Center for Data Research and Analytics

Center for Data Research and Analytics

Center for Data Research and Analytics (CfDRA)

Operating as usual

03/08/2023

The Ladder of Causation

A causal learner must master at least if three distinct levels of cognitive ability: "seeing", "doing", and "imagining".

Source: The Book of Why by Judea Pearl & Dana Mackenzie

16/04/2023
09/04/2023

Unleash the continued impact of your research with organized research data and metadata. Don't let disorganized data bury its potential

12/08/2022

We are going to break our silence with new activities, Keep an eye on this page for updates

13/11/2021

*** Registration Closed ****

Those who already registered, we will email you shortly.

We announce a bi-weekly webinar series on "Statistics for Public Health Research". Participation is free. Please register using the Google Form: https://bit.ly/3cahBAU

Alternative link: https://forms.gle/dGjgYP5ycT85sH7CA

Tentative start date is December 2021.

Photos from Center for Data Research and Analytics's post 08/07/2020

প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটি পর্যন্ত বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির প্রাক্কলন
============================================

ভূমিকা
=====
বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তি শনাক্ত হয় ৮ মার্চ, ২০২০। এর পর ২০ জুন পর্যন্ত দেশে এক লাখের বেশি মানুষকে করোনায় (সার্স কভ-টু) আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সংক্রমণের শুরুতেই সরকারের তরফ থেকে সনাক্তকারি রোগীর সঙ্গে সুস্থ্য মানুষের সংস্পর্শ (Infectious Contacts) কমানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যার মধ্যে আছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটি, সরকারি এবং বেসরকারি কর্মস্থলের মানুষের সাধারণ ছুটি, সংক্রমিতদের আইসোলেশান ও সংক্রামিত ব্যাক্তির সংস্পর্শে আসাদের কোয়ারেন্টিন করা। এই পদক্ষেপগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আদর্শ হলেও সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে এসবের বাস্তবায়ন বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। যার কারণে এসব পদক্ষেপগুলো মানুষের সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় কার্যকর পরিবর্তন আনতে পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পারছে না। জনসাধারণের মাঝে শ্বাসতন্ত্রের স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সীমিত জ্ঞানও বাংলাদেশে সংক্রমণ বৃদ্ধিতে একটি সক্রিয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে [1, 2]। ফলে সংক্রমণও বেড়েই চলেছে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সম্প্রতি হার্ড ইমিউনিটি (Herd immunity) বা গোষ্ঠিগত অনাক্রম্যতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

হার্ড ইমিউনিটি কথাটির অর্থ ব্যাপক, তবে সহজভাবে বললে, হার্ড ইমিউনিটি হচ্ছে সংক্রমন পরিস্থিতির এমন একটি অবস্থা বা পর্যায় যখন একজন ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাক্তির আশপাশে (কন্টাক্ট নেটওয়ার্কে) এমন ব্যক্তিরা থাকেন যাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্যতা খুবই কম। এমন ব্যাক্তিদের ইমিউন বা অনাক্রম্য বলা হয়। আর এমন মানুষদের দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকার কারণে একজন ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের চারপাশে এক ধরনের সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়, যার ফলে ওই ব্যাক্তি পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাব্যতা অনেক কমে যায়।

