Babul's English Private Home

Babul's English Private Home

School/College

Operating as usual

28/07/2023

👨‍🏫 ভাইভা বোর্ডে ধরা সবচেয়ে কমন বিষয় হলো Introduce Yourself. নিচে Introduce Yourself এর কয়েকটি Format তুলে ধরা হলো:

Format_1:
I am Md. Mahfuzul Alam, the son of Mr. Md. Lokman Hakim & Mrs. Mosssammat Afroza Begum, here to face the viva.I am from Chittagong.I have completed my post graduation and graduation from University of Chittagong.My subject was Physics.Bathua High School & Patiya Govt. College were my previous educational institutions.Beside academic background, I have a good involvement in a non-political social organization.I have also a good intension in creative writing.Now I am looking for a job.Thank You.

Format_2:
I am (Name). I am from (District Name). My father name is Md. X who is a govt. employee and mother name is Most. Y Begum who is also a govt. employee. I obtained my Bachelor and Master degree in Philosophy from (University Name) in 2009 and 2010 respectively. Before that I passed SSC in 2003 from (School name) under (Board Name) and Passed HSC in 2005 from (College Name) under the same board. My aim in life is to be a BCS Cadre. For that I am performing Viva Voce now. Thats all for the time being.
( You should say “my father's name”,not “my father name”.)

Format_3:
I'm Md. Maksudur Rashid son of Md. Harunur Rashid nd Rehana Akter. I'm from Dhaka. firstly I would like to describe about my edu background. I have successfully passed my ssc nd hsc from MGHS nd bcic college respectivly. Then I got admitted into jnu nd completed my graduation nd post graduation. My father is a retired govt service holder nd my mother is a housewife. My hobby is playing nd watching cricket. But my aim in life is to be a magistrate. Thats all.

28/06/2023

❤তাকবিরে তাশরিক❤

আল্লাহু আকবার,আল্লাহু আকবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

27/06/2023

আরাফার দিনের দু‘আ।

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، وهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ। লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

নেই কোন উপাস্য এক আল্লাহ ব্যতীত। তাঁর শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর জন্য। প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।

(তিরমিজী - ৩৫৮৫)
#দুআ_যিকির।

24/06/2023

আগামী ২৭শে জুন মঙ্গলবার ২০২৩ আরাফার দিন। এই রোজা রাখলে দুই বছরের (ছগীরা) গুনাহ মাফ হবে ইনশাআল্লাহ।

20/06/2023

জিলহজে আমলে সালেহ

১ঃ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন
জিলহজের প্রথম দশকের আমলের চেয়ে প্রিয় আর কোনো আমল নেই (বুখারি: ৯৬৯)।
২ঃ আল্লাহ তাআলা সূরা ফজরে এই দশ দিনের শপথ করেছেন।
৩ঃ এই মাসেই শুধু ইসলামের সমস্ত মৌলিক ইবাদত করার সুযোগ আছে। নামাজ, রোজা, হজ, কুরবানি।
৪ঃ এই দশ দিনের আমল আল্লাহর কাছে জি/হা/দে/র চেয়েও উত্তম।
৫ঃ জিলহজের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর থেকে, কুরবানির জন্তু জবেহ করা পর্যন্ত নখচুল না কাটা।
৬ঃ কুরবানির জন্তুকে ভাল করে খাইয়ে-দাইয়ে মোটাতাজা করা।
৭ঃ হজে না গিয়ে ঘরে থেকেও সম্ভব হলে মক্কায় ‘হাদি’ (কুরবানির জন্তু) পাঠাতে পারি।


জিলহজের জিকির
বেশি বশি পড়ব।
উঠতে বসতে পড়ব।
সময় পেলেই পড়ব। ইন শা আল্লাহ।
১ঃ সুবহানাল্লাহ (سبحَان الله)। আলহামদুলিল্লাহ (الحمدُلله)। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (لا إله إلا الله)। আল্লাহু আকবার (الله أكبر)।
২ঃ সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি (سبحان الله وبحمدِه)। সুবহানাল্লাহিল আযীম (سبحان الله العَظيم)।
৩ঃ লা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (لا حَول ولا قُوة إلا بالله)।
৪ঃ আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি (أستغفر الله و أتُوب إليه)।
৫ঃ আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ (اللهُم صل وسلم على نبينا مُحمد)।
৬ঃ লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
لا إله إلا الله وحدهُ لا شريك له ، له المُلك وله الحمد وهو على كُل شيء قدِير
৭ঃ হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।
حسبي الله لا إله إلا هو ، عليه تَوكلت وهُو ربّ العرش العظيم
৮ঃ আল্লাহুম্মাজ আলনী মিনাত তাউয়াবীনা ওয়াজআলনী মিনাল মুতাতাহহিরীন।
اللهم إجعلنِي من التَوابين وإجعلنِي من المُتطهرين
৯ঃ লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যলিমীন।
لا إله إلا أنت سبحانك إني كُنت من الظَالمين
১০ঃ ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত তাকবির পাঠ করা।
الله أكبر، الله أكبر،لا إله إلاالله والله أكبر،الله أكبر ولله الحمد
তাকবিরঃ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।


জিলহজের অন্যান্য আমলঃ
১১ঃ সামর্থ থাকলে কুরবানি করা।
১২ঃ একেবারে শেষ সময়ে সাহরি খাওয়া।
১৩ঃ সাহরিতে খেজুর খাওয়া।
১৪ঃ সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করে ফেলা।
১৫ঃ ঈদের নামাজ আদায় করা।
১৬ঃ জিলহজের প্রথম নয়দিন রোজা রাখা। বিশেষ করে নয় তারিখে আরাফার রোজা রাখা। এই নয়দিনে সোম ও বৃহস্পতিবারের রোজা রাখা যেতে পারে।


