Dakshineswar Shayak Library

Dakshineswar Shayak Library was founded in 8th September,1996 and till today, it is helping undergraduate students by providing renowned textbooks of many subjects.

Our library has a precious collection of thousands of valuable & rare books with a view to provide the members unbeatable level of knowledge & proper guidance in numerous fields & subjects such as -1)English,2)Bengali,3)Geography,4)History,5)Commerce.6)Chemistry,7)Physics,8)Mathematics,9)Zoology,10)Physiology,11)psychology,12)Political Science,13)Education,14)Economics,15)Botany and 16) MBA

Operating as usual

08/09/2021

দেখতে দেখতে আজ 25 বছরের যুবক দক্ষিণেশ্বর শায়ক লাইব্রেরি , কেমন ছিল তার শুরুর দিন গুলো, ছত্রে ছত্রে রয়েছে কোন লড়াই, রোমন্থনে লাইব্রেরির বিশিষ্ট সদস্য সৌরভ দেববর্মন
********************

আমার তখন প্রায় সেই বয়েস যে বয়সে আজ শায়ক-এর লাইব্রেরী উপস্থিত। আমার বন্ধুদলও কাছাকাছি প্রায় সমবয়সী। পড়াশোনা ক্যারিয়ার তখন পরিনতির দিকে হেলতে চলেছে অনেকেরই। জোরদার ঠেক বসতো নিয়মিত। সকাল সন্ধ্যায় স্বর্গীয় পোকাদার চায়ের দোকান তখন আমাদের মতো বেকারদের 'বিধানসভা'। চা টোস্ট ঘুগনির সাথে চুটিয়ে আড্ডা।

একদিন আমি, নানু(শুভ্র) আর রঞ্জনদাই শুধু এসেছি পোকাদার দোকানে। এমনটাই অনেকক্ষেত্রে ঘটতো। টিউশন দেওয়ার ফাঁকফোকর গুলো আদ্যাপীঠের পাথুরে সিঁড়ি বা পোকাদার বেঞ্চে কাটাতাম। নানু আর রঞ্জনদার অনেক বই, অনেক পড়াশুনা। বাড়িতে পড়া হয়ে যাওয়া অনেক বইয়ে ধুলো জমছে। রঞ্জনদা প্রস্তাব দিলো একটা লাইব্রেরী হলে বইগুলো অনেকে পড়তে পারতো। ব্যাস শুরু হ'ল মাথার মধ্যে স্বপ্নের পোকা নড়াচড়া। নানু আমি আর রঞ্জনদা মোটামুটি লড়ে যাবো টাইপ লেগে পড়লাম। ভাবনা গোছাতে গোছাতেই আরো কয়েকজন বন্ধু যেমন রাজু দত্ত, ন্যাপা কিশোর প্রভৃতি অনেকে চলে এল। ফেব্রুয়ারী হবে বোধ হয়, তাইনা!...

পরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারনে এবং মেধার সমৃদ্ধির জন্য রঞ্জনদার সমাজে বেশ একটা গ্রহনযোগ্যতা ছিলো। নানুও মেধাবী ছাত্র হিসাবে সমীহ ভালোবাসা লাভ করতো এবং শিক্ষিত সুশীল সমাজে এরা বেশ পরিচিত নাম ও মুখ ছিলো । বাস্তবিকই আমার পরিচিতি ও ক্যারিয়ারের ঔজ্জ্বল্য ওদের সাথে তুলনাতেই না আসা নিতান্ত ছাপোষা। এই অভাব অবশ্য অন্তরায় হয়নি কখনই। আমি ওদের অনুসারী হয়ে সকাল বিকাল পৌঁছে যেতাম সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট মানুষজনের পাশাপাশি সমাজবন্ধুবৎসল মানসিকতার মানুষজনের কাছে। অভিজ্ঞতা উৎসাহ আর জেদ উত্তোরোত্তর বাড়তে থাকলো।

অভিজিৎদার বাড়ি গেলাম। অভিজিৎদা প্রথমেই নিরুৎসাহিত করলেন। এবং সাথে সাথে কী কী কারনে লাইব্রেরী বন্ধ হয়ে যাবে কিছুদিন বাদে সেসব গল্প করলেন। মেলাতে পারছিলাম আমাদের আগের কিছু উদ্যোগের অকাল প্রয়াণের ইতিকথা। শায়ক লাইব্রেরী চালাচ্ছে আড়াই দশক ধরে, কিন্তু তারও আগে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা আমি, শম্ভু ব্যানার্জী শুরু করেছিলাম, সঙ্গে ছিলেন প্রদীপ দা মানে প্রদীপ গাঙ্গুলি। বাপি(পার্থ), সুকু, নানু, ন্যাপা সহ আরো কয়েকজন বন্ধু জুড়ে গিয়েছিলো পরে এই উদ্যোগে। কিছু ছাপানো পত্রিকা আর কয়েকটি দেওয়াল পত্রিকা শায়ক নামেই প্রকাশিত হয়েছিলো। একটু যখন প্রসার ঘটতে চলেছে তখনই বন্ধ হয়ে গেলো অপরিনত চিন্তা ভাবনার এই অসংগঠিত উদ্যোগ। শায়ক নাম ব্যানার হয়ে গেলো। সারদা স্কুলের সৌজন্যে ফ্রী কোচিং সেন্টার চালালাম আমরা কিছুদিন, তারপর তাও বন্ধ হ'ল। মনোযোগ সহকারে পড়াতাম। বেশ ভালো লাগতো পড়াতে। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব কষ্ট হয়েছিলো।

