In Sha AllaH

community dedicate in share. It’s an Islamic page. Please help us to share peace and prosperity among all. and live recordings as well.

The best Source for everything (In Sha Allah) related.Audio and video recording from the (In Sha Allah) regular Islamic video,Islamic song,travel & tourist information,song,funny video,tik tok video,news and more .Update daily with picture of (In Sha Allah) page.

Temporarily closed

01/11/2022

Brother Hudhaifah Ali narrates "
My mother lived with my father for 29 years, she never left her husband's house, nor did her family know what was going on inside her house.
She lived with him for three decades, and when he died, she said: By Allah, I have never had enough of him for a moment
She was abroad with him for 8 years and came back, and she was with him away from her governorate and her family, so he was, may Allah have mercy on him, her father, her brother, her husband and her friend..

When he entered the house, he would kiss her hand, and she would take his hands and return it two kisses. He taught me that love is a gift before it is a harvest
May Allah have mercy on him, he was easy, easy and gentle with her, and she was the best wife, the obedient companion, they were a certain good for each other in obedience..
From them I learned the meaning of the Muslim home, the sanctity of the family, the strength of its bond
May Allah have mercy on my father and bind my mother's heart, for he left a great void in her heart that hurts her, may Allah heal her and grant her the reward of the patient "

01/11/2022

"যে জাতির পুরুষদের মাঝে গাইরত থাকে, সে জাতির নারীদের মাঝে পবিত্রতা থাকে।"

– ইমাম রাগেব আস্ফাহানী (রহিমাহুল্লাহ)
[আয-যারীয়াহ ইলা মাকারিমিশ শরীয়াহ : পৃ. ৩৪৭]

19/10/2022

বোরকা' দেখেই পাগল হবেন না, কারণ সব বোরকায় দ্বীন থাকে না।

(অনেক বোরকার আড়ালে হারাম সম্পর্ক, গোপন সম্পর্ক, অনলাইন সম্পর্ক, টিকটক, গুনাহের আসক্তি, পরিবারের অবাধ্যতাও থাকে)

যারা বিবাহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন; আগে নিজেকে পরিবর্তন-পরিশুদ্ধ করুন, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন, হাদিসের আলোকে খুঁজতে থাকুন তারপর সিদ্ধান্ত নিন; তাহলে যিনি আপনার কাছে আসবেন তিনিও উপকৃত হবেন আর উনাকে পেয়ে আপনিও উপকৃত হবেন, ইনশাআল্লাহ।

[ পর্দা শুধু পোশাকে নয়; পর্দা চোখে, অন্তরে, কণ্ঠে, আচরণে ]

23/07/2022

আলহামদুলিল্লাহ, দুজনই স্টুডেন্ট। মজার বিষয়, দুজনই আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এর শিক্ষার্থী। একজন কম্পিউটার সায়েন্স & ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের আর অন্যজন দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ এর।

আদন সাহেব, আমার অন্যতম কাছের বন্ধুদের একজন। বিয়ে হলো কিছুদিন আগে।

বন্ধু একদিন হোয়াটসএপে ছবি পাঠালো–দুটো জায়নামাজ পাশাপাশি বিছানো, কেবল জায়নামাজ।

চক্ষুশীতলকারী ছবি যাকে বলে। একটা ছবিই ছিল মাত্র–কিন্তু তার আড়ালে যেন ছিল এক স্বপ্নিল আকাশ, এক সবুজ বাগান।

স্ক্রিনের এপাশ থেকে আমার মনে হলো–দুটো মানুষ 'একসাথে' ভাল আছে। এই ফিৎনার ঘোর অন্ধকারে দুটো মানুষ একে অপরের পাশে আছে যেন আলোর প্রদীপ নিয়ে। একজনের প্রদীপের আলো নিভু নিভু হলে অন্যজন তার আলো দিয়ে পথ চলতে সাহায্য করবে; বাহ্যিক দৃষ্টিতে দুনিয়ার পথ বলে ভ্রম হয়, আসলে যা জান্নাতের পথ ইনশা আল্লাহ।

দ্বীনের অর্ধেক নিশ্চয় এমনি এমনি বলা হয়নি। দ্বীনের অর্ধেক যাকে বলা হয়েছে, সেই জীবনসঙ্গিনী ব্যতীত জীবন অপূর্ণই।

এই পোস্টের মাধ্যমে প্রথম যে বার্তাটা পৌঁছুতে চাই–স্টুডেন্ট লাইফে বিয়ে করা যাবে না–এই মানসিকতা দূর করুন, সমাজ থেকে দূর হতে দিন।

সামগ্রিক দিক ভেবেই বলছি, ফর্মুলাটা পানির মতো সরল–আল্লাহ তা'আলা সামর্থ্য দিলে, স্টুডেন্ট লাইফে বিয়েতেই বরকত, এই বিয়েই হয়তো হতে পারে দুজনের জীবনের টার্নিং পয়েন্ট।

বয়স কম, ম্যাচিউরিটি নেই, হেন নেই, তেন নেই–সেসব ভিন্ন আলাপ। বিয়ের দায়িত্ব নেয়ার ম্যাচিউরিটি না আসলে সেটা ব্যক্তির সমস্যা, তার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন, সর্বহালতে এই ফর্মুলা খাটাচ্ছি না।

বরং দৃষ্টিপাত করতে চাই সমাজের এক অদ্ভুত স্বভাবের দিকে–তারা হারাম সম্পর্ক দেখে এত কথা বলবে না, এতে তাদের সমস্যা নেই৷ যখনই হালালে আসে, তখনই তাদের ভেতরের বুদ্ধিজীবী সত্তা যেন মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে–'ছাত্রাবস্থায় বিয়ে কেন!'

অথচ আল্টিমেটলি, হাশরের দিন আপনার আমলনামার হিসেবটা তারা দিয়ে দেবে না, আপনাকেই দিতে হবে।

.
ফ্যান্টাসিতে ভুগানো উদ্দেশ্য নয়, যাদের বিয়ে করা সম্ভব নয়, তাদের এতেই কল্যাণ; ফায়সালা হয় আসমানে। আর্লি ম্যারেজ বেনেফিটস বলাও উদ্দেশ্য নয়।

বক্তব্যটা স্পষ্ট–হালাল সহজ করুন, সহজ হতে দিন।

বিয়ের সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করুন; করানোর মতো মানুষ থাকলে করিয়ে দেয়ার পদক্ষেপ নিন। না থাকলে, ছাত্রাবস্থায় বিবাহকে উৎসাহিত করুন।

তাও না পারলে চুপ থাকুন। কেউ একজন ছাত্রাবস্থায় বিয়ে করেছে বলেই সমালোচনার কামান নিয়ে তেড়ে আসার কিছু নেই। গুনাহ থেকে বাঁচতে পবিত্র যে বন্ধনে আবদ্ধ হলো দুটো মানুষ, তা নিয়ে কিছু বলার আগে আল্লাহকে ভয় করুন।

হালাল কঠিন করবেন, হারাম ছড়িয়ে পড়বে।

আর যারা হারামে লিপ্ত–হারাম ছাড়ুন, হালালের বরকত বরণ করে নিন।

হালাল ছড়িয়ে পড়ুক আলোর বেগে। হারামের এই কুৎসিত আঁধারে প্রতিটি সম্পর্ক হয়ে উঠুক আলোর বিচ্ছুরণের উৎস, প্রতিটি ঘর হয়ে উঠুক দ্বীনের নূর ছড়ানোর মারকাজ।

আমার বন্ধু ও তার আহলিয়ার জন্য দু'আ রইলো। আল্লাহ তা'আলার জন্য যে ভালোবাসা, যে বন্ধন; মহান আল্লাহ যেন তা দুজনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত দৃঢ় ও অটুট রাখেন; আখিরাতের কঠিন সময় পেরিয়ে জান্নাতেও যেন তাদের মিলিয়ে দেন।

আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর একটি উক্তি দিয়ে ইতি টানছি–

"যদি এক রাত পরেই পৃথিবীর আয়ু ফুরিয়ে যায়, তবুও আমি পছন্দ করি, ওই একটি মাত্র রাতেও আমার সাথে আমার স্ত্রী থাকুক।”

(মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বা : ৪/১২৮).

12/07/2022

বোনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ -

“খাদিজা (রাঃ) তো ব্যবসায়ী ছিলেন! আর এর পরও আপনারা মেয়েদের ঘরে আটকে রাখতে চান?! কিসের ভিত্তিতে মেয়েদের ক্যারিয়ারে বাঁধা দেন?!”

- এটুকু বলার পর কয়েকটা স্পেস দিয়ে আবার, ‘আমি ফে-মিনিস্ট নই, তবে মেয়েদের চাকরি করা যাবে না ক্যারিয়ার করা যাবে না এরকম বলে মেয়েদের সম্মান/অধিকারে প্রশ্ন তোলা আমিও মোটেই সমর্থন করি না!’
আমি এরকম কয়েকদফা স্ট্যাটাস/কমেন্ট দেখলাম গত কয়েকমাসে।

শেষে, আমি ফে-মিনিস্ট নই - এই অংশটুক একটুু বেশি ই হাস্যকর!

ভ্রু কুঁচকে যায় এরকম দেখলে। কেনো জানেন? মা খাদিজা (রাঃ) এর ব্যবসা নিয়ে যে তামাশা ও ফিতনা মেয়েরা আজকাল করে, তাতে ভ্রু কুচকাবেই বা না কেনো বলেন!?

মা খাদিজা (রাঃ) ব্যবসায়ী ছিলেন, সত্য! তার ব্যাবসায়ের ধরণ কেমন ছিলো তা কি আমরা জানি! তিনি বাণিজ্যের জন্য শামে এবং অন্যান্য এলাকায় কাফেলা পাঠাতেন! সেই কাফেলাতে ছিলো তার কর্মচারীরা! এখানে সেই কাফেলাতেই হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রথম কাজ করেছিলেন, গিয়েছিলেন শামে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে! কাফেলা ফিরে এলে খাদিজা (রাঃ) তার দাসীদের ভেতর হাদিয়া প্রদান করতেন! এটা ছিলো হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সাথে বিবাহের পূর্বে এবং কিছুসময়কাল পরেও!