সাধারণ আমল
১৭ঃ ফরজ নামাজ আদায় করা।
১৮ঃ বেশি বেশি দোয়া করা।
১৯ঃ আযান ও ইকামতের জবাব দেয়া।
২০ঃ বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা।
২১ঃ সাধ্যানুযায়ী কুরআন তাদাব্বুর করা। আমলের নিয়তে চিন্তা ভাবনা করে বুঝে বুঝে তিলাওয়াত করা।
২২ঃ অল্প হলেও প্রতিদিন নতুন আয়াত বা সূরা মুখস্থ করার চেষ্টা করা।
২৩ঃ একটা আয়াত হলেও তাফসীর পড়তে পারি। অন্যের সাথে আয়াতটি নিয়ে মত বিনিময় করতে পারি।
২৪ঃ কুরআন শেখাতে পারি। বিশেষ করে শিশুদের সূরা ফাতিহা ও ছোট ছোট সূরা মুখস্থ করাতে পারি।
২৫ঃ সামর্থ অনুযায়ী সদকা করা।
২৬ঃ মাতা-পিতার প্রতি বাড়তি সদাচার করতে পারি।
২৭ঃ ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের খোঁজ-খবর করতে পারি।
২৮ঃ মেহমানের একরাম-সম্মান করতে পারি।
২৮ঃ মেহমানকে বিদায় জানাতে এগিয়ে যেতে পারি। তাকে তুলে দেয়ার জন্য গাড়ি পর্যন্ত যেতে পারি।
২৯ঃ জুমার দিন গোসল করতে পারি।
৩০ঃ জুমার দিন আতর-সুগন্ধি ব্যবহার করতে পারি।
৩১ঃ জুমার দিন আগে আগে মসজিদে যেতে পারি।
৩২ঃ ইমামের কাছাকাছি গিয়ে বসতে পারি।
৩৩ঃ মসজিদে গিয়ে কাতারের ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে পারি।
৩৪ঃ কাতার সোজা করায় সক্রিয় অংশ নিতে পারি। নিজের থেকে কাতার পুরো করতে পারি।
৩৫ঃ মুচকি হেসে কথা বলতে পারি।
৩৬ঃ চারপাশে ছড়িয়ে থাকা আল্লাহর আয়াত বা নিদর্শন নিয়ে ভাবতে পারি। পিঁপড়ার সৃষ্টি নিয়ে ভাবতে পারি। নিজের চোখ নিয়ে ভাবতে পারি।
৩৭ঃ সুনানে রাওয়াতেব বা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাগুলো বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে আদায় করতে পারি। ফজরের আগে দুই রাকাত, জোহরের আগে চার, পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পর দুই রাকাত, এশার পার দুই রাকাত সুন্নত আদায় করতে পারি।
৩৮ঃ ইশরাক ও চাশতের নামাজ পড়তে পারি।
৩৯ঃ সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আমলগুলো করতে পারি।
৪০ঃ পাঁচ নামাজের পর মাসনুন দোয়া ও আমল করতে পারি।
৪১ঃ প্রতিটি ক্ষেত্রের দোয়া ও জিকির পড়তে পারি।
৪২ঃ ওজু অবস্থায় ঘুমাতে পারি।
৪৩ঃ পরিবার বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে মিলেমিশে খাবার গ্রহণ করতে পারি।
৪৪ঃ সাদা পোশাক পরতে পারি।
৪৫ঃ সাদা চুলে মেহেদি লাগাতে পারি।
৪৬ঃ নেক নিয়তে, পরোপকারের নিয়তে ফলদার বা ছায়াদার গাছ লাগাতে পারি।
৪৭ঃ মুসলিম ভাইয়ের প্রয়োজন পুরো করতে পারি।
৪৮ঃ মুসলিম ভাইবোনের জন্য ইস্তেগফার করতে পারি।
৪৯ঃ গুনাহ থেকে বাঁচার নিয়তে স্ত্রীর সাথে বেশি বেশি সময় কাটাতে পারি।
৫০ঃ সওয়াবের আশায়, সুন্নতের নিয়তে রুকিয়া করতে পারি।
৫১ঃ সওয়াবের আশায়, সুন্নতের নিয়তে ‘হিজামা’ করাতে পারি।
৫২ঃ মাইয়েতের কাফন ও দাফনে শরিক হতে পারি।
৫৩ঃ মুসলিমের দেয়া কষ্ট পেয়ে সবর করতে পারি।
৫৪ঃ অন্যে কষ্ট দিলেও, বিনিময়ে তার সাথে সুন্দর ব্যবহার করতে পারি।
৫৫ঃ সবার সাথে কোমল আচরণ করতে পারি।
৫৬ঃ কাজেকর্মে ধীরস্থিরতা অবলম্বন করতে পারি। বিশেষ করে নামাজে।
৫৭ঃ মুখে সবসময় স্মিত হাসি লেপ্টে রাখতে পারি।
৫৮ঃ যতই ক্রোধ উঠুক, সওয়াবের আশায় কষ্ট করে হলেও দমন করতে পারি।
৫৯ঃ অন্যকে দেয়া ওয়াদা পূরণ করতে পারি।
৬০ঃ সলাতুত তাওবা আদায় করতে পারি।
৬১ঃ সলাতুত তাসবীহ আদায় করতে পারি।
৬২ঃ দুই রাকাত তাহিয়াতুল ওজু পড়তে পারি।
৬৩ঃ মসজিদে গিয়ে বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়াতুল মসজিদ আদায় করতে পারি।
৬৪ঃ সুযোগ পেলে, অন্য মুসলিম ভাইকে ‘নসীহা’ করতে পারি। নিজেও নসীহত অনুযায়ী আমল শুরু করতে পারি।
৬৫ঃ নিরক্ষরকে অক্ষর শেখাতে পারি। কাউকে মাসয়ালা শেখাতে পারি।
৬৬ঃ আমর বিল-মারূফ-সৎকাজের আদেশ করতে পারি।
৬৭ঃ সম্ভাব্য পরিসরে অসৎ কাজে নিষেধ করতে পারি।
৬৮ঃ সুযোগ পেলে মাজলুমের সাহায্য করতে পারি। এখন তো মাজলুমের অভাব নেই।
৬৯ঃ প্রতিদিন আগের দিনের চেয়ে বেশি পরিমাণে দৃষ্টি অবনত রাখার আমল করতে পারি।
৭০ঃ আল্লাহর জন্য ভাই-বেরাদর, বন্ধুবান্ধবের সাথে দেখা করতে যেতে পারি।
৭১ঃ জানাজায় শরিক হতে পারি।
৭২ঃ বিপদগ্রস্ত, শোকগ্রস্তকে সান্ত্বনা দিতে পারি।
৭৩ঃ অসুস্থ ভাইবোনকে দেখতে যেতে পারি।
৭৪ঃ কেউ দাওয়াত দিলে সাড়া দিতে পারি।
৭৫ঃ দুঃখীজনকে সমবেদনা জানানো।
৭৬ঃ ঋণ পরিশোধ করা। অল্প হলেও শোধ করা।
৭৭ঃ অভাবীকে সাধ্যানুযায়ী করজ দেয়া।
৭৮ঃ অভাবী ঋণগ্রহীতাকে ঋণ পরিশোধের জন্য সুবিধাজনক সময় দেয়া।
৭৯ঃ অভাবী ঋণগ্রহীতার ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া। সম্ভব হলে মাফ করে দেয়া।
৮০ঃ অন্যের কাছে ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে অসমর্থ ব্যক্তিকে ঋণ পরিশোধে সাহায্য করা। গরীব লোকের দোকানের বকেয়া পরিশোধ করা।
৮১ঃ অন্যের জন্য সুপারিশ করা। চাকরি পেতে, ঋণ পেতে। প্রয়োজন পুরো করতে।
৮২ঃ প্রয়োজন ফুরিয়ে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে কিনে নেয়া পণ্য ফেরৎ দিতে চাইলে ফেরত নিতে পারি। এটাকে নবীজি সা.-এর ভাষায় বলে (‏إقالة النادم)। অত্যন্ত চমৎকার আর মহত্তর দারুণ এক সুন্নাহ।
৮৩ঃ পথ থেকে কষ্টকর বস্তু সরিয়ে দিতে পারি।
৮৪ঃ ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি চাওয়া। তিনবার অনুমতি চাওয়ার পরও দরজা না খুললে ফেরত যাওয়া।
৮৫ঃ হাই এলে রোধ করার চেষ্টা কর।
৮৬ঃ ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত জায়নামাজে বসে জিকির-আজকারে মশগুল থাকা।
৮৭ঃ নিজের পরিবার-পরিজনকে সলাতের আদেশ করা।
৮৮ঃ ঘরে ফিরে এসে ও ঘর থেকে বের হওয়ার আগে দুই রাকাত সলাত আদায় করা।
৮৯ঃ কোনও মুসলিম নতুন নেয়ামত লাভ করলে, তাকে স্বাগত জানানো।
৯০ঃ সময়-সুযোগ করে ইনসাফের সাথে ওসিয়ত লিখে রাখা।
৯১ঃ বস্ত্রহীন মুসলিমকে বস্ত্র দান করা।
৯২ঃ জুতো পরিধানের সময় ডান পায়ে আগে পরা।
৯৩ঃ জুতো খোলার সময় আগে বাম পা খোলা।
৯৪ঃ বসে পানি পান করা।
৯৫ঃ মৃত ব্যক্তিকে কালিমার তালকীন করা। মনে মুখে মুখে কালিমা পড়ানোর চেষ্টা করা। তার কানে শোনা যায় মতো করে উচ্চ স্বরে কালিমা পড়তে থাকা।
৯৬ঃ প্রতিটি কাজ ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করা।
৯৭ঃ নিয়মিত মিসওয়াক করা। ঘরে প্রবেশের আগে মিসওয়াক করা।