অভিজিৎদার কথা গিলতাম হাঁ করে। বেশ ভালো লাগলো অভিজিৎদার কথা। মনে হ'ল আগুন উস্কে দিতে চাইছেন। পাশাপাশি এটাও মনে হ'ল আমরা হয়তো শুরু করতে পারবো এবার।

তদ্দিনে অনেকের কাছে গেছি। শায়কের এই লাইব্রেরী বানানোর কথা বলে বই বা অর্থ চেয়েছি। আলোচনা করেছি তাঁদের অমূল্য অভিজ্ঞতা প্রসূত বিভিন্ন পরামর্শ নিয়ে। শুভদা(শ্রী শুভ চ্যাটার্জি), প্রফেসর কাকু(শ্রী সত্যেন মৈত্র) আমাদের উৎসাহিত ও সমৃদ্ধ করেছেন নানা সময়ে নানা ভাবে। আমাদের লাইব্রেরীতে নিছক গল্পের বই না রেখে কেনো শুধুই পাঠ্যপুস্তক তাও আবার স্নাতকস্তরের, সেই চর্চা প্রতিনিয়ত করতে হয়েছে। জায়গা চেয়েছি লাইব্রেরী করার মতো। অনেক মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন, বই দিয়েছেন আবার সামর্থ্য মতো অর্থ দিয়েছেন। চার পাঁচ মাস বাদে আমরা আবার গেছি অভিজিৎদার বাড়ি। অভিজিৎদা আমাদের এবার এমন একটা কথা বললেন যেটা শুনে বুকের ভেতরটা আনন্দে মুচড়ে উঠলো। শিশুবিকাশ স্কুলের নীচতলাটা ছেড়ে দিলেন লাইব্রেরী তৈরী করার জন্য। ব্যাস, আমদের স্বপ্ন পরিণতির দিকে এগোচ্ছে ভেবে দ্রুত হ'ল আমাদের স্পন্দন।

অস্থায়ী তো কী, ঠিকানা তো হ'ল! বই হ'ল, জায়গা হ'ল। এবার চাই আলমারি। ঁদিলীপ দেববর্মন, মানে আমার অকাল প্রয়াত সেজদা একটা আলমারি বানিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় আলমারি একটা এলো দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘ আদ্যাপীঠ থেকে। দিন ঠিক হ'ল। ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬।

সে এক হই হই ব্যপার। আগের কয়েকদিন যেন যুদ্ধকালীন তৎপরতা সবার মধ্যে। বইয়ের নম্বর করা, ক্যাটালগ করা, বিন কার্ড করা কত্তো কাজ। তার সাথে সূচনায় সমস্ত শুভানুধ্যায়ী সুজনদের উপস্থিতি নিশ্চিৎ করতে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো থেকে শুরু করে আদর আপ্যায়ন আন্তরিকতাপূর্ণ করে তোলার অক্লান্ত প্রয়াস।

আমাদের পথচলা শুরু হ'ল। প্রথম গ্রন্থাগার ব্যবহারকারী ছাত্র সদস্য হিসাবে সৌরভ মুখার্জীকে দিয়েই ঐতিহাসিক শুভারম্ভ। শুরুর পরের কিছুদিন ছিলো প্রায় মাছি তাড়ানোর দশা। সীমিত সাধ্যে সর্বাত্মক প্রচার চালাচ্ছি তখন। আয় বলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বেচ্ছা অনুদান। তাই চাকচিক্যের দিকে মন না দিয়ে গ্রন্থাগারের মূল লক্ষ্যে অবিচল থেকে মানুষের পরিশ্রমের উপার্জন থেকে দেওয়া অনুদানে লাইব্রেরীর বই কেনার কাজেই যাতে সর্বাধিক পরিমানে ব্যবহার করা যায় সেই চেষ্টাই করে গেছি। অঞ্চলের স্কুলগুলিতে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকের জন্য বুক ব্যাঙ্ক ছিলো বলে কিছুটা স্বস্তি সেই শ্রেনীর ছাত্র ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা পেতেন। কিন্তু বইপত্রের আকাশছোঁয়া দাম আর জোগানের অভাবের জন্য স্নাতকশ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রী-অভিভাবকরা যে সমস্যায় পড়েন তার সুরাহা যাতে শায়ক হয়ে উঠতে পারে সেই চেষ্টাটাই প্রাধান্য পেতো।

অভিজিৎদার দেওয়া চ্যালেঞ্জ এবার আমাদের সামনে। শায়ককে টিকিয়ে রাখতে হ'বে। একটা গ্রন্থাগার তো আর রাতারাতি একটা সমাজের সম্পদে পরিণত হতে পারেনা! সকলে মিলে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। সদস্য সদস্যা ছাড়াও অঞ্চলের বহু মানুষের যথাসাধ্য অকৃপণ সহযোগিতা পেয়ে আসছি এত্তোগুলো বছর ধরে।

শিশুবিকাশ স্কুল কর্ত্তৃপক্ষের কাছে দক্ষিণেশ্বর শায়ক লাইব্রেরীর ঋণ অপরিশোধনীয়। অভিজিৎদা অবন্তিকাদিরা হাসি মুখে কতো রকম ভাবে যে আমাদের সাহায্য, সহযোগিতা উৎসাহ জুগিয়েছেন তা বলে বোঝানো যাবে না।