হার্ড ইমিউনিটির সক্ষমতা ইমিউন বা অনাক্রম্য ব্যাক্তিদের ইমিউনিটির বৈশিষ্টের উপর নির্ভর করে। জৈবিকভাবে কোন ব্যাক্তির ইমিউনিটি অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভরশীল, যা এই গবেষণাপত্রের আওতার বাহিরে। একজন ব্যাক্তির ইমিউনিটি স্বল্পমেয়াদী, দীর্ঘমেয়াদি এমনকি জীবনকালব্যাপিও হতে পারে, যা একটি জনগোষ্ঠীর হার্ড ইমিউনিটির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। একজন ব্যাক্তি টিকার মাধ্যমে অথবা আক্রান্ত হয়ে আরোগ্য লাভ করার মাধ্যমে কোন একটি সংক্রামক রোগ থেকে ইমিউন হতে পারেন। একটি জনগোষ্ঠীর কমপক্ষে কতজন ইমিউন বা অনাক্রম্য হলে পুরো জনগোষ্ঠি হার্ড ইমিউনিটির সুফল পাবে, এই সংখ্যাটিকে বলা হয় হার্ড ইমিউনিটির থ্রেশহোল্ড। এই থ্রেশহোল্ড নির্ভর করে সংক্রমণের প্রকৃতি এবং ইমিউনিটির সক্ষমতার উপর। তবে আদর্শ ক্ষেত্রে এই সংখ্যা গণনা করা হয় V = (R0 – 1)/R0 সূত্রের মাধ্যমে। এখানে R0 (আর নট) হচ্ছে বেসিক রিপ্রোডাকশন নাম্বার; একজন আক্রান্ত ব্যাক্তি থেকে গড়পড়তা কতজন সুস্থ্য মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন তার সংখ্যা। সুষম কন্টাক্ট নেটওয়ার্ক এবং ইমিউনিটির ১০০% সক্ষমতার ক্ষেত্রে, গড়পড়তা নতুন সংক্রমণের সংখ্যা শ্যূন্যের কাছাকাছি থাকবে যদি ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যার ১০০ × V শতাংশ জনগোষ্ঠী ইমিউন বা অনাক্রম্য হয়ে থাকেন।

সার্স কভ-টু করোনাভাইরাসের এখনও কোনও টিকা আবিষ্কার হয়নি। এমতবস্থায় বাংলাদেশে হার্ড ইমিউনিটি অর্জিত হতে পারে যদি উপরোল্লেখিত থ্রেশহোল্ডের সমান অথবা তার চেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়ে সুস্থ্য হয়ে ইমিউনিটি অর্জন করে। এই পদ্ধতিকে প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটিও বলা চলে। প্রাকৃতিকভাবে হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক মানুষ আক্রান্ত হয়। ফলত, অনেক মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনাও তৈরি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মৃত্যুর এই সংখ্যাটি কত হতে পারে তার সম্পর্কে একটি যুক্তিসঙ্গত ধারণা দেয়া এই গবেষণাপত্রের মূল উদ্দেশ্য।

আমাদের পর্যবেক্ষণে আমরা দেখেছি শহরে ও গ্রামে বাংলাদেশের মানুষের সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার ধরণ লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিকভাবে ভিন্ন। কোন স্থানের সংক্রামক রোগের গতি প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নির্ভর করে ওই স্থানে বসবাসকারী মানুষের পারিবারিক এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার ধরনের উপর। বাংলাদেশে ২০ বছরের কম বয়সী মানুষদের পারিবারিক মিথস্ক্রিয়া অন্যান্য বয়সী মানুষদের চেয়ে বেশি এবং নারীদের চেয়ে পুরুষদের সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বেশি [3-5]। এই গবেষণাপত্রে আমরা কভিড আক্রান্ত এবং মৃত মানুষদের জনমিতিক বা ডেমোগ্রাফিক বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছি যাতে করে পারিবারিক এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার ধরণ (কনটাক্ট নেটওয়ার্ক) সম্বন্ধে একটা স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়। যা আগামী দিনগুলোতে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব ও কভিড মোকাবেলায় কৌশল নির্ধারণে নীতিনির্ধারকদের সহায়তা করবে বলে আমরা মনে করি।

গবেষণা পদ্ধতি
===========
এই গবেষণায় ২০ জুন ২০২০ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোভিড-১৯ উপাত্ত ব্যবহার করেছি। ডেটা সংগ্রহ করেছি স্বাস্থ্য অধিদফতর ও আইইডিসিআরের প্রকাশিত প্রেস রিলিজ ও ওয়েবসাইট থেকে। এপর্যন্ত যতগুলো নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তার থেকে নেগেটিভের (অনাক্রান্ত) সংখ্যা আমরা বের করেছি যাদেরকে আমরা সংজ্ঞায়িত করেছি সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ব্যাক্তি হিসেবে। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক বিভাজনের উপাত্ত ব্যবহার করে প্রজেকশন এর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বয়সের মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি, টেস্ট পজিটিভ ব্যাক্তির সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রাক্কলন করেছি। পরবর্তীতে এ সংখ্যাসমূহ ব্যবহার করে মালটিনোমিয়াল ডিস্ট্রিবিউশন ব্যাবহারের মাধ্যমে প্রত্যেক বয়সের গ্রুপে পজিটিভ এর এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা প্রাক্কলন করেছি।