৯৮ঃ উত্তম পন্থায় গ্রহণ করা ঋণ পরিশোধ করা।
৯৯ঃ প্রয়োজনে ইস্তেখারা সলাত আদায় করা।
১০০ঃ আনন্দে সিজদায়ে শোকর আদায় করা। অনন্দ সংবাদে দুই রাকাত সলাতুশ শোকর আদায় করা।
১০১ঃ কোনো বিষয়ে কসম করলে, শরীয়তের প্রয়োজনে, অন্যের কল্যাণের উদ্দেশ্যে কসম ভেঙে কাফফারা আদায় করা।
১০২ঃ ঘরের মানুষটাকে কাজেকর্মে সাধ্যমতো সাহায্য করা।
১০৩ঃ হেঁটে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।
১০৪ঃ সলাতে দাঁড়ালে সামনে ‘সুতরা’ ব্যবহার করা।
১০৫ঃ সাধ্যমতো সুন্দর সুরে কুরআন তিলাওয়াতের চেষ্টা করা।
১০৬ঃ তাওফিকে কুলোলে গরীবকে কুরবানির জন্য ‘ছাগল’ হাদিয়া দেয়া।
১০৭ঃ নিজে বিয়ে করা বা অন্যকে বিয়ে করতে সহযোগিতা করা।
১০৮ঃ দুই বিবদমান ব্যক্তির মাঝে লেগে থাকা ঝগড়া মিটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা।
১০৯ঃ সৎসঙ্গ অবলম্বন করা। ভাল মানুষের সাথে বেশি বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করা।
১১০ঃ দীনের খেদমতের উদ্দেশ্যে ‘ওয়াকফ’ করা। মসজিদের জন্য, জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য মাদরাসার জন্য জায়গা-জমি দান করা।
১১১ঃ তাওফিক থাকলে হজ করা।
১১২ঃ মুসলিম ভাইকে আল্লাহর জন্য মহব্বত করা।
১১৩ঃ অন্যকে ক্ষমা করা।
১১৪ঃ এক নামাজের পর আরেক নামাজের অপেক্ষায় থাকা।
১১৫ঃ মসজিদে দীনি মুজাকারা ও হালকায় শরিক হওয়া।
১১৬ঃ ওলামায়ে কেরামকে সম্মান-তাজীম করা।
১১৭ঃ এটা হালাল না হারাম, জায়েজ না না জায়েজ, এমন সন্দেহপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা।
১১৮ঃ সাধ্যমতো সুন্নতের প্রচার ও প্রসার ঘটানো।
১১৯ঃ অন্যকে হাদিয়া দেয়া।
১২০ঃ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মুসলিম ভাইরে সাথে মুসাফা (হ্যান্ডশেক) করা।
১২১ঃ বড়কে সম্মান করা। ছোটকে স্নেহ করা।
১২২ঃ স্বামীর ডাকে সাড়া দেয়া। স্বামীর অনুগত্য করা।
১২৩ঃ স্বামীর বাড়ির কাজে শরিক হওয়া।
১২৪ঃ মসজিদ পরিষ্কার করার কাজে শরিক হওয়া।
১২৫ঃ পিপাসার্তকে পানি পান করানো।
১২৬ঃ অন্যের ভালো কাজ বা অনুগ্রহে শুকরিয়া আদায় করা। জাযাকাল্লাহু খাইরান বলা।
১২৭ঃ অন্যের ভাল কাজের প্রতিদান দেয়া। তার জন্য দোয়া করা।
১২৮ঃ আল্লাহর ভয়ে কাঁদা।
১২৯ঃ আল্লাহর কাছে ‘শাহাদত’ চেয়ে দোয়া করা।
১৩০ঃ বেচা ও কেনায় উদার সহিষ্ণু আচরণ করা। গরিব ক্রেতাকে ছাড় দেয়া। গরিব বিক্রেতাকে ন্যয্য দামের চেয়ে বেশি দেয়ার চেষ্টা করা।
১৩১ঃ মুসলিম ভাইয়ের দোষত্রুটি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করা।
১৩২ঃ এতিমের প্রতিপালন করা। পুরোটা না পারলে এতিমখানায় দান করার চেষ্টা করা।
১৩৩ঃ বিধবার প্রয়োজন পূরণে এগিয়ে যাওয়া।
১৩৪ঃ মসজিদ নির্মাণে শরিক হওয়া।
১৩৫ঃ অন্যকে ভালো কাজের সন্ধান দেয়া। ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করা।
১৩৬ঃ দীনি কিতাবাদি ছাপানোর কাজে সহযোগিতা করা।
১৩৭ঃ অনলাইনে, অফলাইনে দীনি ইলম প্রসারে শরিক হওয়া।
১৩৮ঃ সম্ভব হলে ওয়াজ করা। নিজের সংশোধনের উদ্দেশ্যে অন্যের ওয়াজ শোনা।
১৩৯ঃ পরিচারক ও মজদুর শ্রেণির কাজ সহজ করে দেয়া। গরিব পেশাজীবীকে সাহায্য করা। স্বল্পবুদ্ধি, প্রতিবন্ধীকে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করা। বিনামূল্যে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা।
১৪০ঃ অন্যের মনে আনন্দ পৌঁছানো।
১৪১ঃ অন্যকে আহার করানো।
১৪২ঃ এতিমের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া।
১৪৩ঃ নিয়মিত ওজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করা।
১৪৪ঃ কন্যা, বোন ও ফুফুদের সাহায্যে তৎপর থাকা। তাদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা।
১৪৫ঃ স্ত্রী ও সন্তানের জন্য সাধ্যমতো খরচ করা।
১৪৬ঃ শিশুদের আদর করা। তাদের সাথে খুনসুটি খেলা করা।
১৪৭ঃ স্থান ও কালের সাথে সম্পৃক্ত কল্যাণমূলক কাজ ও ইবাদতের কথা ব্যাপকভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়া। রমজানে রোজার কথা। জিলহজে হজের কথা, জুমার দিন জুমার সুন্নতের কথা।
১৪৮ঃ আমানত রক্ষা করা। আমানত মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়া।
১৪৯ঃ সওয়াবের আশায় অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার কাজে শরিক হওয়া।
১৫০ঃ বন্দীমুক্তির চেষ্টা করা।
১৫১ঃ বন্দী ও আল্লাহর রাস্তায় মেহনতে শরিক হওয়া ভাইদের অসহায় পরিবারের খোঁজখবর রাখা।
১৫২ঃ চতুষ্পদ জন্তু, পশুপাখির প্রতি সদয় আচরণ করা।
১৫৩ঃ মুসলিম শিশুদের উপযোগী বইপত্র ছাপিয়ে বিতরণ করা। তাদের জন্য নির্দোষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা।
১৫৪ঃ বিশুদ্ধ ইলম শিখে, আমানতের সাথে অন্যের কাছে সেই ইলম পৌঁছৈ দেয়া।
১৫৫ঃ মুসলিম ভাইয়ের সম্মান রক্ষায় সচেষ্ট সরব হওয়া।
১৫৬ঃ কুরআন তিলাওয়াত শোনা।
১৫৭ঃ অন্যের ভালো, কেউ ইলম শিখলে, হিফজ করলে, পুরস্কৃত করে উৎসাহ দেয়া।
১৫৮ঃ দীন মহফিলের আয়োজন করা। সভা-সেমিনারের ব্যবস্থা করা।
১৫৯ঃ গরিব ভাইবেরাদর, পাড়া-প্রতিবেশিকে জামাকাপড়, থালাবাসন সাময়িক প্রয়োজনে ‘হাওলাত’ দিতে পারি।
১৬০ঃ জনকল্যাণমূলক সেবাসংস্থা প্রতিষ্ঠা করা। সেবাকার্য পরিচালনা করা।
১৬১ঃ হাজি সাহেবের খরচ বহন (স্পন্সর) করার চেষ্টা করা। পুরোটা না হলেও কিছুটা হলেও।
১৬২ঃ তালিবে ইলমকে প্রয়োজনীয় সাহায্য করা।
১৬৩ঃ ‍কুরআন তিলাওয়াতের সময় আযাবের আয়াত এলে, সাথে সাথে ক্ষমা চাওয়া।
১৬৪ঃ সুসংবাদের আয়াত এলে আল্লাহর কাছে তা প্রার্থনা করা।
১৬৫ঃ হামদ বা প্রশংসার আয়াত এলে, তাসবীহ পড়া। সুবহানাল্লাহ বলা।
১৬৬ঃ গভীর রাতে ঘুম ভাঙলে এই দোয়া পড়া,
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার।
১৬৭ঃ তাওবা করার পর সাথে সাথে সদকা করা।
১৬৮ঃ হারাম থেকে বেঁচে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা।
১৬৯ঃ উত্তম প্রতিবেশি হওয়া। প্রতিবেশির সাথে বাড়তি সদাচার করতে পারি।
১৭০ঃ বেশি বেশি সালাম দিতে পারি।
১৭১ঃ অন্যকে আহার করাতে পারি।
১৭২ঃ অন্যের সাথে সুন্দর ও মিষ্টি করে কথা বলতে পারি।
১৭৩ঃ কিয়ামুল লাইল বা তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারি।
১৭৪ঃ তাহাজ্জুদে উঠতে না পারলেও, শেষ রাতে ঘুম ভাঙলে কয়েকবার ইস্তেগফার করে নিতে পারি।