আমরা মাথায় ছাদ পায়ে মাটি পেয়েছি। কিন্তু ক্রমশই শায়কের পরিসর বাড়ছিলো দ্রুত গতিতে। প্রচারেও কিছু গতি ও শ্রী বৃদ্ধি হচ্ছিল। ১৯৯৯ সালে হঠাৎ করেই একদিন লাইব্রেরিতে এলেন গণেশ কাকু। আনন্দবাজার পত্রিকায় সোমবারের 'কলকাতার কড়চা' বিভাগে আমাদের লাইব্রেরী সংক্রান্ত খবর দেখে খোঁজ খবর নিয়ে তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। গণেশ কাকু মানে শ্রদ্ধেয় গণেশ ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের একমাত্র ছেলে নীলাদ্রী, স্নাতক স্তরে পড়াকালীন পথদূর্ঘটনায় মারা যায়। অকালে ঝড়ে যাওয়া পুত্র শোকাতুর বাবা-মায়ের কাছে শায়ক নির্বাচনের কারন এখানে তাঁরা শত পুত্র-কন্যার মাঝে নিজ সন্তানের বিয়োগ যন্ত্রনা ভুলে থাকতে চান। তাঁদের ইচ্ছা ও অনুদানে নীলাদ্রীর জন্মদিন ২১শে মার্চ ১৯৯৯-এ চালু হয় নীলাদ্রী ভট্টাচার্য্য স্মৃতি সংগ্রহ।

শিশুবিকাশ স্কুলে আর জায়গায় এঁটে ওঠা যাচ্ছিলো না। কিন্তু যাবো কোথায়! আবার লেগে পড়লাম কোমর বেঁধে। দিব্যেন্দু বিষ্ণু মানে বাঁটুলদা এবং তাঁর স্ত্রী শ্রীমতী লীলা বিষ্ণুর দানধ্যানের কথা লোকমুখে শুনেছিলাম। একদিন আমরা চলে গেলাম সন্ধ্যাবেলায়। কিছু অনুদান যদি পাই এমন ভাবনা নিয়েই গিয়েছিলাম। কিন্তু একটা গোটা বাড়ি অনুদান হিসাবে অফার করে বসবেন ওনারা, ভাবতেই পারিনি! নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। হাওয়ায় উড়তে উড়তে বেড়িয়ে এসে আমাদের বন্ধুদলকে যখন এই খবর জানাই তখন উৎসবের উচ্ছাস নেমেছিলো আমাদের বুকে।

অঞ্চলের বিশিষ্ট ডাঃ রবীন্দ্র নারায়ণ গাঙ্গুলীর সুযোগ্যা কন্যা লীলা বিষ্ণু তাঁর স্বর্গীয় পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে আড়িয়াদহের ১১ নেপাল চন্দ্র চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি শায়কের গ্রন্থাগার পরিচালনার স্বার্থে দান করলেন। এই বাড়িতে আমি ঝুমাকে টিউশন পড়াতে যেতাম কিছুদিন আগেও! ঝুমারা ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতো। ঝুমা চুমকিরা সব আবার সেই সারদা স্কুলের কোচিং সেণ্টার যখন চলতো তখন থেকেই শায়কের সাথে সম্পর্কবদ্ধ এবং সক্রিয় কর্মী ছিলো। বাড়ি তৈরী করে ঝুমারা ভাড়া বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো আর লীলা বৌদি বাড়িটি শায়ককে দান করলেন। স্থায়ী ঠিকানা পেলো শায়ক। স্বর্গীয় ডাঃ রবীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলির জন্মদিন ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০০০ তারিখে দক্ষিণেশ্বর রীডিং ক্লাব, ডাঃ রবীন্দ্র নারায়ণ গাঙ্গুলি স্মৃতি ভবন হিসাবে চিহ্নিত হ'ল। ট্রাস্টি বোর্ডে পদাধিকার বলে কামারহাটি বিধানসভা অঞ্চলের বিধায়ক এই ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি হলেন। মাননীয় মানস মুখার্জী মহাশয়ের এম. এল. এ. ল্যাডের টাকা দফায় দফায় কয়েকবার পেয়ে গ্রন্থাগার ভবন নির্মান সহ সার্বিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটায় দক্ষিণেশ্বর শায়ক লাইব্রেরী।

শ্বাস প্রশ্বাসের মতোই অপরিহার্য ছিলেন রথীনবাবু। পত্রিকা, ফ্রী কোচিং সেন্টারে তাঁর মানসিক সমর্থন তো ছিলোই, লাইব্রেরীর ভাবনা পর্যায় থেকেই তিনি আমাদের সাথে ছিলেন। উনি ছিলেন আমাদের চিন্তনের মেরুদন্ড। উনি চলে যাওয়ার পর ১৪ই মে ২০০৬ তারিখে শায়ক অভিভাবকহীন হওয়ার বেদনা সয়ে একতলার নব নির্মিত কক্ষটিকে ডঃ রথীন মিত্র স্মৃতি কক্ষ নামে চিহ্নিত করে। পরে দোতলা হ'ল। একটা বড় পাঠকক্ষ পাওয়া গেলো যা ২০১২ সালের ২১ শে মার্চ নীলাদ্রী ভট্টাচার্য্য স্মৃতি কক্ষ নামে সূচিত হয়।