প্রাক্কলনের অনুমানসমূহ
=================
==> ২০ জুন পর্যন্ত প্রায় ৬ লাখ মানুষের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। আমরা ধরে নিয়েছি যে এই ৬ লাখ মানুষ বাংলাদেশের পূর্ণ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী।

==> সার্স-কভ-২ থেকে আরোগ্য লাভ করা ব্যাক্তির ইমিউনিটি বা অনাক্রম্যতার ধরন এবং স্থায়ীত্বকাল বিষয়ে প্রমাণ এখনও (জুন ২০, ২০২০) অনেক সীমাবদ্ধ। আলোচনার সুবিধার জন্য ধরে নিচ্ছি কোভিড থেকে আরোগ্য লাভ করা ব্যাক্তিরা স্থায়ী ইমিউনিটি অর্জন করে যা কোন জনগোষ্ঠীকে হার্ড ইমিউনিটি প্রদান করতে যথেষ্ট।

==>আমরা ধরে নিয়েছি যে সংক্রমণের হার সর্বদা একই ছিল এবং থাকবে। যেটা পুরপুরি সত্য বলে মেনে নেয়া কঠিন। তবে হার্ড ইমুনিটিতে পৌঁছানো পর্যন্ত এই হার হয় বাড়বে অথবা একই থাকবে। হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছানোর পর সংক্রমণ ঠিক সেই গতিতে কমতে থাকবে যে গতিতে বেড়েছিলো। কাজেই, গড়পড়তা সংক্রমণের হার একই থাকবে।

==> আগামী ২-৪ মাসে বাংলাদেশে জরুরী চিকিৎসা ব্যবস্থা জুন মাসের যেমন ছিল তেমনি থাকবে।

==> সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার কাঠামো একই থাকবে।

ফলাফল
======
বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৫% বা ১৩ কোটি মানুষ সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন। সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা ব্যাক্তিদের মধ্যে ৭৩% (০.৫৫/০.৭৫) অনুর্ধ্ব ৪০ বছর বয়সী। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যায় এই বয়সের মানুষের সংখ্যা ৭১ শতাংশ। এর মধ্যে ২১-৪০ বছর বয়সী ব্যাক্তিগণ মোট ঝুঁকিতে থাকা ব্যাক্তিদের ৩১% (০.২৩/০.৭৪৫) । ঝুঁকিতে থাকা সকল ব্যাক্তির মাঝে ৩১-৪০ বছর বয়সী ব্যাক্তিদের করোনা পজিটিভ হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী। এই বয়স সীমায় প্রতি ১০০ জন ব্যাক্তিকে টেস্ট করা হলে প্রায় ২৭ জন পজিটিভ পাওয়া যায়। এর পরই আছে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ব্যাক্তিরা, এই বয়সসীমার ক্ষেত্রে পজেটিভ হওয়ার ঝুঁকি ২৫ শতাংশ। ৫১-৬০ বয়সী ব্যাক্তিদের পজিটিভ হবার ঝুঁকি ২০% এবং ষাটোর্ধ্বদের মধ্যে ১৬%। ০-২০ বছর বয়স গ্রুপের ব্যাক্তিদের পজিটিভ হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম, ১১ শতাংশ। যার মধ্যে ০-১০ বয়সীমায় এই ঝুঁকি ৩.৫ শতাংশ এবং ১১-২০ বয়সসীমায় পজেটিভ হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৮ শতাংশ। সামগ্রিক বিচারে বাংলাদেশে ঝুঁকিতে থাকা জনসংখ্যার পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ।

