলগত কারণে রাশিয়ার কাছে ক্রিমিয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সুযোগ পেয়ে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নেয় রাশিয়া।

রাশিয়ার দাবি কী

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য নয় ইউক্রেন। তবে দেশটি ন্যাটোর সদস্য হতে চায়। বিষয়টি মানতে নারাজ রাশিয়া। এ কারণে রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে এমন নিশ্চয়তা চায় যে ইউক্রেনকে কখনো ন্যাটোর সদস্য করা হবে না।

রাশিয়ার চাওয়া অনুযায়ী, এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দিতে রাজি নয় পশ্চিমা দেশগুলো।

পুতিন মনে করেন, রাশিয়াকে চারদিক থেকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলো ন্যাটোকে ব্যবহার করছে। ইউক্রেনকেও এ উদ্দেশ্যে ন্যাটোতে নেওয়া হতে পারে। এ কারণে পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিরোধিতা করছেন তিনি।

রাশিয়ার অভিযোগ, গত শতকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোকে পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এ প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি।

রাশিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ইউক্রেনকে ন্যাটো জোটে অন্তর্ভুক্ত না করার যে দাবি মস্কো জানাচ্ছে, তা নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে ন্যাটো বলছে, এটি একটি আত্মরক্ষামূলক সামরিক জোট। প্রতিটি দেশের প্রতিরক্ষার পথ বেছে নেওয়ার অধিকার আছে।

রাশিয়া কেন উদ্বিগ্ন

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়। এ ভাঙনকে রাশিয়ার জন্য একটি ভূরাজনৈতিক বিপর্যয় বলে মনে করেন পুতিন। তারপর থেকে রাশিয়া দেখছে, সামরিক জোট ন্যাটো ধীরে ধীরে তাদের ঘিরে ফেলছে। সংগত কারণেই রাশিয়া তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

১৯৯৯ সালে চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড ন্যাটোতে যোগ দেয়। ২০০৪ সালে যোগ দেয় বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, রোমানিয়া ও স্লোভাকিয়া। ২০০৯ সালে যোগ দেয় আলবেনিয়া।

জর্জিয়া, মলদোভা বা ইউক্রেনেরও ন্যাটোতে যোগ দেওয়া আকাঙ্ক্ষা আছে। কিন্তু রাশিয়ার কারণে এখন পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি। তবে এই তিন দেশে রুশপন্থী বিদ্রোহী আছে। এই দেশগুলোর কোনোটি যদি ন্যাটোতে যোগ দেয়, তবে তা রাশিয়ার জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হবে।
ইউক্রেনে রুশ সেনারা প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। কয়েকটি শহরে পথে পথে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ হচ্ছে

সমরাস্ত্র ছাড়া রাশিয়ার একটি বড় হাতিয়ার হলো তার জ্বালানি। ইউরোপের মোট তেল-গ্যাস সরবরাহের ২৫ শতাংশ যায় রাশিয়া থেকে।

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে রাশিয়ার প্রবেশদ্বার ইউক্রেন। রাশিয়া থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রধান গ্যাস পাইপলাইনগুলো ইউক্রেনের ভেতর দিয়ে গেছে।

ফলে ইউক্রেন যদি রাশিয়ার প্রভাববলয়ের বাইরে চলে যায়, তাহলে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে রাশিয়া তার একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।

ন্যাটো কি ঐক্যবদ্ধ

ন্যাটোর প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, এ জোটের মূল কাজ হলো সব মিত্রের সুরক্ষা দেওয়া। একজনের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ। জোটের নীতিনির্ধারণী পর্ষদ অন্যান্য দেশকে রক্ষার যে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা রয়েছে, সেটা সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ যেখানে প্রয়োজন হবে, সেখানে ন্যাটো সেনা মোতায়েন করা হবে।

তবে পশ্চিমা কোনো দেশ এখন পর্যন্ত ইউক্রেনে সেনা পাঠাতে সম্মত হয়নি।

কিন্তু অস্ত্র, গোলাবারুদসহ সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ২৭টি দেশ।