শায়কের পঁচিশ বছরের চলার পথের অনেক অনেক স্মৃতির আঁজলা সরিয়ে সরিয়ে যেতে হলে এ লেখা শেষ করা সম্ভবই হবে না। মনিমুক্তের মতো স্মৃতিকনা গুলো চিকচিক করে ওঠে মনের মধ্যে। আমাদের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যার মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অন্যতম। কী ব্যপক উৎসব মুখরতা আর সাংগঠনিক মুন্সিয়ানায় শায়ক উচ্ছল হয়ে উঠতো! প্রথিতযশা শিল্পীদের নিয়ে ফান্ড রেইজিং প্রোগ্রাম যখন হ'ত তখন তার টিকিট বিক্রির জন্য সবার ইনভলভমেন্ট বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠতো। অনুভূতিপ্রবণ ন্যাপার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ছিলো বাড়তি আকর্ষণ। অঞ্চলের স্কুলগুলি থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সাফল্যের নিরিখে শ্রেষ্ঠদের সম্বর্ধনার মাধ্যমে উৎসাহিত করা হ'ত। এছাড়া নিয়মিত সরস্বতী পূজো, রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন তো ছিলই, ছিলো ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান। সপ্তাহে তিনদিন, বৃহস্পতি ও শনিবার সন্ধ্যায় ও রবিবার সকালের অনেকটা সময় লাইব্রেরীর পরিষেবা চালু রেখে অন্যান্য সমাজ-সংস্কৃতিমূলক কর্মসূচীর বাস্তব রূপদান চাট্টিখানি কথা তো নয়! লাইব্রেরীর দিনগুলিতে লাইব্রেরী খোলার ক্ষেত্রেই হোক বা শায়কের যে কোনো অনুষ্ঠান শুরুর ক্ষেত্রেই হোক, সময়ানুবর্তিতার ব্যপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকতাম। কখনও একমিনিট নড়চড় হ'লেও আমাদের গেলো গেলো রব পড়ে যেতো। গোপাল, গুরুদাসেরা আর ওদের ব্যাচমেট অনেকে লাইব্রেরীর ছাত্রছাত্রী হিসাবে এসে পরে পরিচালনায় জুড়ে গিয়ে অনেক রকম আন্তরিক চেষ্টাচরিত্র করেছে। রূপালী ছিলো একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সদস্যা। একদম সাইলেন্ট ওয়ার্কার। ওর বিয়ের আগে কোনদিন কে লাইব্রেরী খুলবে এই দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। অরবিন্দ দত্ত'র ডাকনাম রাজু। আমারও। বন্ধুমহলে ও হয়ে গিয়েছিলো দত্ত আর আমি প্রফ্। তো দত্ত'র কথা না বলে শেষ করাই যাবে না। ওর মতো ব্রিলিয়্যান্ট ছেলে অপরিসীম ধৈর্য্য নিয়ে হিসাব রক্ষার গুরু দায়িত্ব শুরুর প্রথম দিন থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছে। এর মাঝে ক্যান্সার সুমিতের মতো প্রাণচঞ্চল ছেলেকে হঠাৎ করে কেড়ে নিলো। শুভদারও(শুভব্রত ব্যানার্জী) তাড়া ছিলো খুব। হঠাৎ করে চলে গেলো গত বছর। শায়ক ব্যথাও কম সয়নি!

যাইহোক আমরা অনেকেই আজ আর নিয়মিত লাইব্রেরীতে আসা যাওয়া করতে পারিনা। নতুন প্রজন্ম হাল ধরেছে। কৌশিক(ঘোষ) ছিলো আমাদের আর পরের প্রজন্ম অর্থাৎ অরূপ,প্ললব, অরূন্ধতী, ভিকিদের মধ্যে সেতুর মতো। ট্রানজিশন পিরিয়ডটা বেশ সামলে দিয়েছিলো। আমাদের পরে তারাই সুষ্ঠু পরিচালনার ভার নিয়ে সফলতার সাথে লাইব্রেরি পরিচালনা করে আসছে বছরের পর বছর। আর বর্তমানে সৌরভ, পর্ণা, দীপ্তেশ, সুদীপরা সেই ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে লাইব্রেরীকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। পঁচিশ বছর একটা মাইলস্টোন। এই ছেলে মেয়েগুলো নিজেদের পড়াশোনা ক্যারিয়ার সামলানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সময় লাইব্রেরীর জন্য উজার করে দিচ্ছে বলেই এখনও শায়ক জীবিত।

এ যেন এক রিলে রেস্! প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হাতবদল হয়ে যাচ্ছে পরিচালনার দায়িত্বভার, ব্যাটনের মতো। যদ্দিন এমনটা হবে তদ্দিনই শায়কের আয়ু। আশা রাখি ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত আনাগোনায় মুখরিত হয়ে থাকবে শায়কের লাইব্রেরী বছরের পর বছর, দশকের পর দশক, শতকের পর শতক।

দেখতে দেখতে আজ 25 বছরের যুবক দক্ষিণেশ্বর শায়ক লাইব্রেরি , কেমন ছিল তার শুরুর দিন গুলো, ছত্রে ছত্রে রয়েছে কোন লড়াই, রোমন্থনে লাইব্রেরির বিশিষ্ট সদস্য সৌরভ দেববর্মন
********************

আমার তখন প্রায় সেই বয়েস যে বয়সে আজ শায়ক-এর লাইব্রেরী উপস্থিত। আমার বন্ধুদলও কাছাকাছি প্রায় সমবয়সী। পড়াশোনা ক্যারিয়ার তখন পরিনতির দিকে হেলতে চলেছে অনেকেরই। জোরদার ঠেক বসতো নিয়মিত। সকাল সন্ধ্যায় স্বর্গীয় পোকাদার চায়ের দোকান তখন আমাদের মতো বেকারদের 'বিধানসভা'। চা টোস্ট ঘুগনির সাথে চুটিয়ে আড্ডা।

একদিন আমি, নানু(শুভ্র) আর রঞ্জনদাই শুধু এসেছি পোকাদার দোকানে। এমনটাই অনেকক্ষেত্রে ঘটতো। টিউশন দেওয়ার ফাঁকফোকর গুলো আদ্যাপীঠের পাথুরে সিঁড়ি বা পোকাদার বেঞ্চে কাটাতাম। নানু আর রঞ্জনদার অনেক বই, অনেক পড়াশুনা। বাড়িতে পড়া হয়ে যাওয়া অনেক বইয়ে ধুলো জমছে। রঞ্জনদা প্রস্তাব দিলো একটা লাইব্রেরী হলে বইগুলো অনেকে পড়তে পারতো। ব্যাস শুরু হ'ল মাথার মধ্যে স্বপ্নের পোকা নড়াচড়া। নানু আমি আর রঞ্জনদা মোটামুটি লড়ে যাবো টাইপ লেগে পড়লাম। ভাবনা গোছাতে গোছাতেই আরো কয়েকজন বন্ধু যেমন রাজু দত্ত, ন্যাপা কিশোর প্রভৃতি অনেকে চলে এল। ফেব্রুয়ারী হবে বোধ হয়, তাইনা!...