বাংলাদেশের সকল বয়সী পজিটিভ ব্যক্তিদের মৃত্যুঝুঁকি আছে তবে ষাটোর্ধ্ব ব্যাক্তির মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী। প্রতি ১০০ জন ষাটোর্ধ্ব করনা পজেটিভ রোগী এর মাঝে ৮ জন মারা যান। ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে এই হার ১০০ জনে ৩ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে এই হার ১%। ০-৪০ বছর বয়সী ব্যাক্তিদের মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে কম (প্রতি হাজারে ৩ জন)।
পুরুষদের করোনা পজেটিভ হওয়ার সম্ভাব্যতা নারীদের চেয়ে ২.৪৪ (৯৫% CI [২.৪১, ২.৪৮]) গুণ বেশি। আবার করোনা পজেটিভদের মধ্যে পুরুষদের মৃত্যুর সম্ভাব্যতা নারীদের চেয়ে ১.৫ (তুলনামূলক ঝুঁকি = ১.৫, ৯৫% CI [১.৩, ১.৭]) গুণ বেশি।

বর্তমানে প্রাক্কলিত R0 ১.৩ (৯৫% CI [১.২৯, ১.৩২]) । অর্থাৎ, হার্ড ইমিউনিটির জন্য প্রয়োজন ঝুঁকিতে থাকা সমগ্র জনসংখ্যার ২৫% ব্যাক্তির ইমিউনিটি। সেই হিসাবে প্রাকৃতিকভাবে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন ৫৫ লাখ মানুষ, এবং মারা যেতে পারেন ৭২ হাজার মানুষ। ষাটোর্ধ্ব মানুষ মারা যেতে পারেন প্রায় ৩২ হাজার যা মোট প্রাক্কলিত মৃত্যুর ৪৩ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের মধ্যে মারা যেতে পারেন প্রায় ১৯ হাজার যা মোট প্রাক্কলিত মৃত্যুর ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ, হার্ড ইমিউনিটি পর্যন্ত প্রাক্কলিত প্রাণহানীর সংখ্যার মধ্যে ৭০ শতাংশ প্রাণহানীই হবে পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষদের মধ্যে। অন্যান্য বয়স বিভাজনের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি পর্যন্ত প্রাক্কলিত মৃত্যুর সংখ্যা টেবিল-১ এ দেখান হয়েছে।

আমদের প্রাক্কলিত মৃত্যুর সংখ্যাটি কতখানি বাস্তব সম্মত তা আমরা খতিয়ে দেখেছি । ধরে নিই বাংলাদেশ সরকার করোনায় মৃত্যুবরণ করা সব মানুষের উপাত্ত সংগ্রহ করতে পেরেছে কিন্তু সব আক্রান্তদের শনাক্ত করতে পারেনি। এই অনুমান এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার অনুমানের উপর নির্ভর করে আমরা বলতে পারি করোনায় মৃত্যুর সত্যিকারের সংখ্যাটি নির্ভর করবে মোট আক্রান্তর সংখ্যার উপর। বর্তমানে যে পরিমান শনাক্ত করা হচ্ছে তা’ই যদি বাংলাদেশের সত্যিকারে সর্বমোট সংক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে হার্ড ইমিউনিটি পর্যন্ত ৭২ হাজার ১৯৩ জন মানুষ মারা যেতে পারেন (মৃত্যুর হার ১.৩ শতাংশ)। যদি যে পরিমাণ শনাক্ত হয়েছে তা সত্যিকার সংক্রমণের অর্ধেক (৫০%) হয় তাহলে মৃত্যুর সংখ্যা হবে ৫৪ হাজার ৬১৮ জন (মৃত্যুর হার হবে ০.৬ শতাংশ)। শনাক্তের হার যদি সত্যিকার সংক্রমণের এক তৃতীয়াংশ হয় তাহলে মারা যেতে পারেন ৩৭ হাজার ৪০ জন (মৃত্যুর হার হবে ০.৪৪ শতাংশ)। উল্লেখ্য, শনাক্ত আক্রান্তের সংখ্যা যদি সত্যিকার সংক্রমণ সংখ্যার এক তৃতীয়াংশ হয় তাহলে বাংলাদেশে সংক্রমণের বিপরীতে মৃত্যুর হার (০.৪৪ শতাংশ) হবে পৃথিবীর সর্বনিম্ন।