মার্কিন গণমাধ্যম স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনে যেসব অস্ত্র পাঠানো হচ্ছে, তার মধ্যে গোলাবারুদ, ট্যাংক ও বিমান বিধ্বংসী অস্ত্রের মতো প্রাণঘাতী অস্ত্র রয়েছে।
ইউক্রেন সীমান্তে লাখো সেনার সমাবেশ ঘটিয়েছে রাশিয়া
ইউক্রেন সীমান্তে লাখো সেনার সমাবেশ ঘটিয়েছে রাশিয়াছবি: রয়টার্স
দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বীকৃতি

ইউক্রেন সীমান্তে লাখো সেনা মোতায়েন নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ২১ ফেব্রুয়ারি দেশটির রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী-নিয়ন্ত্রিত দনবাসের দুটি অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। একই সঙ্গে ‘প্রজাতন্ত্র’ দুটিতে রুশ সেনাদের ‘শান্তিরক্ষী’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
কিয়েভে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর অবিস্ফোরিত শেল কুড়াচ্ছেন ইউক্রেনের এক সেনা
কিয়েভে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের পর অবিস্ফোরিত শেল কুড়াচ্ছেন ইউক্রেনের এক সেনা ছবি: এএফপি
রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর রাশিয়াকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বের সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে রাশিয়া। হামলার ১৩ দিনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ২ হাজার ৭৭৮টি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর আগে দেশটির বিরুদ্ধে ২ হাজার ৭৫৪টি নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। এ নিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংক–প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা সুইফট থেকে দেশটির কয়েকটি ব্যাংককে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্য, জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্রসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশের আকাশসীমায় রাশিয়ার উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ইউক্রেনে ৩০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। ইউক্রেনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি ওলেক্সি দানিলভ জানান, দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক ছাড়া সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি থাকবে।

রুশ আক্রমণ প্রতিরোধে ইউক্রেন তাদের সংরক্ষিত সেনাদের নিয়মিত বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত করে। যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনের নাগরিকদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে এক ভাষণে বলেন, তাঁর দেশে রুশ আক্রমণ ইউরোপে একটি বড় যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

অভিযান শুরুর নির্দেশ

পূর্ব ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার লাখো সেনা মোতায়েন নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে মস্কোর উত্তেজনা চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমারা বলে আসছিল, ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। তবে রাশিয়া বলে আসছিল, ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা নেই মস্কোর। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়।

২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী-নিয়ন্ত্রিত দনবাস অঞ্চলে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়ে পুতিন পূর্ব ইউক্রেনে থাকা ইউক্রেনের সেনাদের অস্ত্র ত্যাগ করে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তিন দিক থেকে হামলা

পুতিনের নির্দেশের পরপরই স্থানীয় সময় ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে স্থল, আকাশ ও জলপথে ইউক্রেনে হামলা শুরু করেন রাশিয়ার সেনারা।

রাশিয়ার সেনাবাহিনী আক্রমণ চালায় উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক থেকে। বেলারুশ থেকেও হামলা হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন রুশ সেনারা।

পুতিন দুই দিনের মধ্যে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে দাবি করেন মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান।

তবে প্রতিরোধসহ নানা কৌশলের মাধ্যমে রুশ সেনাদের অগ্রগতি ধীর করে দিতে সক্ষম হয়েছে ইউক্রেনের বাহিনী।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রথম দুই সপ্তাহে রাশিয়ার আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় হাজার সেনা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।

30/03/2022

টিসিবি পণ্যের কার্ড
ভোগান্তি ও অনিয়ম রুখতে তৎপর হোন
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২২

ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর পদক্ষেপ হিসেবে গত রোববার এক কোটি পরিবারের কাছে বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহে গরিব ও সীমিত আয়ের মানুষকে সহায়তা দিতে এসব কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। অস্থির বাজার পরিস্থিতি ও কম দামে পণ্য পেতে ট্রাকের পেছনে দৌড়ানো নিম্ন আয়ের মানুষের অসহায়ত্বের মধ্যে এমন ঘোষণা ছিল ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা তখন প্রথম আলোর এক সম্পাদকীয়তে উঠে আসে। তবে সেখানে এ–ও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, প্রকৃতভাবে অসচ্ছল ও অভাবী পরিবারের এক কোটি তালিকা কীভাবে তৈরি করা হবে, সেটিই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। সারা দেশে বিতরণকৃত কার্ডের বিপরীতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রথম দফার পণ্য পাচ্ছে মানুষ। তবে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে অনেক জায়গায় আমাদের সেই আশঙ্কার প্রতিচিত্রই উঠে এসেছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোগান্তিও।