পরিবারের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারনে এবং মেধার সমৃদ্ধির জন্য রঞ্জনদার সমাজে বেশ একটা গ্রহনযোগ্যতা ছিলো। নানুও মেধাবী ছাত্র হিসাবে সমীহ ভালোবাসা লাভ করতো এবং শিক্ষিত সুশীল সমাজে এরা বেশ পরিচিত নাম ও মুখ ছিলো । বাস্তবিকই আমার পরিচিতি ও ক্যারিয়ারের ঔজ্জ্বল্য ওদের সাথে তুলনাতেই না আসা নিতান্ত ছাপোষা। এই অভাব অবশ্য অন্তরায় হয়নি কখনই। আমি ওদের অনুসারী হয়ে সকাল বিকাল পৌঁছে যেতাম সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট মানুষজনের পাশাপাশি সমাজবন্ধুবৎসল মানসিকতার মানুষজনের কাছে। অভিজ্ঞতা উৎসাহ আর জেদ উত্তোরোত্তর বাড়তে থাকলো।

অভিজিৎদার বাড়ি গেলাম। অভিজিৎদা প্রথমেই নিরুৎসাহিত করলেন। এবং সাথে সাথে কী কী কারনে লাইব্রেরী বন্ধ হয়ে যাবে কিছুদিন বাদে সেসব গল্প করলেন। মেলাতে পারছিলাম আমাদের আগের কিছু উদ্যোগের অকাল প্রয়াণের ইতিকথা। শায়ক লাইব্রেরী চালাচ্ছে আড়াই দশক ধরে, কিন্তু তারও আগে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা আমি, শম্ভু ব্যানার্জী শুরু করেছিলাম, সঙ্গে ছিলেন প্রদীপ দা মানে প্রদীপ গাঙ্গুলি। বাপি(পার্থ), সুকু, নানু, ন্যাপা সহ আরো কয়েকজন বন্ধু জুড়ে গিয়েছিলো পরে এই উদ্যোগে। কিছু ছাপানো পত্রিকা আর কয়েকটি দেওয়াল পত্রিকা শায়ক নামেই প্রকাশিত হয়েছিলো। একটু যখন প্রসার ঘটতে চলেছে তখনই বন্ধ হয়ে গেলো অপরিনত চিন্তা ভাবনার এই অসংগঠিত উদ্যোগ। শায়ক নাম ব্যানার হয়ে গেলো। সারদা স্কুলের সৌজন্যে ফ্রী কোচিং সেন্টার চালালাম আমরা কিছুদিন, তারপর তাও বন্ধ হ'ল। মনোযোগ সহকারে পড়াতাম। বেশ ভালো লাগতো পড়াতে। বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব কষ্ট হয়েছিলো।

অভিজিৎদার কথা গিলতাম হাঁ করে। বেশ ভালো লাগলো অভিজিৎদার কথা। মনে হ'ল আগুন উস্কে দিতে চাইছেন। পাশাপাশি এটাও মনে হ'ল আমরা হয়তো শুরু করতে পারবো এবার।

তদ্দিনে অনেকের কাছে গেছি। শায়কের এই লাইব্রেরী বানানোর কথা বলে বই বা অর্থ চেয়েছি। আলোচনা করেছি তাঁদের অমূল্য অভিজ্ঞতা প্রসূত বিভিন্ন পরামর্শ নিয়ে। শুভদা(শ্রী শুভ চ্যাটার্জি), প্রফেসর কাকু(শ্রী সত্যেন মৈত্র) আমাদের উৎসাহিত ও সমৃদ্ধ করেছেন নানা সময়ে নানা ভাবে। আমাদের লাইব্রেরীতে নিছক গল্পের বই না রেখে কেনো শুধুই পাঠ্যপুস্তক তাও আবার স্নাতকস্তরের, সেই চর্চা প্রতিনিয়ত করতে হয়েছে। জায়গা চেয়েছি লাইব্রেরী করার মতো। অনেক মানুষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছেন, বই দিয়েছেন আবার সামর্থ্য মতো অর্থ দিয়েছেন। চার পাঁচ মাস বাদে আমরা আবার গেছি অভিজিৎদার বাড়ি। অভিজিৎদা আমাদের এবার এমন একটা কথা বললেন যেটা শুনে বুকের ভেতরটা আনন্দে মুচড়ে উঠলো। শিশুবিকাশ স্কুলের নীচতলাটা ছেড়ে দিলেন লাইব্রেরী তৈরী করার জন্য। ব্যাস, আমদের স্বপ্ন পরিণতির দিকে এগোচ্ছে ভেবে দ্রুত হ'ল আমাদের স্পন্দন।