পরবর্তীতে মুহাম্মদ (সাঃ) ব্যবসায়ের দায়ভার নেন এবং খাদিজা (রাঃ) সন্তান ও সংসারে মনোনিবেশ করেন, সুবহানআল্লাহ। তিনি ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রিয় সহধর্মীনি যাকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আনন্দ বিপদে সবসময় হাত বাড়িয়ে কাছে পেয়েছেন একজন আদর্শ স্ত্রী রূপে, প্রাণপ্রিয় প্রেয়সী হিসাবে।
এরপর কি হলো সেটার গল্প আজকালের ম-ডারেট প্রগতিশীল মুসলিমাহ রা করেন না! এটাকে তাদের অজ্ঞতা বলবো নাকি নিছক পিঠ বাঁচানো তা বুঝে উঠতে পারি না!

হযরত খাদিজা (রাঃ) ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রথম সহধর্মিনী! তিনি ছিলেন ইসলাম ধর্ম জন্মের প্রথম চাক্ষুস সাক্ষী এবং প্রথম ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী! তারপর কি হলো জানেন? যখন সময় এলো তৎকালীন সময়ে নীপিড়িত মুসলিমদের সাহায্যের... তখন খাদিজা (রাঃ) তার সকল ধন সম্পদ অর্থ... সবকিছু ইসলাম প্রচারে দান করে দেন, বিলিয়ে দেন আল্লাহ'র রাস্তায়! সুবহানআল্লাহ! মুসলিমরা যখন পাহাড়ের ভূমিতে আশ্রয় নিয়েছিলো কুরাইশদের ভয়ে, তাদের খাদ্য ফুরিয়ে যাচ্ছিলো... কেউ ছিলো না তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার তখন এই মা খাদিজা তার সম্পদের শেষাংশ টুকু দিয়ে সেই সকল মুসলিমদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছিলেন, আল্লাহু আকবর, আলহামদুলিল্লাহ!

হায়রে! আজকালের ক্যারিয়ারবিলাসী মডারেট মুসলিমাহ রা এগুলো জানেন না বা "জানতে চান না"! তারা কি তাদের সম্পদ সম্পত্তি খাদিজা (রাঃ) এর মতো ইসলামের খেদমতে বিলিয়ে দিতে পারবেন? (হয়ত অনেকেই পারবেন)

সম্পদের সবটুকু দানের কথা তো বাদ ই দিলাম, বরং তারা বেতনের পুরোটুকু হাতে নিয়ে বলেন, "ইসলাম বলে আমার আয়ের উপর আমার স্বামীর অধিকার নেই, বরং সে আমাকে মাসে মাসে হাত খরচ ও দিবে!" (অবশ্যই সবাই কে এক কাতারে ফেলছি না)

চাকরি করুন, ক্যারিয়ার করুন! ইসলাম কে খুঁটি করার প্রয়োজন কেনো?! মা খাদিজা (রাঃ) কে খুঁটি করার প্রয়োজন কেনো মনে করি আমরা?! আমি জানতে চাই শারয়ী পর্দায় চাকরি করতে পারছেন আমরা!? হক কাপড়ে সালাত সময়মতো আদায় করতে পারছি তো?! গায়রে মাহরাম দের সাথে অপ্রোয়জনীয় কথা এড়াতে পারছি কিনা?

আসুন উত্তর নিজের ক্বলব কে দিই!

আলহামদুলিল্লাহ, তবে করুন ক্যারিয়ার! কিন্তু ইসলাম কে খুঁটি করার প্রয়োজন দেখি না!

হ্যাঁ, মেয়েদের অনেক ক্ষেত্রে দরকার আছে! নারী ডাক্তার, নারী শিক্ষিকা, নারী নার্স, নারী টেইলার্স! দেখা জরুরি তারা শারয়ী নিয়মে মাঠে নামছেন কিনা!
আর একটা অনুরোধ! ক্যারিয়ারের চক্করে স্বামী, সন্তান, সংসার সামলানো মেয়েদের দেখলে তাদের প্রজেক্ট লস এমন ভাবার প্রয়োজন ই নাই! তারা কত সম্মানিত এটা পুরোপুরি ই আপনাদের ধারণার বাইরে, আলহামদুলিল্লাহ! অনেকে চেষ্টা করলেও তাদের মতো রাব্বাতুল বাইত হতে পারবে না!

বলতে চাইছিলাম না তবে একেবারে চুপ থাকলে নিজেকে গা-দ্দার মনে হয়! আল্লাহ হেদায়েত দিক! তবে তাকে... যাকে আল্লাহ ইচ্ছা করবেন! আমিন!

এখন বলি ইসলামে মেয়েদের চাকরি করা শরীয়তে কেমনরুপে বলা আছে। অনেকে বিধবা, এতিম, তার দায়িত্ব নেবার মতো কেউ নেই। ঘরে ইনকাম সোর্স নেই, আবার চিকিৎসা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নারীর প্রয়োজন আছে।

নারী চাকরির খাতিরে ঘর থেকে বের হতে পারবে। তবে এর জন্য কিছু নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। নিয়ম ও শর্তগুলো মেনে চললে নারীর জন্য ঘর থেকে বের হওয়া জায়েয হবে; অন্যথায় নয়। যেমন :

– যদি সত্যিকারে তার চাকরি করার প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে।

– চাকরিটা তার দৈহিক, মানসিক স্বভাব ও রুচির সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল হতে হবে। যেমন, ডাক্তারি, নার্সিং, শিক্ষা, সেলাই কিংবা এ জাতীয় পেশা হতে হবে।

– কর্মক্ষেত্রে পর্দার পরিপূর্ণ পরিবেশ থাকতে হবে। অন্যথায় জায়েয হবে না।

– চাকরির কারণে যাতে পরপুরুষের সঙ্গে সফর করতে না হয়।

– কর্মক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার পথে যাতে কোন হারাম কাজ করতে না হয়। যেমন, ড্রাইভারের সঙ্গে একাকী যাওয়া, পারফিউম ব্যবহার করা ইত্যাদি।

– নারীর প্রধান কাজ ও দায়িত্ব হচ্ছে স্বামীর খেদমত করা, তার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা ও মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করা। যদি চাকরি করতে গিয়ে এসব দায়িত্ব পালনে ব্যাপক অসুবিধা হয় তাহলে তার জন্য চাকরি করা জায়েয হবে না। (ফাতাওয়াল মারআতিল মুসলিমাহ ২/৯৮১, ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৫৯)

অনেক বোন বা ভাই কমেন্টে এসে গালাগালি করতে পারেন। করুন, সমস্যা নেই। তবে প্রতিটি কাজ, প্রতিটি জবানের রেকর্ড হচ্ছে ইনশাআল্লাহ্।

- আশফিকা নওশিন

28/06/2022

একজন স্বামী তার স্ত্রীকে কখন পাগলের মত ভালবাসে জানেন?
.
এক বৃদ্ধা মহিলার সাক্ষাৎকার। যিনি তাঁর স্বামীর সাথে সফলতার সাথে কাটিয়ে দিলেন দীর্ঘ পঞ্চাশটি বছর। তাদের জীবন শান্তিতে ভরপুর ছিল। ঝগড়া তো দুরের কথা, দাম্পত্য জীবনে কখনো কথা কাটাকাটি পর্যন্ত হয়নি।
একজন সাংবাদিক এই বৃদ্ধার কাছে তার পঞ্চাশ বছরের স্থায়ী সফলতার রহস্যের ব্যপারে জানতে চাইলেন।
.
কী ছিল সে রহস্য? মজার মজার খাবার বানানো? দৈহিক সৌন্দর্য? বেশী সন্তান জন্ম দেয়া? নাকি অন্যকিছু?

বৃদ্ধা বললেন, দাম্পত্য জীবনের সুখ শান্তি প্রথমত আল্লাহর ইচ্ছা অতপর স্ত্রীর হাতেই। একজন স্ত্রী চাইলে তার ঘরটাকে জান্নাতের টুকরো বানাতে পারেন আবার চাইলে এটাকে জাহান্নামেও পরিনত করতে পারেন।
.
কীভাবে? অর্থ দিয়ে? তা তো হতে পারে না। কেননা অনেক অর্থশালী মহিলা আছেন, যাদের জীবনে দুঃখ দুর্দশার শেষ নেই, যাদের স্বামী তাদের কাছেই ভিড়তে চান না।
.
সন্তান জন্ম দান? না, তাও নয়। কারণ, অনেক মহিলা আছেন, যাদের অনেক সন্তান আছে, অথচ স্বামী পছন্দ করেননা। এমনকি এ অবস্থায় তালাক দেওয়ার নজিরও কম নয়।
.
ভালো খাবার বানানো? এটাও না, কারণ অনেক মহিলা আছেন, যারা রান্না বান্নায় বেশ দক্ষ, সারা দিন রান্না ঘরে কাজ করে, অথচ স্বামীর দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হন।
.
তার কথায় সাংবাদিক বিস্মিত হয়ে গেলেন। বললেন, তাহলে আসল রহস্যটা কী?

বৃদ্ধা বললেন, যখনই আমার স্বামী রেগে গিয়ে আমাকে বকাবকি করতেন, আমি অত্যন্ত সম্মান দেখিয়ে নিরবতা অবলম্বন করতাম এবং অনুতপ্ত হয়ে মাথা দুলিয়ে তার প্রতিটি কথায় সায় দিতাম।

সাবধান! বিদ্রুপের দৃষ্টিতে কখনো চুপ হয়ে থেকো না, কেননা পুরুষ মানুষ বিচক্ষণ হয়ে থাকে, এটা সহজেই বুঝতে পারে।
.
সাংবাদিক: ঐ সময় আপনি ঘর থেকে বের হয়ে যান না কেন?