বাজারের চেয়ে কম দামে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও পেঁয়াজ পেয়ে খুশি মানুষ। তবে বরাদ্দ অনুসারে কম কার্ড বিতরণ, দেরিতে টিসিবির ট্রাক আসা, মানুষের ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রে দৌড়ানো, কার্ড নিয়েও পণ্য না পেয়ে অনেকের খালি হাতে ফেরত যাওয়া—এমন সব ভোগান্তির চিত্র দেখা যায় অনেক জেলায়। দেরিতে পণ্য বিক্রি করায় মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। কম দামে পণ্য কিনতে গিয়ে কাজে যোগ দিতে না পেরে পুরো দিনের মজুরিই হারাতে হচ্ছে অনেককে। এক পরিবারের একাধিক ব্যক্তির কাছে এবং অপেক্ষাকৃত সচ্ছল পরিবারকে কার্ড বিতরণের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগও আছে। ফলে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের বঞ্চিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, কার্ড তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা তাঁদের অনুসারী ও পছন্দের লোকদের কার্ড দিয়েছেন।

এ ছাড়া টিসিবি এত দিন যে পণ্য বিক্রি করেছে, সেখানে সবার জন্য লাইনে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। এখন রাজধানী ছাড়া অন্য জেলায় শুধু কার্ডধারীদের পণ্য দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাকিদের সুযোগ থাকল না। অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, করোনাকালে আয় কমা ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশে ছয় থেকে সাত কোটি নিম্নবিত্ত এখন কষ্টে রয়েছে। ফলে আরও মানুষকে সহায়তার আওতায় আনতে কার্ডের সংখ্যা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কেনার সুযোগও চালু রাখা যায় কি না, সেই বিবেচনা করা দরকার। দ্বিতীয় দফা পণ্য বিক্রিতে রোজা উপলক্ষে যুক্ত হবে কম দামে ছোলাও, তবে চালও বিক্রির দাবি জানিয়েছে মানুষ। ভোজ্যতেলের মতো সাশ্রয়ী মূল্যে চাল বিক্রির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে পারে সরকার।

বাজারে অনিয়ম রুখতে নজরদারি বাড়ানো ও অভিযান চালানো, কিছু পণ্যে ভ্যাট কমানোসহ সরকারের কিছু সিদ্ধান্তে বাজারে স্বস্তি ফেরা শুরু করেছে। তবে সামনের রমজান মাসকে ঘিরে এখনো আশঙ্কামুক্ত হতে পারছে না ভোক্তারা। ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি বন্ধ করতে কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রয় সফল করতেই হবে। ভোগান্তি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তৎপর না হলে ভোক্তারা কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। এর আগে করোনাকালীন সহায়তাসহ নানা ত্রাণ কার্যক্রম সঠিক তদারকির অভাবে ও অনিয়মের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। আবারও তেমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আমরা দেখতে চাই না।