আলোচনা
=======
ফলাফলে দেখা যাচ্ছে পঞ্চাশোর্ধ্ব মানুষরাই সবচেয়ে বেশি প্রাণঝুঁকিতে আছেন। ২০২০ সালের জনংখ্যার প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশে পঞ্চাশোর্ধ্ব জনসংখ্যা দুই কোটি ৭১ লাখ। হার্ড ইমিউনিটি পর্যন্ত এই জনসংখ্যার মধ্যে ৯ লাখ ৫০ হাজার ৫৭৭ জনের করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যা থেকে মৃত্যু হতে পারে ৫০ হাজারেরও বেশি। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বয়সী জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত করা দরকার। সর্বোপরি হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছানো পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি লোকের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।

২০ থেকে ৪০ বছর বয়স বাংলাদেশে কর্মক্ষম বয়স হিসেবে বিবেচিত। শহর-গ্রাম নির্বিশেষে বাংলাদেশে এই বয়সসীমার ৭০% - ৯৮% পুরুষ তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে। অপরদিকে, একজন পুরুষের কাজ করার সম্ভাব্যতা সমবয়সী একজন নারীর থেকে ২.৭ গুণ বেশি [6]। এই বয়সের মানুষদের সার্স-কভ-২ সংক্রমণে মারা যাওয়ার সম্ভাব্যতা প্রতি এক হাজারে প্রায় তিন জন। মৃত্যুর হার তুলনামূলক কম হলেও এই জনগোষ্ঠী ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। এই বয়সী পুরুষরা ঘরে ও বাইরে সবচেয়ে বেশি মানুষের সংস্পর্শে আসেন [3, 4] । বাংলাদেশে লিঙ্গ ও বয়সভেদে বিদ্যমান সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার ধরণ লিঙ্গ ও বয়সভেদে রোগ শনাক্তের হারে ভিন্নতার কারণ হতে পারে। আমরা বাংলাদেশে কুষ্ঠ রোগের সংক্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ভিন্নতা লক্ষ করেছি, যা বয়স ও লিঙ্গভেদে মানুষের সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলেই পর্যবেক্ষণে উঠে আসে [4]।

গড়পড়তা বাংলাদেশে একটি পরিবারের আকার ৫ থেকে ৭ জনের [6]। পারিবারিক কাঠামোর দিকে নজর দিলে আমরা দেখতে পাই একটি পরিবারে শিশু বৃদ্ধসহ সকল বয়সী ব্যাক্তিরা থাকেন এবং তাদের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার ধরন প্রায় সুষম। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ব্যাক্তিরা পরিবারে সংক্রমণ বিস্তার এর কেন্দ্রে রয়েছে, কারণ সাধারণত এই বয়সী মানুষরাই পারিবারিক অর্থনীতিকে সচল রাখেন, যার কারণে প্রতিনিয়ত তাদের পরিবারের বাহিরের অনেক মানুষের সংস্পর্শে আসতে হয়। তাই যে কোনও প্রতিরোধ কার্যক্রম এই বয়সের মানুষদের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করা উচিত [2]।

পুরুষদের মধ্যে বর্ধিত মৃত্যু ঝুঁকি অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে তবে সেসব উপাত্ত এবং আমাদের উপাত্তের ক্ষেত্রে প্রধান সীমাবদ্ধতা হচ্ছে বেশিরভাগ সময়ে কনফাউন্ডিং ভেরিয়েবলগুলোকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, আমরা জানি আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি আক্রান্তের বয়সের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু লিঙ্গভিত্তিক বয়সের বিন্যাস না পাওয়া যাওয়ার কারণে আমরা যাচাই করতে পারছি না যে লিঙ্গভিত্তিক মৃত্যু ঝুঁকির প্রাপ্ত পার্থক্য কতটা যুক্তিযুক্ত।