ইয়া আল্লাহ, আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

19/06/2023

জিলহজের আমল
(‘খুলুকিন আযীম’’ থেকে)
-
১ঃ কুরবানিতে চুল-নখ না কাটা
১. আল্লাহর জন্য জান ও মাল কুরবানি করতে পারা অনেক বড় পুণ্যের কাজ। ঈদুল আযহায় আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রাণী কুরবানি করতে পারা নেসাবের অধিকারী মুমিনের জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। কুরবানি করার পাশাপাশি আরো বাড়তি কিছু সুন্নাহ পালনের অপূর্ব সুযোগও প্রতিটি মুমিনের সামনে এসে ধরা দেয়।
২. সুন্নতটি হলো, যিলহজের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে চুল-নখ কাটা বন্ধ রাখা। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
إِذَا رَأَيْتُمْ هِلاَلَ ذِي الْحِجَّةِ، وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلْيُمْسِكْ عَنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ.
‘যিলহজের চাঁদ দেখার পর তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করলে চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকবে।’
৩. ইবাদত মানে আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ও রাসূলের দেখানো-শেখানো পদ্ধতিতে কিছু করা। আমরা চেষ্টা করব নবীজির শিক্ষার আলোকে ইসলাম পালন করতে। নবীজি আরো বলেছেন,
إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ وَعِنْدَهُ أُضْحِيَّةٌ يُرِيدُ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلاَ يَأْخُذَنَّ شَعْرًا، وَلاَ يَقْلِمَنَّ ظُفُرًا.
‘যিলহজের প্রথম দশকে কুরবানির জন্তু প্রস্তুত থাকলে চুল ও নখ কর্তন না করা উচিত।’
৪. সুন্নতটি কুরবানির জন্য। এটা অনেকটা ইহরাম বাঁধা হাজীর কর্মাচরণের মতো। হাজী সাহেবরা ইহরাম বাঁধার পর থেকে চুল-নখ কাটা বন্ধ রাখেন। কুরবানিকারীও বাড়িঘরে থেকে হাজীদের আমলের সাথে মিলিয়ে চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকেন। যিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানির জন্তু জবাই করা পর্যন্ত।
৫. যারা কুরবানি করবেন না, তারাও নবীজির মহব্বতে চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকলে রব্বে কারীম আশা করি ফযিলত থেকে বঞ্চিত করবেন না। হাদীসে কোনো কথা না থাকার মানে এই নয় যে বিষয়টি নিষিদ্ধ। যাদের কুরবানি করার তাওফিক নেই, যিলহজের প্রথম দশকে তাদের নখ না কাটা সরাসরি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত সুন্নত নয়, কিন্তু তাশাবুহান মানে কুরবানিকারীর সাথে সাদৃশ্য রেখে গরিব বা ছোট কেউ যদি নখ না কাটে, সেটাকে নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়। বিদআত বলার তো প্রশ্নই আসে না। কারণ, এই দশকে নখ না কাটার সুন্নত প্রমাণিত। এই দশকে নখ না কেটে সুন্নত পালনের অস্তিত্ব শরিয়তে বিদ্যমান আছে।
সম্পদশালীরা কুরবানির সওয়াব পাবেন, চুল-নখ না কেটে বাড়তি প্রতিদান পাবেন। এখন গরিব-দুঃখী মানুষ কুরবানিকারীদের সাথে তাশাবুহ-সাদৃশ্য বা মিল রেখে নখ না কাটলে রব্বে কারীম চাইলে দিয়েও দিতে পারেন।
৪. এই সুন্নত পালন করতে গিয়ে কুরবানিকারী হাজীদের মতো একপ্রকার কৃচ্ছতা, আত্মসংবরণ আর যুহদের জীবনযাপন করেন। এই সুন্নত পালনের মাধ্যমে বান্দার মনে বাড়তি ইবাদতের স্পৃহা তৈরি হয়। আল্লাহর আরেকটু বেশি নৈকট্যলাভের দুর্লভ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। কুরবানির সওয়াবপ্রাপ্তি তো আছেই, আরেকটি সুন্নত পালনের মাধ্যমে বাড়তি সওয়াব হাসিলের ফুরসত হয়। চুল-নখ না কাটার বিষয়টি আশপাশের লোকদেরও চোখে পড়বে। তারাও এই আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধ হবে। পাশেরজনকে আমল করতে দেখলে অন্যের মনেও আমলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। কুরবানি করার প্রতি উৎসাহ না থাকলে উৎসাহ জন্মাবে। রব্বে কারীম তাওফিক দান করুন। আমিন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম। রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।


২ঃ যিলহজের প্রথম দশকের আমল
১. আল্লাহ তাআলা সবকিছু সমান করে সৃষ্টি করেননি। সব নবীকেও সমান মর্যাদা দেননি। সব মানুষকে একরকম করেননি। কাউকে সবল করেছেন, কাউকে দুর্বল। কাউকে ধনী, কাউকে গরিব। এটাই আল্লাহর জগৎ পরিচালনানীতি।
২. আল্লাহ তাআলা সময়কেও এক করে সৃষ্টি করেননি। জুমআর দিনকে সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শ্রেষ্ঠ আর উত্তম করেছেন। শেষ রাতকে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি ফযিলতপূর্ণ করেছেন। কিছু বিশেষ সময়কে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি বরকতপূর্ণ করেছেন। ওই সময়ের ইবাদতে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি সওয়াব বরাদ্দ করেছেন। ওই সময়ের ইবাদতে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি সম্মান আর মর্যাদা নিহিত রেখেছেন।
৩. যিলহজের প্রথম দশকও এমন বিশেষ গুরুত্বপ্রাপ্ত আর ফযিলতপূর্ণ দিন। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। নবীজি সা. বলেছেন,
مَا العَمَلُ فِي أَيَّامٍ أَفْضَلَ مِنْهَا فِي هَذِهِ؟ قَالُوا: وَلاَ الجِهَادُ؟ قَالَ: وَلاَ الجِهَادُ، إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ يُخَاطِرُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، فَلَمْ يَرْجِعْ بِشَيْءٍ.
‘যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে অন্য কোনো দিনের আমলই উত্তম নয়। সাহাবায়ে কেরাম জানতে চাইলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবীজি বললেন, জিহাদও নয়। তবে ওই ব্যক্তির কথা ভিন্ন, যে নিজের জান ও মাল ঝুঁকির মুখে রেখে জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না (শহীদ হয়ে যায়)।’
৪. এই দশকে নেক আমলের গুরুত্ব বছরের অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। এই দিনগুলোতে আমলে সালেহ করলে এত বেশি সওয়াব হয়, অন্য দিনের আমলে এত সওয়াবের কথা কল্পনাও করা যায় না। প্রতিটি মুসলমানের উচিত এই দিনগুলো কাজে লাগানো। এই দিনগুলোর ফযিলতকে গনিমত মনে করা। যিলহজ মাস এলেই ইবাদত-আনুগত্য সাধ্যানুযায়ী বাড়িয়ে দেওয়া।
৫. এই দশকে বেশি বেশি যিকির করা। যিকির মানে কুরআন তেলাওয়াত, বেশি বেশি তাকবীর, তাহলীল, তাহমীদ পড়া। বেশি বেশি দান-সদকা করা। রোযা রাখা। বেশি বেশি নফল নামায পড়া। গুনাহের কাজ পরিত্যাগ করা। এই দশকে গুনাহ ছাড়লেও অন্য সময়ের তুলনায় বেশি সওয়াব ও ফযিলত মিলবে। ইনশাআল্লাহ। জিহাদ এত শ্রেষ্ঠ আমল হওয়া সত্ত্বেও এই দিনগুলোতে নেক আমল করা—জিহাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে সত্যিকারের জিহাদ অবশ্যই সমস্ত নেক আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
৬. হাদীসের বাহ্যিক ভাষ্যমতে, যিলহজের প্রথম দশক রমযানের শেষ দশকের চেয়েও উত্তম বোঝা যায়। তবে রমযানের শেষ দশকের রাত লাইলাতুল কদরের কারণে সেরা। যিলহজের প্রথম দশকের দিনগুলো সেরা। ইবনে আব্বাস রা.-এর আরেক বর্ণনায় আছে,
مَا مِنْ أَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا أَحَبُّ إِلَى اللهِ مِنْ هَذِهِ الأَيَّامِ. يَعْنِي أَيَّامَ الْعَشْرِ، قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ؟ قَالَ: وَلاَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ، إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ، فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذٰلِكَ بِشَيْءٍ.
‘যিলহজের প্রথম দশকে নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো আমল নেই। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করলেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও কি উত্তম নয়? রাসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদও উত্তম নয়। তবে কোনো ব্যক্তি নিজের জানমাল ব্যয় করে জিহাদে গেল, শাহাদাত ছাড়া আর কিছুই নিয়ে ফিরল না, তার জিহাদের কথা আলাদা। তার জিহাদ অবশ্যই যে কোনো নেক আমলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’
৭. উক্ত হাদীস দ্বারা যিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। এমনকি জিহাদের চেয়েও বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অথচ জিহাদ হলো ইসলামের শীর্ষ চূড়ার আমল। উচ্চ মর্যাদায় জিহাদের চেয়ে সেরা আর কোনো আমল হতে পারে না। এই দশকে নেক আমল বাছাইয়ের ব্যাপারে আমাদের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। আমরা যে যার সুবিধামতো আমল বাছাই করে নিতে পারি। বেশি বেশি সালাত আদায় করতে পারি। সিয়াম রাখতে পারি। যিকির ও তেলাওয়াত করতে পারি। আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করতে পারি। আত্মীয়তার বন্ধন জুড়তে পারি। দুই বিবদমান পক্ষকে মিলিয়ে দিতে পারি। এছাড়া আরো যত আমল আছে, সুবিধামতো করতে পারি। লাভ করতে পারি এই দশকের অফুরন্ত ফয়েয, বরকত আর ফযিলত। রব্বে কারীম তাওফিক দান করুন। আমিন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম। রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।