30/03/2022

বায়ুদূষণে শীর্ষে বাংলাদেশ
নীতিনির্ধারকদের টনক নড়বে কবে
২৪ মার্চ ২০২২

স্বাধীনতার ৫০ বছরে আর্থসামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন উল্লেখযোগ্য। অনেকগুলো বৈশ্বিক সূচকেই সেটি প্রতীয়মান। কিন্তু সেসব অর্জন কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে আমাদের শঙ্কিত হতে হয়, যখন নেতিবাচক সূচকে বিশ্বের শীর্ষে চলে আসে বাংলাদেশের নাম। হতাশাজনকভাবে পরপর দুই বছর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে পরিচিতি পেল বাংলাদেশ। দূষিত শহর হিসেবে রাজধানী ঢাকার অবস্থানও গতবারের মতোই দ্বিতীয় অবস্থানে। কিছুদিন ধরে ঢাকা টানা শীর্ষ বায়ুদূষণের শহর হিসেবে শিরোনাম হচ্ছিল, এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রথম আলো সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। আগেরবার যখন দেশের অবস্থান শীর্ষে উঠে এসেছিল, তখন এ নিয়ে সাময়িক আলোচনা আমরা দেখেছি। কিন্তু পরিস্থিতির তো কোনো অগ্রগতি হয়ইনি, বরং নানা প্রতিশ্রুতি, পদক্ষেপ ও পরামর্শের ফুলঝুরিকে অসাড় করে দিয়ে আবারও শীর্ষ দূষিত বায়ুর দেশের জায়গা দখল করে নিল বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক বায়ুমান পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান আইকিউ এয়ারের প্রতিবেদন-২০২১–এ বাংলাদেশের বাতাসের মানের ভয়াবহ এ পরিস্থিতি প্রকাশ পেল। মারাত্মক ক্ষতিকর যে অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা আমলে নিয়ে আগেরবার প্রতিবেদনে শীর্ষে অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ, তার চেয়ে আরও সূক্ষ্ম বস্তুকণা হিসাব করা হয় এবারের প্রতিবেদনে। বিশ্বের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শহরের বায়ুমান পর্যালোচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে এ–ও প্রতীয়মান হয় যে বসবাসের কাঙ্ক্ষিত জায়গা হিসেবে কতটা পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। দেখা যাচ্ছে, বায়ুদূষণের জন্য অন্যতম দায়ী কালো কার্বন, ঢাকার বাতাসেই সেটির পরিমাণ প্রতি ঘনমিটারে ১০ থেকে ১৫ মাইক্রোগ্রাম। আর উন্নত দেশগুলোর শহরে সেটি প্রতি ঘনমিটারে মাত্র শূন্য দশমিক এক থেকে শূন্য দশমিক পাঁচ পর্যন্ত।
বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত বায়ু বিভিন্ন দেশের মানুষের গড় আয়ু এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের একটি গবেষণা থেকে আমরা জানতে পারছি, প্রতিবছর বাংলাদেশে লক্ষাধিক মানুষ বায়ুদূষণের কারণে মারা যাচ্ছে। রাষ্ট্র ও সরকার যেভাবে করোনা মহামারি মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, বায়ুদূষণ রোধে তেমনই সামগ্রিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ কি এখন দাবি করছে না?

দেখা যাচ্ছে, ঢাকার বায়ুদূষণের অর্ধেকের কারণ হচ্ছে তরল জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ধোঁয়া এবং ধুলাবালু। কোনো সন্দেহ নেই যে রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া, উন্নত গণপরিবহনব্যবস্থা না থাকা, অপরিকল্পিত আবাসনসহ বড় উন্নয়ন প্রকল্পই এর প্রধানতম কারণ। ইটভাটাগুলো বায়ুদূষণের জন্য বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, বায়ুদূষণ রোধে নিয়মিতভাবে ইটভাটাসহ দূষণের উৎসগুলো বন্ধ করা হয়। কিন্তু কথা হচ্ছে, দেশের আনাচে–কানাচে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই অসংখ্য ইটভাটা চলছে কীভাবে। দেশের অধিকাংশ শহর ও পৌরসভায় এখনো আধুনিক বর্জ্যব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। আগুন দিয়ে বর্জ্য পোড়ানোর মতো আত্মঘাতী কর্মকাণ্ড থেকে আমরা কবে বের হতে পারব?

গত বছর পরিবেশ মন্ত্রণালয় বায়ুদূষণ রোধে যে নির্দেশিকা দিয়েছিল, সেটির তেমন বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। বায়ুদূষণ কমাতে সরকারের পরিকল্পনা জানাতে গত মাসে পরিবেশ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপও এখন পর্যন্ত আমাদের নজরে আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আমাদের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। চীনের অবস্থা অতীতে অনেক খারাপ থাকলেও দিন দিন দেশটি এ ক্ষেত্রে উন্নতি করছে। বায়ুদূষণের অন্যতম শহর দিল্লিও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। বৈশ্বিক সূচকে এমন নেতিবাচক অবস্থান বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য হানিকর। এমন পরিস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগকেও নিরুৎসাহিত করবে। আমাদের প্রশ্ন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের টনক নড়বে কখন? সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নির্মল বায়ু কি অধরাই থেকে যাবে?