বৃদ্ধা: সাবধান! সেটা কখনো করবেননা। তখন তিনি মনে করবেন, আপনি তাঁর কথায় বিরক্ত হয়ে পালাতে চাচ্ছেন। আপনার উচিত, চুপ থেকে ওর প্রতিটি কথায় হা সুচক সায় দেওয়া, যতক্ষণ না তিনি শান্ত হন।

অতপর আমি তাকে বলি, আপনার শেষ হয়েছে? এবার আমি যেতে পারি? তারপর আমি চলে যাই, আর আপন কাজে লেগে যাই। কারন চিৎকার করে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, তার বিশ্রাম প্রয়োজন।
.
সাংবাদিক: এরপর কি করেন? এক সপ্তাহ খানেক তার থেকে দূরে থাকেন, এবং কথা বলা বন্ধ রাখেন নিশ্চয়?

বৃদ্ধা: সাবধান! এধরনের বদভ্যাস থেকে দূরে থাকুন।
যা দুধারী তরবারির চেয়েও মারাত্মক। স্বামী যখন আপনার সাথে আপোষ করতে চান তখন যদি আপনি তার কাছে না যান, তখন তিনি একা থাকতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। কখনো কখনো এ অবস্থা তাকে প্রচন্ড জিদের দিকে ঠেলে দেবে।
.
সাংবাদিক: তাহলে কি করবেন তখন?

বৃদ্ধা: দুই ঘন্টা পর এক গ্লাস দুধ বা এক কাপ গরম চা নিয়ে তার কাছে যাই, আর বলি, নিন, এগুলো খেয়ে নিন, আপনি খুব ক্লান্ত। এসময় তার সাথে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই কথা বলি। তারপর তিনি বলেন, রাগ করেছো? আমি বলি, না।
তারপর, তার দূর্ব্যবহারে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং স্নেহ ও ভালবাসার কথা বলেন।
.
সাংবাদিক: আপনি কি তার কথা তখন বিশ্বাস করেন?

বৃদ্ধা: অবশ্যই। কেন নয়? শান্ত থাকা অবস্থায় যা বলেন তা বিশ্বাস না করে, রাগান্বিত অবস্থায় যা বলেন তা বিশ্বাস করব?
.
সাংবাদিক: তাহলে আপনার ব্যক্তিত্ব?

বৃদ্ধা: আমার স্বামীর সন্তুষ্টিই আমার ব্যক্তিত্ব। আমাদের স্বচ্ছ সম্পর্কই আমাদের ব্যক্তিত্ব। আর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন ব্যক্তিত্ব থাকে না। যার সামনে তুমি পুরোপুরি ভাবে বস্ত্রমুক্ত হয়েছ, তার কাছে আবার কিসের ব্যক্তিত্ব?

15/06/2022

জীবনের প্রথম হজ্ব। এসেছেন ইন্দোনেশিয়া থেকে। মদিনা এয়ারপোর্টে নেমে মহান রবের শুকরিয়া আদায় করতে এভাবেই সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।

কী সুন্দর এই দৃশ্য, সুবহান-আল্লাহ! কী অকৃত্রিম এই প্রেম আর এই দরদ!! আবেগের অশ্রুতে চোখ দুটো টলোমলো না হয়ে পারে!

Photo credit: Haramain Sharifain

14/06/2022

প্রিয় রাসূল (ﷺ) এর প্রতি যে ভালোবাসার টানে জানবাজী রাখতে আমরা পরোয়া করিনা, সেই একই ভালোবাসার টানে আমরা কি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারবো না? নিশ্চয়ই পারবো, ইন শা আল্লাহ।

Photos from In Sha AllaH's post 08/06/2022

#বিশ্ব_রেকর্ড! গিনেসবুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড!

মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজকে একটি অসাধারণ বিশ্ব রেকর্ড গড়ল।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ভিন্ন দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক নাগরিক অধ্যয়নরত। ১৭০টি দেশের ছাত্র এখন মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কলারশিপে ইসলামী শরীআর জ্ঞান অর্জন করছে। এতো সংখ্যক ভিন্ন দেশী নাগরিক একই বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনটি আর কোথাও নেই।

মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালে যে উদ্দেশ্য ছিল তা আজকে অনেকটাই বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পৃথিবীতে আর কোন ইউনিভার্সিটি মাত্র ৬১ বছরে তাওহিদ প্রতিষ্ঠা ও বিদআত নির্মুলে সারা বিশ্বে এতো প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারেনি।
আল্লাহ্‌ এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এবং এর ছাত্রদেরকে কবুল করুন।
আমীন।

08/06/2022

আমাকে গালি দিবেন,মেনে নিবো ||
আমার বাবাকে গালি দিবেন, তাও মেনে নিবো ||
কিন্তু বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে গালি দিলে চোখ তুলে নিবো।

🎙মাওলানা ড.মিজানুর রহমান আল আজহারী ||

04/06/2022

আগে পর্দা দুইভাগে বিভক্ত ছিলো, এক. শালীন পোশাক, দুই. সহীহ পর্দা। চাচা-আন্টিদের দেখলে বোঝা যেত ওই এক নিকাবেই সমস্তটা ঢাকা। এমনকি ভিতরে বুড়ি নাকি ছুড়ি তা বোঝার উপায় নেই। কালের পরিক্রমায় এখন পর্দা বিভক্ত হয়েছে তিনভাগে, এক. স্টাইলিশ পর্দা, দুই. শালীন পোশাক, তিন. গ্যাঞ্জি-প্যান্টের উপর মাথা ভর্তি প্যাচানো হিজাব।

প্রশ্ন হচ্ছে তাইলে সহীহ পর্দা গেলো কোথায়? উত্তর হচ্ছে বিলুপ্ত হওয়ার পথে। বর্তমানে ১০০ জনের ভিতর এমন একজনকে দেখা যায় যারা প্রকৃত রূপেই চান তার পর্দায় যাতে কোনো ফাঁকফোকড় না থাকুক।

বর্তমান জমানায় পর্দার পোশাকের পেইজগুলোতে ঘুরলে দেখা যায় বাহারি রঙের পর্দা, নিকাব। কি এক সাধারণ হাত-পা মোজা ছিলো এখন তাতেও বাহারি নেট লাগানো, ফুল লাগানো। ঢাকনার জিনিস দিয়ে যেন প্রদর্শন'ই বেশি। সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো, চোখে লাগার মতন এইসব কেনার জন্যই দ্বীনি বোনেরা হুমড়ি খেয়ে পরেন। আমরা জামা-কাপড় কেনার ক্ষেত্রে আগে সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দি সবসময়। বেছে বেছে আকর্ষনীয় ড্রেসটাই কিনি যা পরলে সুন্দর দেখা যাবে।ঠিক সেইম থট পর্দার ক্ষেত্রেও খাটাই "যা পরলে সুন্দর লাগবে, সবার চেয়ে আলাদা করে তুলবে।" তাহলে আর পর্দা রইলো টা কোথায়? পর্দার সংজ্ঞা কি আসলেই তাই!!

এক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটা প্রশ্ন ফেইস করি যারা এই ধরণের পর্দা বিক্রি করছে এবং যারা পরছে তাদের কাছ থেকে, তা হলো "পর্দায় যদি একটু সৌন্দর্যতা না নিয়ে আসি তবে বেদ্বীন বোনেরা তো ইন্সপায়ার হবে না, আগ্রহী হবে না পর্দা করতে "। ব্যাপার টা এখন এমন হয়ে গেলো যে, পর্দাকেই মানুষের রুচির সাথে কম্প্রোমাইজ করতে হচ্ছে, যেখানে মানুষের উচিত ছিল পর্দার জন্য সব কম্প্রোমাইজ ও সেক্রিফাইস করা।লজিক দিতে দিতে এতই করুণ অবস্থা যে পর্দার সাথে খেলতামাশা শুরু হয়ে গেছে অথচ যা ছিল সম্মানীয়।অবশ্য ব্যবসায়ীদের দোষ দিয়ে লাভ নাই কারণ বোনেদের আগ্রহ এই সেক্টরে না থাকলে এত রমরমা ভাবে বিজনেস কখনোই চলত না।

পর্দার কথা যেহেতু এনেছিই এক্ষেত্রে দ্বীনি পর্দানশীন সেলিব্রেটিদের কথা না আনলেই যেন না। আজকাল ইসলামের দাওয়াত দেওয়া ও বোনেদের পর্দায় আগ্রহী করার নামে কিছু বোন হাজার কয়েক ফলোয়ার নিয়ে বেড়ে উঠে প্রোফাইলে পর্দা করা পিক আপ্লোড করে।অথচ পর্দা মানেই তো ছিল লুকায়িত, অপ্রকাশিত।উনাদের রোল মডেল ভেবে অন্য দ্বীনি বোনেরা যেন নতুন করেই পর্দা করা শিখছে, তাদের ভাষায় ইন্সপায়ার হচ্ছে।অন্য বোনেদের পর্দা করা শিখাতে গিয়ে এই বাজারময় মিডিয়ায় এখন নিজেকেই তুলে ধরতে হচ্ছে।তাতে নফসের খাশেয়াত মিটে গিয়ে ক্ষতিটা হচ্ছে কার? দ্বীনি লেবাসের এই বোনেদের জন্য এখন করনীয় হচ্ছে কুর'আনের আয়াত বারংবার রিচেক দেওয়া এবং দেখা আল্লাহ সুব'হান ওয়াতাআ'লা পর্দা নিয়ে কি হুকুম দিয়েছেন আমাদের।বিশেষত একটা আয়াত তুলে ধরা যায়,
"পূর্বের জাহেলী যুগের মতন সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না" [সূরা আল-আহজাব, আয়াত-৩৩]

একচুয়েলি এখন হরেক রকম বোরকা নিকাব বেড়েছে ঠিক তেমন পরিহিতাও বেড়েছে কিন্তু পর্দা বাড়েনি, মোটেও বাড়েনি। উল্টো পর্দার উপর চলছে সাজগোছ।যতটুক চোখ খোলা থাকে তাতেও বোনেরা সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কাজল-আইলাইনার দেয়, হাত মোজার উপর আংটি, চুড়ি। বিবেককে প্রশ্ন করা উচিত, "আসলেই কি আল্লাহ'র সন্তুষ্টির জন্য পর্দা করছি নাকি, মানুষের চোখে ভালো লাগার উদ্দেশ্যে?"