৩ঃ আরাফা দিবসে দুআ
১. দুআ একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। দুআ সবচেয়ে সহজ ইবাদতও বটে। দুআ সবচেয়ে শক্তিশালী ইবাদত। নুমান বিন বশীর রা. হতে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেছেন,
الدُّعَاءُ هُوَ العِبَادَةُ.
‘দুআই ইবাদত।’
এরপর নবীজি তেলাওয়াত করেছেন,
وَقَالَ رَبُّكُمُ ٱدۡعُوْنِیۤ أَسۡتَجِبۡ لَكُمۡۚ إِنَّ ٱلَّذِیْنَ یَسۡتَكۡبِرُوْنَ عَنۡ عِبَادَتِیْ سَیَدۡخُلُوْنَ جَهَنَّمَ دَاخِرِیْنَ.
‘তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাকো। আমি তোমাদের দুআ কবুল করব। নিশ্চয় অহংকারবশে যারা আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’
২. দুআর যদিও নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। তবে বিশেষ কিছু সময়ের দুআ, আল্লাহর কাছে অন্য সময়ের দুআর চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়। দুআ আল্লাহর কাছেই করা হয়। আমাদের দুআ আল্লাহই শোনেন। আল্লাহ তাআলাই কিছু বিশেষ সময়ের দুআকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আরাফা দিবসের দুআও আল্লাহর কাছে এমনি বিশেষ গুরুত্ববহ। নবীজি বলেছেন,
خَيْرُ الدُّعَاءِ دُعَاءُ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَخَيْرُ مَا قُلْتُ أَنَا وَالنَّبِيُّونَ مِنْ قَبْلِي:
‘আরাফা দিবসের দুআই শ্রেষ্ঠতম দুআ। আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণের সর্বশ্রেষ্ঠ কথা হলো—
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ.
‘একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহর কোনো শরিক নেই। সমস্ত ক্ষমতা ও রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র আল্লাহর। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।’
৩. নবীজি বলে গেছেন, আরাফা দিবসের দুআই সর্বশ্রেষ্ঠ দুআ। তিনি সময় নির্দিষ্ট করেননি। পুরো দিনের যে কোনো সময়ের দুআই শ্রেষ্ঠ দুআ বলে গণ্য হবে। ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দীর্ঘসময়। অফুরন্ত সুযোগ আর সম্ভাবনা নিয়ে আরাফা দিবস আমার কাছে উপস্থিত হয়। এই দিনের প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত উর্বরতা আর সজীবতা নিয়ে আসে। আমি পুরো দিনের সময়টাকে কতটা ফলপ্রসূ করতে পারি—সে আমার তাকদীর।
নবীজি দুআর কথা বলে নবীগণের বলে যাওয়া শ্রেষ্ঠতম কথাও উদ্ধৃত করেছেন। দুনিয়াতে যত নবী-রাসূল আগমন করেছেন, সবার মুখনিঃসৃত সর্বোত্তম কথা হলো ‘কালিমায়ে তাওহিদ’। এই বাক্যটিতে আছে তাহলীল। আছে তাহমীদ। আছে শাহাদাহ। অর্থাৎ এই মহান দিনে কালিমায়ে তাওহিদ, তাহলীল-তাহমীদ পাঠ করাও উত্তম। নবীজি ইশারায় আমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন, আমরা যেন বেশি বেশি এই বাক্য পাঠ করি। পাশাপাশি দুআর আগে-পরেও কালিমাটি পাঠ করি।
৪. এই মহা গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আমাদের কাজ হলো দুটি—দুআ আর তাহলীল। আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখব। যাবতীয় ব্যস্ততা-কাজকর্ম আগের দিন সেরে রাখব। এবার আরাফা দিবস পেয়েছি? এটাকে মহাসৌভাগ্য মনে করে প্রতিটি পল-অণুপলকে কাজে লাগাতে সচেষ্ট হব। আমার জানা নেই, এটাই জীবনের শেষ আরাফা কি না! প্রতিটি সেকেন্ড মরিয়া নাছোড় দুআ আর তাহলীলে ব্যয় করব, ইনশাআল্লাহ। রব্বে কারীম তাওফিক দান করুন। আমিন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম। রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।


৪ঃ যিলহজের তাকবীর
১. যিলহজের প্রথম দশকে বেশি বেশি যিকির করা, তাকবীর দেওয়া সুন্নত। এই দিনগুলোতে সাহাবায়ে কেরাম বেশি বেশি তাকবীর, তাহলীল, তাহমীদ আদায় করতেন। সাহাবায়ে কেরাম বেশি বেশি তাকবীর দিতেন। লোকজন তাদের দেখাদেখি তাকবীর দিত।
২. এই দশ দিনে বেশি বেশি নেক আমল করাই শরিয়তের তাকাযা-চাহিদা। এই দশকে বিশেষ করে যিকিরের গুরুত্ব বেশি। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন,
وَاذْكُرُوْا اللهَ فِيْ أَيَّامٍ مَعْلُوْمَاتٍ: أَيَّامُ العَشْرِ، وَالأَيَّامُ المَعْدُوْدَاتُ: أَيَّامُ التَّشْرِيْقِ.
‘তোমরা নির্দিষ্ট দিনসমূহে (أَيَّامٍ مَعْلُوْمَاتٍ) মানে যিলহজের প্রথম দশকে আল্লাহর যিকির করো। আর (الأَيَّامُ المَعْدُوْدَاتُ) মানে আইয়ামে তাশরীক।
ইবনে উমর ও আবু হুরায়রা রা. যিলহজের প্রথম দশকে হাটবাজারে বের হলে তাকবীর দিতে দিতে যেতেন। তাদের দেখাদেখি লোকজনও তাকবীর দিতে শুরু করত। এই দিনগুলোতে মুহাম্মাদ বিন আলী নফল নামাযের পরেও তাকবীর দিতেন।
৩. এই দিনগুলোতে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে যিকির করতে বলেছেন,
ক. সূরা বাকারায় বলেছেন, وَاذْكُرُوْا اللهَ فِيْ أَيَّامٍ مَعْدُوْدَاتٍ ‘তোমরা গোনা-গুণতি কয়েক দিন আল্লাহকে স্মরণ করো।’
খ. সূরা হজে বলেছেন, وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللهِ فِيْ أَيَّامٍ مَعْلُوْمَاتٍ ‘নির্দিষ্ট দিনসমূহে তারা যাতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’
৪. দুই সাহাবীর আমল থেকে প্রতীয়মান হয়, এই দশকে নবীজি সা.-এর আমলও এমনই ছিল। নবীজিকে যা করতে দেখেছেন, এই মহান দুই সাহাবীও উম্মতকে তা-ই করে দেখিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম নিজ থেকে বানিয়ে মনগড়া কোনো আমল করতেন না। বেশি বেশি তাকবীর বলাই এই দশকের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। সাধারণভাবে এই দশ দিন বেশি বেশি যিকির করাই শরিয়তের কাম্য। আয়াতের ব্যাপক অর্থ এমনটাই বলে। হাদীসেও এই দশকে যিকিরের পরিধিকে বিস্তৃত করে দেওয়া হয়েছে। ইবনে উমর রা. বর্ণনা করেছেন,
مَا مِنْ أَيَّامٍ أَعْظَمُ عِنْدَ اللهِ وَلاَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعَمَلُ فِيهِنَّ مِنْ هٰذِهِ الأَيَّامِ الْعَشْرِ، فَأَكْثِرُوْا فِيْهِنَّ مِنَ التَّهْلِيْلِ وَالتَّكْبِيْرِ وَالتَّحْمِيْدِ.
‘আল্লাহর কাছে এই দশকে নেক আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় ও সম্মানিত আর কোনো আমল নেই। আল্লাহর দৃষ্টিতে আমল করার জন্য এই দশকের চেয়ে অধিক প্রিয় আর গুরুত্বপূর্ণ সময়ও আর নেই। তোমরা বেশি বেশি তাহলীল, তাকবীর আর তাহমীদ আদায় করতে থাকো।’
৫. আমাদের জন্য এই দশক এক সুবর্ণ সুযোগ। রমযানের মতো এই দশ দিনকেও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে পারি। ঈদের আনন্দে সময়গুলোকে হেলায় নষ্ট না করি। কুরবানির প্রস্তুতি, হাটবাজারে দৌড়াদৌড়িতে যেন সময়গুলোর গুরুত্ব-মর্যাদার ব্যাপারে উদাসীন হয়ে না পড়ি। রব্বে কারীম তাওফিক দান করুন। আমিন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম। রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।