বাংলাদেশে অনুর্ধ্ব ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের ঝুঁকি কম হওয়ার যুক্তযুক্ত কারণ সম্ভবত উপসর্গহীন সংক্রমণ। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে উপসর্গহীন সংক্রমনের কোন উপাত্ত নেই। তবে বিভিন্ন দেশের গবেষণা থেকে বাংলাদেশে এই পরিমাণটি সম্পর্কে অনুমান করা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন মোতবেক মোট শনাক্তর প্রায় ৮০% আক্রান্ত ব্যাক্তির উপসর্গ মৃদু বা উপসর্গহীন হয়ে থাকে [8]। শিশুদের ভিতরে উপসর্গহীন সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। চীনে শিশুদের ৯৪ শতাংশ সংক্রমণই ছিলো উপসর্গহীন বা মৃদু অসুখ [7]। সুতরাং, বাংলাদেশের টেস্ট ডেটার উপর নির্ভর করে প্রাক্কলিত সংক্রমণের মাত্রা ২০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে অবমূল্যায়িত হতে পারে। এ বয়সী জনগোষ্ঠী কোন উপসর্গ প্রদর্শন না করেও সংক্রমণ এর ধারক এবং বাহক হতে পারে তবে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।

ঘণবসতিপূর্ণ বাংলাদেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মাস্ক একটি কার্যকর উপায় হতে পারে [9]। সকল বয়সী মানুষের জন্য মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো উচিত। যেসব বাড়ি থেকে মানুষ নিয়মিত বাহিরে যাচ্ছেন তাদের বাড়ির ভেতরেও মাস্ক পড়া উচিত। বাড়ির ভেতরে মাস্কের ব্যাবহার বয়স্ক ব্যাক্তিদের মাঝে সংক্রমণের ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে দিবে। আমাদের পরামর্শ হচ্ছে, মাস্কের ব্যবহারকে প্রতিরোধ পরিকল্পনার কেন্দ্রে নিয়ে এসে নমমাত্র মূল্যে এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে বিনামূল্যে মাস্কের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা। কেবল এই প্রতিরোধ পরিকল্পনা কার্যকর করা গেলেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ব্যাপকহারে আরটি-পিসিআর টেস্ট করে শনাক্ত ও আইসোলেশন করা নিঃসন্দেহে কার্যকর উপায় কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুরপুরি কার্যকরি হচ্ছে না। আমাদের প্রয়োজন সহজ ও শনাক্ত করার যুক্তিসঙ্গত ক্ষমতা সম্পন্ন (সেন্সেটিভ হতে হবে তবে হাইলি স্পেসিফিক হতে হবে এমন নয়) একটি টেস্টিং পদ্ধতি যাতে মানুষ কম খরচে টেস্ট করিয়ে নিজেরাই নিজেদের আইসোলেট করতে পারে। এই ধরনের একটি পদ্ধতি হাতে আসার আগ পর্যন্ত মেশিন লার্নিং মডেল ভিত্তিক সনাক্ত পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে। এই উদ্যোগ সংক্রমিত এলাকা শনাক্ত করতে সহায়তা করবে এবং কোন এলাকাগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিতে হবে তার সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট ধারণা দেবে।

প্রাক্কলনের ঝুঁকি সমূহ
================
আমরা সম্ভাব্যতা তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে আমাদের প্রাক্কলন সমূহের একটি শক্ত ভিত্তি দেবার চেষ্টা করেছি। পদ্ধতিগুলো সবসময়েই কিছু অনুমানের উপর নির্ভরশীল। আমরা আমাদের অনুমাসমূহের বিস্তারিত প্রদান করেছি। আমারা মনেকরি আমাদের অনুমান সমূহ যুক্তিযুক্ত। উপরন্তু, আমরা অনুমানের বিভিন্ন পরিবর্তনে আমাদের প্রাক্কলন সমূহের স্পর্শকাতরতাও পরীক্ষা করেছি। আমার দেখেছি আমাদের প্রাক্কলন সমূহ যথেষ্ট দৃঢ় এবং স্থিতিশীল। সর্বোপরি আমরা যে প্রক্কলন সমূহ প্রদান করেছি এবং যে সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছি তা বাস্তব সম্মত এবং এবিষয়ে প্রকাশিত তথ্য সমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