একজন মুমিনার একমাত্র উদ্দেশ্য থাকবে শুধুমাত্র আল্লাহ'র হুকুম এবং সন্তুষ্টি।কারণ নারী যখন পর্দা করে তখন সে শুধু কাপড় না বরং সেই সম্মানিত আয়াতসমূহ দ্বারা নিজেকে মুড়িয়ে নেয় আর এই আয়াতের যথাযথ মর্যাদা রাখাই আমাদের বিধান, ফরজ বিধান।আল্লাহ তা'আলা আমাদের হেফাজত করুক

03/06/2022

নগ্নতা আর সভ্যতা ,দুটি দুই মেরুর।কখনোই এদের যুগল বন্ধন এক ছিল না।

02/06/2022

A paradise in green, Switzerland 😍🍃💚

.

🎥Hafeez Azizul Hakim Rumon

01/06/2022

স্বল্প মূল্যে নিখুঁত ‘স্বামী’র সেবা 🥀😊❤️

30/05/2022

শায়খ উমার বাহযাদ বলেছেন :
- আমি দপ্তরে বসে একটা ফতোয়া নিয়ে কাজ করছি। একটা ফোন এল :
- আমি একজন কলেজ-ছাত্রী। একটা মাসয়ালা জানার ছিল।
- জ্বি বলো।
- আচ্ছা আমি কি আব্বু-আম্মুকে না জানিয়ে কুরআন কারীম হিফয করতে পারবো?
- কেন পারবে না। অবশ্যই পারবে। তা তোমার বাবা-মা বুঝি ধর্মপালন পছন্দ করেন না?
- না না, শায়খ। এমন নয়। তারা দুজনেই অত্যন্ত পরহেযগার।
- তাহলে লুকোতে চাইছ কেন?
- শায়খ! আপনি তো জানেন, হাফেযের পিতামাতাকে কিয়ামতের দিন তাজ পরানো হবে।
- জ্বি।
- আমি কিয়ামতের দিন আব্বু-আম্মুর মাথায় তাজ পরিয়ে তাদের দু’জনকে সারপ্রাইজ দিতে চাই।
.
~ শাইখ আতীক উল্লাহ হাফি.

29/05/2022

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে একজন কবির কবিতা (অনুবাদ)

"তোমার চেয়ে সুন্দর আর দেখেনি তো কেউ কভু
তোমার চেয়ে উত্তম করে সৃজন করেননি প্রভু,
করলেন সৃজন তোমাকে তিনি সকল ত্রুটি-মুক্ত করে
মনে হয় সৃজিলেন তিনি চেয়েছো তুমি যেমন করে।"

- হাসসান বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু), সাহাবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি।

29/05/2022

You're result of my Dua.🥺❤️🥀

27/05/2022

কখনও এমন হয় না যে, তোমার হৃদয়টা ভেংগে চুরমার হয়ে যায়?
.
তুমি কি চাচ্ছো, পছন্দ করছ, তোমাকে বুঝার, তোমার অনুভুতি গুলো অনুভব করার মত কেউ নেই।

তোমারও যে কিছু বলার আছে, শোনার মত কেউ নেই?

কেউ বুঝেনা, ভেতরে তোমার প্রচন্ড কান্না, তবে তা চোখের জলে রূপ নেয়না, নিলেও বা কী তোমার চোখের জলের মূল্য কারোর কাছে তো নেই।

তোমার এমন এক সমস্যা, যে সমস্যার কোথাও কোন সমাধান নেই, ভেতরে দুমড়ে মুষরে পরা হৃদয় টা তখন শুধু অপেক্ষা করে রাতের।
.
কেন রাতের অপেক্ষা বলতে পারো?
..
তুমি কি কখনও ভেবেছো, হৃদয়ে তোমার উঠতে পারে এক ঝড়?

তুমি কি কখনও চেয়েছো, সেই ঝড়ে প্রিয় মুখ সকলেই হয়ে যাক পর?

কিন্তু অজানা ঝড়ে তোমার ভেতরটা লন্ডভন্ড হয়ে যায়।
..
চেনা মানুষ গুলোর অচেনা রূপ, অতপর দীর্ঘশ্বাস !
.
তুমি কখনও একা বোধ করো? এমন মনে হয় যে,
.
পৃথিবীতে ভর করেছে দীর্ঘ অন্ধকার ছায়াহীন নিঃসঙ্গ; একার সাথে একা, একাদের ভিড়ে প্রত্যেকেই একা?

ঘরের এক কোণে বসে ভাবছ। কী ভাবছ?
.
হোমপেইজ স্ক্রল করে যাচ্ছো, কিছুই ভাল লাগছেনা তোমার। মনে কত চিন্তা ! তুমি ভাবছ, জীবনটা কেন এমন হলো?

.
দেখ তোমার এত চিন্তা ভাবনার মাঝেই রাত হয়ে গেছে।

তুমি কি হাল ছেড়ে দিয়েছ? না হাল ধরো। এখনই সুন্দর সময়। মোক্ষম সময়। তুমি কি অনুভব করছ?
.
রাত হয়ে গিয়েছে। তুমি অপেক্ষা করছিলে, এই মুহুর্তের। এখন শেষ রাত। ঐ যে তোমার রব আসমানে নেমে এসেছে।

কোন আসমান? আসমান তো সাতটা। এই যে জানালা দিয়ে দেখো, যে আসমান দেখতে পাচ্ছো তুমি সেখানে।
.
বলে ফেল ! সব বলে দাও।
.
কে তোমাকে কষ্ট দিয়েছে?
তোমার মনের যত্তসব অভিমান !
কী চাচ্ছো তুমি? কিসের অভাব তোমার?
জীবনটা কেমন হলে ভাল হতো?
কে প্রতারণা করেছে? কে বিশ্বাস ভেংগেছে?
কে কাঁদিয়েছে?
.
তুমি বলে দাও। সব বলে দাও। তাঁকে না বললে কাকে বলবে?

তুমি কি শান্তি পাচ্ছো এবার?
এখনও কী একাকীত্বে ভুগছ?
আর কোন অজানা ঝড়ের ভয় আছে?
.
তিনি এসেছেন, পৃথিবীর মানুষ তোমার যে হৃদয় চুরমার করে দিয়েছে, তা তার রহমতের বৃষ্টি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়ে উপশম করে দিতে।
.
তোমার খারাপ দিন শেষ, আগামীকাল থেকে ভাল দিনের শুরু।