৫ঃ কুরবানি
১. বছরে একবারই এই আমল করার সৌভাগ্য লাভ হয়। নামায চাইলে প্রতিদিন পড়তে পারি। চাইলে রোযাও প্রতিদিন রাখতে পারি। কিন্তু চাইলেই কুরবানি করতে পারি না। অপেক্ষা করতে হয় যিলহজ মাস আগমনের। বছর ঘুরে যে সুযোগ একবার এসে ধরা দেয়, এমন সুবর্ণ সুযোগ হেলায় হারানো উচিত নয়।
২. কুরবানি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ এক আমল। ঈদুল আযহার দিন নির্দিষ্ট জন্তু জবাই করাকে কুরবানি বলে। যাদের সামর্থ্য আছে, এমন সুযোগ হাতছাড়া করা মোটেও উচিত নয়। আর্থিক সঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও কুরবানি থেকে বিরত থাকা নবীজির অত্যন্ত অপছন্দের কাজ। তিনি চরম তিরস্কারের ভঙ্গিতে বলেছেন,
مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ، وَلَمْ يُضَحِّ، فَلاَ يَقْرَبَنَّ مُصَلاَّنَا.
‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে কুরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’
৩. কুরবানির জন্তু কেনার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকা কর্তব্য। জন্তুটি যেন হৃষ্টপুষ্ট ও মোটাতাজা হয়। আল্লাহর জন্য যা কুরবানি হবে, সেটা যেমন তেমন হলে চলবে না। কুরবানির জন্তুকে হতে হবে আল্লাহর সম্মানের সাথে মানানসই।
كان رسولُ اللهِ صلّى اللهُ عليه وسلَّم يُضَحِّي بكَبشٍ أقرَنَ فَحيلٍ، يَنظُرُ في سَوادٍ، ويأكُلُ في سوادٍ، ويمشي في سَوادٍ.
‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিংওয়ালা শক্তিশালী দুম্বা কুরবানি করতেন। যে দুম্বা অন্ধকারে দেখত। অন্ধকারে ভক্ষণ করত এবং অন্ধকারে চলত। অর্থাৎ যে দুম্বার চোখ, মুখ ও পা কালো ছিল।’
عَنْ عُبَيْدِ بْنِ فَيْرُوزَ، قَالَ: سَأَلْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ رضي الله عنه: مَا لاَ يَجُوزُ فِي الأَضَاحِيِّ؟ فَقَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصَابِعِي أَقْصَرُ مِنْ أَصَابِعِهِ، وَأَنَامِلِي أَقْصَرُ مِنْ أَنَامِلِهِ فَقَالَ: "أَرْبَعٌ لاَ تَجُوزُ فِي الأَضَاحِيِّ -فَقَالَ-: الْعَوْرَاءُ بَيِّنٌ عَوَرُهَا، وَالْمَرِيضَةُ بَيِّنٌ مَرَضُهَا، وَالْعَرْجَاءُ بَيِّنٌ ظَلْعُهَا، وَالْكَسِيرُ الَّتِي لاَ تُنْقِي.
‘উবাইদ বিন ফাইরুয হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমি বারা ইবনে আযেব রা.-কে প্রশ্ন করেছিলাম, ঈদুল আযহায় কোন ধরনের প্রাণী কুরবানি করা জায়েয নেই? তিনি বললেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমার আঙুলগুলো তাঁর আঙুলের চেয়ে তুচ্ছ এবং আমার আঙুলগুলোর ডগা তাঁর আঙুলের ডগার চেয়ে তুচ্ছ। নবীজি আঙুল দ্বারা ইশারা করে বললেন, চার ধরনের দোষযুক্ত পশু কুরবানি করা জায়েয নয়। অন্ধ—যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, রোগাক্রান্ত—যার রোগ সুস্পষ্ট, খোঁড়া—যার খোঁড়ামি সুস্পষ্ট, বৃদ্ধ ও দুর্বল—যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে।’
৪. ছাগল হলে একজন গোটা একটা ছাগল কুরবানি করতে হবে। এক গরুতে সাতজন শরিকে কুরবানি দিতে পারবে। ইবনে আব্বাস রা. হতে বর্ণিত,
كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَحَضَرَ الأَضْحَى، فَاشْتَرَكْنَا فِي البَقَرَةِ سَبْعَةً، وَفِي الجَزُورِ عَشَرَةً.
‘আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহর সাথে ছিলাম। কুরবানির দিন এসে গেল। তখন একটি গরুতে সাতজন, একটি উটে দশজন শরিকে কুরবানি দিয়েছি।’
৫. উটে দশ শরিকের বিষয়টি বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ছিল। এখন উটেও সর্বোচ্চ সাত শরিকে কুরবানি করা যাবে। কুরবানির ফযিলত সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। কুরবানি করা ওয়াজিব (অনেক ফকিহের মতে সুন্নতে মুয়াক্কাদা)। সামর্থ্য থাকলে অবশ্যই কুরবানি করা উচিত। আন্তরিক কুরবানির মাধ্যমে শুধু পশুই জবাই করা হয় তা নয়, নিজের ভেতরকার পশুও জবাই করা হয়। রব্বে কারীম তাওফিক দান করুন। আমিন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম। রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।