হার্ড ইমিউনিতিতে পৌঁছাতে সম্ভাব্য মোট সংক্রমণ এবং মৃত্যুর প্রাক্কলনে আমদের অনুমান ছিল যে কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তি স্থায়ী ইমিউনিটি অর্জন করে। কিন্তু যদি এই ইমিউনিটি স্বল্পমেয়াদী হয় তাহলে হয়তো এ জনগোষ্ঠী কখনোই প্রাকৃতিক হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছাতে পারবে না।

উপসংহার
=======
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববব্যাপি যে লকডাউন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে তা বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার সাথে লাগসই না হবার কারণে সংক্রমণ এবং মৃত্যু ঝুঁকি কমানো যায়নি। একটি কার্যকর প্রতিরোধ পরিকল্পনা করার জন্য আমাদের কাছে পর্যাপ্ত উপাত্ত বা গবেষণার অভাব আছে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবধানের কারণে অন্য দেশের প্রতিরোধ পরিকল্পনা বাংলাদেশে সমানভাবে কার্যকরী নাও করতে পারে। তাই আমাদের নিজেদের পদ্ধতি নিজেদেরকেই বের করতে হবে যা আমাদের নিজস্ব উপাত্ত, গবেষণা ও উপকরণ নির্ভর। আমরা আমাদের গবেষণার ভিত্তিতে বয়সভিত্তিক প্রতিরোধের যে কার্যক্রম প্রস্তাব করেছি তার প্রয়োগ পারিবারিক সংক্রমণের পথ যেমন বন্ধ করবে তেমনি সামাজিক সংক্রমণকেও কমিয়ে দেবে।

Bibliography
==========

1. Nasreen, S., et al., Prevalent high‐risk respiratory hygiene practices in urban and rural Bangladesh. Tropical Medicine & International Health, 2010. 15(6): p. 762-771.
2. Nizame, F.A., et al., Understanding community perceptions, social norms and current practice related to respiratory infection in Bangladesh during 2009: a qualitative formative study. BMC Public Health, 2011. 11(1): p. 1-9.
3. Feenstra, S.G., et al., A qualitative exploration of social contact patterns relevant to airborne infectious diseases in northwest Bangladesh. J Health Popul Nutr, 2013. 31(4): p. 424-34.
4. Feenstra, S.G., et al., Social contact patterns and leprosy disease: a case-control study in Bangladesh. Epidemiol Infect, 2013. 141(3): p. 573-81.
5. Mossong, J., et al., Social contacts and mixing patterns relevant to the spread of infectious diseases. PLoS Med, 2008. 5(3): p. e74.
6. BDHS. Bangladesh Demographic Health Survey. 2014 [cited 2020 6/26/2020]; Available from: https://dhsprogram.com/pubs/pdf/FR311/FR311.pdf.
7. D**g, Y., et al., Epidemiology of COVID-19 among children in China. Pediatrics, 2020. 145(6).
8. WHO. Coronavirus disease 2019 (COVID-19),. Situation Report – 46 2020 [cited 2020 6/20/2020]; Available from: https://www.who.int/docs/default-source/coronaviruse/situation-reports/20200306-sitrep-46-covid-19.pdf?sfvrsn=96b04adf_4.
9. Prather, K.A., C.C. Wang, and R.T. Schooley, Reducing transmission of SARS-CoV-2. Science, 2020.

25/06/2020

Total confirmed cases in on 25-Jun-2020 is 122660. This will be between 147521 and 149636 by 1st July 2020.

21/06/2020

The epidemic in still growing...

19/06/2020

Bangladesh is going to see 300 to 450 additional deaths by 25 Jun 20

18/06/2020



Number of positive until 17-June: 98489
This will be between 125400 and 127477 by 24 June
(Assuming 17500 test will be conducted daily)

12/06/2020





The current pattern of daily deaths suggests that, by Jun 18 an estimated total number of deaths will be between 1318 to 1406

11/06/2020





If the number of test remain 15 thousands per day then by 17th June the total number of cases is expected to be between 96 to 98 thousands.

Want your school to be the top-listed School/college?