14/04/2022

জমহুর আলিমগণ একমত যে, মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায় করা অপেক্ষা ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম। এ ব্যপারে বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে সহিহ সনদে । এর বিপরীতে মহিলাদের মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করার ফজিলত সম্পর্কে গ্রহণযোগ্য কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না।
হজরত ইবনু উমর রা. রাসুলুল্লাহ সা. থেকে বর্ণনা করেন,
তোমরা স্ত্রীদের মসজিদে যেতে বারণ করো না। তবে নিজের বাড়িতে সালাত আদায় করা তাদের জন্য সর্বোত্তম। (আবু দাউদ : ৫৬৭, মুসনাদে আহমাদ : ৫৪৬৮, সহিহ ইবনু খুজাইমা : ১৬৮৪)
এ হাদিসটিকে ইমাম নববি (আল-মাজমু', ৪/১৯৭), ইবনু দাকিক (আল-ইকতিরাহ : পৃ.৯১), আহমাদ শাকের (তাহকিকুল মুসনাদ, ৭/২৩৪), নাসিরুদ্দীন আলবানী (সহিহ সুনানু আবি দাউদ, পৃ.৫৬৭) প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ সহিহ বলেছেন। হাদিসটি এব্যাপরে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন যে, নারীদের জন্য মসজিদে সালাত আদায়ের চেয়ে নিজের ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রা. রাসুলু্ল্লাহ সা.-থেকে অন্য একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা মহিলাদের মসজিদে সালাত আদায়ের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা.-এর দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও স্পষ্ট করে তুলে। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন :
নারীদের ক্ষুদ্র কক্ষের নামায বড় কামরার নামাযের তুলনায় উত্তম। ঘরের নির্জন কোণের নামায ক্ষুদ্র কক্ষের নামাযের তুলনায় উত্তম। (আবু দাউদ : ৫৭০, বাজ্জার : ২০৬৩, ইবনু খুজাইমা : ১৬৯০)
ইমাম নববি এ হাদিসটিকে ইমাম মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ বলেছেন। (আল-মাজমু’ : ৪/১৯৮) ইবনু কাসির রহ. এর সনদকে উত্তম বলেছেন। (তাফসিরুল কুরআন : ৬/৪০৬) আলবানী রহ.-ও হাদিসটিকে সহিহ সাব্যস্ত করেছেন। (সহিহ সুনানু আবি দাউদ : পৃ. ৫৭০)
প্রায় কাছাকাছি শব্দযোগে আরও বেশ কয়েকটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এ সকল হাদিসে ‘আম’ বা সাধারণভাবে সকল নারীর ক্ষেত্রে এ বিষয়টি সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, তাদের জন্য ঘরের নামাজ মসজিদের চেয়ে উত্তম। এসকল হাদিসকে সামনে রেখে জমহুর আলিমগণ একমত, মহিলাদের ঘরে নামাজ পড়া মসজিদে পড়ার চেয়ে উত্তম।
এখন প্রশ্ন হলো, নারীদের মসজিদে গমণ করা কি বৈধ? বৈধ হলে রাসুলুল্লাহ সা. প্রদত্ত এ বৈধতার ধরণ কি? এটি কি শর্তযুক্ত, নাকি শর্তহীন বৈধতা?
একবার উম্মে হুমাইদ রা. রাসুলুল্লাহ সা.-এর নিকট গিয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল আমি আপনার সাথে নামায আদায় করতে আগ্রহী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, “আমি জানি তুমি আমার সাথে নামায আদায় করতে পছন্দ করো। কিন্তু তোমার জন্য গৃহের অন্দরমহলে নামায পড়া উত্তম; বড় কামরার তুলনায়। বড় কামরায় নামায পড়া উত্তম বারান্দার চেয়ে। বারান্দা উত্তম তোমার পাড়ার মসজিদের চেয়ে। নিজ পাড়ার মসজিদ উত্তম আমার মসজিদ থেকে।” এ কথা শোনার পর উম্মে হুমাইদ রা. তাঁর গৃহের নির্জন স্থানে একটি নামাযের স্থান বানানোর নির্দেশ দিলেন এবং সেখানেই মৃত্যু পর্যন্ত নামায আদায় করেন। (মুসনাদে আহমাদ : ২৭০৯০, সহীহ ইবনে খুজাইমা : ১৬৮৯)।
হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ. হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। (ফাতহুল বারী : ২/২৯০)
এ হাদিসের নিষেধাজ্ঞাকে কেউ কেউ কেবল উম্মে হুমাইদ রা.-এর সাথে ‘খাস’ করেন। এটি মোটেও শুদ্ধ নয়। কারণ আমরা সহিহ হাদিস থেকে দেখেছি যে, মহিলাদের মসজিদে গমনের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা.-এর দৃষ্টিভঙ্গিই এমন ছিল। তাহলে এ হাদিসটির হুকুম কেবল তাঁর সাথে খাস হয় কিভাবে! বিভিন্ন বর্ণনায় তাঁর স্বামীর সাথে কোলহের যে ঘটনা পাওয়া যায়, তা এ হাদিসটির প্রেক্ষাপট, তবে এর বিধানকে ‘খাস’ করার মতো কারণ নয়।
কুরআন ও সুন্নাহতে এমন অসংখ্য নজির রয়েছে যে, কোন একটা বিশেষ ব্যাক্তিকে কেন্দ্র করে একটি বিধান বর্ণনা করা হলেও বিধানটি সবার ক্ষেত্রে প্রয়োজ্য হয়। এক্ষেত্রেও এমনটিই ঘটেছে। রাসুলুল্লাহ সা.-এর এ নিষেধাজ্ঞাটি কেবল উম্মে হুমাইদ রা.-এর জন্য নয়, বরং সকলের জন্যই প্রযোজ্য। আর এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো অন্যান্য সহিহ হাদিস, যা আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। এসকল হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. আমভাবে সকল নারীর ক্ষেত্রে মসজিদে সালাত আদায় করাকে উত্তম বলেছেন।
যাহোক, এ হাদিসটি রাসুলুল্লাহ সা.-থেকে বর্ণিত প্রথম হাদিসটির শুরুর অংশের সাথে আপাত দৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক মনে হয় (হাদিসটিকে ‘খাস’ গণ্য করা হলেও)। সেখানে তিনি বলেছেন যে, মসজিদে গমন করতে চাইলে নারীদেরকে যেন নিষেধ করা না হয়। অথচ এখানে তিনি নিজেই নিষেধ করছেন। এ বিরোধের সমাধান কি? হজরত আয়েশা রা.-থেকে বর্ণিত একটি আসারে এর সমাধান মেলে। তিনি বলেন :
নারীরা যে অবস্থার সৃষ্টি করেছে তা যদি রাসুলুল্লাহ সা. দেখতেন, তবে বনি ইসরাঈলের নারীদের যেমন নিষেধ করা হয়েছিল, তেমনি এদেরও মসজিদে আসতে নিষেধ করে দিতেন।” (সহিহ বুখারি : ৮৬৯)
এ হাদিসটি এ মাসআলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় মূলনীতিকে উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে সাহাবি, তাবেয়ি ও ফকিহগণ এ মূলনীতিকেই আকড়ে ধরেছেন। মূলনীতিটি হলো, ‘নারীদের মসজিদের গমনের বৈধতা শর্তসাপেক্ষ। স্থান-কাল-পাত্রভেদে এটি পরিবর্তনশীল।’ তাছাড়া নারীদেরকে মসজিদে যেতে বাধা না দেওয়ার হুকুমটিও ছিল ‘পরামর্শ মূলক’, ‘আদেশসূচ’ নয়। এর প্রমাণ হলো পরবর্তী সাহাবি ও তাবেয়িগণের আমল।
সহিহ মুসলিমে বেশ কয়েকটি সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার ও তাঁর পুত্র বিলাল রহ.-এর একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ইবনু উমর রা. তাঁর পুত্রকে হাদিস শোনালেন যে, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর বান্দিদের মসজিদে যেতে বারণ করো না।’ এ হাদিস শুনে বিলাল রহ. বলেন,
আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই বাঁধা দিবো!
পুত্রের এমন অকপট বক্তব্য শুনে ইবনু উমরা রা. খুব রেগে গিয়েছিলেন এবং তাকে খুব বকাঝকা করেছিলেন। (সহিহ মুসলিম : ৮৭৫)
এ হাদিসে হজরত ইবনু উমর রা.-এর আচরণ থেকে খুব সরল মাসআলা নির্গত করেন কেউ কেউ। অথচ একটি সূক্ষ্ম বিষয় এড়িয়ে যান। ইবনু উমর রা. এর পুত্র বিলাল রহ. ছিলেন একজন তাবিয়ি। উপরন্তু তিনি হজরত উমরের নাতি এবং ইবনু উমরের মত একজন সাহাবির সন্তান। তাঁর পক্ষে এটা কিভাবে সম্ভব হলো যে, তিন রাসুলুল্লাহ সা.-এর নির্দেশ শোনার পরে আল্লাহর নামে শপথ করে তার বিপরীত মত প্রকাশ করলেন! আমাদের মত নগণ্য ইমানদারদের জন্যও তো এটি কল্পনা করা যায় না! তাহলে হজরত উমরের পরিবারে এতটুকু আদব-কায়েদার শিক্ষা ছিল না কি?
বাস্তবতা হলো, আমরা মূল পয়েন্টটা ধরতে পারিনি। বিলাল রহ.-ও রাসুলুল্লাহ সা.-এর এ হাদিসটি থেকে বুঝেছিলেন যে, এটি শর্তযুক্ত বিধান। তাছাড়া মসজিদে যেতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশটিও ছিল পরামর্শমূলক, আদেশসূচক নয়। পরবর্তী ফকিহগণও এমনটিই বুঝেছেন। এর প্রমাণ দেখি চলুন।
জমহুর আলিমগণ বলেন, স্ত্রী মসজিদে গমনের অনুমতি চাইলে স্বামী যদি কোন কারণ না থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীকে অনুমতি না দেয়, তাহলে তা হারাম হবে না। অর্থাৎ, স্বামীর জন্য স্ত্রীকে বাঁধা দেওয়া কিংবা নিষেধ করা বৈধ, যদিও কোন কারণ না থাকে। কেউ কেউ অবশ্য কারণ থাকার শর্ত দিয়েছেন। তবে মূল পয়েন্টে সকলেই একমত যে, স্ত্রীকে নিষেধ করার অধিকার রাখেন স্বামী। এটিই মালেকি, শাফেয়ি ও হাম্বলিদের মাজহাব। বিস্তারিত দেখুন— মাওয়াহিবুল জালিল (২/২৫১), আল-মাজমু’ (৪/১৯১), কাশশাফুল কিনায়ি (১/৪৬৯)
ইমাম নববি রহ. বলেন,
স্বামীর জন্য মুস্তাহাব হলো, স্ত্রী মসজিদে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেওয়া, যদি সে বৃদ্ধ হয়ে যায়। কারণ তার প্রতি আর কোন আকর্ষণ বাকি থাকে না। সে যেমন ফিতনা থেকে নিরাপদ, তেমনি তার থেকেও অন্যরা নিরাপদ। আর যদি স্বামীরা তাদেরকে বাধা দেয়, তবুও তা তার জন্য হারম নয়। এটিই আমাদের অভিমত। বায়হাকি রহ. বলেন, সাধারণ আলিমগণ এমনটিই বলেন। (আল-মাজমু’ : ৪/১৯৯)
এই মতের পেছনে ফকিহগণ যুক্তি দেখিয়েছেন, যদি স্বামীর জন্য অনুমতি প্রদান করা ওয়াজিবই হত, তাহলে স্ত্রীর জন্য তার অনুমতি ব্যাতীতই মসজিদে যাওয়া বৈধ হতো। কারণ তখন তা স্ত্রীর হক সাব্যস্ত হত। অথচ ফকিহগণ এ ব্যাপারে একমত যে, স্বামীর অনুমতি ব্যাতীত স্ত্রীর মসজিদে গমন করা বৈধ নয়।
এবার ফিরে যাই বিলাল রহ.-এর কাছে। তিনি তাঁর স্ত্রীকে মসজিদে যাবার অনুমতি দিবেন না বলে যে তিনি শপথ করেছিলেন, তা কি অপরাধ ছিল? মোটেও না। তিনিও বুঝেছিলেন যে, রাসুলুল্লাহ সা.-এর এ নির্দেশটি মুতলাক নয়, মুকাইয়াদ। আম নয়, খাস। যেমন ইমাম মালেক রহ. বলেন, এ বিধান ছিল কেবল বৃদ্ধ মহিলার জন্য।
এখানে প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে ইবনু উমর রা. রেগে গেলেন কেন পুত্রের উপরে? হয়ত তিনি রাসুলুল্লাহ সা.-এর কথার বিপরীতে কথা বলাটাকে বেয়াদবি মনে করেছেন। এ ধরণের বিভিন্ন নজির হাদিসের গ্রন্থে পাওয়া যায়। যেমন : হজরত আবু হুরায়রা ও ইবনু আব্বাস রা.-এর ঘটনা।
আবু হুরায়রা রা. একবার হাদিস বর্ণনা করছিলেন যে, আগুন স্পর্শ করেছে এমন কিছু ভক্ষণ করলে অজু করতে হবে। ইবনু আব্বাস রা. অকপটে জবাব দিলেন, গরম পানি খেলে কিংবা তেল মালিশ করলেও অজু করতে হবে তাহলে? আবু হুরায়রা রা. রেগে গিয়ে বললেন, ‘ভাতিজা, আমি যখন তোমার নিকটে রাসুলুল্লাহ সা.-থেকে কোন হাদিস বর্ণনা করি, তখন এর বিপরীত কোন উদাহরণ পেশ করবে না।’ (ইবনু মাজাহ : ২২)
খেয়াল করুন, এখানে ইবনু আব্বাস রা.-এর প্রশ্নে কোন ত্রুটি ছিল না। এটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক প্রশ্ন। পরবর্তীতে ফকিহগণও এ প্রশ্ন উত্থাপন করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, আগুনে স্পর্শকৃত বস্তু ভক্ষণের কারণে অজু আবশ্যক হয় না। তাহলে আবু হুরায়রা রা. রেগে গেলেন কেন? বস্তুত এটি ছিল রাসুলুল্লাহ সা.-এর প্রতি তাঁদের একান্ত ভালোবাসার প্রভাব। তাঁরা রাসুলুল্লাহ সা.-এর বিপরীতে কোন কথাকে বরদাস্ত করতে পারতেন না।
এমন অনেক ঘটনা হাদিসের ভাণ্ডার খুঁজলে পাওয়া যাবে। হজরত ইবনু উমর রা.-এর ক্ষেত্রে হয়েছে। হাদিসের বিপরীতে সন্তানের আশু জবাবকে তিনি সৈহ্য করতে পারেননি। আর তিনি নিজেও মহিলাদের মসজিদে গমণ করা পছন্দ করতেন না। এ ব্যাপারে আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. তাঁর সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থে বর্ণনা করেন যে, জুমআর দিনে দিনে মহিলারা মসজিদে এলে তিনি নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করে তাদেরকে বের করেতেন। (উমদাতুল কারী : ৬/১৫৭)
ইবনু আবি শাইবা রহ. তাঁর মুসান্নাফে ইবনু মাসউদ রা. সম্পর্কেও এমন ঘটনা বর্ণনা করেছেন। তিনিও মহিলাদের নুড়ি পাথর মেরে মসজিদ থেকে জুমআর দিনে মহিলাদের বের করে দিতেন। (মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা : ৭৬১৭)
এসকল ঘটনায় মূলত পাথর মারা বলতে আঘাত করা উদ্দেশ্য নয় বরং ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া উদ্দেশ্য। এভাবে অন্যান্য সাহাবি থেকেও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। তাবিয়িগণের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়।
ইবরাহিম নখয়ী রহ.-এর তিনজন স্ত্রী ছিল, তিনি কাউকেই জামাআত কিংবা জুমআর জন্য বের হতে দিতেন না। (মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা : ২/২৭৭)
হজরত হাসান বসরি রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন মহিলা যদি এই শপথ করে যে তার স্বামী কারামুক্ত হলে সে বসরার সকল জামে মসজিদে দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করবে, তাহলে এর বিধান কি? তিনি বললেন,
সে কেবল তার নিজের কওমের মসজিদেই নামাজ আদায় করে নিবে। কেননা তার জন্য এ শপথ প্রযোজ্য হবে না। হজরত উমর রা. যদি তাকে পেত, তাহলে তার মাথায় আঘাত করত। (মুসান্নাফে ইবনু আবি শাইবা : ২/২৭৭, উমদাতুল কারী : ৬/১৫৭)
মোটকথা, অনেক সাহাবি ও তাবিয়িগণের আমল থেকে স্পষ্ট হয় যে, মহিলাদের মসজিদে গমনে বাধা না দেওয়ার নির্দেশকে তাঁরা ‘আবশ্যক’ অর্থে গ্রহণ করেননি, বরং সাধারণ পরামর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তা নাহলে কখনোই কোন সাহাবি কিংবা তাবিয়ির পক্ষে মসজিদে গমণ করতে নিষেধ করা কিংবা মসজিদ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হত না। আমরা পেছনের আলোচনায় দেখেছি, জমহুর আলিমগণও এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘আবশ্যক’ অর্থে গ্রহণ করেননি।