৬ঃ ঈদের জামাতের পর কুরবানি
১. ইসলামি শরিয়তে সময়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বেশিরভাগ ইবাদতই সময়ের সাথে সম্পৃক্ত। সময়ের আগে ইবাদত করা যাবে না। সময়ের পর করলেও গুনাহ হবে বা আদায় হবে না। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই বিভিন্ন ইবাদতের সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে গেছেন। কুরবানির জন্তু জবেহ করারও নির্দিষ্ট সময় আছে। অক্ষরে অক্ষরে শরিয়তের নির্দেশনা মানার মধ্যেই আছে মানুষের সার্বিক কল্যাণ। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেভাবে হুকুম করেছেন, সেভাবে দীন পালন করাই মুমিনের অবশ্য কর্তব্য।
২. আল্লাহ তাআলা আমাদের নানা ধরনের ইবাদত-কর্তব্য দিয়েছেন। জানের ইবাদত, মালের ইবাদত, কলব বা আত্মার ইবাদত, চিন্তার ইবাদত। প্রতিটি ইবাদতের পদ্ধতিও বাতলে দিয়েছেন। বান্দার কর্তব্য হলো, দৃঢ় ইয়াকিনের সাথে আল্লাহপ্রদত্ত ইবাদত আদায় করা। প্রতিটি ইবাদতের সময়ই মাথায় রাখা, এই ইবাদত সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। ইবাদতের ক্ষেত্রে অবশ্যকর্তব্য হলো, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যেভাবে ইবাদত করতে বলেছেন, হুবহু সেভাবেই করা। বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম না করা। মনগড়া কাজ করার নাম ইবাদত নয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পরিপূর্ণ আনুগত্য করার নামই ইবাদত,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ.
‘(হে নবী,) মানুষকে বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবেসে থাকো, তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি ক্ষমা করবেন।’
৩. নবীজি ঈদের নামায আদায় করার পরই কুরবানির জন্তু জবেহ করতেন। নামাযের আগে জবেহ করতেন না। বারা ইবনে আযেব রা. হতে বর্ণিত, নবীজি বলেছেন,
إِنَّ أَوَّلَ مَا نَبْدَأُ بِهِ فِي يَوْمِنَا هٰذَا أَنْ نُصَلِّيَ، ثُمَّ نَرْجِعَ فَنَنْحَرَ، مَنْ فَعَلَهُ فَقَدْ أَصَابَ سُنَّتَنَا، وَمَنْ ذَبَحَ قَبْلُ، فَإِنَّمَا هُوَ لَحْمٌ قَدَّمَهُ لِأَهْلِهِ، لَيْسَ مِنَ النُّسُكِ فِي شَيْءٍ.
‘নবীজি সা. বলেছেন, ঈদের এই দিনে প্রথমেই আমরা ঈদের নামায আদায় করব। তারপর ঘরে ফিরে পশু কুরবানি করব। যে ব্যক্তি এভাবে তা আদায় করবে, সে আমাদের সুন্নাহ অনুসরণ করবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের আগেই জবাই করবে, তা এমন গোশত হিসেবে গণ্য হবে—যা সে তার পরিবার-পরিজনের জন্য আগাম ব্যবস্থা করে রেখেছে। এটা কুরবানি বলে গণ্য হবে না।’
فَقَامَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ، وَقَدْ ذَبَحَ، فَقَالَ: إِنَّ عِنْدِي جَذَعَةً. فَقَالَ: اذْبَحْهَا وَلَنْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ. قَالَ مُطَرِّفٌ: عَنْ عَامِرٍ، عَنِ البَرَاءِ رضي الله عنه: قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: مَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلاَةِ تَمَّ نُسُكُهُ، وَأَصَابَ سُنَّةَ المُسْلِمِينَ.
‘তখন আবু বুরদা বিন নিয়ার রা. দাঁড়ালেন, তিনি (সালাতের) আগেই জবেহ করেছিলেন। তিনি বললেন, আমার কাছে একটি বকরির বাচ্চা আছে। নবীজি বললেন, তাই জবেহ করো। তবে তোমার পরে আর কারোর পক্ষে তা যথেষ্ট হবে না।’
মুতাররিফ বারা রা. থেকে বর্ণনা করেন, নবীজি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সালাতের পর জবেহ করবে, তার কুরবানি পূর্ণ হবে এবং সে মুসলিমদের নীতি পালন করেছে বলে ধরে নেওয়া হবে।’
৪. কেবল ঈদের নামাযের পর জবেহ করলেই সেটা কুরবানি বলে গণ্য হবে। কুরবানিটা ইবাদতের কাতারে শামিল হবে। ঈদের নামায পড়ার আগেই কুরবানির জন্তু জবেহ করলে সেটা হবে নিছক জবেহ। পরিবারের জন্য গোশতের ব্যবস্থা করা। এই জবেহতে কুরবানির সওয়াব নেই।
৫. সময়ের একটু হেরফেরে কী আকাশপাতাল তফাত হয়ে যায়। হয়তো এক ঘণ্টা বা আধা ঘণ্টার ব্যবধান। আমার কাছে যা যুক্তিযুক্ত মনে হয়, সেটা মানলে চলবে না। শরিয়ত আমাকে যেভাবে ইবাদত করতে বলেছে—সেটাই মূল কথা। আমার যুক্তি যদি বলে, ঈদের নামায পড়ে আসতে আসতে লোক পাওয়া যাবে না কিংবা বৃষ্টি এসে যেতে পারে, তাই আগেই জবেহ করে ফেলা উত্তম। এসব যুক্তি বা অজুহাত শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।
৬. সময়মতো জবেহ করার কারণে একটি জন্তুর গোশত খাওয়া সওয়াবের হয়ে যায় আর সময়মতো জবেহ না করার কারণে একটি জন্তুর গোশত খাওয়া নিছক ভূরিভোজন হয়ে যায়। ঈদুল আজহার দিন পানাহারেও বিশেষ সুন্নত আছে। বুরাইদা বিন হুসাইব আসলামী রা. বর্ণনা করেছেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الفِطْرِ حَتّٰى يَطْعَمَ، وَلَا يَطْعَمُ يَوْمَ الأَضْحَى حَتّٰى يُصَلِّيَ.
‘আল্লাহর রাসূল ঈদুল ফিতরের দিন না খেয়ে ঈদের জামাতের উদ্দেশ্যে বের হতেন না। ঈদুল আযহার দিন ঈদের নামায পড়ে আসা পর্যন্ত খেতেন না।’
لَا يَغْدُوْ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتّٰى يَأْكُلَ، وَلاَ يَأْكُلُ يَوْمَ الأَضْحَى حَتّٰى يَرْجِعَ فَيَأْكُلَ مِنْ أُضْحِيَّتِهِ.
আরেক বর্ণনায় আছে, ‘ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ঈদের জামাতে বের হতেন না। ঈদুল আযহায় ঈদের নামায পড়ে এসে কুরবানির গোশত খাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু খেতেন না।’
৭. হাদীসে নামাযের আগে কুরবানি করার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। কেউ যদি ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ঈদের জামাতের আগেই কুরবানি করে ফেলে, তাহলে তার কুরবানির ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে, তবে সেই কুরবানি পুরোপুরি আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক হবে না—এটুকু বলা যেতে পারে। তবে কেউ যদি অন্য মহল্লায় আগে নামায পড়ে নিজের মহল্লায় জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে কুরবানি করে ফেলে, তার কুরবানি শুদ্ধ হবে।
৮. একটু চেষ্টা করলেই আমরা নবীজির এসব সুন্দর সুন্নতগুলো আদায় করতে পারি। এজন্য দরকার নবীজি সা.-এর প্রতি মহব্বত। নবীজির প্রতি প্রকৃত মহব্বত অন্তরে ধারণ করলে নবীজির সুন্নত তরিকায় জীবন পরিচালনা করা একেবারেই সোজা। রব্বে কারীম তাওফিক দান করুন। আমিন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম। রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।