অস্থায়ী তো কী, ঠিকানা তো হ'ল! বই হ'ল, জায়গা হ'ল। এবার চাই আলমারি। ঁদিলীপ দেববর্মন, মানে আমার অকাল প্রয়াত সেজদা একটা আলমারি বানিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় আলমারি একটা এলো দক্ষিণেশ্বর রামকৃষ্ণ সঙ্ঘ আদ্যাপীঠ থেকে। দিন ঠিক হ'ল। ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬।

সে এক হই হই ব্যপার। আগের কয়েকদিন যেন যুদ্ধকালীন তৎপরতা সবার মধ্যে। বইয়ের নম্বর করা, ক্যাটালগ করা, বিন কার্ড করা কত্তো কাজ। তার সাথে সূচনায় সমস্ত শুভানুধ্যায়ী সুজনদের উপস্থিতি নিশ্চিৎ করতে তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো থেকে শুরু করে আদর আপ্যায়ন আন্তরিকতাপূর্ণ করে তোলার অক্লান্ত প্রয়াস।

আমাদের পথচলা শুরু হ'ল। প্রথম গ্রন্থাগার ব্যবহারকারী ছাত্র সদস্য হিসাবে সৌরভ মুখার্জীকে দিয়েই ঐতিহাসিক শুভারম্ভ। শুরুর পরের কিছুদিন ছিলো প্রায় মাছি তাড়ানোর দশা। সীমিত সাধ্যে সর্বাত্মক প্রচার চালাচ্ছি তখন। আয় বলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বেচ্ছা অনুদান। তাই চাকচিক্যের দিকে মন না দিয়ে গ্রন্থাগারের মূল লক্ষ্যে অবিচল থেকে মানুষের পরিশ্রমের উপার্জন থেকে দেওয়া অনুদানে লাইব্রেরীর বই কেনার কাজেই যাতে সর্বাধিক পরিমানে ব্যবহার করা যায় সেই চেষ্টাই করে গেছি। অঞ্চলের স্কুলগুলিতে মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকের জন্য বুক ব্যাঙ্ক ছিলো বলে কিছুটা স্বস্তি সেই শ্রেনীর ছাত্র ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা পেতেন। কিন্তু বইপত্রের আকাশছোঁয়া দাম আর জোগানের অভাবের জন্য স্নাতকশ্রেনীর ছাত্র-ছাত্রী-অভিভাবকরা যে সমস্যায় পড়েন তার সুরাহা যাতে শায়ক হয়ে উঠতে পারে সেই চেষ্টাটাই প্রাধান্য পেতো।

অভিজিৎদার দেওয়া চ্যালেঞ্জ এবার আমাদের সামনে। শায়ককে টিকিয়ে রাখতে হ'বে। একটা গ্রন্থাগার তো আর রাতারাতি একটা সমাজের সম্পদে পরিণত হতে পারেনা! সকলে মিলে ঝাঁপিয়ে পড়লাম। সদস্য সদস্যা ছাড়াও অঞ্চলের বহু মানুষের যথাসাধ্য অকৃপণ সহযোগিতা পেয়ে আসছি এত্তোগুলো বছর ধরে।

শিশুবিকাশ স্কুল কর্ত্তৃপক্ষের কাছে দক্ষিণেশ্বর শায়ক লাইব্রেরীর ঋণ অপরিশোধনীয়। অভিজিৎদা অবন্তিকাদিরা হাসি মুখে কতো রকম ভাবে যে আমাদের সাহায্য, সহযোগিতা উৎসাহ জুগিয়েছেন তা বলে বোঝানো যাবে না।

আমরা মাথায় ছাদ পায়ে মাটি পেয়েছি। কিন্তু ক্রমশই শায়কের পরিসর বাড়ছিলো দ্রুত গতিতে। প্রচারেও কিছু গতি ও শ্রী বৃদ্ধি হচ্ছিল। ১৯৯৯ সালে হঠাৎ করেই একদিন লাইব্রেরিতে এলেন গণেশ কাকু। আনন্দবাজার পত্রিকায় সোমবারের 'কলকাতার কড়চা' বিভাগে আমাদের লাইব্রেরী সংক্রান্ত খবর দেখে খোঁজ খবর নিয়ে তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। গণেশ কাকু মানে শ্রদ্ধেয় গণেশ ভট্টাচার্য্য মহাশয়ের একমাত্র ছেলে নীলাদ্রী, স্নাতক স্তরে পড়াকালীন পথদূর্ঘটনায় মারা যায়। অকালে ঝড়ে যাওয়া পুত্র শোকাতুর বাবা-মায়ের কাছে শায়ক নির্বাচনের কারন এখানে তাঁরা শত পুত্র-কন্যার মাঝে নিজ সন্তানের বিয়োগ যন্ত্রনা ভুলে থাকতে চান। তাঁদের ইচ্ছা ও অনুদানে নীলাদ্রীর জন্মদিন ২১শে মার্চ ১৯৯৯-এ চালু হয় নীলাদ্রী ভট্টাচার্য্য স্মৃতি সংগ্রহ।

শিশুবিকাশ স্কুলে আর জায়গায় এঁটে ওঠা যাচ্ছিলো না। কিন্তু যাবো কোথায়! আবার লেগে পড়লাম কোমর বেঁধে। দিব্যেন্দু বিষ্ণু মানে বাঁটুলদা এবং তাঁর স্ত্রী শ্রীমতী লীলা বিষ্ণুর দানধ্যানের কথা লোকমুখে শুনেছিলাম। একদিন আমরা চলে গেলাম সন্ধ্যাবেলায়। কিছু অনুদান যদি পাই এমন ভাবনা নিয়েই গিয়েছিলাম। কিন্তু একটা গোটা বাড়ি অনুদান হিসাবে অফার করে বসবেন ওনারা, ভাবতেই পারিনি! নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। হাওয়ায় উড়তে উড়তে বেড়িয়ে এসে আমাদের বন্ধুদলকে যখন এই খবর জানাই তখন উৎসবের উচ্ছাস নেমেছিলো আমাদের বুকে।