হজরত আয়েশা রা.-এর হাদিসটিও স্পষ্ট নির্দেশ করে যে, মহিলাদের মসজিদে প্রবেশের অনুমতি ছিল শর্তযুক্ত, যা স্থান-কাল-পাত্র ও অবস্থাভেদে পরিবর্তীত হতে পারে। তাছাড়া মসজিদে গমনের অনুমতি এবং বাধাদানে নিষেধ সম্বলিত হাদিসগুলোর উদ্দেশ্য কি, তা নিয়েও আলিমগণ মতভেদ করেছেন। যেমন : ইমাম মালেক রহ.সহ একদল ফকিহ বলেন যে, এসকল হাদিসের উদ্দেশ্য কেবল বয়স্ক-বৃদ্ধ নারী, যারা ফিতনার আশঙ্কামুক্ত। (উমদাতুল কারী : ৬/১৫৭)
এ মুহুর্তে আমাদেরকে আরেকটি গ্ররুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ সা.-এর মুখে সুস্পষ্টভাবে ঘরের নামাজ উত্তম শোনার পরেও কিছু কিছু মহিলা সাহাবি মসজিদে যেতেন কেন? এই প্রশ্নটি আরও গভীর শোনাবে যদি ইবনু উমর রা.-এর হাদিসটিকে সামনে রাখি—‘তোমরা স্ত্রীদের মসজিদে যেতে বারণ করো না। তবে নিজের বাড়িতে সালাত আদায় করা তাদের জন্য সর্বোত্তম।’ এ হাদিসের প্রথম অংশকে আপাতদৃষ্টিতে দ্বিতীয় অংশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না। অনুত্তম হওয়া সত্ত্বেও কেন পুরুষরা নারীদের বাধা দিবে না?

আমরা জানি, শরিয়ার কোন বিধানই অন্যটির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়। পুরুষ নারীর অভিভাবক এবং তার কল্যাণ কামনার দ্বায়িত্ব তার উপরে ন্যাস্ত। তাহলে কেন সে অধিনস্তকে একটি অনুত্তম কাজ থেকে বিরত রাখবে না? আর রাসুলুল্লাহ সা. কিভাবে এমন একটি পরামর্শ দিতে পারেন? তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সা. সর্বদা উত্তম আদর্শকে ধারণ করেছেন। তাহলে কেন তিনি অনুত্তম হওয়া সত্ত্বেও মহলিাদেরকে মসজিদে যেতে বারণ করেননি?