৭ঃ আইয়ামে তাশরীকে তাকবীর
১. হজের দিনগুলোতে তাকবীর বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক আমল। হজের আগে-পরের দিনগুলোতেও তাকবীর বলা অবশ্য পালনীয় আমল। এই দিনগুলোতে নবীজি সা. বেশি বেশি তাকবীর পড়তেন। বিশেষ করে আরাফার দিন, কুরবানির দিন এবং আইয়ামে তাশরীকে নবীজি বিশেষ গুরুত্বের সাথে তাকবীর দিতেন। আইয়ামে তাশরীক হলো—যিলহজের এগারো, বারো ও তেরো তারিখ। ইমাম বুখারী রহ. কিতাবুল ঈদাইনে বর্ণনা করেছেন,
يُكَبِّرُ فِيْ قُبَّتِهِ بِمِنًى فَيَسْمَعُهُ أَهْلُ المَسْجِدِ، فَيُكَبِّرُوْنَ وَيُكَبِّرُ أَهْلُ الأَسْوَاقِ حَتّٰى تَرْتَجَّ مِنًى تَكْبِيرًا.
‘উমর রা. মিনায় নিজের তাঁবুতে তাকবীর বলতেন। মসজিদের লোকেরা উমরের তাকবীর শুনে তারাও তাকবীর বলতে শুরু করতেন। সবার দেখাদেখি বাজারের লোকেরাও তাকবীর বলেেতন। পুরো মিনাপ্রান্তর তাকবীরের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠত।’
وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ رضي الله عنهما يُكَبِّرُ بِمِنًى تِلْكَ الأَيَّامَ، وَخَلْفَ الصَّلَوَاتِ، وَعَلَى فِرَاشِهِ، وَفِي فُسْطَاطِهِ، وَمَجْلِسِهِ وَمَمْشَاهُ، تِلْكَ الأَيَّامَ جَمِيعًا.
‘ইবনে উমর রা. এই দিনগুলোতে মিনায়, ফরয নামাযের পরে, বিছানায়, তাঁবুতে, মজলিস-বৈঠকে এবং হাঁটাচলায় তাকবীর দিতে থাকতেন।’
وَكَانَتْ مَيْمُونَةُ رضي الله عنها: تُكَبِّرُ يَوْمَ النَّحْرِ وَكُنَّ النِّسَاءُ يُكَبِّرْنَ خَلْفَ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ، وَعُمَرَ بْنِ عَبْدِ العَزِيزِ لَيَالِيَ التَّشْرِيقِ مَعَ الرِّجَالِ فِي المَسْجِدِ.
‘উম্মুল মুমিনিন মায়মুনা রা. কুরবানির দিন তাকবীর দিতেন। অন্য মহিলারাও আবান ইবনে উসমান ও উমর ইবনে আবদুল আযীয রহ.-এর পেছনে তাশরীকের রাতগুলোতে মসজিদে পুরুষদের সঙ্গে সঙ্গে তাকবীর বলতেন।’
২. উপরের বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায়, সে যুগে এই আমলটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমলে শরিক হতেন। তাকবীরটি হলো,
اللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ، اللهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ.
‘আল্লাহ মহান। আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আল্লাহ মহান। সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য।’
৩. আরাফার দিন—নয় তারিখে ফজরের পর থেকে শুরু করে তেরো তারিখ আসর পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করা ওয়াজিব। জামাতের সাথে মসজিদে নামায পড়লে সালাম ফিরিয়ে ইমাম-মুক্তাদি সবার একসাথে তাকবীর পড়া হয়ে যায়। মসজিদে না গেলে অনেক সময় ভুলে তাকবীর ছুটে যায়।
৪. এই তাকবীর জোরে বলা সুন্নত। তাকবীর একটি অপূর্ব সুন্দর সুন্নত। উচ্চস্বরে তাকবীর মুমিনের মধ্যে এক ধরনের শক্তি সৃষ্টি করে। মুমিনের এই তাকবীর কাফেরের হৃৎকম্পন বাড়িয়ে দেয়। তাকবীরের মূল কথাটাই শক্তির মূল উৎস। তাকবীরে বলা হয়—আল্লাহু আকবার। আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া সবকিছু ক্ষুদ্র। রব্বে কারীম আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম। রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।

৮ঃ আরাফার সিয়াম
১. সিয়াম এমনিতেই আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় ইবাদত। আর সেটা যদি আরাফা দিবসে হয়, তাহলে সিয়ামের গুরুত্ব ও মর্যাদা কতটা বেড়ে যাবে, সহজেই অনুমেয়। আরাফা দিবসের রোযা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় আমল। মাত্র একদিনের রোযার কারণেই পুরো দুই-দুইটি বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন আল্লাহ তাআলা। এরচেয়ে বেশি আমার আর কী চাই? আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতি কত সীমাহীন করুণাময় আর প্রেমময়। যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক, আমরা এই অফুরন্ত করুণাধারা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করব না। আরাফা দিবস দুনিয়ার শ্রেষ্ঠতম দিন। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
اَلْيَوْمُ الْمَوْعُوْدُ يَوْمُ الْقِيَامَةِ، وَالْيَوْمُ المَشْهُوْدُ يَوْمُ عَرَفَةَ، وَالشَّاهِدُ يَوْمُ الجُمُعَةِ.
‘প্রতিশ্রুত দিবস হলো কেয়ামতের দিন। আরাফা দিবস হলো যার নিকট উপস্থিত হয়। জুমআর দিন হলো যে উপস্থিত হয়।’
২. আরাফার দিন আল্লাহ হাজীদের মাফ করে দেন। এ দিন আল্লাহর ক্ষমাপরায়ণতা বিস্ময়কররূপে বৃদ্ধি পায়। আম্মাজান আয়েশা রা. বর্ণনা করেছেন,
مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللهُ فِيْهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةَ، وَإِنَّهُ لَيَدْنُوْ، ثُمَّ يُبَاهِيْ بِهِمِ الْمَلاَئِكَةَ، فَيَقُوْلُ: مَا أَرَادَ هَؤُلَاءِ؟
‘আরাফা দিবসের মতো আর কোনো দিন আল্লাহ এত বেশি বান্দাকে ক্ষমা করেন না। সেদিন আল্লাহ বান্দার অনেক বেশি কাছাকাছি চলে আসেন। আরাফার ময়দানে জমায়েত হওয়া হাজীদের নিয়ে আল্লাহ ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করেন। আল্লাহ জানতে চান—এই মানুষগুলো জানমাল ব্যয় করে পরিবার-পরিজন ছেড়ে এখানে এসে কী চায়?’
৩. আল্লাহ তাআলা চান—যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে আরাফার ময়দানে আসতে পারেনি, তারাও এই দিনের ফয়েয-বরকত হাসিল করুক। ঘরবাড়িতে অবস্থান করেও তারা আল্লাহর অফুরন্ত ক্ষমা লাভের সৌভাগ্য অর্জন করুক। বান্দাদের প্রতি অপূর্ব করুণাবশত তিনি তার রাসূলকে এই অপূর্ব সুন্নত শিখিয়ে দিয়েছেন। যারা হজে যেতে পারেনি—তাদের জন্য অত্যন্ত সহজ এই রোযার আমল প্রবর্তন করে দিয়েছেন। নবীজি উৎসাহব্যঞ্জক ভঙ্গিতে এই রোযার প্রতি আমাদের উদ্বুদ্ধ করে গেছেন,
صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ.
‘আরাফা দিবসের রোযার বিনিময়ে আশা করি, আল্লাহ আগের ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’
৪. একটি রোযায় দুই বছরের গুনাহ মাফ। আল্লাহ আমাদের কতভাবে যে তার ইবাদতের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছেন, আমরা কল্পনাও করতে পারব না। তিনি বারবার আমাদেরকে তার অভিমুখী করে তুলেছেন। আমরা নাফরমানি করে তার কাছ থেকে পিছিয়ে থাকি। এখনো সময় আছে তার দিকে রুজু হওয়ার। এখনো সুযোগ ফুরিয়ে যায়নি। রব্বে কারীম তাওফিক দান করুন। আমিন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম। রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।



লেখাগুলো আমাদের প্রকাশিত বই ‘খুলুকিন আযীম’ থেকে নেয়া। এসব লেখা ওয়ালে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
ভুলত্রুটি ধরা পড়লে, দেখিয়ে দেয়ার বিনীত অনুরোধ।
‘খুলুকিন আযীম’ বইটির জন্যও খাস দোয়ার দরখাস্ত। রব্বে কারীম যেন বইটির ভুলত্রুটি সংশোধন করে কবুল করে নেন। রব্বে কারীম যেন বইটিকে উম্মাহর জন্য উপকারী বানিয়ে দেন। আমীন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Want your school to be the top-listed School/college in Chapai Nawabganj?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address

ROKONPUR, GOMASTAPUR
Chapai Nawabganj
6320
Other Schools in Chapai Nawabganj (show all)
Polladanga Din Mohammad High School Polladanga Din Mohammad High School
Polladanga, Bholahat
Chapai Nawabganj

This is the official page of Polladanga Din Mohammad High School: the second oldest school in Bholahat Upazila.It was established in 1947 near river Mohananda.There are around 500 students with 18 teachers and employees.

Labhanga Sundarpur High School Labhanga Sundarpur High School
Volahat High School Road, Nayalavanga, Shibganj
Chapai Nawabganj, 6300

Come & Learn

Ujirpur Babupur High School, Shibganj, Chapai Nawabganj Ujirpur Babupur High School, Shibganj, Chapai Nawabganj
Shektola, Shibganj
Chapai Nawabganj, 6340

Ujirpur Babupur High School established at 1973 in a rural village name chorkhadanga.

20 No Kamalpur Gov: Primary School 20 No Kamalpur Gov: Primary School
Kamalpur, Dhaka
Chapai Nawabganj, 6321

Kalinagar high school chapai nawabganj sadar 1965 Kalinagar high school chapai nawabganj sadar 1965
Chapai Nawabganj, 6302

KALINAGAR HIGH SCHOOL IS A VERY GOOD INSTITUTION.