অঞ্চলের বিশিষ্ট ডাঃ রবীন্দ্র নারায়ণ গাঙ্গুলীর সুযোগ্যা কন্যা লীলা বিষ্ণু তাঁর স্বর্গীয় পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে আড়িয়াদহের ১১ নেপাল চন্দ্র চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি শায়কের গ্রন্থাগার পরিচালনার স্বার্থে দান করলেন। এই বাড়িতে আমি ঝুমাকে টিউশন পড়াতে যেতাম কিছুদিন আগেও! ঝুমারা ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতো। ঝুমা চুমকিরা সব আবার সেই সারদা স্কুলের কোচিং সেণ্টার যখন চলতো তখন থেকেই শায়কের সাথে সম্পর্কবদ্ধ এবং সক্রিয় কর্মী ছিলো। বাড়ি তৈরী করে ঝুমারা ভাড়া বাড়ি ছেড়ে চলে গেলো আর লীলা বৌদি বাড়িটি শায়ককে দান করলেন। স্থায়ী ঠিকানা পেলো শায়ক। স্বর্গীয় ডাঃ রবীন্দ্রনাথ গাঙ্গুলির জন্মদিন ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০০০ তারিখে দক্ষিণেশ্বর রীডিং ক্লাব, ডাঃ রবীন্দ্র নারায়ণ গাঙ্গুলি স্মৃতি ভবন হিসাবে চিহ্নিত হ'ল। ট্রাস্টি বোর্ডে পদাধিকার বলে কামারহাটি বিধানসভা অঞ্চলের বিধায়ক এই ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি হলেন। মাননীয় মানস মুখার্জী মহাশয়ের এম. এল. এ. ল্যাডের টাকা দফায় দফায় কয়েকবার পেয়ে গ্রন্থাগার ভবন নির্মান সহ সার্বিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটায় দক্ষিণেশ্বর শায়ক লাইব্রেরী।

শ্বাস প্রশ্বাসের মতোই অপরিহার্য ছিলেন রথীনবাবু। পত্রিকা, ফ্রী কোচিং সেন্টারে তাঁর মানসিক সমর্থন তো ছিলোই, লাইব্রেরীর ভাবনা পর্যায় থেকেই তিনি আমাদের সাথে ছিলেন। উনি ছিলেন আমাদের চিন্তনের মেরুদন্ড। উনি চলে যাওয়ার পর ১৪ই মে ২০০৬ তারিখে শায়ক অভিভাবকহীন হওয়ার বেদনা সয়ে একতলার নব নির্মিত কক্ষটিকে ডঃ রথীন মিত্র স্মৃতি কক্ষ নামে চিহ্নিত করে। পরে দোতলা হ'ল। একটা বড় পাঠকক্ষ পাওয়া গেলো যা ২০১২ সালের ২১ শে মার্চ নীলাদ্রী ভট্টাচার্য্য স্মৃতি কক্ষ নামে সূচিত হয়।

শায়কের পঁচিশ বছরের চলার পথের অনেক অনেক স্মৃতির আঁজলা সরিয়ে সরিয়ে যেতে হলে এ লেখা শেষ করা সম্ভবই হবে না। মনিমুক্তের মতো স্মৃতিকনা গুলো চিকচিক করে ওঠে মনের মধ্যে। আমাদের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যার মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অন্যতম। কী ব্যপক উৎসব মুখরতা আর সাংগঠনিক মুন্সিয়ানায় শায়ক উচ্ছল হয়ে উঠতো! প্রথিতযশা শিল্পীদের নিয়ে ফান্ড রেইজিং প্রোগ্রাম যখন হ'ত তখন তার টিকিট বিক্রির জন্য সবার ইনভলভমেন্ট বেশ উপভোগ্য হয়ে উঠতো। অনুভূতিপ্রবণ ন্যাপার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ছিলো বাড়তি আকর্ষণ। অঞ্চলের স্কুলগুলি থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সাফল্যের নিরিখে শ্রেষ্ঠদের সম্বর্ধনার মাধ্যমে উৎসাহিত করা হ'ত। এছাড়া নিয়মিত সরস্বতী পূজো, রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন তো ছিলই, ছিলো ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান। সপ্তাহে তিনদিন, বৃহস্পতি ও শনিবার সন্ধ্যায় ও রবিবার সকালের অনেকটা সময় লাইব্রেরীর পরিষেবা চালু রেখে অন্যান্য সমাজ-সংস্কৃতিমূলক কর্মসূচীর বাস্তব রূপদান চাট্টিখানি কথা তো নয়! লাইব্রেরীর দিনগুলিতে লাইব্রেরী খোলার ক্ষেত্রেই হোক বা শায়কের যে কোনো অনুষ্ঠান শুরুর ক্ষেত্রেই হোক, সময়ানুবর্তিতার ব্যপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকতাম। কখনও একমিনিট নড়চড় হ'লেও আমাদের গেলো গেলো রব পড়ে যেতো। গোপাল, গুরুদাসেরা আর ওদের ব্যাচমেট অনেকে লাইব্রেরীর ছাত্রছাত্রী হিসাবে এসে পরে পরিচালনায় জুড়ে গিয়ে অনেক রকম আন্তরিক চেষ্টাচরিত্র করেছে। রূপালী ছিলো একজন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সদস্যা। একদম সাইলেন্ট ওয়ার্কার। ওর বিয়ের আগে কোনদিন কে লাইব্রেরী খুলবে এই দুশ্চিন্তা করতে হয়নি। অরবিন্দ দত্ত'র ডাকনাম রাজু। আমারও। বন্ধুমহলে ও হয়ে গিয়েছিলো দত্ত আর আমি প্রফ্। তো দত্ত'র কথা না বলে শেষ করাই যাবে না। ওর মতো ব্রিলিয়্যান্ট ছেলে অপরিসীম ধৈর্য্য নিয়ে হিসাব রক্ষার গুরু দায়িত্ব শুরুর প্রথম দিন থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে চলেছে। এর মাঝে ক্যান্সার সুমিতের মতো প্রাণচঞ্চল ছেলেকে হঠাৎ করে কেড়ে নিলো। শুভদারও(শুভব্রত ব্যানার্জী) তাড়া ছিলো খুব। হঠাৎ করে চলে গেলো গত বছর। শায়ক ব্যথাও কম সয়নি!