রাসুল্লাহ সা.-এর সাহাবিগণ সর্বদা ফাজায়েলের সন্ধান করতেন। রাসুলুল্লাহ সা.-এর মুখ থেকে বেড়িয়ে পড়া মাত্র তাঁরা আমল করতে ঝাপিয়ে পড়তেন। তাহলে বাড়িতে নামাজ উত্তম জানা সত্ত্বেও কেন তারা মসজিদে গমণ করতেন? এসকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া অত্যন্ত জরুরী। তা নাহলে এ বৈধতার প্রকৃতি ও কারণ সম্পর্কে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হবে।
ইবনু উমরের হাদিসে ফিরে যাই—সেখানে দুটি অংশ পাবো আমরা। একটি হলো, ‘মসজিদে গমন করতে নিষেধ করো না’, আরকেটি অংশ ‘বাড়িতে সালাত তাদের জন্য উত্তম’। এই দুটি অংশে মনোযোগ দিতে হবে। বাড়িতে সালাত উত্তম হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা মসজিদে যেতেন—এ থেকে বুঝা যায়, তাঁদের মসজিদের গমনের পেছনে নামাজ ছাড়াও অন্যকোন উদ্দেশ্য ছিল। তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সা. বাড়িতে সালাত উত্তম হওয়া সত্ত্বেও যে তাঁদেরকে বাধা দিতে নিষেধ করেছেন, এর কারণও এটিই। শুধু নামাজ পড়া ছাড়াও এতে অন্য উপকার ছিল। উপকারটা কি? রাসুলুল্লাহ সা.-এর সোহবত।
রাসুলুল্লাহ সা. ছিলেন সাহাবিগণের সর্বোচ্চ মোটিভেশন। তাঁর মুবারক চেহারা দর্শন করাই ছিল তাঁদের ঈমানকে শাণিত করার জন্য যথেষ্ট। হাদিসেরে ভাণ্ডারে এর অসংখ্য নজির রয়েছে।রাসুলুল্লাহ সা.-এর কাতিব হানজালা আল-উসাইদী রা.-থেকে এমন একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন :
একবার আবু বকর সিদ্দীক রা. আমার সঙ্গে দেখা করলেন এবং আমাকে প্রশ্ন করলেন, হানজালাহ, তুমি কেমন আছ? জবাবে আমি বললাম, হানজালাহ্ তো মুনাফিক হয়ে গেছে। সে সময় তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ তুমি কি বল্‌ছ? আমি বললাম, আমরা রসূলুল্লাহ সা.- এর কাছে থাকি, তিনি আমাদের জান্নাত জাহান্নামের কথা শুনিয়ে দেন, যেন আমরা উভয়টি চাক্ষুষ দেখছি। সুতরাং আমরা যখন তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে স্ত্রী-পুত্র এবং ধন-সম্পদের মধ্যে নিমগ্ন হয়ে যাই, তখন আমরা এর অনেক বিষয় ভুলে যাই। এ কথা শুনে আবু বকর রা. বললেন, আল্লাহর কসম আমারও একই অবস্থা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ২৭৫০)
বিভিন্ন হাদিসে দেখা যায়, মহিলারা আক্ষেপ করতেন যে, পুরুষরা ইবাদতের ক্ষেত্রে এগিয়ে রাসুলুল্লাহ সা.-এর অধিক সাহচার্যের কারণে। এজন্য রাসুলুল্লাহ সা. মহিলাদেরকে মসজিদে গমণে বাধা দিতে নিষেধ করেছেন। তিনি চাইতেন যে, তাঁর সাহচার্যের মাধ্যমে মহিলাদেরও উপকার হোক, তাদেরও ঈমানের শক্তি বৃদ্ধি পাক। তাছাড়া আরেকটি উপকার ছিল, মহিলারা মসজিদে গেলে কুরআন শোনার সুযোগ পেত। সাধারণত তাদের মধ্যে খুব কম সংখ্যকই কুরআনকে পুরোপুরি হিফজ করেছিলেন। তাই কুরআন শ্রবণের সুযোগ ছিল না খুব বেশি। মসজিদে সালাত আদায়ের মাধ্যমে এ সুযোগ হত তাদের।
এ ব্যাপারে শক্ত সমর্থন পাওয়া যায় উম্মে আতিয়্যা রা.-এর হাদিস থেকে। তিনি বলেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন কুমারী, তরুণী, প্রাপ্তবয়স্কা, পর্দানশিন এবং ঋতুবতী সব মহিলাদের বের হওয়ার হুকুম করতেন। ঋতুবতী মহিলারা নামাযের জামা'আত হতে এক পাশে সরে থাকতো কিন্তু তারা মুসলিমদের দু'আয় শারীক হত। এক মহিলা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি কোন নারীর নিকট চাদর না থাকে? তিনি বললেন, তার (মুসলিম) বোন তার অতিরিক্ত চাদর তাকে ধার দিবে। (সুনানুত তিরমিজি : ৫৩৯)
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায়, মহিলাদের জন্য মসজিদে বা ঈদগাহে যাওয়ার যে অনুমতি ছিল তার মৌলিক উদ্দেশ্য সালাত আদায় করা ছিল না। যদি তাই হত, তাহলে ঋতুবতী নারীদেরকে ঈদগাহে যাওয়ার আদেশ করেছেন কেন? মূল উদ্দেশ্য ছিল রাসুলুল্লাহ সা.-এর সাহচর্য লাভ করা, তাঁর মুবারক মুখ থেকে নসিহা শ্রবণ করা এবং তাঁর দুআয় শরীক হওয়া।
রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওফাতের পরে মসজিদে গমনের মাধ্যমে এই বাড়তি উপকার লাভ করার আর সুযোগ ছিল না। তাই মহিলাদের মসজিদে গমন করাটা ‘নিছক অনুত্তম’ কাজে পরিণত হয়। এর পরে সময় বাড়তে থাকলে অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ফিতনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এজন্য এ বিষয়টি সম্পর্কেও সাহাবা-তাবেয়িগণ নতুন করে ভাবতে থাকেন। এজন্য মাসআলায় বিবর্তন আসতে থাকে।
এই মাসআলার ক্ষেত্রে চারটি ধাপ চিহ্নিত করা যায়—
রাসুলুল্লাহ সা.-এর মুবারক যুগ
রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওফাতের নিকটতমযুগ
সাহাবাগণের শেষ যুগ ও তাবেয়িগণের যুগ
মুতাআখখিরীন ফকিহদের যুগ
আমরা দেখেছি, রাসুলুল্লাহ সা. তাঁর যুগে নারীদেরকে শর্তযুক্ত অনুমতি দিয়েছিলেন মসজিদে যাওয়ার জন্য। পাশাপাশি এও জানিয়ে দিয়েছেন যে, তোমাদের জন্য বাড়িতে নামাজ উত্তম। অর্থাৎ, শুধু নামাজের বিচারে ঘরই উত্তম, মসজিদে আসার দরকার নেই। রাসুলুল্লাহ সা.-এর সাহচার্য ও পূর্বে বর্ণিত কারণগুলোর জন্য অনেক মহিলা সাহাবা মসজিদে আসতেন। স্বামীরাও তাদেরকে সাধারণত বাধা দিতেন না।
রাসুলুল্লাহ সা.-এর ওফাতের পরে দৃশ্যপটে কিছুটা পরিবর্তন আসে। শুরু হয় দ্বিতীয় যুগের। তখন হজরত উমর রা.-এর মত বিজ্ঞ সাহাবিও স্ত্রীদের জন্য মসজিদে গমন করা পছন্দ করতেন না। তাঁরা স্ত্রীদের মৌখিকভাবে নিষেধ করতেন তবে ফিতনার প্রকোপ ব্যাপক না হওয়ায় কারণে বাধা দিতেন না, কিংবা এ নিষেধাজ্ঞা জোড়ালো ছিল না। তবে তাঁদের অপছন্দের ব্যাপারটি ছিল সাধারণের মধ্যেও প্রসিদ্ধ।
সহিহ বুখারিতে ইবনু উমর রা.-থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, উমর রা.-এর স্ত্রী ফজর ও ইশার নামাজের জামাতে মসজিদে উপস্থিত হতেন। তাঁকে বলা হল, আপনি জানেন যে, উমর রা. আপনার মসজিদে আসাকে অপছন্দ করেন এবং মর্যাদা হানিকর মনে করেন, তাহলে কেন আপনি মসজিদে আসেন? তিনি বললেন, তাহলে উমর স্বয়ং কেন আমাকে বাধা দিচ্ছে না? তাঁকে বলা হল, তাঁকে বাধা দেয় রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণী—‘তোমরা আল্লাহর বান্দিদের মসজিদে যেতে বারণ করো না?’ (সহিহ বুখারি : ৯০০)
আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানি লিখেছেন,
উমর রা. তাঁর স্ত্রীকে বলতেন, ‘আল্লাহর শপথ, তুমি জানো যে আমি তোমার এ ব্যাপারটি পছন্দ করি না। স্ত্রী বলতেন, আল্লাহর শপথ, আপনি আমাকে নিষেধ না করলে মসজিদে যাওয়া বন্ধ করবো না।’ (ফাতহুর বারি : ২/৪৪৫-৪৪৬)
হজরত উমর রা. অপছন্দ করা সত্ত্বেও তাঁকে বাধা না দেওয়ার কারণ হলো, আতিয়্যা রা. বিয়ের সময়েই শর্ত করেছিলেন যে, তাঁকে মসজিদে যেতে বাধা প্রদান করা হবে না। এ প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে তিনি বাধ্য ছিলেন, তাই তাঁকে নিষেধ করতে পারছিলেন না। (মুফতি তাকি উসমানি, ইনআমুল বারী : ৪/৮১) তাছাড়া উমর রা.-এর অন্য কোন স্ত্রীর ব্যাপারে মসজিদে গমনের বর্ণনা পাওয়া যায় না।
হজরত উমর রা.-এর এই অপছন্দকে নিছক ‘ব্যাক্তিগত গায়রত’ হিসেবে ব্যাখ্যা করাটা মোটেও যৌক্তিক নয়। কারণ ইসলামের পছন্দ-অপছন্দকেই তাঁরা ব্যাক্তিগত রুচিতে পরিণত করে নিয়েছিলেন। মসজিদে স্ত্রীদের গমনের মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র কল্যাণ অবশিষ্ট থাকত, তাহলে তা অপছন্দ করতে কিংবা ‘আমি পছন্দ করি না’— মুখ ফুটে একথা উচ্চারণ করতে পারতেন না হজরত উমরের মতো এত কট্টর মানুষ। তাঁর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সা.-এর বাণীটিও স্মরণ রাখুন—
‘আল্লাহর বিধানের ব্যাপারে আমার উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে কট্টর হলো উমর।’ (তিরমিজি : ৩৭৯০, ইবনু মাজাহ : ১৫৪)
হজরত উমরের মৃত্যুর পরে, বিশেষ করে উসমান রা.-এর খিলফতের শেষ দিকে এসে ফিতনা ব্যাপকরূপ লাভ করে। মানুষের মধ্যে তাকওয়ার পরিমাণ হ্রাস পায় আগের যুগের তুলনায়। তখন আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদসহ অন্যান্য অনেক সাহাবি মহিলাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করেন। কেউ মসজিদে আসলে তাদেরকে বুঝিয়ে পাঠিয়ে দিতেন। কখনও কখনও নুড়িপাথর নিক্ষেপ করে তাড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসকল হাদিসগুলো ইবনু আবি শায়বা রহ. তাাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে পৃথক একটি অনুচ্ছেদে সংকলন করেছেন।
এসময়ে মহিলাদের জন্য মসজিদে গমন করাকে অনেক সাহাবি ও তাবেয়ি মাকরুহ হিসেবে গণ্য করতেন। তবে এ মাকরুহ ছিল ‘তানজিহি’ অর্থে, ‘তাহরিমি’ অর্থে নয়। এটি ছিল এ মাসআলার ক্ষেত্রে তৃতীয় যুগ। তখন ইমামগণ বয়স্ক-বৃদ্ধ মহিলাদেরকে ফজর, মাগরিব ও ইশার নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দিতেন। কারণ এসময়টা নিরাপদ ছিল। এটা ছিল ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মাজহাব। সাহেবাইন রহ. অবশ্য বৃদ্ধাদের জন্য সব ওয়াক্তেরই অনুমতি দিয়েছিলেন। কারণ বৃদ্ধাদের প্রতি সাধারণত আকর্ষণ থাকে না মানুষের। আর মহিলাদের এ অনুমতির মূল উদ্দেশ্য ছিল সংখ্যাধিক্য দেখানো। (উমদাতুল কারী : ৬/১৫৬) ইমামগণের এই ফতোয়ার দীর্ঘদিন বলবত ছিল।
এর পরে আসে এ মাসআলার চতুর্থ যুগ। নারী-পুরুষ উভয়ের চরিত্রের ব্যাপক পদস্খলন, অনিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়া এবং নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও এর ক্ষতিকর দিকগুলো যখন সামনে আসে, তখন এ মাসআলা আরও জটিলরূপ ধারণ করে। পরবর্তী ফকিহগণ-বিশেষত আহনাফ-নারীদের বিনা প্রয়োজনের জামাতে শরীক হওয়ার উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন করাকে মাকরুহ তাহরিমি বলে ফতোয়া প্রদান করেন।
আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহ. বলেন,
‘আমাদের সঙ্গিরা বলেছেন, তাদের বের হওয়ার দ্বারা ফিতনার ভয় রয়েছে। অতএব, এটি হারাম হওয়ার কারণ হবে। কেননা যা হারামের দিকে নিয়ে যায়, তা নিজেও হারাম। এজন্য এখানে ‘মাকরুহ’ অর্থ হবে তাহরিমি, বিশেষ করে আমাদের এই যুগের জন্য, যখন মানুষের চারিত্রিক পদস্খলন চূড়ান্ত সীমায় পৌছে গেছে। (উমদাতুল কারী : ৬/১৫৬)
এটিই বর্মান সময়ের জন্য গৃহীত আহনাফের সর্সম্মত মত। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩০৭)
মনে রাখতে হবে, এই মাসআলার ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, স্থান-কাল-পাত্রভেদে এর পরিবর্তনশীলতা। যারাই এ মাসআলা সম্পর্কে কলম ধরেছেন, তারাই এ বিষয়টিকে সামনে রেখেছেন। পাশাপাশি প্রায় সকলেই ‘ফিতনার আশংঙ্কা’কে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিয়েছেন।
ফিতনার আশঙ্কাকে মাথায় রেখেই কেউ শুধু বৃদ্ধাদের অনুমতি দিয়েছেন, কেউে কেউ আবার কাউকেই অনুমতি দেননি। কেউ সাধারণভাবে মাকরুহ বলেছেন, কেউ হারাম অর্থে মাকরুহ বলেছেন। তবে সকল মাজহাবের পূর্ববর্তীদের চেয়ে পরবর্তী ফকিহগণ অপেক্ষাকৃত বেশি কঠোরতা দেখিয়েছেন। কারণ আমরা আগেই বলেছি, এ মাসআলার মূল ফোকাসটি যুগের পরিবর্তন ও ফিতনার আশঙ্কার দিকে।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে এখন আমাদের দেশ কিংবা উপমহাদেশের অবস্থা বিবেচনা করুন। এখানে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ধর্ষণ। রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, মাদরাসা—কোথাও বাকি নেই। ছোট ছোট শিশু পর্যন্ত মক্তবে পড়তে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মাদরাসাগুলো পর্যন্ত লাওয়াতাতের অভিযুগে অযিুক্ত হচ্ছে। পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ছে বন্ধু বান্ধবীকে, শিক্ষক ছাত্রীকে, পথচারী পথচারীকে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বিচার প্রত্যাশীকে, এমনকি পিতা কন্যাকে ধর্ষণ করছে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন।
শহরের স্কুলগুলোর সামনে দীর্ঘ অভিভাবকের লাইন। তাদের এতটুকু ভরসা নেই যে মেয়েকে একা স্কুলে পাঠাবে! এর বাইরেও আছে নারী-পুরুষ উভয়ের মিউচুয়াল হারাম সম্পর্ক। অবস্থা এতদূর গড়িয়েছে যে জামাই শাশুড়ি নিয়ে ভেগে যাচ্ছে। শ্বশুর পুত্রবধুর সাথে সম্পর্ক করে সন্তানের হাতে খুন হচ্ছে। ওয়াল্লাহি, চৌদ্দশো বছরে মুসলিম উম্মাহ কখনোই এমন সংকটে পতিত হয়নি। এই অবস্থায় মহিলাদের নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার অনুমতির প্রশ্ন উত্থাপন করাটা নিতান্তই অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত, অন্তত ভারতীয় উপমহাদেশের জন্য।
শরিয়ার একটা মূলনীতি হলো, সাদ্দুজ জারায়ি। অর্থাৎ, ক্ষতির পথকে রুদ্ধ করতে হবে। এই মুলনতি আমরা পেছনে উল্লেখ করেছি, যা হারামের দিকে নিয়ে যায়, তা নিজেও হারাম। বস্তুটি সত্তাগত হারাম নাও হতে পারে। যেমন : হারবী কাফেরদের নিকটে লোহা বিক্রয় করাকে হারাম বলেছেন আলিমগণ। এই ক্রয়-বিক্রয় হারাম হয়েছে ফলাফলের বিবেচনায়, অথচ এটি সত্তাগত হারাম নয়। একই মূলনীতিকে সামনে রেখে আলিমগণ সহশিক্ষাকে হারাম বলেন। একই মূলনীতিতে বর্তমান সময়ের জন্য মহিলাদের জন্য মসজিদে গমনের বিষয়টি নিষিদ্ধ সাব্যস্ত হবে। কারণ এখন মসজিদে মহিলাদের নিয়ে আসার অর্থ হলো, রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজের ধর্ষণকে টেনে মসজিদে নিয়ে আসা। অথচ মহিলাদের মসজিদে আসার কোন ফজিলত নেই, তাদের ঘরের নামজ যে উত্তম, এ ব্যাপারে সকল মাজহাবের জমহুর আলিমগণ একমত।
কুরআনুল কারিমের সাথে আহনাফের এই মতটিই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
‘তোমরা নিজের ঘরেই অবস্থান করবে।’ (সুরা আহজাব : ৩৩)
এ আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায়, নারীর আসল অস্থান ক্ষেত্র হলো তার গৃহ। শুধুমাত্র শরয়ি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সে ঘর থেকে বের হকে পারে। (ইবনু কাসির, তাফসিরে মুয়াসসার)
এখান্যে লক্ষ্যনীয় যে, নারীর মসজিদে সালাত আদায় করার ব্যাপারে কোন ফজিলত বর্ণিত হয়নি। বরং হদিসের ভাষ্যমতে এটি অনুত্তম কাজ। কাজেই নারী যদি শুধু নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, তাহলে এটি হবে অনর্থক কাজের জন্য বের হওয়া, যা শরয়ি প্রয়োজন নয় মোটেও। কাজেই তার বাইরে যাওয়া বৈধ হবে না।
হাদিসে নববির ভাষ্যে এটি আরও পরিষ্কার হয়। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন,
যখন সে বের হয়, শয়তান তার প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখে এবং তখনই সে আল্লাহর রহমতের নিকটবর্তী হয়, যখন সে নিজের গৃহে অবস্থান করে। (সহিহ ইবনু খুজাইমা : ১৬৮৫, সহিহ ইবনু হিব্বান : ৫৫৯৯)
কুরআন-সুন্নাহর বর্ণনা, সাহাবি-তাবেয়ি ও আয়িম্মায়ে মুজতাহিদিন এর চিন্তা, শরিয়ার মূলনীতি এবং আমাদের সমাজের বাস্তবচিত্রকে সামনে রেখে দেখুন এই মাসআলায় আহনাফের মাজহাবটি কত শক্তিশালী এবং বিপরীত মতগুলো কতটা দূর্বল।
পুনশ্চ : শরাঞ্চলের মসজিদগুলো নারীদের জন্য নামাজের ব্যাবস্থা রাখার মাসআলাটি ভিন্ন। এ ব্যাপারে আলিমগণ সুপারিশ করেন। কেননা, এটি জরুরতের অন্তর্ভূক্ত। এ ব্যবস্থা না থাকলে অনেক নারীদের নামাজ কাজা হবে।