30/03/2022

প্রাণ ও পরিবেশ ধ্বংস করে উন্নয়ন নয়
২৮ মার্চ ২০২২

আন্তর্জাতিক বন দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের বন ও প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে প্রথম আলোয় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে যে তথ্য-উপাত্ত উঠে এসেছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের প্রধান তিন বনভূমিসহ প্রায় সব প্রাকৃতিক বনই দখল ও দূষণের শিকার।

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের আকার দিনে দিনে ছোট হয়ে আসছে। ১৯০৪-২৪ সালে এ বনভূমির আয়তন ছিল ৭ হাজার ১৪২ বর্গকিলোমিটার। ২০১৫-১৬ সালে সেটি ৬ হাজার ৮৭১ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে বনের আকার আরও ছোট হয়েছে। সুন্দরবনের পাশেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প। কেবল বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, এর আশপাশে বেসরকারি উদ্যোগে আরও অনেক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সুন্দরবনের ওপর মারাত্মক অভিঘাত তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সুন্দরবনের আকার ছোট হওয়ার অর্থ সেখানকার বনজ ও প্রাণিজ সম্পদ কমে যাওয়া। বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বনে ৫২৮ প্রজাতির বৃক্ষ ও লতাগুল্ম আছে, আছে ৩০০ প্রজাতির পাখি। ৫৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী এবং ৯ প্রজাতির উভচর প্রাণী সুন্দরবনে চরে বেড়ায়। সুন্দরবনের নদী-খালে ২৫০ প্রজাতির মাছ আছে। আছে বহু প্রজাতির কীটপতঙ্গ, কাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক। আছে নানা ধরনের ছত্রাক, শেওলা।

প্রতিবছর বঙ্গোপসাগরে যে ঘূর্ণিঝড় হয়, তা থেকে বাংলাদেশকে সুন্দরবনই রক্ষা করে। এ কারণে একে বলা হয় প্রাকৃতিক ঢাল। এখন আমরা যদি উন্নয়নের নামে এ প্রাকৃতিক ঢাল দুর্বল করে ফেলি, তাহলে সেখানকার গাছপালা তো বটেই, পশুপাখিও মরে যাবে। সুন্দরবনের অস্তিত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের অস্তিত্বই নির্ভরশীল। পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলও উজাড় করা হচ্ছে কথিত উন্নয়নের নামে। প্রথম আলোর খবর থেকে জানা যায়, রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের জলাভূমি ধরে ৪০ কিলোমিটার দূরে সীতা পাহাড় নামে যে বিশাল বনভূমি ছিল, সেখানে ফলবাগান, জনবসতি, হোটেল-মোটেল গড়ে উঠেছে। বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতেও অনেক বন ও পাহাড় ধ্বংস করে উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে স্থানীয়দের আপত্তি সত্ত্বেও। অন্যদিকে তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চলখ্যাত মধুপুরের অবস্থা আরও করুণ। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৪৫ হাজার একর জমি নিয়ে গড়ে ওঠা মধুপুরে এখন বনাঞ্চল আছে মাত্র ৯ হাজার একর। বাকিটা দখল হয়ে গেছে।

গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচ (জিএফও) ও ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের (ডব্লিউআরআই) হিসাবমতে, ২০০২ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ প্রাকৃতিক বন উজাড় হয়েছে। আর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে এ হার ৯ শতাংশের বেশি। দেশের মোট বনভূমির ৪০ শতাংশ রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে। অন্যদিকে একই সময়ে সারা দেশে যে পরিমাণে বৃক্ষ বেড়েছে, তার ৭৮ শতাংশ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে। সংস্থা দুটি বলছে, ওই নতুন বৃক্ষের বেশির ভাগই প্রাকৃতিক বন কেটে ও কৃষিজমিতে রোপণ করা ফলবাগান ও কাঠবাগান।

অতএব, আমরা যদি প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করতে না চাই, অবিলম্বে এসব বনাঞ্চল দখল বন্ধ করতে হবে। মানুষ ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থেই আমাদের বন ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ আশা করি

Want your school to be the top-listed School/college?

Website