যাইহোক আমরা অনেকেই আজ আর নিয়মিত লাইব্রেরীতে আসা যাওয়া করতে পারিনা। নতুন প্রজন্ম হাল ধরেছে। কৌশিক(ঘোষ) ছিলো আমাদের আর পরের প্রজন্ম অর্থাৎ অরূপ,প্ললব, অরূন্ধতী, ভিকিদের মধ্যে সেতুর মতো। ট্রানজিশন পিরিয়ডটা বেশ সামলে দিয়েছিলো। আমাদের পরে তারাই সুষ্ঠু পরিচালনার ভার নিয়ে সফলতার সাথে লাইব্রেরি পরিচালনা করে আসছে বছরের পর বছর। আর বর্তমানে সৌরভ, পর্ণা, দীপ্তেশ, সুদীপরা সেই ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে লাইব্রেরীকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। পঁচিশ বছর একটা মাইলস্টোন। এই ছেলে মেয়েগুলো নিজেদের পড়াশোনা ক্যারিয়ার সামলানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সময় লাইব্রেরীর জন্য উজার করে দিচ্ছে বলেই এখনও শায়ক জীবিত।

এ যেন এক রিলে রেস্! প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হাতবদল হয়ে যাচ্ছে পরিচালনার দায়িত্বভার, ব্যাটনের মতো। যদ্দিন এমনটা হবে তদ্দিনই শায়কের আয়ু। আশা রাখি ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত আনাগোনায় মুখরিত হয়ে থাকবে শায়কের লাইব্রেরী বছরের পর বছর, দশকের পর দশক, শতকের পর শতক।

Videos (show all)

লাইব্রেরীর পুজো...
দক্ষিণেশ্বর শায়ক লাইব্রেরী তে Computer Science এর নতুন section খোলা হল.....

Location

Category

Telephone

Address


11, Nepal Chandra Chatterjee Street, Dakshineswar
Kolkata
700057

Opening Hours

10am - 12:30pm
Other Education in Kolkata (show all)
Trishan Art Academy Trishan Art Academy
Rajarhat,Axismall
Kolkata, 700156

Trishan introduced an Art Academy in Bioscope, Axis Mall, Rajarhat to promote contemporary art for all with individual attention.

Sammilani Teachers' Training College - Accredited 'B' by NAAC Sammilani Teachers' Training College - Accredited 'B' by NAAC
Sammilani Teachers' Training College Krishakpally, Barakhala, Mukundapur, Kolkata-700 099
Kolkata, 700 099

Sammilani Teachers' Training College

Arena Animation Shyambazar Arena Animation Shyambazar
28, Chowdhury Lane, 1st Floor (Beside Shyambazar Metro Gate No 4 - Opp Manindra Chandra College)
Kolkata, 700004

Northern Branch - Oldest and Biggest Animation & Multimedia Centre of Kolkata.

Ambit SMU Kankurgachi Ambit SMU Kankurgachi
P-178 C.I.T.ROAD KANKURGACHI
Kolkata, 700054

EDUCATION WELFARE TRUST EDUCATION WELFARE TRUST
67 Khanqah Sharif Lane
Kolkata, 700014

It is a Non Profit Organization providing Primary Education and helping Poor and Needy People.

Academy of Hospitality Skills Academy of Hospitality Skills
Kolkata

Academy of Hospitality Skills has been established by Eduzeaal Academy of Hospitality Skills Pvt Ltd in the year 2012 to fulfill the huge gap in getting qu

Board of Islamic Education Board of Islamic Education
Berachampa, Deganga, North 24 Parganas
Kolkata, 743424

Board of Islamic Educatiom

Swasti Ayurveda Clinic Swasti Ayurveda Clinic
89 U B Colony Kol 108
Kolkata, 700108

Swasti Ayurveda Clinic is Kerala Panchakarma and Ksharsutra clinic located at Dunlop.More.Dr Pradip Kumar Seth is the chief physician here

Fault & Relay Fault & Relay
Kolkata

Hands on training on Protection and Protective Relaying

Vidya niketan Vidya niketan
Kolkata, 700 078

HERE YOU WILL GET ALL KINDS OF ASSISTANCE TO LEARN SPOKEN ENGLISH.WE WILL TEACH YOU AT YOUR HOME OR AT OUR PLACES AT LOWEST COST

NSHM School of Media and Communication - NSMC NSHM School of Media and Communication - NSMC
124/60 BL Saha Road
Kolkata

The best media school in the region

Ibps bank exam-2014 Ibps bank exam-2014
KOLKATA
Kolkata, 700064

A page completely dedicated to the ibps/sbi-14 aspirants where you ll get free sample papers as well as free tips for a smarter preparation.