Videos (show all)

প্রিয় রাসূল (ﷺ) এর প্রতি যে ভালোবাসার টানে জানবাজী রাখতে আমরা পরোয়া করিনা, সেই একই ভালোবাসার টানে আমরা কি ব্যক্তি ও সমাজ...
আমাকে গালি দিবেন,মেনে নিবো ||আমার বাবাকে গালি দিবেন, তাও মেনে নিবো ||কিন্তু বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়...
A paradise in green, Switzerland 😍🍃💚.🎥Hafeez Azizul Hakim Rumon
🧡রাসূল (সাঃ) বলেছেন🧡তোমরা জুম্মার দিন আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ কর,কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরূদ আমার সামনে পেশ করা হয়।🔸আব...
নারীদের যেমন পর্দা করা ফরজ তেমনি পুরুষদের জন্যও চোখের পর্দা রয়েছে ☺️যারা রাস্তায় পর নারী দেখল,চোখ সরাতে পারেন না তারা ভা...
দুঃখিত! ওস্তাদ জ্বী, আমি #হিজাব_খুলতে_পারছিনা।... আচ্ছা আমি কি ছোট মাইক্রোফোনটি হিজাবের ভেতর ঢুকিয়ে তিলাওয়াত করতে পারি...
❣️❣️
ﺍَﻟﺴَّﻼَﻡْ ﻋَﻠَﻴْــــــــــــــــــــﻜُﻢْ ﻭَ ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَ ﺑَﺮَﻛَﺎﺗُﻪ.🖤ইনশাআল্লাহ 💙🌸 ওয়ামা তৌফিকি ইল্লা বিল্লাহ ❤...
চেহারা মেয়েদের সতরের অন্তর্ভুক্ত কিনা?
ماشاءالله بنکەیەکی لەبەرکردنی قورئانی پیرۆز...❗💙
হযরত আদম আঃ- এর সৃষ্টির ঘটনা,,,,,, আল কোরআনের আলোকে উপস্থাপন 📖📖📖স্মরণ কর, তোমাদের প্রতিপালক যখন ফেরেশতাদেরকে বললেন, 'আমি...

Location

Category

Products

✪InShaAllaH✪

Telephone

Address


Mosjidul Haraam
Mecca
21333

Other Education in Mecca (show all)
Ayats of Quran Ayats of Quran
Mecca

The Quran is the last holy book that Allah sent down to people. The Quran was sent down to the Proph

Mulana Bejlegar مولانا محمد امیر بجلی گهر Mulana Bejlegar مولانا محمد امیر بجلی گهر
Mecca, 24231

مولانا محمد امیر بجلی گهر مکمل پشتو بیانات دلته خپریږي

Keys To Fiqh Keys To Fiqh
Mecca

This page is specific to only Fiqh/Usul Fiqh related benefits. All posts are written/translated by A

I Love Mekkah Madina I Love Mekkah Madina
Azizia
Mecca

I love Mekkah

Yasir Academy Yasir Academy
Masjid-al-Haram
Mecca

The word 'yasir' refers to one who makes things easier. Yasir Academy is an initiative to disseminat

Good job Good job
Mecca

Welcome everyone to our page, it has launched to promote education, provide contents on sports, ente

Miss Aya Essam Miss Aya Essam
Mecca

شرح لغه انجليزيه لجميع الصفوف الدراسيه

CİHAN ÖZDİN CİHAN ÖZDİN
Mecca, 61307APOAE09803-1307

Makkah Quran Academy Makkah Quran Academy
Mecca

Great place to learn Quran online, we offer best experienced Quran classes. Our course includes the

English with Samad English with Samad
Mecca

�English Training� �Communication Skills�

Madrasa Darul Hidaya Shaifullah Madrasa Darul Hidaya Shaifullah
Mecca

Madrasa Islamiya